Categories
চিকিৎসা

সস্তায় করোনার ট্যাবলেট পাবে ১০৫ দেশ

জাতিসংঘের সংস্থা মেডিসিনস পেটেন্ট পুলের (এমপিপি) এক চুক্তির ফলে মার্কের করোনা বড়ি সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করা হবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। বাংলাদেশসহ ১০৫টি দেশ এই সুবিধা পাবে। করোনার বড়ি ‘মলনুপিরাভির’ নামে বাজারজাত করছে মার্ক। ওষুধটি নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর হাতে তুলে দিতে ওই চুক্তির আওতায় বিশ্বের ২৭টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে এমপিপি। বৃহস্পতিবার নতুন চুক্তির বিষয়টি সামনে আনে জাতিসংঘের ওই সংস্থাটি।

চুক্তি অনুযায়ী কিছু ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে এই বড়ি সরবরাহ আগামী মাসে শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এমপিপির একজন মুখপাত্র। খবর সিএনএনের।

আরও পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড চিকিৎসায় মুখে খাওয়া বড়ির অনুমোদন

এমপিপির চুক্তির তথ্যমতে, বিশ্বের ২৭টি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি মলনুপিরাভিরের কাঁচামাল উত্পাদনের বিষয়টি দেখভাল করবে। ১৩টি প্রতিষ্ঠান কাঁচামাল তৈরির পাশাপাশি মার্কের ওই করোনার বড়িটি উত্পাদনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। বাকি ৯টি প্রতিষ্ঠানের কাজ হবে ওষুধটি যথাযথভাবে উত্পাদন করা। এই বড়ি উৎপাদন করার জন্য বাংলাদেশ, চীন, মিসর, জর্ডান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বেছে নেওয়া হয়েছে।

মার্কের তথ্যমতে, করোনায় আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় পাঁচ দিনে এক কোর্স মলনুপিরাভির বড়ি (৪০টি) গ্রহণ করতে হয়। মার্কের সঙ্গে করা এমপিপির চুক্তি অনুযায়ী, কম দামে মলনুপিরাভির উত্পাদনে কোনো রয়্যালটি নেবে না মার্ক। ফলে দরিদ্র দেশগুলোর বাসিন্দারা কমবেশি ২০ মার্কিন ডলার খরচ করলেই এক কোর্স বড়ি পাবেন বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির এক কর্মকর্তা।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
চিকিৎসা বিশ্ব

চোখের রেটিনা বলে দেবে আপনার মৃত্যু কবে, জানাল গবেষণা

চোখের মণিতে কি শুধুই হৃদয়ের ‘গোপন কথা’টি লুকিয়ে থাকে? না। হয়তো লুকিয়ে থাকে আরও বেশি কিছু। চোখের ভাষায় এ বার হয়তো পড়ে নেওয়া যাবে মৃত্যুর সময়ও। অন্তত এক দশক আগেই।

হ্যাঁ, শুধু চোখ দেখেই এ বার বলে দেওয়া যাবে আপনার আয়ু আর কত দিন! কিডনির অসুখে, নাকি হৃদরোগে অথবা স্নায়ুরোগে, মৃত্যু হবে কী ভাবে তা-ও ধরে ফেলা যাবে আগেভাগেই। স্রেফ রেটিনা পরীক্ষা করে।

এই খবর দিয়েছে সাম্প্রতিক একটি নজরকাড়া গবেষণা। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব অপথ্যালমোলজি’তে। গবেষণা জানিয়েছে, এই চিকিৎসাপদ্ধতির কোনও হ্যাপা নেই তেমন। রোগীকে ভোগ করতে হবে না যন্ত্রণাও।

দু’জন সমবয়সীর শরীরের দেহকোষগুলির ক্ষয় বয়সের সঙ্গে সঙ্গে একই হারে হয় না। কারও ক্ষেত্রে তা হয় দ্রুত হারে। কারও ক্ষেত্রে তা কম। এখানেই বছরের হিসাবে মানুষের বয়সের সঙ্গে তার দেহকোষের আয়ুর (‘বায়োলজিক্যাল এজ’) তফাতটা হয়ে যায়।

