Categories
অর্থনীতি জাতীয়

দেশে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবছরের ন্যয় এবারো দেশের নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে  । এতে বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর প্রস্তাব  করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।

প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে সম্প্রসারণ ও সংকুলানমুখী নতুন এই মুদ্রানীতিতে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে।

এবারের মুদ্রানীতিতে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার আলোকে ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ যোগান রাখা হয়েছে। মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

নতুন মুদ্রানীতিতে চলতি অর্থবছরের জন্য বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি আগের বছরের মতোই অপরিবর্তিত রেখে ১৪.৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্যমাত্রার আলোকে ৭৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বাড়ানোর প্রাক্কলন করা হয়েছে। মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৭.৮০ শতাংশ। নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সাধারণত সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। কিন্তু করোনার কারণে গত বছর থেকে আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া শুধু ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করলেও গত দুই অর্থবছর থেকে তা এক বছরের জন্য করা হয়।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

গত অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রক্ষেপণ করা হয় ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। তবে মে পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। নতুন বিনিয়োগ কম হওয়ায় আগামীতেও ঋণপ্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়বে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

গত অর্থবছরের জন্য সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রাক্কলন করা হলেও সঞ্চয়পত্র থেকে প্রচুর ঋণ পাওয়ায় সরকার ব্যাংক থেকে নিয়েছে অনেক কম। গত অর্থবছর রেমিট্যান্সে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ এবং রফতানিতে ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। করোনার এ সময়ে অর্থনীতির জন্য যা সহায়ক হয়েছে।

ভয়েস টিভি/ডি

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

আগামী রোব ও বুধবার ব্যাংক বন্ধ

আগামী ১ আগস্ট রোববার ও ৪ আগস্ট বুধবার ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৮ জুলাই বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফারাহ মো. নাছের।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা চালু আছে। এর পরও ব্যাংকের মাধ্যমে করোনার প্রাদুর্ভাব যাতে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ডেপুটি গভর্নর বলেন, ‘৫ আগরস্টর আগ পর্যন্ত আমরা দুই দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এর বাইরে যে দিনগুলোতে ব্যাংক খোলা থাকবে, সেই দিনগুলোতে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত গ্রাহকরা লেনদেন করতে পারবেন। বর্তমানে দেড়টা পর্যন্ত লেনদেন করার সুযোগ আছে।’

এদিকে ২৮ জুলাই বুধবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ‘করোনাভাইরাসজনিত রোগ সংক্রমণের বিদ্যমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ জুলাই রবিবার ও ৪ জুলাই বুধবার ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এছাড়া ২, ৩ ও ৫ জুলাই ব্যাংকে লেনদেন হবে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। এই তিন দিন ব্যাংক খোলা রাখা যাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।’

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

ইভ্যালিতে ১শ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে যমুনা গ্রুপ

দেশের শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ যমুনা গ্রুপ। প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে যমুনা। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে মোট এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

২৭ জুলাই মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয় ইভ্যালির পক্ষ থেকে। তবে ইকমার্স প্রতিষ্ঠানটির মূল বাজার দর (ভ্যালুয়শন) প্রকাশ করেনি কোন পক্ষ।

এমন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, একটি দেশীয় উদ্যোগ হিসেবে আমাদের পাশে আরেকটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত। যমুনার এই বিনিয়োগ ধারাবাহিক বিনিয়োগের অংশ এবং পরবর্তী ধাপেও তাদের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এই বিনিয়োগ ইভ্যালির ভবিষ্যত উন্নয়ন এবং ব্যবসা পরিধি বৃদ্ধিতে ব্যয় করা হবে।

গ্রাহকদের পুরানো অর্ডার ডেলিভারি নিয়ে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, পুরানো অর্ডার যেগুলো পেন্ডিং সেগুলোর ডেলিভারির ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিচ্ছি, প্রয়োজনে আমরা আরও বিনিয়োগের ব্যবস্থা করব।

বিনিয়োগ নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উন্নয়নে আমরা দেখছি যে, স্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আমাজন, চীনের ক্ষেত্রে আলিবাবা। তেমনি বাংলাদেশে ইতোমধ্যে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করেছে দেশীয় ইকমার্স ইভ্যালি। শুধু দেশের সাধারণ মানুষের স্বপ্নপূরণে কাজ করে যাচ্ছে। যমুনা গ্রুপ দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। এখন থেকে ইভ্যালি এবং যমুনা গ্রুপ সেই স্বপ্নপূরণে একে অপরের অংশীদার হলো।

