Categories
অর্থনীতি জাতীয়

বিবিসির অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুর্ধর্ষ রিজার্ভ চুরি

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি যায়।  বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাসের অন্যতম কালো দিন।

আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্রটি ফিলিপাইনের মাকাতি শহরে রিজাল ব্যাংকের একটি শাখায় চারটি ভুয়া হিসাবে টাকাগুলো পাঠায়/। সেখান থেকে দ্রুত অর্থ উত্তোলন করা হয়। পরে চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে মাত্র দেড় কোটি ডলার পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়। এ ঘটনার বহু তদন্ত হয়।

কীভাবে হয়েছিল এ ঘটনা, তা নিয়ে নানা সময়ই তদন্তে নানা বিষয় উঠে আসে। বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তকারীদের তদন্তে ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্টগুলো কেবল এক দিকে নির্দেশ করেছে, তা হলো উত্তর কোরিয়া সরকার।

ঘটনার শুরুটা কীভাবে হয়েছিল, তা জানলে মাথা ঘুরে যাবে। এ ঘটনার মূল হোতা বলা যায় একটি ত্রুটিযুক্ত প্রিন্টারকে। মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের দশম তলায় অত্যন্ত সুরক্ষিত ঘরের অভ্যন্তরে বসানো ছিল প্রিন্টারটি। কোটি কোটি ডলারের ট্রান্সফার ব্যাংকের বাইরে ও ভেতরে প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড ছাপানো হতো এটি দিয়ে।

শুরুতে কর্মকর্তাদের কাছে ত্রুটিপূর্ণ এ প্রিন্টার ছিল কেবল একটি ঝামেলা। প্রযুক্তির সমস্যা ছাড়া তেমন একটা বড় ব্যাপার বলে মনে হয়নি কারও। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক হলো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যারা কিনা এমন একটি দেশের মূল্যবান মুদ্রার মজুত তদারকির জন্য দায়বদ্ধ, যেখানে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে।

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে প্রিন্টারটি কাজ করছিল না। কেউ আসলে বিষয়টি নিয়ে তেমন মাথাব্যথা দেখাননি। সে সময় ডিউটি ম্যানেজার ছিলেন জুবায়ের বিন হুদা। পরে তিনি পুলিশকে বলেন, ‘আমরা ধরে নিয়েছিলাম যে এটি অন্য যেকোনো দিনের মতো একটি সাধারণ সমস্যা, এর আগে এমন হয়েছে।’

আসলে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সমস্যায় জর্জরিত, সেটিই যেন প্রথম প্রকাশ পেয়েছিল এ ঘটনার মাধ্যমে। হ্যাকাররা এর কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় ঢুকে পড়েছিল। আর যা কিনা এখন পর্যন্ত সর্বকালের সবচেয়ে সাহসী সাইবার হামলা ছিল। হ্যাকারদের লক্ষ্য ছিল এক বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলার চুরি করা। অর্থ সরাতে হ্যাকাররা নকল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, দাতব্য সংস্থা, ক্যাসিনোসহ কত বিস্তৃত নেটওয়ার্ক যে ব্যবহার করেছে। এখন প্রশ্ন, কারা ছিল এই হ্যাকার?

 

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই জানায়, বহু বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে এগিয়েছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা। দলবদ্ধভাবে প্রস্তুতি নিয়ে সারা বিশ্বের নেটওয়ার্ক সিস্টেম ভেঙে অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা তাদের। সাইবার সুরক্ষা ইন্ডাস্ট্রিতে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা লাজারাস গ্রুপ নামে পরিচিত। বাইবেলে লাজারাস নামে এক ব্যক্তির উল্লেখ আছে, যিনি মৃত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে ফিরে এসেছিলেন। এ নামকেই বেছে নিয়েছে হ্যাকাররা। গ্রুপ সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। যদিও এফবিআই এক সন্দেহভাজন ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকায়, যার নাম পার্ক জিন হিয়ক, যিনি পাক জিন-হেক ও পার্ক কোয়াং-জিন নামেও কাজ করেন।