গবেষণা জানাল, মানব দেহকোষের সেই ক্ষয়ের ছবিটা নিখুঁত ভাবে অনেক আগেভাগেই ধরা পড়ে রেটিনায়। রেটিনার ভাষা পড়েই আগেভাগে বলে দেওয়া যেতে পারে কার আয়ু আর কত দিন। মৃত্যু হতে পারে কী ধরনের রোগে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’) পদ্ধতির অ্যালগরিদমের মাধ্যমে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের কথায়, ‘‘এই পদ্ধতি আগামী দিনে চিকিৎসকদের হাতে বড় হাতিয়ার তুলে দিতে পারে। কারণ, এই পূর্বাভাসের জন্য এখন যে পদ্ধতিগুলি (যেমন, নিউরোইমেজিং, ডিএনএ মেথিলেশন ক্লক, ট্রান্সক্রিপটোম এজিং ক্লক) চালু রয়েছে সেগুলি ততটা নিখুঁত নয়। অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ। যন্ত্রণাদায়কও। কাজটা যদি রেটিনা পরীক্ষা করেই করা যায় তা হলে খরচ, হ্যাপা দুই-ই কমবে। তা যন্ত্রণাদায়কও হবে না।’’

ব্রিটেনে প্রায় ৫০ হাজার মধ্যবয়সির উপর পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা দেখেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পদ্ধতির মাধ্যমে যদি বোঝা যায় কারও চোখের রেটিনার বয়স তার নিজের বয়সের চেয়ে অন্তত এক বছর বেশি, তা হলে বলে দেওয়া যাবে আগামী ১১ বছরের মধ্যে যে কোনও কারণে তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা দুই শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। সেই পূর্বাভাস যতটা সঠিক হবে পুরুষের ক্ষেত্রে, ততটাই নিখুঁত হবে মহিলাদের ক্ষেত্রেও।

গবেষকরা এ-ও দেখেছেন, রেটিনার বয়স কারও বয়সের চেয়ে অন্তত এক বছর বেশি হলে ক্যানসার বা কোনও রকমের হৃদরোগ ছাড়া অন্য কোনও রোগে আগামী ১১ বছরে তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে যাবে কম করে তিন শতাংশ।

গবেষণাপত্রটি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যালগরিদম অনুযায়ী এই ভাবে প্রায় ৫০ হাজার মধ্যবয়সির রেটিনা পরীক্ষা করে গবেষকরা যে পূর্বাভাস করেছিলেন, তা মিলে গিয়েছে এক দশকের মধ্যে প্রায় দু’হাজার জনের মৃত্যুর মাধ্যমে। মৃতদের রেটিনার বয়স তাঁদের বয়সের চেয়ে এক বছর বেশি ছিল।

পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই চালানো হয়েছে এই গবেষণা। রেটিনা দেখে কেন মৃত্যুর পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে তার কারণ এখনও জানতে পারেননি গবেষকরা।

তবে গবেষণার ফলাফল অন্তত এইটুকু জানিয়েছে, দেহের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে ক্ষয়ক্ষতিগুলি হয় দেহকোষের তাতে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল রেটিনাই। রেটিনার কোষগুলিতেই সেই ক্ষয়ক্ষতির ছাপ পড়ে সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে আগে। চোখের ভাষাতেই প্রথম ধরা পড়ে আমাদের বুড়িয়ে যাওয়ার দাগ!

রেটিনার কলাগুলিতে থাকে স্নায়ুকোষ, থাকে রক্তজালিকাও। গবেষকদের ধারণা, রেটিনার কোষ, কলাগুলিই সবচেয়ে আগে জানাতে পারে রক্তজালিকা আর মস্তিষ্কের খবরাখবর। তাদের হালহকিকৎ।

এর আগের কয়েকটি গবেষণা দেখিয়েছিল, রেটিনা জরিপ করে নানা ধরনের হৃদরোগ, কিডনির অসুখ, বুড়িয়ে যাওয়ার কিছু লক্ষণ আঁচ করা যেতে পারে।

এই গবেষণা দেখাল, রেটিনা খুঁটিয়ে দেখে, দেহের বয়সের সঙ্গে রেটিনার বয়সের ফারাক মেপে-বুঝে যে কোনও রোগেই মৃত্যুর আশঙ্কা এক দশকের মধ্যে কতটা তার পূর্বাভাস দেওয়াও সম্ভব হতে পারে।

গবেষণাপত্রে গবেষকরা লিখেছেন, ‘‘দেখা গেল, রেটিনা নানা ধরনের স্নায়ুরোগ আর হৃদরোগের আঁচ আগেভাগে বোঝার জানলা। এটা এর আগে এতটা নিখুঁত ভাবে দেখা যায়নি।’’

