Categories
অপরাধ

ডা. সাবরিনা ও সাহেদের ব্যাংক হিসাব জব্দ

ঢাকা : জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান  সাহেদ করিমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এনবিআরের সিআইসি থেকে ১২ জুলাই রোববার বিকেলে তাদের হিসাব জব্দ করার জন্যে সব ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। এর পাশাপাশি তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য আগামি ৭ দিনের মধ্যে জানানোর জন্য সব তফসিলি ব্যাংককে দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া সাবরিনা চৌধুরীর স্বামী জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল হক চৌধুরী ও রিজেন্ট হাসপাতালের পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে।

এনবিআরের সিআইসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কর নথিতে থাকা তাদের আয়-ব্যয় খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তির পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানও এনবিআরের নজরদারিতে থাকছে। রিজেন্ট হাসপাতাল, রিজেন্ট কেসিএস, জেকেজি হেলথকেয়ার, ওভাল গ্রুপ লিমিটেডের যাবতীয় ব্যাংক হিসাব এরইমধ্যে  জব্দ করা হয়েছে।

ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ওভার গ্রুপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান হলেন ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী।

ভয়েস টিডি/নিজস্ব প্রতিবেদক/১৩ জুলাই ২০২০

Categories
অপরাধ চিকিৎসা

অবশেষে ডা. সাবরিনা গ্রেফতার

ঢাকা: করোনা পরীক্ষা না করে মনগড়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার জেকেজি হেলথ কেয়ারের সিইও আরিফ চৌধুরীর স্ত্রী ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

১২ জুলাই রোববার দুপুরে ডিএমপির তেজগাঁও উপ-কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে সাবরিনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডা. সাবরিনা চৌধুরী। পেশায় হৃদরোগ সার্জন। টেলিভিশনগুলোর স্বাস্থ্য বিষয়ক টকশোতে নিয়মিত অংশ নিতেন। দিতেন সুস্থ্য থাকার নানা টিপস। সবকিছু ছাড়িয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণার অভিযোগে এখন তিনি ও তার খলনায়ক স্বামী আরিফ চৌধুরী আলোচনায়। যার চতুর্থ স্ত্রী হিসাবেই সাবরিনা পরিচিত। আরিফের দুই স্ত্রী থাকেন রাশিয়া ও লন্ডনে। আরেক স্ত্রী দেশেই থাকেন।

সম্প্রতি পূর্বের আলোচনা ছাড়িয়ে এ দম্পতি নতুন আরেক আলোচনায় এসেছেন। জেকেজি হেলথ কেয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা ২৭ হাজার করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে কোনো রকম পরীক্ষা ছাড়াই ১৫ হাজার ৪৬০টি মনগড়া ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছেন। বাকি ১১ হাজার ৫৪০টি রিপোর্ট দিয়েছে আইইডিসিআরের মাধ্যমে। জেকেজির গুলশানের অফিস থেকে ১৫ হাজার ৪৬০টি ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে এই দম্পতি হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৮ কোটি টাকা।

করোনার রিপোর্ট জালিয়াতির দায়ে এরইমধ্যে সাবরিনা চৌধুরীর স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির তেজগাঁও ডিভিশন। তারা এখন কারাগারে আছেন। পুলিশি তদন্তে তাদের ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের সত্যতাও মেলেছে। এমনকি জালিয়াতির কাজে সংশ্লিষ্টতা মিলেছে ডা. সাবরিনা চৌধুরীর। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের রেজিষ্টার সার্জন হয়েও তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ভয়েসটিভি/নিজস্ব প্রতিবেদক/দেলোয়ার

Categories
অপরাধ জাতীয়

ডা. সাবরিনা আরিফ দম্পতির ভয়ঙ্কর প্রতারণা

ঢাকা : ডা. সাবরিনা চৌধুরী। পেশায় হৃদরোগ সার্জন। টেলিভিশনগুলোর স্বাস্থ্য বিষয়ক টকশোতে নিয়মিত অংশ নিতেন। দিতেন সুস্থ্য থাকার নানা টিপস। সবকিছু ছাড়িয়ে ভয়ঙ্কর প্রতারণার অভিযোগে এখন তিনি ও তার খলনায়ক স্বামী আরিফ চৌধুরী আলোচনায়। যার চতুর্থ স্ত্রী হিসাবেই সাবরিনা পরিচিত। আরিফের দুই স্ত্রী থাকেন রাশিয়া ও লন্ডনে। আরেক স্ত্রী দেশেই থাকেন।