কে এই পার্ক জিন হিয়ক


নিজেকে একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার হিসেবে তুলে ধরেন পার্ক জিন হিয়ক। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি থেকে স্নাতক করেছেন তিনি। চীনা বন্দর শহর দালিয়ানে উত্তর কোরিয়ার একটি সংস্থা চোসুন এক্সপোতে কাজ করতেন। এ সংস্থা সারা বিশ্বে তাদের ক্লায়েন্টদের জন্য অনলাইন গেমিং ও জুয়ার প্রোগ্রাম তৈরি করে। দালিয়ানে থাকার সময়ই একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস তৈরি করে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করেছিলেন তিনি। যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা শুরু করেন। এফবিআই জানায়, পার্ক জিন হিয়ক হলেন দিনের আলোয় প্রোগ্রামার আর রাতের অন্ধকারে দুর্ধর্ষ হ্যাকার।

২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে নানা ধরনের হ্যাকিং কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন তিনি। ধরা পড়লে তাঁর অন্তত ২০ বছরের কারাদণ্ড হবে। তবে পার্ক কিন্তু রাতারাতি একজন হ্যাকার হয়ে ওঠেননি। তিনি উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার তরুণের মধ্যে একজন, যাঁকে শৈশব থেকেই সাইবারযোদ্ধা বানানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে। প্রতিভাধর গণিতবিদেরা ১২ বছর বয়সে স্কুল থেকে তাঁকে নিয়ে এসে রাজধানীতে পাঠান। সেখানে তাঁকে সকাল থেকে রাত অবধি নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

আবারও যাই ওই প্রিন্টারের কাছে। ব্যাংকের কর্মীরা যখন প্রিন্টারটি পুনরায় চালু করেন, তখন তাঁরা কিছু উদ্বেগজনক বিষয় লক্ষ্য করেন। তাঁরা বুঝতে পারেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে জরুরি বার্তা গেছে সেখান থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড় করতে ফেডের কাছে নির্দেশনা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দ্রুত যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে বাদ সাধে সময়টা।

হ্যাকাররা ঘটনা ঘটায় মূলত বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত আটটায়, সে সময় ছিল নিউইয়র্কে বৃহস্পতিবার সকাল। অর্থাৎ বাংলাদেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে তখন সব কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে, শুক্র ও শনিবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটি। শনিবার যখন বাংলাদেশে চুরিটি উদ্‌ঘাটন শুরু হয়, এর মধ্যে আবার নিউইয়র্কের সাপ্তাহিক ছুটি শুরু হয়ে যায়।

এখানে হ্যাকাররা আরও একটি বুদ্ধি খাটায়। একবার যখন তারা ফেড থেকে অর্থ স্থানান্তর করতে পারে, তখন তাদের এটি অন্য কোথাও প্রেরণের প্রয়োজন ছিল। তারা এই জায়গা হিসেবে ফিলিপাইনের ম্যানিলাকে বেছে নেয়। কারণ, ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার ছিল লুনার ইয়ারের প্রথম দিন। এশিয়ায় ছুটির দিন। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের ছুটি ও সময়ের ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে পাঁচটা দিন হাতে পেয়েছিল হ্যাকাররা। ধারণা করা হয়, কয়েক বছর ধরে এই হ্যাকিংয়ের পরিকল্পনা করেছিল লাজারাস গ্রুপ।

ভয়েস টিভি/ডি

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

ক্যাশ-ইনচার্জ একাই গায়েব করেছেন পৌনে চার কোটি টাকা!

