Categories
অর্থনীতি জাতীয়

পাসপোর্টের মেয়াদ যত বছর ডলার এনডোর্সমেন্টও ততো বছর

এখন থে‌কে পাসপোর্টের মেয়াদ যতো বছরের থাক‌বে ততো বছ‌রের জন্য একস‌ঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার এনডোর্সমেন্ট করা‌ যা‌বে। অর্থাৎ যদি কারো পাসপোর্ট এর মেয়াদ পাঁচ বছর থাকে তাহলে তিনি পাঁচ বছরের জন্য একসঙ্গে ৬০ হাজার ডলার এনডোর্স করাতে পারবেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি খরচ করতে পারবেন না। ২৩ সে‌প্টেম্বর বৃহস্প‌তিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত এক‌টি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলার বলা হ‌য়ে‌ছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক সংশ্লিষ্ট নিবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তির অনুকূলে তার পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন আন্তর্জাতিক কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় ও নির্ধারণ করতে পারবে। ত‌বে এডি ব্যাংককে নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত মেনে চলতে হবে। যেমন: বাৎসরিক সীমা ১২ হাজার মার্কিন ডলার অতিক্রম কর‌তে পার‌বে না। ভ্রমণ কোটার অব্যবহৃত অংশ পরবর্তী বছরে স্থানান্তর করা যাবে না। এছাড়া বিদেশে চাকরি ও ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে কিংবা শিক্ষার জন্য বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদকালীন এনডোর্সমেন্ট করা যাবে না বলে সার্কুলারে বলা হয়েছে। তবে সম্পূরক কার্ডধারী ব্যক্তি তার ভ্রমণ কোটার আওতায় এ সুবিধা পাবেন।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে জানুয়ারি ১ তারিখ থেকে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ পর্যন্ত ভ্রমণ কোটা প্রযোজ্য হয়ে থাকে। তবে নির্দিষ্ট ভ্রমণ পরবর্তী বছরের মধ্যে পড়লে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ পর্যন্ত একটি কোটা এবং জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে অন্য বছরের কোটা ব্যবহার করতে হবে।

পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় বা নির্ধারণ সুবিধা গ্রহণ করা না হলে কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে ঘটনাত্তর এনডোর্সমেন্ট করার সুবিধা সার্কুলারে রাখা হয়েছে।

যৌক্তিক কারণে কার্ডের মাধ্যমে ভ্রমণ ব্যয় বাৎসরিক কোটা সীমা অতিক্রম করলে ওই অর্থ গ্রাহকের নিবাসী বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের স্থিতি দ্বারা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জাতীয় হিসাব না থাকলে পরবর্তী বছরের ভ্রমণ কোটার সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০০ মার্কিন ডলার সমন্বয় করা যাবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন বৈদেশিক মুদ্রা আন্তর্জতিক কার্ডের মাধ্যমে ছাড়করণের সুবিধা বিদেশগামী যাত্রীদের ভ্রমণ সহজ করবে।

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন হলেও কমছে না দেশে

বিশ্ববাজারে গেল সপ্তাহে স্বর্ণের বড় দরপতন হয়েছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ৫০ ডলার কমেছে। বিশ্ববাজারে এমন দরপতন হলেও আপাতত বাংলাদেশের বাজারে কমানো হচ্ছে না স্বর্ণের দাম।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যায়। মাঝে কিছুটা দাম কমলেও, এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল।

বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ায় মে মাসে দেশের বাজারে দু’দফায় ভরিতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। জুনের শুরুতে বিশ্ববাজারে বড় দরপতনে দেশের বাজারেও কমানো হয় স্বর্ণের দাম।

কিন্তু আগস্টের মাঝামাঝি বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বেশ অস্থিরতা দেখা দেয়। কয়েক দফা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এক পর্যায়ে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১০০ ডলারের মতো বেড়ে যায়। তখন বাংলাদেশেও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়।

সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট বাজুস ভরিতে ১ হাজার ৫১৬ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করে। এতে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকা নির্ধারিত হয়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৭০ হাজার ৩৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৬১ হাজার ৫৮৬ এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৫১ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারিত হয়। এ দামেই বর্তমানে বাংলাদেশে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পর গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন হয়। গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার আগে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ১ হাজার ৮২৬ ডলার। সপ্তাহ শেষে তা কমে নামে ১ হাজার ৭৮৮ ডলারে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম কমেছে ৩৮ বা ২ দশমিক ১১ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হবে কি না- জানতে চাইলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, ‘আমরা স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করার কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। সুতরাং আপাতত দেশের বাজারে দাম কমানো-বাড়ানো হচ্ছে না।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি

বুধবার শুরুতেই মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী

শেয়ারবাজারে বুধবার লেনদেনের শুরুতেই মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী লক্ষ্য করা গেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৬৮ পয়েন্ট বেড়েছে আধঘণ্টার লেনদেনে। প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকার লেনদেন হয়ে গেছে।

সময়ের সঙ্গে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। এতে প্রথম মিনিটেই ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৩০ পয়েন্ট বেড়ে যায়।

সকাল ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের তুলনায় ৬৮ পয়েন্টে বেড়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরীয়াহ্ ১০ পয়েন্ট বেড়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ২৩ পয়েন্ট।

এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২৯৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৭টির। আর ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৩২ কোটি ৮ লাখ টাকা।

অপর দিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পাশাপাশি অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)-ও লেনদেনে বেশ ভালো গতি রয়েছে। পাশাপাশি দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মূল্যসূচক।

সিএসই’র সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১২৯ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেন হয়েছে ৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। লেনদেন অংশ নেওয়া ১৩৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১১২টির, কমেছে ১২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯টির।

ভয়েস টিভি/ এএন

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

আগস্টের ২৫ দিনে এলো ১৩ হাজার কোটি টাকা

করোনা মহামারির মধ্যে চলতি মাসের ২৫ দিনে ১৫৫ কো‌টি ৫ লাখ (১.৫৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ৮৫ টাকা ২০ পয়সা ধ‌রে) যার পরিমাণ ১৩ হাজার ২১০ কোটি টাকার বেশি। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাসের শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ১৯০ কোটি ডলার পৌঁছাবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের নগদ প্রণোদনা ও করোনায় বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণের কারণে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত থেকে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বেশি এসেছে। ফলে করোনা মহামারির মধ্যেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ইতিবাচক রয়েছে।

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১ আগস্ট ব্যাংক বন্ধ ছিল। তাই ২ আগস্ট থেকে রেমিট্যান্সের হিসাব করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ৩৩ কোটি মার্কিন ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স এসেছে ১১৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৯ লাখ ডলার। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংকের মধ্যে একটিতে এসেছে দুই কোটি ৭৪ লাখ মার্কিন ডলার।

চলতি মাসের ২৫ দিনে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে ৪৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এসেছে। এরপর ডাচ–বাংলা ব্যাংকে প্রায় ১৬ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকে ১৩ কোটি ৮২ লাখ, সোনালী ব্যাংকে ৮ কোটি ৯৬ লাখ ও পূবালী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫ কোটি ১৮ লাখ ডলার।

আলোচিত সময়ে সরকারি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের মাধ্যমে কোনো রেমিটেন্স পাঠায়নি প্রবাসীরা।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় ক‌রোনা মহামারির মধ্যেও দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ একের পর এক রেকর্ড গড়েছে। এর সঙ্গে বৈদেশিক ঋণ সহায়তা যোগ হওয়ায় ২৪ আগস্ট দিন শেষে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে প্রবাসীরা ১৮৭ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার (১.৮৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

গেল ২০২০-২১ অর্থবছরে দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার রেমিটেন্স দেশে আসে। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স দেশে আসেনি। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এক হাজার ৮২০ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। অর্থবছরের হিসাবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। তারও আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড হয়। ওই সময় এক হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে দেশে।

