Categories
অর্থনীতি

ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে দরপতন

বৈশ্বিক ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। ইতোমধ্যে সব ভার্চুয়াল মুদ্রার মূল্যহ্রাস পেয়েছে ৯ শতাংশ। গত একদিনে বিটকয়েনের দাম পড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ।

এছাড়া অন্যান্য মুদ্রার আরও দর কমেছে। ইথেরিয়ামের দরপতন হয়েছে ১১ দশমিক ১ শতাংশ।

সম্প্রতি ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন ব্যাপক বেড়েছে। এর মধ্যেই সেই বাজারে ধস নামল।

গত ২৪ ঘণ্টায় ক্রিপ্টোর মূল্য ব্যাপক কমেছে। ফলে এতে বিনিয়োগ থেকে সরে এসেছেন বিনিয়োগকারীরা।

ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট কয়েনমার্কেটক্যাপ জানাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন ১১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর মধ্যে হঠাৎ সাংকেতিক মুদ্রার বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা সৃষ্টি হলো।

বর্তমানে বিটকয়েনের দাম ৪০ হাজার ডলারের নিচে। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, ডিজিটাল এ মুদ্রার বেশ দরপতন হতে পারে। এখন তারা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনে ঝুঁকি রয়েছে। সবশেষ মূল্য হ্রাস সেই আভাস দিচ্ছে।

গত বছর বিটকয়েনের মূল্যে ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি ছিল। তবে নতুন বছরে তা সম্পূর্ণ বিপরীত। দিন দিন এর দাম কমছে।

গত নভেম্বরে বিটকয়েনের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ হাজার ডলার উঠেছিল। তবে সেই তুলনায় এখন এর দাম ৪৪ শতাংশ কম।

অনেকে আশা করেছিলেন, বিটকয়েন ও অন্যান্য ভার্চুয়াল মুদ্রার মূল্যস্ফীতির বিপরীতে দাম বাড়বে। তবে এখন সংগ্রাম করতে হচ্ছে। ক্রিপ্টোর দাম কমছে তো কমছেই।

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

মোবাইল ব্যাংকিং‌য়ে দেশে ৯০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন!

করোনা মহামারির কারণে ভিড় এড়াতে বিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী- সবার ক্ষেত্রেই বাড়ছে মোবাইলে লেনদেন।

তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত শহর কিংবা গ্রামে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। যার কারণে প্রতিদিনই বাড়ছে গ্রাহক ও লেনদেনের পরিমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের নভেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকরা প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। তবে ডাক বিভাগের সেবা নগদের তথ্য এখানে হিসাব করা হয়নি। নগদে লেনদেন হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে নভেম্বরে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা। আর দৈনিক লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা।

সং‌শ্লিষ্টরা জানান, তাৎক্ষণিকভা‌বে দ্রুত শহর থেকে গ্রামে; গ্রাম থেকে শহরে- সর্বত্র টাকা পাঠানোর সুবিধার কারণে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ফলে গ্রাহক সংখ্যার স‌ঙ্গে বাড়‌ছে লেনদেনের পরিমাণ। এছাড়া করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষ সরাসরি ও নগদ লেনদেনের চেয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্যাশলেস লেনদেনে বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছ্ন্দ্যবোধ করছে। পাশাপাশি এখন শ্রমিকদের বেতন বোনাস, সরকারের সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন ভাতা ও অনুদান মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ১৩টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে। ২০২১ সালের নভেম্বর মাস শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৪ হাজারে। এর মধ্যে গ্রামে ৬ কোটি ১৭ লাখ এবং শহরের গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৭৯ লাখ। এছাড়া নিবন্ধিতদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি এবং মহিলা গ্রাহক প্রায় ৫ কোটি রয়েছে। আর আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৬ হাজার ৮৫৪ জনে।

এমএফএস এ গত বছরের নভেম্বরে মোট ৩২ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৬৭২টি লেনদেনের মাধ্যমে ৬৭ হাজার ৯৬৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন অনেক সেবাও। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবামূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

নভেম্বর ’২১-এ মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে জমা পড়েছে ২১ হাজার ২০৭ কোটি টাকা; উত্তোলন করা হয়েছে ১৮ হাজার ৪৪ কোটি টাকা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে এমএফএসে ব্যক্তিহিসাব থেকে ব্যক্তিহিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে ১৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ করা হয়েছে ২ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১২৫০ কোটি টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৩০৫০ কোটি টাকা।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরপরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