ইভ্যালি ও যমুনা গ্রুপের এই অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানিয়ে যমুনা গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক মনিকা ইসলাম বলেন, দেশের বাজারে মানসম্পন্ন পণ্য ও সেবা নিয়ে যমুনা গ্রুপ ব্যবসা করে আসছে। বাংলাদেশে সবথেকে বড় অফলাইন মার্কেটপ্লেস যমুনা ফিউচার পার্ক। আর এখন সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস গড়ে তোলার জন্য ইভ্যালির সাথে থাকবে যমুনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং দেশের ই-কমার্স খাতকে একটা মজবুত অবস্থানে এগিয়ে নিয়ে যেতে ইভ্যালির সৎ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের প্রতি বিশ্বাস রেখে দেশের এই করোনাকালীন দুঃসময়ে দেশের অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে তাদের পাশে এসে দাড়িয়েছি।

যমুনা গ্রুপের পরিচালক (অ্যাকাউন্টস) শেখ ওয়াদুদ বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা এর সময়ে আমরা দেশীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চাই। এই বিনিয়োগ নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য আমরা ধাপে ধাপে প্রকাশ করবো।

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’র লেনদেন অপরাধ নয়, সিআইডিকে চিঠি

‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’র মালিকানা, সংরক্ষণ বা লেনদেন অপরাধ নয় বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ মতামত দিয়েছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি একধরনের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া এ ধরনের মুদ্রার সংখ্যা এখন আট হাজারের বেশি। তবে এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বিটকয়েন। ২০০৮ সালের শেষভাগে জাপানি নাগরিক সাতোশি নাকামোতো নামের একজন বা একদল সফটওয়্যার বিজ্ঞানী এই ‘ক্রিপ্টোকারেন্সির’ উদ্ভাবন করেন।

কয়েন মার্কেট ক্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ১ বিটকয়েনের বিনিময়মূল্য গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় ছিল ৩৩ হাজার ৮০৫ দশমিক ৩১ ডলার। তবে বাংলাদেশে বিটকয়েন লেনদেন অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এ মুহূর্তে সিআইডি দুটি মামলার তদন্ত করছে। এমন একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডি মতামত চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে।

গত ১৮ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সহকারী পরিচালক শফিউল আজম ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে ব্যাংকের অবস্থান জানান সিআইডিকে। তিনি লেখেন, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিকানা, সংরক্ষণ বা লেনদেন স্বীকৃত না হলেও এটিকে অপরাধ বলার সুযোগ নেই মর্মে প্রতীয়মান হয়।’ ওই চিঠিতে তিনি আরও বলেন, ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের ফলাফল হিসেবে দ্বিতীয় পর্যায়ে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭; সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২–এর আওতায় অপরাধ হতে পারে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিআইডি এ নিয়ে অনুসন্ধান করে দেখতে পারে।

একই চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমান বিশ্বে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার বাজার দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রচলনের প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্বের কোনো আইনগত কর্তৃপক্ষ এই মুদ্রাকে স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু বর্তমানে কয়েকটি দেশের (যেমন: জাপান, সিঙ্গাপুর, আরব আমিরাত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) কেন্দ্রীয় ব্যাংক/মুদ্রা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো এ ধরনের প্রাইভেট কারেন্সিতে লেনদেন বা সংরক্ষণের অনুমোদন দেয়নি।

বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে কৃত্রিম মুদ্রায় (যেমন বিটকয়েন) লেনদেন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছিল। বিজ্ঞপ্তিতে ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বলে, ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ–সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো কোনো নীতিমালা প্রণয়ন করেনি।

তবে এর মধ্যেই ক্রিপ্টোকারেন্সিকে একেবারে নাকচ করে না দেওয়ার ব্যাপারে কথাবার্তা চলছে সংস্থাগুলোর মধ্যে। যেমন, সরকারের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি ডিভিশন। ২০২০ সালের মার্চে এ বিভাগ ন্যাশনাল ব্লকচেইন স্ট্র্যাটেজি করে। ওই কৌশলপত্রে তারা বলেছে, ব্লকচেইন স্টার্টআপে ২০১৩ সাল থেকে ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ হয়েছে। এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশি সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিগুলোর জন্য এটা একটা সুযোগ। কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি এ আকর্ষণীয় সুযোগের বাইরে থেকে যাচ্ছে। অবশ্য ওই কৌশলপত্রে এও বলা হয়েছে, উপযুক্ত প্রযুক্তি, আইন ও নীতি কাঠামোর অনুপস্থিতিতে এ ধরনের ডোমেইন দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পথকে উন্মুক্ত করে দিতে পারে। তাই এই উভয়সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা বিবেচনা করা উচিত।

ব্লকচেইন হলো তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন ব্লকে একটির পর একটি তথ্য চেইনের মতো করে সংরক্ষণ করা হয়। ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেনের তথ্য ব্লকচেইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। এমনিতে এই মুদ্রার লেনদেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিতে থাকে না। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দুজন নিজেদের পরিচয় প্রকাশ না করে সরাসরি এই লেনদেন করে । ২৭ থেকে ৩৪ অক্ষরের একটি আইডি খুলে ইন্টারনেটে অ্যাকাউন্ট খুলে এই মুদ্রা লেনদেন করা যায়। ভার্চ্যুয়াল এই মুদ্রা জমা থাকে ডিজিটাল ওয়ালেটে।

