Categories
অর্থনীতি

করোনায় স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভয়েস টিভি : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় দুইটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৪শ ৯২ কোটি টাকা ।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সভাকক্ষে একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১০টি প্রকল্পের করোনা মোকাবেলা দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।
বৈঠকশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন,‘ দুইটি প্রকল্প করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলা সংক্রান্ত। আজ একনেক সভায় এই দুটিসহ চারটি প্রকল্প কোন পরিবর্তন ছ্ড়াাই অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’
তিনি জানান,করোনা প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় নেয়া দুই প্রকল্প হলো-কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রকল্প,যার ব্যয় হবে ১ হাজার ১২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং কোভিড-১৯ রেসপন্স ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রকল্প,যা বাস্তবায়নে খরচ হবে ব্যয় ১ হাজার ৩৬৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন,এই দুই প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ানো ও প্রত্যেক জেলার হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্বাস্থ’্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এই দুই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য হলো-দেশের ১৭টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ রুপ দেয়া। প্রকল্পের আওতায় পিসিআর মেশিন কেনাসহ পিসিআর ল্যাব স্থাপন, আইসিইউ স্থাপন এবং পিপিই ও মাস্ক কেনা হবে। এছাড়া কমপক্ষে ১৯টি পরীক্ষাগারের সক্ষমতা এবং গুণমানকে কোভিড-১৯ মাইক্রোবায়োালজিকাল ডায়াগনস্টিক সুবিধা দিয়ে উন্নত করা হবে।
অবকাঠামো উন্নয়নে পাশাপাশি ৩ হাজার ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং স্বাস্থ্যকর্মী ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগকেও উৎসাহিত করা হবে।
প্রকল্প ব্যয়ের ৮৫০ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিশ^ব্যাংক সহজ শর্তে ঋণ দেবে। বাকী ২৭৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় হবে।
কোভিড-১৯ রেসপন্স ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রকল্পের আওতায় করোনা আক্রান্ত রোগি সনাক্ত করতে নির্বাচিত হাসপাতালে টেস্টিং সুবিধা বাড়ানো,করোনা চিকিৎসা সংক্রান্ত সরঞ্জাম কেনা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্প ব্যায়ের ৮৪৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সহজশর্তে ঋণ দিচ্ছে, বাকী ৫১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা সরকার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করবে।

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

করোনার ঝুঁকিতে দেশের ৪ কোটি তামাক ব্যবহারকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভয়েস টিভি: বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি তামাক ব্যবহারকারী মারাত্মকভাবে করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, তামাকাসক্তদের কোভিড-১৯ সংক্রমণে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

আসন্ন বাজেটে কার্যকরভাবে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো হলে তামাকের ব্যবহার কমবে এবং রাজস্ব আয় বাড়বে। বাড়তি রাজস্ব সরকার কোভিড-১৯ মহামারী সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ব্যয় এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যয় করতে পারবে। মঙ্গলবার তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র যৌথ উদ্যোগে ‘কেমন তামাক কর চাই, বাজেট ২০২০-২১’ শীর্ষক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে এমনটাই সুপারিশ করেছেন একাধিক সংসদ সদস্যসহ অর্থনীতিবিদরা।

