Categories
জাতীয় শিক্ষাঙ্গন

শাবিপ্রবি আন্দোলনকারীদের অর্থ সংগ্রহের ৬ ‘অ্যাকাউন্ট বন্ধ’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আর্থিক লেনদেনের ছয়টি অ্যাকাউনন্ট বন্ধের অভিযোগ উঠেছে।

২৪ জানুয়ারি সোমবার সন্ধ্যায় অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, শাবিপ্রবির যেকোনো কর্মসূচিতে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা যৌথ উদ্যোগে তহবিল গঠন করে থাকেন। এ আন্দোলনেও সেভাবেই অর্থ সংগ্রহ চলছিল। তবে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে এসব নম্বরে আর কোনো লেনদেন করা যাচ্ছে না।

রকেট, নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ মোট ছয়টি অ্যাকাউন্ট থেকে তারা কোনো লেনদেন করতে পারছেন না। এই ফোন নম্বরগুলোতে কল আসছে না এবং যাচ্ছেও না।

১৯ জানুয়ারি বেলা ৩টা থেকে অনশন কর্মসূচি করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এতে ২৪ জন শিক্ষার্থী অনশণে অংশ নেন। পরে পারিবারিক কারণে একজন বাড়িতে চলে যান। এরপর গণঅনশন হিসেবে আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী যোগ দেন। এছাড়া অনশনের ১২৫ ঘণ্টা পার হলেও এ সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।

আন্দোলনের মধ্যেই রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ২৪ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন তিনি।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
জাতীয় শিক্ষাঙ্গন

ঢাবিতে শিক্ষক নেটওয়ার্কের ‘প্রতীকী অনশন’ শুরু

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অপসারণের দাবিতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে প্রতীকী অনশন করছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাশে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’- এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন শুরু করেন তারা।

দুপুর ১২ টার দিকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি চলবে বিকেল তিনটা পর্যন্ত।

এই প্রতীকী অনশনে অংশ নিয়েছেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিম ইদ্দিন খান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. কাজলী সেহরীন ইসলাম, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের তাহমিনা খানম, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড মো. কামরুজ্জামান, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোসাহিদা সুলতানা রিতু, ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কাজী মারুফ, ইংরেজী বিভাগের তাসনীম সিরাজ মাহবুব, শান্তি ও সংঘর্ষ বিভাগের ফাহরিনা দূর্রাত, ইংরেজী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইদ ফেরদৌস, মীর্জা তসলিমা, রেহনুমা আহমেদ প্রমুখ।

এ ছাড়া কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন।

আরও পড়ুন : শাবিপ্রবির আন্দোলনের সমর্থনে প্রতীকী অনশন করবে ঢাবি

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
শিক্ষাঙ্গন

শাবি সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর নিকট ১০১ ছাত্রলীগ নেতার তিন দফা দাবি

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর সমর্থনে চলমান সংকট পরিস্থিতিতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। ১০১ ছাত্রলীগ নেতা এতে অংশগ্রহণ করেন।

ভার্চুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও শাবি ছাত্রলীগের প্রথম সভাপতি মো. ফরিদ আলম। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচ থেকে সর্বশেষ ব্যাচের ১০১ নেতার সম্মতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

দাবিগুলো হচ্ছে—অবিলম্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙাতে হবে। এর জন্য তাদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর কথিত যে পুলিশ এসল্ট মামলা করা হয়েছে, তা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে।

উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে ৩৫ সংগঠনের বিবৃতি : শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের অপসারণ প্রয়োজন বলে দাবি করেছে সিলেটের ৩৫টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। গতকাল এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলে, ‘শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান এক দফা দাবিতে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি এবং অতি দ্রুত উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি। ’

সিলেটের বিভিন্ন সংগঠন ছাড়াও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়, মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজসহ বিভিন্ন বিদ্যাপিঠের সংগঠনও রয়েছে।

নাট্য পরিষদের উদ্বেগ : শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকটে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের নেতারা। সংগঠনের সভাপতি মিশফাক আহমেদ মিশু ও সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের সম্পর্কের অবনতি শিক্ষাব্যবস্থায় চরম সংকট তৈরি করেছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণে দ্রুত সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাই।’