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে ক্যাশ ইনচার্জ একাই সরিয়েছেন পৌনে ৪ কোটি টাকা। প্রাথমিকভাবে ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাজুল হক একাই তিন কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা গায়েব করেছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। এমনটাই জানালেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমরানুল হক।

এদিকে এ ঘটনায় ব্যাংকটির বংশাল ব্রাঞ্চের ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাজুল হক, ম্যানেজার (অপারেশন) এমরান আহমেদকে আটক করেছে পুলিশ। ভল্টের চাবি ওই দুই কর্মকর্তার কাছে থাকায় ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী তাদেরকেই পুলিশে সপোর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, শুধুমাত্র তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থেই তাদেরকে পুলিশে সপোর্দ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে চুরি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়নি।

১৮ জুন শুক্রবার দুপুরে বংশাল থানার ডিউটি অফিসার এসআই মাসুম বিল্লাহ আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী প্রতিদিনের লেনদেন শেষে ভল্টের টাকার হিসাব করে থাকেন সংশ্লিষ্ট শাখার সিনিয়ার ক্যাশ ইনচার্জ। বৃহস্পতিবার হিসাব করতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা প্রায় চার কোটি টাকার গড়মিল পান। এরপর তিনি এ সংক্রান্ত কাগজপত্র ব্যাংকের ম্যানেজার অপারেশন্সকে জানানো হলে পুনরায় হিসাব করা হয়। সেখানেও হিসাবে টাকার অংক কম আসায় বিষয়টি ব্যাংক ম্যানেজারকে জানানো হয়। পরে ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন বলছেন ব্যাংকটির জনসংযোগ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমরানুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শাখায় আমাদের ইন্টারনাল অডিট হয়। এরপরই টাকার অংকে অসঙ্গতি দেখা যায়। ক্যাশ কম পাওয়ায় আবারও ইনভেস্টিগেশন করা হয়। পৌনে চার কোটি টাকার মত কম ছিল। এরপর দায়িত্বে থাকা ক্যাশ-ইনচার্জের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রাথমিকভাবে ক্যাশ সরিয়ে ফেলার বিষয় স্বীকার করেন। এ কাজটি তিনি একাই করেছেন বলে জানিয়েছেন ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাজুল হক। কী জন্য এই টাকা সরিয়েছেন তা এখনও তিনি জানাননি।

এমডি জানান, পরবর্তীতে আমরা নিয়ম অনুযায়ী লিগ্যাল প্রসেসে ব্যবস্থা নিয়েছি। যেহেতু দুজন দায়িত্বে ছিলেন তাই ক্যাশ-ইনচার্জ ও ম্যানেজার (অপারেশন) দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করেছি। এখন সংশ্লিষ্ট সংস্থা তদন্ত করে বলতে পারবে কিভাবে ও কী জন্য এ টাকা সরানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. জসিম উদ্দিন মোল্লা বলেন, ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখা ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক তাদের দুই কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করেছেন বৃহস্পতিবার রাতে। তার অভিযোগ ছিল, অডিটের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন ব্যাংকের ভল্ট থেকে তিন কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এই দুই কর্মকর্তা আত্মসাৎ করেছেন। আমরা আটক দুই কর্মকর্তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠিয়েছি। আইনগত যে প্রক্রিয়া আছে সেটা আমরা এখন করছি।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
অর্থনীতি

পৌনে ৪ কোটি টাকা চুরির বিষয়ে যা বললেন ঢাকা ব্যাংকের এমডি

ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্ট থেকে এক কর্মকর্তাই সরিয়েছেন পৌনে ৪ কোটি টাকা। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই শাখার দুই কর্মকর্তাকে পুলিশ হেফাজতে দিয়েছে। তারা হলেন- ব্রাঞ্চের ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাজুল হক, ম্যানেজার (অপারেশন) এমরান আহমেদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ১৮ জুন শুক্রবার ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমরানুল হক জানান , বৃহস্পতিবার ব্যাংকের শাখায় আমাদের ইন্টারনাল অডিট হয়। এরপরই টাকার অংকে অসঙ্গতি দেখা যায়। ক্যাশ কম পাওয়ায় আবারও ইনভেস্টিগেশন করা হয়। পৌনে চার কোটি টাকার মত কম ছিল। এরপর দায়িত্বে থাকা ক্যাশ-ইনচার্জের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রাথমিকভাবে ক্যাশ সরিয়ে ফেলার বিষয় স্বীকার করেন। এ কাজটি তিনি একাই করেছেন বলে জানিয়েছেন ক্যাশ-ইনচার্জ রিফাজুল হক। কী জন্য এই টাকা সরিয়েছেন তা এখনও তিনি জানাননি।

