Categories
জাতীয় মুক্তমত

ছয় দফা বাঙালির ‌’স্বাধীনতার সনদ’

৭ জুন, ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় দফা দিবস পালন উপলক্ষে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। নিবন্ধটি নীচে তুলে ধরা হলো: সূত্র: বাসস

আমরা ৭ জুন ৬-দফা দিবস হিসেবে পালন করি। ২০২০ সালে বাঙালির জীবনে এক অনন্য বছর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের অর্থাৎ বাংলাদেশের জনগণের জন্য এ বছরটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের ব্যাপক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাঙালিরাও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। ইউনেস্কো এ দিবসটি উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলিও প্রস্তুতি নিয়েছিল। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে একটি স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করেছে।

যখন এমন ব্যাপক আয়োজন চলছে, তখনই বিশ্বব্যাপী এক মহামারি দেখা দিল। করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ নামক এক সংক্রামক ব্যাধি বিশ্ববাসীকে এমনভাবে সংক্রমিত করছে যে, বিশ্বের প্রায় সকল দেশই এর দ্বারা আক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক – সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশও এ ভাইরাস থেকে মুক্ত নয়। এমতাবস্থায়, আমরা জনস্বার্থে সকল কার্যক্রম বিশেষ করে যেখানে জনসমাগম হতে পারে, সে ধরনের কর্মসূচি বাতিল করে দিয়ে কেবল রেডিও, টেলিভিশন বা ডিজিটাল মাধ্যমে কর্মসূচি পালন করছি।

১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তি সনদ ৬-দফা ঘোষণা দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমি পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, শ্রদ্ধা জানাই আমার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুননেসাকে। ৭ জুনের কর্মসূচি সফল করতে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। স্মরণ করি, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে শাহাদাৎবরণকারী আমার পরিবারের সদস্যদের। শ্রদ্ধা জানাই জাতীয় ৪-নেতাকে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদ ও নির্যাতিত মা-বোনকে।

৬-দফা দাবির আত্মপ্রকাশ

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে চৌধুরী মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে কাউন্সিল মুসলিম লীগের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আফজালের সভাপতিত্বে বিরোধীদলের সম্মেলন শুরু হয়। সাবজেক্ট কমিটির এই সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয়-দফা দাবি পেশ করেন। প্রস্তাব গৃহীত হয়না। পূর্ব বাংলার ফরিদ আহমদও প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম পাকিস্তানের কয়েকটি পত্রিকা এ দাবি সম্পর্কে উল্লেখ করে বলে যে, পাকিস্তানের দুটি অংশ বিচ্ছিন্ন করার জন্যই ৬-দফা দাবি আনা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাংবাদিক সম্মেলন করে এর জবাব দেন। ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা ফিরে আসেন। বিমান বন্দরেই তিনি সাংবাদিকদের সামনে ৬-দফা সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরেন।

৬-দফা দাবিতে পাকিস্তানের প্রত্যেক প্রদেশকে স্বায়ত্বশাসন দেয়ার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের অন্যান্য রাজনৈতিক দল এ দাবি গ্রহণ বা আলোচনা করতেও রাজি হয়নি। বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন ঢাকায়।

আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটিতে ৬-দফা দাবি পাশ করা হয়। আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে এ দাবি গ্রহণ করা হয়। ব্যাপকভাবে এ দাবি প্রচারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয় দলের নেতৃবৃন্দ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান সফর করে জনগণের কাছে এ দাবি তুলে ধরবেন। ৬-দফা দাবির উপর বঙ্গবন্ধুর লেখা একটি পুস্তিকা দলের সাধারণ সম্পাদকের নামে প্রকাশ করা হয়। লিফলেট, প্যাম্ফলেট, পোস্টার ইত্যাদির মাধ্যমেও এ দাবিনামা জনগণের কাছে তুলে ধরা হয়।

কেন ৬-দফা দাবি

১৯৬৫ সালে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যে যুদ্ধ হয়েছিল সে যুদ্ধের সময় পূর্ববঙ্গ বা তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এ অঞ্চলের সুরক্ষার কোন গুরুত্বই ছিল না। ভারতের দয়ার উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছিল পূর্ব বাংলাকে। ভারত সে সময় যদি পূর্ববঙ্গে ব্যাপক আক্রমণ চালাত, তাহলে ১২শ মাইল দূর থেকে পাকিস্তান কোনভাবেই এ অঞ্চলকে রক্ষা করতে পারত না। অপরদিকে তখনকার যুদ্ধের চিত্র যদি পর্যালোচনা করি, তাহলে আমরা দেখি পাকিস্তানের লাহোর পর্যন্ত ভারত দখল করে নিত যদি না বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈনিকেরা সাহসের সঙ্গে ভারতের সামরিক আক্রমণের মোকাবেলা করত।

পূর্ব পাকিস্তানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কোন শক্তিশালী ঘাঁটি কখনও গড়ে তোলা হয়নি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৪ ডিভিশনের একটা হেড কোয়ার্টার ছিল খুবই দুর্বল অবস্থায়। আর সামরিক বাহিনীতে বাঙালির অস্তিত্ব ছিল খুবই সীমিত। ১৯৫৬ সালে দৈনিক ডন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বাঙালিদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল।

পদবী পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ববঙ্গ

জেনারেল ৩ জন ০

মেজর জেনারেল ২০ জন ০

ব্রিগেডিয়ার ৩৪ জন ০

কর্নেল ৪৯ জন ১ জন (বাংলা বলতেন না)

লে. কর্নেল ১৯৮ ২ জন

মেজর ৫৯০ জন ১০ জন

নৌ বাহিনী অফিসার ৫৯৩ জন ৭ জন

বিমান বাহিনী অফিসার ৬৪০ জন ৪০ জন

অর্থাৎ পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে সর্বোচ্চ পদে তা-ও লে. কর্নেল পদে মাত্র ২ জন বাঙালি অফিসার ছিলেন। অথচ যুদ্ধের সময়বাঙালি সৈনিকেরাই সবচেয়ে সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন। ঐ যুদ্ধের পর তাসখন্দে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যা তাসখন্দ চুক্তি নামে পরিচিত। সেখানেও পূর্ববঙ্গের স্বার্থের বা নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত হয়। একটু পিছন ফিরে তাকালে আমরা দেখি যে, বাঙালির বিরুদ্ধে সব সময় পাকিস্তানের শাসক চক্র বৈমাত্রীয়সুলভ আচরণ করেছে।

প্রথম আঘাত হানে বাংলা ভাষা বা আমাদের মাতৃভাষার উপর। তারা আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়ার চক্রান্ত শুরু করে। রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করে বাঙালিরা। সে ভাষা আন্দোলন শুরু করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে। মূলতঃ তখন থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানীদের শাসন-শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে হবে।

বাঙালিরা সব সময়ই পশ্চিমাদের থেকে শিক্ষা-দীক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চায় সমৃদ্ধ ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনেও অগ্রণী ভূমিকা ছিল এ অঞ্চলের মানুষের। জনসংখ্যার দিক থেকেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি। ৫৬ ভাগ মানুষের বসবাস ছিল পূর্ববঙ্গে।

