Categories
অর্থনীতি

লকডাউনে দুই মাসে ক্ষতি হবে ২ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকা

আনজাম খালেক: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় গত ২৬ মার্চ থেকে পুরোদেশ লকডাউনে। ফলে সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ থাকায় ভেঙে পড়েছে বাজার ব্যবস্থা। পাশাপাশি বড়, মাঝারি, ছোট সব ধরনের শিল্পখাত বিপর্যস্ত। লকডাউন যদি পুরো মে মাস জুড়ে অব্যাহত থাকে তাহলে মাস শেষে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে কমপক্ষে দুই লাখ ১৭ হাজার ৮ শো কোটি টাকা। যা গত অর্থবছরের মোট উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ। আর দিনে এই ক্ষতির পরিমাণ তিন হাজার ৩ শো কোটি টাকা। গত এক মাসে আর্থিক ক্ষতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবে কৃষি খাতে উৎপাদন বন্ধ না হলেও ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাত নিয়ে কৃষকরা বেকায়দায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অর্থনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিসহ ব্যবসা বাণিজ্যে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে যতো দেরি হবে, আমাদের বাণিজ্য আগের অবস্থানে ফিরতেও ততো দেরি হবে। করোনার কারণে সব ধরনের কল-কারখানাসহ বাইরের সব কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত এই ছুটি বহাল থাকবে। প্রায় দুই মাসে বাংলাদেশ কি পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রাথমিকভাবে তার একটি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের একটি গবেষক দল।
তাদের হিসাবে, লকডাউন দীর্ঘায়িত হলে প্রতিদিনের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। এরই মধ্যে দেশের অন্তত ১৪টি খাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের কারণে রমজান কেন্দ্রিক ব্যবসায়িক আয়োজন নিষ্প্রভ। রমজানে বিক্রির লক্ষ্যে পণ্য মজুদ করলেও লোকসানের শঙ্কায় আছেন দোকান মালিকরা।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, ২০১৮-২০১৯ সালের জিডিপির ভিত্তিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি বা চলতি ক্ষতির পরিমাণ কত হবে তা হিসাব করার একটা প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট থাকে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতি কিছুটা উৎসব কেন্দ্রিক। যেমন- পহেলা বৈশাখ, রোজা, ঈদ ও বৌদ্ধপূর্ণিমা এ উৎসবগুলো সার্বজনীন। এ বছর এগুলো কিছু করতে পারেনি। ফলে ক্ষতি হবে কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ আরও বড়। এই ক্ষতির পরিমাণ লকডাউন অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে পারে, যা প্রতিবেদনে এই মুহূর্তের হিসাব করা সম্ভব হয়নি।
আবদুল হামিদ বলেন, কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে গড়ে মোট অনুমিত চলতি ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে তিন হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ৩১ দিনের অবরুদ্ধ অবস্থায়। এতে অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে কমপক্ষে এক লাখ দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা। যেহেতু পুরো এপ্রিল মাসকে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা হিসেবে আশঙ্কা করা হচ্ছে তাই ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন অব্যাহত থাকলে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
লকডাউন অবস্থা পুরো মে মাস এমনকি জুন মাসেও অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যদি তাই হয় তাহলে মে মাস শেষে অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে দুই লাখ ১৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের মোট দেশীয় উৎপাদনের প্রায় ৯ শতাংশ।
লকডাউনের অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিতের পাশাপাশি নতুন নতুন উপায় খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ। তার মতে, এই অবরুদ্ধ দশা দীর্ঘস্থায়ী হলে বেশিরভাগ ছোট-খাটো ব্যবসা এবং ছোট পরিসরের উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সহজে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। ফলে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ ও ফরওয়ার্ড লিঙ্কেজ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের রেমিটেন্সের বড় উৎস মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটায় প্রবাসী আয়েও ধস নেমেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের এ অধ্যাপক বলেন, এই হিসাবটি একদিকে যেমন সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ যথেষ্ট কি না তা নিরূপণ করতে সাহায্য করবে, অন্যদিকে প্রণোদনা প্যাকেজের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়ার তাগিদও অনুভূত হবে। তবে ক্ষতি প্রশমনে বাংলাদেশকে এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবতে হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায় সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে আমদানি-রপ্তানি কমে যাচ্ছে। প্রবাসী আয়েও ধস নামছে। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমও স্থবির। অর্থাৎ অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে এটি বলা যায়। তবে দুর্ভিক্ষের মতো অবস্থার সৃষ্টি যেন না হয় সেদিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে। কিন্তু কি পরিমাণ ক্ষতি হবে সেটা এই মুহুর্তে বলা সম্ভব না। ক্ষতি কাটাতে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। সেটি যথেষ্ট নয়। তবে প্যাকেজগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, করোনায় ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে বলার সময় এখনও আসেনি। কারণ এই লকডাউন কতোদিন থাকে আমরা জানিনা। আর আমাদের পুঁজি নেই। তাহলে আমরা কিভাবে এই ক্ষতির হিসাব করবো। প্রায় দেড় মাস ধরে সবধরনের দোকান পাট বন্ধ। তারপরও আমরা একটা হিসাব করেছি৷ তবে এটা চুড়ান্ত নয়। সেক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের লাভের ক্ষতি যদি ধরা হয় তারা গড়ে ২০ হাজার টাকা করে বিক্রি করলে আমাদের ৫৬ লাখ ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন ১১০০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হচ্ছে। যদি গত মার্চ মাসের ২৬ তারিখ থেকে মে মাসের ০৯ তারিখ পর্যন্ত ধরা হয় তাহলে মোট ৪৫ দিন হয়৷ সে হিসেবে আমাদের ধারণা মতে ক্ষতি দাঁড়াবে ৪৯ হাজার ৫ শো কোটি টাকা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সম্প্রতি ‘অর্থনীতিতে করোনার প্রভাব’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, পুরো মে মাস লকডাউন থাকলে ক্ষতির পরিমাণ দুই লাখ কোটি টাকা (গত অর্থবছরের জিডিপির প্রায় ৯ শতাংশ) ছাড়িয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির তিনটি বড় খাত- কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত ধরে ক্ষতির অনুমিত হিসাব দেওয়া হয়েছে সমীক্ষা প্রতিবেদনে। হিসাবে লকডাউনের কারণে প্রতিদিন কৃষিতে ক্ষতি হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষির প্রধান উপখাতগুলো হল শস্য উৎপাদন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য সম্পদ। স্বল্পমেয়াদে এসব উপখাতে উৎপাদন না কমলেও দেশি-বিদেশি অর্থনীতি অবরুদ্ধ থাকায় এসব উপখাতের উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্যের ওপর নিম্নমুখী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে অর্থনীতিতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। আর শিল্প খাতে দিনে ক্ষতি হচ্ছে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে ক্ষতির মাত্রা প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ খাতে প্রতিদিনের অনুমিত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা। সেবা খাতে দিনে ২০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
এদিকে বৈশ্বিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক বলছে, করোনার সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার সরকারি প্রাক্কলনের অর্ধেকেরও বেশি কমে ২-৩ শতাংশের মধ্যে নেমে যেতে পারে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশের ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। এ অর্থবছর তা ৮ দশমিক ২ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। জিডিপির আকার ছিল ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে ৩ শতাংশ জিডিপি কমলে অর্থবছর শেষে জিডিপি এক লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা কম হবে। জিডিপি আরও বেশি কমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
বিজিএমইএ দেওয়া তথ্যমতে, গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ৩২০ কোটি ডলার বা ২৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে শুধু পোশাক খাতেই ক্ষতি হবে ৪২-৪৫ হাজার কোটি টাকা। তবে সংক্রমণ তীব্র হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। অধিকাংশ কারখানা বন্ধ। শ্রমিকরা চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়বে কি না সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে শ্রমিকদের বেতন দিতে। এখন রপ্তানিমুখী শিল্পের ৪০ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে কারখানা সচল হওয়ার ওপর।
করোনার কারণে লকডাউনে সড়ক নৌপথে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বন্ধ। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, সড়কপথে প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকার মতো। এ হিসাবে গত প্রায় এক মাসে ১৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন অব এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড শিপবিল্ডার্স ইন্ডাস্ট্রিজের দাবি, নৌখাতে ক্ষতি হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এ শিল্পের সঙ্গে ২ লক্ষাধিক লোক জড়িত।
বিশ্বব্যাপী যোগাযোগহীনতায় পর্যটনশিল্প ভয়াবহ হুমকির মুখে। পর্যটন ব্যবসা একেবারেই বন্ধ। বৈশ্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশে এ খাতে তেমন অবস্থান নেই। কিন্তু নির্ভরশীল অনেক খাত ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) সভাপতি রাফেউজ্জামান জানান, পর্যটন শিল্পে প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি এ খাতের অন্তত ৪০ লাখ পেশাজীবী এখন বেকার। অচল অবস্থার কারণে জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিমান সংস্থা, পর্যটক পরিবহন ও গাইডিং সংশ্লিষ্টরা।
করোনার আঘাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে বিভিন্ন সময়ে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাস্তবায়ন করবে। বড় শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মূলধনের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) বেড়েছে ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, রপ্তানিমুখী শিল্পের বেতন দিতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানিতে আগের সময়ে সহায়তা দিতে প্রিশিপমেন্ট তহবিল পাঁচ হাজার কোটি টাকা, কৃষি খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা এবং নিম্নআয়ের মানুষের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্যাকেজ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন শর্ত এবং প্রদত্ত সুবিধার পরিমাণ, আওতা ও মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন।