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। অর্থাৎ কোনো প্রবাসী ১০০ টাকা দেশে পাঠালে তার সঙ্গে আরও ২ টাকা যোগ করে মোট ১০২ টাকা পাচ্ছেন সুবিধাভোগী। এছাড়া ঈদ ও উৎসবে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সরকারের প্রণোদনার সঙ্গে বাড়তি এক শতাংশ দেওয়ার অফার দিচ্ছে। এতে করে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন প্রবাসীরা।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের পণ্য রফতানি করে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

আজ ব্যাংক বন্ধ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি উপলক্ষে ৩০ আগস্ট সোমবার ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পুঁজি বাজারে লেনদেন বন্ধ থাকবে। ফলে এ দিন ব্যাংক ও শেয়ার বাজারে লেনদেন বন্ধ থাকবে।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সরকারি ছুটির কারণে সরকারি অফিস-আদালতও বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারি ছুটির কারণে তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও বন্ধ থাকবে।

৩১ আগস্ট মঙ্গলবার থেকে আগের মতই স্বাভাবিকভাবে লেনদেন চলবে ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি

চাষ হবে ‘কাকিলা’

‘কাকিলা’ মাছটি একসময় প্রচুর পরিমাণে পাওয়া গেলেও বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। ফলে মাছটির প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে গবেষণা শুরু হয় ৷ দীর্ঘ তিন বছর গবেষণার পর এবার কৃত্রিম প্রজননে এর পোনা উৎপাদনে সফল হয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা। এতে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাওয়াসহ আবার পানিতে ঢেউ তুলবে কাকিলা।

গবেষণা দলে ছিলেন, বিএফআরআইয়ের স্বাদুপানি উপকেন্দ্র যশোরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কমকর্তা ড. মো. রবিউল আউয়াল হোসেন, ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কমকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এবং বৈজ্ঞানিক কমকর্তা শিশির কুমার দে।

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা জানান, গবেষণায় রাজবাড়ি জেলা সংলগ্ন কুষ্টিয়ার পদ্মা নদী থেকে কাকিলা ব্রুড (মা-বাবা মাছ) মাছ সংগ্রহ করা হয়। বিশেষ পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে যশোরের স্বাদু পানি উপকেন্দ্রের পুকুরে ছাড়া হয়েছে। পরে হ্যাচারিতে উৎপাদিত কার্প জাতীয় মাছের জীবিত পোনা ও নানা জলাশয় থেকে সংগৃহীত জীবিত ছোট মাছ খাইয়ে পুকুরের আবদ্ধ পরিবেশে মাছকে অভ্যস্ত করা হয়।

এরপর চলতি বছরের মে থেকে বৈজ্ঞানিক প্রটোকল অনুসরণ করে কৃত্রিম প্রজননের উদ্দেশ্যে উপকেন্দ্রের হ্যাচারিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক মা-বাবা মাছকে বিভিন্ন ডোজে হরমোন ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়েছে। এভাবে কয়েকবার বিভিন্ন ডোজের ট্রায়াল দেওয়া হলেও মাছের প্রজননে সফলতা আসেনি। অবশেষে ২৫ আগস্ট প্রজননকৃত মাছের ডিম থেকে পোনা বের হয় এবং কাকিলা মাছের কৃত্রিম প্রজননে সফলতা আসে।

গবেষক দলের সদস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শিশির কুমার দে বলেন, কাকিলা মাছের প্রজননের ট্রায়ালের সময় চৌবাচ্চার পানির গড় তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ ছিল চার দশমিক পাঁচ মিলিগ্রাম/লিটার, পিএইচ ছিল সাত দশমিক ছয়।

প্রতি ১০০ গ্রাম খাবার উপযোগী কাকিলা মাছে ১৭ দশমিক এক শতাংশ প্রোটিন, লিপিড দুই দশমিক ২৩ শতাংশ, ফসফরাস দুই দশমিক ১৪ শতাংশ ও শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ ক্যালসিয়াম রয়েছে, যা অন্যান্য ছোট মাছের তুলনায় অনেক বেশি।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, কাকিলা বা ‘কাখলে’ একটি বিলুপ্তপ্রায় মাছ। এর দেহ সরু, ঠোঁট লম্বাটে ও ধারালো দাঁতযুক্ত। বাংলাদেশে যে জাতটি পাওয়া যায়, সেটি মিঠা পানির জাত। মাছটি বাংলাদেশের অধিকাংশ অঞ্চলে কাইকল্যা বা কাইক্কা নামেই বেশি পরিচিত।

মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Xenentodon cancila । ইংরেজিতে বলা হয় ‘ফ্রেশওয়াটার গারফিশ’। এটি Belonidae পরিবারের অন্তর্গত। বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে এ মাছ পাওয়া যায়। তবে, রং ও আকারে কিছু পার্থক্য থাকে।

মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘কাকিলা মাছের কৃত্রিম প্রজনন এটিই বাংলাদেশ প্রথম এবং বিশ্বের কোথাও এ মাছের কৃত্রিম প্রজননের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।’

গবেষক দলের প্রধান ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রবিউল আউয়াল হোসেন বলেন, কাকিলা মূলত ছোট মাছ খেয়ে থাকে। প্রাকৃতিকভাবে প্রবাহমান জলাশয়ে বিশেষ করে নদীতে এবং বর্ষাকালে প্লাবিত অঞ্চলে প্রজনন করে থাকে। পরিণত মাছেরা ভাসমান জলজ উদ্ভিদ নেই- এমন স্থানে বসবাস করলেও জলজ উদ্ভিদের পাতার নিচে ও ভাসমান শেকড়ে এদের স্ত্রীরা ডিম পাড়ে।

প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরও বলেন, কাকিলা মাছের প্রজননের জন্য পিজি (পিটুইটারি গ্ল্যান্ড) হরমোন ব্যবহার করা হয়। গত ১৮ আগস্ট পুকুর থেকে মাছ ধরে চার জোড়া মা-বাবা নির্বাচন করে হ্যাচারির চৌবাচ্চায় নির্দিষ্ট সময় ঝর্ণাধারা দিয়ে মা-বাবা মাছকে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়।

পরে মা-বাবা মাছকে একত্রে একটি চৌবাচ্চায় রেখে ঝর্ণাধারা দিয়ে সেখানে কচুরি পানা রাখা হয়। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরে মা মাছ ডিম ছাড়ে। ডিমের ভেতরে বাচ্চার বিভিন্ন দশা ও উন্নয়ন অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। ডিম ছাড়ার প্রায় ৯০ থেকে ১০০ ঘণ্টার মধ্যে নিষিক্ত ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়।

বিএফআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শাহা আলী বলেন, মানবদেহের জন্য উপকারী অনুপুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ এবং কাঁটা কম থাকায় মাছটি অনেকের কাছে খুব প্রিয়। একসময় অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে হরহামেশা দেখা মিলত কাকিলার। কিন্তু জলবায়ুর প্রভাব, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং মানবসৃষ্ট নানা কারণে বাসস্থান ও প্রজননক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ মাছের প্রাচুর্য কমে গেছে। তিন বছরের নিবিড় গবেষণার পর এই সফলতা পাওয়া যায়। এর ফলে কাকিলা মাছ আর হারাবে না। ফিরবে খাবার টেবিলে।

মাছটিকে চাষাবাদের আওতায় আনা সম্পর্কে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে কৃত্রিম প্রজননে সফলতা পাওয়া গেলেও আরও পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। তবে আশা করছি, এক বছরের মধ্যেই চাষাবাদের আওতায় আনা যাবে বিলুপ্তপ্রায় এই মাছটি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, দেশের বিলুপ্তপ্রায় ৬৪টি মাছের মধ্যে ৩০টির কৃত্রিম প্রজননে এরই মধ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সফলতা দেখিয়েছে। সফলতার ধারাবাহিকতায় ৩১তম মাছ হিসেবে কাকিলা মাছ যুক্ত হলো।

তিনি আরো বলেন, পর্যায়ক্রমে সব বিপন্ন প্রজাতির মাছকে কৃত্রিম প্রজননের আওতায় আনা হবে। যাতে দেশের প্রত্যেক মানুষের খাবারের পাতে থাকে দেশীয় মাছ।