যদিও আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিগগির বিটকয়েন অনুমোদন দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বিটকয়েনের ভালো-মন্দ খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’

এ মুহূর্তে সিআইডি দুটি মামলার তদন্ত করছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে র‌্যাব-১ মো. রায়হান হোসেন ওরফে রায়হানকে গ্রেপ্তার করে। র‌্যাবের দাবি ছিল বাংলাদেশে বিট কয়েন প্রতারণা চক্রের মূল হোতা রায়হান। এক মাসে তিনি ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার লেনদেন করেছেন। অডি গাড়ি কিনেছেন ১ কোটি ৭ লাখ টাকা দিয়ে। তাঁর কাছ থেকে ১৯টি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ২২টি সিমকার্ড, ২৫ ডলারসহ ১ হাজার ২৭৫ টাকা, একটি কম্পিউটার, ৩টি সেলফোন, ৩টি ভুয়া চালান বই, একটি ট্রেড লাইসেন্স, একটি টিন সার্টিফিকেট, একটি রেকর্ডিং মাইক্রোফোন, একটি ক্যামেরা, একটি রাউটার, একটি হেডফোন, একটি মডেম ও বিভিন্ন ব্যাংকের চারটি চেকবই উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের অভিযোগ, রায়হান পাকিস্তানি নাগরিক সাইদের সহায়তায় বিটকয়েনের মাধ্যমে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি পাকিস্তান, নাইজেরিয়া ও রাশিয়ার চোরাকারবারি, ক্রেডিট কার্ড হ্যাকার ও বিটকয়েনের মাধ্যমে অবৈধ পাচারকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।
প্রায় একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয় ইসমাইল হোসেন ওরফে সুমনের বিরুদ্ধে। গত ২ মে রাতে বাড্ডার ইকবাল ভিলা থেকে ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পরদিন সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া ও রাশিয়ার ক্রেডিট কার্ড হ্যাকারদের সঙ্গে ইসমাইলের যোগাযোগ ছিল। তিনি বিদেশি সব হ্যাকারের সঙ্গে জোট বেঁধে প্রতারণা করে আসছিলেন। তারা আরও জানায়, ইসমাইল শিশুদের খেলনা ও কাপড়ের ব্যবসা করতেন একসময়। পরে বেসিক বিজ মার্কেটিং নামের একটি আউটসোর্সিং কোম্পানি তৈরি করেন। এর আড়ালে অবৈধ বিটকয়েন লেনদেন এবং অনলাইনে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছিলেন। এভাবে তিনি অনেক সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় তাঁর দুটি ফ্ল্যাট, প্লট, সুপার শপের ব্যবসা আছে। এক বছরে তিনি অবৈধভাবে ১২ থেকে ১৫ লাখ ডলার লেনদেন করেন।

বাড্ডার ইসমাইল গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে, বিটকয়েন লেনদেন হয় দুটি আইডির মধ্যে, এর বাইরে আর কারও এ–সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারার কথা নয়। তাহলে র‌্যাব তাঁদের প্রতারণার খবর কীভাবে নিশ্চিত হলো।

এ বিষয়ে জানতে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কম্পিউটারে থাকা ডিজিটাল ওয়ালেট পরীক্ষা করে তাঁরা বিটকয়েন লেনদেনের ব্যাপারে তথ্য পান। তাঁদের মধ্যে ইসমাইল ইভ্যালি আদলে ব্যবসার চেষ্টা করছিলেন। তিনি দামি জিনিস কম টাকায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজ্ঞাপন দিচ্ছিলেন। টাকাটা বিটকয়েনে নিয়ে সাইট বন্ধ করে দিচ্ছিলেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই বিটকয়েন এসেছিল বিদেশ থেকে।

