Categories
প্রবাসী

বৈরুতে বাংলাদেশিরা মারামারি করায় করোনা পরীক্ষা বন্ধ

ঢাকা: লেবাননের রাজধানী বৈরুতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মারামারি করায় করোনা পরীক্ষা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ফলে দেশে আসার জন্য নিজ নিজ দায়িত্বে করোনা পরীক্ষা কারার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে দূতাবাস।

১৪ আগস্ট শুক্রবার বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

দূতাবাস জানায়, স্বেচ্ছায় দেশে যেতে যাদের করোনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ল্যাবরেটরির সামনে মারামারি ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছেন। এর কারণে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ দিয়েছেন। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য বলা হয়েছে।

দূতাবাস থেকে আরও জানানো হয়, এ ধরনের আচরণের কারণে অবৈধ ও কাগজপত্র ছাড়া লেবাননে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ দেশে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য যাত্রীদের নিজ দায়িত্বে করোনা পরীক্ষা করতে হবে।

ভয়েস টিভি/ নিজস্ব প্রতিবেদক/ টিআ

Categories
জাতীয় প্রবাসী

কবি আলেয়া চৌধুরী আর নেই

কবি আলেয়া চৌধুরী আর নেই (ইন্না…রাজিউন)। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টে ৩ আগস্ট সোমবার তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কবির বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

আলেয়া চৌধুরীর পারিবারিক বন্ধু শাহরিয়ার সালাম গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রকল্যান্ডে প্রয়াতের কাছাকাছি থাকেন একটি প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধান শামসুল আলম। বাংলাদেশ থেকে আলেয়া চৌধুরীর উদ্বিগ্ন ভাইয়ের ফোন পেয়ে সোমবার সন্ধ্যার পর কবির অ্যাপার্টমেন্টে যান তিনি। কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধায়কের সাহায্য নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের তালা ভেঙে দেখা যায়, বাথরুমে আলেয়া চৌধুরীর মৃতদেহ পড়ে আছে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

শুধু কবিই নন, আলেয়া চৌধুরী একজন সংগ্রামী নারী। লেখালেখির মতো জীবনের শুরু থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বারবার ঝলসে উঠে তার কণ্ঠস্বর।

আলেয়া চৌধুরীর জন্ম কুমিল্লার উত্তর চর্থা গ্রামে। তিনি অবিবাহিত ছিলেন, নিউইয়র্কে একাই থাকতেন। ১৯৬৯ সালে গ্রাম্য পঞ্চায়েতের অমানবিক বিচারের পর ঢাকায় পালিয়ে এসে হকারের কাজ নেন ক্ষুব্ধ আলেয়া চৌধুরী। রিকশা, বাসচালক হিসেবেও কাজ করেন তিনি।

১৯৭০ সালে বেগম পত্রিকায় তার লেখা কবিতা প্রকাশিত হয়। ১৯৭৩ সালে প্রথম কবিতার বই ‘জীবনের স্টেশনে’ প্রকাশ হয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র মিলিয়ে তার ১১টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে ইরান ও জার্মানি ভ্রমণ করেন আলেয়া চৌধুরী। ২০ বছর বয়সে মাছ ধরার নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হন।

আলেয়া চৌধুরীকে নিয়ে নিউইয়র্কের স্টার ম্যাগাজিন ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ শীর্ষক প্রচ্ছদ কাহিনি প্রকাশ করে। ১৯৯৪ সালে দিনা হোসেন ‘আলেয়া: অ্যা বাংলাদেশি পোয়েট ইন আমেরিকা’ নামে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেন।

ভয়েস টিভি/ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক/ডিএইচ

Categories
প্রবাসী

করোনার মধ্যেও রেকর্ড পরিমান রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর মধ্যে জুলাই মাসে প্রবাসীরা দেশে ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা এর আগে কোনো একক মাসে এতো রেমিট্যান্স কখনও আসেনি।

৩ আগস্ট সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক কাজী ছাইদুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রেকর্ড রেমিট্যান্সের কারণে ৩০ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে তিন হাজার ৭২৯ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ তিন লাখ ১৬ হাজার ২০৪ কোটি টাকা।