এমডি জানান, পরবর্তীতে আমরা নিয়ম অনুযায়ী লিগ্যাল প্রসেসে ব্যবস্থা নিয়েছি। যেহেতু দুজন দায়িত্বে ছিলেন তাই ক্যাশ-ইনচার্জ ও ম্যানেজার (অপারেশন) দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করেছি। এখন সংশ্লিষ্ট সংস্থা তদন্ত করে বলতে পারবে কিভাবে ও কী জন্য এ টাকা সরানো হয়েছে।

ব্যাংকটির এমডি এমরানুল হক জানান, গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিষয়টি ধরা খেয়েছে। এখন দেখবে যে কতদিনে টাকা সরিয়েছে। এজন্য কয়েকদিন সময় লাগবে। আমরা আইনের হাতে দিয়েছি, পাশাপাশি নিজস্ব একটি তদন্ত হবে। এরপর পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে পারব। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ টাকার মতো সরানো হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তদন্ত করে বিস্তারিত জানাতে পারব।

এ বিষয়ে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. জসিম উদ্দিন মোল্লা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখা ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক তাদের দুই কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করেছেন বৃহস্পতিবার রাতে।

তার অভিযোগ ছিল, অডিটের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন ব্যাংকের ভল্ট থেকে তিন কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এই দুই কর্মকর্তা আত্মসাৎ করেছেন। আমরা আটক দুই কর্মকর্তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠিয়েছি। আইনগত যে প্রক্রিয়া আছে সেটা আমরা এখন করছি।

ভয়েস টিভি/ডি

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বাড়ছে

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নগদ, বিকাশসহ সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির করপোরেট কর বাড়ানো হয়েছে। ফলে বিকাশ, নগদ, রকেট ও এমক্যাশসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের খরচ বাড়বে।

৩ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘পাবলিকলি ট্রেডেড এমএফএস প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি। আর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমএফএস কোম্পানির করপোরেট কর ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ৩৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।’

এছাড়াও তিনি বলেন, ‘একক ব্যক্তির কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট কর ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।’

২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি মোট জিডিপির ১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর কমছে

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজার উজ্জীবিতকরণের জন্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আগামী অর্থবছরে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ কর প্রদান করতে হবে। ৩ জুন বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তথ্য মতে, আগামী অর্থবছরে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ২ দশমিক ৫০ শতাংশ কমিয়ে ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। যা আগের অর্থবছরে ২৫ শতাংশ ছিল।

সেই সাথে এক ব্যক্তি কোম্পানির কর ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ৩২ দশমিক ৫০ শাতংশ ছিল।

বাজেটে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর অপরিবর্তিতভাবে ৩৭ দশমিক ৫০ শাতংশই রাখা হয়েছে। আগামী বাজেটে মার্চেন্ট ব্যাংকের কর অপরিবর্তিতভাবে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশই থাকছে।

অপরদিকে তালিকাভুক্ত মোবাইল ফোন কোম্পানির কর গত বাজেট অনুযায়ী আগামী বাজেটেও ৪০ শতাংশ থাকছে। তবে আগামী বাজেটে তালিকাভুক্ত মোবাইল ফাইন্যানসিয়াল সার্ভিস (এমএফএস)প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর ৫ শতাংশ বেড়ে ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এবারের বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমবে

আরও পড়ুন: দাম বাড়বে যেসব পণ্যের

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

নতুন অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা আজ

ত্রয়োদশ (বাজেট) অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্য দিবসে আজ বৃহস্পতিবার সংসদে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হবে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আজ বিকেল ৩টায় তাঁর দায়িত্বকালের তৃতীয় বাজেট, আওয়ামী লীগ সরকারের ২১তম এবং বাংলাদেশের ৫০তম বাজেট উপস্থাপন করবেন। আর, এটি হবে বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন দ্বিতীয় বাজেট অধিবেশন।

এবারের বাজেট প্রণীত হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি উত্তরণের কৌশলকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়ে। যার সম্ভাব্য আকার দাঁড়াচ্ছে ছয় লাখ তিন হাজার কোটি টাকা। বাজেটের ঘাটতিটাও থাকছে বেশ বড়। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হচ্ছে সাত দশমিক দুই শতাংশ।

এর আগে গত বছর ১০ জুন করোনা মহামারির মধ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। এরপর ১১ জুন ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করা হয়।

করোনা মহামারির এই সময়ে এবারও বাজেট অধিবেশনের মেয়াদ স্বল্প সময়ের হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল থেকে শুরু হওয়ার পর মুলতবি দিয়ে দিয়ে ৩ জুলাই অধিবেশন শেষ হতে পারে। আর, সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর বাজেট নিয়ম অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে পাস করা হবে।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল বিকেল ৫টায় একাদশ সংসদের ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

করোনা মহামারি পাল্টে দিয়েছে অর্থনীতির সব হিসাবনিকাশ। বাজেটে বৈচিত্র্য তো দূরের কথা, হিমশিম খেতে হচ্ছে মৌলিক কাঠামো দাঁড় করাতেই। তাই বাজেটে, স্বভাবতই গুরুত্ব পাচ্ছে সম্পদ আহরণ, বণ্টন এবং করোনা মোকাবেলার কৌশল। অবস্থা অনুকূলে না থাকায়, চলতি বাজেট থেকে মাত্র ছয় শতাংশের মতো বাড়িয়ে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হচ্ছে ছয় লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি।

এ ব্যাপারে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে সক্ষমতা বৃদ্ধি। যাতে করে (করোনা) তৃতীয় প্রবাহ যদি আসে। কোভিড না যায় আমরা যেন মোকাবিলা করতে পারি। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, বিদ্যুৎ এবং অবকাঠামো। এই কয়েকটি ক্ষেত্রে আপনাকে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হবে, বিনিয়োগ করতে হবে। বাড়াতে হবে, আপডেট করতে হবে। এই বাজেটেও আমরা তাই চালিয়ে যাব।’

এরই মধ্যে নতুন অর্থবছরের জন্য ১৪ শতাংশ আকার বাড়িয়ে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকার এডিপির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়নি, তাই আসছে বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য থাকছে সাতের ঘরে। মহামারির মধ্যে বাজেট প্রণয়নে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জও মাথায় রাখতে হচ্ছে সরকারকে।

চলতি (২০২০-২০২১) অর্থ বছরের বাজেট ছিল পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার। আর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট অর্থাৎ ১৯৭২-৭৩ সালে বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। দেশের প্রথম বাজেট উত্থাপন করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

এদিকে চলতি অর্থবছরে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার বাজেট ঘোষণা হয়েছিল গত বছরের ১১ জুন। এর পর মাত্র ৯ দিনের বাজেট আলোচনা শেষে তা পাস করা হয়। এটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন। এবারও করোনা পরিস্থিতির কারণে অল্প দিনে আলোচনা শেষ করে বাজেট পাস হবে।

করোনা মহামারির মধ্যে এবারও কঠোর স্বাস্থ্য বিধি বিধান মেনে বাজেট অধিবেশন চালানো হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ে শেষ হবে বাজেট অধিবেশন। বিরতি দিয়ে এ অধিবেশন ১০ থেকে ১৩ কার্য দিবস চলতে পারে।