স্ত্রীর অধিকার পাবার জন্য স্বামীর পেছনে হন্যে হয়ে ছুটছেন। এসব বিষয়ে কম যান না সাবরিনাও। আরিফ চৌধুরী তাকে একদিন এক চিকিৎসকরে সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটানো অবস্থায় পেয়েছেন। পরে আরিফের মারধরের শিকার হন ওই চিকিৎসক। এনিয়ে সাবরিনা শেরেবাংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। এসব নিয়ে সেই সময় আলোচনার কমতি ছিল না।

সম্প্রতি পূর্বের আলোচনা ছাড়িয়ে এ দম্পতি নতুন আরেক আলোচনায় এসেছেন। জেকেজি হেলথ কেয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা ২৭ হাজার করোনা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে কোনো রকম পরীক্ষা ছাড়াই ১৫ হাজার ৪৬০টি মনগড়া ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছেন। বাকি ১১ হাজার ৫৪০টি রিপোর্ট দিয়েছে আইইডিসিআরের মাধ্যমে। জেকেজির গুলশানের অফিস থেকে ১৫ হাজার ৪৬০টি ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে এই দম্পতি হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৮ কোটি টাকা।

করোনার রিপোর্ট জালিয়াতির দায়ে এরইমধ্যে সাবরিনা চৌধুরীর স্বামী আরিফ চৌধুরীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির তেজগাঁও ডিভিশন। তারা এখন কারাগারে আছেন। পুলিশি তদন্তে তাদের ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের সত্যতাও মেলেছে। এমনকি জালিয়াতির কাজে সংশ্লিষ্টতা মিলেছে ডা. সাবরিনা চৌধুরীর। জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের রেজিষ্টার সার্জন হয়েও তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সরকারি চাকরি করেও তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রভাব খাটিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ ভাগাতেন।

জেকেজি প্রতিষ্ঠানের সিইও আরিফ চৌধুরীর নামে জালিয়াতি, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশের ওপর হামলাসহ আরও কয়েকটি অভিযোগে চারটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলার কোনোটিতেই আসামি করা হয়নি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রথমদিকে সাবরিনার সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া না গেলেও পরে তদন্তে সাবরিনার সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসছে।

এরইমধ্যে রিপোর্ট জালিয়াতি, তিতুমীর কলেজে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলায় সাবরিনার সংশ্লিষ্টতা মিলেছে। আরও কিছু তথ্য প্রমান পেলেই সাবরিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদিও সাবরিনা এই ঘটনার পর থেকেই দাবি করছেন জেকেজির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এই প্রতিষ্ঠানটি তার স্বামী আরিফ চৌধুরীর।

এদিকে ১১ জুলাই শনিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনে ডা. সাবরিনা চৌধুরী জেকেজির সঙ্গে বর্তমানে তার সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন। আগেই তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে সরে এসেছেন। তিনি বলেছেন, জেকেজির চেয়ারম্যান হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। এটি ওভাল গ্রুপের একটি অঙ্গসংগঠন। আর ওভাল গ্রুপ একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। যার মালিক আরিফ চৌধুরী। সাবরিনা বলেন, আমি আরিফকে কাজ পাইয়ে দিয়েছি বা দিতাম এগুলো একেবারে মিথ্যা কথা। বরং জেকেজির জাল সনদ তৈরির কথা তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তবে আরিফ পুলিশের কাছে শিকার করেছেন জেকেজির সঙ্গে সাবরিনার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টসূত্র বলছে, সাবরিনা-আরিফ দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে দিব্যি জালিয়াতির কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলো। হয়তোবা তাদের এমন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কেউই কোনোদিন জানতে পারতো না। তবে তিতুমীর কলেজে করোনার বুথ স্থাপন করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, গান বাজনা, পার্টি ও কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ তাদের জালিয়াতির বিষয়টি ধরতে পারে। জালিয়াতির ঘটনায়ই ২৫শে জুন পুলিশ আরিফ ও তার ৫ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে । পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে তেজগাঁও থানায় নিয়ে আসে। এরপর ওইদিন রাতেই আরিফকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে একটি বিশেষ দলের পরিচয় দিয়ে অন্তত ৬০/৭০ জন লোক তেজগাঁও থানায় হামলা করেছিলো। হামলাকারীরা ওইদিন থানার কেচিগেট ভাংচুর করে। পুলিশের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই হামলাকারী ১৮ জনকে আটক করে পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, হামলাকারীরা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের পরিচয় দিয়েছিল। তারা আরিফকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য এতটাই মারমুখী ছিল প্রথমদিকে থানার পুলিশও অসহায় হয়ে পড়েছিল। পরে বাধ্য হয়ে পুলিশ তাদেরকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া খোদ আরিফকে গ্রেপ্তার করে আনার পর সে পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। মাদকাসক্ত আরিফ থানায় এসে পুলিশের কাছে নেশাদ্রব্য চেয়ে বসে। পুলিশ তাকে নেশাদ্রব্য না দেওয়াতে সে চড়াও হয়ে থানার সিসি ক্যামেরা ভাংচুর করে।