পূর্ববঙ্গের উপার্জিত অর্থ কেড়ে নিয়ে তারা গড়ে তোলে পশ্চিম পাকিস্তান। বাঙালিদের উপর অত্যাচার করাই ছিল শাসকদের একমাত্র কাজ। ১৯৫৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অন্যান্য দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে জয়লাভ করে। মুসলীম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। কিন্তু ৯২ক ধারা অর্থাৎ ইমার্জেন্সি জারি করে তারা নির্বাচিত সরকার বাতিল করে দেয়। পূর্ববঙ্গে চালু করে কেন্দ্রীয় শাসন। অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে যখন ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে তখনও ষড়যন্ত্র থেমে থাকে না। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে। এভাবেই বার বার আঘাত আসে বাঙালিদের উপর।

৬-দফার প্রতি জনসমর্থন

আইয়ুব খানের নির্যাতন-নিপীড়নের পটভূমিতে যখন ৬-দফা পেশ করা হয়, অতি দ্রুত এর প্রতি জনসমর্থন বৃদ্ধি পেতে থাকে। আমার মনে হয় পৃথিবীতে এ এক বিরল ঘটনা। কোন দাবির প্রতি এত দ্রুত জনসমর্থন পাওয়ার ইতিহাস আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সমগ্র পূর্ব বাংলা সফর শুরু করেন। তিনি যে জেলায় জনসভা করতেন সেখানেই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হত, গ্রেফতার করা হত। জামিন পেয়ে তিনি আবার অন্য জেলায় সভা করতেন। এভাবে পরপর তিনি ৮ বার গ্রেফতার হন মাত্র দুই মাসের মধ্যে। এরপর ১৯৬৬ সালের ৮ মে নারায়ণগঞ্জে জনসভা শেষে ঢাকায় ফিরে আসার পর ধানমন্ডির বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। ৯ মে তাঁকে কারাগারে প্রেরণ করে। তৎকালীন সরকার একের পর এক মামলা দিতে থাকে।

একইসঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা শুরু হয়। সমগ্র বাংলাদেশ থেকে ছাত্রনেতা, শ্রমিক নেতাসহ অগণিত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করে।

১৯৬৬ সালের ১৩ মে আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ দিবস পালন উপলক্ষে জনসভা করে। জনসভায় জনতা ৬-দফার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন। ৩০-এ মে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির (ওয়ার্কিং কমিটি) সভা হয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী। ৭ জুন প্রদেশব্যাপী হরতাল ডাকা হয় এবং হরতাল সফল করার সর্বাত্মক উদ্যোগগ্রহণ করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের অনেক সভা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির বাড়িতে অনুষ্ঠিত হত।

৭ জুনের হরতালকে সফল করতে আমার মা বেগম ফজিলাতুননেসা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে তিনি দিক-নির্দেশনা দেন। শ্রমিক নেতা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করেছিলেন। পাকিস্তানী শাসকদের দমনপীড়ন-গ্রেফতার সমানতালে বাড়তে থাকে। এর প্রতিবাদে সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়। ৬-দফা আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ব বাংলার সকল স্তরের মানুষ – রিক্সাওয়ালা, স্কুটারওয়ালা, কলকারখানার শ্রমিক, বাস-ট্রাক-বেবিটেক্সি চালক, ভ্যান চালক, ক্ষুদে দোকানদার, মুটে-মজুর, দিনমজুর – সকলে এ আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন।

পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ও রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান যে কোন উপায়ে এই আন্দোলন দমন করার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেয় পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে। কিন্তু তাদের শত নির্যাতন উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষ ৭ জুনের হরতাল পালন করে ৬-দফার প্রতি তাঁদের সমর্থন জানিয়ে দেন। পাকিস্তান সরকার উপযুক্ত জবাব পায়। দুঃখের বিষয়হল বিনা উসকানিতে জনতার উপর পুলিশ গুলি চালায়। শ্রমিক নেতা মনু মিয়াসহ ১১ জন নিহত হন। আন্দোলন দমন করতে নির্যাতনের মাত্রা যত বাড়তে থাকে, সাধারণ মানুষ ততবেশি আন্দোলনে সামিল হতে থাকেন।

৭ জুন হরতাল সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ডায়েরিতে লিখেছেন: ‘‘১২ টার পরে খবর পাকাপাকি পাওয়া গেল যে, হরতাল হয়েছে। জনগণ স্বতষ্ফূর্তভাবে হরতাল পালন করেছেন। তাঁরা ৬-দফা সমর্থন করে আর মুক্তি চায়। বাঁচতে চায়, খেতে চায়, ব্যক্তি স্বাধীনতা চায়, শ্রমিকের ন্যায্য দাবি, কৃষকদের বাঁচার দাবি তাঁরা চায়, এর প্রমাণ এই হরতালের মধ্যে হয়েই গেল” (কারাগারের রোজনামচা পৃ: ৬৯)।

১৯৬৬ সালের ১০ ও ১১ জুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় হরতাল পালনের মাধ্যমে ৬-দফার প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করায় ছাত্র-শ্রমিক ও সাধারণ জনগণকে ধন্যবাদ জানানো হয়। পূর্ববঙ্গের মানুষ যে স্বায়ত্বশাসন চায়, তারই প্রমাণ এই হরতালের সফলতা। এ জন্য সভায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

১৭, ১৮ ও ১৯-এ জুন নির্যাতন- নিপীড়ন প্রতিরোধ দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীর বাড়িতে বাড়িতে কালো পতাকা উত্তোলন এবং তিন-দিন সকলে কালো ব্যাজ পড়বে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। হরতালে নিহতদের পরিবারগুলোকে আর্থিক সাহায্য এবং আহতদের চিকিৎসা দেয়ার জন্য একটা তহবিল গঠন এবং মামলা পরিচালনা ও জামিনের জন্য আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি আইনগত সহায়তা কমিটি গঠন করা হয়। দলের তহবিল থেকে সব ধরনের খরচ বহন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আন্দোলনের সকল কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করারও নির্দেশনা দেয়া হয়।

৬-দফা দাবির ভিত্তিতে স্বায়ত্বশাসনের আন্দোলন আরও ব্যাপকভাবে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সভা, সমাবেশ, প্রতিবাদ মিছিল, প্রচারপত্র বিলিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এই দাবির প্রতি ব্যাপক জনমত গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়।

এদিকে সরকারি নির্যাতনও বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে যত বেশি নির্যাতন আইয়ুব-মোনায়েম গং-রা চালাতে থাকে, জনগণ তত বেশি তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং সকল নিপীড়ন উপেক্ষা করে আরও সংগঠিত হতে থাকেন।

১৯৬৬ সালের ২৩ ও ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং আন্দোলন দ্বিতীয় ধাপে এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ আন্দোলন কেন্দ্র থেকে জেলা, মহকুমা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, তীব্রতর হতে থাকে।

সরকারও নির্যাতনের মাত্রা বাড়াতে থাকে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রাপ্তদের একের পর এক গ্রেফতার করতে থাকে। অবশেষে একমাত্র মহিলা সম্পাদিকা অবশিষ্ট ছিলেন। আমার মা সিদ্ধান্ত দিলেন তাঁকেই ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হোক। আওয়ামী লীগ সে পদক্ষেপ নেয়।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা

পাকিস্তান সরকার নতুন চক্রান্ত শুরু করল। ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি করে নিয়ে যায়। অত্যন্ত গোপনে রাতের অন্ধকারে সেনাবাহিনীর দ্বারা এ কাজ করানো হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়া হয়, যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে অধিক পরিচিতি পায়।