এ ছাড়া বাজেট পেশের পর ৪ ও ৫ জুন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ৬ জুন রোববারের কার্য দিবসে সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হবে। সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা শেষে ৭ জুন সম্পূরক বাজেট পাস করার কথা রয়েছে। এরপর বিরতি দিয়ে প্রস্তাবিত ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের ওপর আলোচনা শুরু করা হবে। আর তা ৩০ জুন বুধবার পাস হতে পারে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবারও কোভিড টেস্টের নেগেটিভ সনদ নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে প্রবেশ করতে হবে। প্রতি ৭২ ঘণ্টা পর পুনরায় নেগেটিভ সনদ মিললেই সংসদ সদস্যেরা কেবল অধিবেশনে যোগদান করতে পারবেন। যাঁরা ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তাঁদেরও কোভিড নেগেটিভ সনদ লাগবে।

সংসদ সচিবালয় থেকে জানা গেছে প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২০ জন সংসদ সদস্যকে অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ দূরত্বে বসে সংসদ অধিবেশন চলবে।

এবারও গণমাধ্যমকর্মীদের সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার থেকে সংসদ অধিবেশন কাভার করতে হবে। তবে বাজেট পেশের দিন এবং অধিবেশন শেষ হওয়ার দিন সংসদে সাংবাদিক লাউঞ্জে প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে। তবে, সে ক্ষেত্রে করোনা নেগেটিভ সনদ লাগবে। এজন্য গত মঙ্গলবার থেকে সংসদ মেডিকেল সেন্টারের পরিচালনায় কোভিড টেস্ট শুরু হয়েছে।

ভয়েস টিভি/আইএ

 

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

করোনাকালেও ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল রিজার্ভ

করোনা মহামারির মধ্যেও দেশে এসেছে রেকর্ড সংখ্যক বৈদেশিক মুদ্রা। এর পরিমাণ ৪৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

০১ জুন মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। ২০২০ সালের তুলনায় বৈদেশিক রিজার্ভের প্রবৃদ্ধি ৩৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি। ২০২১ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে মাসে রিজার্ভের রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ।

২০২১ অর্থবছরের মে মাসে ২ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। পয়লা জুলাই থেকে ৩১ মে পর্যন্ত রেমিটেন্স এসেছে ২২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার। অথচ ২০২০ অর্থবছরের মে মাসে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছিল। গত বছরের জুলাই থেকে মে মাসে দেশে মোট রেমিটেন্স এসেছিল ১৬ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী এক লাখ টাকা দেশে পাঠালে এর সঙ্গে আরও দুই হাজার টাকা যোগ করে মোট এক লাখ দুই টাকা পাচ্ছেন তারা।

এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি এক শতাংশ দেওয়ার অফার দিচ্ছে। এতে করে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন বিদেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসছে, রপ্তানিও বেড়েছে। এছাড়াও আমদানি ব্যয়ের চাপ কম, দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও জাইকার বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং বিশ্ব সংস্থার অনুদানের কারণে রিজার্ভ বেড়েছে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

আসছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট

নতুন অর্থবছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে ৩৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা বেশি। যেখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে স্বাস্থ্য খাত, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা।

২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা হবে আগামী ৩ জুন বৃহস্পতিবার ।

গত বছরের ন্যায় চলমান মহামারির মাঝেই জাতীয় সংসদে পেশ করা হবে এবারের বাজেট। করোনা মহামারির কথা চিন্তা করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের ওপর কর আরোপ করা হচ্ছে না। এর ফলে চাল, ডাল, চিনি, লবণ, দেশে উৎপাদিত টুথপেস্ট, পাউরুটি, সাবান, বোতলজাত পানি, ফলের জুস, মসলা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে না।

দেশে উৎপাদিত এবং বেশি ব্যবহার হয় এমন বেশির ভাগ পণ্যের দাম নাগালে রাখতে দেশি শিল্পে ব্যাপক হারে রাজস্ব ছাড় দেয়া হচ্ছে। এ কারণে আমদানি করা পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেলের চেয়ে দেশে সংযোজিত মোটরসাইকেল কম দামে পাওয়া যাবে।