এখন পর্যন্ত বিটকয়েন লেনদেন ও প্রতারণার অভিযোগে র‌্যাব কমপক্ষে পাঁচটি অভিযান চালায়। বগুড়া জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে, ঢাকায় সিআইডির পরিদর্শক মো. ইব্রাহীম হোসেন নিজেই বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় অভিযোগপত্রও জমা দিয়েছে সিআইডি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অর্গানাইজড ক্রাইমের পরিদর্শক মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে পাবনার এক ব্যক্তি ২০১৩ সালে মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। তিনি একটি ক্যাসিনোতে কাজ নিয়েছিলেন। ওই ক্যাসিনোর মালিক হামকে তিনি বিটকয়েন কেনাবেচার জন্য বাংলাদেশের জাকারিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। একপর্যায়ে হাম দাবি করেন, তিনি বিটকয়েন দিয়েছেন, কিন্তু অর্থ পাননি। এই বলে তিনি পাবনার ওই ব্যক্তিকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। পরে মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দেয়। সিআইডি অনুসন্ধানে জাকারিয়ার লেনদেনের খবর নিশ্চিত হন। আহ্‌ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জাকারিয়াকে আসামি করে পরে সিআইডি অভিযোগপত্র জমা দেয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানান, ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন অনেকেই করছেন। সবাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, ওয়াকিবহাল আরেকটি সূত্র প্রথম আলোকে জানায়, যাঁরা আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন, তাঁদের অনেক সময় সেবাগ্রহিতারা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা দিয়ে থাকেন। এভাবে কেউ কেউ ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা লেনদেনে জড়িয়ে পড়ছেন।

সিআইডির একটি সূত্র নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি এখন একটি বাস্তবতা। বৈদ্যুতিক গাড়ির কোম্পানি টেসলার নির্বাহী পরিচালক ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক নিজেই বলেছেন, তাঁর কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সি আছে। তিনি আরও বলেছেন, টেসলা এখন বিটকয়েন ব্যবহার করার কথা ভাবছে। বাংলাদেশের উচিত, যেসব দেশ এই মুদ্রার অনুমোদন দিয়েছে, তাদের ঝুঁকি মোকাবিলার কৌশলগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।

একই মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক বি এম মঈনুল হোসেন। তিনি বলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সিকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ক্রিপ্টোকারেন্সিকে করের আওতায় এনে অনুমোদন দিয়েছে। একটাই সমস্যা ব্যবহারকারীদের পরিচয় প্রকাশ না পাওয়ায়, অপরাধের একটা সুযোগ থাকছে। এমনকি বাংলাদেশ থেকে অর্থ বিদেশে পাচারের ঘটনাও ঘটতে পারে। কীভাবে নিজেদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে ক্রিপ্টোকারেন্সিকে মেনে নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে চিন্তা করা দরকার।

তবে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) প্রধান নির্বাহী আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, ক্রিপ্টোকারেন্সিকে অনুমোদন দেওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। ক্রিপ্টোকারেন্সির বিনিময় দুজনের মধ্যে হয়। নজরদারির কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের মতো দেশে এটিকে অনুমোদন দেওয়া হলে অর্থ পাচারকারীরা সুযোগ নিতে পারেন। সূত্র : প্রথম আলো

Categories
অর্থনীতি

দৈনিক ১৭ হাজার কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে

করোনা মহামারীতে অসম্ভব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি । প্রতিদিন গড়ে দুই শত কোটি টাকার অধিক পশু বিক্রির মাধ্যম হিসেবে অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে ক্রেতারা। ২ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত  কোরবানির পশু বিক্রির ১৮শ টি অন লাইন বাজার বসেছে। এখানে বিক্রি হচ্ছে গরু, ছাগালসহ কোরবানিযোগ্য পশু।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কোরবানীর হাটে গিয়ে পশু ক্রয়ের ঝামেলা তাইতো অনেক ক্রেতাই এখন নির্ভর করছেন অন লাইন  প্লাটফর্মকে। অনলাইনে পশু দেখে বুকিং দিয়ে সামান্য কিছু অর্থ আগাম পরিশোধ করলেই বাড়ি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে পছন্দের পশু। সেই সাথে ক্রয় করে পশু  বিক্রেতা/খামারীদের কাছে রেখে নির্দিষ্ট দিনে ডেলিভারী নেয়ার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। যার কারণে ক্রমাগত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন হাট।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতর বলছে গড়ে দৈনিক ১৭ হাজার গরু-ছাগাল বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। এখন পর্যন্ত অন লাইনে পশু কেনাকাটা ছাড়িয়েছে দুই হাজার কোটি টাকা। ঈদের দিন পর্যন্ত কোরবানির পশু  বিক্রির এই হিসেব তিন গুন হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

২ জুলাই থেকে থেকে এ পর্যন্ত  ২ লাখ ৮৯ হাজার ৮১৯টি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে, যার মূল্য দুই হাজার ১৪২ কোটি ৫৫ লাখ ৭ হাজার ১৬৮ টাকা।  ঈদ যতই সমাগত হচ্ছে ততই বাড়ছে পশু বিক্রি। গেলো শনিবার একদিনেবিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার ৯৯২টি পশু।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এর উদ্যোগে বিকল্প বাজার হিসেবে অনলাইন বা ডিজিটাল প্লাটফর্মে কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়। অনলাইনের বিভিন্ন সাইটে বিক্রি হচ্ছে লাইভ ওয়েটে গরু ও ছাগল । অনেক ক্রেতাই অনলাইনে পশু ক্রয় করে সন্তুষ্ট আবার অনেকের রয়েছে ছোট খাটো অভিযোগও। তবে আশার কথা হলো অনলাইনে পশু বিক্রি ক্রমাগত বাড়ছে জানালেন ডেইরী ফার্ম এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাবমীর সাদাত হোসাইন। তিনি জানান, বিকল্প বাজার হিসেবে অনলাইনে পশু বিক্রি অনেক আগ থেকে হলেও এবার বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আগামিতে আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে

স্বাভাববিক  পশুর হাটের বাহিরে অনলাইন প্লাটফর্মে এবং খামারির কাছ থেকে কেনা পশু পরিবহনকালে ইজারাদার কিংবা আদায় করা যাবে না বলে মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা রয়েছে।

 

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি-মাছ

সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে দাম বৃদ্ধি না করলে ঢাকার কাঁচা বাজারগুলোতে আগের মতোই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। সেই সঙ্গে সব ধরনের মাছের দামও বেশ চড়া।

১৬ জুলাই শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গাজর। এই সবজিটি কিনতে ক্রেতাদের কেজিতে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা দিতে হচ্ছে।

এছাড়া কেজি একশ টাকার ওপরে বিক্রি হওয়ার তালিকায় রয়েছে পাকা টমেটো। আগের সপ্তাহের মতো পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

এর সঙ্গে বেগুন, ঝিঙে, করলা, বরবটি, চিচিঙ্গার দামও বেশ চড়া। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে সবগুলোরই দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। বেগুন, ঝিঙে এবং করলার কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিচিঙ্গার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটির কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া আগের মতো ঢ্যাঁড়স এবং পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। পেঁপের কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

সবজির দাম নিয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সোবহান বলেন, আমাদের হিসেবে সবজির দাম যে হারে বাড়ার কথা, সে হারে বাড়নি। কারণ এবার বৃষ্টিতে প্রচুর সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। আবার করোনার কারণে সবজির সরবরাহ কম। সে হিসেবে সবজির দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় কথা, তবে বাড়েনি। ঈদের পর সবজির দাম বাড়বে বলে আমাদের ধারণা।

এদিকে তিন সপ্তাহ আগে বেড়ে যাওয়া আদা বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। আর দেশি আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা। এর সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। দেশি পেঁয়াজের কেজি গত সপ্তাহের মতো ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তেলাপিয়া মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, রুই মাছ ২৩০ থেকে ২৮০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৫০০ টাকা এবং রূপচাঁদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে মাছের দামও প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাংসের বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আগের মতো ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায়। লেয়ার মুরগি ২৩০-২৪০ টাকা আর সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা।

মুরগির পাশাপাশি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের। গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা।

এর সঙ্গে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে আলু এবং ডিমের। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা। আর ফার্মের মুরগির ডিম ডজন বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়।

Categories
অর্থনীতি জাতীয় ভিডিও সংবাদ

১০ দিনেই গ্রাহকদের ২১৪ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে ইভ্যালিকে

‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১’ অনুযায়ী ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ নেওয়া ২১৪ কোটি টাকা অবিলম্বে ফেরত দেওয়া অথবা পণ্য সরবরাহের দাবি জানিয়েছে টেলি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিক্যাব)।

১২ জুলাই রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানিয়েছেন টিক্যাবের আহ্বায়ক মুর্শিদুল হক। তিনি বলেন, গত ৪ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের মাধ্যমে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনায় স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, জবাবদিহি, ভোক্তাদের আস্থা বৃদ্ধি ও অধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স পলিসির ২০২০ সংশোধিত ‘অনুচ্ছেদ ৩.৩.৬ অনুসারে ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১’ প্রণয়ন করে গেজেট প্রকাশিত হয়।

‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১’-এর ৩.৩.২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হয়ে থাকলে ক্রেতা-বিক্রেতা একই শহরে অবস্থান করলে ক্রয়াদেশ গ্রহণের পরবর্তী সর্বোচ্চ পাঁচ দিন এবং ভিন্ন শহরে বা গ্রামে অবস্থিত হলে সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি দিতে হবে। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি ঢাকাসহ সারা দেশের গ্রাহকদের হাজার হাজার অর্ডার ইভ্যালিসহ বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান মাসের পর মাস ধরে ফেলে রেখেছে।’

আরও দেখুন : ‘আগে টাকা পরে পণ্য’ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে যা বললো ইভ্যালি

১-৬ মাস পর্যন্ত অপেক্ষার পরও গ্রাহকদের পণ্য বা অর্থ কিছুই ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কোনো ফল মিলছে না। অথচ ‘ডিজিটল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহকদের পণ্য বা অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা।’