দেশীয় মাছকে সংরক্ষণের জন্যে ময়মনসিংহে ইনস্টিটিউটের সদর দপ্তরে লাইভ জিন ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। দেশীয় মাছ সংরক্ষণ গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্যে ২০২০ সালে
একুশে পদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

আরও পড়ুন : পঞ্চগড়ে ক্যামিলিয়া খোলা আকাশ স্কুল

ভয়েস টিভি/এএন

Categories
অর্থনীতি

আমদানি বেশি : কাঁচা মরিচের দাম কমেছে হিলি বন্দরে

দেশের বাজারে দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকার আইপি অনুমোদন দেওয়ার পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচা মরিচের আমদানি শুরু হয়েছে। আমদানি শুরুর দুই দিনের মাথায় স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা বাজারে কমতে শুরু করেছে দাম। প্রকারভেদে কেজিতে কমেছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এতে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে।
আজ মঙ্গলবার সকালে হিলি বাজার ঘুরে জানা যায়, রবিবার আমদানি শুরু হয়। সেদিন পাইকারি ও খুচরা বাজারে আমদানিকৃত প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। সেই মরিচ আজ মঙ্গলবার কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কমে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে কেজিতে ২০ টাকা কমে প্রতিকেজি দেশীয় কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে।
এদিকে আমদানির ফলে দাম কমে আসতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে। হিলি বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা রফিক নামের একজন ক্রেতা বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমি কাঁচা মরিচ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে কিনছি। দুই দিন আগে হিলি দিয়ে আমদানি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। ফলে দাম কমতে শুরু করেছে। এতে আমার মতো সাধারণ ক্রেতাদের জন্য অনেক ভালো হয়েছে।
হিলি বাজারের কাঁচামাল বিক্রেতা মিঠু বলেন, আমদানির ফলে হিলি বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ বেড়েছে। যার ফলে দামও কমে আসছে। দাম কমায় আমাদের বেচাকেনা বেড়েছে, ক্রেতারাও কম দামে কিনতে পেরে খুশি।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুন বলেন, আমাদের হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু করেছে। ফলে বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। তবে মরিচ আমদানি করে আমাদের খুব একটা লাভ হচ্ছে না। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ আমদানিতে সরকারকে শুল্ক দিতে হচ্ছে প্রায় ২৬ টাকা এবং অন্যান্য খরচ দিয়ে এক কেজি কাঁচা মরিচ আনতে গুনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা।
হিলি শুল্ক স্টেশনের উপ-কমিশনার কামরুল ইসলাম বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে ভারতীয় ৩টি ট্রাকে ৩৬ হাজার ৭৮ মেট্রিকটন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৯ টাকা। আমদানি বাড়লে সরকারের রাজস্ব আরও বাড়বে।
তিনি আরো জানান, আমদানিকৃত সকল পচনশীল  কাঁচা পণ্য দ্রুত ছাড়করণের জন্য মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : কাঁচা মরিচের ডাবল সেঞ্চুরি
ভয়েস টিভি/ এএন
Categories
অর্থনীতি জাতীয়

আজ ব্যাংক বন্ধ

করোনা মহামারির সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ৪ আগস্ট বুধবার ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১ আগস্ট রোববারও বন্ধ ছিল ব্যাংক। এ ছাড়া ৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্যাংকিং কার্যক্রমের নতুন সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ২৮ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারিকৃত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ ও ৪ আগস্ট সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে এবং ২, ৩ ও ৫ আগস্ট নতুন সময়সূচি অনুযায়ী সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ সময়ে ব্যাংক লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

ব্যাংকিং লেনদেন সময়সূচি লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

গত ১৩ জুলাই জারিকৃত ডিওএস সার্কুলার লেটার নং-২৯ এ প্রদত্ত অন্যান্য নির্দেশনাবলি অপরিবর্তিত থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

বাংলাদেশকে আড়াই কোটি টাকা ভ্যাট দিল ফেসবুক

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিয়েছে। চলতি মাসে ভ্যাটের রিটার্ন দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোষাগারে এই প্রথম টাকা জমা দিল। ফেসবুক ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান।

ফেসবুকের পক্ষে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয় প্রাইসওয়াটারহাউসকুপারস বাংলাদেশ। সিটিব্যাংক এনএর মাধ্যমে ২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে বলে ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশে ব্যবসা করে এমন নিবন্ধিত অনাবাসী প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রথম ভ্যাট রিটার্ন পেল ভ্যাট বিভাগ।

ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ফেসবুক চলতি মাসে নিয়মিত করদাতা হিসেবে ভ্যাট রিটার্ন দিয়েছে। নিবন্ধিত করদাতাকে লেনদেনের হিসাব জানিয়ে প্রতি মাসেই ভ্যাট রিটার্ন দিতে হয়।

গত ১৩ জুন ফেসবুক ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট থেকে অনাবাসী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসায় নিবন্ধন নম্বর (বিআইএন) নিয়েছে ফেসবুক, যা ভ্যাট নিবন্ধন হিসেবে পরিচিত। আয়ারল্যান্ডের ঠিকানা ব্যবহার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ পর্যন্ত চারটি অনাবাসী প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের নিবন্ধন নিয়েছে। ফেসবুক ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো গুগল, আমাজন ও মাইক্রোসফট। অনাবাসী প্রতিষ্ঠান বলতে বোঝায়, বাংলাদেশে ব্যবসা করে, কিন্তু কার্যালয় নেই।

২৩ মে গুগল ও ২৭ মে আমাজন ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। আর ১ জুলাই মাইক্রোসফট ভ্যাট নিবন্ধন নেয়। মাইক্রোসফট আগামী আগস্টে রিটার্ন দেওয়া শুরু করবে।

ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে, আমাজন ও গুগল ইতিমধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দেওয়ার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। কর্তৃপক্ষ তাদের আবেদনে সাড়া দিয়েছে। এই দুটি প্রতিষ্ঠান আগামী আগস্ট থেকে রিটার্ন দেবে বলে জানা গেছে।

অনাবাসী প্রতিষ্ঠানগুলো (যাদের এ দেশে স্থায়ী কার্যালয় নেই) এ দেশে বিজ্ঞাপন প্রচারসহ নানা ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। এসব সেবা নিয়ে গ্রাহকেরা ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনো উপায়ে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করে থাকেন। তখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে রাখে।

ভ্যাট কেটে না রাখলে বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে ওই প্রতিষ্ঠানের অর্থ পাঠানোর অনুমতি দেয় না। ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠান কত টাকার সেবা বিক্রি করেছে, সেই তথ্যসহ যাবতীয় আয়-ব্যয়ের তথ্য জানিয়ে ভ্যাট রিটার্ন দিতে হবে।

ভয়েস টিভি / আইএ

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

দেশে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছরের ন্যয় এবারো দেশের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে  । এতে বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর প্রস্তাব  করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।

প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সম্প্রসারণ ও সংকুলানমুখী নতুন এই মুদ্রানীতিতে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে।

এবারের মুদ্রানীতিতে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার আলোকে ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ যোগান রাখা হয়েছে। মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছরের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের বছরের মতোই অপরিবর্তিত রেখে ১৪.৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রার আলোকে ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বাড়ানোর প্রাক্কলন করা হয়েছে। মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৭.৮০ শতাংশ। নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সাধারণত সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। কিন্তু করোনার কারণে গত বছর থেকে আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া শুধু ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করলেও গত দুই অর্থবছর থেকে তা এক বছরের জন্য করা হয়।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

গত অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রক্ষেপণ করা হয় ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে মে পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। নতুন বিনিয়োগ কম হওয়ায় আগামীতেও ঋণপ্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়বে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

গত অর্থবছরের জন্য সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রাক্কলন করা হলেও সঞ্চয়পত্র থেকে প্রচুর ঋণ পাওয়ায় সরকার ব্যাংক থেকে নিয়েছে অনেক কম। গত অর্থবছর রেমিট্যান্সে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ এবং রফতানিতে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। করোনার এ সময়ে অর্থনীতির জন্য যা সহায়ক হয়েছে।

ভয়েস টিভি/ডি