নতুন নতুন ওষুধ, শল্য চিকিৎসা ও নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির জন্য হৃদরোগে মৃত্যুর হার আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু এই গবেষণা জানাল, কে ১০ বছরের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে চলেছেন তা চোখের রেটিনা পরীক্ষা করে বলে দেওয়া যেতে পারে এক দশক আগেই।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
চিকিৎসা জাতীয়

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট গুণিতক আকারে বাড়ার আশঙ্কা

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন দেশে গুণিতক আকারে বাড়ার আশঙ্কা করছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) গবেষকরা।

 ১৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিএসএমএমইউ’র কোভিড-১৯ এর ৭৬৯টি জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই আশঙ্কার কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

দুই সংখ্যা থেকে গুণিতক আকারে ২, ৪, ৬, ৮ এভাবে বৃদ্ধি পায়। আবার ৩ থেকে গুণিতক আকারে ৩, ৯, ১২, ১৮ এভাবে বৃদ্ধি পায়

বিএসএমএমইউ উপাচার্য জানান, তাদের সংগৃহীত নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিং বিশ্লেষণ গবেষণায় ২০২১ সালের জুলাই মাসে দেখা যায়, মোট সংক্রমণের প্রায় ৯৮ শতাংশ হচ্ছে ইন্ডিয়ান বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, আর ১ শতাংশ সাউথ আফ্রিকান বা বেটা ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা সংক্রমণ। ১ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে আমরা পেয়েছি মরিসাস অথবা নাইজেরিয়ান ভ্যারিয়েন্ট।

শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২০২১ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত জিনোম সিকোয়েন্সে প্রাপ্ত ডাটা অনুযায়ী, ৯৯ দশমিক ৩১ শতাংশ ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট, একটি করে ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন আলফা বা ইউকে ভ্যারিয়েন্ট এবং বেটা বা সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট এবং অন্য একটি স্যাম্পল-এ শনাক্ত হয় টুয়েন্টি-বি ভ্যারিয়েন্ট, যা একটি ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট।

তিনি বলেন, গেলো ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সংগৃহীত ৪০টি নমুনার ৮টিতে ২০ শতাংশই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট এবং ৮০ শতাংশ ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। পরের মাসে এই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট গুণিতক হারে বৃদ্ধির আশঙ্কা করা যাচ্ছে। প্রকৃত ফল আমরা এ মাসেই আপনাদের জানাতে পারবো।’

গবেষণা প্রসঙ্গে শারফুদ্দিন জানান, এই রিপোর্ট বিএসএমএমইউ’র চলমান গবেষণার ৬ মাস ১৫ দিনের ফল। আমরা আশা করি, পরের সপ্তাহগুলোতে চলমান হালনাগাদ করার ফল জানাতে পারবো।

গবেষকরা জানান, ২০২১ সালের ২৯ জুন থেকে এ বছরের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত সারাদেশের রোগীদের ওপর এই গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণায় দেশের সব বিভাগের রিপ্রেজেন্টেটিভ স্যাম্পলিং করা হয়।

গবেষণায় মোট ৭৬৯ কোডিড-১৯ পজিটিভ রোগীর ন্যাযোফ্যারিনজিয়াল সোয়াব স্যাম্পল থেকে নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়।

বিএসএমএমইউ’র গবেষণায় ৯ মাস থেকে শুরু করে ১০ বছর বয়সী রোগী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২১ থেকে ৫৮ বছর বয়সের রোগীদের সংখ্যা বেশি। যেহেতু কোনও বয়সসীমাকেই কোভিড ১৯-এর জন্য ইমিউন করছে না, সে হিসেবে শিশুদের মধ্যেও কোভিড সংক্রমণ রয়েছে।

গবেষণায় আরও পাওয়া গেছে, কোভিড আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যাদের কো-মরবিডিটি রয়েছে যেমন: ক্যানসার, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস তাদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি ষাটোর্ধ বয়সী রোগীদের দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হলে সে ক্ষেত্রে মৃত্যু ঝুঁকি বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।