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭.১৮ কোটি টাকা। গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম বাবদ ২১৩.৯৪ কোটি টাকা এবং মার্চেন্টদের কাছ থেকে ১৮৯.৮৫ কোটি টাকার পণ্য বাকিতে গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে কমপক্ষে ৪০৩.৮০ কোটি টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র ৬৫.১৭ কোটি টাকা। বাকি অর্থ কোথায় তার কোনো হদিস নেই।

এ অবস্থায় গ্রাহকরা তাঁদের অগ্রিম পেমেন্ট করা অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলসহ ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় আগামী দুই মাসে ইভ্যালি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে, দায়ের তুলনায় ইভ্যালির ব্র্যান্ডভ্যালু অনেক বেশি এসব কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অর্থ লোপাটের অভিযোগের কোনো সন্তোষজনক উত্তর তাঁরা দিচ্ছেন না। আমরা আশঙ্কা করছি গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালির দায়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

ভয়েস টিভি/ডি

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

ইভ্যালির প্রতারণায় লক্ষাধিক গ্রাহকের সঙ্গে বিপাকে দুই ডজন শীর্ষ ব্যবসায়ী

দেশে ই-কমার্সের বাজার গত বছর পাঁচেক ধরে বিকশিত হচ্ছে। গত তিন বছর ধরে এই খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় শতভাগ। অর্থাৎ প্রতি বছর প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে খাতটি।

জার্মানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিস্টার তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে ই-কমার্সের বাজার দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে, যা চলতি বছর দুই বিলিয়ন এবং ২০২৩ সালে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

ইভ্যালিতে বড় অঙ্কের অর্থ লগ্নি করে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন অন্তত দুই ডজন  শীর্ষ ব্যবসায়ীরা ধরা খেয়েছেন।

এদের একজন রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেটের টেলিভিশন ব্যবসায়ী সোহেল হাসান। একসময় বিভিন্ন কম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করতেন। লাভ হতো কমিশন হারে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ঝুঁকে পড়েন ইভ্যালিতে।

প্রথম দিকে প্রতি ক্রয়াদেশে পাঁচ থেকে ১০টি টেলিভিশন ছিল। আগের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম দামে কিনে বেচতেন বাজারদরে। লাভ হতো অনেক। অবস্থা বুঝে তিনি শতভাগ ইভ্যালিনির্ভর হয়ে যান। কোপা আমেরিকা ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ খেলাকে কেন্দ্র করে বাজারে চাহিদা বাড়বে—এ ধারণায় গত এপ্রিলে বিশাল অঙ্কের ছাড়ে প্রায় ২০০টি টেলিভিশন অর্ডার দেন। অগ্রিম প্রায় ৫০ লাখ টাকা জমাও দেন। জুনের প্রথম সপ্তাহে টেলিভিশন পাওয়ার কথা; এখনো পাননি। আটকে আছে লগ্নি করা টাকাও। অনেকবার যোগাযোগ করেও এর সমাধান পাননি সোহেল। এর মধ্যে ইভ্যালিতে আরো অনেকের টাকা আটকে থাকার খবর শুনে সোহেলের ঘুমই হারাম।

অনলাইনে পণ্য কিনে ঠকছে এমন অগণিত ভোক্তা। কেউ কেউ মাসের পর মাস পণ্যই পায়নি। যারা পায় তাদের অনেকের পণ্য অর্ডারের সঙ্গে মেলে না। বহু ভোক্তা ব্যবসায়ীও বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ লগ্নি করে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তথ্য-প্রযুক্তির উৎকর্ষ এবং সম্প্রতি কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে মানুষের গৃহবন্দিত্বে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে নামে-বেনামে ই-কমার্স সাইট।

ই-প্ল্যাটফর্মই এখন প্রশ্নবিদ্ধ : সময় এখন ই-বাণিজ্যের। কিন্তু কিছু প্রতারকের খপ্পরে পড়ে গোটা প্ল্যাটফর্মই এখন প্রশ্নবিদ্ধ। বহু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন, ফেসবুক পেজ খুলে প্রতারণার কল বসিয়েছে অনেকে। চটকদার বিজ্ঞাপন, চোখ-ধাঁধানো অফার, আর মাতোয়ারা ছবিতে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে পাঠানো হয় যাচ্ছেতাই পণ্য। আবার অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য না পাঠিয়ে গ্রাহককে ব্লক করে দেওয়ার মতো ঘটনাও কম নয়।