আরও পড়ুন : শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে আলোচনায় সাড়া দেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল : অনশনের ১০০ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ পদত্যাগ না করায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল বের করে। মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তমঞ্চের সামনে এসে উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তাঁরা।

ঢাবির দুই শিক্ষার্থীর সংহতি : সিলেটে এসে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দুই শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে তাঁরা সংহতি জানান। ঢাবির এ দুই শিক্ষার্থী হলেন ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাহফুজুর রহমান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা যা বললেন : শনিবার মধ্যরাতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে আমাদের সব ঘটনা বলেছি। তিনি বলেছেন, আমরা যাতে অনশন বন্ধ করি এবং এটা নিয়ে আলোচনায় বসি। আলোচনার মাধ্যমে এমন একটা পথ বের করি, যাতে কারো ক্ষতি না হয়। ’ তাঁরা আরো বলেন, ‘এ ছাড়া তিনি আগামীকাল (রবিবার) দুপুরের পরে আমাদের সঙ্গে আবার আলোচনায় বসবেন। ’

তবে গতকাল রাত ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ফের আলোচনার বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
শিক্ষাঙ্গন

শাবিপ্রবির আন্দোলনের সমর্থনে প্রতীকী অনশন করবে ঢাবি

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে প্রতীকী অনশন কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে প্রতীকী অনশন করবে তারা। শিক্ষক নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত কয়েক দিন ধরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত হামলার প্রতিবাদ, শিক্ষার্থীদের প্রাণরক্ষার দাবি ও তাদের ন্যায্য দাবিগুলোর সমর্থনে দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে একটি প্রতীকী অনশন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষক নেটওয়ার্ক।

শিক্ষক নেটওয়ার্কের অন্যতম সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী বলেন, ‘আজ ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে যায়, তা দেখে অনশনটা আমরা অব্যাহত রাখব কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেব।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ১১ দিন ধরে উত্তাল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়। আন্দোলনের প্রথম ছয় দিনে দাবি পূরণ না হওয়ায় গত বুধবার বেলা তিনটা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেন বেশ কিছু শিক্ষার্থী।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
জাতীয় শিক্ষাঙ্গন

শাবি উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন করলো শিক্ষার্থীরা

আন্দোলনের অংশ হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

২৩ জানুয়ারি রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের অনশনরত ভাই-বোনেরা যখন অনশনে কষ্ট করছে, আর উপাচার্য ওদিকে আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন। এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না। আমরা আমাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি।

এর আগে বিকেলে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তখন শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

এ বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করার পর শিক্ষার্থীরা জানান, পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, এতে আমাদের বাধ্য করা হচ্ছে আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে।

তারা আরও বলেন, উপাচার্যের বাসভবনে কেবল পুলিশ ঢুকতে পারবে। ভবিষ্যতে তারা উপাচার্যের বাসভবনের জরুরি পরিষেবা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন বলে জানান। এরই অংশ হিসেবে উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানা শিক্ষার্থীরা।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
শিক্ষাঙ্গন

দ্রুত পরীক্ষার নেওয়ার আশ্বাসে নীলক্ষেত ছাড়েন শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত  সাত সরকারি কলেজের ডিগ্রি কোর্সের শিক্ষার্থীরা বিনা নোটিশে চলমান পরীক্ষা স্থগিত করার প্রতিবাদে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় শনিবার ২২ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। প্রায় তিনঘণ্টা অবরোধ রাখার পর দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা ২০২২ সালে শেষ হচ্ছে। গত ২১ নভেম্বর পরীক্ষা শুরু হয়ে আজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বিনা নোটিশে তা স্থগিত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ— সর্বশেষ পরীক্ষাতে অংশ নিতে ইডেন কলেজ কেন্দ্রে উপস্থিত হলে তারা জানতে পারেন পরীক্ষাটি স্থগিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ডাক বিভাগের ডিজির বরখাস্ত চেয়ে নোটিশ