Categories
অর্থনীতি

সঠিক সময়ে বাজেট উত্থাপন হচ্ছে

ভয়েজ ডেস্ক : আগামী বা ২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য বাজেট আসছে ১১ জুন । সঠিক সময়ে বাজেট উত্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়। নতুন অর্থবছরের আয় ব্যয়ের সরকারি হিসাব বিবরণী বা অর্থবছরের বাজেট আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদের উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তবে করোনাকালীন এবারের বাজেটের আকার কত হতে পারে সে সম্পর্কে এখনো ধারণা পাওয়া যায়নি। তবে একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় এবাবেরর বাজের হতে পারে করোনায় অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা নিয়ে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা । বিলাশ এই বাজেট প্রণয়নে কাজ চলছে বলেও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে সংসদে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হবে। প্রতিবছরই বাজেট পেশ করার পূর্বে মন্ত্রিসভার অনুমোদন গ্রহণের সুবিধার্থে জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজন করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির সুপারিশ গ্রহণের সুবিধার্থে সংসদ ভবনে তার উপস্থিতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এবারও তাই হতে যাচ্ছে।

আগামী ১১ জুন বিকেলে অর্থমন্ত্রী নতুন অর্থ বছরের বাজেট উত্থাপন করবেন। এর আগে বিকেল ৩ টায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেটের অনুমোদন দেওয়া হবে।
করোনার কারণে বাজের প্রনয়নসহ নানা কাজেই কিছুটা ব্যাঘাত ঘটলেও সাধারণ ছুটি উপেক্ষা করে বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা বাজেট প্রণয়নের কাজ করে যাচ্ছেন।

জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপনের বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংসদ সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১১ জুন বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করবেন। একই সঙ্গে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট সংসদে উত্থাপন করবেন। এর আগে সংসদে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হবে।

এদিকে গতকাল রোববার (৩ মে) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে, আগামী বাজেটকে আরও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে ওয়েবসাইটের মাধ্যম সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে মতামত গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের আগে স্টেকহোল্ডাররা এখানে মতামত প্রদান করতে পারবেন।

অর্থ বিভাগের ওয়েরসাইটে গিয়ে জাতীয় বাজেট ২০২০-২১ প্রণয়নে মতামত/পরামর্শ (Opinion/Suggestion for Budget 2020-21 Preparation) এই অপশনে ক্লিক করেই যে কেউ তার মতামত প্রদান করতে পারবেন।
দেশে বা বিদেশে থেকেও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাজেট প্রণয়নের ফরম পূরণ করে মতামত ও সুপারিশ দেয়া যাবে। প্রাপ্ত সব মতামত ও সুপারিশ বিবেচনা করা হবে।