সব ধরনের প্রসাধন সামগ্রীর ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাবে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। সিগারেটের চারটি স্তরের মধ্যে তিনটি স্তরের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, একটি স্তরের দাম অপরিবর্তিত থাকছে। এর ফলে বেশিরভাগ সিগারেটের দাম বাড়বে।

এছাড়া হাতে তৈরি ফিল্টারবিহীন ও ফিল্টারযুক্ত বিড়ির সব স্তরের দাম বাড়ানো হয়েছে। এদিকে চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়ার ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কার ও এসইউভির নিবন্ধন খরচও বাড়ছে, আর দ্বিগুণ হচ্ছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত লঞ্চ সার্ভিসের মূসক।

করোনা মোকাবিলায় সব ধরনের কোভিড সুরক্ষা পণ্যে ভ্যাট, ট্যাক্স মওকুফ করা হয়েছে। কোভিড-১৯ পরীক্ষার কিটের আমদানি, উৎপাদন ও ব্যবসা এবং পিপিই ও সব ধরনের মাস্ক উৎপাদন ও ব্যবসা পর্যায়ে মূসক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ফলে কমছে এসব পণ্যের দাম।

আরও পড়ুন : বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে-কমছে

কর অব্যাহতি-রেয়াতি সুবিধা প্রদান করায় এবং আমদানি করা সমজাতীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ করায় বিদেশি খেলনার দাম বাড়লেও কমবে দেশি খেলনার দাম।

কম্পিউটারসহ কিছু পণ্যের দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে সেসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেশি হারে শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এ কারণে এ পণ্যের দাম বাড়ছে।

মোবাইল সিম ব্যবহারের করে সেবা গ্রহণের বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর ফলে মোবাইল ফোনে কথা বলা, বার্তা পাঠানো এবং ডেটা ব্যবহারের খরচ বেড়ে যাবে। অন্যদিকে শুল্ক ছাড় দেয়ায় পাওয়ার রিপার, পাওয়ার টিলার, অপারেটেড সিডার, কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার, রোটারি টিলারের মতো কৃষিযন্ত্রের দাম কমে যাবে।

ভয়েস টিভি/ডি

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

লকডাউনে আধা ঘণ্টা বাড়লো ব্যাংক লেনদেন

করোনা মহামারির বিস্তার ঠেকাতে সরকার ঘোষিত চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। ফলে ৬ জুন পর্যন্ত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে। এ সাতদিন ব্যাংক লেনদেনের সময় আগের চেয়ে আধা ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন হবে। লেনদেন-পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

৩০ মে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে নতুন এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, করোনার (কোভিড-১৯) বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের মধ্যে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে আগামী ৬ জুন পর্যন্ত সীমিত পর্যায়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ সময় দৈনিক ব্যাংকিং লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা এবং প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

এতে আরও বলা হয়, এ সাতদিন প্রতিটি ব্যাংকের উপজেলা শহরের একটি শাখা খোলা থাকবে বৃহস্পতিবার, রোববার ও মঙ্গলবার এবং সিটি করপোরেশনের এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে একটি শাখা প্রতি কর্মদিবস খোলা রাখতে হবে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

ফের ১৯শ ডলারে উঠল স্বর্ণের আউন্স

বিশ্ববাজারে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে স্বর্ণের দাম। গত সাত দিনে এক শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম আবারও ১ হাজার ৯০০ ডলার ছাড়িয়েছে। স্বর্ণের পাশাপাশি গত এক সপ্তাহে রূপা এবং প্লাটিনামেরও দাম বেড়েছে।

বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। মাঝে কিছুটা দাম কমলেও প্রায় দুই মাস ধরে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ধারায় রয়েছে।

বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি মাসে দেশের বাজারে দু’দফায় ভরিতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

