Categories
জাতীয়

১৭ মার্চ থেকে চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে ফ্লাইট শুরু

প্রথমবারের মতো আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ৮ মার্চ সোমবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যাত্রীদের উন্নত সেবা দিতে বদ্ধপরিকর। এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার ফলে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির নগরী সিলেট ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মধ্যে পর্যটনের দ্রুত বিকাশ ও বাণিজ্যিক উন্নয়নে সেতুবন্ধন তৈরি হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ রুটের টিকিট বিমানের মোবাইল অ্যাপস, ওয়েবসাইট, ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর, বিমানের কল সেন্টার এবং সেলস কাউন্টার থেকে কেনা যাবে।

বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে www.biman-airlines.com অথবা ০১৯৯০৯৯৭৯৯৭ (বিমান কল সেন্টার) এই নম্বরে।

ভয়েস টিভি/এমএইচ

Categories
জাতীয়

না ফেরার দেশে জনপ্রিয় অভিনেতা শাহীন আলম

এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা শাহীন আলম মারা গেছেন। ৮ মার্চ সোমবার রাত ১০ টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট থাকা অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না..রাজিউন)।

শাহীন আলমের একমাত্র ছেলে ফাহিম নূর আলম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। গত সোমবার তাঁর হালকা জ্বর আসে।এরপর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।আর শনিবার রাতে বাবার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এরপর সাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।অবশেষে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

১৯৮৬ সালের এফডিসির নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান শাহিন আলম। এরপর বেশকিছু সিনেমায় অভিনয় করেন। প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহের সঙ্গেও কাজ করেছেন এই চিত্রনায়ক। শাহিন আলম ‘ঘাটের মাঝি, এক পলকে, গরিবের সংসার, তেজী, চাঁদাবাজ, প্রেম প্রতিশোধ, টাইগার, রাগ-অনুরাগ, দাগী সন্তান, বাঘা-বাঘিনী, আলিফ লায়লা, স্বপ্নের নায়ক, আঞ্জুমান, অজানা শত্রু, দেশদ্রোহী, প্রেম দিওয়ানা, আমার মা, পাগলা বাবুল, শক্তির লড়াই, দলপতি, পাপী সন্তান, ঢাকাইয়া মাস্তান, বিগবস, বাবা, বাঘের বাচ্চা, বিদ্রোহী সালাউদ্দিন উল্লেখযোগ্য।

শাহীন আলম জসিম, রুবেল, ইলিয়াস কাঞ্চন, মান্না, শাকিব খান-দের ছবিতে দ্বিতীয় নায়কের ভূমিকায় থাকলেও তার চরিত্রের গুরুত্ব থাকত। নিজে মূল নায়কও ছিল ‘ঘাটের মাঝি, এক পলকে, আলিফ লায়লা, পাপী সন্তান’ ছবিগুলোতে। এমনকি একাধিক নায়কের ছবিতেও তার ভূমিকা থাকত অন্যতম। যেমন-‘গরিবের সংসার’ ছবিতে জসিম, বাপ্পারাজ, ড্যানি সিডাক থাকার পরেও শাহীন আলম ছিল ছবির অন্যতম নায়ক। বিপরীতে ছিল লিমা। লিমা তিন ভাইয়ের আদরের বোন। লিমা শহরে এসে বিপদে পড়ার পর শাহিন আলম তাকে আশ্রয় দেয়। লিমার জীবন পাল্টে দেয়াতে তার অবদান থাকে। এভাবে অন্য ছবিগুলোতেও ভূমিকা ছিল।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
জাতীয়

জিয়া ২৫ ও ২৬ মার্চ চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ড চালান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২৫ মার্চ চট্টগ্রামে যারা বেরিকেড দিচ্ছিল তাদের অনেককে জিয়াউর রহমান গুলি করে হত্যা করেন। শুধু তাই নয়, জিয়া ২৫ ও ২৬ দুই দিনই হত্যাকাণ্ড চালান।’

তিনি আরও বলেন, ২৭ তারিখ সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র নামাতে গিয়েছিলেন জিয়া। তিনি যাতে অস্ত্র নামাতে না পারেন, আমাদের স্বাধীনতাকামীরা তাকে আটকান।’

৮ মার্চ সোমবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ৭ মার্চ উপলক্ষে আয়োজিত দলটির আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের হান্নান সাহেব গংরা ঘোষণা দিয়েছিলেন। জহুর আহমেদ চৌধুরী সাহেব বলেছিলেন, আমরা তো ঘোষণা দিয়েই যাচ্ছি। সেনাবাহিনীর একজনকে এনে ঘোষণা দিলে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব থাকবে। ওই সময় মেজর রফিক সাহেব অ্যাম্বুশ (আক্রমণ) করে বসেছিলেন। তিনি বলেন, আমি এখান থেকে সরলে পাকিস্তানিরা জায়গাটা দখল করে নেবে। যার কারণে জিয়াউর রহমান যেহেতু জনগণের কাছে ধরা ছিলেন, তাকে ধরে নিয়ে এসে ঘোষণা পাঠ করতে বলা হয়। সেই থেকে তাকে ঘোষক বলে প্রচার চালায়। কিন্তু তিনি (জিয়াউর রহমান) যে ২৫ ও ২৬ মার্চ মানুষ হত্যা করেছেন, সে কথা ভুলে যায়।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যা করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন যেই জিয়া, সেই জিয়ার দলের নেতারা ৭ মার্চের ভাষণের মর্ম বুঝবে না, এটাই স্বাভাবিক। ধরে নিতে হবে তারা তাদের পুরোনো প্রভুদের ভোলেনি। তাদের পালিত দল হিসেবে তারা এখনও আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি (জিয়াউর রহমান) তো আগাগোড়া পাকিস্তানের দালালি করে আসছেন। তার জন্মও সেখানে। লেখাপড়াও ওখানে। তিনি কবে বাংলাদেশের হলেন? চাকরি সূত্রে বাংলাদেশে এসেছে। সে সূত্রে বিবাহ করে পরবর্তীতে থেকে যায়। এটাই তো বাস্তবতা। তারপরও যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন তাদের সম্মান দেয়া হয়েছে। কিন্তু এদের চরিত্র তো বদলায়নি। ঠিকই বেঈমানি-মুনাফেকি করেছেন। একটা মেজর ছিলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে প্রমোশন দিয়ে মেজর জেনারেল করেছেন। সেই এই হত্যাকাণ্ডের (১৫ আগস্ট) মূলহোতা ছিলেন এবং ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যারা ১৫ আগস্টের হত্যার সঙ্গে জড়িত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়, এ দেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, তাদের তৈরি করা রাজনৈতিক দল থেকে বাংলাদেশের মানুষ কী আশা করবে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের উন্নয়ন করেছি, এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, এটা তাদের একটু পছন্দ নয়। তাদের কাছে ক্ষমতা ভোগের বস্তু। বিলাসী জীবন কাটিয়েছে। এরা মানুষের কষ্ট বুঝবে কী করে? আমি আমাদের নেতাকর্মীদের বলবো, ওরা কি বললো, এটা নিয়ে কথা বলার দরকার নেই, চিন্তা করার দরকার নেই। এই করোনায় তারা কত কথা বলেছে, কিন্তু টিকা তো তাদের নিতে হলো। আমি সরকারে আছি, পয়সা দিয়ে টিকা কিনে ফ্রি দিচ্ছি। বিনা পয়সার টিকা তো বিএনপি নেতারা নিয়েছেন। এর আগে কী বলেছেন? এজন্য তারা কী বললো তা দেখার দরকার নেই।’

তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণে একটি পূর্ণাঙ্গ গেরিলা যুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। একেকটা লাইন একেকটা নির্দেশনা। এটাই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা। যে দেশ তিনি স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, সে দেশের টেলিভিশন রেডিও তার ভাষণ প্রচার করতে পারতো না। এটা প্রচারে ছিল অলিখিত নিষেধাজ্ঞা। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের, যারা দেশের আনাচে-কানাচে এই ভাষণ বাজিয়েছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এ ভাষণটাকে (৭ মার্চের ভাষণ) ছোট করতে চায়, বিএনপির কয়েকজন নেতা, সাবেক ছাত্রলীগও আছে। তারা নাকি এ ভাষণে স্বাধীনতার কোনো ঘোষণাও পাননি। এরা পাবেন না। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও পায়নি। এরা পাকিস্তানি হানাদারদের পদলেহনকারী, খোশামোদি, তোষামোদকারী।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন (৭ মার্চ) পাকিস্তানি বাহিনী প্রস্তুতি নিয়ে বসেছিল। এই ভাষণের ভিত্তিতে এদের আক্রমণ করে শেষ করে দেবে। জাতির পিতা এই কৌশল বুঝতেন। তিনি ভাষাটা জানতেন, মানুষকে কীভাবে বলতে হবে। এটাই তার রণকৌশল। তার কথা বাংলাদেশের মানুষ বুঝেছিল এবং অক্ষরে অক্ষরে নির্দেশনা মেনে কাজ করেছে। এটা একজন বোঝেনি, তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি সিরাজুল আলম খান। তিনি সেদিনের ভাষণের পর আমাদের বাসায় গেলেন। তখন বঙ্গবন্ধুকে বললেন, লিডার আপনি কী বললেন, সব মানুষ হতাশ হয়ে চলে যাচ্ছে! সেখানে আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমদসহ অনেকে ছিলেন। আমি তখন বলেছিলাম, আপনারা এত মিথ্যা কথা বলেন কেন? মানুষ তো খুশিতে লাফাতে লাফাতে যাচ্ছে। একসঙ্গে স্লোগান দিচ্ছে। মানুষ খইয়ের মতো ফুটছে। আব্বাকে বললাম, তাদের কথা বিশ্বাস করবেন না।’

তিনি আরও বলেন, আজকে বিএনপির কয়েকজন নেতার বক্তব্য এবং ওই দিনের সেই কথা মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয়, তারাও হানাদারদের তোষামোদকারী।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

দেশে করোনা শনাক্ত বেড়েছে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত এক দিনে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৮৪৫ জন।

এর আগে সর্বশেষ ১৩ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদফতর এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্তের তথ্য দিয়েছিল। সেদিন ৮৯০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। আর ১৪ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আটশর নিচেই ছিল।

৮ মার্চ সোমবার বিকেলে সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত এক দিনে মারা যাওয়া ১৪ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট ৮ হাজার ৪৭৬ জনের মৃত্যু হল।

আর গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮৪৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৫১ হাজার ১৭৫ জন হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ১১৭ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। এনিয়ে এখন পর্যন্ত সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৪ হাজার ১২০ জন হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৮টি আরটি-পিসিআর ল্যাব, ২৯টি জিন-এক্সপার্ট ল্যাব ও ৭২টি র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ল্যাবে অর্থাৎ সর্বমোট ২১৯টি ল্যাবে ১৬ হাজার ৯৫৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ১৬৩টি নমুনা।

২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

করোনায় মানবিকতা সফলতা ব্যর্থতার এক বছর

৮ মার্চ ২০২০। সেদিন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে জানানো হয় বাংলাদেশে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন নারী এবং দুইজন পুরুষ। এই ঘোষণার পর পেরিয়ে গেছে এক বছর।

ভয়াবহ এক বছর মানুষের জীবনকে করেছে বিপর্যস্ত। প্রথম দিকে মানুষের ছিল উৎকন্ঠা, উদ্বেগ, ভাইরাস সম্পর্কে তথ্য না থাকা, গুজব, কোন ওষুধ বা টিকা না থাকা সব মিলিয়ে দিশেহারা অবস্থা।

অনান্য দেশের মতো জাতিসংঘের নির্দেশে মানুষের শুধু করণীয় ছিল বার বার হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা।

সরকার গেলো বছরের ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে দেশজুড়ে লকডাউন জারি করে । এর আগে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় মার্চ মাসের ১৭ তারিখে। সবকিছু কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো খোলা হয়নি। এইচএসসির শিক্ষার্থীদের অটোপাস এবং অন্যন্যদের অটো প্রমোশনের বিষয়টিও আলোচিত হয়।

লকডাউনে ঘরবন্দি মানুষের খাদ্যাভাব দূর করতে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণাসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে সেইসব ব্যবস্থার সুফল সব সাধারণ মানুষ সমানভাবে না পাওয়ার অভিযোগও ছিল। বিশেষ করে মধ্যবিত্তরা পড়ে উভয় সংকটে। লকডাউনে দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের করুণ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

এদিকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আগে থেকেই জনমনে ক্ষোভ ছিল। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সেটা আরও জোরালো হয়। উঠে আসে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতির নানা চিত্র। শুরুতে সমন্বয়হীনতা প্রকট আকার ধারণ করে। এতে দেশজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে বলেও মন্তব্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

শুরুর আড়াই মাস কাজে লাগাতে পারেনি মন্ত্রণালয়। উল্টো চিকিৎসকদের দেয়া হয় নিম্নমানের পিপিই, মাস্কসহ সুরক্ষা সামগ্রী। এসব কেনাকাটায় ধরা পড়ে পুকুর চুরি। অনুমোদনহীন হাসপাতালকে করা হয় কোভিড টেস্ট কেন্দ্র। এসব কারণে প্রায় প্রতিদিনই রোগী থেকে আক্রান্ত হয়েছেন চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। লকডাউন করতে হয়েছে পুরো হাসপাতাল। শুরুর দিকে নমুনা পরীক্ষা, রিপোর্ট দিতে দেরি করা, নমুনা পরীক্ষায় রোগীদের ভোগান্তি; সবমিলিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আগাগোড়া ছিল প্রশ্নের মুখে।

এদিকে নকল মাস্ক সরবরাহের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় বিব্রত হয় কেন্দ্রীয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

এছাড়া করোনাকালে রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ করিম, জেকেজি হেল্থ কেয়ারের ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফের দুর্নীতির চিত্রগুলো দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। করোনাকে পুঁজি করে তাদের হীন মানসিকাতায় দেশবাসী শুধু হতবাকই নয রীতিমতো শঙ্কায় পড়ে যান।

প্রবাসীদের দেশে ফেরানো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়। নানা মহলের দাবির প্রেক্ষিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আটকে পড়া প্রবাসীদের কয়েক ধাপে ফিরিয়ে আনা হয়।

তবে সরকারের নানা উদদ্যোগ এসময় প্রশংসিত হয়। লকডাউন চলাকালে সাধারণের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেয়া। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছে পুলিশসহ প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তার কাজ করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল করোনাকালে হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার-নার্সরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে সেবা দিয়েছেন।

সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের এমপি-মন্ত্রী প্রায়ই দাবি করছে অন্যান্য যেকোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এই এক বছরে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সফলতা দেখিয়েছে।

গতবছরের এই দিনে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গতকাল ৭ মার্চ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় সাড়ে ৫ লাখে। গত ১৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয়, আর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেশে সরকারি রিপোর্ট  অনুসারে ভাইরাসটিতে ৮ হাজার ৪৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

আন্দোলন নয়, যোগ্যতা দিয়ে নারী অধিকার আদায় করতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘নারী অধিকার দাও, নারীর অধিকার দাও- বলে চিৎকার করে ও বক্তব্য দিলেই হবে না। খালি আন্দোলন করলেই অধিকার আদায় হয় না। অধিকার আদায় করে নিতে হবে। সেটা আদায় করতে যোগ্যতা লাগবে। সে যোগ্যতা শিক্ষা-দীক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আসবে।’

৮ মার্চ সোমবার ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শিশু ও মহিলাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরার সভাপতিত্বে শিশু একাডেমিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলছে। লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। আমাদের জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা নানামুখী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেয়েদের এমন শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। যাতে তারা ভবিষ্যৎ জীবনে আদর্শ গৃহিণী, জননী ও নারী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। জাতীয় সংসদে স্পিকার, সংসদ নেতা, উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেতা সব নারী। এভাবে রাজনীতিসহ বাংলাদেশের সর্বক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে আসছে। অচলায়তন ভেদ করে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। এটি সবচেয়ে বড় সফলতা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। নারী-পুরুষ সবাই মিলে প্রিয় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। পাকিস্তান আমলে জুডিশিয়াল সার্ভিসে মেয়েরা আসতে পারতো না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের সুযোগ দিয়েছেন। আমরা এসে উচ্চ আদালতেও নারীদের নিয়ে এসেছি। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বর্ডার গার্ডসহ সব বাহিনীতে নারীদের অংশ নেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। বিদেশি কূটনৈতিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিও নারীরা হচ্ছেন। স্থানীয় সরকারে নারীদের সংরক্ষিত আসন রেখেছি। ব্যাংকের এমডি, গভর্নর, খেলাধুলাসহ সব জায়গায় নারীদের সুযোগ আছে। ’৯৬ সালে রাজশাহীতে প্রমীলা ফুটবল খেলা প্রচণ্ড বাধার মুখে হতে পারেনি, এখন সে অবস্থা নেই।’

নারী উন্নয়নে সরকারের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারী উন্নয়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২৫ প্রণয়ন করেছি। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা নিরোধ কর্মপরিকল্পনাসহ নারী সুরক্ষায় নানা উদ্যোগ নিয়েছি। বাবার নামের সঙ্গে মায়ের নাম সংযুক্ত করে নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করেছি। নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। কর্মজীবী নারী হোস্টেল করছি। ৬৩টি শিশু দিবা যত্ন কেন্দ্র করে দিয়েছি। সব জায়গায় এটি করতে নির্দেশও দিয়েছি। ৩২০০ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে নারীদের অনুদান দেয়া হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য জয়িতা ফাউন্ডেশন করে দিয়েছি। আমার বাড়ি, আমার খামারের মাধ্যমে নারীরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছি। মুজিববর্ষে গৃহহীনদের ঘর দিচ্ছি, এতে নারীকেও মালিকানা দেয়া হচ্ছে।’

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ছে!

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ ৬ মাস বাড়ানোর সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয়ের বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ পূর্বের শর্তে আরও ৬ মাস বাড়ানোর সুপারিশ করে মতামত দিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৮ মার্চ সোমবার সকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ সম্পর্কিত নথিতে অনুমোদন দিয়েছেন এবং উক্ত নথি কিছুক্ষণ আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

Categories
জাতীয়

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল : প্রধানমন্ত্রী

লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশ নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। আমাদের জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা নানামুখী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ৭ মার্চ সোমবার দেয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বের সকল নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নারী আন্দোলনের ইতিহাসে আজ এক গৌরবময় দিন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা আর মজুরি বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে নারী আদায় করেছিল তার অধিকার। আদায় করেছিল বিশ্ব সমীহ। নারী তার মেধা ও শ্রম দিয়ে যুগে যুগে সভ্যতার সকল অগ্রগতি এবং উন্নয়নে করেছে সমঅংশীদারি। আর তাই সারা বিশ্বে বদলে গেছে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। এখন নারীর কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বীকৃতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে ‘নারী পুনর্বাসন বোর্ড’ গঠন করেন। তিনি জাতীয় জীবনের সকলক্ষেত্রে নারীর সমানাধিকারের বিষয়টি সংবিধানে নিশ্চিত করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার রেসপন্সিভ বাজেট প্রণয়নসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের আত্মকর্মসংস্থানমূলক কর্মে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। হ্রাস পাচ্ছে নারীর দারিদ্র্য। জাতীয় অর্থনীতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে নারীর অংশগ্রহণ। কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য নির্বিঘ্নে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। দেশে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় রয়েছে কঠোর আইন এবং আইনের প্রয়োগ। আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা, রাজনীতি, কূটনীতি, আইন প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়, অর্থনীতি, সাংবাদিকতা, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প-সাহিত্য, খেলাধুলা প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও রয়েছে এ দেশের নারীদের ব্যাপক পরিচিতি। চিকিৎসা, রাজনীতি, মানবাধিকার রক্ষা, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন, খেলাধুলা, এভারেস্ট বিজয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এদেশের মেয়েরা অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও সম্মাননা। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণসহ চলমান প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে জোরালো পদক্ষেপ এবং নতুন প্রকল্প ও কর্মসূচি গ্রহণ করে বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আমরা সফল হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের নারী উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করছে। আমরা জাতিসংঘের এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড, প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন, এজেন্ট অব চেঞ্জ, শিক্ষায় লিঙ্গসমতা আনার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কোর ‘শান্তি বৃক্ষ’ এবং গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, এ দেশের নারী পুরুষের যৌথ প্রচেষ্টায় রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনসহ ২০৪১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশে বাংলাদেশে উত্তরণ ঘটবে। বিনির্মাণ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। বাস্তবায়িত হবে ডেল্টাপ্ল্যান-২১০০। মুজিববর্ষে এই হোক আমাদের প্রত্যাশা। আমি ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২১’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
জাতীয়

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ

বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক আজ ০৮ মার্চ সোমবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাঁধা দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ বৈঠক হবে। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য সচিব জাফর উদ্দিন এবং ভারতের পক্ষে সেদেশের বাণিজ্য ও শিল্প সচিব অনুপ ধাওয়ান বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন।

রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বকসী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সচিব পর্যায়ের এ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিএসটিআই , সড়ক ও জনপথ বিভাগ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

সভায় ২০২০ সালের ১৫-১৬ জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বিষয়ে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৩তম সভার অগ্রগতি,দু’দেশের মধ্যকার বিরাজমান ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ বাণিজ্য বাঁধা দূরীকরণ,কতিপয় বাংলাদেশি পণ্যের উপর ভারত সরকার আরোপিত এন্টি ডাম্পিং বিষয়ে আলোচনা, দু’দেশের মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশীপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা,বর্ডার হাটের সংখ্যা সম্প্রসারণ ও সীমান্ত বাণিজ্য বৃদ্ধি, দু’দেশের মধ্যকার বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ, বাংলাদেশ ও ভারতের অংশগ্রহণে বিভিন্ন আঞ্চলিক ফোরামকে অধিকতর কার্যকরকরণ ও অন্যান্য বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে।

২৪ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেবেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন। অপরপক্ষে ৭ সদস্য বিশিষ্ট ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে দেবেন সেদেশের বাণিজ্য ও শিল্প সচিব অনুপ ধাওয়ান।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
জাতীয়

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ। নারীর সম-অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯১৪ সাল থেকে বিভিন্ন দেশ ৮ মার্চ দিবসটি পালন করে আসছে। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ দিনটি ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালন করছে।

সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হবে। এবার নারী দিবসের প্রতিপাদ্য- ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তার বাণীতে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নারী-পুরুষ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের ফলে নারী উন্নয়ন আজ সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, বিচারবিভাগ, প্রশাসন, কূটনীতি, সশস্ত্রবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শান্তিরক্ষা মিশনসহ সর্বক্ষেত্রে নারীর সফল অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ ক্রমান্বয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীর সম অধিকারের বিষয়টি সংবিধানে নিশ্চিত করেছেন। নারী পুরুষের যৌথ প্রচেষ্টায় বিনির্মাণ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, নারী তার মেধা ও শ্রম দিয়ে যুগে যুগে সভ্যতার সকল অগ্রগতি এবং উন্নয়নে করেছে সমঅংশীদারিত্ব। আর তাই সারা বিশ্বে বদলে গেছে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি। এখন নারীর কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে, বৃদ্ধি পাচ্ছে স্বীকৃতি।

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, লিঙ্গ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। আমাদের জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা গ্রহণ করেছি নানামুখী পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ।

নারী দিবসের কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় পর্যায়ের ৫ জনকে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ সম্মাননা দেবে সরকার। সকাল সাড়ে ১০টায় শিশু একাডেমি মিলনায়তনে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের হাতে এক লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ।

বিকেল ৪টায় ৬৭টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে অনলাইনে আলোচনা সভা হবে। তাতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সভায় উন্নয়নকর্মী, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি আলোচনা করবেন।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দেশের জাতীয় গণমাধ্যম বিশেষ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেছে। বিভিন্ন সংগঠন ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে দিবসটি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে।

যেভাবে এলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস

১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক শ্রম ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে আট ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। আন্দোলন করার অপরাধে সে সময় গ্রেফতার হন অসংখ্য নারী। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেকেই।

এর তিন বছর পরে ১৮৬০ সালের একই দিনে গঠন করা হয় ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’। ১৯০৮ সালে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের কারখানার প্রায় দেড় হাজার নারীশ্রমিক একই দাবিতে আন্দোলন করেন। অবশেষে আদায় করে নেন দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার অধিকার।

১৯১০ সালের এই দিনে ডেনমাকের্র কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মানির নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই সারাবিশ্বে দিবসটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে। এর দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

নারী দিবস হচ্ছে- জাতিগত, গোষ্ঠীগত, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে নারীর অর্জনকে মর্যাদা দেয়ার দিন। এদিনে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে স্বরণ করে এবং ভবিষ্যতের পথ পরিক্রমা নির্ধারণ করে, যাতে আগামী দিনগুলো নারীর জন্য আরও গৌরবময় হয়ে ওঠে।

ভয়েসটিভি/এএস