উপাচার্য বলেন, ‘ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট অনেক বেশি সংক্রমিত হচ্ছে বলে প্রতীয়মান। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ভাইরাসের জেনেটিক কোডে ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে বেশি ডিলিশন মিউটেশন পাওয়া গেছে, যার বেশির ভাগে ভাইরাসটির স্পাইক প্রোটিন রয়েছে। এই স্পাইক প্রোটিনের ওপর ভিত্তি করে বেশির ভাগ ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। স্পাইক প্রোটিনের বদলের জন্যই প্রচলিত ভ্যাকসিনেশনের পরেও ওমিক্রন সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকে যায়।’

তিনি জানান, আমাদের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে কোনও কোনও ওমিক্রন আক্রান্ত রোগীর দুই ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়া ছিল। তাছাড়া গবেষণায় তৃতীয়বারের মতো সংক্রমিত হওয়া রোগী পাওয়া গেছে। হাসপাতালে ভর্তিরোগী থেকে সংগ্রহীত স্যাম্পলে জিনোম সিকোয়েন্স করে ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। যেহেতু ওমিক্রন সংক্রমণে মৃদু উপসর্গ হয়েছে, তাই হাসপাতালে ভর্তি রোগীতে ওমিক্রন না পাওয়ার কারণ হতে পারে। পাশাপাশি মৃদু উপসর্গের রোগীদের মধ্যে টেস্ট না করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। তাই আমাদের প্রাপ্ত ফলাফলের চেয়েও অনেক বেশি ওমিক্রন আক্রান্ত রোগী শনাক্তের বাইরে আছে বলে মনে করছি।

ভয়েসটিভি/আরকে

Categories
চিকিৎসা জাতীয়

ফের করোনা ডেডিকেটেড মুগদা হাসপাতাল

মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে আবারও করোনা ডেডিকেটেড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরের সপ্তাহ থেকে আর কোনও নন-কোভিড রোগী ভর্তি নেওয়া হবে না। হাসপাতালের পরিচালনা কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্র জানায়।

হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। তবে যেহেতু কয়েক মাস ধরে নন কোভিড রোগী ভর্তি হচ্ছিল, তাই তাদের ব্যবস্থাপনার জন্যে অন্তত আরও সাতদিন সময় লাগবে।

বর্তমানে প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ মতো রোগী এখন আছেন এখানে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, এখানে অনেক কিডনি রোগী আছেন, যাদের ডায়ালাইসিস দরকার হয়। কার্ডিওলজি বিভাগেও অনেকেই ভর্তি আছেন। তাদের ব্যবস্থা না করে রাতারাতি কোভিড ডেডিকেটেড করে দেওয়া সম্ভব না। তাই আগামী সাতদিন থেকে ১০ দিনের মতো সময় লাগবে এসব রোগীদের ব্যবস্থাপনা এবং কোভিড রোগীদের জন্য সাধারণ বেড, আইসিইউ, এইচডিইউসহ অন্যান্য সবকিছু প্রস্তুত করতে। কোভিড রোগী এখনও এখানে ভর্তি আছেন, কিন্তু যেহেতু পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে, তাই যদি অনেক রোগী হয়ে যায়, তখন আর কোভিড এবং নন কোভিড একসঙ্গে রাখা যাবে না।

সব মিলিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাই আগামী কয়েকটা দিন সময় নিচ্ছে প্রস্তুতির জন্য। এরপর থেকে আর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নন কোভিড রোগীদের ভর্তি নেওয়া হবে না।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
চিকিৎসা

শীতে বাড়ছে সোরিয়াসিস চর্মরোগের প্রকোপ

শীত শুকনো মৌসুম হওয়ায় প্রকৃতি হয়ে উঠে ধুলিজীর্ণ। ঘরে-বাইরে চলে ধুলোর উৎসব। আর তাতে সব বয়সী মানুষের ত্বকে শুষ্কতাজনিত সমস্যা দেখা দেয়। অনেকের হাত-পা ফাটা শুরু হয়। দেখা দেয় সোরিয়াসিস নামক চর্মরোগ। এতে করে সারাদেশেই হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতকালীন চর্মরোগের প্রকোপ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সরেজমিনে মঙ্গলবার ২১ ডিসেম্বর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ ধরনের রোগীর চাপ দেখা গেছে।

ঢামেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫৫০-৬০০ জন রোগী আসে। শীতে সব মিলিয়ে রোগীর কম এলেও আগের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়েছে চর্ম রোগীর সংখ্যা। আগে এ বিভাগটিতে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী এলেও শীত শুরুর পর দৈনিক গড়ে ১৫০ বা তারও বেশি রোগী আসছে। যেন শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চর্মরোগী।

