Categories
লাইফস্টাইল

পুষ্টিগুণে ভরপুর পাটশাক

পালং, পুঁই কিংবা অন্যান্য শাকের মধ্যে পাটশাক সবার পছন্দের নাও হতে পারে। তবে এই শাকের গুণের শেষ নেই। পুষ্টিগুণে ভরপুর এ শাক শরীরের নানা ধরনের উপকার করে। বাজারে মিষ্টি, তেতো দুই ধরনের পাটশাক পাওয়া যায়।

পাটশাক ক্রুশিয়াস প্রজাতির শাক হওয়ায় এটি ব্রকলি, বাঁধা কপি, ফুল কপি, অ্যাস্পারাগাসসহ এই জাতীয় অন্যান্য সবজির মতো শরীরে ডিটক্সিফাইয়ের কাজ করে। এ প্রজাতির শাকসবজি ক্যান্সার প্রতিরোধেও দারুণ ভূমিকা রাখে।

আফ্রিকান কিছু দেশে পাটশাক স্যুপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এটি সিদ্ধ, রান্না কিংবা ভাজি সবরকমভাবেই খাওয়া যায়। নিয়মিত পাটশাক খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে : পাটশাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

হজশশক্তি বাড়ায় : পাটশাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় এটি হজম প্রক্রিয়াতে সহায়তা করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি রুচি বাড়াতেও বেশ কার্যকর।

প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে : পাটশাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়মিত এ শাক খেলে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের আশঙ্কা কমে যায়।

ত্বকে তারুণ্য ধরে রাখে : পাটশাকে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি ত্বকের ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে ত্বকে তারুণ্য ধরে রাখে।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় : পাটশাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় এটি দৃষ্টিশক্তি উন্নত রাখতে ভূমিকা রাখে।

মুড ভালো রাখে : বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাগনেসিয়াম হতাশা দূর করতে বেশ কার্যকর। পাটশাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ম্যাগনেসিয়ামের উপস্থিতি থাকায় এটি মুড ভালো রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও, এই খনিজ মানসিক চাপ এবং অনিদ্রায় ভোগা মানুষের জন্য উপকারী। সূত্র : হেলদিবিল্ডার্জড

Categories
লাইফস্টাইল

গর্ভবতী হতে মেনে চলুন সাতটি ধাপ

মা হওয়াতে নারীর পূর্ণতা। তাই মা হওয়ার সংবাদ যেকোনো নারীর জন্যই আনন্দের। কিন্তু এই আনন্দ সবার জীবনে একভাবে আসে না। কারও জন্য গর্ভধারণ সহজ হলেও কারো কারো ক্ষেত্রে গর্ভধারণের জন্য অনেক কাঠখড়ি পোড়াতে হয়। প্রত্যেক নারীর শরীর বৈশিষ্ট্য পৃথক এবং সেজন্যই গর্ভধারণের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব সময় রয়েছে। কয়েকটি সহজ লাইফস্টাইল পরিবর্তন এবং অভ্যাস রয়েছে যেগুলো সহজেই গর্ভবতী হওয়ার জন্য অনুসরণ করা যেতে পারে। শুধু নারীর মেনে চললেই হবে না, স্বাস্থ্যকর এই অভ্যাসগুলো মেনে চলতে হবে নারী-পুরুষ দুজনকেই।

স্বাস্থ্যকর খাবার

খাদ্য এবং উর্বরতা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। যদি আপনি এবং আপনার সঙ্গী উভয়ই একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েটে মেনে চলেন তবে এটি আপনার গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।

শরীরচর্চা

সহজে গর্ভধারণের জন্য ফিট থাকা জরুরি। যদি আপনি শরীরচর্চায় অলস বোধ করেন তবে আপনার সঙ্গীকে আপনার সাথে অংশ নিতে বলুন। সঙ্গীর পাশে থাকলে প্রতিদিন এটি করা সহজ হয়ে যাবে। খুব বেশি কঠোর শরীরচর্চা না করুন, অন্তত প্রতিদিন ভোরে উঠে হাঁটার অভ্যাস করুন।

স্বাচ্ছন্দ্য

স্ট্রেস আপনার উর্বরতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিছুটা যোগব্যায়াম, ধ্যান বা অন্য কিছু করার চেষ্টা করুন যার মাধ্যমে আপনি নিজের স্ট্রেসের স্তর কমাতে পারবেন।

অ্যালকোহলকে না বলুন

ভারি পানীয় আপনার উর্বরতা হ্রাস করতে পারে। সুতরাং যদি আপনি প্রতিদিন গ্লাস ভরা ওয়াইন উপভোগ করেন তবে আপনার থামা দরকার।

ধূমপানকে না বলুন

ধূমপান পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই উর্বরতা কমিয়ে দিতে পারে। যদি আপনি এখনও ধূমপান ছাড়ার সঠিক কারণ খুঁজে না পান তবে বাবা বা মা হওয়ার জন্য হলেও ধূমপান পিরহার করুন।

রোম্যান্স ফিরিয়ে আনুন

কিছু দম্পতি মনে করেন যে তারা কেবল গর্ভধারণের জন্যই যৌনমিলন করছেন। আপনাদের ক্ষেত্রেও যদি এমন হয়, তবে আপনাকে সত্যই আপনার এবং আপনার সঙ্গীর মধ্যে রোম্যান্স ফিরিয়ে আনতে হবে। সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে রোম্যান্সে মেতে উঠুন।

নিয়মিত তবে প্রতিদিন যৌন মিলন নয়

আমরা সকলেই জানি এটি গর্ভবতী হওয়ার প্রাথমিক প্রয়োজন। ডিম্বস্ফোটনের সময় মিলিত হলেই গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে। সপ্তাহে দু-তিনবার মিলিত হলে আপনার গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।

আরও পড়ুন: আকর্ষণীয় ফিগার পেতে ১১ সহজ উপায়

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
লাইফস্টাইল

‘ভালো মানুষ’ হওয়া সম্ভব?