এদিকে জালিয়াতি ও অন্যান্য মামলায় এখনও সাবরিনাকে গ্রেপ্তার করতে করেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে এসব অনৈতিক কাজে সাবরিনার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পুরোপুরি সংশ্লিষ্টা পাওয়া গেলেই শিগগির তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া তাদের এই কর্মকাণ্ডে যারা সহযোগীতা করেছেন তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অপকর্ম করে তারা কত টাকা কামিয়েছেন সে বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে পুলিশ।

পুলিশের তেজগাঁও ডিভিশনের উপ কমিশনার হারুন অর রশীদ শনিবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, করোনার জাল সনদ জালিয়াতির ঘটনা মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে সাবরিনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে।

তেজগাঁও পুলিশের একাধিকসূত্র জানিয়েছে, আলোচিত এই ঘটনার তদন্তে চাঞ্চল্যকর অনেক তথ্যই মিলেছে। তদন্তও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পুলিশি তদন্তে সাবরিনা ও আরিফের খুঁটির জোরের সন্ধান মিলেছে। যাদের প্রভাব খাটিয়ে তারা বেপরোয়াভাবে অপকর্ম করে যাচ্ছিলো। প্রভাব কাটিয়ে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তাদের ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানে করোনার নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে আসে। শুধুমাত্র তিতুমির কলেজে বুথ স্থাপন করে নমুনা সংগ্রহের অনুমতি পেলেও তারা প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে শুরু করে ঢাকার বাইরে থেকেও মাঠকর্মী পাটিয়ে নমুনা সংগ্রহ করত। অল্প কিছুদিনেই তারা ২৭ হাজার মানুষের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। যারমধ্যে ১৫ হাজারের ওপরে ভুয়া সনদ দিয়েছে।

সাবরিনা-আরিফের দম্পতির জেকেজি প্রতিষ্ঠান ঢাকাসহ, নায়ায়নগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৪৪টি বুথ স্থাপন করেছিল। নমুনা সংগ্রহের জন্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেয়া ছিল। তাদের হটলাইন নম্বরে রোগীরা ফোন দিলে মাঠ কর্মীরা বাড়ি গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করতেন। আবার অনেককে জেকেজির বুথের ঠিকানা দেয়া হতে। এভাবে কর্মীরা প্রতিদিন গড়ে ৫০০ মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতো। পরে তাদের গুলশানের একটি ভবনের ১৫ তলার অফিসের একটি ল্যাপটপ থেকে ভুয়া সনদ দিতো। ওই ল্যাপটপ থেকে জিকেজির কর্মীরা রাতদিন শুধু জাল রিপোর্ট তৈরির কাজ করত। প্রতিটা সনদের জন্য নেয়া হতো ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। যদিও শর্ত ছিল বিনামূল্য নমুনা সংগ্রহ করে সরকার নির্ধারিত ল্যাবে পাঠাতে হবে। কিন্তু তারা সকল প্রকার শর্তভঙ্গ করে পরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দিত।

শনিবার জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিউট ও হাসপাতালে গিয়ে জানা যায় ডা. সাবরিনা নিয়মিতই অফিস করছেন। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা পত্রপত্রিকায় সাবরিনার বিষয়ে জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি।

হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও পরিচালক ডা. মীর জামাল উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি শুনেছি। সাবরিনা নিয়মিত অফিস করছেন।’

সাবরিনা সরকারি হাসপাতালে চাকরি করে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এখনই কিছু বলা যাবে না। সাবরিনার বিষয়টি তদন্তের জন্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে বলা হয়েছে।’

ভয়েসটিভি/ডিএইচ

Categories
অপরাধ জাতীয়

রিজেন্টের সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর

রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র ডা. আয়েশা আক্তার গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান।

৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে রিজেন্টের সাহেদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে র‌্যাব মামলা করেছে, তাকে খুঁজছে। কিন্তু সংক্রামক ব্যাধি আইন (২০১৮) অনুসারে তার বিরুদ্ধে মামলা করার কথা ভাবছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, প্রস্তুতি নিতে তো একটু সময় দরকার। র‌্যাব, দুদক ( দুর্নীতি দমন কমিশন) তদন্ত করছে।

রিজেন্ট হাসপাতাল অনেক ভুয়া রিপোর্ট দিয়েছে, তার মানে তারা রোগটাকে লুকিয়েছে উল্লেখ করে ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, যদি পজিটিভ হওয়া কাউকে নেগেটিভ বলে থাকে, সেগুলো তো সব ফলস। তাহলে এই যে পজিটিভ রোগীদের দ্বারা রোগটা ছড়িয়ে গেল। কেবল এই কারণেও সংক্রামক ব্যাধি আইন অনুসারে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর ভাবছে।

প্রসঙ্গত, ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা টেস্টের রিপোর্ট, কোভিড-১৯ চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে।

প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধের দায়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় দণ্ডবিধি ৪০৬/৪১৭/৪৬৫/৪৬৮/৪৭১/২৬৯ ধারায় ১৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। এতে সোমবার রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা থেকে আটক আটজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ৯ জনকে পলাতক আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) রাতে গ্রেফতার করা হয় সাহেদের প্রধান সহযোগী তারেক শিবলীকে।

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিকের বিরুদ্ধে মানুষের সঙ্গে অসংখ্য প্রতারণার অভিযোগ পাচ্ছে র‌্যাবে। র‌্যাবের গণমাধ্যম ও আইন শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, সাহেদকে গ্রেফতারের জন্য র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভয়েস টিভি/এএস

Categories
অপরাধ জাতীয়

লঞ্চডুবির ঘটনায় ময়ূর-২ এর মালিক গ্রেফতার

রাজধানীর সদরঘাটের কাছে শ্যামবাজার এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবি ঘটনায় ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক সোয়াদকে গ্রেফতার করেছে নৌ-পুলিশ। গেল মাসে ‘এমভি ময়ূর-২’ এর ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘এমএল মর্নিং বার্ড’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি হচ্ছেন ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক।

৮ জুলাই বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীর কলাবাগানের সোবহানবাগ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

নৌ-পুলিশের ঢাকা জোনের পুলিশ সুপার খোন্দকার ফরিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে সদরঘাট নৌ পুলিশের একটি দল মধ্যরাতে রাজধানীর কলাবাগানের সোবহানবাগ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, ২৯ জুনের ওই লঞ্চডুবির ঘটনায় ৩৪ জনের নিহত হয়। লঞ্চডুবির ঘটনায় অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে সাত জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় একটি মামলা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন, এমভি ময়ূর-২ এর মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ, লঞ্চের মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা ও জাকির হোসেন, চালক শিপন হাওলাদার ও শাকিল হোসেন এবং সুকানি নাসির মৃধা ও মো. হৃদয়।