এই মামলায় ১-নম্বর আসামি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর সঙ্গে আরও ৩৪ জন সামরিক ও অসামরিক অফিসার ও ব্যক্তিকে আসামি করে।

অপরদিকে ৬-দফা দাবি নস্যাৎ করতে পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু নেতাদের দিয়ে ৮-দফা নামে আরেকটি দাবি উত্থাপন করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তবে এতে তেমন কাজ হয়না। উঁচুস্তরের কিছু নেতা বিভ্রান্ত হলেও ছাত্র-জনতা বঙ্গবন্ধুর ৬-দফার প্রতিই ঐক্যবদ্ধ থাকেন।

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা অর্থাৎ রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান মামলার মূল অভিযোগ ছিল যে, আসামিরা সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বক্তব্য ছিল: আমরা পূর্ব পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৫৬ ভাগ, সংখ্যাগুরু। আমরা বিচ্ছিন্ন হব কেন? আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই, স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই। যারা সংখ্যালগিষ্ঠ, তারা বিচ্ছিন্ন হতে পারে, সংখ্যাগরিষ্ঠরা নয়।

এই মামলা দেয়ার ফলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বাংলার মানুষের মনে স্বাধীনতা অর্জনের আকাক্ষা ও চেতনা শাণিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বদলীয়ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলা হয়। ছাত্ররা ৬-দফাসহ ১১-দফা দাবি উত্থাপন করে আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জেলা, মহকুমায়আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ক্যান্টনমেন্টের ভিতরেই কোর্ট বসিয়ে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা শুরু হয়। অপরদিকে জেল, জুলুম, গুলি, ছাত্র হত্যা, শিক্ষক হত্যাসহ নানা নিপীড়ন ও দমন চালাতে থাকে আইয়ুব সরকার।

পাকিস্তানী সরকারের পুলিশী নির্যাতন, নিপীড়ন ও দমনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ স্বতষ্ফুর্তভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করে। তাঁরা রাস্তায় নেমে আসে। সরকারপন্থী সংবাদপত্র থেকে শুরু করে থানা, ব্যাংক, সরকারের প্রশাসনিক দপ্তরে পর্যন্ত হামলা চালাতে শুরু করে। সমগ্র বাংলাদেশ তখন অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়।

‘আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করো, জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনবো, শেখ মুজিবের মুক্তি চাই’ – এ ধরনের শ্লোগানে শ্লোগানে স্কুলের ছাত্ররাও রাস্তায়নেমে আসে। এরই এক পর্যায়ে ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এই মামলার অন্যতম আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে বন্দিখানায় হত্যা করা হয়। মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাঁদের আশঙ্কা হয় এভাবে শেখ মুজিবকেও হত্যা করবে। সাধারণ মানুষ ক্যান্টনমেন্ট আক্রমণ করতে অগ্রসর হয়। জনতা মামলার বিচারক প্রধান বিচারপতির বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে পালিয়ে যান। প্রচুর গণআন্দোলনের মুখে ২১ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান আগড়তলা মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে একটা সামরিক জিপে করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ধানমন্ডির বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয় অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে। অন্য বন্দিদেরও মুক্তি দেয়া হয়।

ভাষা আন্দোলন-স্বায়ত্বশাসন থেকে স্বাধীনতা: ৬ দফার সফলতা

গণআন্দোলনে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতা দখল করে সেনাপ্রধান ইয়াহিয়া খান। ৬-দফার ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সমগ্র পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৯৭০ সালের ৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঘোষণা দেন পূর্ব পাকিস্তানের নাম হবে ‘বাংলাদেশ’।

কিন্তু বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় পাকিস্তানী সামরিক জান্তা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের মানুষ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন।

অসহযোগ আন্দোলন থেকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করে বাঙালি জাতি। ২৫ মার্চ পাকিস্তানী সামরিক জান্তা গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ৯ মাসের যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি চূড়ান্ত বিজয়অর্জন করে। বাঙালিরা একটি জাতি হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পায়, পায় জাতিরাষ্ট্র – স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ।

Categories
মুক্তমত সারাদেশ

অনলাইন ক্লাশ এবং ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট অর্জন

#রতন কুমার মজুমদার#
বিশ্বব্যপি কোভিট ১৯ সংক্রমনের ফলে যখন সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে , লক্ষ লক্ষ ছাত্র ছাত্রী যখন অলস সময় কাটাচ্ছে তখন শিক্ষামন্ত্রনালয়ের একটি যুগান্তকারি সিদ্ধান্ত হলো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা টিভি এবং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর জন্য অনলাইনে ক্লাশ নিয়া। এর কোন বিকল্পও ছিল না কারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে সেটা ছিল অনিশ্চিত।

মন্ত্রনালয় এবং মাউশির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কিছু সংখ্যাক প্রতিষ্ঠান কলেজের নিজস্ব ফেসবুক পেজে বা গ্রুপে ক্লাশ নেয়া শুরু করে। এতে করে প্রথম পর্যায়ে ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে তেমন সাড়া না পেলেও সময় অতিক্রান্তের সাথে সাথে অনলাইন ক্লাশের প্রতি ছাত্র ছাত্রীদের আগ্রহ বেড়েছে এবং ক্লশে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের অনেকগুলো দেশ প্রতিষ্ঠান বন্ধকালীন সময়ে অনলাইনে ক্লাশ নিশ্চিত করেছে।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী অনলাইনে ক্লাশের উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট অর্জনে অনলাইন ক্লাশের কোন বিকল্প নেই। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বাংলাদেশে জন্য একটি সুযোগ। একটি দেশের জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক কাঠামো অনুযায়ী কর্মক্ষম জনসংখ্যা (১৫-৫৯ বছর) যখন নির্ভরশীল জনসংখ্যাকে (০-১৪ বছর এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে) ছাড়িয়ে যায় তখন সে দেশে একটি সুযোগের সৃষ্টি হয় ।

জনসংখ্যার বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন সোনালি সময় পার করছে। আমাদের নির্ভরশীল জনসংখ্যার চেয়ে কর্মক্ষম জনসংখ্যা বেশি। জনসংখ্যার ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এখন শতকরা ৬৮ ভাগ। জনমিতির পরিভাষায় এটাই হলো একটি দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ। কোন জাতির ভাগ্যে এ ধরনের জনমিতিক সুবর্ণকাল একবারই আসে যা থাকে কমবেশি ৩০-৩৫ বছর। বাংলাদেশ এই সোনালি সময়ে পদার্পণ করেছে ২০১২ সাল থেকে যা শেষ হবে ২০৪০ এর দিকে।

ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড একটি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের প্রভাব ফেলে। এজন্য অনেক চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করেই একটি দেশকে জনসংখ্যার এই সুযোগ নিতে হয়। চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় সফলতার ওপরই নির্ভর করে এই সুযোগ কতটা জাতির জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনবে। তাই জনগোষ্ঠীর কর্মক্ষম বিশাল অংশকে মানবসম্পদে পরিণত করে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে কাজে লাগানোই মুখ্য বিষয়। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়টিই বার বার বলার চেষ্টা করেছেন। এর ওপরই নির্ভর করে জনমিতির সুযোগ ঘরে তোলা না তোলা। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী সে প্রেক্ষাপটে বলেছেন আমাদের তরুন প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট অর্জন করতে হবে। এ প্রজন্ম যাতে করে একটি মুহূর্তও হেলায় নষ্ট না করে তাই তিনি অনলাইন ক্লাশের প্রতি জোর দিয়েছেন।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসে অনলাইন ক্লাশের প্রতি জোড় দিয়েছে। কিছু কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকার পরও তাতে ব্যপক সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। সঠিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে মানসম্মত মানবসম্পদ গড়ে তোলা খুবই অপরিহার্য। একটি দেশ তার প্রতিটি কর্মক্ষম মানুষকে মানবসম্পদ বানাতে পারবে কি-না সেটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জটি এখন আমাদের সামনে। এ চ্যালেঞ্জ আমাদের মোকাবেলা করতে হবে।
এবার একটু আলোকপাত করা যাক অনলাইন ক্লাশের সুবিধা অসুবিধাগুলো।

১। স্মার্ট ফোন : কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যে পরিমান ছাত্র ছাত্রী আছে বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী তাদের ৯০% ছাত্র ছাত্রী স্মার্টফোন ব্যবহার করে। এছাড়া অনেকেই লেপটপ এবং ট্যাব ব্যবহার করে। অনলাইন ক্লাশে এ সুবিধাটা নিশ্চিত ভাবে একটি ইতিবাচক দিক।

২। ইন্টারনেট সংযোগ : এখন গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন ফোন কোম্পানীগুলোর নেটওয়ার্ক রয়েছে। অনায়াসে শিক্ষার্থীরা সে সুযোগটি নিতে পারে। তবে কোন কোন যায়গায় নেটওয়ার্কের দুর্বলতা রয়েছে। তবে তা একেবারে সামান্য।

৩। শিক্ষকদের দক্ষতা : অনলাইনে ক্লাশ নেয়ার কিছু শিক্ষকের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। আমরা ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছি কিন্তু আমাদের অনেক প্রবীন শিক্ষক এ পদ্ধতির সাথে নিজেদের খাপখাইয়ে নিতে পারেনি। কারো কারো ক্ষেত্রে অনাগ্রহও দেখা যায়। কিন্তু যেহেতু এ পদ্ধতি বর্তমান সময়ে অত্যাবশ্যক তাই যেকোন উপায়ে হোক উক্ত শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে এ কাজে সামিল হতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।

৪। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ : বর্তমানে অনলাইনে ক্লাশ নেয়ার ক্ষেত্রে অনেকগুলো সফটওয়ার আছে। যেমন ফেসবুক লাইভ ইউ টিউব লাইভ , জুম , কোর্সেরা , গুগল ক্লাশরুম, মাইক্রোসফট টিম, হ্যাংআউট, অভিএস স্টুডিও এর মত সফটওয়ার এখন হাতের নাগালে রয়েছে। এছাড়া মোবাইলে পাওয়াও পয়েন্ট এবং স্ক্রিন রেকর্ডার দিয়েও ক্লাশ রেডি করা যায়। কিন্তু এ পদ্ধতিগুলো অনেক শিক্ষক এখনো রপ্ত করতে পারেনি বা আগ্রহ নেই। তাই সল্প সময়ের ট্রেনিং এর মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়।
৫। সুবিধা : ক্লাশরুমে শিক্ষকরা যেভাবে ক্লাশ নেয় তার চেয়ে অনলাইনে ক্লাশ শিক্ষার্থীদের নানামূখি সুবিধা দিচ্ছে।
ক) শিক্ষকরা যখন অনলাইনে ক্লাশগুলো নেয় তখন শিক্ষার্থী লাইভে প্রশ্ন করলে শিক্ষক তা এড্রেস করতে পারে।
খ) ক্লাশটি অনলাইনে রেকর্ডেড থেকে যায় । শিক্ষার্থী কোন কারণে লাইভে অংশ নিতে না পারলে তার সুবিধামত সময়ে ক্লাশটি দেখে নিতে পারে।
গ) কলেজে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাশ নিতে হয়। কিন্তু অনলাইনে শিক্ষক রাতের বেলায়ও ক্লাশ এটেন্ড করতে পারে এবং শিক্ষার্থীরা সেই সময়ে অংশ নিতে পারে।

সবেচেয়ে বেশী দরকার যেটি সেটি হলো আমাদের মাইন্ডসেট। একটি প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকরা যদি একটি টিমওয়ার্কে কাজ করে তবে অনলাইন পদ্ধতিটির অনেক সুফল পাবে শিক্ষার্থীরা। নানারকম সীমাবদ্ধতার পরও এর কোন বিকল্প নেই। অনলাইনে ক্লাশ নেয়াটা সকল প্রতিষ্ঠানে পুরোদমে শুরু হয়ে গেলে এর ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা যাবে।

নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করেই একাজে এগোতে হবে। দক্ষ জনসংখ্যার সুযোগ কাজে লাগানোর মাধমেইজাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া আজ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। চীনের মতো রাষ্ট্র তাদের বিশাল জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত করেই আজ এতদূর এগিয়ে গেছে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের এই সুযোগ কাজে লাগাতে শিক্ষামন্ত্রনালয়ের এ পদক্ষেপের মাধ্যমেই ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসাবে আমরা আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হব।

-অধ্যাপক রতন কুমার মজুমদার, অধ্যক্ষ্য, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুর ।

Categories
মুক্তমত সারাদেশ

দক্ষ টিমওয়ার্কের কাছে হারলো করোনা !

রতন কুমার মজুমদার ♦মুক্তমত♦

করোনা হেরে গেল একটি দক্ষ টিমওয়ার্কের কাছে। ভালো কিছু করতে হলে টিম ওয়ার্কের বিকল্প নেই – এই কথা অতি সত্যি যে ভালো টিম ওয়ার্ক করতে পারলে যে কোনও অসাধ্য সাধন করা যায়। অভিজ্ঞতা দিয়ে বড় প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয়া যায় শুধুমাত্র ভালো টিম ওয়ার্ক এর জোরে। একটি ভালো টিম ওয়ার্ক তখনই হয় যখন টিমের প্রতিটি সদস্য নিজের দায়িত্বে পুরোপুরি ১০০% নিবেদিত থেকে ভালোভাবে নিজের কাজ করেন, এবং অন্যদের কাজে সাহায্য করেন। একটি টিমকে ভালো টিম ওয়ার্ক করতে হলে টিম মেম্বারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ভালো থাকার পাশাপাশি কাজের স্বার্থে একজন আরেকজনকে সাহায্য করার মনোভাব থাকতে হবে। এখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেয়া যাবে না। আর যেটি থাকতে হবে সেটা হলো যোগ্য নেতৃত্ব।

বলছিলাম এবছর এস এস সি পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা। নীরবে নিভৃতে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করারর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ ফলাফল প্রকাশ করলেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। করোনা পরিস্থিতির কারণে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে যখন সরাদেশ লকডাউনে গেল তখন এস এস সি পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে গেল কারণ পরীক্ষক বা প্রধান পরীক্ষক থেকে ওএমআরগুলো তখন পর্যন্ত বোর্ডে পৌছায়নি। প্রায় ৪০% ওএমআর তখনও প্রধান পরীক্ষকের নিকট থেকে গিয়েছিল।