সকালে হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগে রোগীর চাপ কিছুটা কম থাকলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে সংখ্যা অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ লাইন দেখা যায় পুরুষ ও নারী রোগীদের।

চর্ম ও যৌন বিভাগে রোগের ডাক্তার দেখাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আসা জাকির হোসেনের বলেন, হাঁটু ও পায়ে চুলকানি। গরমের সময় ভালোই থাকে তেমন অসুবিধা হয় না। কিন্তু শীত এলেই সমস্যা বাড়ে। বেশি চুলকায়, টানে। আগে কখনো আসিনি। এবারই প্রথম এখানে ডাক্তার দেখাতে এলাম। এতদিন অন্য জায়গায় ডাক্তার দেখিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

আরও পড়ুন : শীতে পা ফাটা রোধ করবেন যেভাবে

চর্ম রোগে মাঝ বয়সী বা বৃদ্ধরাই ভুগছে, তা নয়। শীতে এ রোগে শিশু-কিশোরদেরও ভোগান্তি বাড়ছে। মায়ের সাথে ডাক্তার দেখাতে আসা ১৫ বছর বয়সী কিশোর সাইমন ইসলাম হোসেন জানায়, শরীরের দুই উরুর দুপাশে চুলকায়। গরমের সময় এমন হয় না। শীত এলেই একটু একটু চুলকানো শুরু হয়। পরে তা বাড়তে থাকে।

শীতজনিত চর্মরোগীর চাপ কেমন এবং কী ধরনের রোগীর আধিক্য, এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে ঢামেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগের চিকিৎসক সাইদুর রহমান শামীম বলেন, শীতকালে কিছু বিশেষ চর্মরোগ ছাড়া মোট রোগীর সংখ্যা কমই। তবে এ সময়টাতে খুশকি, শুষ্কতাজনিত ত্বকের রোগ, হাত-পা ফাটা রোগ, জন্মগত এলার্জিজনিত রোগ ও চুল পড়া রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সঠিক চিকিৎসায় এসব রোগ থেকে দ্রুতই মুক্তি মেলে। শীত কমে এলে এ ধরনের রোগীর সংখ্যাও কমবে।

হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. ফারহানা নিশাদ বলেন, শীতকালে শুষ্কতা বেড়ে যাওয়ায় চুলকানিও বাড়ে। ফলে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও অনেক বেড়ে যায়। সময়মতো চিকিৎসা নিলে চর্মরোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় সহজে। চর্মরোগীদের ক্রিম ব্যবহারসহ পানি কম ধরা ও গরম পানি ব্যবহার করা জরুরি। এসব রোগীর ক্ষেত্রে আমরা শীতকালীন ব্যবস্থা হিসেবে ভালো মানের ওলিভ ওয়েলসহ ত্বক ভালো রাখার ক্রিম ব্যবহারেরও পরামর্শ দিই।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
চিকিৎসা বিশ্ব

জীবন হারানোর চেয়ে অনুষ্ঠান বাতিল করাই শ্রেয় : ডব্লিউএইচও

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন দ্রুত ছড়াতে থাকায় বড়দিনের উৎসবের মৌসুমে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস।

তিনি বলেছেন, ‘একটি জীবন হারানোর চেয়ে একটি অনুষ্ঠান বাতিল করাই শ্রেয়।’

সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় ডব্লিউএইচও সদর দপ্তরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক ‘উৎসব করে পস্তানোর চেয়ে’ বিশ্ববাসীকে তা পরে উদযাপনের ‘কঠোর সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়. করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন যুক্তরাষ্ট্রে আধিপত্য বিস্তার করার খবরের মধ্যেই এমন আহ্বান জানালেন ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, এর আগে বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করা করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের চেয়েও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন।

এর বিস্তার ঠেকাতে ফ্রান্স এবং জার্মানিসহ বেশ কিছু দেশ স্বাস্থ্যবিধির কড়াকড়ি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে ‘ভ্রমণ বিধিনিষেধ’ জারি করেছে। বড় দিনের সময় কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে নেদারল্যান্ডস।