প্রতি বছরই দুই ঈদের আগে পরিবার-পরিজনের জন্য বেশি অর্থ দেশে পাঠান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ২৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। একক মাস হিসেবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল চলতি বছরের জুনে। ওই মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে)। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত অর্থ দেশে আসেনি।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণে রেকর্ড হয়। ওই সময়ে প্রবাসীরা এক হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। সেই হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার বা ১৫ হাজার কোটি টাকা।

ভয়েস টিভি/নিজস্ব প্রতিবেদক/ডিএইচ

Categories
প্রবাসী

ইউরোপে চরম সংকটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

ঢাকা:ইউরোপের অর্থনৈতিক মন্দায় চরম সংকটে পড়েছেন ওই অঞ্চলের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। সেখানে  অনেক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মারাত্মকভাবে লোকসানের মুখে তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় অর্ধেকের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী লোকসান গুণতে গুণতে বর্তমানে তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেবার মতো পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।

মহামারি সংকট প্রাথমিকভাবে কেটে যাবার পরও আগের স্বাভাবিক অবস্থা না ফেরার কারণে, বর্তমানে নিজের জমানো টাকা খরচ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন তারা। বাকি পড়ে যাচ্ছে মোটা অংকর দোকান ভাড়াসহ সরকারের ট্যাক্সের টাকা ও কর্মচারীর বেতন।

ইউরোপের অন্যান্য বাংলাদেশি অধ্যুষিত দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, বেলজিয়ামেও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কিছু কিছু শহরে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর থেকে ৪ মাস একটানা লোকসান গুণে অনেকে মূলধন হারিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে লকডাউনের সময় অনেক শহরে মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যের দোকান, ফলের দোকানসহ তৈরি খাবার হোমডেলিভারির সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ভালো হয় বলে জানা গেছে। যদিও বর্তমানে ইউরোপজুড়ে চলা অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন অনেক ব্যবসায়ী।

এদিকে বড় ধরনের লোকসান গুণেও বর্তমান সময় পর্যন্ত যারা টিকে আছেন, তারা ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন। ব্যবসার ভরা মৌসুম জুন থেকে সেপ্টেম্বর ইউরোপের বিখ্যাত শহরগুলো পর্যটনশূন্য এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রেতাবিহীন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনা মহামারির সংক্রমণে প্রায় কোনোরকম প্রস্তুতি ছাড়াই লকডাউনের কারণে, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয় তাদের। কিন্তু পুনরায় এখন খোলার পরেও অনেক ব্যবসায়ীর বিক্রি কমে গেছে শতকরা ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ। বর্তমানের বিক্রি দিয়ে ব্যবসার আনুষঙ্গিক খরচের এক তৃতীয়াংশও পূরণ হবে না বলে জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।
ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
প্রবাসী

বাংলাদেশ থেকে যাত্রী পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা ইতালির

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়ায় প্রথমে একসপ্তাহের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্লাইট বাতিল করেছিলো ইতালি। এবার এই সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত করেছে দেশটি। এ সংক্রান্ত নোটিশ জারি করেছে ইতালি।

নোটিশে বলা হয়েছে, ‘ইতালিয়ান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশে থেকে আসা সব যাত্রী ও ফ্লাইট ইতালিতে প্রবেশ করতে পারবে না। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলো বাংলাদেশে থেকে কোনও যাত্রী আনতে পারবে না। এমনকি কোনও ট্রানজিট ফ্লাইটেও যাত্রী আনা যাবে না, যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন।’

এই নোটিশ জারির পর কাতার এয়ারওয়েজ ঘোষণা দিয়েছে— ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ইতালিগামী কোনও যাত্রী তাদের ফ্লাইটে নেওয়া হবে না।

বিশ্বে করোনা সংক্রমণে বিপর্যস্ত দেশগুলোর একটি ইতালি। এ পর্যন্ত সে দেশে ২ লাখ ৪১ হাজার ৮শ’র বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের তালিকায় দেশটির অবস্থান ১১তম। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইতালিতে প্রাণ হারিয়েছে ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ।