ওয়েবিনারে প্রজ্ঞা’র পক্ষ থেকে তামাক কর বিষয়ক ‘বাজেট প্রস্তাব ২০২০-২১’ তুলে ধরা হয়। এই বাজেট প্রস্তাব সমর্থন করে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, করোনা আমাদের জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। আমরা এ সুযোগে কল্যাণের পথ বেছে নিব। এক্ষেত্রে আমাদের তামাক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, যদি এবারের বাজেটে তামাকপণ্যে করারোপের ক্ষেত্রে কোন মৌলিক পরিবর্তন না আসে, এই বাড়তি ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ আমরা হারাই, এত মৃত্যু, অসুস্থতা অব্যাহতই থেকে যায় তাহলে আমি নৈতিকভাবে এই বাজেটকে সমর্থন করতে পারিনা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ মনে করেন ধূমপান কমাতে সিগারেটের স্তর সংখ্যা কমানোর বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের বিদ্যমান চারটি মূল্যস্তর বিলুপ্ত করে দুটি নির্ধারণ করা দরকার। কারণ একাধিক মূল্যস্তর এবং বিভিন্ন দামে সিগারেট ক্রয়ের সুযোগ থাকায় ভোক্তা স্তর পরিবর্তন করার সুযোগ পায়। ফলে তামাক ব্যবহার হ্রাসে কর ও মূল্য পদক্ষেপ সঠিকভাবে কাজ করেনা। এর পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সংসদ সদস্যদের বিড়ির কর না বাড়ানোর পক্ষে চিঠি দেয়াকে দু:খজনক উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা: হাবিবে মিল্লাত এম.পি বলেন, তামাকের বিপক্ষে আমাদের শক্তিকে আরো জোরালো করতে হবে। প্রস্তাবিত কর ও দাম পদক্ষেপ সমর্থন করে তিনি বলেন এবারের বাজেট অধিবেশনে কমপক্ষে ১৫০ সাংসদকে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে কথা বলার জন্য উদ্বুদ্ধ করবো। বাংলাদেশে মোট তামাক ব্যবহারকারীর অর্ধেকেরও বেশি ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য ব্যবহার করলেও এসব তামাকপণ্যের দাম সবচেয়ে সস্তা এবং রাজস্ব আয় খুব কম উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যে করারোপের ভিত্তিমূল্য খুব কম, তাই কর বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্যও বাড়াতে হবে। এছাড়া তিনি অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থাৎ লাইসেন্সবিহীন উৎপাদনকারীদের কর জালের আওতায় আনার সুপারিশ করেন। তামাকপণ্যে করারোপ বিষয়ে সাংসদদের সারা বছর ধরেই জোরালো ভূমিকা পালন করা উচিত বলে মনে করেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এম.পি। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন ধারায় বছর জুড়েই তামাক বিষয়ে সংসদে প্রশ্ন এবং আলোচনা করতে পারেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের তামাককে ব্যয়বহুল করে ফেলতে হবে। এতে তামাকের দাম বাড়বে, রাজস্ব বেশি আসবে এবং তামাকপণ্য ব্যবহারে মানুষ নিরুৎসাহিত হবে।

তামাকপণ্যের ওপর বিদ্যমান করকাঠামো সংস্কার ও এর সুফলের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, তামাকপণ্যে করারোপ সহজ করতে সম্পূরক শুল্কের একটি অংশ সুনির্দিষ্ট কর আকারে আরোপ করতে হবে এবং অন্যান্য কর পদক্ষেপের সাথে সব ধরনের তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ৩ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করা যেতে পারে। সবমিলিয়ে, তামাক-কর বিষয়ক এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে সম্পূরক শুল্ক এবং ভ্যাট বাবদ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব এবং সারচার্জ থেকে আরো প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় অর্জন করা সম্ভব হবে। এই অর্থ সরকার তামাক ব্যবহারের ক্ষতি হ্রাস, করোনা মহামারী সংক্রান্ত স্বাস্থ্য ব্যয় এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যয় করতে পারবে।

Categories
অর্থনীতি সারাদেশ

বেসরকারি খাতকে সহায়তায় অর্থায়ন বাড়িয়েছে এডিবি

ভয়েস রিপোর্ট: গত বছরের শেষের দিকে ৫১৮ মিলিয়ন ডলার থেকে আর্থিক সীমা ৭৫৫ মিলিয়ন ডলার করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশে বেসরকারি খাতকে সহায়তার জন্য সম্প্রসারণ করেছে ট্রেড ফিনান্স প্রোগ্রামকে (টিএফপি)।

মঙ্গলবার (এডিবির ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এডিবি জানায়, টিএফপি বাংলাদেশের ১২টি ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করছে।

এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ জানান, অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব বিবেচনা করে, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রাপ্যতা, টিএফপির বৃদ্ধি তরলতা বৃদ্ধি করা হবে। বাংলাদেশ সবচেয়ে সক্রিয় টিএফপি দেশ হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কর্মসূচি এ পর্যন্ত ৮২৪ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যকে সাপোর্ট করেছে। যার মধ্যে ৭৮ শতাংশ লেনদেন হয়েছে বেসরকারি খাতে।
টিএফপির পোর্টফোলিও ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগকে (এসএমই) সহায়তা করে। ফলে বাংলাদেশে নারীসহ ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে দাবি করে মনমোহন প্রকাশ।

বর্তমানে টিএফপি ২১ টি দেশের ২৪০ টিরও বেশি ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করে। এশিয়ার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বাজারে আমদানি ও রফতানিকারক কাজে জড়িত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা করে। ২০১৯ সালে টিএফপি মোট ৪ হাজার ৮৩টি লেনদেনে সহায়তা করে। মোট লেনদেন হয় ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