ই-রিটার্নে যুক্ত হলো টিআইএন সার্টিফিকেট সেবা

টিআইএন সার্টিফিকেটি ডাউনলোড করতে হলে ই-টিআইএন অপশনে গিয়ে পাসওয়ার্ড দিয়ে প্রবেশ করে সার্টিফিকেট পাওয়া যেত। একবার পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে, সেক্ষেত্রে টিআইএন সার্টিফিকেট পাওয়া সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে অফিসে গিয়ে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়।

তবে আয়কর বিভাগে চালু হওয়া নতুন সেবায় করদাতা যে কোনো সময় ও দেশে-বিদেশে যে কোনো স্থানে বসে টিআইএন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবে। গত সপ্তাহ থেকে ই-রিটার্নে এ সেবা চালু হয়েছে।

ই-রিটার্নে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে করদাতা আইডি ও পাসওয়ার্ড ভুলে গেলেও তার নিবন্ধিত ফোন নম্বর ব্যবহার করে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করে সেবা নিতে পারবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আয়কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, অনেকে অনুরোধ করছিলেন, টিআইএন সার্টিফিকেট ডাউনলোড করার সুবিধাও যেন ই-রিটার্নে যোগ করা হয়। এতে আয়করের প্রয়োজনীয় সেবাগুলো এক জায়গা থেকে পাওয়া যাবে। সে কারণে এনবিআর সুবিধাটা চালু হয়েছে। এখন থেকে টিআইএনধারী যে কোনো ব্যক্তি-করদাতা এখন ই-রিটার্ন সিস্টেম থেকে যে কোনো সময় নিজের টিআইএন সার্টিফিকেট ডাউনলোড ও প্রিন্ট নিতে পারবেন।

তিনি বলেন, টিআইএন সার্টিফিকেট জেনারেট হয় ই-টিআইএন সিস্টেম থেকে। কোনো কারণে আইডি-পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কারদাতা আর ট্যাক্স ফাইলটা দেখতে পারে না।ফলে টিআইএন সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য অনেককে কর অফিসে যেতে হচ্ছে। তবে ই-রিটার্নে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলেও সমস্যা নেই, নিজের নামে নিবন্ধিত ফোন নম্বর থাকলে ঘরে বসেই আবার নতুন পাসওয়ার্ড সেট করা যাবে এবং সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবে।

ই-রিটার্নে যেভাবে নিবন্ধন করা যায়-
ই-রিটার্ন দিতে চাইলে প্রথমে এনবিআর www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধন অপশনে গেলে প্রথমে আপনাকে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দিতে হবে। এরপর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নম্বর দিতে হবে আপনাকে। পরে ক্যাপচা লিখে সত্যতা যাচাই করতে হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন নম্বর, মোবাইল ফোনের তথ্য যাচাই করে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় আপনি নিজের জন্য একটি পাসওয়ার্ড দেবেন। এভাবে হয়ে যাবে আপনার ই-রিটার্ন নিবন্ধন।

কীভাবে পেমেন্ট করে ই-রিটার্ন দেবেন-
ই-টিআইএন আছে এমন সবার রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই করদাতাদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে ই-রিটার্নের ব্যবস্থা। তবে যাদের করের পরিমাণ বেশি কিংবা অগ্রিম আয়কর দিয়েছেন, তারা আপাতত এ সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া বাকি করদাতারা টিআইএন নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে ঢুকে কয়েকটি ক্লিকেই রিটার্ন দিতে পারবেন। সিস্টেম থেকেই জিজ্ঞাসা করা হবে, করযোগ্য আয় আছে কি না। এ ছাড়া বাড়ি-গাড়ি আছে কি না কিংবা ৪০ লাখ টাকার বেশি সম্পদ আছে কি না। এসবের উত্তর যদি ‘না’ হয় তাহলে এনবিআরের ওই সিস্টেমই আপনার রিটার্ন তৈরি করে দেখাবে। আপনি শুধু তা চেক করে সাবমিট করবেন।

যাদের করের পরিমাণ কম ১০-২০ হাজার টাকা; তারা বিকাশে কর দিতে পারবেন। এনবিআরের হিসাবে এমন করদাতার সংখ্যা ১০-১৫ লাখ, তারা অনলাইনে ই-রিটার্ন দেওয়ার সময় বিকাশের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।

২০২০ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ই-রিটার্ন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেয়। সংস্থাটির একটি দল ১১ মাস ধরে কাজ করার পর গত অক্টোবর মাসে পরীক্ষামূলকভাবে সিস্টেমটি চালু করে। তবে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রতিনিয়ত আপডেট ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ চলমান রয়েছে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

ফের স্বর্ণের দাম বাড়ল বিশ্ববাজারে

গেল সাত দিন কিছুটা কমার পর বিশ্ববাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। স্বর্ণের পাশাপাশি বেড়েছে রুপা ও প্লাটিনামের দামও।