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেলা ১১টার দিকে কথা বলতে নীলক্ষেত মোড়ে আসেন ইডেন মহিলা কলেজের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খায়রুল বাশারসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক। তারা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অসমাপ্ত পরীক্ষাটি দ্রুত নেওয়া হবে।’

ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষক খায়রুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। তবে আমরা অধ্যক্ষের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করব।’

পরে জনভোগান্তি বিবেচনায় অবরোধ তুলে নিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
শিক্ষাঙ্গন

নোটিশ ছাড়া পরীক্ষা স্থগিত, নীলক্ষেত মোড় অবরোধ শিক্ষার্থীদের

করোনা ঊর্ধ্বগতি সংক্রমণ রোধ করতে স্কুল-কলেজ দুই সপ্তাহ বন্ধসহ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমতবস্থায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চলমান পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের ডিগ্রির শিক্ষার্থীরা শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করেছেন।

সাত কলেজের এসব ডিগ্রি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ইডেন কলেজে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, আজকেই তাদের শেষ পরীক্ষা ছিল। কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া মাত্র তারা জানতে পারেন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, ২০১৮ সালের ডিগ্রি দ্বিতীয়বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে। কিন্তু সে পরীক্ষা গত ২১ নভেম্বর শুরু হয়ে ২২ জানুয়ারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী কাওসার হোসেন বলেন, আমরা এমনিতেই ভয়াবহ সেশনজটে আছি। আজ শেষ পরীক্ষা থাকলেও কেন্দ্রে এসে জানতে পারি পরীক্ষা স্থগিত। আমাদের সঙ্গে এমন প্রহসন কেন? আজকের পরীক্ষা নিলে কী ক্ষতি হতো?

আরও পড়ুন : নীলক্ষেতে বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসতে শাবির শিক্ষক প্রতিনিধি দল ঢাকায়

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) উপাচার্য পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভুত বিক্ষোভ পরিস্থিতি সমাধানের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন শিক্ষকদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

শুক্রবার রাত ১১টায় শিক্ষকরা বিমানযোগে ঢাকায় পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে। শনিবার ২২ জানুয়ারি সকালে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাদের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সাথে আলোচনায় অংশ নিতে ঢাকায় আসেনি বলে খবর পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রেরিত পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসি কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মহিবুল আলম, ভৌত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশেদ তালুকদার, ফলিত বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন. খায়রুল ইসলাম রুবেল।

আরও পড়ুন : শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে আলোচনায় সাড়া দেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক তুলসি কুমার দাস বলেন, ‘আমরা এখন ঢাকায় এসেছি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে। কখন হবে তা এখনো সঠিক বলতে পারছি না’।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আগের দিন বিকেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আলোচনা করার জন্য ঢাকায় আসার প্রস্তাব দেন। সেই মুহূর্তে শিক্ষার্থীরা ঢাকায় এসে আলোচনা করতে রাজি হলেও পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে অনলাইনে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন।

এদিকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মোট ১৪ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

অসুস্থ ১৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে কাজল দাস জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে এবং আব্দুল্লাহ আর রাফি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা হাসপাতাল থেকে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনশনে সামিল হয়েছেন।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
জাতীয় শিক্ষাঙ্গন

সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সকল কোচিং সেন্টারও বন্ধ থাকবে। কারণ সেখানেও শিক্ষার্থীদের সমাবেশ ঘটে।’

২১ জানুয়ারি শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এবং শিক্ষা অফিসের কার্যালয় খোলা থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেখানে কাজ চলবে। আমাদের টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। যতদ্রুত সম্ভব টিকা দেওয়া হবে।’

