রাজনীতি

বিএনপির ৫১ দফা প্রতিশ্রুতি

Admin ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬ 0

 

আগামী দিনে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসন আমলের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অনুসরণ করবে বিএনপি। সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা; এ ছাড়া দুর্নীতি রোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত না করা গেলে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল করা সম্ভব নয় বলে মনে করে দলটি। আর প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং উপরাষ্ট্রপতি পদসহ সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে পুনঃপ্রতিষ্ঠাসহ পাঁচটি ভাগে ৫১টি দফার কথা উল্লেখ করে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণাকালে এসব কথা বলেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছয় দিন আগে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি। এদিন বিকেল সোয়া ৪টার দিকে শুরু করে টানা দুই ঘণ্টা ইশতেহার ষোষণা করেন বিএনপির প্রধান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সঞ্চালনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে ইশতেহারের সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ তুলে ধরেন তারেক রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, এই ইশতেহার প্রতিশ্রুতি নয়; এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা।
বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে তারেক রহমান কী কী পদক্ষেপ নেবেন তার একটি বিষদ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি রোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত না করা গেলে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল করা সম্ভব নয়।’

রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থাগুলোর কার্যক্রম দেখভাল করার জন্য ন্যায়পাল নিয়োগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া বিচার বিভাগ পৃথক্করণ এবং ন্যায়বিচার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা ও সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতাই একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

কওমি সনদ স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এ ছাড়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পুঁজিবাজার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের সুরক্ষা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিএনপি নির্ভীক ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতাকে সম্মান জানাবে। জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড গঠনে নানামুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিকীকরণের বাইরে রাখা হবে।

বিদ্যুৎ খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা এবং সঞ্চালন লাইন ২০ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে সম্প্রসারণ করা হবে। আইসিটি খাতকে দ্রুত সম্প্রসারণ করে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। উদ্ভাবন এবং আইসিটি পরিষেবা রপ্তানিকে সর্বোচ্চ উৎসাহিত করে দেশের জিডিপিতে আইসিটি খাতের অবদান ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

বুলেট ট্রেন সংযোগ, রাইড শেয়ারিং সাইকেল সেবা চালু, নদী ও সমুদ্র বন্দরের সঙ্গে নৌযোগাযোগ উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। বিএনপি বিশ্বাস করে, দল-মত-ধর্ম যার যার, কিন্তু রাষ্ট্রে সবার নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব জাতির সামনে অনেক আগেই দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে, যিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন, তাঁর পদের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি হবে না। কাজেই এই কৃতিত্ব অবশ্যই আমরা গ্রহণ করতে চাই। ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে এই বিষয়টি প্রবর্তন করব যে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর কার্যকাল অতিবাহিত করতে পারবেন।’

রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে বিএনপির ইশতেহারে আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটানোই লক্ষ্য। আমাদের একটাই পরিচয়—আমরা সবাই বাংলাদেশি। বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ের মানুষ, সমতলের মানুষ, ধনী-দরিদ্র-নির্বিশেষে সবাই মিলে গড়ে তোলা হবে জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ড জাতীয় সত্তা এবং ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠন করা হবে।’

শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত (যা আগে ঘটবে ভিত্তিতে) বিশেষ আর্থিক ভাতা প্রদান করা হবে বলে বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এ ছাড়া কৃষকদের জন্য থাকবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ। সার, বীজ, তেল, বিদ্যুৎ, সেচের পানিসহ কৃষি উপকরণের দাম বেড়েই চলছে। কিন্তু খেটে খাওয়া কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। জনজীবনে কোনো স্বস্তি নেই। তাই শস্য, ফসল, মৎস্য, ও পশুপালন খাতে গৃহীত ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের কষ্ট লাঘব করে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল।

রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্য আনা হবে। সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও আইসিটি শিল্প শক্তিশালী করার পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক পণ্য, ওষুধ, চামড়া ও জুতা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি খাতকে বৈচিত্র্যময় করা হবে। তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’কে বৈশ্বিক বাজারে আরো শক্ত অবস্থানে তুলে ধরা হবে, যেন প্রতিটি সেক্টরে কর্মসংস্থানের জোয়ার সৃষ্টি হয়।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ও আসন্ন লংজেভিটি ডিভিডেন্ডের সুবিধা অর্জনে অগ্রাধিকার : বাংলাদেশে জনসংখ্যার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে বিএনপি বদ্ধপরিকর। ১৫-৬৪ বছরের কর্মক্ষম জনশক্তির জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা রয়েছে, যা ২০৪০ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে। এই কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা, বাজারভিত্তিক দক্ষতা ও কর্মসংস্থান ও ব্যাপক কর্মমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করে কর্মক্ষম জনসম্পদের ইতিবাচক সম্ভাবনা ও লভ্যাংশ দ্রুত আদায় নিশ্চিত করা হবে। অন্যদিকে ২০৪০ সাল ও তার পরবর্তী সময়কালে দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। তাঁদের অবহেলা না করে; বরং তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, স্বেচ্ছাব্রতী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষার আওতায় রেখে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সাধন করা হবে।

ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু : শিক্ষা খাতে ডিজিটাল সুবিধা বাড়াতে স্কুল, কলেজ, ক্যাফে ও লাইব্রেরিতে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে সহায়তা করবে এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখবে।

বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান : শিক্ষার্থীদের সরকারিভাবে ‘বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস’ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো, সামাজিক মর্যাদার স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় দিবসগুলোতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল এবং মাদরাসা শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন : অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামে ব্যাবহারিক এবং কারিগরি শিক্ষাকে প্রধান্য দেওয়া হবে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ ৯টি বিষয়ে প্রধান প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন, ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সৃংস্কৃতি ও সংহতি।

নির্বাচনী অঙ্গীকার : প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো হলো : প্রান্তিক ও নিন্ম আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।

এ ছাড়া কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বিমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।

দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সমপ্রসারণ করা হবে। আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণব্যবস্থা সমপ্রসারণ করা হবে। পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক সমপ্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে। ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘ মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সমপ্রসারণ করা হবে।

বলা হয়, বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা-এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে—সবার আগে বাংলাদেশ।

 দেশ ও জনগণের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি : তারেক রহমান বলেন, আমাদের ফরেন পলিসিটা আমার দেশের স্বার্থ, দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করে যাদের বন্ধুত্ব সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের দেশে নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠিত করতে পারব, আমার দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারব, আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করতে পারব, পাশাপাশি অবশ্যই আমার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখবে। এটার ভিত্তিতেই আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত করব।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন করতে চাই : তারেক রহমান বলেন, আমাদের নিজের দেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। এই জনসংখ্যার কর্মসংস্থান ব্যবস্থা, খাদ্যের সংস্থান, চিকিৎসাব্যবস্থা সব কিছু করতে হবে। আমাদের দেশে প্রায় ১.২ মিলিয়নের মতো রোহিঙ্গা আছে। তারাও মানুষ। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অবশ্যই তাদের দেশে যে অবস্থা, আমরা এখানে তাদের আশ্রয় দিয়েছে। অবশ্যই আমরা তাদের দেখব। কিন্তু আমরা চাইব যে তাদের এলাকায় তাদের ঘরে তাদের জন্য সেফ একটা সিচুয়েশন তৈরি হোক এবং ধীরে ধীরে তারা তাদের এলাকায় ফিরে যাক। অর্থাৎ আমরা রোহিঙ্গা সেইফ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে চাই।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে নদ-নদীর পানি সমস্যার সমাধান চাই : তারেক রহমান বলেন, আমাদের পদ্মা নদী, তিস্তা নদীসহ বিভিন্ন নদীর পানি বণ্টনে আমাদের কিছু অসুবিধা আছে। আমরা চাই যাদের সঙ্গে আমাদের এই অসুবিধা আছে, তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে চাই, যাতে আমার দেশের মানুষ তার পানির ন্যায্য হিস্যা পেতে পারে।