দ্য ইকোনোমিক টাইমসের খবরে বলা হয়, স্বর্ণের দাম গত এক সপ্তাহে বেড়েছে ১ দশমিক ২১ শতাংশ। রুপার দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং প্লাটিনামের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

এই দাম বাড়ার আগে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ, রুপা ও প্লাটিনামের দাম কিছুটা কমেছিল। গত সপ্তাহের আগের সপ্তাহে স্বর্ণের দাম কমে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রুপার দাম কমে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ। প্লাটিনামের দাম কমে দশমিক ৭৩ শতাংশ। অবশ্য তার আগে টানা তিন সপ্তাহ স্বর্ণের দাম বাড়ে।

জানা যায়, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমে ৪ দশমিক ৮০ ডলার বা দশমিক ২৬ শতাংশ। এরপরও সপ্তাহের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২৬ শতাংশ বা ২১ ডলার। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১৭ দশমিক ২৯ ডলার। আগের সপ্তাহের স্বর্ণের দাম কমে ৩১ দশমিক ৬১ ডলার। তার আগের তিন সপ্তাহ টানা দাম বাড়ার মাধ্যমে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৮২৭ দশমিক ৯০ ডলারে উঠে আসে।

অবশ্য টানা তিন সপ্তাহ দাম বাড়ার আগে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের টানা চার সপ্তাহ দরপতন হয়। এতে এক মাসের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৭৯ ডলার বা ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে যায়।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি বিশ্ব

২০২১ সালে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি

উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা ২০২১ সালে অন্তত ৭টি সাইবার হামলা চালিয়ে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান চেইন্যালাইসিসের বরাত দিয়ে সিএনএন এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আর্থিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রিভূত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাতেই মূলত সাইবার হামলা চালায় হ্যাকাররা। এর জন্য তারা ফিশিং, ম্যালওয়্যার এবং সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে।

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চু্রি করা অর্থ তারা উত্তর কোরিয়া নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছে।

সিএনএন এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব চুরি ইঙ্গিত করে যে, নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত উত্তর কোরিয়া অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়েঅজনীয় অর্থের যোগান দিতে হ্যাকারদের ওপর নির্ভর করছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে, মার্কিন বিচার বিভাগ ৩ জন উত্তর কোরিয়ার নাগরিকের বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানি থেকে ১.৩ বিলিয়ন ডলার চুরি করার ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত করেছে।

চেইন্যালাইসিসের তথ্য অনুযায়ী, এসব চুরির বেশিরভাগই করেছে ‘ল্যাজারাস গ্রুপ’। এই গ্রুপটি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এর আগেও সনি পিকচার্স হ্যাকসহ বিভিন্ন হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তাদের নাম সামনে এসেছে। এই গ্রুপটির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।

অপরাধীদের ধরার সুযোগ না থাকায় নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিরক্ষামূলক সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া উত্তর কোরিয়ার ক্রিপ্টো হ্যাকিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য দেশগুলোর কার্যত আর কিছুই করার সুযোগ থাকে না।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

কমেছে স্বর্ণের দাম

টানা তিন সপ্তাহ বাড়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। অবশ্য টানা তিন সপ্তাহ বাড়ার আগে টানা চার সপ্তাহ স্বর্ণের দাম কমেছিল। স্বর্ণের পাশাপাশি গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে রূপার দাম। সেই সঙ্গে কমেছে আরেক মূল্যবান ধাতু প্লাটিনামের দামও।

গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। রূপার দাম কমেছে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং প্লাটিনামের দাম কমেছে দশমিক ৭৩ শতাংশ।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৭ দশমিক ৬১ ডলার বেড়েছিল, যা শতাংশের হিসাবে দশমিক ৪৩। এরপর সপ্তাহের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম কমেছে ৩১ দশমিক ৬১ ডলার অর্থাৎ ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৯৬ দশমিক ২৯ ডলার। এর আগে টানা তিন সপ্তাহ দাম বাড়ার মাধ্যমে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম এক হাজার ৮২৭ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছিল। ফলে গেল সপ্তাহে দাম কমার পর এখনো মাসের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি।

টানা তিন সপ্তাহ দাম বাড়ার আগে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের টানা চার সপ্তাহ দরপতন হয়। এতে এক মাসের মধ্যে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৭৯ ডলার বা ৪ দশমিক ২৪ শতাংশ কমে যায়।