‘আমি একজন ভালো মানুষ’, বুকে হাত দিয়ে এই বাক্যটি বলে দেয়ার সক্ষমতা কি রয়েছে আপনার? অথবা আপনি সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান একজন ভালো মানুষ হিসেবে? কিন্তু ভালো মানুষ হওয়া কি সম্ভব আদৌ?  ভালো মানুষের মাপকাঠিই বা কি?

যদি সত্যিই ভালোমানুষ হতে চান তাহলে এসমস্ত প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে আপনার যাওয়া উচিত কিছু চর্চার মধ্য দিয়ে।  এগুলোর প্রয়োগবিধি খুব বেশি কঠিন না হলেও থাকতে হবে প্রবল সদিচ্ছা। আসুন চোখ বুলিয়ে নেই ধাপগুলোর দিকে।

  • নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন –

সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষের বিরুদ্ধে প্রচলিত অভিযোগ যা তা হচ্ছে নিজের প্রতি উদাসীনতা। মানুষ নিজের প্রতি যত্নবান এটা খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায়। এখানে নিজের প্রতি যত্ন বলতে শুধু শারীরিক কিংবা বাহ্যিক যত্ন না কিন্তু। যত্ন নিতে হবে মানসিকতারও।

সেক্ষেত্রে বিভিন্ন শারীরিক চর্চার পাশাপাশি মানসিক চর্চার জন্য পড়তে হবে প্রচুর পরিমানে বই। মানুষ যত জ্ঞান লাভ করবে ততই মাগজিক উন্নয়ন হবে। অনেক সময় আমরা মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়েই প্রায় ভুলেই যাই নিজের কথা। এটা একদম অনুচিত। প্রতিটা ভালো কাজের পর নিজেকে নিজে বাহবা দেওয়ার মধ্যেও দোষের কিছু নেই বরং অত্যন্ত জরুরি এটা।

  • অপারগতাকে অস্বীকার না করা-

একজন মানুষ যে জগতের সমস্ত কাজ পারবে এমন কোন কথা নেই। জগতের সমস্ত কাজ যে তাকে পারতেই হবে এমনও কোন কথা নেই। এক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই যে ভুলটা করি সেটা হচ্ছে, যেটা পারি নি জেতার মানসে সেটাকেও পারি বলে প্রচার করি। কিন্তু এখানেই হয়ে যায় সবচে বড় পতন। মানসিক ও আদর্শিক এই পতন থেকে নিজেকে টেনে তোলা প্রায় অসম্ভব।

  • ‘না’ ভেবে,ভাবুন ‘হ্যাঁ’

আমাদের চারপাশে নেতিবাচক ভাবনার মানুষের অভাব নেই। এরা প্রায় সব ক্ষেত্রেই খুঁজে বেড়ায় নেতিবাচকতা। যেকোন ভালো কাজের বীপরিতেও তারা খুঁজতে থাকে লুকিয়ে থাকা ‘কুপ্রবণতা’। যখন ভালো কাজ প্রশংসা পায় তখন নেতিবাচক ভাবনার মানুষগুলো নিমজ্জিত হয় হতাশায়।

সুতরাং ভালো মানুষ হতে গেলে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরির কোন বিকল্প নেই। ইংরেজি সেই প্রবাদটা এক্ষেত্রে সব সময় মাথায় রাখা জরুরি “থিঙ্ক পজেটিভ, বি পজেটিভ”। আর কারও কোন ভালো কাজ চোখের সামনে এলে তার উদার প্রশংসা করতেও ভুলবেন না। অন্যের ভালোকাজের প্রশংসা করলে নিজেও ভালো কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হবে। বিশ্বাস না হলে মিলিয়েই দেখুন না!

  • ‘রাগগুলো সব ফুল হয়ে যাক’

আপনার ক্রোধের আগুনে জ্বলে উঠলো চারপাশ। ক্রোধের আগুনে আপনি উত্তাপ ছড়ালেন চারপাশে। আপনার মুখ দিয়ে কিছু শব্দ বের হল যা স্বাভাবিক মস্তিস্কে শুনলে লজ্জা পেয়ে যাবেন নিজেই। তারচে বরং রেগে গেলে হেসে উঠুন। ক্রোধের আগুনে উত্তপ্ত পরিবেশের চেয়ে ভালোবাসার ফুলে কোমল পারিপার্শ্বিকতা মঙ্গলময় হবে আপনার জন্যেও, অন্যের জন্যেও। এটা খুব সহজ প্রক্রিয়া না। লড়াই করতে হবে নিজের মনের সাথে।

তবে অসম্ভবও না। শুধু ভাববেন, ‘এমন কোন আচরণ আমি করবো না যা পরে লজ্জা দেবে আমাকেই’। এরপরেও কারও কারও ক্ষেত্রে রাগ দমন করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে। কারণ ভালো মানুষ হতে গেলে এই ধাপটা পাড় হওয়া অত্যাবশ্যকীয়।

‘আমি মানি শতমত’