‘প্রবাসীদের দিকে নজর দিতে হবে’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মোর অ্যাক্টিভেট করার মাধ্যমে আমাদের যে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বিদেশে আছেন, তাঁরা যাতে আরো বেটার-ভাবে ট্রিটেড হন, সে বিষয়ে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই।’

নির্বাচনী ইশতেহারে বিদেশে নতুন বাজার অনুসন্ধান, সীমান্ত নিরাপত্তা, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারি গঠন, মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর ও  শক্তিশালী করা, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারি বৃদ্ধি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব প্রদান প্রভৃতি বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরা হয় স্পষ্টভাবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীন, পাকিস্তান, ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূত ও যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাজ্যসহ ৩৮টি দেশের প্রতিনিধি। এ ছাড়া ইশতেহার অনুষ্ঠানে যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শরিক দলের নেতাদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরাম সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাগপার সভাপতি খন্দকার লুত্ফুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রব ইউসুফীসহ সিনিয়র নেতারা ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাসমুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, গোলাম আকবর খন্দকার, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, নজমুল হক নান্নু, নাজিম উদ্দিন আলম, সুজা উদ্দিন, এস এম ফজলুল হক, বিজন কান্তি সরকার ও আমিনুর রশিদ ইয়াছিন ছিলেন।

এ ছাড়া অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আ ন ম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সেই হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা। পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে সময় তিনিই প্রতিটি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সেই সময় বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি ছিলেন। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শেখ হাসিনার অধীনে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি।

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধারে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন নিশ্চিতকরণ এবং আস্থা পুনঃস্থাপন না হলে বিনিয়োগ, শিল্প ও কর্মসংস্থানে কাঙ্ক্ষিত গতি আসবে না। পাশাপাশি রপ্তানি ও এসএমই খাতে টার্গেটেড সহায়তা প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তাসকিন আহমেদ বলেন, নীতি-স্থিতিশীলতা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি। একই সঙ্গে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস কার্যকর করা, করনীতি সহজীকরণ এবং চুক্তি বাস্তবায়নে আস্থা সৃষ্টি না হলে টেকসই বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ সম্ভব হবে না।

ডিসিসিআই সভাপতি থ্রি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে ব্যবসায়ীদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং উন্নত প্রযুক্তির অভাবের কথা উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‌‌‘বিগত দিনের রাজনৈতিক ইশতেহারের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল ছিল না। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই জাতি হতাশায় ভুগছে। কাগুজে ইশতেহার নয়, বাস্তবায়নই আসল পরীক্ষা। রাজনৈতিক লুটপাট বন্ধ না হলে কোনো সমস্যারই টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘কথার রাজনীতি নয়, এখন প্রয়োজন কাজের রাজনীতি। অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর নয় বলেই মানুষ নতুন প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান। তবে যদি সত্যিকারের অর্থে জাতীয় কমিটমেন্ট ও সদিচ্ছা থাকে, তাহলে পরিবর্তন অসম্ভব নয়। রাজনৈতিক দুর্নীতি ও লুটপাটই এত দিন সমস্যাগুলোর সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করেছে, এখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।’ 

Popular post
বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত

আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী)  সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান,  ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে  ও  বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,  বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক,  বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল,  বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী  ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।

সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে ওসমান হাদিকে

উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে: পরীমনি

অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী।   পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান।   যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’   তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী।   বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি।  পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা।   এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।

হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী

ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি।   ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।

নির্বাচনে প্রার্থীদের অস্ত্রের লাইসেন্স দিতে নীতিমালা জারি

রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।  তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।  