এমন পরিস্থিতিতে ছাত্র ছাত্রী এবং অভিভাবকদের কথা চিন্তা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যত দ্রুত সম্ভব ফলপ্রকাশ করার নির্দেশ দিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী এবং মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী বিকল্প পদ্ধতিতে ওএমআরগুলো বোর্ডে নিয়ে আসার জন্য বোর্ড চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দিলেন। শুধু তাই নয় সার্বক্ষণিক মনিটরিং করেছেন কাজের অগ্রগতি। দফায় দফায় জুম মিটিং করেছেন চেয়ারম্যানদের সাথে।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ পেয়েই বোর্ডের চেয়াম্যান থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মযজ্ঞে নেমে গেলেন। নিজস্ব বাহকের মাধ্যমে এবং পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে বিশেষ ব্যবস্থায় ওএমআর গুলো তিন দিনের মধ্যেই সংগ্রহ করে ফেল্লেন। এখানে জেলা প্রশাসকরাও ভূমিকা রেখেছেন। তখন একদিকে চলছিল লকডাউন অপরদিকে রোজার ছুটি। এ ছুটির মধ্যেই রাত দিন পরিশ্রম করে ওএমআরগুলো স্কেনিং করা থেকে শুরু করে প্রসেসিং সব কাজগুলো একটি টিমওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পন্ন করে ফেল্লেন ঝুকির মধ্যেও। ব্যাপারটি একদিকে জটিল ছিল আবার অবিশ্বাস্য ছিল। সকল রকমের স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাতদিন কাজ করে এ কর্মযজ্ঞ শেষ করলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে।

প্রথমে যেকথাটা বল্লাম নেতৃত্ব এবং টিমওয়ার্ক। অভিজ্ঞতা দিয়ে বড় প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেয়া যায় শুধুমাত্র ভালো টিম ওয়ার্ক এর জোরে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রীর যোগ্য নেতৃত্বে সকল বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের পরিশ্রমের ফসল আজকের এস এস সি এর ফলাফল। পুরো একটি টিম কাজ করছে আন্তরিকতা ও দক্ষতার সাথে। যদিও অনেকের মনে সন্দেহ ছিল কাজটি সুচারুরূপে করা যাবে কিনা । কিন্তু সকলের দক্ষতা আর আন্তরিকতায় এবং যোগ্য নেতৃত্বে পরাজিত হলো করোনা । করোনা আটকিয়ে রাখতে পারেনি ফলাফল। করোনা হেরে গেল একটি দক্ষ নেতৃত্ব ও টিমের কাছে।
-অধ্যাপক রতন কুমার মজুমদার
অধ্যক্ষ, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুর :

Categories
মুক্তমত সারাদেশ

জাল পরা বাসন্তি আর পানিতে নামাজ পড়া একই সূত্রে গাঁথা…

১৯৭৪ সালে পাক-মার্কিন পরিকল্পিত দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে কুড়িগ্রামের চিলমারির প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলেপাড়ার এক হতদরিদ্র পরিবারের বাক্‌ ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বাসন্তীকে নিয়ে একটি ট্র্যাজেডি নাটকের মঞ্চায়ন করা হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে তা আপনারা অবহিত আছেন।

কুড়িগ্রাম জেলার প্রত্যন্ত এলাকা চিলমারীর জেলে পাড়ার বাক প্রতিবন্ধী বাসন্তী ও তার কাকাতো বোন দুর্গতির জাল পরিহিত লজ্জা নিবারণের একটি ছবি ১৯৭৪ সালে ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। অভাবের তাড়নায় সম্ভ্রম রক্ষা করতে পারছিল না বলে ছবিটিতে দেখানো হয়।

সেই বহুল আলোচিত ছবির ফটোগ্রাফার ছিলেন ইত্তেফাকেরই নিজস্ব আলোক চিত্রি, রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানার মহিপুরের আফতাব আহমদ। পরবর্তীতে বেরিয়ে আসে ছবিটি ছিল সম্পূর্ণ সাজানো। বঙ্গবন্ধুকে ব্যর্থ প্রমান করতে বাসন্তী ও দুর্গতিকে নিয়ে প্রকাশিত সাজানো সেই ছবিটি ছিল হলুদ সাংবাদিকতা ও নোংরা রাজনীতির খেলা। যে খেলার মুখোশ উম্মোচিত হলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অনেক প্রতিবেদনও ছাপা হয়।

এ ফটো সাংবাদিক আফতাব উদ্দিন জামাত নেতা ইউপি চেয়ারম্যান আনসার আলীকে ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে দু’জনে নাটক সাজানোর জন্য চলে যান জেলে পল্লীতে। সেখানে পরিকল্পিতভাবে বাসন্তীর সমস্ত শরীরে মাছ ধরার জাল পড়িয়ে লজ্জা নিবারণের মিথ্যে সান্তনা বুকে নিয়ে একটি মেয়ে কলা গাছের ভেলায় চড়ে পাতা সংগ্রহ করছেন, বন্যার পানিতে আরেকজন সাদৃশ্য নারী শ্রীমতি দূর্গতি রাণী বাঁশ হাতে ভেলার অন্য প্রান্তে বসে নিয়ন্ত্রণ করছেন ভেলাটিকে।

পরে এ ছবি ও একটি প্রতিবেদন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া মাত্রই দেশে-বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়। ছবিটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ব মানবতার মনকে নাড়া দিয়ে ওঠে। ওই ছবিটিকে সম্বল করে জনতার সামনে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের ব্যর্থতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াসে এতটুকুও ত্রুটি রাখেনি স্বাধীনতা বিরোধীরা। বাসন্তির জাল পরা ছবিটিকে ঘিরে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে ক্ষমতাসীন মুজিব সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে ছবিটিকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করা হয়। পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছিল বিষয়টি পরিকল্পিত ছিল।

১৯৭৪ এর পর ২০২০ সালের  কয়রা অঞ্চলে চুয়াত্তরের মত আরেকটি নাটক মঞ্চায়ন হয়েছে গতকাল ঈদের দিন। ২১ মে আম্পানে দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্জলে ক্ষয়িক্ষতি হয়েছে, জলোচ্ছাস হয়েছে। অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। ঘরবাড়ী পানিতে তলিয়ে গেল। মানুষ অসহায় হয়ে পরলো। এলাকার লোকজন মিলে সেখানে ভাঙ্গা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করলো।

দুষ্টচক্ররা সেখানকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষগুলোর সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে চুয়াত্তরের মত ২০২০ সালে আরেক আফতা উদ্দিন খুলনা দক্ষিন জেলা জামায়াতের আমীর ও কয়রা উপজেলার প্রাক্তন চেয়ারম্যান মাওলানা তমিজ উদ্দিন এর মঞ্চে আবির্ভাব হলো। ১৪/৮/২০১৪ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা তমিজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ১৫/৮/২০১৪ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় তার মুক্তি চেয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। তার সাথে যুক্ত হলো জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির এক নেতা যার বাড়ী কয়রা অঞ্চলে।