ধরুণ আপনি আর এক বন্ধু বের হয়েছেন বৈকালিক ভ্রমণে। আপনি খেতে চান আখের রস, আপনার বন্ধু খেতে চায় বাদাম। কি করবেন আপনি? বন্ধুর পছন্দ উপেক্ষা করে বলবেন, “আখের রসই খেতে হবে’’। না এটা সুপ্রক্রিয়া নয়। আপনাকে মানতে হবে তার পছন্দও। আপনি যখনই অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখবেন তখনই মানুষ হিসেবে উঠতে সক্ষম হবেন আরেক ধাপ উপরে।

  • বিনয় ও সাহসের সম্মিলন ঘটাতে হবে

আপনাকে অবশ্যই ব্যাক্তিজীবনে বিনয়ী হতে হবে পাশাপাশি থাকতে হবে সাহস। কারণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাহসিকতাহীন বিনয় তোষামোদির পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

  • সহানুভূতিশীল হতে হবে, ত্যাগ করতে হবে পরশ্রীকাতরতা

আমরা অনেক সময় সহানুভূতি হারিয়ে ফেলি। পারিপার্শ্বিক নানাচাপে কিংবা জন্মগত অভ্যাসে আমরা মানুষের বেদনা দেখলে আহত হই না। বরং বিক্ষত মানুষটাকে পাশ কাটিয়ে মেতে উঠি নিজেকে নিয়েই। এই প্রবণতা ত্যাগ করা জরুরি। পাশাপাশি বেরিয়ে আসতে হবে পরশ্রীকাতরতা থেকেও। মনে রাখবেন  অন্যের উন্নতিতে হিংসায় জ্বলে মরলে পতনটা আপনার নিজেরই হবে।

  • ‘ধন্যবাদ’ লেগে থাকুক ঠোঁটে-

প্রতিদিন আমরা অন্যের দ্বারা নানাভাবে উপকৃত হই। যেমন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মা,বোন কিংবা স্ত্রী আমাদের নাশতা দেয়। রিক্সা বা অন্য কোন বাহনে পৌছাই গন্তব্যে। টং দোকানে কিংবা অফিস স্টাফের হাত দিয়ে পেয়ে চা কিংবা কফি। কখনও কি এদের কাউকে ধন্যবাদ বলেছেন? বলেন নি? তাহলে এই চর্চাটা শুরু করুন আগামীকাল থেকেই। মনে রাখবেন আপনার একটা ধন্যবাদ বিপরীত মানুষটাকে আপনার প্রতি আরও যত্নশীল করে তুলবে। আর নিজেও মানুষ হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হবেন।

  • আর কোন অজুহাত নয়-

আমরা অফিসে অনেকসময় অজুহাতের খুব বেশি প্রয়োগ ঘটাই। কখনো কোন কাজ এড়ানোর জন্য কখনও বা কারও উপরে দায় চাপানোর জন্য। এতে হয়তো সাময়িক প্রশান্তি পাচ্ছেন বলে ভাবছেন আপনি। কিন্তু চিরতরে কুড়াল মারছেন নিজের পায়েই। তাই আজ থেকে অজুহাত শব্দটি মুছে ফেলুন নিজের অভিধান থেকে। আর হয়ে উঠুন একজন ঋদ্ধ মানুষ।

  • ভালোবাসা হোক পাথেয়-

শেষ করি হজরত মোহাম্মদ সঃ একটা গল্প দিয়ে। এক বুড়ি নবীজির পথে কাঁটা ছড়িয়ে রাখতেন। নবীজি প্রতিদিন সেই কাঁটা উপড়ে পৌছাতেন নিজস্ব গন্তব্যে। কিন্তু সেই বুড়িকে কখনও ধিক্কার দিতেন না। একদিন তিনি দেখলেন তার পথ কন্টকমুক্ত। চলে গেলেন সেই বুড়ির বাড়িতে। শুশ্রূষায় সুস্থ্য করে তুললেন তাকে। এরপর অনুতপ্ত হলেন সেই বুড়ি। এ থেকে আমরা বুঝতে ভালোবাসার ও সহনশীলতা কতটা শক্তিশালী ও কার্যকরী। সুতরাং ভালোমানুষ হতে গেলে পথে পথে ভালোবাসা বিলিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই।

ভয়েস টিভি/আরআর/ টিআর

Categories
লাইফস্টাইল

আকর্ষণীয় ফিগার পেতে ১১ সহজ উপায়

একসময় সুস্বাস্থ্যের অধিকারী বলতে নাদুস-নুদুস চেহারার মানুষকে বোঝানো হত। কিন্তু বর্তমানে সুস্বাস্থ্য মানে সুস্থ, মেদহীন কোনো মানুষকে বোঝায়, যাকে যে কোনো পোশাকে মানায় এবং সবার মাঝে আকর্ষণীয় করে তোলে। এই ফিগারের জন্যে প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শরীর চর্চা।

ব্যায়ামাগার
শরীর চর্চা বা ব্যায়াম বললেই অনেকে বোঝেন ফিটনেস সেন্টারে গিয়ে বিভিন্ন যন্ত্র বা প্রশিক্ষকের সাহায্যে দৈহিক সৌন্দর্য বাড়ানোর কিছু নিয়ম-কানুন। কিন্তু সেখানে যাতায়াত এবং ব্যায়াম করার জন্যে বেশ সময়ের প্রয়োজন। তাই সুন্দর ফিগার চাইলেও চাকরি, সংসার, ঘরের নানা কাজ ফেলে নিয়ম করে ফিটনেস সেন্টারের জন্য সময় খরচ করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না৷

ঘরের মেঝে মোছা
অথচ ঘরের কাজগুলো যদি নিয়ম করে ঠিকমতো করা যায়, তাহলে দুটোই সম্ভব। অর্থাৎ বাড়ি-ঘর পরিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে তা একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকরও হলো, আবার শরীরও সুন্দর হলো। বিশেষ করে মেঝে বা সিঁড়ি মুছতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই পেটে প্রচণ্ড চাপ পড়ে, ফলে পেটের মেদ সহজেই কমে যায়। নিয়ম করে মেঝে মুছলে পেট মসৃণ হয় আর কোমরের আকারও হয় সুন্দর।

জানালা-দরজা পরিষ্কার
জানালার গ্লাস বা দরজা পরিষ্কার করতে গেলে হাত বার বার ওপরে-নীচে নামাতে তো হয়ই, এতে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেরও নাড়াচাড়া হয়। কাজেই জানালা-দরজা পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি হাতের মাংসপেশী শক্ত হয় ও শরীরের বাড়তি মেদ কমে যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেকের হাতের মাংসপেশী খানিকটা ঝুলে পড়ে, যা হাতের এই ব্যায়ামের মাধ্যমে কমানো সম্ভব।

দাঁড়িয়ে ঘরের কাজ
আগেকার দিনে মেয়েরা রান্না ঘরের সব কাজ বসে বসেই করতো। বসে কাজ করলে কেবল একটি কাজই করা যায়। কিন্তু দাঁড়িয়ে কাজ করলে একই সাথে রান্না, বাসন ধোয়া, কাটাকাটি এবং রান্নাঘরের অন্যান্য কাজও করা সম্ভব। এতে খানিকটা হাঁটাহাটির ফলে পায়েরও কিছুটা ব্যায়াম হয় এবং হাড় শক্ত থাকে। সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মেদও জমতে পারে না সহজে।

ঘরের যন্ত্রপাতি পরিষ্কার রাখা
শরীরের সৌন্দর্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা বা বাধা মোটা পেট বা ভুড়ি, যা খুবই দ্রুতগতিতে বাড়ে। মেঝেতে বসে কাপড় কাঁচলে বা আধা বসা অবস্থায় কাপড় ধোয়ার মেসিন ব্যবহার করলে বা সেটা পরিষ্কার করলে পেটে চাপ পড়ে। নিয়মিত এ ধরনের কাজ করলে পেটে চর্বি জমে কম। এতে নিজেকে মেদহীন দেখতে যেমন সুন্দর লাগে, অন্যদিকে যন্ত্রপাতি পরিষ্কার রাখার ফলে সেগুলোর আয়ুও বাড়ে।

ব্যবহৃত গাড়িটি নিজেই পরিষ্কার করুন
আজকের ব্যস্ত জীবনে গাড়ির প্রয়োজন যেমন অনেক, তেমনি অনেকের আবার গাড়ির সখও কম নয়। তাই সখের মূল্যবান জিনিসটিকে কারওয়াশে না দিয়ে বা ড্রাইভারকে ধুতে না বলে নিজেই ধুয়ে ফেলুন। এতে গাড়িটাও ঝকঝকে সুন্দর হবে, আবার নিজের শরীরটাও ফিট থাকবে। তখন দেখবেন যে কোনো আধুনিক পোশাকে নিজেকে কেমন স্মার্ট আর আকর্ষণীয় লাগছে।

সখের বাগান করতে পারেন
বাগান করা একটি সখের ব্যাপার। এ কাজটি ভালোভাবে করতে অর্থাৎ শাক-সবজি, ফল আর সুন্দর ফুল ফোটাতে শরীরের বেশ পরিশ্রম হয়। বাগানপ্রেমীদের মেদহীন সুন্দর শরীর দেখেও অবশ্য তা বোঝা যায়। তাছাড়া বাগানপ্রেমীদের প্রকৃতির সাথেও থাকে নিবিড় সম্পর্ক। ফলে বাগান করলে শরীর এবং মন দুটোই ভালো রাখতে সাহায্য করে।

পরিবেশ রক্ষার্থে বাগান
জার্মানিতে বহুদিন থেকেই বাগান কেনা বা ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যারা ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকেন, তাদের অনেকেই ফ্ল্যাটের কাছাকাছি কোথাও এ রকম বাগান করে থাকেন। ইদানীং কোনো কোনো অঞ্চলে পরিবেশ রক্ষায় মানুষকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিনা মূল্যে কিছু জমির খানিকটা অংশ কিছুদিনের জন্য দেওয়া হয়। এতে অবশ্য ওই জমিতে শুধু নিজেদের খাওয়ার জন্য প্রাকৃতিক উপায়ে শাক-সবজি বা ফলের চাষ করার শর্ত দেওয়া হয়।

ছোট থেকেই অভ্যাস গড়ুন
এশিয়ার দেশগুলোতে গৃহিনীরা কাজের লোক বা গৃহকর্মী দিয়ে ঘরের কাজ করাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। যদিও এ কাজটি করানোও সবসময় একেবারে সহজ নয়। তবে যারা কাজের লোক না রেখে ছোটবেলা থেকে ঘরের কাজ বা নিজের কাজ নিজে করায় অভ্যস্ত হন, তাদের শরীরের গঠন ছোট থেকেই হয়ে ওঠে সুন্দর।

প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম
উপুড় হয়ে বাথটবটি নিজে হাতে ভালো করে পরিষ্কার করতে যে বেশ কিছুটা ক্যালোরি খরচ হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। স্বাভাবিকভাবেই তারপর যে কেউ কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। ঝকঝকে সুন্দর বাথটবে পানি ভর্তি করে এতে সুগন্ধী তরল সাবান ঢেলে নেমে পড়ুন পানিতে। আধঘণ্টা পর পানি থেকে উঠে শরীরটাকে মনে হবে একেবারে হালকা আর মনটা দারুণ ফুরফুরে!

নিজের কাজ করুন, সুস্থ্য ও সুন্দর থাকুন
নিয়মিত যে কোনোভাবে শরীরচর্চা করলে অবশ্যই তার ফল পাওয়া যায়৷ আর তাই সুন্দর ফিগারের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয় না৷ স্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে একটু সচেতনতা আর পাশাপশি কিছুটা হাঁটাহাটি বা বাড়ির কাজই করে দেবে যে কেউকে সুন্দর ফিগারের অধিকারী।

Categories
লাইফস্টাইল

গ্যাস থেকে সৃষ্ট পেট ব্যথা দূর করবেন যেভাবে

গ্যাস থেকে সৃষ্ট পেট ব্যথা অতি পরিচিত একটি সমস্যা। খাবারের অনিয়ম বা জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তনের কারণে অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। অনেক সময় এমন ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। গ্যাসের ব্যথা কমাতে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। যেমন-

ব্যায়াম : গ্যাসের ব্যথা কমাতে কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়াম করলে গ্যাসের ব্যথা কিছুটা হলেও নিরাময় হয়। এজন্য মেঝেতে উপুর হয়ে বসে পা দুটি সাইকেল চালানোর মতো রেখে হাত দুটি পাশে রাখুন। বড় করে নিঃশ্বাস নিন। ধীরে ধীরে ছাড়ুন। এতে গ্যাস থেকে মুক্তি পাবেন। খাওয়ার পরে কিছুটা হাঁটলেও গ্যাসের সমস্যা কমে। এছাড়া গ্যাসের সমস্যা কমাতে নিয়মিত যোগব্যায়াম করতে পারেন।

পুদিনা পাতা : গবেষণায় দেখা গেছে, পুদিনা পাতার তেল ডায়রিয়া, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ভূমিকা রাখে। পুদিনা পাতায় থাকা অ্যান্টিপেসমোডিক গুণাগুণ পেটের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। যারা নিয়মিত গ্যাসের ব্যথায় ভোগেন তারা খাওয়ার আধঘন্টা আগে পুদিনা পাতার ক্যাপসুল খেতে পারেন। গ্যাসের ব্যথা নিরাময়ে এই পাতার রস, তেলও খেতে পারেন।

হিট প্যাড : কিছু গবেষণা বলছে, হিটিং প্যাড ব্যবহার করলে অতিরিক্ত গ্যাসের ফলে সৃষ্ট পেট ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত উত্তপ্ত একটি গরম প্যাড এক ঘন্টা পর্যন্ত পেটের ব্যথা কমাতে সহায়তা করে।

ঘরোয়া এসব পদ্ধতি অনুসরণ করার পরও পেট ব্যথা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

Categories
লাইফস্টাইল

ঘরবন্দি বাচ্চা টিভি-মোবাইলে মগ্ন, সামলাতে যা করতেই হবে

স্কুল বন্ধ। কোচিং বন্ধ। খেলা বন্ধ। ঘরবন্দি বাচ্চা করবেই বা কী! দিনরাত তাই ভিডিও গেম, কার্টুন, সিনেমা। চিন্তিত বাবা-মা। দিনরাত টিভি বা মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকলে চোখের ক্ষতি হবে না তো! ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিজঅর্ডার’ নামক সমস্যাটিও বাড়তে পারে অতিরিক্ত টিভি-মোবাইল দেখলে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ জ্যোতির্ময় দত্ত জানান, ‘‘বেশি টিভি-মোবাইল দেখলে চোখের ক্ষতি অর্থাৎ পাওয়ার বেড়ে যাওয়া বা চোখের কোনও অসুখ হয় না। তবে চোখে চাপ পড়ে, অর্থাৎ ডিজিটাল আই স্ট্রেন। ফলে চোখ বা মাথায় ব্যথা, চোখে ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা, চোখ লাল হওয়া, ঘাড়ে-কাঁধে-পিঠে ব্যথা, ক্লান্তি, বিরক্তি ইত্যাদি হয় অনেক সময়। বাবা-মা একটু সতর্ক হলে এসব সহজেই সামলে ফেলা যায়।’’

মনোচিকিৎসক জয়রঞ্জন রাম যদিও খানিকটা দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘‘সারাক্ষণ ডিজিটাল দুনিয়ায় পড়ে থাকলে অমনোযোগ থেকে শুরু করে এডিএইচডি বা অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপার অ্যাক্টিভিটি ডিজঅর্ডার নামে মানসিক সমস্যা হতেই পারে। বাড়তে পারে ওজন। কার্টুন বা গেমের মতো মজার দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার পর পড়াশোনায় আগ্রহ কমে যেতে পারে। কাজেই বাচ্চাকে একটু বেশি সময় দিন। বাইরের দুনিয়া চিনতে শেখান। নিজেরাও চিনুন। ফেসবুক, হোয়াটস্যাপে মজে থাকার বদভ্যাস কাটিয়ে ফেলুন নিজেরাও। তাতে পরিবারেরই ভাল হবে।’’

• ৪-৫ বছর বয়সের আগে বাচ্চার হাতে মোবাইল দেবেন না। টিভি-র সামনেও বসিয়ে রাখবেন না। যদি ইতোমধ্যেই তা করে থাকেন, এখন হঠাৎ বন্ধ করতে পারবেন না। তবে সময়টা যাতে কমিয়ে আনা যায়, সে চেষ্টা করুন। ৫ বছরের পর ২ ঘণ্টা, ৬-১০ বছর বয়স হলে ৪ ঘণ্টা, উঁচু ক্লাসে পড়লে বড়জোর ৫ ঘণ্টার বেশি টিভি বা মোবাইল না দেখাই ভালো সবমিলিয়ে। কীভাবে বাড়ির সকলে মিলে সেই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবেন, তা ভেবে দেখুন। মনে রাখবেন, বড়রা নিজেদের অভ্যাস না বদলালে ছোটরাও পালটাবে না।

• বাচ্চা মাঝে-মধ্যে কার্টুন বা সিনেমা দেখলে তবু ঠিক আছে। কিন্তু গেম খেললে বিপদ। কারণ গেম খেলার সময় মন এত একাগ্র থাকে, চোখের পলক খুব কম পড়ে। কাজেই নিয়ম করে দিন, বাচ্চা সারা দিনে একটার বেশি গেম খেলবে না। সেই সময় বাচ্চার সঙ্গে গল্প করুন বা এমন কিছু করুন যাতে সুঅভ্যাস গড়ে ওঠে।

• চোখের ক্ষতি কমাতে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ও ‘কন্ট্রাস্ট’ কমিয়ে রাখুন। ঘরের আলো যেন তার চেয়ে কম উজ্জ্বল হয়। খোলা জানালা বা চড়া আলো পিছনে না থেকে যেন পাশে থাকে, বাঁ-দিকে থাকলে বেশি ভাল। না হলে পর্দায় তা প্রতিফলিত হয়ে সমস্যা বাড়াবে।

• টিভির থেকে সবাই ৮-১০ ফুট দূরে বসতে হবে। বাচ্চা যেন অন্ধকার ঘরে মোবাইল বা টিভি না দেখে তা খেয়াল রাখতে হবে।

• কম্পিউটারে বসলে মনিটর যেন ২০-২২ ইঞ্চি দূরে চোখের সমান্তরালে বাচ্চার বিপরীতে ১০ ডিগ্রি হেলে থাকে। দৃষ্টিসীমা থেকে স্ক্রিন যেন একটু নীচে থাকে।

• এক ফুট দূরে রেখে মোবাইল দেখার অভ্যাস করান। অর্থাৎ বই পড়ার সময় যে দূরত্ব থাকে। যদি দেখেন, সে আরও কাছে এনে দেখছে, চোখ দেখিয়ে নেবেন। অনেক সময় চোখে মাইনাস পাওয়ার এলে এরকম হয়।

• মোবাইলে স্ক্রিন যত বড় হয় তত ভালো। ট্যাব হলে আরও ভালো।

• আধ ঘণ্টার বেশি এক জায়গায় বসে থাকতে দেবেন না বাচ্চাকে। গল্প করুন, খেলুন, কম করে ৫-১০ মিনিট। মোবাইল নিয়ে খেলার সময় মাঝে মাঝে চোখে জলের ঝাপটা দিয়ে ধুতে বলুন। জল বা ফলের রস খাওয়ান।

• ২০ মিনিট অন্তর মনিটর থেকে চোখ সরিয়ে ২০ ফুট দূরের কোনও বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা ও ২০ বার চোখ খোলা ও বন্ধ করার একটা নিয়ম রয়েছে। এতে চোখে চাপ কম পড়ে। বাচ্চাকে ব্যাপারটা শিখিয়ে দিন। ভবিষ্যতে সুবিধা হবে।

• গদি-আঁটা চেয়ারে সোজা হয়ে বসে যেন ল্যাপটপ ব্যবহার না করে বাচ্চারা। তাদের পা যেন মাটিতে পৌঁছায়। এতে ঘাড়ে-কোমরে চাপ কম পড়বে।

• নিয়ম মানার পরও যদি সমস্যা হয়, দিনে ২-৩ বার চোখের ড্রপ দিতে হতে পারে। সমস্যায় পড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
লাইফস্টাইল

দেয়াল থেকে যেভাবে তুলবেন তেলের দাগ

সাধারণত রান্নাঘরের দেয়ালে তেলের দাগ বেশি দেখা যায়। আর একবার তেলের দাগ লাগলে তা সহজে উঠতেও চায় না। এতে দেয়ালটি আরও বেশি ময়লা দেখায়। এই ধরনের দাগ সাবান-পানির সাহায্যে সহজে পরিষ্কারও হয় না। তবে অনেকের হয়তো জানা নেই, দেয়াল থেকে তেলের দাগ দূর করার বেশ কিছু ঘরোয়া কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে। যেমন-

সাদা ভিনেগার : দেয়ালে লেগে থাকা তেলের দাগ পরিষ্কারের জন্য সাদা ভিনেগার খুবই কার্যকর। এই পদ্ধতি প্রয়োগের জন্য, সাদা ভিনেগারের মধ্যে একটি স্পঞ্জ ডুবিয়ে রাখুন এবং তারপর এটি হালকাভাবে নিঙড়ে নিন । এই পদ্ধতিতে অতিরিক্ত ভিনেগার স্পঞ্জ থেকে বেরিয়ে যায় ও স্পঞ্জটি হালকা ভেজা থাকে। দাগ দূর না হওয়া পর্যন্ত দাগযুক্ত দেওয়ালে স্পঞ্জটি ঘষতে থাকুন। এই পদ্ধতিটি দেওয়াল পরিষ্কার করতে এবং সহজেই তেলের দাগ তুলতে সহায়তা করবে।

কর্ণফ্লাওয়ার: কর্ণফ্লাওয়ারের সাহায্যেও দেয়াল পরিষ্কার করা যায়। পানিতে তিন চামচ কর্ণফ্লাওয়ার দিয়ে ভালোভাবে মেশান। দাগ লাগা দেওয়ালে পেস্টটি ছড়িয়ে দিন এবং কয়েক মিনিটের জন্য পেস্টটি সেখানে লাগিয়ে রেখে দিন। এরপর হালকা ভেজা কাপড় ব্যবহার করে পেস্টটি তুলে ফেলুন। তেলের দাগ দূর না হওয়া পর্যন্ত বার বার এটি করুন।

বেকিং সোডা : তেলের দাগ তোলার ক্ষেত্রেও বেকিং সোডার জুড়ি নেই। বেকিং সোডা এবং পানি দিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এবার একটি স্পঞ্জের মাধ্যমে পেস্টটি দাগের উপর স্ক্রাব করুন। সূত্র: বোল্ড স্কাই

Categories
লাইফস্টাইল

মাস্কের কারণে কানে ব্যথা, কী করবেন

করোনা ভাইরাস মহামারি আমাদের জীবনযাত্রাকে অনেকখানি বদলে দিয়েছে। এখন বাড়ির বাইরে পা রাখার মানেই সঙ্গে মাস্ক, গ্লাভস এবং স্যানিটাইজার বহন করা। এছাড়াও, সংক্রমণ এড়াতে সামাজিক দুরত্ব ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার কথাও ভাবতে হচ্ছে। করোনা এড়াতে সর্বক্ষণ মাস্ক পরে থাকতে হচ্ছে, এর ফলে ত্বকের নানা সমস্যা এবং কানের পিছনে ব্যথা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া কান লাল হওয়া, জ্বালা, ইত্যাদি সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। মাস্ক পরে কান ব্যথা এড়াতে কিছু বিষয় অনুসরণ করতে পারে। যেমন-

এলাস্টিক মাস্ক ব্যবহার না করা : কানের ব্যথা এড়াতে এলাস্টিক মাস্ক ব্যবহার বাদ দিন। সাধারণত এলাস্টিক দেওয়া মাস্ক পরলেই কানে ব্যথা হয়। তাই কানের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে নো এলাস্টিক মাস্ক ব্যবহার করুন।

বরফ ব্যবহার : অফিস বা কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পর কানে বরফ লাগান। বরফ দিয়ে ম্যাসাজ করলে ব্যথা কমে। বরফ লাগানোর পরে কানে অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার লাগান।

ক্লিপ মাস্ক ব্যবহার করুন : মেয়েরা সাধারণত চুলে ক্লিপ ব্যবহার করেন। কানের ব্যথা আটকাতেও এটি ব্যবহার করতে পারেন। মাস্ক পরার জন্য সবার আগে চুল বেঁধে নিন, তারপর মাস্ক পরুন। মাস্কের এলাস্টিক কানে আটকানোর বদলে তা ক্লিপের ভিতর ঢুকিয়ে কানের পিছনের চুলের সঙ্গে আটকে দিন। এতে কানের উপর এলাস্টিকের চাপ পড়বে না।

ঘরে তৈরি মাস্ক ব্যবহার করুন : কেনা মাস্কের দড়ি সাধারণত এলাস্টিকের হয়, যার কারণে কানে ব্যথা এবং লালচেভাব দেখা দেয়। তাই কানের ব্যথা কমাতে আপনি ঘরে তৈরি কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এতে আরাম পাবেন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
লাইফস্টাইল

ল্যাপটপ-ফোন ব্যবহার করছেন? যেভাবে চোখের সুরক্ষা নেবেন

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে গোটা বিশ্বের অনেক স্থানে লকডাউন চলেছে। অনেকে কাজও হারিয়েছেন এ সময়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন বাড়িতে বসে থাকার কারণে ও কর্মহীন হয়ে পড়ায়, অনেকে মানসিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছে, ভুগছেন মানসিক সমস্যায়ও। আবার লকডাউনের দিন থেকে এখনও পর্যন্ত ঘরে বসে অফিসের কাজ করার ক্ষেত্রে টানা কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ব্যবহার, নয়তো টিভি বা মোবাইলের পিছনে সময় দেওয়ায় মানুষকে শারীরিক দিক থেকে দুর্বল করে তুলছে।

করোনা প্রাদুর্ভাবের আগে কাজের অবসরে বই পড়া, গান শোনা, খেতে যাওয়া, শপিং করতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা পরিবারকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার একটা প্রচলন ছিল। কিন্তু সংক্রমণ এড়াতে মানুষ এখনও আগের জীবনে পুরোপুরি ফিরতে পারছে না। অনেকেই সময় কাটাচ্ছেন মোবাইল, টিভি অথবা ল্যাপটপ নিয়ে। এতে কারও কারও চোখ জ্বালা, চোখ শুকিয়ে যাওয়া, চোখে অস্বস্তি, চোখ লাল হওয়া, ভারী ভাব, ঝাপসা দেখা, কপাল, ঘাড়, পিঠ, কোমর, মাথা ব্যথা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ছোট-বড় সবাই এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই ধরনের সমস্যাকে বিশেষজ্ঞরা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম বা ডিজিটাল আই স্ট্রেন হিসেবে চিহ্নিত করছেন।

এ ধরনের সমস্যা থেকে বাঁচতে ও চোখের সুরক্ষায় কিছু বিষয় অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন-

১. ডিজিটাল আই স্ট্রেন এড়াতে ঘন ঘন বিরতি নিন। প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ড করে বিরতি নিন, ২০ ফুট দূরত্বে কোনও জিনিসের দিকে তাকান। আবার ৩০ মিনিট পর ৫ মিনিটের বিরতি নিন। এটি চোখকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও উপকার করবে।

২. কাজ করার মাঝে যখন বিরতি নেবেন তখন চোখের বিভিন্ন ব্যায়াম করুন। নিয়মিত চোখের ব্যায়াম করলে চোখের পেশিগুলি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এতে চোখের নানা ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৩. স্ক্রিনে কোনও জিনিস লেখা বা দেখার সময় লেখার সাইজ বাড়িয়ে নিন, যাতে ডিভাইসগুলিকে দূরে রেখে সহজেই পড়তে বা কাজ করতে পারেন। এতে চোখে চাপ কম পড়বে এবং চোখ সুস্থ থাকবে।

৪. স্ক্রিন নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখুন। আইপ্যাড, ট্যাবলেট, টিভি, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় চোখের খুব কাছাকাছি রাখবেন না। কম্পিউটারের স্ক্রিনটি আই লেভেল থেকে ১৫-২০ ডিগ্রি নিচে রাখুন। সেই সঙ্গে ২০ থেকে ২৮ ইঞ্চি পর্যন্ত দূরত্ব বজায় রাখুন। এতে চোখের উপর চাপ কম পড়ার পাশাপাশি ঘাড়, কাঁধ, কোমর ব্যথা থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে।

৫. অ্যান্টি-গ্লার স্ক্রীন কম্পিউটার বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের অতিরিক্ত আলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। কর্মক্ষেত্রে এই ফিল্টারের প্রয়োজন না হলেও, বাড়ি থেকে কাজ করার সময় এটি ব্যবহার করতে হবে। কারণ এই ফিল্টার চোখের চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং চোখকে সুস্থ রাখে।

৬. স্ক্রিনে আলোর মাত্রা ঠিক রাখুন। অতিরিক্ত বা কম আলো, চোখে বেশি চাপ সৃষ্টি করে এবং দৃষ্টির ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে। তাই যে জায়গায় বসে কাজ করবেন সেখানে যথাযথ পরিমাণ আলোর ব্যবস্থা রাখুন। কখনই কম বা বেশি আলোতে কাজ করবেন না।

৭. কম্পিউটার চশমা ব্যবহার করুন । যারা মাত্রাতিরিক্ত কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করেন তারা অ্যান্টি রিফ্লেকটিভ লেন্সযুক্ত চশমা ব্যবহার করুন। এই চশমা চোখের চাপ কমাতে, ঝাপসা ভাব, মাথা ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

৮. চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, চোখের ক্লান্তি দূর করতে ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ খাবার খান। শাকসবজি, গাজর, পেঁপে, খেজুর ইত্যাদি খাবার চোখের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। চোখে আর্দ্রতা বজায় রাখতে ওমেগা-থ্রি অয়েল, ফ্ল্যাকসিড অয়েল, স্যামন ও সার্ডিনের মতো মাছ খেতে পারেন।

৯. প্রতি ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর চোখে পানির ঝাপটা দিন।

১০. চোখের কোনও সমস্যা দেখা দিলে দেরী না করে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। সূত্র: বোল্ড স্কাই

Categories
লাইফস্টাইল

তেজপাতা পোড়ালেই শান্ত মন-মাথা!

তেজপাতা অরুচি দূর করে, মাড়ির ক্ষত দূর করে, এর বাকল থেকে যে সুগন্ধি তেল পাওয়া যায় তা সাবান উৎপাদনে কাজে লাগে এবং ঘামাচি সারাতে ব্যবহার হয় তেজপাতা। এর এমন অনেক গুণাগুণ।

এছাড়া খিচুড়ি, পোলাও, মাংস বা মিষ্টি সব খাবারেই হালকা সুগন্ধের তেজপাতা ব্যবহার করি আমরা। এই তেজপাতায় খাবারের স্বাদ গন্ধ বাড়ানোর পাশাপাশি আরো অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে। জানলে সত্যি অবাক হতে হয়।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, তেজপাতার মধ্যে পিনেনে ও সাইনিয়ল নামে দু’টি উপাদান রয়েছে। আয়ুর্বেদ মতে, ঘরের মধ্যে মাত্র ১০ মিনিট তেজপাতা পোড়ালেই-
• ধীরে ধীরে তেজপাতার সুগন্ধ গোটা ঘরে ছড়িয়ে পড়বে। এই ভেষজ গন্ধ মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে
• উদ্বেগ কমায়, মানসিক অবসাদ দূর করে
• শরীর-মনকে শান্ত রাখে
• অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তেজপাতা জীবাণুনাশক
• তেজপাতা পোড়ালে যে তেল হয়, সেই অ্যাসেনশিয়াল অয়েলের ফলে মাথাব্যথাও কমে।

একটি মাটির পাত্রে কয়েকটি তেজপাতা পোড়াতে পারেন। তবে অবশ্যই পাশে পানির ব্যবস্থা রাখবেন। আর শিশুদের আগুন থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে।

ভয়েসটিভি/এএস