সর্বশেষ গত ২৩ মে থেকে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ ৭০ হাজার ৩৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ৬১ হাজার ৫৮৪ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫১ হাজার ৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্বর্ণের এই দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাজুস জানায়, করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সঙ্কট ও নানা জটিল সমীকরণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বন্ধ থাকা, আমদানিতে শুল্ক জটিলতা (উপকরণ কর রেয়াত) এবং নানা ধরনের দাফতরিক জটিলতায় ব্যবসায়ীরা স্বর্ণের বার আমদানি করতে পারছেন না। তাছাড়া চাহিদার বিপরীতে যোগান কম থাকায় দেশীয় বুলিয়ান/পোদ্দার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এ কারণে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশে যখন স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়, তখন বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১৮৮১ ডলার। গত এক সপ্তাহে তা বেড়ে এখন ১৯০৩ দশমিক ২০ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পর বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২২ ডলার।

আগামী সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে বাজুস সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে চলতি মাসে আমরা দু’দফায় স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছি। এখন বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারে আবারও দাম বাড়ানো হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাজুসের এক সদস্য জানান, বাংলাদেশে দাম বাড়ানোর পর আবারও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। কিন্তু এখন দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম না বাড়ানোর পক্ষে বাজুস। তবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রতি আউন্স যদি ১৯২৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তাহলে দেশে আবারও দাম বাড়াতে হবে।

বিশ্ববাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, করোনাভাইরাস মহামারির প্রকোপ শুরু হলে গত বছরের শুরু থেকেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। দফায় দফায় দাম বেড়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রেকর্ড ২ হাজার ৭৪ ডলারে উঠে যায়। তবে আগস্টে পতনের কবলে পড়ে উড়তে থাকা স্বর্ণের দাম।

১১ আগস্ট এসে বড় পতন হয় স্বর্ণের দামে। একদিনে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১১২ ডলার পর্যন্ত কমে যায়। এরপরও চলতে থাকে স্বর্ণের দরপতনের ধারা। এতে সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম সাড়ে ১৮’শ ডলারের কাছাকাছি চলে আসে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার মধ্যেই গত বছরের অক্টোবরে ইউরোপজুড়ে শুরু হয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। এতে বিশ্ববাজারে আবার স্বর্ণের দামবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা দেয়। ১৯’শ ডলারের নিচে নেমে যাওয়া স্বর্ণের দাম আবার ১৯’শ ডলার ছাড়িয়ে যায়। অবশ্য নভেম্বরের শেষদিকে এসে আবার পতনের মধ্যে পড়ে স্বর্ণের দাম। এতে এক সপ্তাহের মধ্যে ২৫ নভেম্বর এবং ২ ডিসেম্বর দু’দফায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমানো হয়।

অবশ্য ডিসেম্বরের শেষার্ধে ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ে। এতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে ১৯৫০ ডলারে উঠে যায়। যদিও তা খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমে যায়। ফেব্রুয়ারির পতনের ধারা মার্চ মাসের শুরুতেও দেখা যায়। মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে বড় পতন হওয়ায় মার্চ মাসে দু’দফায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। এর মধ্যে ১০ মার্চ ভরিতে স্বর্ণের দাম কমানো হয় ২ হাজার ৪১ টাকা। তার আগে ৩ মার্চ ভরিতে স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা কমানো হয়।

মার্চের পতনের পর এপ্রিল মাসে এসে বিশ্ববাজারে আবার স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকে। সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ২২ শতাংশ। এতে মাসের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

স্বর্ণের পাশাপাশি গত সপ্তাহে বেড়েছে রূপার দামও। গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে রূপার দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। এতে প্রতি আউন্স রূপার দাম দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৪ ডলার। আর সবচেয়ে দামি ধাতু প্লাটিনামের দাম গত সপ্তাহে বেড়েছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। এতে প্রতি আউন্স প্লাটিনামের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮০ দশমিক শূন্য ৩ ডলারে।

ভয়েসটিভি/এএস