ঈদের দিন তারা কয়রা এলাকায় এসে যারা বাঁধ নির্মানের চেষ্টা করছিল তাদেরকে জড়ো করে সেখানকার পানিতে নেমে ঈদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা করা হয়। অথচ যে যায়গায় পানিতে নামাজ পড়া হয়েছে তার আসে পাশের এলাকায় শুকনো যায়গা ছিল। কিন্তু তারা সেখানে না গিয়ে পানিতেই ঈদের নামাজ পড়েছে। পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ভিডিও এবং ছবি তুলেছে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রটি যার সাথে শিবিরের সংল্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রচার আছে। নামাজের পরপরই সেই ছবি তুলে দেয়া হয়েছে বিভিন্ন মিডিয়ার কাছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ছবিটি ব্যাপক প্রচারিত হলে এর পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়। তারই প্রেক্ষিতে অনুসন্ধন করে এবং ঐ এলাকার অনেকের সাথে আলাপ করে জানা যায় এমন একটি নাটক মঞ্চস্থ করা হবে তার পরিকল্পনা করা হয় দুদিন আগেই। অনুসন্ধান করতে গিয়ে আরো কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসে। পানিতে দাড়িয়ে যে ঈদের নামাজ পড়া হয়েছিল সে নামাজে ঈমামতি করেছে সেই ২০১৪ সালে গ্রেফতার হওয়া জামাত নেতা। এতে আর বুঝতে বাকি থাকে না যে ঘটনাটি কি ঘটেছিল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরুর পর নামাজের পক্ষে কেউ কেউ বলতে চেয়েছেন এটি ছিল প্রতিকি প্রতিবাদ। এবার দেখা যাক পানিতে নামাজ পড়া নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর খুজি।
১। কয়রা অঞ্চলে যেখানটা প্লাবিত হয়েছে সেখানে বা তার আসেপাশে এমন কোন উচু যায়গা কি ছিল না যেখানে নামাজ পড়া যায় ? অনেকেতো এক কিলোমিটার হেটে গিয়েও নামাজ পড়েন। এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি তাদের কাছে।

২। নামাজ , পূজা ধর্মীয় বিষয়। এগুলো করতে হয় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং পবিত্র যায়গায়। তারা পানিতে যেখানে নামাজ পড়েছে সে যায়গাটি কি পবিত্র ছিল। জলোচ্ছাসে সারা এলাকার মল মুত্রে সয়লাব ছিল যায়গাটি। এছাড়া নামাজ পড়তে হলে অজু করতে হয়। অপবিত্র যায়গায় নামার সাথে সাথেইতো তাদের অজু নষ্ট হয়ে গেছে। নামাজের মত ধর্মীয় একটি বিষয় নিয়ে তামাশা করা হয়েছে সেটাও গর্হিত কাজ হয়েছে। এর উত্তরও পাওয়া যায়নি।

৩। নামাজের ৩০ মিনিটের মধ্যে এই ছবি এবং ভিডিও মিডিয়াতে চলে আসলো কিভাবে সেটাও প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। আজাদ নামের যে ছেলেটি ছবি এবং ভিডিও করেছে সে তার ফেসবুকে একটি স্টেটাস দিয়েছে এ ঘটনার দুদিন আগে এমন একটি নামাজ হবে তার প্রচারণা চালানো হয়েছিল। সেও ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত ছিল।

১৯৭৪ সালে বাসন্তিকে জাল পরানো হয়েছিল, নাকি দারিদ্র্যের কারণে তিনি নিজেই জাল পরে সম্ভ্রম রক্ষা করেছিলেন, তা নিয়ে অনেক বিতর্ক চলেছিল । কিন্তু ৭৪-এর দুর্ভিক্ষের পর বাসন্তির আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কেউ আর বাসন্তির খোজ খবর রাখেনি।
এদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি বেদনাময় অধ্যায়ের নাম।

-অধ্যাপক রতন কুমার মজুমদার।
অধ্যক্ষ, পুরানবাজার ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুর এর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া

Categories
জাতীয় মুক্তমত

বাউল মতবাদ ও আবিস্কারক রবীন্দ্রনাথ ভাবনা

রনজক রিজভী :

সাহিত্য সৌধের কালজয়ী এক প্রতিভার নাম কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজ তাঁর ১৫৯তম জন্মজয়ন্তী। তিনি নিজেকে কেন্দ্রবিন্দু করেই ঘুরেছেন সাহিত্যাঙ্গন। একারণে নিজের উদাহরণ হয়েছেন নিজেই। এই মহাপুরুষের সাহিত্য সাধনার স্থান অনেকগুলো থাকলেও সাহিত্যতীর্থ ছিল একটাই। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ। এখানে এসে তিনি বাউল ভাবনার সহজ মানুষসহ পেয়েছেন গ্রামীণ জীবনের ছোঁয়া। এখানকার সুর বৈচিত্র আর ভৌগলিক প্রেক্ষাপটেই তিনি হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রবাউল।

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বাউল মতবাদের একটি সুনিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে শিলাইদহে। তিনি বাউল গানের ভাব-সাধন এখান থেকেই উলোটপালোট করে দেখেছেন। জেনেছেন বাউলদের সম্পর্কেও। সংগ্রহ করেছেন বাউল গান। আর এই বাউল গানের সুর ও ভাব তাঁকে কখন আকৃষ্ট করেছিল, তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি। যার প্রভাব তাঁর বেশ কিছু গানে রয়েছে। এনিয়ে কেউ-কেউ বিভ্রান্তিকর কথা বললেও রবীন্দ্রসমুদ্র সম্পর্কে তাদের জানার সীমাবদ্ধতাই প্রকাশ পায়। বাউল মতবাদে আকৃষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ যে একজন বড় মাপের আবিস্কারক, এ প্রমাণও তিনি দিয়েছেন।

রবীন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৬১ সালে। তখন লালন ফকিরের আনুমানিক বয়স ৮৭ বছর। রবীন্দ্রনাথ আশি বছর তিন মাস বয়সে ২২ শ্রাবন ১৩৪৮ সালে (৭ আগষ্ট ১৯৪১) পরলোকগমন করেন। আর লালন ১৮৯০ সালে ১৭ অক্টোবর প্রায় একশত ষোল বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন। তখন রবীন্দ্রনাথের বয়স ত্রিশ বছর। এই সূত্রে বলা যায়, জমিদারীর কারণে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে এসে লালন ফকিরকে জেনেছিলেন। যখন লালন ফকির জীবিত ছিলেন। যা তিনি শিলাইদহে না এলে এই সুযোগ পেতেন না। তাঁর প্রাণধর্মের প্রেরণা আর বাউলের প্রেরণার উৎস ছিলো অভিন্ন। তাই বাউলের ‘মনের মানুষ’ তত্ত্বের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনদেবতা’র একটি ঐক্য ও সাযুজ্যবোধ সহজেই আবিস্কার করা সম্ভব। বাউলগানের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ তাঁর মানববাদী জীবনচেতনার প্রেরণা অনুভব করেছিলেন। একারণে নিজে রবীন্দ্র বাউল বলেও ভেবেছেন।

জমিদারী পরিচালনার সূত্রে শিলাইদহে এসে রবীন্দ্রনাথ বিভিন্ন বাউল-ফকির ও বৈষ্ণব-বৈষ্ণবীর সংস্পর্শে আসেন। এখানেই বাউলগানের সঙ্গে তাঁর অন্তরঙ্গ পরিচয় ঘটে। এই শিলাইদহেই বাউল-সংস্পর্শ লাভের বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ‘হারামণি’র ভূমিকায় নিজেই বলেছেন: ‘শিলাইদহে যখন ছিলাম, বাউলদের সঙ্গে আমার সর্ব্বদাই দেখাসাক্ষাৎ ও আলাপ আলোচনা হ’ত। আমার অনেক গানেই বাউলের সুর গ্রহণ করেছি। এবং অনেক গানে অন্য রাগরাগিনীর সঙ্গে আমার জ্ঞাত বা অজ্ঞতসারে বাউলসুরের মিল ঘটেছে। এর থেকে বোঝা যাবে, বাউলের সুর ও বাণী কোন এক সময়ে আমার মনের মধ্যে সহজ হয়ে মিশে গেছে। আমার মনে আছে তখন আমার নবীন বয়স, Ñশিলাইদহ অঞ্চলেরই এক বাউল কলকাতায় একতারা বাজিয়ে গেয়েছিল, ‘কোথায় পাব তারে/ আমার মনের মানুষ যে রে/ হারায়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশে/ দেশ বিদেশ বেড়াই ঘুরে।’