জানা গেছে, ৬ জুলাই বাংলাদেশ থেকে রোমে যাওয়া একটি ফ্লাইটের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যাত্রীর শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এরপর বাংলাদেশের সঙ্গে সব ধরনের ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। এ ঘোষণার পরও ৮ জুন বাংলাদেশ থেকে কাতার হয়ে ইতালিতে যাওয়া দুটি ফ্লাইটের ১৬৮ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে দেয় ইতালি।

করোনা পরিস্থিতির কারণে দুই মাস বন্ধ থাকার পর জুনে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়। গত কয়েক সপ্তাহে ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ফ্লাইট চলাচল হয়েছে।
ভয়েস টিভি/প্রতিবেদক/ডিএইচ

Categories
প্রবাসী

উত্তর মেসিডোনিয়ায় ট্রাক থেকে ১৪৪ বাংলাদেশি উদ্ধার

গ্রিসের উত্তরের প্রতিবেশী নর্থ মেসিডোনিয়ায় একটি ট্রাক থেকে এবার ১৪৪ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৩ জনই কম বয়সী। খবর আল জাজিরার।

রুটিন মাফিক টহলে একটি ট্রাক থেকে ওই অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এদের মধ্যে ১৪৪ জন বাংলাদেশি এবং ৬৭ জন পাকিস্তানি নাগরিক।

৬ জুলাই মঙ্গলবার পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গেভজেলিজা শহরের কাছে সোমবার রাতে একটি ট্রাককে থামায় সীমান্তে টহলরত নিরাপত্তাবাহিনী। এরপরেই ওই ট্রাকের ভেতর থেকে দুই শতাধিক অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়। ওই ট্রাকের ২৭ বছর বয়সী চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি মেসিডোনিয়ার নাগরিক। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়,  ট্রাক থেকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদেরও গ্রেফতার করে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই করোনা মহামারির কারণে গ্রিসের সঙ্গে উত্তর মেসিডোনিয়ার সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু মানবপাচারকারী চক্রগুলো ওই এলাকায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতেও সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্র অভিবাসীদের অবৈধভাবে তুরস্ক হয়ে গ্রিসে এরপর উত্তরের দিক থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেতে সহায়তা করে আসছে।

প্রতি বছরই যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দরিদ্র দেশগুলো থেকে অবৈধভাবে গ্রিস হয়ে ইউরোপে পাড়ি জমায় হাজার হাজার অভিবাসী ও শরণার্থী।

এদিকে, মঙ্গলবার ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ২৫ জন অভিবাসীকে অন্যত্র স্থানান্তর করেছে গ্রিস। ইউরোপীয় দেশগুলোতে স্থানান্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি জনবহুল শরণার্থী ক্যাম্প থেকে তাদের পর্তুগালে পাঠানো হয়েছে। ইউরোপে তাদের কোনো আত্মীয়-স্বজন থাকে না। তবুও তারা বিপজ্জনকভাবেই ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিল। এদিকে ২৫ শিশুর আরও একটি অভিবাসী দলকে বুধবার এথেন্স থেকে ফিনল্যান্ডে পাঠানোর কথা রয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কমপক্ষে ৫ হাজার ২শ শরণার্থী শিশু গ্রিসে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে অনেকেই বেশ খারাপ অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।

সম্পাদনা : আমির

Categories
জাতীয় প্রবাসী বিশ্ব সারাদেশ

বিশেষ ফ্লাইটে ২৪৭ জন ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশি ফিরলেন প্যারিসে

আব্দুল মালেক হিমু, প্যারিস, ফ্রান্স: করোনাভাইরাসে কারণে বাংলাদেশে আটকেপড়া ২৪৭ জন ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশি বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইট প্যারিস পৌঁছেছেন ।

বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫ টায় চার্লস দ্য গল (সিডিজি) বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৪১৪৭ নম্বরের বিশেষ ফ্লাইটটি অবতরণ করে। এসময় তাদের স্বাগত ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন, অল ইউরোপিয়ান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আয়েবা) এর মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ সহ আয়েবা ও ফ্রান্স আওয়মীলীগের নেতৃবৃন্দ।

