Categories
অর্থনীতি সারাদেশ

করোনা মহামারী: ঈদে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা

ভয়েস রিপোর্ট: করোনা মহামারীতে চলতি মাসে দেশে ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার পাঠিয়েছে প্রবাসীরা । বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্থানীয় মুদ্রায় ১ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৯ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)। আগের বছরের মে মাসে টাকার অঙ্কে রেমিট্যান্স পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। যদিও আগে বছরের কোন ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছিল না। যার ফলে গত অর্থবছরে মে মাসে ঈদের আগে ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রবাসী থাকা বেশিরভাগ দেশে লকডাউন অবস্থা চলছে। এর ফলে প্রবাসী অনেকের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, আবার অনেকে দেশে ফিরে এসেছেন। এই দুর্যোগের মধ্যেও ঈদ উপলক্ষে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই ভালো নেই প্রবাসীরা । অনেকে চাকরি হারিয়ে বেকার আবার কেউ চাকরি থেকেও ঘরবন্দী আবার বহু প্রবাসীর ব্যবসা বানিজ্যও বন্ধ থাকায় অনেকটা মানবেতর জীবন যাপক করছেন। যারা ছোট ব্যবসা করেন তাদেরও আয় কোন নেই। ফলে প্রতি মাসেই স্বজনদের কাছে অর্থ কম পাঠাচ্ছেন। প্রতিবছর ঈদের সময় রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠান প্রবাসীরা। তবে দুর্যোগের কারণে রেকর্ড পরিমাণ না বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে।

চলতি মে মাসের ১৯ দিনে দেশে ১০৯ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ১০৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আসে, সেসব দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে রেমিট্যান্স হাউস ও ব্যাংকগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশি শ্রমিকেরাও পড়েছেন বিপদের মুখে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের থাকা শ্রমিকেরা। দেশের প্রবাসী আয় আহরণের শীর্ষ ১৫টি উৎস দেশ হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও জর্ডান। সম্প্রতি কিছু দেশে কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে।

ব্যাংকিং চ্যানেল বা বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়াতে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। সে অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ২ টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন। বাজেটে এ জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। এতে প্রবাসী আয় আসা বেড়ে গিয়েছিল।

এদিকে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) বাজেট সহায়তা হিসেবে ২৫ কোটি ডলার বাংলাদেশকে দিয়েছে। প্রবাসী আয় ও বাজেট সহায়তার টাকা আসায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৩১৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এশিয়ার ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধের রিজার্ভ ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে নেমে আসে। তবে আমদানি দায় শোধ করতে অনেক ব্যাংকে এখনো ডলারের সংকট রয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক গতকালও ১ কোটি ডলার বিক্রি করেছে। এতে চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ৮২ কোটি ডলার বিক্রি করেছে। এই ডলারের বেশির ভাগ কিনছে সরকারি ব্যাংকগুলো। সরকারি বড় বড় প্রকল্পের আমদানি বিল পরিশোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে তারা ডলার কিনছে বলে জানা গেছে।

Categories
অর্থনীতি রাজনীতি

১ কোটি ২২ লাখ মানুষকে ত্রাণ দিয়েছে সরকার

ভয়েস রিপোর্ট: করোনা দুর্যোগে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারের নিরন্তর প্রচেস্টা অব্যাহত আছে । গত বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে প্রায় সোয়া এক কোটি পরিবারের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। সরকার এই ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে । বাড়বে নগদ অর্থ,ত্রান এবং খাদ্য সহায়তার পরিমান ।

বৃহস্পতিবার এক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, ৬৪ জেলা প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৪৬৭ মেট্রিক টন চাল এবং বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন।
এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ১ কোটি ২২ লাখ ৪২ হাজার এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা ৫ কোটি ৪১ লাখ ৭০ হাজার।

নগদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৯৭ কোটির বেশি টাকা। বিতরণ করা হয়েছে ৬৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা ৭৩ লাখ ১৫ হাজার ১০ এবং উপকারভোগী লোকসংখ্যা ৩ কোটি ৪২ লাখ ৬৬ হাজার।

শিশু খাদ্য সহায়ক হিসেবে বরাদ্দ ২০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ১৯ হাজার ৩৬ টাকা। এতে উপকারভোগী পরিবার সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ১৩ হাজার ৪৮৫ এবং লোক সংখ্যা ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯৮।