সম্পাদনা : আমির

Categories
অপরাধ সারাদেশ

স্বামীকে গলা কেটে হত্যা করে কর্মস্থলে হাজির স্ত্রী

গাজীপুরের টঙ্গীতে দাম্পত্য কলহের জের ধরে সাইফুল ইসলাম (৪৮) নামে চা বিক্রেতাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী বিউটি আক্তারকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। তিনি চার সন্তানের জননী। ৮জুলাই বুধবার সকালে টঙ্গীর হিমারদীঘি এলাকার জনৈক আব্দুল কুদ্দুসের বাড়িতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইফুল ইসলাম রংপুরের গঙ্গারচর থানার চাঁনবাগ গ্রামের সামসুল ইসলামের ছেলে। তিনি ফ্লাক্সে করে চা বিক্রি করতেন। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন যাবত দাম্পত্য কলহ বিরাজ করছিল ওই দম্পতির মধ্যে। বুধবার সকালে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী বিউটি ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী সাইফুলের গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করেন। পরে তিনি স্বামীর মরদেহ ঘরে রেখেই কারখানায় কাজে যোগ দেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কারখানা থেকে ছুটি নিয়ে বিউটি বাসায় ফিরে আসেন। পরে পাশের ভাড়াটিয়ারা বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার ও বিউটিকে আটক করে।

নিহতের ছেলে আরিফুল ইসলাম জানায়, তারা তিন বোন এক ভাই। সে টঙ্গীতে একটি কারখানায় চাকরি করে। তার এক বোন ছোট আর বাকি দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। তারা একই বাড়িতে ভাড়া থাকে। ৬-৭ দিন আগে পারিবারিক বিষয়ে তার বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। বুধবার সকালে সে এবং তার ছোট বোন তার বড় বোনের ঘরে টিভি দেখছিল। সকালে তার মা কোকাকোলা কারখানায় কাজে চলে যান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ফের বাসায় চলে আসেন। কিছুক্ষণ পর তার মাকে ডাক দিলে ঘরের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক ডাকাডাকির পর মা দরজা খুললে ঘরের মধ্যে বাবা সাইফুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, দাম্পত্য কলহের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। নিহতের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।
সম্পাদনা : ডিএইচ

Categories
অপরাধ

বসতবাড়ির উঠানেই গৃহবধূর গাঁজা চাষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বসতবাড়ির উঠানে গাঁজা চাষ করতেন গৃহবধূ সুজি। শুকনো গাঁজা ও চারা গাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। কিন্তু ৬ মাস না পেরুতে স্থানীয় সূত্রে র‌্যাবের কাছে পৌঁছে যায় তার গাাঁজা চাষের খবর।

খবর পেয়েই ৭ জুলাই মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাঁজা চাষী সাজুদ বেগম সুজির বাড়িতে র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা পৌঁছে যান। বাড়ির উঠানেই দেখতে পান গাাঁজা গাছ। পরে ৭টি গাঁজা গাছ ও ৩০০ গ্রাম শুকনো গাঁজাসহ ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। সাজুদা বেগম উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের গোলাইলবাগ এলাকার বাসিন্দা।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ থানায় মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেফতার সুজেদা বেগম র‌্যাবকে জানায়, তার বাবা জাহেদ মিয়ার বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায়। প্রয়াত স্বামী বাবুল মিয়ার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বনগ্রামে। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে বিক্রির জন্য তিনি গাঁজার গাছ লাগিয়েছিলেন।

এদিকে র‌্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়েরের নেতৃত্বে সোনারামপুরে ওই নারীর বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে সাতটি গাঁজার গাছ ও শুকনো গাঁজা জব্দ করা হয়।

সম্পাদনা : দেলোয়ার

Categories
অপরাধ

দিনে শিশু ভাতিজাকে হত্যা করে রাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত

চট্টগ্রাম : পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন রাজু নিহত হয়েছে। ৮ জুলাই বুধবার ভোরে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানাধীন পশ্চিম ঝর্ণাপাড়ার জোড় ডেবার পূর্ব পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ জানান, ৭ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জসিমের সঙ্গে তার ভাবি নিলু আক্তারের ঝগড়া হয়। তর্কতর্কির এক পর্যায়ে জসিম তিন বছর বয়সী ভাতিজাকে গলাকেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিলু থানায় হত্যা মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে জানা যায় আসামি পশ্চিম ঝর্ণাপাড়ার জোড় ডেবার পূর্ব পাড়ে অবস্থান করছে। পরে ওই এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ।