বাংলাদেশ দূতাবাস প্যারিস, বিমান বাহিনী কল্যাণ ট্রাস্টের সার্বিক সহযোগিতায় অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের (আয়েবা) এই বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে। এছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ফ্রান্স আওয়ামী লীগ সহযোগিতায় অংশ নেয়।

রাষ্ট্রদূত কাজী ইমতিয়াজ হোসেন এ ফ্লাইটটি আয়োজনে যারা সহযোগিতায় করেছেন তাদেরসহ বিমান প্যারিসে অবতরণের অনুমতি দেয়া ফরাসি সরকারকে ধন্যবাদ জানান । তিনি আগত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফরাসি সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোম আইসোলেশনে থাকার জন্য আহবান জানান।

অল ইউরোপিয়ান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আয়েবা) এর মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ বলেন, করোনার সংকটের কারণে ফ্রান্স প্রবাসীরা বাংলাদেশীরা দেশে গিয়ে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তারা আটকা পড়েন। তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এ বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেন তার সংগঠনের পক্ষ থেকে । এছাড়া আটকে পড়া বাকীদেরও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি ।

Categories
প্রবাসী বিশ্ব সারাদেশ

অভিবাসীদের নিয়মিতকরণের দাবিতে ফ্রান্সে আবারো বিক্ষোভ

আব্দুল মালেক হিমু : ফ্রান্সে অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়মিতকরণের দাবিতে ফের বিক্ষোভ করেছে কয়েক হাজার অভিবাসীরা। তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে ফরাসী মানবাধিকার সংগঠনসহ দু’শোর অধিক বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ।

শনিবার রাজধানী প্যারিসের নেশন চত্ত্বর থেকে পদযাত্রা করে স্ট্যালিং গ্রাডে এসে তারা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে । তবে পুলিশ বেশ তৎপর থাকায় কোন ধরনের সংঘর্ষ বাধে নি। এই বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী ও বাংলাদেশী বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয় । একইদিন ফ্রান্সের অন্যান্য বড় বড় শহরও বিক্ষোভ করেছে অনিয়মিত অভিবাসীরা ।

উল্লেখ্য : করোনা ভাইরাসের এই আপদকালীন সময়ে ফ্রান্সে বসবাসকারী অনিয়মিত অভিবাসীদেরকে বৈধতা দেয়ার দাবিতে ফরাসী পার্লামেন্টে কয়েকজন এমপি এবং দেশটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা করোনা সংকট বিবেচনায় সরকারের কাছে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার দাবি জানিয়েছিলেন।