Categories
অর্থনীতি

নির্ধারিত সময়ের পরেও ভ্যাট ও আয়কর দেয়া যাবে

ভয়েস রিপোর্ট: মহামারীসহ দৈব দুর্বিপাকের কারণে আয়কর, ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ও সম্পূরক শুল্ক আদায়ের সময়সীমা বৃদ্ধির বিধান করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দুর্যোগকালে কোনও ধরণের জরিমানা ছাড়াই কর প্রদানের এই সময় বাড়াতে পারবে।
বুধবার রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এ সংক্রান্ত দুটি আইনের সংশোধনী অধ্যাদেশ আকারে জারি করেছেন। রাষ্ট্রপতির জারিকৃত অধ্যাদেশ’ দুটি হলো: মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২০ এবং ইনকাম ট্যাক্স(আমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স ২০২০। সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নরেন দাসের সই করা অধ্যাদেশ দুটি বুধবারই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
বিদ্যমান মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক আইন ২০১২ এর সংশোধনীতে বলা হয়, এই আইনের অন্যান্য বিভিন্ন যাহা কিছুই থাকুক না কেন প্রাকৃতিক, দুর্যোগ, মহামারী, দৈব দুর্বিপাক এবং যুদ্ধের কারণে জনস্বার্থে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, আদেশ দ্বারা, উক্তরূপ আপদকালীন সময়ের জন্য সুদ ও জরিমানা আদায় হইতে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক দাখিলপত্র পেশের সময়সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়, এটি ১ এপ্রিল ২০২০ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। নতুন ধারাটি বিদ্যমান ভ্যাট আইনের ৬৪ নং ধারার উপধারা (১) পর উপধারা (১ক) ও (১খ) আকারে সন্নিবেশ হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এদিকে ইনকাম ট্যাক্স (আমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স ১৯৮৪ সংশোধন করে রাষ্টপতির জারিকৃত ‘ইনকাম ট্যাক্স (আমেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স ২০২০’ এ একই ধরনের সংশোধনী আনা হয়েছে। এখানেও মহামারী ও দৈব দুর্বিপাকসহ একই ধরনের কারণে কোনও ধরনের জরিমানা ছাড়াই বর্ধিত সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার বিধান যুক্ত হয়েছে।
আয়কর অধ্যাদেশের এই সংশোধনীটি ২৫ মার্চ ২০২০ হতে কার্যকর বলে গণ্য হবে।

Categories
অর্থনীতি সারাদেশ

ঈদেও খোলা দেশের সব কাস্টমস হাউস

ভয়েস রিপোর্ট: করোনার সাধারন ছুটি ও ঈদুল ফিতরের বন্ধেও আমদানি-রফতানি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে দেশের সব কাস্টমস হাউস ও স্টেশন খোলা থাকছে । দেশের সকল কাস্টম হাইজ ও স্টেশন এর দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মঙ্গলবার (১৯ মে) এনবিআরের কাস্টমস ও নীতি বিভাগের দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ মেহেরাজ-উল- আলম সম্রাট স্বাক্ষরিত চিঠিতে ফের এই নির্দেশনা দেওয়া হলো।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ২১ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটিকালীন রফতানি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে দেশের কাস্টম হাউস ও স্টেশনগুলোতে আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখতে হবে । এ জন্য স্ব স্ব কাস্টমস হাউস ও স্টেশন প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে ।

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

শিল্প এলাকায় শুক্র-শনিবার ব্যাংক খোলা

ভয়েস রিপোর্ট: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মীদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের জন্য পোশাক শিল্পঘন এলাকায় আগামী শুক্রবার ও শনিবার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা রাখতে হবে।
মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে বলা হয়েছে, আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের আগে তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে এবং রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখার স্বার্থে অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে রপ্তানি বিল কেনার মাধ্যমে নগদ অর্থ প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবস্থিত পোশাক শিল্প এলাকার সংশ্লিষ্ট শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আগামী শুক্রবার ও শনিবার খোলা রাখাতে হবে।
ব্যাংক খোলা রাখার একটি সময়সূচী ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আগামী ২২ মে শুক্রবার ব্যাংকিং লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত হবে। লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
আর ২৩ মে শনিবার ব্যাংকিং লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হবে। এর মধ্যে বেলা ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। আর লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

Categories
অর্থনীতি সারাদেশ

সংসদের বাজেট অধিবেশন বসছে ১০ জুন

ভয়েজ রিপোর্ট: জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন ১০ জুন বিকাল ৫টায় বসছে। অর্থাৎ করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে আগামী ১০ জুন বসছে সংসদের অষ্টম অধিবেশন। এই অধিবেশনে ১১ জুন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করবেন অর্থমন্ত্রী।