বিশ্ববাজারে টানা দরপতন হতে থাকাই গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমিয়ে দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এতে বর্তমানে সবচেয়ে ভাল মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম হয়েছে ৭৩ হাজার ১৩ টাকা।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি স্বর্ণ ৬৯ হাজার ৯৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি স্বর্ণ ৬১ হাজার ২৩৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি স্বর্ণ ৫০ হাজার ৯১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্বর্ণের দাম কমানো হলেও রূপার আগের নির্ধারিত দামই বহাল রাখা হয়। ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি রূপার মূল্য এক হাজার ৫১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রূপার দাম এক হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম ৯৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে, স্বর্ণের পাশাপাশি গেল এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে রূপার দামও কমেছে। গেল এক সপ্তাহে ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স রূপার দাম দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩৫ ডলারে। এতে মাসের ব্যবধানে রূপার দাম কমেছে দশমিক ১৭ শতাংশ।

প্লাটিনামের দাম গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে দশমিক ৭৩ শতাংশ। এতে প্রতি আউন্স প্লাটিনামের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৫৫ দশমিক ৫৩ ডলারে। এর মাধ্যমে মাসের ব্যবধানে প্লাটিনামের দাম কমেছে দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি

অর্থনীতির আকার হবে ৫০০ বিলিয়ন ডলার

আগামী অর্থবছরে অর্থনীতির আকার ৫০০ বিলিয়ন ডলার হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, ২০৪১ সালে সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ।

রোববার ২ জানুয়ারি বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের কাতারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। অর্থনীতির সব খাতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতি ১০০ বিলিয়ন ডলার হতে ১৯ বছর লেগেছে। এখন আমাদের অর্থনীতির আকার ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মাথাপিছু আয় বেড়ে দুই হাজার ৫৫৪ ডলার হয়েছে। আগামী অর্থবছরে আমাদের অর্থনীতির আকার হবে ৫০০ বিলিয়ন ডলার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি চলতি বছরের শেষ নাগাদ রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে পারবো। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৫ থেকে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে, কমেছে দারিদ্র্য। আমাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার বেড়েছে। কোভিডের মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়, তারপরও বাংলাদেশ ভালো করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত উচ্চ আয়ের দেশে রূপান্তর করবো।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

রেমিটেন্সে প্রণোদনা বাড়ল

নতুন বছরের শুরুতেই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ প্রণোদনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১ জানুয়ারি শনিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রেমিটেন্সে প্রণোদনা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়।

জনমানুষের সার্বিক জীবনমান উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রণোদনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমজীবী মানুষের কষ্টার্জিত বৈদেশিক আয় বৈধ উপায়ে দেশে প্রত্যাবাসন উৎসাহিত করার লক্ষ্যে রেমিটেন্স পাঠানোর বিপরীতে সরকার ২ শতাংশ প্রণোদনা/নগদ সহায়তা প্রদানের বিদ্যমান হার বাড়িয়ে বর্তমানে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। বর্ধিত এ হার চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জানুয়ারি অর্থাৎ আজ থেকে কার্যকর হবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনপূর্বক জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

বাণিজ্যমেলার পর্দা উঠছে শনিবার

ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম দিন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার (ডিআইটিএফ) ২৬তম আসরের পর্দা উঠছে। ১ জানুয়ারি শনিবার পূর্বাচল নতুন শহরে নবনির্মিত বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী চলবে এ মেলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করবেন।

৩১ ডিসেম্বর শুক্রবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২২ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। মেলার এক্সিবিশন সেন্টারে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রপ্তানি বাণিজ্য উন্নয়নের অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে পণ্য উন্নয়ন ও পণ্যের বাজার সৃষ্টি। আর পণ্যের বাজার সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কৌশল হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন ও মেলায় অংশগ্রহণ। প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় বাণিজ্যমেলার নবনির্মিত এই স্থায়ী ভেন্যুতে এবারের মেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়।

দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল হতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজন করা হচ্ছে। এবারই প্রথমবারের মতো স্থায়ী কমপ্লেক্সে এ মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এতে আরও জানানো হয়, অন্যান্য বছরের মতো মাসব্যাপী এ মেলা সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত)। মেলার প্রবেশমূল্য প্রাপ্তবয়স্কদের ৪০ টাকা, শিশুদের ২০ টাকা।

এবার মেলায় প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কারপেট, কসমেটিকস অ্যান্ড বিউটি এইডস, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস, ফার্নিচার, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহ-সামগ্রী, চামড়া ও জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারিওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ইত্যাদি।