Categories
প্রবাসী

সৌদিতে করোনায় মারা গেছেন ৫ বাংলাদেশি চিকিৎসক

ভয়েস রিপোর্ট: সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত পাঁচজন বাংলাদেশি চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। একই সঙ্গে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুই চিকিৎসকের স্ত্রীও। এছাড়া বেশ কয়েকজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে। সোমবার রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পাঁচজন ডাক্তার হলেন- ডা. মোহাম্মদ শফিউল্লাহ (রণক),ডা. আবদুর রহিম, ডা. আফাক হোসেন, ডা. গোলাম মোস্তফা ও ডা. আনোয়ার উল হাসান।
সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মোশিহ্ নিহত চিকিৎসকদের স্মরণ করে বলেন, যে চিকিৎসকরা মানুষকে সাহায্য ও চিকিৎসার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন তারা প্রকৃত বীর। তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯ জুন করোনা সংক্রমণের কারণে মারা যান ডা. মোহাম্মদ শফিউল্লাহ (রণক)। তিনি সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে রিয়াদের কিং সালমান হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে পরামর্শক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ড. রণক সৌদি আরবে কোভিড-১৯ মহামারি সংক্রমণের শুরু থেকেই কিং সালমান হাসপাতালের দুটি করোনা ওয়ার্ডের দায়িত্বে ছিলেন।
করোনায় সৌদি আরবে প্রথম ডাক্তার হিসেবে ডা. আফাক হোসেনের মৃত্যু হয়। তিনি পবিত্র নগরী মদিনার স্থানীয় সাফা আল মদিনা পলি ক্লিনিকের একজন অর্থোপেডিক সার্জন ও জেনারেল প্র্যাকটিশনার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আরেক চিকিৎসক আবদুর রহিম ১৯ মে জেদ্দায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি জেদ্দার বিন লাদেন পলি ক্লিনিকে জেনারেল প্র্যাকটিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৩ জুন ডা. আনোয়ার উল হাসান রিয়াদে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মারা যান। তিনি রিয়াদের বাথায় বদরুদ্দিন পলি ক্লিনিকে জেনারেল প্র্যাকটিশনার হিসাবে কাজ করেছিলেন। এছাড়া ১৬ জুন মদিনায় করোনার সংক্রমণে ডা. গোলাম মোস্তফা মারা যান। তিনি সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে মদিনার আগুল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রিয়াদে করোনা সংক্রমণে আরও দু’জন বাংলাদেশি ডাক্তারের স্ত্রীও মারা যান। ডা. শফিকুল ইসলামের স্ত্রী এবং ডা. আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী সম্প্রতি রিয়াদে ইন্তেকাল করেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন চিকিৎসকও সৌদিআরবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ আক্রান্ত ডাক্তারদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত ও যেকোনো সহযোগিতা করার জন্য চিকিৎসক সংগঠনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

Categories
প্রবাসী

করোনায় বিভিন্ন দেশে ১১০৬ প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর জানা যায় ১৮ মার্চ দুপুরে। ওই​ দিনই সন্ধ্যায় জানা গেল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজন প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর। সেটাই ছিল দেশের বাইরে প্রথম কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু।

এরপর প্রায় প্রতিদিনই নিউইয়র্কে বাংলাদেশির মৃত্যু হচ্ছিল। একই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছিল নতুন নতুন দেশ, যেখানে একের পর এক প্রবাসী আক্রান্ত ও মারা যাচ্ছিলেন। গতকাল শনিবার পর্যন্ত মোট ১৯ দেশে অন্তত ১ হাজার ১০৬ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাঁদের স্বজনদের কাছ থেকে এসব মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি মারা গেছেন সৌদি আরবে। গত শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে ৩৬০ জন করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মারা গেছেন। এরপরই আছে যুক্তরাজ্য। সে দেশে মারা গেছেন ৩০৫ জন। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশির মৃত্যু নিয়মিত ঘটনা হলেও গত ১০ দিনে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৭২ জন মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এর বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫০ জন, কুয়েতে ৪২ জন, কাতারে ১৮ জন, ইতালিতে ১৪ জন, কানাডা ও বাহরাইনে ৯ জন করে, সুইডেনে ৮ জন, ফ্রান্সে ৭ জন, স্পেনে ৫ জন মারা গেছেন। ভারত, মালদ্বীপ, পর্তুগাল, কেনিয়া, লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও গাম্বিয়ায় ১ জন করে বাংলাদেশির করোনায় মারা যা​ওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হলেও রিয়াদ থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনা ভাইরাসে নিহত বাংলাদেশিদের সম্পর্কে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্যটা খুব বেশি। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার পর্যন্ত মারা গেছেন ১১৫ জন বাংলাদেশি। তবে সরকারি ও বেসরকারি সূত্র মিলিয়ে আমাদের তথ্য অনুযায়ী মৃত্যুর সংখ্যা এরই মধ্যে ৩৬০ জন ছাড়িয়ে গেছে।’

রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জানান, সৌদিতে এখন পর্যন্ত করোনায় অন্তত ১৪ হাজার বাংলাদেশি সংক্রমিত হয়ে গেছেন। এঁদের মধ্যে বড় অংশটি সুস্থ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন করে অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর ফলে দুই সপ্তাহ ধরে দেখা যাচ্ছে সংক্রমিত বাংলাদেশির সংখ্যা এক জায়গায় আটকে থাকছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ফলে বিদেশে থাকা অনেকের পরিবারের সদস্যদের কাছে বাইরে থেকে ফোন আসা মানেই যেন নতুন কোনো দুঃসংবাদ। ঢাকার ব্যবসায়ী কাজী মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দীন গতকাল প্রথম আলোকে বললেন, নিউইয়র্কে গত এপ্রিলে তাঁর দুই ভাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন।

বড় ভাই কাজী মোহাম্মদ আশরাফউদ্দীন ২৫ এপ্রিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অবশ্য ছোট ভাই এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘নিজের ভাই ছাড়াও আমার কাছের কয়েকজন মানুষ নিউইয়র্কে করোনায় মারা গেছেন। বড় ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকে নিউইয়র্ক থেকে ফোন এলে মনে হতো, আবার কোনো দুঃসংবাদ শুনতে যাচ্ছি।’

এখন পর্যন্ত বিদেশে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়াদের ওই সব দেশেই দাফন করা হয়েছে। এ বিষয়ে কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আশহুদ আহমেদ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত এখানে যাঁরা করোনাভাইরাসে মারা যাচ্ছেন, বিদেশি নাগরিক হলে এখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওই দেশের মিশনকে নিহতের তথ্য জানায়। এরপর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কর্তৃপক্ষ দাফনের ব্যবস্থা করছে।

আট দেশে ৫৮,৩০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ অন্য দেশে আক্রান্তের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন সিঙ্গাপুরে। যাঁদের বেশির ভাগই শ্রমিক। গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত বাংলাদেশির সংখ্যা ২২ হাজার। এঁদের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে গেছেন। তবে কেউ মারা যাননি। সিঙ্গাপুরে প্রথম আক্রান্ত বাংলাদেশি নাগরিকের শারীরিক জটিলতার কারণে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল। দুই মাসের বেশি সময় ধরে তাঁকে আইসিইউতে রেখে সুস্থ করে তুলেছে সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ।

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ডরমিটরিতে অভিবাসীদের মধ্যে এপ্রিলের শেষে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ ছড়ানোর আগে পর্যন্ত দেশটি পরিস্থিতি খুব ভালো সামাল দিয়েছে। তারা যেভাবে ভেবেছে, পরিস্থিতি তেমন দিকেই গেছে। কারণ, তারা বেশ আগেভাগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য নেমে পড়েছিল। সার্সের অভিজ্ঞতাও তাদের জন্য সহায়ক হয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশি কর্মীদের মধ্যে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ব্যাপক থাকায় সিঙ্গাপুর সরকার যথেষ্ট সতর্ক।

রাষ্ট্রদূত জানান, সিঙ্গাপুরে কারও দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ১৪ দিনের জন্য সঙ্গনিরোধে (কোয়ারেন্টিন) পাঠানো হয় নির্ধারিত অবকাঠামোতে। কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাঁকে পাঠানো হয় কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিশেষায়িত ক্যাম্পে। ১১ দিন পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাঁকে পাঠানো হয়েছে নির্দিষ্ট হোটেলে, প্রমোদতরিতে কিংবা সরকারি অ্যাপার্টমেন্টে।

সিঙ্গাপুরের বাইরে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ১৪ হাজার, কাতারে ১২ হাজার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ও কাতারে ৪ হাজার করে, মালদ্বীপে ১ হাজার, বাহরাইনে ১ হাজার এবং ইতালিতে ৩০০ বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ওই আট দেশে গতকাল পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৩০০ জন আক্রান্ত বলে খবর পাওয়া গেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে কত বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন, এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই তিন দেশের প্রবাসী এবং দেশে তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিয়েছেন। অবস্থা খারাপ হওয়ার পর হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের অনেকে মারা গেছেন। ধারণা করা ​হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত বাংলাদেশির সংখ্যা ১৫ থেকে ১৮ হাজার হতে পারে।

বার্তা কক্ষ, ২১ জুন ২০২০