ওসির দাবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জসিমসহ তার সহযোগীরা গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। জসিমের সহযোগিরা পালিয়ে যায়। এসময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জসিমকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় এলজি, একটি অব্যবহৃত কার্তুজ, কার্তুজের ৪টি খোসা, একটি ছোরা ও ৭৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জসিম পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও পেশাদার ছিনতাইকারী। তার নামে হত্যাসহ ১৩টির অধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় নগর পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) এএএম হুমায়ুন কবির, ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেনসহ পুলিশের ৫ সদস্য আহত হয়েছেন।

সম্পাদনা : দেলোয়ার

Categories
অপরাধ রাজনীতি

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলো পাপুল

ঢাকা: মানবপাচারে অভিযুক্ত কুয়েতে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম পাপুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কুয়েতের কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে তদন্তের সময়ে পাপুল এই বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আরব টাইমস।

কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে পাপুল পাবলিক প্রসিকিউটরকে জানান, তার কোম্পানিতে ৯ হাজার মানুষ কাজ করে এবং কুয়েতে কাজ করার জন্য একটি বৈধ আদেশ আছে। তার দাবি, তিনি যে কাজ করেছেন সেটির সফলতা নিয়ে কেউ কোনও অভিযোগ করতে পারবে না। কিন্তু কুয়েতের কিছু কর্মকর্তা তার কাজ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তার কোম্পানিতে যে ধরনের ইকুইপমেন্ট আছে সেটি আর কোনও কোম্পানির কাছে নেই এবং তিনি গুণগতমান সম্পন্ন সেবা প্রদান করেছেন, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কুয়েতের কিছু কর্মকর্তা। তাদের ঠেকানোর জন্যই তিনি ঘুষ দিয়েছেন।

এদিকে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিস মনে করে এই অবৈধ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সবার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য মামলাটি ফৌজদারি আদালতে প্রেরণ করা উচিত। তাদের একটি সূত্র জানায়, এর সঙ্গে অনেক ব্যক্তি জড়িত। এদের সবার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্যে সময়ের প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, গত ৭ জুন মানবপাচার, ভিসা জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে সংসদ সদস্য পাপুলকে গ্রেফতার করে কুয়েতের পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে উঠে আসে কীভাবে বাংলাদেশের ওই সংসদ সদস্য মানুষকে প্রতারিত করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এবং ঘুষ, উপহার ও অন্যান্য সুযোগের বিনিময়ে এই কাজে তাকে কুয়েতের প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তারাও সহায়তা করেছেন।

এখন পর্যন্ত কুয়েতের গোয়েন্দা সংস্থাদের তদন্তে বের হয়ে এসেছে পাপুল প্রতি বছর বিভিন্ন ঘুষ, উপহার ও অন্যান্য খরচ বাদ প্রায় ৬০ কোটি টাকা নেট লাভ করতেন। এছাড়া কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস পাপুল এবং তার কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ কুয়েতি দিনার (প্রায় ১৪০ কোটি টাকা) ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ ফ্রিজ করার জন্য ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করেছেন।
পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বিবৃতি দেন, ‘বিদেশের মাটিতে একজন সংসদ সদস্য আটকের ঘটনা দেশের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক।’
সম্পাদনা : দেলোয়ার

Categories
অপরাধ চিকিৎসা জাতীয়

৩০ মিনিটে ৯ দিনের অক্সিজেন বিল!