সাগর

রাজনীতি

View more
আমিরসহ জামায়াত নেতারা কে কোথায় ঈদ করবেন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। নামাজের পর সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।   মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়।   পোস্টে বলা হয়, ঈদের দিন বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে (২৯ মিন্টো রোড, ঢাকা) শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকাস্থ কূটনৈতিক মিশনের কূটনীতিকগণের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন। পরে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।   একই পোস্টে জামায়াত নেতারা কে কোথায় ঈদুর ফিতর উদযাপন করবেন তা জানানো হয়।   এতে বলা হয়েছে, দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ঢাকায়, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার নিজ গ্রামে, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ঢাকায়, সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নিজ গ্রামে, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার খানজাহান আলী থানার নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার নিজ এলাকার ঈদগাহ মাঠে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নওকৈড় নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ঢাকায়, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুষ্কুরুনী নিজ গ্রামে।   এ ছাড়াও অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বরিশালের নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেটের নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. শাহজাহান চট্টগ্রাম মহানগরীতে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব আবদুর রব ঢাকায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ঢাকায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ঢাকায় ঈদ করবেন বলে জানানো হয়েছে।   কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন বগুড়ায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ সাতক্ষীরার নিজ গ্রামে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ঢাকায়, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল চাঁপাইনবাবগঞ্জে, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন ঢাকায়, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নিজ গ্রামে ও ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম লক্ষ্মীপুরে নিজ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।

Admin মার্চ ১৮, ২০২৬ 0

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে

মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত আমির

আংশিক নয়, জুলাই সনদের পুরো প্যাকেজ চাই: জামায়াত আমির

  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই প্রস্তাবের পুরোপুরি বাস্তবায়ন চায় বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদের আংশিক নয়, পুরো প্যাকেজ চাই। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের যেটুকু প্রাপ্য, সেটুকুই নেব।’ আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের নবম তলায় বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় সরকারি দলকে জুলাইয়ে প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কেমন হবে, তা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাই। সরকার ভুল করলে পরমার্শ দেব, প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ করব। আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সরকার দল থেকে ইতিমধ্যে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অবস্থান সময়মতো দেখতে পাবে জাতি।’

Admin মার্চ ১১, ২০২৬ 0

হাসনাত এমপি না হলে জনগণ জানতই না যে সরকার খেজুর দেয়

সংবিধান মেনেই এই পর্যন্ত এসেছি আমরা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তার করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

রাঙামাটিতে এনসিপি থে‌কে একসঙ্গে ৮৭ জ‌নের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাঙামাটি জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমার পদত্যাগের ৫ দিন পর জুরাছড়িতে দলটির উপজেলা কমিটির আহ্বায়কসহ ৮৭ জন পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি জেলা কমিটির সদস্য ও জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা। সোমবার এক বিশেষ সভায় উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমাসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির সব সদস্য গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পরে এ সংক্রান্ত পদত্যাগপত্র রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়। উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা বলেন, ১ জানুয়ারি রাঙামাটি জেলা কমিটি জুরাছড়ি উপজেলার ৮৭ সদস্যের কমিটি ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগী নেতারা জানান, জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে তারা দলে যোগ দিয়েছিলেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বড় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করার মাধ্যমে এনসিপি তার স্বকীয়তা ও আদর্শ থেকে সরে এসেছে বলে তাদের মনে হয়েছে। দলটির বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তাদের আদর্শিক অবস্থান মিলছে না। এ কারণে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তারা। অসিম চাকমা বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমাদের পক্ষে সেই আদর্শকে লালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই আজ থেকে আমি এনসিপির রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়কসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। কোনো রাজনৈতিক দলের চাপের কারণে পদত্যাগ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের চাপে পদত্যাগ করেননি। এনসিপির রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির গণপদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সাংগঠনিক পদত্যাগপত্র আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর মাধ্যমে পদত্যাগের খবর পেয়েছেন। তবে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যে কমিটি থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়, সেই কমিটির কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র পাঠাতে হয়।

Admin মার্চ ১০, ২০২৬ 0

‘গণভোটে হ্যাঁ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে রায় বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসি’

প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অবদান অনস্বীকার্য: জামায়াত আমির

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

0 Comments