Categories
সারাদেশ

চান্স পেয়েও কী চাঁদনীর ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে

বাবা হোটেল ব্যবসায়ীর স্বপ্ন ছিল তার মেয়েরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হউক। দুইবোন ও এক ভাইয়ের মাঝে সে স্বপ্নের পথে হেটেছে মেয়ে সুমাইয়া আক্তার চাঁদনী। সাধারণের মাঝে অসাধারণ এক শিক্ষার্থী। জেএসসির পর মানবিক বিভাগ নেয়ায় অনেকে নিরুৎসাহিত করলেও চাঁদনী সফলতার সাথেই এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ফাইভ পেয়ে পরিবার ও সকলের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ‘বি’ ইউনিটে মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছেন। চাঁদনীর স্বপ্ন একদিন সে ঢাবির শিক্ষক বা এডমিন ক্যাডার হবে।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের বাজারের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সুমাইয়া আক্তার চাঁদনী। পরিবারে বাবা-মায়ের সঙ্গে দুই বোন এক ভাই নিয়ে তাদের সংসার।

কোভিড-১৯ এর কারণে সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি লকডাউনে থমকে যায় পুরো দেশ। পরবর্তীতে ২০২০ সালের এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসির ফলাফল দেয়া হয়। সেখানে সে জিপিএ-৫ লাভ করে। শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতি। তার প্রবল আত্মবিশ্বাস পরিবারের সকলের দেয়া উৎসাহ ও  অনুপ্রেরণায় ভালো ফলাফলই ছিল মূল লক্ষ্য। কারণ, মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে এটাই ছিল বাবা মার চাওয়া।

চাঁদনীর ইচ্ছে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়বে। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধে চাঁদনী ঢাবি- ‘বি’ ইউনিটে ১৫৮৭ তম, পাশাপাশি রাবি-‘এ’ ইউনিটে ৮৪৭তম, ‘বি’ ইউনিটে ৫০তম এবং গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ৭৩.৭৫ পেয়ে উত্তীর্ণ কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষাথী সুমাইয়া আক্তার চাঁদনী ভয়েস টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমার ইচ্ছা আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক বা এডমিন ক্যাডার হতে চাই। এই সাফল্য আমার একার নয়। পরিবার, শিক্ষক, শুভাকাঙ্ক্ষীদের যারা আমাকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে, দিক নির্দেশনা দিয়ে পাশে থেকেছে। আমি তাদের কাছে চির ঋণী। আমি সবার কাছে দোয়া চাই।’

চাঁদনী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ছাত্র বন্ধুরা তোমরা নিয়মিত লেখা পড়া চালিয়ে যাও আর বিশ্বাস রাখো সফল হবে।’

চাঁদনীর বাবা চাঁদ মিয়া বলেন, আমার মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ায় আমি খুশি কিন্তু ভর্তি পরবর্তী শিক্ষা খরচ মেটাতে অনেক টাকার প্রযোজন। আমার যে হোটেল আছে তাতে এ দিয়ে তো আর হবে না। হোটেলের ভাড়া দিতে হয়। যে টুকু আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে পরে আছি। ভর্তি এবং মাসিক খরচের টাকায় কোথায় পাবো জানা নেই। যদি কোন ব্যক্তি সহযোগিতা করে তাহলে ভালো হয়।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
সারাদেশ

শেরপুরে ধর্ষণের মামলায় সাবেক স্বামীকে যাবজ্জীবন

শেরপুরে তালাকের পরও তা গোপন রেখে সাবেক স্ত্রীর সাথে আড়াই বছর যাবত শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগে ধর্ষণের মামলায় শাহ আলী নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

২৩ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে একমাত্র আসামির অনুপস্থিতিতে ওই রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান।

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, শেরপুর সদর উপজেলার মধ্য বয়ড়া গ্রামে এক কৃষক পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করেন শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা এলাকার আবু বকরের ছেলে শাহ আলী। দাম্পত্য জীবনের এক পর্যায়ে স্বামী শাহ আলীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের একটি মামলা দায়ের করেন স্ত্রী। ওই মামলায় ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে শাহ আলী ২০১২ সালের ১৩ মে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন মর্মে কাগজপত্র দাখিল করেন।

পরে সেই তালাকের বিষয়টি গোপন রেখে প্রায় আড়াই বছর সাবেক স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক বহাল রাখায় ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি শাহ আলী এবং তার মা-বাবাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও সহায়তার অভিযোগে থানায় মামলা করেন সেই প্রতারিত গৃহবধূ। বিচারিক পর্যায়ে শাহ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয়।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
সারাদেশ

বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ, ৯৯৯-এ কল দিয়ে গ্রেফতার যুবক

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় একুশ বছরের এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে আবু সায়েদ তারেক (২৪) নামের এক যুবককে ৯৯৯-এ কল করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। পরে তরুণীর করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় সায়েদকে গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষক তারেকের বাড়ি উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নে।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ওই তরুণীর সঙ্গে চার বছর আগে মুঠোফোনে আবু সায়েদের পরিচয় হয়। এরপর উভয়ের মধ্যে মুঠোফোনে কথা চলে। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি ওই তরুণীর স্বামী জানতে পারলে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। এরপর আবু সায়েদ তরুণীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিয়ে করার কথা বলে ৬ নভেম্বর তরুণীর বাড়িতে গিয়ে আবু সায়েদ তাকে ধর্ষণ করেন এবং বিয়ের বিষয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। এমতবস্থায় গত শনিবার রাতে আবু সায়েদ তরুণীর বাড়িতে গেলে লোকজন তাকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) কল করেন। পরে পুলিশ এসে রাতেই তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় রোববার তরুণী বাদী হয়ে আবু সায়েদকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা করেন। সেই মামলায় সায়েদকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

তরুণী বলেন, আবু সায়েদের কারণে আমার সংসার নষ্ট হয়ে গেছে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার আমাকে ধর্ষণ করেছে। তিনি আবু সায়েদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, রোববার দুপুরে ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রহিম সরকার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আবু সায়েদ ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে ফেনী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : মা-বাবা-বোনকে হত্যা করে ৯৯৯-এ ফোন করেন মেহজাবিন

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
সারাদেশ

এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মুখে এসিড নিক্ষেপ

নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় এক  এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা। মামলার পরই এক যুবককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার পরিদর্শক সাদাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাদাত বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করি। পরে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ওই আসামিকে সোমবার ২২ নভেম্বর আদালতে পাঠানো হয়। শুনানি শেষে ওই আসামিকে কারাগারে পাঠান বিচারক। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এদিকে ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান বলেন, ‘তাকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। সে দু’চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মুখমণ্ডলের সামনের অংশ শতভাগ পুড়ে গেছে। ডাক্তাররা তার চিকিৎসার পাশাপাশি তাকে অবজারভেশনে রেখেছেন।’

ভুক্তভোগী ওই তরুণীর মা জানান, ‘রবিবার ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন আমারে মেয়ে। বাড়ির কাছেই তার মুখে এসিড ছুড়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আমার মেয়ে তখন ‘আমার মুখে এসিড মেরেছে’ বলে চিৎকার দিতে দিতে বাড়িতে ঢোকে। এরপর তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। সেখান থেকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠান ডাক্তার।’

আরও পড়ুন : ডিভোর্স দেয়ায় স্ত্রীর মুখে এসিড ছুড়ে মারল স্বামী

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
সারাদেশ

বাজারে শাকের কেজি ৪০০ টাকা!

শীত মৌসুমের মজাদার শাকের মধ্যে অন্যতম কলই শাক। খেসারি ডালের শাককেই কলই শাক বলা হয়। দক্ষিণাঞ্চলে ভোজনপ্রীয় মানুষের কাছে এই শাক অত্যন্ত প্রিয়। বছরজুড়ে তারা অপেক্ষায় থাকেন কবে বাজারে আসবে এ কলই শাক।

বাউফল উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারের কলই শাকের দেখা না গেলেও গতকাল সোমবার কালাইয়া বন্দর কাঁচাবাজারে দেখা মেলে এই শাকের। যা পরিমাণে ছিল মাত্র ২০০ গ্রাম। বন্দরের ব্যবসায়ী উত্তম কর্মকার ৪০০ টাকা কেজি দরে ওই ২০০ গ্রাম শাক কেনেন ৮০ টাকায়।

সাধারণত জানুয়ারির প্রথম কিংবা ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাজারে আসে কলই শাক। তবে কিছু কৃষক বেশি লাভের আশায় শীতের প্রথমভাগে বিচ্ছিন্নভাবে কলই শাক চাষ করছেন।

উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে বড়ডালিমা গ্রামের কৃষক ফয়জুল মৃধা জানান, তার নিজ বাড়ির উঠানে চাষ করেছেন কলই শাক। গতকাল প্রথম দিন ক্ষেত থেকে ২০০ গ্রাম শাক তুলে এনে বাজারে চাহিদা বুঝলাম। তবে এত দাম পাব তা ভাবিনি। অসময়ে চাষাবাদে ফলন কম হলেও দাম বেশি পেয়ে তিনি খুশি।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
সারাদেশ

কুমিল্লায় এলোপাতাড়ি গুলিতে কাউন্সিলর সোহেল ও সহযোগীর মৃত্যু

কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ মো. সোহেল এবং আওয়ামী লীগ নেতা হরিপদ সাহা নিহত হয়েছেন।

২২ নভেম্বর সোমবার বিকালে নগরীর পাথুরীয়াপাড়া পানুয়া খানকা শরীফ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের চিকিৎসক নাফিজ সোমবার সন্ধ্যায় দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম জানান, বিকেল ৪টার দিকে কাউন্সিলর সোহেল তার কার্যালয়ে বসে ছিলেন। এ সময় মুখোশ পরা ১৫ থেকে ২০ জন তাকে গুলি করে। এতে কাউন্সিলর সোহেল লুটিয়ে পড়েন।

এ সময় আরও অন্তত ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন। তারা হলেন আওলাদ হোসেন রাজু, মো. জুয়েল, মো. রাসেল ও হরিপদ সাহা। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ করতে করতে চলে যায়।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
সারাদেশ

দু-দুটি জিপিএ ৫ নিয়ে নতুন যুদ্ধে কব্জীবিহীন মোবারক আলী

জন্ম থেকেই দুই হাত কব্জীবিহীন দুই হাত নিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন মোবারক আলী। শারিরীক সক্ষমতায় পূর্ণতা না পেলেও মেধায় রয়েছে তার পূর্ণতা। এরইমধ্যে কব্জীবিহীন হাতে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রাথমিক এবং জেএসসিতে  পেয়েছেন জিপিএ-৫।

শারিরীক অপূর্ণঙ্গতায় যথারীতি অংশ নিয়েছেন এসএসসি পরীক্ষা। ২২ নভেম্বর সোমবার ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ৯ নম্বর কক্ষে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসাবে গণিত বিষয়ের পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি।

তার রোল নম্বর ২১৫৭৭৩। সে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া কথা থাকলেও বাড়তি সময় প্রয়োজন হয় না মোবারক আলীর। অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে হল ত্যাগ করতে দেখা গেছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী মোবারক আলী  কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে দিনমজুর এনামুল হকের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

পরিবার জানায়, জন্ম থেকে দুই হাতের কব্জি ছিল না মোবারক আলীর। তাকে নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলেন অভিভাবকরা।    ছেলের এমন অবস্থায় বিচলিত হলেও মনোবল হারাননি মা মরিয়ম বেগম। মায়ের হাত ধরেই কলম ধরা আয়ত্ব করে নেন মোবারক।

মায়ের সাহসে ছেলেকে স্কুলমুখি করতে আগ্রহী হন বাবা।  স্কুলে ভর্তি পর তার সহপাঠিরাও তাকে লেখা শেখার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে। কব্জীবিহীন হাতেই পরীক্ষা দিয়ে প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসিতে অর্জন করে জিপিএ-৫।

চলতি এসএসসি পরীক্ষায় ওই কব্জী বিহীন দু’হাত একত্রে করে খাতায় উত্তর পত্র লেখে দিচ্ছেন অদম্য মেধাবী মোবারক আলী। দুটি হাতের আঙ্গুল না থাকলেও সুস্থ স্বাভাবিক শিক্ষার্থীর মতই পরীক্ষা দিচ্ছে সে।

জন্মের পর থেকে এভাবেই সে বড় হয়ে উঠে। তার দুটো হাত অচল হলেও কখনও দমেনি এ লড়াকু সৈনিকের লেখা পড়া । শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্বেও কঠোর পরিশ্রম করে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন এবারো।

মোবারক আলী মা মরিয়ম বেগম জানান, দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে বড় । সে নিজের কাজ গুলো প্রায় সব নিজেই করতে পারে। ওর ইচ্ছাশক্তি প্রবল। আমরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। তার পড়েও তাকে উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ।

মোবারক আলী বলেন,  কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছি। আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন ভাল রেজাল্ট করে বাবা-মা সহ শিক্ষকদের মুখ উজ্বল করতে পারি ।

কাশিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জায়দুল হক ভয়েস টেলিভিশনকে জানান, মোবারক প্রতিবন্ধী হলেও যথেষ্ঠ মেধাবী এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও পারদর্শী। আমি আশা করছি সে ভাল ফলাফল করবে।

ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব গোলাম কিবরিয়া ভয়েস টেলিভিশনকে জানান, মোবারক আলী অন্য শিক্ষার্থীদের মতই প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে বাড়তি সময় দেয়া হয়েছে। কিন্তু সে নির্দিষ্ট সময়েই পরীক্ষার খাতায় লেখা শেষ করছে।

আরও পড়ুন : ময়মনসিংহে চার হাত, চার পা নিয়ে শিশুর জন্ম

Categories
সারাদেশ

আবারো সেরা করদাতা ভয়েস টিভির চেয়ারম্যান সেলিম খান

আবারো সেরা করদাতা হলেন ভয়েস টেলিভিশনের চেয়ারম্যান ও শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান। এর আগেও চাঁদপুর জেলার সেরা করদাতা হয়েছিলেন। কুমিল্লা কর অঞ্চল থেকে ১৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত করদাতাদের তালিকা থেকে এ তথ্য জানা যায়।

মোঃ সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের এক দশকের সফল চেয়ারম্যান ও ইউনয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। একই সঙ্গে তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়া ও শাপলা মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার। এছাড়া তিনি ভয়েস টেলিভিশনের চেয়ারম্যান।

নৌকার প্রার্থী হিসেবে গত ৩ ফেব্রুয়ারি চলচ্চিত্র অঙ্গনের এই প্রখ্যাত প্রযোজক ও পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

সেলিম খান দেশের খ্যাতনামা প্রযোজক হিসেবে বিগ বাজেটের বেশকিছু ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। একই সঙ্গে শাপলা মিডিয়া সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে দেশব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

‘আগস্ট ১৯৭৫’ এবং ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ চলচ্চিত্র দুটি ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির আলোকে নির্মাণ করা হয়েছে। যা এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। ২০১৭ সাল থেকে শাপলা মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সবসময়ই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে চলা চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত একটি নাম।

মহামারি করোনায় যখন চারদিকে লকডাউন এবং প্রতিদিনই বেড়েছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা। তখন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনেও নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রযোজক শূন্য হয়ে পড়ায় নিদারুণ কষ্টে পড়ে অসংখ্য শিল্পী-কলাকুশলী। তখন প্রযোজক সমিতিতে ছয়টি চলচ্চিত্রের নাম এন্ট্রি করে শুটিং এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখে শাপলা মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল।

সারাদেশের হলগুলো (প্রেক্ষাগৃহ) সক্রিয় করার জন্যে সরব ছিলেন শাপলা মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার সেলিম খান। চলচ্চিত্র শিল্পকে বাঁচাতে সবসময়ই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের পাশে দাঁড়িয়েছেন এই প্রযোজক ও পরিচলক।

আরও পড়ুন : চাঁদপুরের সেরা করদাতা চেয়ারম্যান সেলিম খান (২০২০)

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
সারাদেশ

ধর্ষণে ৮ মাসের অন্তসত্ত্বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তরুণী

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাহবুব আলম আবু (৩৫) নামে এক যুববের বিরুদ্ধে। ওই প্রতিবন্ধী তরুণী ৮ মাসের অন্তসত্ত্বার খবর জানাজানি হলে ভিকটিমের পরিবার থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

রোববার ২১ নভেম্বর রাতে অভিযুক্ত ধর্ষক আবুর নাম উল্লেখ করে থানায় এই ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন ভিকটিম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তরুণীর বাবা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর ধরে তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ভেলকুগছ মুহুরিহাট গ্রামে জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে কাজের মেয়ে (বুয়া) হিসেবে কাজ করে আসছিল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ওই তরুণী। এর মাঝে জয়নালের ছেলে মাহবুব আলম আবু দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্ক তৈরি করে ওই প্রতিবন্ধী তরুণীকে একাধীকবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণের বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখায় আবু। এক পর্যায়ে ওই তরুণী অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

গত শুক্রবার ১৯ নভেম্বর হঠাৎ ওই প্রতিবন্ধী তরুণী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে বাড়ির লোকজন তাকে শনিবার ২০ নভেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক ওই তরুণীর সাড়ে ৮ মাসের অন্তসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ধর্ষক আবুর পরিবার তরুণীকে গ্রহণ না করতে নানান তালবাহানা শুরু করে। এক পর্যায়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়।

এর আগে অন্তসত্বার বিষয়টি আবুর পরিবার জানতে পারলে বাচ্চা নষ্ট করার বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ওই প্রতিবন্ধীকে ঘরবন্দি করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, একটা প্রতিবন্ধী মেয়েকে অন্তসত্বা করার পর আবার তাকে ঘরবন্দি করে রাখা জঘন্য অপরাধ। তারা বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করে। কিন্তু মা-সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই একই সাথে মেয়েটিকে স্ত্রীর মর্যাদা দেয়া হোক।

ভিকটিমের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাটি জানার পর তাদের সাথে কথা হয়। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের মেয়ে ও প্রতিবন্ধী হওয়ায় তারা মেয়েকে গ্রহণ করছেন না। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

স্থানীয় প্রতিবেশীদের আশা আইনের মাধ্যমে যেন ওই ছেলের হাতে মেয়েকে তুলে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক মাহবুব আলম আবুসহ তার বাবা জয়নালের সাথে একাধীকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোনে পাওয়া যায় নি। অন্যদিকে সাংবাদিকের উপস্থিতি পেয়ে রোববার ২১ নভেম্বর দুপুরে বাড়ির অন্য সদস্যরাও বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সায়েম মিয়া বলেন, এ ঘটনায় মামলার অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু প্রতিবন্ধী তরুণীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে একই সাথে ঘরবন্দি করা হয়েছে সেহেতু কোনভাবে অপরাধীকে ছাড় দেয়া হবে না।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
সারাদেশ

গরম পানি ছুড়ে ভাবির শরীর ঝলসে দিল দেবর

ফেনীর দাগনভূঞায় পারিবারিক কলহের জেরে দেবরের ছুঁড়ে দেওয়া গরম পানিতে রাবেয়া আক্তার মুন্নি নামে এক নারীর শরীর ঝলসে গেছে। গত শনিবার বিকেলে উপজেলার উত্তর চন্ডিপুর গ্রামের গুড়া কাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় আহত মুন্নির স্বামী শহীদুল্লা বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর ওই রাতেই ভুক্তভোগী দেবর আহসান উল্লাহ খোকন ও তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার সুইটিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গুডা কাজি বাড়ির সিরাজুল্লাহ ছেলে শহীদুল্লাহর আপন ভাই আসান উল্লাহর সাথে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এই কলহের জের ধরে  দেবর আসান উল্লাহ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গরম করে রাখে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসান তার বড় ভাবি মুন্নির গায়ের উপর গরম পানি ছুড়ে মারে। এ অবস্থায় তার চিৎকার শুনে বাড়ির অন্যরা এগিয়ে এসে দেখে মুন্নির কোমর থেকে উরুর নীচ পর্যন্ত ঝলসে যায়। পরে তাকে দ্রুত দাগনভূঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মামলার বাদী শহীদ উল্যাহ জানান, দীর্ঘ দিন নানা ছুতায় তার ভাই ও তার স্ত্রী ঝগড়া করছিলেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস হলেও তারা বিচার মানেননি। ওই দিন হত্যার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রীকে গরম পানি নিক্ষেপ করে ঝলসে দেওয়ার পর প্রাণনাশের হুমকি দেন। বাদি শহিদুল্ল্যাহ একজন সিএনজি চালক। সারা দিন ভাড়ায় খাটার কারণে বাড়ির বাইরে থাকেন বলেও জানান তিনি।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন : দেবর-ভাবির বিবাদ মেটাতে গিয়ে বড় ভাই খুন

ভয়েসটিভি/এমএম