লালন-শিষ্যদের সঙ্গে শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের দেখাসাক্ষাৎ ও দীর্ঘসময় আলাপ আলোচনা হয়েছে, এ-কথা তিনি কালীমোহন ঘোষের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজেই উল্লেখ করেছেন। লালন-শিষ্যদের মধ্যে পাঁচু শাহ, শীতল শাহ, ভোলাই শাহ, মলম শাহ, মানিক শাহ ও মনিরদ্দীন শাহ শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবির কাছে যাতায়াত করতেন বলে জানা যায়। কুঠিবাড়ির সঙ্গে ছেঁউড়িয়ার আখড়ার একটি অন্তরঙ্গ সম্পর্কও হয়েছিল।

শিলাইদহ পোস্ট-অফিসের ডাকহরকরা বাউলকবি গগন হরকরাকে রবীন্দ্রনাথই আবিষ্কার করে দেশ-বিদেশে পরিচিত করেন। বাউলগান রচয়িতা ও সুগায়ক হিসেবে তার বিশেষ খ্যাতি ছিলো। সেই সুবাদে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। গগনের থেকেই তিনি বিভিন্ন সাধকের বাউলগান শোনার সুযোগ পেয়েছিলেন। রবীন্দ্রমানসে বাউলচেতনা সঞ্চারের মূলে রয়েছেন লালন ফকির ও গগন হরকরা। বাউলতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কে তাঁর ধারণা-গঠনে গগনের ‘আমি কোথায় পাব তারে’ গানটির ভূমিকা খুবই স্পষ্ট।

শিলাইদহে গগন হরকরা, কাঙাল হরিনাথ, গোঁসাই রামলাল, গোঁসাই গোপাল, সর্বক্ষেপী বোষ্টমী ও লালনের শিষ্যসম্প্রদায়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দেখা-সাক্ষাৎ ও আলাপ-আলোচনা হয়েছে। শিলাইদহ ও ছেঁউড়িয়া-অঞ্চল থেকে সংগৃহীত লালন ফকির ও গগন হরকরার গান তিনি সুধীসমাজে প্রচার করেন। একই সঙ্গে বাউলগান-রচয়িতা কুমারখালীর সাধক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের (১৮৩৩-১৮৯৬) সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথের আলাপ-পরিচয়ের কথা জানা যায়। তবে রবীন্দ্রনাথের পিতামহ ও পিতার সময়ে শিলাইদহে প্রজা-পীড়নের কথা হরিনাথ ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকায় প্রকাশ করে ঠাকুর-পরিবারের বিরাগভাজন হন। এইসব কারণে উভয়ের মধ্যে খুব একটা সহজ সম্পর্ক স্থাপিত হতে পারেনি। এরপরও কাঙাল হরিনাথ প্রতিষ্ঠিত কুমারখালী মথুরানাথ মুদ্রাযন্ত্রের বাংলা ১৩০৭ সনের পত্র-নকল খাতার ২২০ নং পত্রে (১০ পৌষ ১৩০৭) জানা যায়, রবীন্দ্রনাথ হরিনাথের বাউলগীতি-গ্রন্থসহ অন্যান্য কয়েকটি গ্রন্থ সংগ্রহ করেছিলেন।

রবীন্দ্রনাথের পরিচিত শিলাইদহ গ্রামের বাউলসাধকদের মধ্যে গোঁসাই রামলাল (১৮৪৬-১৮৯৪) ও গোঁসাই গোপালের (১৮৬৯-১৯১২) নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এই দুই সাধকের সাধনপীঠও শিলাইদহ গ্রাম, কবির কুঠিবাড়ির খুব কাছে। গোঁসাই রামলালের সঙ্গে অবশ্য কবির পরিচয় দীর্ঘ হতে পারেনি। সুকণ্ঠ গোঁসাই গোপালের সাধনতত্ত্ববিষয়ক সঙ্গীতের অনুরাগী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। মাঝে-মধ্যে তিনি কুঠিবাড়িতে গোপালকে আমন্ত্রণ জানাতেন গান শোনার জন্য। শোনা যায় রবীন্দ্রনাথ গোঁসাই গোপালেরও কিছু গান সংগ্রহ করেছিলেন। এভাবে তিনি অনেককেই মূল্যায়ন করেছেন এবং অনেকের সাহিত্যকর্ম সংগ্রহও করেছেন। এক্ষেত্রে তাঁকে আবিস্কারক বলা যেতে পারে। তাঁর সংগ্রহশালা থেকে এঅঞ্চলের অনেক গুণীজনকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

Categories
অপরাধ অর্থনীতি খেলার খবর চিকিৎসা জাতীয় ধর্ম প্রবাসী বিনোদন বিশ্ব ভ্রমণ মুক্তমত রাজনীতি শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

করোনা প্রতিরোধে অসহায়দের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আজও কয়েকটি জেলায় খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা পরিস্থিতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী, দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছে বেসরকারি সংগঠনও।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি অসহায় ও দুস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে রাজশাহীতে পদ্মাপাড়ের দরগাপাড়া ও বালুচর এলাকায় দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে। এ সময় উপস্থিত প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধদের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া হয়। পরে নগরীর দাসপুকুর ও বহরমপুর এলাকায় আরও দেড় শতাধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন সেনা সদস্যরা।

কুমিল্লায় বেতনের একটি অংশ দিয়ে দরিদ্র ও কর্মহীনদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন সেনাসদস্যরা। সকালে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে রিকশা চালকসহ অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা তুলে দেয়া হয়। চাল,ডাল, তেল ও সবজিসহ এগারটি পণ্য বিতরণ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল মাহবুব আলম।

গাজীপুরে কর্মহীন দশ হাজার মানুষের মাঝে চাল,ডাল আলুসহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন শ্রীপুরে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল। সকাল থেকে উপজেলার ইউনিয়নে ইউনিয়নে গিয়ে এসব বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রী পেয়ে খুশি ঘরবন্দি মানুষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দরিদ্র ও কর্মহীন শ্রমজীবী পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়। সকালে শহরের মধ্যপাড়ায় দেড় হাজার কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন পৌর কাউন্সিলর কাউছার আহমেদ। এদিন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেলুনকর্মী, নির্মাণ শ্রমিক ও জেলে সম্প্রদায়ের ২শো কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়।

খাগড়াছড়ির খাগড়াপুর এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেন জেলা পরিষদের সদস্য পার্থ ত্রিপুরা। সামাজিক দূরত্ব মেনে প্রথম দিনে, ৪শ পরিবারকে চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে আরও তিন হাজার পরিবারকে ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সদর উপজেলার খেরুদিয়া এবং বালুধুম স্কুল মাঠে উপস্থিতি ২ হাজার মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেয়া হয়। করোনা পরিস্থিতিতে ৬০ হাজার পরিবারকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