এদিকে ইভ্যালিসহ অনলাইনভিত্তিক অনেক ব্যবসায়ীর প্রতারণার বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। প্রতারণা ঠেকাতে তৎপর হয়েছে দায়িত্বশীল বিভিন্ন সংস্থা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, অনলাইন ব্যবসার মধ্যে ইভ্যালির বিষয়টি বর্তমানে আলোচনায় আছে। এই প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করেছে কি না, সেটি পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করবে। এ বিষয়ে মামলা হওয়ার কথা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অনলাইন ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। শুধু কেনাবেচার প্ল্যাটফর্ম নয়, বিশ্বের নামকরা ই-কমার্সভিত্তিক অন্যান্য মার্কেটপ্লেসেও বিনিয়োগের নামে প্রতারণা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। ডোমেইন কেনা, ওয়েবসাইট বানানোর নামে প্রযুক্তিতে দক্ষ এক শ্রেণির প্রতারক হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি টাকা। সম্প্রতি এ চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

অনলাইনে পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান আদর্শ মার্টের ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখা যায়, ঘরের শোভাবর্ধনসামগ্রী, দামি আসবাব থেকে শুরু করে পরিধেয় বস্ত্র, গৃহস্থালির হাঁড়ি-পাতিল, আলু-পটোল তরিতরকারি সবই মেলে এখানে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য কিনে ঠকেছে অনেক ভোক্তা। বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে ওঠা অনেক ই-কমার্স সাইট প্রতারণা করে যাচ্ছে। তবে অভিযোগের শীর্ষে ইভ্যালি।

ইভ্যালির ফাঁদে পড়া অন্তত দুই ডজন শীর্ষ ব্যবসায়ীর পাওনা প্রায় দেড় শ কোটি টাকা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক থেকে সদস্যরাও রয়েছেন।

নিজেদের পাওনা টাকা আদায়ে তাঁরা কয়েক দিন ধরে ইভ্যালির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করে যাচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল শনিবার দুপুরেও ইভ্যালির ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বসেছিলেন শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তবে কোনো রকম ইতিবাচক ফল ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়েছে।

গতকালের বৈঠকে অংশ নেওয়া শীর্ষ এক ব্যবসায়ী ও এফবিসিসিআই পরিচালক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘ইভ্যালির কাছে পাওনা ও বিনিয়োগের বড় অংশই হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ইভ্যালিতে শুধু গ্রাহকই নয়, আমরা অনেক ব্যবসায়ীও প্রতারিত হয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তও হচ্ছি আমরা বেশি। কয়েক দিন ধরে আমরা দফায় দফায় বৈঠক করছি। কিন্তু যাদের থেকে পণ্য কিনেছে তাদের টাকা, আবার যাদের থেকে টাকা নিয়েছে পণ্য দেবে বলে কোনোটাই করতে পারছে না ইভ্যালি। আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

জানা গেছে, ইভ্যালি শীর্ষ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পণ্য কিনে গ্রাহকদের সরবরাহ করত। ব্যবসায়ীদের থেকে পণ্য কিনতে গিয়ে ধীরে ধীরে বিপুল অঙ্কের বকেয়া পড়ে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়ী ইভ্যালির নানা লোভনীয় অফারে আকৃষ্ট হয়ে নির্দিষ্ট সময় পরে কম দামে পণ্য পেতে বিনিয়োগ করে রেখেছে। এই বিনিয়োগ টেলিভিশন ও মোটরসাইকেল খাতে সবচেয়ে বেশি।

ক্রেতাদের যত অভিজ্ঞতা : গত বছরের ১৭ অক্টোবর ইভ্যালিতে একটি মোটরসাইকেল অর্ডার করেন কনফিডেন্স গ্রুপের কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার। দুই লাখ ৮৮ হাজার টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেন। চার মাসেও বাইক না পেয়ে ভোক্তা অধিকারে মামলা করেন তিনি। সাত্তার জানান, অনেক চেষ্টার পরে তিনি মূল টাকা উদ্ধার করতে পেরেছেন। সাঈদ ইবনে তালহা নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘নির্ধারিত ৪৫ কর্মদিবসের অর্ডার এখনো হাতে পাইনি। এর মধ্যেও তারা নানা রকমের অফার দিয়ে অর্ডার নিয়েই যাচ্ছে। এগুলো কিভাবে ডেলিভারি দিবে? ইভ্যালি আসলে করছেটা কী।’ ডুয়েট শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘দুটি টি-শার্ট অর্ডার করেছিলাম। তিন মাস পর পেয়েছি, তাও একটি।’ ইভ্যালির মাধ্যমে রেয়ন ট্রেডার্স থেকে গেজেটস পণ্য কিনে ধরা খেয়েছেন অনেকে। অর্ডার এক, পেয়েছেন আরেক, যা পেয়েছেন তাতেও নানা সমস্যা। অল্পতেই বিকল হয়ে যাচ্ছে। বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের নম্বরে কল দিয়ে অভিযোগ জানালে জবাব আসে, ‘আপনি ভুল নম্বরে কল করেছেন’।