ভয়েস রিপোর্ট: ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল মাত্র ৩০ মিনিট অক্সিজেন দিয়ে ৯ দিনের অক্সিজেন বিল নিয়েছে। রাজধানীর কল্যাণপুরে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করাতে সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর পান্থপথের বড় একটি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয় পাঁচ হাজার টাকা। আরো কয়েকটিতে নেওয়া হচ্ছে সাড়ে চার হাজার টাকা করে। অথছ সরকার পরীক্ষার জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ভুঁইঘরের বাসিন্দা আক্তার হোসেন শ্বাসকষ্টসহ ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে শহরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। তবে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি নারায়ণগঞ্জের কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বাধ্য হয়ে শুক্রবার সকালে তাঁকে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘণ্টাখানেক অ্যাম্বুল্যান্সে অপেক্ষা করলেও সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা সাড়া দিচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে ছটফট করতে করতে অ্যাম্বুল্যান্সের ভেতরেই প্রাণ দিতে হয়েছে তাঁকে।
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে সরকার পরীক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে অনুমতি দেয়নি। সে কারণে তখন বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল বাণিজ্যের সুযোগ আদায়ের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে নানা অজুহাতে সব ধরনের চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছিল। অনেক হাসপাতাল বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে সরকার বাধ্য হয়ে কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে করোনা চিকিৎসা করাতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এখন সব হাসপাতালকেই করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এর পরই হাসপাতালগুলো চিকিৎসার নামে শুরু করেছে বাণিজ্য।
সরকারের সঙ্গে চুক্তি করা বেসরকারি হাসপাতালগুলোর একটি রাজধানীর ধানমণ্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল। সেখানে মাত্র ৩০ মিনিট অক্সিজেন দিয়ে ৯ দিনের অক্সিজেন বিল নিয়েছে মোজাম্মেল হক চৌধুরী নামের এক রোগীর কাছ থেকে। রাজধানীর এই বাসিন্দা গত ৩০ মে ভর্তি হয়েছিলেন ওই হাসপাতালে। তিনি ১৫ দিন চিকিৎসা নিয়েছেন। বিল করা হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। নার্স, কর্তব্যরত চিকিৎসক কেউ তাঁর কাছে না গেলেও বিলে তাঁদের ফিও ধরা হয়েছে। মোজাম্মেল হক বলছিলেন, তিনি নিজে কক্ষ পরিষ্কার করলেও সেই বাবদ রাখা হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে হাসপাতালটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. এহতেশামুল হক বলেন, ‘বিষয়টা আমরা শুনেছি। কিন্তু রোগী বা তাঁর স্বজনরা অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে আসেননি। এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, অতিরিক্ত বিল নিলে সুষ্ঠু সমাধান দেওয়া হবে।’ এর আগেও এমন একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে তিনি জানান।
শুধু ঢাকায় নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া হাসপাতালগুলো নিজেদের প্রয়োজনে করোনা রোগীকে নন-করোনা আর নন-করোনা রোগীকে করোনা বানানোর অভিযোগও রয়েছে। পরীক্ষার নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে। এসব ঘটনা বন্ধে বা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
বেসরকারি হাসপাতালের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন, এমন একাধিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেছেন, দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর রোগী নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ পুরনো। করোনাভাইরাস মহামারি দেখা দেওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছিল তাদের পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ দিলে এমন বাণিজ্যের ‘উৎসব’ শুরু হবে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে সে কারণেই শুরুর দিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও এই ভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯-এর চিকিৎসার অনুমতি দিতে দেরি করা হচ্ছিল।
বিভিন্ন হাসপাতাল, ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকার পরীক্ষার জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করে দিলেও কোনো কোনো হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার আদায় করছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। সরকারের শর্ত অনুযায়ী, রোগী প্রতিষ্ঠানে এসে নমুনা দিলে সাড়ে তিন হাজার টাকার বেশি রাখা যাবে না। আর বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করলে এক হাজার টাকা বাড়তি নেওয়া যাবে।