Categories
অর্থনীতি সারাদেশ

ডিপিএসে বিলম্ব চার্জ বা অতিরিক্ত ফি নেওয়া যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভয়েস টিভি :
করোনাকালীন সময়ে ঋণ গ্রহীতাদের নানা সুবিধা দেয়ার পর এবার আমানতকারীদের সুবিধা দিলো সরকার । ব্যাংকে কোনো আমানতকারী এপ্রিল-মে মাসে ডিপিএস বা অন্য কোনো সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে না পারলেও তার থেকে বিলম্ব ফি নেওয়া যাবে না। কিস্তি পরিশোধ না করার কারণে তা বন্ধ বা বাতিলও করা যাবে না। নির্ধারিত কিস্তি বা জমা পরিশোধের জন্য আগামী ২০ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কারও থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিলে তা ফেরত দিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়েছে ।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। এ সময়ে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণের বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেক আমানতকারীর পক্ষে তাদের ডিপোজিট পেনশন স্কিম (ডিপিএস) ও বিভিন্ন সঞ্চয়ী কিস্তি নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এপ্রিল ও মে মাসের কিস্তি দেরিতে জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব ফি, চার্জ বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। এ সময়ে কোনো সঞ্চয়ী হিসাবের কিস্তি পরিশোধে অসমর্থতকার কারণে তা বন্ধ বা বাতিল করা যাবে না। তবে আমানতকারীদের আগামী ২০ জুনের মধ্যে এপ্রিল ও মে মাসের নির্ধারিত কিস্তি জমা দিতে হবে। ওই দুই মাসের কিস্তির টাকা দেরিতে দেওয়ার কারণে কোনো আমানতকারী থেকে ইতিমধ্যে কোনো ধরনের বিলম্ব ফি, চার্জ বা অতিরিক্ত অর্থ নিলে তা ফেরত বা সমন্বয় করতে বলা হয়েছে।

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

শেয়ারবাজারে ৬৬ দিন পর লেনদেন শুরু, উত্থানে সূচক

ভয়েস রিপোর্ট: করোনা ভাইরাসের কারণে টানা ৬৬ দিন বন্ধের পরদেশের দুই শেয়ারবাজারের লেনদেন শুরু হয়েছে। রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে সকাল সাড়ে ১০টায় লেনদেন শুরু হয়। শুরুতেই সূচকের উত্থান দেখা যায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)।
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর শেয়ারবাজারের লেনদেনও বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর দুই মাসেরও বেশি সময় লেনদেন বন্ধ ছিলো। বিনিয়োগকারীরা দাবি জানালে গত বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর সিদ্ধান্ত হয়।

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগের সীমা কমল

ভয়েস রিপোর্ট: ধনীদের নিরুৎসাহী করতে এবং মধ্যম আয়ের মানুষদের সুবিধা চিন্তা করে ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক স্কিমে বিনিয়োগের লাগাম টানলো সরকার। ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের বিনিয়োগ সীমিত আকার করে দিয়েছে সরকার। অর্থৎ এখন থেকে এ খাতে একক নামে বিনিয়োগ ঊর্ধ্বসীমা ৩০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১০ লাখ,যুগ্ম-নামে বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা ৬০ লাখ টাকা কমিয়ে ২০ লাখ করা হয়েছে।
নিন্ম ও মধ্যম আয়ের মানুষদের কথা চিন্তা করে এ সুযোগ চালু হলেও এ খাতে অনেক ধনী ব্যক্তিরা বিনিয়োগ করেছে এবং করছে।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক স্কিমে বিনিয়োগের হিসাব খোলার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র। এক্ষেত্রে দুই লাখ টাকার বেশি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে জমা দিতে হবে চেকের মাধ্যমে। সঙ্গে ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) সনদের কপিও দিতে হবে। একইসঙ্গে হিসাবধারীদের অনলাইন ডাটাবেজের আওতায় আনা হচ্ছে।

বর্তমানে ব্যাংক আমানতে সুদহার ৬ শতাংশ হলেও ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের কিংবা সঞ্চয়পত্রে সুদহার সর্বোচ্চ ১১.২৮ শতাংশ। এতে করে এ খাতে অনেক ধনী ব্যক্তিরা বিনিয়োগ করছে। পাশাপশি এ খাত থেকে ঋণ নিলে সরকারকে বেশি পরিমাণ সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে করে সরকারের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ২০ মে স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ আদেশ জারির দিন থেকে কার্যকর হবে। এনবিআর সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

Categories
অর্থনীতি ভ্রমণ

অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলবে ১ জুন থেকে

ভয়েস রিপোর্ট: ১ জুন থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল করবে । ইতিমধ্যে ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়া হয়েছে । ফ্লাইট চলাচলের ঘোষণা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এবং নভোএয়ার ।
অভ্যন্তরীণ রুটে আগামী ১ জুন থেকই উড়বে ফ্লাইট বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ঘোষণার পরপরই টিকিট বিক্রির ঘোষণা দেয় এই তিন এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান।

অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদেরও মানতে হবে বেশ কিছু স্বাস্থ্য বিধি । থাকছে নানান নতুন নিয়ম । কেবিন ক্রুসহ বিমান সার্ভিসের সবাই পড়বে পিপিই ।
যাত্রীদের মাস্ক, হ্যান্ড গ্লভস পড়তে হবে বাধ্যতামুলক । এ ছাড়া থাকবে আরো কিছু বিধি নিষেধ ।

আগামী ১ জুন থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা, ঢাকা-সিলেট-ঢাকা, ঢাকা-সৈয়দপুর-ঢাকা, রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইনসের ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে।

১ জুন থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে নিজেদের ফ্লাইটের জন্য টিকিট বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে নভোএয়ার।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জিএম-পিআর) মো. কামরুল ইসলাম জানান, ১ তারিখ থেকে বেবিচকের নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকল যাত্রীদের মাস্ক, হ্যান্ড গ্লভস-সহ পাইলট, কেবিন ক্রুদের পারসোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) পরিধান করা, প্রত্যেকটি ফ্লাইটের পূর্বে এয়ারক্রাফটকে জীবাণুমুক্ত করণ প্রক্রিয়াসহ সকল স্বাস্থবিধি মেনেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

৩১ মে থেকে মার্কেট খোলার সিদ্ধান্ত মালিক সমিতির

ভয়েস রিপোর্ট: ৩১ মে থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের মার্কেট, বিপণি বিতান ও দোকানপাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও মানুষের জীবিকার তাগিদে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও মহাসচিব জহিরুল হক ভূঁইয়া এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অবহিত করা হয়েছে, ৩০ মের পর থেকে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি আর বাড়ানো হবে না। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকাসহ সারা দেশে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সীমিত পরিসরে দোকানপাট খোলা যাবে।

 

Categories
অর্থনীতি সারাদেশ

ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়িয়েছে এনবিআর

ভয়েস রিপোর্ট: করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে জরিমানা ও সুদ আরোপ ছাড়া মার্চ-এপ্রিল ২০২০ সালের কর মেয়াদের ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৯ জুন পর্যন্ত এনবিআর।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে ।

(কোভিড-১৯)ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সরকার আগামী ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মার্চ-এপ্রিল, ২০২০ কর মেয়াদের রিটার্ন দাখিল করতে পারেননি। মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এর ধারা ৬৪ এর উপধারা ১ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা ২০১৬ এর বিধি ৪৭ এর উপ বিধি ১ অনুযায়ী প্রত্যেক নিবন্ধিত ব্যক্তিকে ফরম মূসক ৯.১ এর মাধ্যমে প্রত্যেক কর মেয়াদের জন্য মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে মূল্য সংযোজন কর দাখিলপত্র দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এছাড়া মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখের মধ্যে কর দাখিলপত্র না করার ব্যর্থতা বা অনিয়মের ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ধারা ১২৭ অনুযায়ী কোনো করদাতা নির্ধারিত তারিখের মধ্যে কমিশনারের কাছে প্রদেয় কর পরিশোধে ব্যর্থ হলে নির্ধারিত তারিখের পরবর্তী দিন থেকে পরিশোধের দিন পর্যন্ত প্রদেয় করের পরিমাণের উপর মাসিক ২ শতাংশ সরল হারে সুদ পরিশোধ করতে হয়।

জনস্বার্থে এনবিআর অধ্যাদেশ নম্বর ০২, ২০২০ মারফত জারি করা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বৈশ্বক এ আপদকালীন সময়ে যে সব প্রতিষ্ঠান শুধু মার্চ-এপ্রিল ২০২০ কর মেয়াদের দাখিলপত্র যথাসময়ে পেশ করেনি সে সব প্রতিষ্ঠানের দাখিলপত্র পেশের সময়সীমা ৯ জুন ২০২০ পর্যন্ত বর্ধিত করলো এনবিআর।

Categories
অর্থনীতি

ছয়দিন পর ব্যাংক খোলা আজ

ভয়েস রিপোর্ট: টানা ছয়দিন বন্ধ থাকার পর আজ বুধবার থেকে ব্যাংক খোলা। তবে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলমান থাকায় সীমিত আকারে হবে লেনদেন।

সকাল ১০টা থেকে বেলা ২ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গ্রাহক লেনদেন করতে পারবেন। আর লেনদেন পরবর্তী ব্যাংকের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য শাখা ও প্রধান কার্যালয় বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

এর আগে শবে কদর, সপ্তাহিক ও ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ ছিল।

এদিকে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় দেশে গত ২৬ মার্চ থেকে টানা ৬৭ দিনের ছুটি চলছে। আগামী ৩০ মে শেষ হচ্ছে এ ছুটি। টানা ছুটির কারণে ইতিমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমেছে। কর্মহীন হয়ে বিপাকে পড়েছেন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।