‘জনগণের সুরক্ষার স্বার্থে’ লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে এবারের বর্ষবরণ উদযাপনের অনুষ্ঠান বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র সাদিক খান।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে গেব্রিয়েসুস বলেন, অনেক দেশেই উৎসবের সময় সামাজিক মেলামেশার কারণে সংক্রমণ বাড়বে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলবে এবং মৃত্যু বাড়বে- এ বিষয়ে ‘কোনো সন্দেহ নেই’।

‘মহামারী নিয়ে আমরা সবাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। আমরা সবাই বন্ধু এবং স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই। আমরা সবাই আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে চাই।’

‘সবার স্বার্থে দ্রততম সময়ে সে অবস্থা ফেরানোর জন্য রাজনৈতিক নেতাসহ প্রত্যেককে, নিজের এবং অন্যদের রক্ষার জন্য আমাদের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

আর সেজন্য প্রয়োজনে বড়দিনের ছুটিতে উদযাপনের পরিকল্পনা বাতিল করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক।

গত নভেম্বররের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত হওয়ার পর একে ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
২০২২ সালের মধ্যে মহামারীর অবসান ঘটাতে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বিশ্বের সব দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
চিকিৎসা জাতীয়

চার মন্ত্রী নিলেন বুস্টার টিকা

ওমিক্রন ঝুঁকি কমাতে দেশে বুস্টার ডোজের কার্যক্রম শুরু হয়েছে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। সেবিকা রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে প্রথম ডোজ নেন টিকাদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর বুস্টার ডোজ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রোববার দুপুরে ‘বুস্টার ডোজ’ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ড. জাহিদ মালেক। প্রাথমিকভাবে ফাইজারের টিকা দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যারা অন্য টিকা নিয়েছেন তারাও ফাইজারের টিকা বুস্টার ডোজ হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন।

বুস্টার টিকার উদ্বোধনকালে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা অনেক দেশের আগেই টিকা কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছি। আমরা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে টিকা প্রদান করছি, সাধারণ জনগণ-স্কুল শিক্ষার্থীদের টিকা দিচ্ছি। এ ছাড়া করোনা মোকাবিলায় সামনের সারির যোদ্ধা ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, সাংবাদিক- সবাইকেই টিকা দিচ্ছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বুস্টার ডোজ সংক্রান্ত সুরক্ষা অ্যাপের আপডেট কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। তবে এই মুহূর্তে টিকা কার্ডের মাধ্যমে চলবে। একই সঙ্গে স্বাভাবিক টিকা কার্যক্রমও চলমান থাকবে।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
চিকিৎসা জাতীয়

রুনু ভেরোনিকাকে দিয়েই বুস্টার টিকা শুরু

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিয়ে শুরুর দিকে নানান ভয়ভীতির মধ্যেই সাহস করে প্রথম টিকা নিয়েছিলেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা।

চলতি বছর ২৭ জানুয়ারি তাকে দিয়েই শুরু হয় দেশের টিকার কার্যক্রম। বছরের শেষপ্রান্তে এসে আবার তাকে দিয়েই টিকার বুস্টার ডোজ কার্যক্রম শুরু করলো সরকার।

রোববার ১৯ ডিসেম্বর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বুস্টার ডোজ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
চিকিৎসা জাতীয়

সরকারি হাসপাতালের ওষুধ পান ৩ শতাংশ রোগী

মাত্র ৩ শতাংশ রোগী সরকারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ পেয়ে থাকেন, আর ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। বেশিরভাগ রোগীকেই বেসরকারি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হয় এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়। এতে করে রোগীর ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে বেশিরভাগ রোগীই আর্থিক সংকটে পড়েন।

রাজধানীতে হোটেল ইন্টারকনটিনেন্টালে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট আয়োজিত ‘নিজ পকেট থেকে গৃহস্থালী ব্যয় সংকোচনের কৌশল’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. নুরুল আমিন ‘রোগীর নিজ পকেট থেকে চিকিৎসার জন্য উচ্চ ব্যয়ের নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান’ শীর্ষক গবেষণা প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন। সেখানে বলা হয়, রোগীর নিজ পকেট থেকে ব্যয়ের প্রধান উৎস হলো ওষুধ। এই খাতে ব্যয় প্রায় ৬৪ ভাগ। হাসপাতালে আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেওয়ার মাধ্যমে যথাক্রমে ১২ ও ১১ ভাগ ব্যয় হয়। এ ছাড়া, রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাতে ব্যয় আট ভাগ। গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যথাযথ কার্যকর না হওয়ায় এবং শহর এলাকায় পর্যাপ্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা না থাকায়, রোগী বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা গ্রহণে বাধ্য হন। এছাড়া, সরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ ওষুধ প্রদান করা হয় না এবং রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে না।

গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র তিন শতাংশ রোগী সরকারি হাসপাতাল থেকে ‍ওষুধ পান এবং ১৪.৯ শতাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে হয়ে থাকে। অধিকাংশ রোগীকে বেসরকারি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হয় এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সেবা নিতে হয়। এতে রোগীর নিজ পকেট থেকে ব্যয় বেড়ে যায় এবং প্রায়ই রোগী আর্থিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রায় সব ধরনের ওষুধ কেনার সুযোগ থাকায় এবং ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর মাত্রাতিরিক্ত বিপণনের ফলে, স্বীকৃত চিকিৎসকদের পাশাপাশি পল্লী ও হাতুড়ে ডাক্তাররাও ব্যবস্থাপত্রে অতিমাত্রায় ওষুধ লেখেন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করায় রোগীর ব্যয় বেড়ে যায়। জরুরি ওষুধের তালিকা সংশোধন ও সম্প্রসারণ এবং ব্যবস্থাপত্রে প্রটোকল অনুসরণ করে কোম্পানির ওষুধের ‘ব্র্যান্ড নাম’ ব্যবহারের পরিবর্তে ‘জেনেরিক নাম’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে এই ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব।

বেসরকারি হাসপাতাল অ্যাক্রিডিটেশন পদ্ধতি এবং এর সেবা মান ও মূল্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নজরদারি না থাকায় সেবা গ্রহণকারী জনগণ প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সে বিষয়ে রোগীদের অসন্তুষ্টি ও কখনও কখনও আস্থার ঘাটতি- তাদেরকে দেশের পরিবর্তে বিদেশ থেকে সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করে। এভাবে চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে অনেক মানুষ ভিটে-জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্ট সেলের ফোকাল পারসন ডা. সুব্রত পাল বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের বাজেট কম। একইসাথে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে জনপ্রতি স্বাস্থ্য খাতে খরচ সবচেয়ে কম (৪৫ ডলার)। শুধুমাত্র সরকারি অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে এর সমাধান সম্ভব না। সাথে সাথে আমাদের খরচ করার দক্ষতা থাকতে হবে, যাতে করে বাজেট অব্যবহৃত থেকে না যায়।’

সুব্রত পাল আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টসের তথ্য মতে, দেশের সবচেয়ে বেশি খরচ হয় ওষুধ কিনতে। ফলে এ ক্ষেত্রে সরকারের সঠিক নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন দেশের ওওপি কমিয়ে আনবে বহুলাংশে।’

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. নুরুল আমিন ‘রোগী নিজ পকেট থেকে চিকিৎসার জন্য উচ্চ ব্যয়ের নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান’ শীর্ষক দ্বিতীয় গবেষণা প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, রোগীর নিজ পকেট থেকে ব্যয়ের প্রধান উৎস হলো ওষুধ। এই খাতে ব্যয় প্রায় ৬৪ ভাগ। হাসপাতালে অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেওয়ার মাধ্যমে যথাক্রমে ১২ ও ১১ ভাগ ব্যয় হয়। এ ছাড়া, রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাতে ব্যয় ৮ ভাগ। গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যথাযথ কার্যকর না হওয়ায় এবং শহর এলাকায় পর্যাপ্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা না থাকায়, রোগী বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা গ্রহণে বাধ্য হন। এছাড়া, সরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ ওষুধ প্রদান করা হয় না এবং রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে না।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
চিকিৎসা জাতীয়

বাংলাদেশেই হবে ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট

বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমনন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার ১৭ নভেম্বর সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে দলীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামারি করোনা আবির্ভাবের পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও উৎপাদনের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাকসিন নিয়ে অধিকতর গবেষণা ও উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মহামারি করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিটিউট প্রতিষ্ঠা এবং ভ্যাকসিন নীতিমালা প্রণয়নের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।’

ভ্যাকসিন ইনস্টিটিটিউট এবং ভ্যাকসিন নীতিমালা প্রণীত হলে যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে সেই তথ্যও সংসদে তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

আরও পড়ুন : দেশে টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ভয়েসটিভি/এমএম