যশোরে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। সকালে ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জলপুরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দুই হাজারের বেশি শ্রমজীবীদের মাঝে চাল-ডালসহ নিতপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

নীলফামারীতে ভিক্ষুকদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক। প্রথমদিন শুক্রবার, সৈয়দপুরে সাড়ে সাতশ’ জনকে এক মাসের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রত্যেকেকে ত্রিশ কেজি চালসহ ৬টি পণ্য এবং ৬ শ টাকা দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার ১ শ ৫০জন ভিক্ষুককে খাদ্যসহায়তা দেয়া হবে।

এদিকে কর্মহীন হয়ে পড়া দিনমজুর ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে শাকসবজি ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন ফেনীর প্যানেল মেয়র। সার্কিট হাউজের সামনে এ সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।

পিরোজপুরে কর্মহীন পরিবাবের শিশুদের জন্য শিশুখাদ্য বিতরণ করেছে একটি বেসরকারি সংগঠন। শহরের রাজারহাটে ব্যতিক্রমী এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময়, শতাধিক শিশুর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

অন্যদিকে, সেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে ঠাকুরগাঁওয়ে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে বিনামূল্যে সবজি বিতরণ করা হয়। শহরের সমবায় মার্কেট চত্বরে বাজার মুল্যের চেয়ে ৩০ ভাগ কমে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করা হয়। এসময় প্রত্যেক ক্রেতাকে বিনামূল্যে সবজি দেয়া হয়।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবী, দুস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বেসরকারি সংগঠন।

Categories
বিশ্ব মুক্তমত

ভ্যাকসিন তৈরিতে সফলতার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইউরোপ আমেরিকা থেকে শুরু করে এশিয়ার বেশ কিছু দেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে । এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন , ভ্যাকসিন তৈরিতে সফলতার খুব কাছাকাছি পৌছে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর ভ্যাকসিন তৈরি হলেই পুরো বিশ্ব দেখবে আশার বাণী।

ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এবং হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্কফোর্সের সমন্বয়ক দেবোরাহ ব্রিক্সের সাথে এক আলোচনা সভায় ট্রাম্প জানান আমাদের অনেক দক্ষ চিকিৎসক আছে যারা ভ্যাকসিন তৈরিতে একটানা কাজ করে করছে।

করোনা যুদ্ধে ভ্যাকসিন তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে জোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ব্রিটেন দাবি করেছে আগামী আগস্টের মধ্যেই তারা করোনার ভ্যাকসিন বাজারে আনবে। সেই সাথে জার্মানী ও চীনেও চলছে ভ্যাকসিন তৈরির কাজ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রমক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থোনি ফাওসি এর আগে বলেছিলেন, ভ্যাকসিন বাজারে আসতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগবে।

Categories
অপরাধ অর্থনীতি খেলার খবর চিকিৎসা জাতীয় ধর্ম প্রবাসী বিনোদন বিশ্ব ভ্রমণ মুক্তমত রাজনীতি শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

করোনার বিরুদ্ধে ক্রিকেটারদের অন্য রকম ইনিংস

মুশফিক সাকিব আশরাফুলের পর এগিয়ে আসছেন দেশের ক্রিকেটের আরও অনেক তারকা। উৎসাহিত হয়ে এবার একই উদ্যোগ নিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার।

এমন ভিন্ন উদ্যোগ আগে মুশফিক নিলেও বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে নিলামে কোন কিছু বিক্রির মাধ্যমটা দেখিয়ে দেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে রানের বান ছোটানো ব্যাটটি নিলামে তুলেছিলেন তিনি। ২০ লাখ টাকায় তা কিনেছেন এক প্রবাসী।

মাশরাফী যথাসাধ্য সহায়তার পাশাপাশি এবার নিলামের মঞ্চে উঠাতে চাচ্ছেন তার জার্সি, ব্রেসলেট ও বেইমানী করা পায়ে পরা কেডস জোড়া।

অলরাউন্ডার সাইফুদ্দীনের সংগ্রহে সযত্নে রাখা সাকিব আল হাসান, বিরাট কোহলি ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এম এস ধোনির সাক্ষরিত বলটি দিচ্ছেন নিলাম বাজারে।

সতীর্থদের দেখানো পথে হাঁটছেন লিটন দাসও। নিলামে তুলতে যাচ্ছেন এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করে সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাটখানা।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সৌম্যও পিছিয়ে নেই নিলামের দৌড়ে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে ৯৪ বল ক্যারিয়ারের ১ম টেস্ট সেঞ্চুরি করা ব্যাটটি দিচ্ছেন নিলামের বাজারে। এই তালিকায় আছেন স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদও। গতির ঝড় তুলে ২০১৭ সালে ডাম্বুলায় লঙ্কানদের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক কাব্য লিখা বলটি তুলছেন নিলামের মঞ্চে।

জাতীয় দলে জায়গা হারালেও, দেশের দুঃসময়ে হারিয়ে যায়নি বিজয়ের মানবিকতা। ২০১৬ সালে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে সেঞ্চুরি হাঁকানো ব্যাটটি নিলামের তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়।

ক্রিকেটারদের এই সামগ্রীর নিলাম পরিচালনা করবে অকশন ফর একশন। যা ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এই ক্রিকেট যোদ্ধাদের বিশ্বাস, করোনার আগ্রাসন একদিন পরাজিত হবেই। আবারও সুন্দর এক সকাল আসবে এই ধরণীতে।

Categories
অপরাধ অর্থনীতি খেলার খবর জাতীয় ধর্ম প্রবাসী বিনোদন বিশ্ব ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ মুক্তমত রাজনীতি শিক্ষাঙ্গন সারাদেশ

করোনা ইস্যুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডাকে সাড়া দিল না যুক্তরাষ্ট্র!

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মহামারি চলছে।আর এর মধ্যেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) সঙ্গে বিবাদ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।করোনা সংকট রোখার রণকৌশল ঠিক করতে শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ককে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানায় ডাব্লিউএইচও। বৈঠকে একাধিক বিশ্ব নেতা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অংশ নেয়। তবে হাজির ছিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রতিনিধি।

নিজের দেশে করোনার মৃত্যুমিছিল স্বত্বেও মাথা নোয়াতে নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

করোনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিকে নিয়ে শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি বৈঠক ডাকে। তাতে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রসিডেন্ট, জার্মান চ্যান্সেলার, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের মতো রাষ্ট্রনায়কেরা। সেই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত সব দেশের প্রতিনিধিরা। করোনা ভাইরাস যাতে আর ছড়িয়ে না পড়তে পারে, তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি। আরও বেশি টেস্ট, আইসোলেশনের ব্যবস্থা, চিকিৎসার উন্নত ব্যবস্থার মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্ব নেতারা।

এ বৈঠকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল টেডরোজ আধানাম বলেন, এই সমস্যা আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সমাধান করতে হবে। সহানুভূতির সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।

তবে, এদিনের বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি।

বৈঠকে কোনও প্রতিনিধি না পাঠিয়ে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিলেন অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেনা না তিনি।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ফের অনুদান দেওয়ারও কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুদিন থেকেই দ্বন্দ্ব চলছিল। চীনের তাবেদারি করার অভিযোগে ইতিমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।