বাণিজ্যমেলায় দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ২৩টি প্যাভিলিয়ন, ২৭টি মিনি প্যাভিলিয়ন, ১৬২টি স্টল ও ১৫টি ফুড স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এক্সিবিশন সেন্টারের ১৪ হাজার ৩৬৬ বর্গমিটার (প্রায় ১,৫৫,০০০ বর্গফুট) আয়তনের দুটি হলে (Hall-A ও Hall-B) সব স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেলা কমপ্লেক্সের বাইরে (সম্মুখ ও পেছনে) প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন ও ফুড স্টল নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে দেশে করোনা মহামারি পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হলেও ইউরোপসহ অন্যান্য কয়েকটি দেশে আবারও নতুনভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার মেলায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ কিছুটা কম। মেলা চলাকালীন যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হবে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি সারাদেশ

বেড়েছে কেরুর মদের চাহিদা, ১৯৫ কোটি টাকা আয়

দেশীয় ব্র্যান্ড কেরু অ্যান্ড কোংয়ের মদের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ অবস্থায় মদের উৎপাদন বাড়াচ্ছে কেরু। ২০২০-২১ অর্থবছরে মদ থেকে ১৯৫ কোটি টাকা আয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত কয়েক বছর ধরে মদ বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ায় প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো লাভের মুখ দেখছে কেরু অ্যান্ড কোং। ভবিষ্যতে আরও লাভের আশা করছে তারা। ডিস্টিলারি বিভাগ ছাড়া চিনি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোসহ সব ইউনিটে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে চলছে। তবে ডিস্টিলারি ইউনিট কেরুর আয়ের অন্যতম উৎস।

জানা গেছে, শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধার অপব্যবহার রোধে তৈরি একটি সফটওয়্যার ব্যবহার নিয়ে এনবিআর ও বেসরকারি কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউসগুলোর মধ্যে রেষারেষির কারণে সরবরাহ কমে গেছে বিদেশি মদের। এর জেরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে কেরুর মদের চাহিদা।

শনিবার চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চিনিকলে আখ মাড়াই কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘কেরুকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান করতে হলে কেরু অ্যান্ড কোংয়ের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে হবে। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে দর্শনায় কেরুর দ্বিতীয় একটি ইউনিট হবে। কারণ কেরুর মদের পাশাপাশি ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জৈব দ্রাবকের মতো অন্যান্য পণ্যের চাহিদা রয়েছে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আন্তার্জাতিক বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়লে দেশের বাজারেও বাড়ে। তবে আমদানিনির্ভর দ্রব্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে উপজেলা পর্যায়ে টিসিবি কার্যক্রম শুরু করা হবে। আশা করি, আগামী তিন মাসের মধ্যে টিসিবির চার-পাঁচশ ট্রাক নামানো হবে।’

একই অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, দেশের কোনও চিনিকল স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি। চিনিকল আধুনিকায়নের জন্য সাময়িকভাবে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। পুনরায় সব কারখানা চালু করা হবে। দেশের কোনও চিনিকল বন্ধ হবে না।

আখের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য উৎপাদনের ব্যাপারে সরকার সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে। কৃষকদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখা হবে।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বরে কোম্পানিটির উৎপাদিত মদের বিক্রি ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি তাদের দুটি ডিস্টিলারি প্ল্যান্টে উৎপাদন বাড়িয়েছে।

কেরু অ্যান্ড কোংয়ের কারখানা সূত্র জানায়, কেরু অ্যান্ড কোং প্রতি মাসে ১২ হাজার থেকে ১৪ হাজার কেস মদ উৎপাদন করতো। চলতি মাসে প্রতিষ্ঠানটি ২০ হাজার কেসের বেশি মদ উৎপাদন করেছে। দেশের দুই পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় দুটি নতুন বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করছে প্রতিষ্ঠানটি। আগে প্রতি মাসে সাধারণত কেরুর মদ প্রায় সাড়ে ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার কেস বিক্রি হলেও এ বছরের অক্টোবরে এই সংখ্যা ১৮ হাজার ৫৭৯ কেস এবং নভেম্বরে ১৯ হাজার ৪৪৬ কেসে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় আরও দুটি বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করছে তারা।

কেরু অ্যান্ড কোংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ম্যানুয়াল সিস্টেম ব্যবহার না করে অটোমেশনের মাধ্যমে মদের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি আমরা। প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মদের উৎপাদন দ্বিগুণ হবে।’

লোকসানের অবসান ঘটিয়ে কেরুর চিনিকে কীভাবে লাভজনক করতে হবে সে বিষয়ে মোশারফ হোসেন বলেন, ‘কারখানা সংস্কারের পর উৎপাদন বাড়বে। সেই সঙ্গে বিক্রিও বাড়বে।’

ভয়েসটিভি/এএস