বিগত সময়ের মতো এবারও দফায় দফায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হবে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে বলেছিলাম—আমাদের চেষ্টাটা হলো, একেবারেই যদি বাধ্য না হই, তাহলে আমরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না। শিক্ষা জীবন যতখানি সম্ভব স্বাভাবিক রেখে আমরা করোনা সংকট মোকাবিলা করতে চাই।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাঝে মাঝে ছুটি ভালো লাগে, লম্বা ছুটি কারো ভালো লাগে না। শিক্ষার্থীদের একদমই ভালো লাগার কথা নয়। অতিমারির কারণে বিগত দিনে একটি ছেদ পড়েছে। আমরা যতদূর সম্ভব ঠিক রাখার একটা চেষ্টা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাসের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে চলে। তারা নিজস্ব পদ্ধতিতে অনলাইনে ক্লাস চালাতে পারবেন। যত ভালোভাবে সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মানবেন। হঠাৎ করেই শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারণে সংক্রমণটা বেড়ে যেন না যায় সে জন্যই বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা যে খুশি মনে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি তা মনে করার কোনও কারণ নেই। আমরা বাধ্য হয়েই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি প্রত্যেকে মানলে এই অবস্থা হতো না। আমরা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরে রাখছি, যখনই উন্নতি হবে তখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে।

শাবিপ্রবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে চায় না। শিক্ষার্থীরা অনশন করছেন, কেউ কেউ অসুস্থ হয়েছেন। আমি একটু আগেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি চাই তাদের একটি প্রতিনিধি দল যদি পাঠাতে (ঢাকায়) পারেন, যতদ্রুত সম্ভব তারা আসবেন, আমি মনে করি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যে কোনও সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, আশা করছি আমরা সামনা-সামনি বসে সমস্যার সমাধান করতে করতে পারবো।’

মেডিক্যালে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যে সিলেবাসে শিক্ষার্থীরা পড়েছে সে সিলেবাসে ভর্তি না নেওয়াটা যুক্তিযুক্ত নয়। যদিও গতবারের বিষয়টি ছিলো ভিন্ন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
জাতীয় শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে আলোচনায় সাড়া দেন শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভিডিওকলে যোগাযোগ করে এই আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে আরও ভালোভাবে চলবে সেটা নিয়েও কথা বলতে চাই। আপনারা যারা আসবেন জানান। আমি আছি।’

এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার ২১ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ৩টায় এ সম্মতির কথা জানান তারা।

শিক্ষামন্ত্রী তার আহ্বানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অবশ্যই আলোচনায় বসতে হবে। আপনারা নিজেদের মধ্যে কথা বলে ঠিক করে নেবেন। যারা প্রতিনিধি দলে আসবেন, তারা যেন সবার প্রতিনিধি হন। পরে আবার কেউ যেন না বলেন, এই দলের সঙ্গে কথা বলা আর আমাদের সঙ্গে কথা বলা এক নয়।’

আরও পড়ুন : রাষ্ট্রপতি বরাবর শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের খোলা চিঠি পাঠ

এ সময় প্রতিনিধি হিসেবে কারা আসবেন সেটি জানানোর জন্য শিক্ষার্থীরা কিছুটা সময় চেয়ে নেন। পরে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ম্যামের সঙ্গে আমাদের ফোনে কথা হয়েছে। আমরা আমাদের মধ্যে আলোচনা করে কয়েকজনকে প্রতিনিধি করে খুব শিগগিরই ম্যামের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাঠাবো।’

অনশন ভেঙে আলোচনা করবেন কিনা? জবাবে শিক্ষার্থীরা জানান, ‘অনশন না ভেঙেই আলোচনায় বসা হবে। আমরা অনশনকারীদের অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি অনশন ভাঙার জন্য। কিন্তু তারা আমাদের জানিয়েছেন, উপাচার্যের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবেন।’

দীপু মনি আন্দোলনরতদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা কষ্ট করছেন। আমি তো একজন মা। আমার ছোট সন্তানের থেকেও আপনাদের বয়স কম। ফলে বিষয়টি কেবল মন্ত্রী হিসেবে দেখলেই চলছে না। শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু সমাধান করতে হবে।’

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শাবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের ২৪ শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেছেন। ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তারা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময়ের মধ্যে শীতে ও না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনশনরত বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কয়েকবার বসার আহ্বান জানালেও কর্ণপাত করেননি আন্দোলনরতরা।

ভয়েসটিভি/এমএম