Categories
অর্থনীতি

সব ধরনের ঋণের সুদ আদায় বন্ধ ২ মাস

ভয়েজ ডেস্ক : করোনাভাইরাসের ছোবলে থমকে গেছে দেশের অর্থনীতি। এ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ব্যবসায়ীসহ সব ধরনের মানুষের জন্য প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবে সব ধরনের ঋণ বিনিয়োগের উপর আরোপিত-আরোপযোগ্য সুদ-মুনাফা দু’মাসের জন্য ব্লক হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সুদ আদায় করা যাবে না বলে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন রবিবার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

রোববার (৩ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যাংকের সব ধরনের ঋণ/বিনিয়োগের ওপর চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে আরোপিত/আরোপযোগ্য সুদ/মুনাফা ‘সুদবিহীন ব্লকড হিসাবে’ স্থানান্তর করতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ব্লকড হিসাবে স্থানান্তরিত সুদ/মুনাফা সংশ্লিষ্ট ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহিতার কাছ থেকে আদায় করা যাবে না।

‘এরূপ সুদ/মুনাফা ব্যাংকের আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। কোনো ব্যাংক ইতোমধ্যে সুদ/মুনাফা আয় খাতে স্থানান্তর করে থাকলে তা রিভার্স এন্ট্রির মাধ্যমে সমন্বয় করতে হবে। ব্লকড হিসাবে রক্ষিত/রক্ষিতব্য উপরোক্ত সুদ/মুনাফা সমন্বয়ের বিষয়ে পরবর্তীসময়ে অবহিত করা হবে।’

নভেল করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিতকরণ ও গতিশীল রাখার লক্ষ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ/বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

Categories
অর্থনীতি চিকিৎসা

গণস্বাস্থ্যের করোনা কিট: শংঙ্কা এবং আশার আলো

ভয়েজ ডেস্ক : গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট নিয়ে একদিকে দেখা দিয়েছে শংঙ্কা অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে আশার আলো । ণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিট নিয়ে অনেক আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্ক থাকলেও শেষ পর্যন্ত সরকার এর সক্ষতমা যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে ।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান গবেষক গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল ও অন্যান্য গবেঘকদের, যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে র‌্যাপিড টেষ্টিং কিট আবিস্কার করেন । এখন চলছে এর কার্যকরীতা যাচাই বাচাই ।
যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো এই এ্যান্টিবডি ও এ্যান্টিজেন টেষ্টের কোনটাকেই তাদের মানের গ্রহণযোগ্য মনে করে না। তবে তারা র‌্যাপিড এ্যান্টিজেন টেষ্টিং কিটটির ব্যাপারে আশাবাদী। তারা মনে করে ভালোভাবে উন্নয়ন ঘটালে হয়তো এ্যান্টিজেন ডিটেকশন টেষ্টটি নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচ্য হতে পারে। এখানে উল্লেখ্য যে, আমেরিকাসহ অনেক দেশে এখন করোনা ভাইরাস ডিটেকশনে এ্যান্টিবডি টেষ্টিং কিট ব্যবহার করা হচ্ছে।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ‘র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন-অ্যান্টিবডি টেস্টিং কিট’ পরীক্ষার জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গ্রহণ করায় বিশেষজ্ঞদের অনেকেই আশার আলো দেখছেন।
তারা বলছেন, এই কিট পরীক্ষায় সফল হলে তাহবে আশীর্বাদ স্বরূপ। এই কিট দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রচুর টেস্ট করা যাবে। পাশাপাশি হটস্পটগুলোও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যান্টিবডি র‌্যাপিড টেস্টিং কিট প্রথম সপ্তাহে ৯০ শতাংশ নিখুঁত ফল দিতে পারে। পরের সপ্তাহ থেকে শতভাগ নিখুঁত ফল আসতে থাকে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, র‌্যাপিড টেস্টের ক্ষেত্রে ‘ফলস পজেটিভ’ ও ‘ফলস নেগেটিভ’ আসার আশঙ্কা বেশি। এক্ষেত্রে গণস্বাস্থ্যের কিট যদি ১৫ শতাংশের বেশি ‘ফলস পজেটিভ’ বা ‘ফলস পজেটিভ’ ফল দেয়, তাহলে তারা ‘র‌্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট-পলিমারি চেইন রিঅ্যাকশন’ (আরটি-পিসিআর) পদ্ধতিকেই বেশি গুরুত্ব দেবেন।
জানা গেছে, করোনা শনাক্তে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে তিনটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ‘আরটি পিসিআর’, ‘আইসোথারমাল অ্যামপ্লিফিকেশন’ ও ‘অ্যান্টিজেন’ পদ্ধতি। বাংলাদেশে শুধু ‘আরটি পিসিআর’ পদ্ধতিতে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি শতভাগ নিখুঁত ফল দিলেও সময় লাগে বেশি। আইসোথারমাল অ্যাম্প্লিফিকেশেও নির্ধারিত ল্যাব ছাড়া পরীক্ষা করা যায় না। অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি ল্যাপিড টেস্টিংয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা যায়। ইউরোপের দেশগুলোর করোনা হটস্পটে দ্রুত পরীক্ষা করতে এর ব্যবহার করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের এক ভাইরোলজিস্ট বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, সেটি বিবেচনায় আরও টেস্ট বাড়ানো উচিত। সেক্ষেত্রে আরটি পিসিআরের বিকল্প ভাবা দরকার। ইউরোপে অ্যান্টবডি র‌্যাপিড টেস্টিং কিট দিয়ে করোনা শনাক্তকরণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও এটি করা দরকার।’
প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘ড. বিজন কুমার শীলের উদ্ভাবিত কিটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়। কারণ তিনি বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞনী। তার এই কিট অনুমোদন পেলে দ্রুত টেস্ট করে হটস্পটগুলো চিহ্নিত করা যাবে।’
ডা. লেলিন বলেন, ‘র‌্যাপিড টেস্টিং কিটে প্রথম সপ্তাহে ৯০ শতাংশ, দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শতভাগ নিশ্চয়তা পাওয়া যায়। তিন দিন আগে ইউরোপেও এ পদ্ধতিতে টেস্ট শুরু হয়েছে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র যদি যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে, তাহলে তাদের কিট থেকে কার্যকারিতা পাওয়া যাবে।’
জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘র‌্যাপিড টেস্টিং কিটের কার্যকারিতা সন্তোষজনক। তাই আমরা এটি বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। স্বল্প খরচে যেকোনো জায়গায় বসে করোনা পরীক্ষা করা যাবে। এটি অ্যান্টিবডি র‌্যাপিড টেস্টিং কিট হওয়ায় ভুল ফল আসবে না। এই ফর্মুলা আগেও প্রমাণিত হয়েছে। এটা বাজারে ছাড়া গেলে করোনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।’
এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘র‌্যাপিড টেস্টে যদি ‘ফলস নেগেটিভ’ ও ‘ফলস পজেটিভ’ আসে, তাহলে রোগী শনাক্তে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ যদি উপসর্গবিহীন আক্রান্ত কাউকে ‘ফলস নেগেটিভ’ দেখায়, তাহলে ওই ব্যক্তি সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করবেন। তখন তার মাধ্যমেই অনেকেই আক্রান্ত হতে পারেন। ফলে বাংলাদেশে এর অনুমোদন দেওয়ার আগে অনেক যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।’’
জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘‘র‌্যাপিড টেস্টে যদি ১৫ শতাংশের বেশি ‘ফলস নেগেটিভ’ ও ‘ফলস পজেটিভ’ আসে তাহলে আমাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে। তবে এর ফল যদি ৯০ শতাংশের বেশি নিখুঁত হয়, তাহলে করোনা মোকাবিলায় এটি অনেক সহযোগিতা করবে।’’
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গণস্বাস্থ্যের কিট পরীক্ষার জন্য দুটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানকে দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

Categories
অপরাধ অর্থনীতি খেলার খবর চিকিৎসা জাতীয় ধর্ম প্রবাসী বিনোদন বিশ্ব ভ্রমণ মুক্তমত রাজনীতি শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

করোনা প্রতিরোধে অসহায়দের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আজও কয়েকটি জেলায় খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা পরিস্থিতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী, দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি সংগঠনও।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে রাজশাহীতে পদ্মাপাড়ের দরগাপাড়া ও বালুচর এলাকায় দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে। এ সময় উপস্থিত প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধদের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়। পরে নগরীর দাসপুকুর ও বহরমপুর এলাকায় আরও দেড় শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন সেনা সদস্যরা।

কুমিল্লায় বেতনের একটি অংশ দিয়ে দরিদ্র ও কর্মহীনদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। সকালে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে রিকশা চালকসহ অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা তুলে দেয়া হয়। চাল,ডাল, তেল ও সবজিসহ এগারটি পণ্য বিতরণ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল মাহবুব আলম।

গাজীপুরে কর্মহীন দশ হাজার মানুষের মাঝে চাল,ডাল আলুসহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন শ্রীপুরে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল। সকাল থেকে উপজেলার ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়ে এসব বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রী পেয়ে খুশি ঘরবন্দি মানুষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দরিদ্র ও কর্মহীন শ্রমজীবী পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়। সকালে শহরের মধ্যপাড়ায় দেড় হাজার কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন পৌর কাউন্সিলর কাউছার আহমেদ। এদিন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেলুনকর্মী, নির্মাণ শ্রমিক ও জেলে সম্প্রদায়ের ২শো কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়।

খাগড়াছড়ির খাগড়াপুর এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন জেলা পরিষদের সদস্য পার্থ ত্রিপুরা। সামাজিক দূরত্ব মেনে প্রথম দিনে, ৪শ পরিবারকে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে আরও তিন হাজার পরিবারকে ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সদর উপজেলার খেরুদিয়া এবং বালুধুম স্কুল মাঠে উপস্থিতি ২ হাজার মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয়া হয়। করোনা পরিস্থিতিতে ৬০ হাজার পরিবারকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

যশোরে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। সকালে ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জলপুরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দুই হাজারের বেশি শ্রমজীবীদের মাঝে চাল-ডালসহ নিতপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

নীলফামারীতে ভিক্ষুকদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক। প্রথমদিন শুক্রবার, সৈয়দপুরে সাড়ে সাতশ’ জনকে এক মাসের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রত্যেকেকে ত্রিশ কেজি চালসহ ৬টি পণ্য এবং ৬ শ টাকা দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার ১ শ ৫০জন ভিক্ষুককে খাদ্যসহায়তা দেয়া হবে।

এদিকে কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে শাকসবজি ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন ফেনীর প্যানেল মেয়র। সার্কিট হাউজের সামনে এ সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।

পিরোজপুরে কর্মহীন পরিবাবের শিশুদের জন্য শিশুখাদ্য বিতরণ করেছে একটি বেসরকারি সংগঠন। শহরের রাজারহাটে ব্যতিক্রমী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময়, শতাধিক শিশুর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অন্যদিকে, সেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ঠাকুরগাঁওয়ে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে বিনামূল্যে সবজি বিতরণ করা হয়। শহরের সমবায় মার্কেট চত্বরে বাজার মুল্যের চেয়ে ৩০ ভাগ কমে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করা হয়। এসময় প্রত্যেক ক্রেতাকে বিনামূল্যে সবজি দেয়া হয়।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী, দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বেসরকারি সংগঠন।

Categories
অপরাধ অর্থনীতি খেলার খবর চিকিৎসা জাতীয় ধর্ম প্রবাসী বিনোদন বিশ্ব ভ্রমণ মুক্তমত রাজনীতি শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

করোনার বিরুদ্ধে ক্রিকেটারদের অন্য রকম ইনিংস

মুশফিক সাকিব আশরাফুলের পর এগিয়ে আসছেন দেশের ক্রিকেটের আরও অনেক তারকা। উৎসাহিত হয়ে এবার একই উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার।

এমন ভিন্ন উদ্যোগ আগে মুশফিক নিলেও বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে নিলামে কোন কিছু বিক্রির মাধ্যমটা দেখিয়ে দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে রানের বান ছোটানো ব্যাটটি নিলামে তুলেছিলেন তিনি। ২০ লাখ টাকায় তা কিনেছেন এক প্রবাসী।

মাশরাফী যথাসাধ্য সহায়তার পাশাপাশি এবার নিলামের মঞ্চে উঠাতে চাচ্ছেন তার জার্সি, ব্রেসলেট ও বেইমানী করা পায়ে পরা কেডস জোড়া।

অলরাউন্ডার সাইফুদ্দীনের সংগ্রহে সযত্নে রাখা সাকিব আল হাসান, বিরাট কোহলি ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এম এস ধোনির সাক্ষরিত বলটি দিচ্ছেন নিলাম বাজারে।

সতীর্থদের দেখানো পথে হাঁটছেন লিটন দাসও। নিলামে তুলতে যাচ্ছেন এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করে সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাটখানা।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সৌম্যও পিছিয়ে নেই নিলামের দৌড়ে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে ৯৪ বল ক্যারিয়ারের ১ম টেস্ট সেঞ্চুরি করা ব্যাটটি দিচ্ছেন নিলামের বাজারে। এই তালিকায় আছেন স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদও। গতির ঝড় তুলে ২০১৭ সালে ডাম্বুলায় লঙ্কানদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক কাব্য লিখা বলটি তুলছেন নিলামের মঞ্চে।

জাতীয় দলে জায়গা হারালেও, দেশের দুঃসময়ে হারিয়ে যায়নি বিজয়ের মানবিকতা। ২০১৬ সালে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাটটি নিলামের তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়।

ক্রিকেটারদের এই সামগ্রীর নিলাম পরিচালনা করবে অকশন ফর একশন। যা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এই ক্রিকেট যোদ্ধাদের বিশ্বাস, করোনার আগ্রাসন একদিন পরাজিত হবেই। আবারও সুন্দর এক সকাল আসবে এই ধরণীতে।

Categories
অপরাধ অর্থনীতি খেলার খবর জাতীয় ধর্ম প্রবাসী বিনোদন বিশ্ব ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ মুক্তমত রাজনীতি শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

করোনা ইস্যুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাকে সাড়া দিল না যুক্তরাষ্ট্র!

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মহামারি চলছে।আর এর মধ্যেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সঙ্গে বিবাদ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।করোনা সংকট রোখার রণকৌশল ঠিক করতে শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ককে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানায় ডাব্লিউএইচও। বৈঠকে একাধিক বিশ্ব নেতা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অংশ নেয়। তবে হাজির ছিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রতিনিধি।

নিজের দেশে করোনার মৃত্যুমিছিল স্বত্বেও মাথা নোয়াতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

করোনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিকে নিয়ে শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি বৈঠক ডাকে। তাতে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রসিডেন্ট, জার্মান চ্যান্সেলার, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের মতো রাষ্ট্রনায়কেরা। সেই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত সব দেশের প্রতিনিধিরা। করোনা ভাইরাস যাতে আর ছড়িয়ে না পড়তে পারে, তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি। আরও বেশি টেস্ট, আইসোলেশনের ব্যবস্থা, চিকিৎসার উন্নত ব্যবস্থার মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্ব নেতারা।

এ বৈঠকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল টেডরোজ আধানাম বলেন, এই সমস্যা আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সমাধান করতে হবে। সহানুভূতির সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তবে, এদিনের বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি।

বৈঠকে কোনও প্রতিনিধি না পাঠিয়ে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিলেন অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেনা না তিনি।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ফের অনুদান দেওয়ারও কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুদিন থেকেই দ্বন্দ্ব চলছিল। চীনের তাবেদারি করার অভিযোগে ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।