রাজধানীর পান্থপথের বড় একটি হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয় পাঁচ হাজার টাকা। আরো কয়েকটিতে নেওয়া হচ্ছে সাড়ে চার হাজার টাকা করে। কৌশল হিসেবে কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতাল সরাসরি পরীক্ষা না করে আগে রোগীকে চিকিৎসক দেখানো বাধ্যতামূলক করে রেখেছে। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে লিখলেই শুধু পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু চিকিৎসক শুধু করোনা পরীক্ষায় নয়, সিটি স্ক্যান, এক্স-রেসহ আরো অনেক ধরনের পরীক্ষা লিখে দেন; যা ওই হাসপাতালেই করাতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেই ধরনের পরীক্ষা ব্যবস্থাপত্রে লেখা হচ্ছে যেগুলো করাতে টাকা বেশি লাগে।
রাজধানীর কল্যাণপুরে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা করাতে সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। ওই হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আহমেদ বলেন, ‘আমরা নিজেরা পরীক্ষা করি না। অন্য জায়গা থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়। তাদের সাড়ে তিন হাজার টাকা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহ কিট ও টিউব আমাদের দিতে হয়। নমুনা সংগ্রহ করে আমাদের কর্মীরা। এসব খরচ বাবদ বাড়তি এক হাজার টাকা নেওয়া হয়।’
এই হাসপাতালসহ আরো কয়েকটি হাসপাতালে করোনার জটিল রোগীদের জন্য ব্যবহার করা রেমডিসিভির ইঞ্জেকশনের দাম ক্ষেত্রবিশেষ ছয়-সাত হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে কোনো কোনো রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন। অথচ এই ইঞ্জেকশনের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। অবশ্য বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের ওই কর্মকর্তা এই ওষুধের দাম বেশি নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কম্পানি নির্ধারিত এমআরপি (সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য) নিই। এর বেশি নেওয়া হয় না।’
বেসরকারি হাসপাতালের সেবার মান নিয়েও বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) কতটা মানসম্পন্ন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে খোদ চিকিৎসকদের মধ্যেই। বিশেষ করে কয়েকটি বড় বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জের মৃত্যুর ঘটনায় এই প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এসব হাসপাতালের আইসিইউ যথেষ্ট নিরাপদ বা মানসম্পন্ন কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।
আইসিইউ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগও বেড়েছে। আইসিইউয়ের জন্য এখনো রোগীদের ঘুরতে হচ্ছে হন্যে হয়ে। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের ভিড় বেশি থাকায় অনেকেই বেশি টাকা দিয়ে হলেও আইসিইউ পেতে বেসরকারি হাসপাতালে ছুটে যায়। এই সুযোগে আইসিইউয়ের ভাড়া কোনো কোনো হাসপাতালে আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে এখন সব মিলিয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি ঢাকায়। এর মধ্যে মোট আইসিইউ বেড রয়েছে ৭৩৭টি। এর মধ্যে ঢাকায় ৪৯৪টি ও ঢাকার বাইরে ২৪৩টি।
অনেক চিকিৎসক নিজের হাসপাতাল রেখে অন্য হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রশ্ন উঠেছে, আক্রান্ত চিকিৎসক যে হাসপাতালে চাকরি করেন বা করতেন সেই হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা ভালো না হওয়ায় তাঁরা অন্য হাসপাতালে ছুটছেন কি না? মারা যাওয়া কয়েকজন চিকিৎসকও নিজের হাসপাতাল রেখে অন্য হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সর্বশেষ গত বুধবার রাজধানীর আল মানার হাসপাতালের একজন চিকিৎসক মারা যান অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতালেই নেই পর্যাপ্ত ও দক্ষ জনবল। সাধারণত সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা এসব হাসপাতালে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে তাঁরা অনেকেই এখন বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
এসব বিষয়ে বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে কেউ বেশি টাকা নিয়ে থাকলে সেটা অন্যায় হচ্ছে। তবে একটি বিষয় সবাইকে জানা দরকার, যেসব বেসরকারি হাসপাতাল এখন কভিড রোগীর সেবা দিচ্ছে সেই হাসপাতালগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের বেতন কমপক্ষে দ্বিগুণ করতে হয়েছে। ফলে সার্ভিস থেকে শুরু করে অন্যান্য খরচ আগের খরচের সঙ্গে তুলনা করলে বেশি হবে, এটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে আমরা তাদের মটিভেশন দেওয়ার চেষ্টা করছি তারা যাতে সেবা বন্ধ না করে দেয় এবং মানুষকে হয়রানি না করে সে জন্য।’ চিকিৎসক দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের মৃত্যুর বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অবশ্যই প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে যারা করোনা রোগীর সেবা দিচ্ছেন তাদেরকে স্যালুট জানাতে চাই।’
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু অভিযোগ আসে। ইতিমধ্যেই আমরা অনেক হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত বিল ফেরত দিতে বাধ্য করেছি। ওই সব হাসপাতালকে সতর্ক করে দিয়েছি। এখন আমরা আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। ইতিমধ্যে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথাও বলেছি, স্বাভাবিক সময়ে যেমন অভিযান হতো সে ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য।’ তাঁর পরামর্শ, যাঁরা হয়রানি হচ্ছেন কিংবা অভিযোগ জানাতে চান তাঁরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে হাসপাতাল শাখায় অভিযোগ করুন। তাঁরা সে অনুসারে ব্যবস্থা নেবেন।