মাসুদুল হাসান নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘অর্ডার দিয়েছিলাম ভিশনের মশা মারার ব্যাট। প্রায় চার মাস পর সেলার কল করে জানায়, এটি তাদের স্টকে নেই। এর পরিবর্তে হিটের ব্যাট দিবে। অগত্যা তাতেই রাজি হয়ে গেলাম। পণ্যটি হাতে পেয়ে দেখি অবস্থা খুবই খারাপ। বাটন খোলা, কাজ করে না।’

Categories
অর্থনীতি জাতীয়

টানা চারদিন পর আজ খুলছে ব্যাংক-বীমা-শেয়ারবাজার

টানা চারদিন বন্ধ থাকার পর ৫ জুলাই সোমবার থেকে আবারও খুলছে ব্যাংক, বীমা ও শেয়ারবাজার। তবে সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউনের কারণে ব্যাংক, বীমা ও শেয়ারবাজার তিন ক্ষেত্রেই লেনদেন হবে সীমিত পরিসরে।

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ১ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার।

এই বিধিনিষেধের মধ্যে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়ে ৩০ জুন বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়।

এর প্রেক্ষিতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে রোববার ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ রেখে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চার দিন ব্যাংক খোলার নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ব্যাংকের লেনদেনের সময়সীমা কমিয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত করা হয়।

সরকারের বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যাংক খোলার এই নির্দেশনা আসলেও ব্যাংক হলিডের কারণে বৃহস্পতিবার ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ ছিল। এতে টানা চারদিন বন্ধ থাকে ব্যাংক।

গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংক খোলার নির্দেশনা দেয়ার পরপরই পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শেয়ারবাজারে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।

ব্যাংকের লেনদেনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সপ্তাহের চারদিন (সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার) শেয়ারবাজারের কার্যদিবস নির্ধারণ করা হয়। আর লেনদেনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

শেয়ারবাজারে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও কোনো বিনিয়োগকারী সশরীরে কোনো প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন চালু থাকবে।

শেয়ারবাজারের লেনদেন চালু রাখায় কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চলাচলের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সই করা এ সংক্রান্ত পাসে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জরুরি আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে (পুলিশ মহাপরিদর্শকের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে) এই আদেশ বাহককে অবাধ চলাচলের সুযোগ প্রদানের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপকালে আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে, যা ৫ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

এদিকে নানা নাটকীয়তার পর ৪ জুলাই রোববার এক নির্দেশনা জারি করে বীমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা সকাল ১০ থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলার সিদ্ধান্ত দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

তার আগে গত বৃহস্পতিবার বীমা কোম্পানির মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) থেকে বীমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা রাখার দাবি জানানো হয়।

এর প্রেক্ষিতে রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবকে চিঠি দিয়ে আইডিআরএ’র পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বীমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা রাখার বিষয়ে অনুমতি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশের আমদানি-রফতানির জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রমের পাশাপাশি বীমা পলিসি ইস্যুও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এছাড়াও লাইফ বীমাকারীর মেয়াদপূর্তির দাবি পরিশোধসহ অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে বীমাকারীর প্রধান কার্যালয়সহ কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ শাখা অফিস খোলা রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইডিআরএ-কে অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে আইডিআরএ একমত পোষণ করে।

৭ জুলাই পর্যন্ত দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা এবং জীবন বীমাকারীর মেয়াদপূর্তি ও মৃত্যু দাবি যথাসময়ে পরিশোধ এবং স্বাস্থ্য বীমা সেবা প্রদানের স্বার্থে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়সহ বীমাকারীর প্রধান কার্যালয় ও কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ শাখা অফিস সীমিত সংখ্যক জনবল নিয়ে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সকাল ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিষয়ে অনুমতি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবকে দেয়া চিঠির পর আইডিআরএ থেকে বীমা কোম্পানির প্রধান কার্যালয়সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাখা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ কার্যালয় খোলা রাখা সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনায় সীমিত সংখ্যক জনবল নিয়ে বীমা কোম্পানির অফিস এবং আইডিআরএ কার্যালয় খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
অর্থনীতি

ব্যাংক লেনদেন ১১৫ ঘণ্টা বন্ধ

দেশে ব্যাংকের লেনদেন ১১৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে। ৩০ জুন বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটার পর বন্ধ হয়ে আগামী ৫ জুলাই সকাল ১০টায় ব্যাংক লেনদেন চালু হবে।

অর্থাৎ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ব্যাংক হলিডে। এ জন্য এদিন ব্যাংকে কোনও ধরনের লেনদেন হবে না। ২ ও ৩ জুলাই সাপ্তাহিক ছুটি। এদিকে কঠোর লকডাউনে রোববারও ব্যাংক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই হিসাবে চার দিন ছুটি থাকছে ব্যাংক।

৩০ জুন বুধবার এ বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন, ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা ও এটিএম বুথগুলো সার্বক্ষণিক চালু থাকবে। এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নোট সরবরাহের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