সোমবার (১৮ মে) রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এ বাজেট অধিবেশন আহ্বান করেন। তবে অধিবেশন কতদিন চলবে তা সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। অধিবেশন শুরুর দিন সংসদ ভবনে এ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বাজেট অধিবেশনে সাধারণ দীর্ঘ হয়। অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রস্তাবের পর তা নিয়ে পুরো অধিবেশন জুড়ে আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। গত বছর বাজেট অধিবেশন ২১ কার্যদিবসের ছিল।

তবে মহামারীর এই সময়ে তাতে পরিবর্তন আসতে পারে।

বাজেট অধিবেশনের ব্যাপারে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে এরইমধ্যে জানিয়েছেন প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী।

গত ১৮ এপ্রিল ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম অধিবেশনে বসে জাতীয় সংসদ। সেটি ছিল একাদশ সংসদের সপ্তম অধিবেশন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সংক্ষিপ্ত করা হয় বাজেট অধিবেশন ।

Categories
অর্থনীতি

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু

ভয়েস রিপোর্ট: বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হলো কয়লাভিত্তিক পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে। এর মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম বড় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করলো। এতে জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে আরো ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, উৎপাদনে যাওয়ার আগে সফলভাবে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল)-এর প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, করোনাভাইরাসের মধ্যে এটি অনেক বড় একটি সুখবর। তিনি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিসিপিসিএল-এর কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শেষ করতে পেরেছি। এতেই প্রমাণিত হয় উন্নয়নের গতিধারা থেমে নেই।
সরকার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এবং চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি পোর্ট অ্যান্ড ইম্পোর্ট কোম্পানি- সিএমসি যৌথ মালিকানায় পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার পায়রাতে দু’টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৬৬০ মেগাওয়াট করে উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। যার একটি উৎপাদন শুরু করলো। সব মিলিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে।
আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হয়েছে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে।

Categories
অর্থনীতি সারাদেশ

প্রবাসী ও গ্রামের কর্মহীনদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ

ভয়েস রিপোর্ট: করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে সরকারের ১৮তম প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষিত হচ্ছে ।
মহামারী করোনা সংকটের কারণে নতুন এই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রবাসী, কর্মহীন ও গ্রামের দরিদ্র মানুষকে ঋণ সহায়তা জোগাতে এই প্রণোদনা প্যাকেজ ।
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক এবং পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনকে ৫০০ কোটি করে মোট দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল দেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজ এ । প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে ।

করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে এটি হতে যাচ্ছে সরকারের ঘোষিত ১৮তম প্রণোদনা প্যাকেজ। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে মোট এক লাখ এক হাজার ১১৭ কোটি টাকার ১৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হলো, যা দেশের মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

Categories
অর্থনীতি জাতীয় ভ্রমণ সারাদেশ

বিমানের অব্যবহৃত টিকিটে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণ করা যাবে

ভয়েস ডেস্ক: কোভিড-১৯ রোগের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অব্যবহৃত টিকিটে ২০২১ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত ভ্রমণ করা যাবে। তবে কেউ যদি ভ্রমণ না করতে চান, তাহলে টিকিট টাকা ফেরত নিতে পারবেন।
বুধবার বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন এ কথা জানান। তিনি বলেন, যাত্রীরা ২০২১ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত কোনো প্রকার চার্জ ছাড়া ভ্রমণ করতে পারবেন অথবা এ সময়ের মধ্যে মূল্য ফেরত নিতে পারবেন।
করোনাভাইরাসের কারণে জানুয়ারি থেকে যাত্রী কমতে থাকে বিমানের। ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লাইট সংখ্যাও কমে যায়। এর পর মার্চ মাসে বিভিন্ন আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় বিমান। ২৯ মার্চ লন্ডন ও ম্যানচেস্টারের ফ্লাইট পরিচালনার পর আর ডানা মেলেনি বিমান। গত এপ্রিল থেকে বেশ কিছু চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাটি।

Categories
অর্থনীতি

লকডাউনে দুই মাসে ক্ষতি হবে ২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা

আনজাম খালেক: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় গত ২৬ মার্চ থেকে পুরোদেশ লকডাউনে। ফলে সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ থাকায় ভেঙে পড়েছে বাজার ব্যবস্থা। পাশাপাশি বড়, মাঝারি, ছোট সব ধরনের শিল্পখাত বিপর্যস্ত। লকডাউন যদি পুরো মে মাস জুড়ে অব্যাহত থাকে তাহলে মাস শেষে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে কমপক্ষে দুই লাখ ১৭ হাজার ৮ শো কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের মোট উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ। আর দিনে এই ক্ষতির পরিমাণ তিন হাজার ৩ শো কোটি টাকা। গত এক মাসে আর্থিক ক্ষতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবে কৃষি খাতে উৎপাদন বন্ধ না হলেও ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাত নিয়ে কৃষকরা বেকায়দায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিসহ ব্যবসা বাণিজ্যে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে যতো দেরি হবে, আমাদের বাণিজ্য আগের অবস্থানে ফিরতেও ততো দেরি হবে। করোনার কারণে সব ধরনের কল-কারখানাসহ বাইরের সব কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই ছুটি বহাল থাকবে। প্রায় দুই মাসে বাংলাদেশ কি পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রাথমিকভাবে তার একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের একটি গবেষক দল।
তাদের হিসাবে, লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে প্রতিদিনের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এরই মধ্যে দেশের অন্তত ১৪টি খাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের কারণে রমজান কেন্দ্রিক ব্যবসায়িক আয়োজন নিষ্প্রভ। রমজানে বিক্রির লক্ষ্যে পণ্য মজুদ করলেও লোকসানের শঙ্কায় আছেন দোকান মালিকরা।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ২০১৮-২০১৯ সালের জিডিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি বা চলতি ক্ষতির পরিমাণ কত হবে তা হিসাব করার একটা প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থাকে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতি কিছুটা উৎসব কেন্দ্রিক। যেমন- পহেলা বৈশাখ, রোজা, ঈদ ও বৌদ্ধপূর্ণিমা এ উৎসবগুলো সার্বজনীন। এ বছর এগুলো কিছু করতে পারেনি। ফলে ক্ষতি হবে কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ আরও বড়। এই ক্ষতির পরিমাণ লকডাউন অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে পারে, যা প্রতিবেদনে এই মুহূর্তের হিসাব করা সম্ভব হয়নি।
আবদুল হামিদ বলেন, কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে গড়ে মোট অনুমিত চলতি ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে তিন হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৩১ দিনের অবরুদ্ধ অবস্থায়। এতে অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে কমপক্ষে এক লাখ দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা। যেহেতু পুরো এপ্রিল মাসকে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা হিসেবে আশঙ্কা করা হচ্ছে তাই ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন অব্যাহত থাকলে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
লকডাউন অবস্থা পুরো মে মাস এমনকি জুন মাসেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যদি তাই হয় তাহলে মে মাস শেষে অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে দুই লাখ ১৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের মোট দেশীয় উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ।
লকডাউনের অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিতের পাশাপাশি নতুন নতুন উপায় খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ। তার মতে, এই অবরুদ্ধ দশা দীর্ঘস্থায়ী হলে বেশিরভাগ ছোট-খাটো ব্যবসা এবং ছোট পরিসরের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সহজে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। ফলে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ও ফরওয়ার্ড লিঙ্কেজ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের রেমিটেন্সের বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটায় প্রবাসী আয়েও ধস নেমেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের এ অধ্যাপক বলেন, এই হিসাবটি একদিকে যেমন সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ যথেষ্ট কি না তা নিরূপণ করতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে প্রণোদনা প্যাকেজের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়ার তাগিদও অনুভূত হবে। তবে ক্ষতি প্রশমনে বাংলাদেশকে এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবতে হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায় সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে আমদানি-রপ্তানি কমে যাচ্ছে। প্রবাসী আয়েও ধস নামছে। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমও স্থবির। অর্থাৎ অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে এটি বলা যায়। তবে দুর্ভিক্ষের মতো অবস্থার সৃষ্টি যেন না হয় সেদিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে। কিন্তু কি পরিমাণ ক্ষতি হবে সেটা এই মুহুর্তে বলা সম্ভব না। ক্ষতি কাটাতে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। সেটি যথেষ্ট নয়। তবে প্যাকেজগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, করোনায় ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে বলার সময় এখনও আসেনি। কারণ এই লকডাউন কতোদিন থাকে আমরা জানিনা। আর আমাদের পুঁজি নেই। তাহলে আমরা কিভাবে এই ক্ষতির হিসাব করবো। প্রায় দেড় মাস ধরে সবধরনের দোকান পাট বন্ধ। তারপরও আমরা একটা হিসাব করেছি৷ তবে এটা চুড়ান্ত নয়। সেক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লাভের ক্ষতি যদি ধরা হয় তারা গড়ে ২০ হাজার টাকা করে বিক্রি করলে আমাদের ৫৬ লাখ ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন ১১০০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। যদি গত মার্চ মাসের ২৬ তারিখ থেকে মে মাসের ০৯ তারিখ পর্যন্ত ধরা হয় তাহলে মোট ৪৫ দিন হয়৷ সে হিসেবে আমাদের ধারণা মতে ক্ষতি দাঁড়াবে ৪৯ হাজার ৫ শো কোটি টাকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সম্প্রতি ‘অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, পুরো মে মাস লকডাউন থাকলে ক্ষতির পরিমাণ দুই লাখ কোটি টাকা (গত অর্থবছরের জিডিপির প্রায় ৯ শতাংশ) ছাড়িয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির তিনটি বড় খাত- কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত ধরে ক্ষতির অনুমিত হিসাব দেওয়া হয়েছে সমীক্ষা প্রতিবেদনে। হিসাবে লকডাউনের কারণে প্রতিদিন কৃষিতে ক্ষতি হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষির প্রধান উপখাতগুলো হল শস্য উৎপাদন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য সম্পদ। স্বল্পমেয়াদে এসব উপখাতে উৎপাদন না কমলেও দেশি-বিদেশি অর্থনীতি অবরুদ্ধ থাকায় এসব উপখাতের উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্যের ওপর নিম্নমুখী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে অর্থনীতিতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। আর শিল্প খাতে দিনে ক্ষতি হচ্ছে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে ক্ষতির মাত্রা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ খাতে প্রতিদিনের অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। সেবা খাতে দিনে ২০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে বৈশ্বিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক বলছে, করোনার সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার সরকারি প্রাক্কলনের অর্ধেকেরও বেশি কমে ২-৩ শতাংশের মধ্যে নেমে যেতে পারে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশের ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এ অর্থবছর তা ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। জিডিপির আকার ছিল ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে ৩ শতাংশ জিডিপি কমলে অর্থবছর শেষে জিডিপি এক লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা কম হবে। জিডিপি আরও বেশি কমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
বিজিএমইএ দেওয়া তথ্যমতে, গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ৩২০ কোটি ডলার বা ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে শুধু পোশাক খাতেই ক্ষতি হবে ৪২-৪৫ হাজার কোটি টাকা। তবে সংক্রমণ তীব্র হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। অধিকাংশ কারখানা বন্ধ। শ্রমিকরা চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়বে কি না সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে শ্রমিকদের বেতন দিতে। এখন রপ্তানিমুখী শিল্পের ৪০ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে কারখানা সচল হওয়ার ওপর।
করোনার কারণে লকডাউনে সড়ক নৌপথে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বন্ধ। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, সড়কপথে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকার মতো। এ হিসাবে গত প্রায় এক মাসে ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপবিল্ডার্স ইন্ডাস্ট্রিজের দাবি, নৌখাতে ক্ষতি হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এ শিল্পের সঙ্গে ২ লক্ষাধিক লোক জড়িত।
বিশ্বব্যাপী যোগাযোগহীনতায় পর্যটনশিল্প ভয়াবহ হুমকির মুখে। পর্যটন ব্যবসা একেবারেই বন্ধ। বৈশ্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশে এ খাতে তেমন অবস্থান নেই। কিন্তু নির্ভরশীল অনেক খাত ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) সভাপতি রাফেউজ্জামান জানান, পর্যটন শিল্পে প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি এ খাতের অন্তত ৪০ লাখ পেশাজীবী এখন বেকার। অচল অবস্থার কারণে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিমান সংস্থা, পর্যটক পরিবহন ও গাইডিং সংশ্লিষ্টরা।
করোনার আঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে বিভিন্ন সময়ে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাস্তবায়ন করবে। বড় শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মূলধনের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) বেড়েছে ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, রপ্তানিমুখী শিল্পের বেতন দিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানিতে আগের সময়ে সহায়তা দিতে প্রিশিপমেন্ট তহবিল পাঁচ হাজার কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্যাকেজ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন শর্ত এবং প্রদত্ত সুবিধার পরিমাণ, আওতা ও মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন।