Categories
লাইফস্টাইল

খরচ কমিয়ে যেভাবে করবেন সঞ্চয়

করোনা সংক্রমণের কারণে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। আগামী পৃথিবীতে টিকে থাকতে গেলে ব্যয় কমাতেই হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পূর্ববর্তী অর্থনীতি ফিরে পেতে আরও কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। এদিকে জিনিসপত্রের দামও যেভাবে বাড়ছে তাতে সংসার চালানো অনেকের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে যাতে আরও বিপদে না পড়েন এজন্য এখন থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সেজন্য যতটা সম্ভব খরচ কমিয়ে সঞ্চয় করার চেষ্টা করতে হবে।

কীভাবে খরচ কমাবেন :

১. যতটুকু প্রয়োজন‌ ঠিক ততটুকু খরচ করুন। এখন সমস্যা নেই বলে শৌখিন জিনিস কিনে অপচয় করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ যেকোন সময়ই বিপদ আসতে পারে।

২. লকডাউনের মধ্যে যেভাবে ঘরোয়া খাবারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন সেটা বজায় রাখুন। এতে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। সেই সঙ্গে খরচও কমবে। তাছাড়া করোনার সংক্রমণ এখনও কমেনি। তাই এ সময় বাইরে খাওয়াও ঠিক নয়।

৩. বাড়ি থেকে অফিসে খাওয়ার নেয়ার চেষ্টা করুন। এতে বাইরে খাওয়ার খরচ বাঁচবে। খাবারটাও নিরাপদ হবে।

৪. যতটা প্রয়োজন ঠিক ততটাই নতুন পোশাক কিনুন। পারলে এ বছর যা আছে তা দিয়েই চলার চেষ্টা করুন। এতে খরচ কমবে।

৫. ঘন ঘন পার্লারে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ঘরোোভাবে যতটা সম্ভব সৌন্দর্যচর্চা করুন। এমনিতে এখন বাইরে বের হলে মুখের অর্ধেক ঢাকা থাকে মাস্কে, মাথা ঢাকা থাকে টুপি বা ওড়নায়। এ কারণে বেশি রূপচর্চার প্রয়োজন নেই। এছাড়া পার্লারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিয়েও আশঙ্কা থাকে। চুল কাটাতে হয়তো ২-৩ মাসে একবার পার্লারে যেতে পারেন।এর চেয়ে বেশি না যাওয়াই ভাল।

৬. উৎসবে উপহারের বাজেট কাটছাট করুন। উপহার দেওয়া-নেওয়ার বদলে বিপদে আছে এমন মানুষের কল্যাণে টাকাটা কাজে লাগাতে পারেন। এতে মনও ভাল থাকবে।

৭. আপাতত কোথাও বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত রাখুন। সম্ভব হলে ভবিষ্যতের জন্য সেই টাকা জমানোর চেষ্টা করুন।

টাকা জমান যেভাবে

১. আয়ের অন্তত ৫ থেকে ১০ শতাংশ টাকা জমাতে চেষ্টা করুন। শেয়ার মার্কেট এখনও স্থিতিশীল নয়। এ কারণে অভিজ্ঞতা না থাকলে এ সময় শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ না করাই ভালো। বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা যাতে সঞ্চয়ের জন্য জমা করা যায় সে ব্যবস্থা করুন।

২. সপ্তাহ শেষে বাজেটের সঙ্গে খরচের হিসাব মেলান। কোথায় কম-বেশি হয়েছে সেটা লক্ষ্য রাখুন। বেশি খরচ করে ফেললে সেটা কীভাবে এড়ানো যায় সেই চেষ্টা করুন।

৩. বেতন পাওয়ার পর বাড়ি ভাড়া, ইলেকট্রিক বিল, সন্তানের স্কুলের বেতন ইত্যাদি দেওয়ার পর যে টাকা থাকবে তার ১০ শতাংশ সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা রাখুন। বছরের শেষে প্রিমিয়াম দিতে বা কোনও দরকারে কাজে লাগবে।

বাজেট মেনে চলবেন যেভাবে

১. সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন বাজারে যান। তালিকা মিলিয়ে জিনিস কিনুন হিসেব করে। অযথা যাতে কোন খরচ না করেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।

২. বিজ্ঞাপন দেখে বা সস্তায় কিছু কেনা থেকে বিরত থাকুন।

৩. নিজেকে সামলাতে না পারলে অনলাইন শপিং সাইটে ঢোকা বন্ধ করে দিন।

৪. যে ঘরে থাকবেন না, সে ঘরের আলো, ফ্যান বন্ধ করে রাখুন।সারাদিন কম্পিউটার অন করে রাখবেন না।

৫. দরকার না হলে সিএনজি, ক্যাবে চড়বেন না।সকালে-বিকেলে তেমন তাড়া না থাকলে আশপাশের কাজগুলি পায়ে হেঁটে সেরে ফেলুন, সাইকেল থাকলে আরও ভালো।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
লাইফস্টাইল

ঘুমের আগে ত্বক পরিষ্কার জরুরি যে কারণে

সারাদিনের ক্লান্তি শেষে রাত আসে অখণ্ড অবসর নিয়ে। এসময়ে নিজেকে একটু সময় দেয়া, কিছুটা যত্ন নেয়া জরুরি। কিন্তু অলসতা পেয়ে বসে অনেক সময়। কোনোরকম হাত-মুখ ধোয়াটাকেই আমরা ত্বকের যত্ন বলে ধরে নেই। হয়তো মনে মনে ভাবি, কাল থেকে নিজের প্রতি যত্নশীল হব। কিন্তু তা বেশিরভাগ সময়েই বাস্তবায়িত হয় না। এমন ছোটখাট উদাসীনতার কারণে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

দিনশেষে আমাদের মতো আমাদের ত্বকও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সেজন্য ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখ পরিষ্কার করা জরুরি। তাই ঘুমের আগে দাঁত পরিষ্কারের মতোই ত্বক পরিষ্কার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বক পরিষ্কার করা কেন জরুরি সেকথা প্রকাশ করেছে বোল্ডস্কাই।

দিনে হয়তো আপনি ত্বকে হালকা মেকআপ বা প্রসাধনী ব্যবহার করেন। আবার বাইরে বের হওয়ার কারণে প্রচুর ধুলোবালি মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আপনি যদি ঘরে ফিরে ত্বক পরিষ্কার না করেন তবে ধুলোবালি এবং মৃত ত্বকের কোষগুলো আপনার ত্বকের ছিদ্রতে আটকে যেতে পারে। আবার মেকআপ ত্বকের ছিদ্রগুলোর ভেতরে ঢুকে যায় এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য মুখ পরিষ্কার না করা হলে, ত্বকের ছিদ্রগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তাই রাতে অবশ্যই ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। সম্ভব হলে সপ্তাহে একবার এক্সফোলিয়েট করুন।

যে দু’টি কারণে ব্রণ হতে পারে তা হলো- বদ্ধ ছিদ্র এবং ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়া। তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার করুন। এর ফলে ত্বকের বদ্ধ ছিদ্রগুলো খুলে যায় এবং মুখ থেকে সমস্ত ময়লা দূর হয়, যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণ হতে পারে।

চোখে দীর্ঘক্ষণ মেকআপ রাখলে চোখ জ্বালা হতে পারে এবং চোখে ইনফেকশনও হতে পারে। তাই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার করে তবেই ঘুমাতে যান।

ভালো ঘুম ত্বকের জন্য ভীষণ উপকারী। কারণ, রাতের বেলা ত্বক পুনরায় জীবন্ত হয়ে ওঠে এবং মৃত ত্বকের কোষগুলো দূর হয়। তবে আপনি যদি আপনি যদি রাতে মুখ না ধুয়ে ঘুমিয়ে যান, তাহলে ত্বকের এই নিরাময় প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়।

প্রতিনিয়ত ময়লা, ধূলিকণা, দূষণ, ধোঁয়া এবং অন্যান্য জিনিসের সংস্পর্শে আসে আমাদের ত্বক। যা আমাদের ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। সময়ের সাথে সাথে, এগুলো আমাদের ত্বককে নিস্তেজ এবং ক্লান্ত করে তোলে। তাই মুখের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে ঘুমের আগে মুখ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
লাইফস্টাইল

হাসবেন যেসব কারণে

করোনাকালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে যারা চিন্তায় আছেন, তাদের হাসিখুশি থাকা খুব জরুরি। হাসি শরীরে স্ট্রেস হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং রোগ প্রতিরোধক শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন বৃদ্ধি করে। ফলাফল মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সম্প্রতি নতুন এক গবেষণায় ইউনিভার্সিটি অব বাসেলের একদল গবেষক এ তথ্য জানিয়েছেন।

নতুন এই গবেষণার ফলাফল পোলস ওয়ান জার্নালে প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষণায় জানায়, হাসার কারণে ফুসফুস প্রসারিত হয়। এতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে বিশুদ্ধ অক্সিজেন প্রবেশ করে, যা পরবর্তী সময়ে শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে নানান রোগের প্রকোপ কমে যায়।

এছাড়া হাসি মানুষকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করে। শরীকে চাঙ্গা রাখে। যারা প্রতিদিন অন্যদের তুলনায় বেশি হাসেন, তাদের চাপ সামলানোর দক্ষতা অন্যদের চেয়ে বেশি।

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, মানুষ সাধারণত দিনে গড়ে ১৮ বার হাসে।

এর আগেও একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, হাসলে মানসিক চাপ কমে। হাসির সময় আমাদের শরীরে এন্ডোরফিন হরমোনের ক্ষরণ হয়, যা স্ট্রেস হরমোন নামে পরিচিত কর্টিজল হরমোনের কার্যক্ষমতাকে কমিয়ে ফেলে। এতে মানসিক চাপ দূর হয় এবং হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে।

গবেষকেরা বলছেন, যদি দুজন মানুষ একসঙ্গে প্রাণ খুলে হাসতে পারেন, তাহলে দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হওয়ার আশঙ্কা বেশ কম। হাসি দলীয় বন্ধন (টিমওয়ার্ক) মজবুত করে। এসব কারণেই হাসবেন নিয়মিত, তাহলে উপকারও পাবেন হাতেনাতে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
লাইফস্টাইল

করোনাকালে চাকরি পেতে যে ৫ কাজ করতে পারেন

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারির কারণে চাকরির বাজারের পরিস্থিতির ধরন পাল্টে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা না হওয়ার কারণে কর্মী ছাঁটাই করছে, আবার অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাটাই না করলেও নতুন নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা বেকার জনগোষ্ঠী। সদ্য পাস করা কর্মহীন গ্র্যাজুয়েটদের পাশাপাশি করোনার কারণে চাকরি হারিয়ে নতুন করে বেকার হয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস সংকটের কারণে বাংলাদেশে প্রতি চারজন যুবকের মধ্যে একজন কর্মহীন বা বেকার অবস্থায় রয়েছেন (২৭.৩৯%)। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই বেকারত্ব বাড়ছে। খবর বিবিসির

এই সংকটের সময় নতুন করে চাকরি পেতে যে পাঁচটি কাজ করতে পারেন-

১. নিজের আকর্ষণীয় প্রোফাইল তৈরি করুন

কীভাবে কোথায় চাকরি খুঁজবেন সেটা অনেক সময়ই বেশ ঝামেলার মনে হতে পারে। বিশেষ করে আপনি যদি জব মার্কেট বা চাকরির বাজার থেকে বেশ কিছু সময় ধরে বাইরে থাকেন তাহলে সেটি আরও বেশি কঠিন মনে হতে পারে।

এক্ষেত্রে যে বিষয়টি কাজ করতে পারে সেটি হচ্ছে, প্রথমেই নিজের একটি আকর্ষণীয় অনলাইন প্রোফাইল তৈরি করুন। এতে আপনার জন্য চাকরির আবেদন করা যেমন সহজ হবে, তেমনি নিয়োগকর্তারাও আপনাকে সহজে খুঁজে পাবে।

এই প্রোফাইল তৈরি করার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে তা হচ্ছে- আপনার মূল দক্ষতার জায়গাগুলো হাইলাইট করতে হবে। সিভি বা বায়োডাটা অথবা জীবন বৃত্তান্ত বানানোর সময় আপনার দক্ষতাগুলোকে অগ্রাধিকার দিন। অভিজ্ঞতাগুলোকে এর পর স্থান দিন। যেমন, আপনি সিভিতে বলতে পারেন যে, কোন কোন প্রজেক্ট আপনি নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং বাজেটের মধ্যে করতে পেরেছেন। আপনি আগের কোম্পানিকে কীভাবে কতগুলো নতুন ক্লায়েন্ট যোগাড় করে দিয়েছেন সেগুলো বর্ণনা করুন।

আবেদন করার আগে তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে আপনার সিভি ও আবেদনপত্রটি পড়তে দিন। কোনো ভুল থাকলে সেগুলো সংশোধন করুন।

প্রতিবার আলাদা কোম্পানি এবং পদের জন্য আলাদা আলাদা সিভি এবং আবেদনপত্র তৈরি করুন। এটি একটু সময় সাপেক্ষ হলেও এতে ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে ডাক না পেলে ফোন করে খোঁজ নিতে পারেন। এতে ওই কোম্পানির জন্য আপনাকে ইগনোর করা বা পাত্তা না দেওয়াটা একটু কঠিন হয়ে পড়বে।

২. কোথায় চাকরি খুঁজবেন?

বিভিন্ন জব সাইটে চাকরির বিজ্ঞাপন দেওয়া থাকে। আবার অনেক কোম্পানি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিজেদের ওয়েবসাইট বা পোর্টালে দিয়ে থাকে। সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

কোনো নির্দিষ্ট একটি কোম্পানিতে চাকরি করতে চাইলে খবর নিন যে সেখানে নিয়োগ হচ্ছে কিনা।

আপনি যদি কোন একটি নির্দিষ্ট পদে চাকরি করতে চান তাহলে নিজে উদ্যোগী হন, ওই পদে যারা কাজ করছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে জানতে চেষ্টা করুন যে তারা কীভাবে সেটি পেয়েছেন। প্রফেশনাল নেটওয়ার্ক সাইটগুলো এক্ষেত্রে কাজে দিতে পারে। যেমন ধরুন লিংকডইন, ফেসবুক গ্রুপ, শিল্প কিংবা কমিউনিটি সংস্থা ইত্যাদি। এসব জায়গায় বিভিন্ন চাকরির খোঁজ যেমন থাকে, ঠিক তেমনি কিভাবে আপনি সেটি অর্জন করবেন তার নির্দেশনাও থাকে।

৩. অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরুন

করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেকটাই বেশি। এক্ষেত্রে অন্যদের থেকে নিজেকে কিভাবে আলাদা প্রমাণ করবেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় অনেকটাই কাজে আসতে পারে।

আপনার বন্ধু, পরিবারের সদস্যরা কিংবা অন্যান্য পরিচিতরা-যেই হোক না কেন তাদেরও পরিচিত আরও অনেক মানুষ থাকে। যাদের মধ্যে কেউ হয়তো নিয়োগকর্তা হতে পারে। এক্ষেত্রে তাদেরকে আপনার চাকরির খোঁজ সম্পর্কে বলে রাখতে পারেন।

কারণ, পরিচিত থাকলেই যে চাকরি হবে সেটা হয়তো না, কিন্তু অনেক নিয়োগকর্তাই রয়েছেন যারা পরিচিতদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে বেশি আগ্রহী। এছাড়া পরিচিত থাকলে আপনি হয়তো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসার আগে থেকেই জানতে পারবেন যে কোথায় চাকরির সুযোগ রয়েছে আর কোথায় নেই।

৪. যে পদের জন্য আবেদন করছেন সে বিষয়ে জানুন

চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, নিয়োগকর্তা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে জানা। যে পদে চাকরির আবেদন করবেন সে পদের কাজের ধরন সম্পর্কে যতটা জ্ঞান আহরণ করা সম্ভব সেটা করতে হবে। এখন ইন্টারনেটের যুগ এছাড়া বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকেও ধারণা নেয়া যায়।

সেই সাথে ওই পদে চাকরিটি হলে তার দায়িত্ব কি হবে, তিনি কিভাবে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে লাভবান করতে পারবেন সেটিও জানতে হবে।

৫. কোন কাজকে ছোট মনে না করে শুরু করতে হবে

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চাকরি লাভের ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয় হচ্ছে ধৈর্য্য ধরতে হবে। সব কিছু একদিনে বা চাইলেই হয়ে যাবে না সেটি মাথায় রাখতে হবে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
লাইফস্টাইল

মাথাব্যথা কমায় যেসব খাবার

শিশু থেকে বয়স্ক, সবার কাছেই মাথাব্যথা পরিচিত একটি সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সময়ে মোবাইল, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ভিডিও গেম ইত্যাদিতে মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে এই সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছাড়াও, রাতে ঘুম না হওয়া, ঠিক মতো সকালের নাস্তা না করা, কাজের চাপ এসব কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে।

মাথাব্যথা সহ্য করতে না পেরে অনেকেই ঘন ঘন ওষুধ খান যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার অন্যতম নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হল মাথা ব্যথা উপশমকারী খাবার খাওয়া। এমন কিছু খাবার আছে যে গুলো মাথাব্যথা কমাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। যেমন-

কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার : কম কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার গ্রহণের কারণে অনেক সময় শরীরে গ্লাইকোজেন হ্রাস পেতে থাকে, যা মস্তিষ্কের শক্তির প্রধান উৎস। তখন মাথাব্যথা হতে থাকে। পরিমিত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার গ্রহণে মাথা ব্যথা কমে। সেই সঙ্গে মুডও ঠিক থাকে।

আদা : আদা এমন একটি সুপারফুড যা স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। এটি মাথা ব্যথা এবং মাইগ্রেনের সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে পারে। বমি বমি ভাব এবং ফ্লু দূর করতেও আদা বেশ কার্যকর। এ কারণে মাথাব্যথা থেকে বাঁচতে আদা চা পান বা খাবারে আদা রাখতে পারেন।

তরমুজ : মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হচ্ছে পানিশূন্যতা। পানি জাতীয় খাবার বা পর্যাপ্ত পানি পান করলে মাথাব্যথা কমে। তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি থাকায় এটি শরীরে আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম মাথাব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর।

পালং শাক : সবুজ শাকসবজি যেমন – পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকায় এটি মাথাব্যথা হ্রাস করতে পারে। এক কাপ শাকের মধ্যে ২৪ মিলিগ্রাম ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এছাড়াও গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত ম্যাগনেসিয়াম সেবন করলে মাইগ্রেন হওয়ার আশঙ্কা শতকরা ৪১ ভাগ কমে যায়।

দই : ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলেও তীব্র মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। ক্যালসিয়ামের অভাব হলে মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করে না। তখন মাথাব্যথা হয়। দইয়ে প্রচুর পরিমাণে রাইবোফ্লাভিন থাকে যা ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের একটি অংশ। এটি মাথাব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে কার্যকর। পাশাপাশি এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। সূত্র: বোল্ড স্কাই

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
লাইফস্টাইল

যেভাবে তৈরি করবেন তালের পাকন পিঠা

এখন পাকা তালের সময়, তাল দিয়ে নানা ধরনের খাবার তৈরি করি আমরা। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দেশি পিঠা।

আপনাদের জন্য দারুণ মজার তালের পাকন পিঠার রেসিপি:

যা যা লাগছে : তালের রস ১ কাপ, দুধ ১ কাপ, চালের গুঁড়া দেড় কাপ, মুগডাল সেদ্ধ করে বাটা এককাপ, লবণ সামান্য, ঘি এক টেবিল চামচ, তেল (পিঠা ভাঁজার জন্য)

সিরার জন্য: চিনি ২ কাপ, পানি ১ কাপ, দারুচিনি ১ টুকরা ও এলাচ ১ টি

যেভাবে করতে হবে

• একটি পাত্র চুলায় দিয়ে প্রথমে তালের রস দিন। তালের রসে দুধ দিয়ে একে একে চালের গুঁড়া, ডাল বাটা, লবণ ও ঘি দিয়ে সেদ্ধ করুন। নামিয়ে ঠান্ডা করে ভালো করে মেখে খামির করে রাখুন।
• এবার আরেকটি পাত্রে চিনি, পানি ও মশলা দিয়ে জ্বালিয়ে সিরা তৈরি করে নিন।
• খামির থেকে এক টেবিল চামচ পরিমাণে নিয়ে পছন্দমতো শেপ আর ডিজাইন করে নিন।
• পিঠা ভাঁজার জন্য পাত্রে তেল গরম দিন। তেল গরম হলে সবগুলো পিঠা অল্প আঁচে একটু সময় নিয়ে সোনালি করে ভেজে নিন।
• পিঠা ভাজা হলে গরম গরমই সিরায় দিন। পাঁচ মিনিট পরই পিঠাগুলো সিরা থেকে তুলে প্লেটে রাখুন।
• এবার ওপরে বাদাম কুঁচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন, দারুণ মজার তালের পাকন পিঠা।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
লাইফস্টাইল

স্যানিটাইজার ব্যবহারে মানতে হবে যেসব সতর্কতা

করোনা যুদ্ধে অন্যতম অস্ত্র স্যানিটাইজার । সংক্রমিত ব্যক্তির কফ, থুতু, হাঁচি থেকে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই মারণ ভাইরাস। সেক্ষেত্রে হাত ধোয়া এবং স্যানিটাইজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তবে স্যানিটাইজার ব্যবহারে হতে হবে সতর্ক।

যেসব কারণে স্যানিটাইজার ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে:

১. অবশ্যই এটি কেনার সময় মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ দেখে নেবেন।

২. স্যানিটাইজার প্রয়োগের পরে আগুনের পাশে না যাওয়া উচিত, কারণ এতে অ্যালকোহল থাকে। আর অ্যালকোহল দাহ্য পদার্থ।

৩. যখনই স্যানিটাইজ করবেন, কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাতে এটি প্রয়োগ করুন।

৪. দুই তালুর মাঝে স্যানিটাইজার লাগানোর সমসয় অবশ্যই আঙুলের মাঝখানেও স্যানিটাইজার প্রয়োগ করুন।

৫. প্রথমেই এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে যে স্যানিটাইজারে ৬০ থেকে ৯৫ শতাংশ অ্যালকোহল রয়েছে।

৬. জীবাণুনাশকটি অধিক ব্যবহারের ফলে আপনার চামড়ার সমস্যা হতে পারে। তাই প্রয়োজনেই স্যানিটাইজার ব্যবহার করা উচিত।

৭. যদি হাতে কোনও রায়ায়নিক বা হাত অত্যন্ত নোংরা হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই স্যানিটাইজার প্রয়োগের আগে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নেবেন।

৮. এটি অবশ্যই শিশুদের নাগাল থেকে দূরে রাখুন। কারণ স্যানিটাইজারে ১-প্রোপানল অ্যালকোহল থাকে যা শিশুদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।

ভয়েস টিভি/টিআর

Categories
লাইফস্টাইল

গলাব্যথা ও সর্দি সারাতে মধু যেভাবে খাবেন

মধু হলো লাখ লাখ মৌমাছির অক্লান্ত শ্রম আর সেবাব্রতী জীবনের দান। মধু মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক অপূর্ব নেয়ামত। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং যাবতীয় রোগ নিরাময়ে মধুর গুণ অপরিসীম। মধুর গুণাগুণের কথা বেশিরভাগ মানুষের জানা। সর্দি-কাশি হলে বা ঠাণ্ডা লাগলে অনেকেই মধু খেতে বলেন। এ ছাড়া অতিপ্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় মধুর ব্যবহার হয়ে আসছে।

এ বিষয়ে বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো বলেন, প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া মধুর রয়েছে অনেক গুণ। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান, যা গলা, বুকে জমে থাকা কফ পরিষ্কার করে। মধু সর্দি-কাশি নিরাময়ে অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়ে বেশি কার্যকর।

আসুন জেনে নিই মধুর উপকারিতা-

কাশি, নাক বন্ধ ও গলাব্যথা সারাতে মধু খুব ভালো কাজ করে। এ ছাড়া শরীরের অনেক উপকার করে। এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এ ছাড়া শ্বাসকষ্টের সমস্যায়ও মধু খেতে পারেন।

এ ছাড়া মধু শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে মধু খেলে চোখের স্বাস্থ্য, পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাগুলো কমে যায়।

আর মধুতে রয়েছে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সার, উচ্চরক্তচাপ ও ত্বকজনিত সমস্যা দূর করে। প্রতিদিন নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় মধু খেলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে। পরিমিত পরিমাণ মধু রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এ ছাড়া উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, যা হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।

মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, যা দাঁতের ব্যথাভাব ও প্রদাহ কমে ও পাকস্থলীও ভালো রাখে।

গলাব্যথা ও সর্দি সারাতে মধু যেভাবে খাবেন-

গলায় ব্যথা হলে এক চামচ মধু খেতে পারেন। এক গ্লাস হালকা গরম পানি বা চায়ে দুই টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে পান করতে পারেন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
লাইফস্টাইল

ইলিশের এই বিশেষ রেসিপিতে জমে যাক বর্ষার মৌসুম

বর্ষার মৌসুম মানেই ইলিশ। আর ইলিশ শুনলেই প্রথমেই মনে হয় সর্ষে বাটা ইলিশ কিংবা ভাপা ইলিশের কথা। সে সব তো আছেই। তবে ইলিশের ঝোলও কিন্তু কম সুস্বাদু নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ইলিশের নানা পদের প্রচলন রয়েছে উনিশ শতকের আগে থেকে।

রাজশাহীর একটি অঞ্চলে ইলিশ মাছের ঝোল রান্না করা হয় বেগুন দিয়ে। এখন প্রতিটি বাঙালি ঘরে অনেকেই এই পদ বানাতে জানেন। কিন্তু কী ফোড়ন দিতে হয় এই পদ? বেগুনটা কি কাঁচা দিতে হয়, নাকি আগে ভেজে নিতে হবে, এগুলো নিয়ে নানারকম সংশয় থাকে অনেকেরই। বেগুন দিয়ে ইলিশ মাছের ঝোল চেখে দেখুন তো এক বার। রইলো রেসিপি।

উপকরণ

ইলিশ মাছ ৪-৫ পিস

বেগুন টুকরো করে কাটা (একটা মাঝারি আকারের কাপ ভর্তি)

আলু ফালি ফালি টুকরো করে কাটা (৪-৫ ছোট টুকরো ), আলু নাও দিতে পারেন।

কাঁচা লঙ্কা ৫-৬টি

হলুদ গুঁড়ো ২ চা চামচ

সর্ষের তেল ৪ চা চামচ

কালো জিরে এক চা চামচ

নুন স্বাদ মতো

প্রণালী

ইলিশ মাছ ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ডিম ভরা ইলিশ হলে সতর্ক হয়ে ধুতে হবে, যাতে ডিমগুলি মাছের বাইরে বেরিয়ে না আসে। এরপর হলুদ গুঁড়ো ও নুন মাখিয়ে অল্প সর্ষের তেলে ভেজে নিতে হবে ইলিশ মাছের টুকরোগুলোকে। এর পর মাছগুলো তুলে রাখতে হবে। অল্প হলুদ ও নুন মাখিয়ে রাখতে হবে আলু ও বেগুনের টুকরোগুলোকেও।

মাছ তুলে রেখে কড়াইয়ে লেগে থাকা ওই তেলেই বা প্রয়োজন হলে আরও একটু তেল দিয়ে পাত্রটি অল্প গরম হলে তাতে কালো জিরে ফোড়ন দিতে হবে। তারপর আলু ও বেগুনের টুকরোগুলোকে কড়াইয়ে দিয়ে অল্প সাঁতলে নিতে হবে। মিনিট তিনেক মতো রাখলেই হবে। এরপর ছোট কাপের দু কাপ পানি দিয়ে পাত্রটি ঢাকা দিয়ে রেখে দিতে হবে মিনিট ছয় থেকে সাত।

এর পর ভাজা মাছগুলোর মধ্যে কাঁচা লঙ্কা চিরে দিতে হবে। দু চামচ কাঁচা সর্ষের তেল আর অল্প নুন মিশিয়ে ঢাকা দিয়ে মিনিট চারেক মতো রান্না করে নিলেই তৈরি ইলিশ বেগুনের ঝোল। আজই বানান তাহলে ইলিশ বেগুনের ঝোল।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
লাইফস্টাইল

শরীরের যত্নে ঘুম কতটা প্রয়োজন?

প্রশান্তির আরেক নাম- ঘুম। সারা দিনের ক্লান্তি ঝেরে মুছে ফেলতে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। দিনের পুরোটা সময় আপনি যেমনভাবেই কাটান না কেন, রাতে যদি প্রশান্তির ঘুম না আসে তখন পুরোটা দিনই যেন ক্লান্তি ভর করে আপনার ওপর।

এতে করে কাজে যেমন মন বসে না, তেমনি নানা রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে আপনার ভেতর। তাই পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। অনেকেই সারা দিন ক্লান্ত থেকেও রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারেন না। আবার কিছু ক্ষেত্রে ভেঙে ভেঙে ঘুমানোর অভ্যাস আছে অনেকের।

ঘুমের ক্ষেত্রে শরীর সুস্থ রাখতে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। অন্যদিকে সব বয়সের মানুষের জন্য ঘুমের সময়ের মাঝেও আছে পার্থক্য। যাদের বয়স ৬ থেকে ৯, তাদের কমপক্ষে ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন; যাদের বয়স ১০ থেকে ১৭, তাদের প্রয়োজন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা আর যারা বয়ঃসন্ধিকাল পার করছেন, তাদের ১১ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন।

তবে ১১ ঘণ্টার বেশি কখনই ঘুমানো উচিত না, এতে করে উল্টা ঘটনাও ঘটতে পারে আপনার শরীরে। অন্যদিকে যাদের রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয় তারা দিনের একটি সময় ঘুমিয়ে তা পুষিয়ে নেন। এতে করে রাতের ঘুমে আরও ব্যাঘাত ঘটে। তাই দিনের বেলা না ঘুমিয়ে রাতে নির্দিষ্ট একটি সময়ে ঘুমানোর রুটিন তৈরি করুন। এছাড়া রাতে ঘুমানোর ঘণ্টা দুই আগে থেকে মোবাইল কিংবা টেলিভিশন দেখা বন্ধ রাখুন।

মোবাইল বা টিভি থেকে যে নীল আলো বের হয়, তাতে ঘুমের মেলাটোনিন নামক হরমোন উৎপাদনে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে। অন্যদিকে অনেকেরই চা-কফি পান করার অভ্যাস আছে ঘুমের আগে। আপনি যদি তেমনি কেউ হয়ে থাকেন, তবে আজকেই এ অভ্যাস থেকে নিজেকে মুক্ত করুন। ঘুমানোর আগে চা কিংবা কফি পান করলে এতে থাকা ক্যাফেইন ঘুম কমাতে কাজ করে। ঘুমানোর আগে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করে নিতে পারেন। এতে ভালো ঘুম হয়।

এছাড়া বর্তমান করোনাকালীন অনেকেই ঘরে সময় কাটাচ্ছেন। এতে করে একঘেয়েমি ভর করছে আপনার ওপর। তাই ঘুমানোর আগে একটু আশপাশে থেকে হেঁটে আসতে পারেন। হালকা ব্যায়াম অথবা ইয়োগাও ঘুমের ক্ষেত্রে খুব কার্যকর।

অন্যদিকে ঘুমানোর আগে বিছানা গুছিয়ে নেয়া ও পর্যাপ্ত বাতাস আর চারপাশ অন্ধকার আছে কিনা- এ বিষয়ের ওপরও নজর রাখা আবশ্যক। ভালো ঘুমের ক্ষেত্রে ঘুমানোর আগে বইপড়ার অভ্যাসও ঘুম আসার ক্ষেত্রে খুব কার্যকর।

ঘুম শরীর ও মন- দু’ক্ষেত্রেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ঘুম যেমন আপনাকে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও অবসাদ থেকে দূরে রাখবে, তেমনি আপনাকে রাখবে সারা দিন ফুরফুরে মেজাজে আর মানসিকভাবেও সুস্থ আর হাস্যোজ্জ্বল।

ভয়েসটিভি/এএস