Categories
জাতীয়

আবাবিল: যে পাখি চাঁদে যায়, নদীর তলদেশে ঘুমায়

৫৭০ খ্রিস্টাব্দ। মক্কার পার্শ্ববর্তী ইয়েমেনের শাসক আবরাহা তার রাজধানী সানাতে কাবার অনুরূপ ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ করেন। আবহারার ইচ্ছা মক্কার পরিবর্তে সানা ঘিরে আবর্তিত হবে বিশ্ববাসীর প্রার্থনা। কিন্তু ধর্মপ্রাণ মানুষ কাবা ত্যাগের কথা কোনোভাবেই ভাবতে পারে না। ক্ষুদ্ধ আবরাহা তাই কাবা গুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। ৯-১৩টি বড় বড় হাতি নিয়ে কাবার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে তার সৈন্যদল। কিন্তু কিছুদূর গিয়ে হাতিগুলোও আর অগ্রসর হতে চায় না।

চতুর আবরাহা এবার হাতিগুলোকে খাবারের লোভ দেখান। খাবার দেখে সেগুলো আবারও আগাতে শুরু করে। কিন্তু হঠাৎ করেই আবরাহার সেনারা থামতে বাধ্য হয়। তাদের ওপর বৃষ্টির মতো নুড়ি পাথরের ঢিল এসে পড়তে থাকে। দেখা যায় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিতে আকাশ ছেয়ে গেছে। তারাই ছুড়ছে এসব ঢিল।

এভাবেই সৃষ্টির বৃহদাকার প্রাণীর পথ আটকে দেয় আকারে ক্ষুদ্র এক পাখি। কুরআন শরীফের সূরা ফিলে এই পাখির কথা উল্লেখ আছে। পাখিটি আবাবিল।

রহস্যময় এক পাখি এই আবাবিল। একসময় পশ্চিমাদের ধারণা ছিল শীতকালে আবাবিল পাখি চাঁদে যায়। অনেকে ভাবত শীত এলে তারা নদীর তলদেশে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আবাবিল নিয়ে গ্রিক এমনকি রোমান পুরাকথাতেও বহু কাহিনি পাওয়া যায়।

পরিযায়ী আবাবিল

আবাবিলের ইংরেজি নাম সোয়ালো। ইউরোপে পাখিটি বার্ন সোয়ালো বা গোলাঘরের পাখি হিসেবেও পরিচিত। প্রজাতি অনুযায়ী এদের আচরণে পার্থক্য দেখা যায়। আবাবিলের অনেক প্রজাতিই গাছের কোটর, গোলাঘর, আস্তাবল ইত্যাদি জায়গায় বাসা বাঁধে। সাধারণভাবে এরা জলাভূমির কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসে। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকার পাখিগুলো পরিযায়ী। শীত পড়লে এরা দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে উষ্ণ অঞ্চলে আসে। তবে পশ্চিম ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো উষ্ণ অঞ্চলের আবাবিলরা জন্মস্থানেই কাটিয়ে দেয়।

শীতকালে বাংলাদেশে পরিযায়ী আবাবিল পাখির দেখা মিলে। খাল, হাওড়, জলাশয় কিংবা ফসলের খেতের ওপর উড়ন্ত অবস্থায় তাদের ছোট ছোট পোকা শিকার করতে দেখা যায়। প্রচলিত আছে এই পাখিরা নাকি কখনোই মাটিতে নেমে আসে না। উড়তে ভালোবাসলেও তারা যে কখনোই অবতরণ করে না এমন নয়। পরিযায়ী পাখিগুলো প্রতিবছরই শীত শেষে তাদের ঘরে ফিরে।

আবাবিল নিয়ে যত বিশ্বাস

বহু বছর ধরে আবাবিল পাখিকে বসন্তের আগমনের প্রতীক হিসেবে দেখেছে পশ্চিমারা। আবাবিলের আচরণ দেখে আবহাওয়া কেমন যাবে তা নির্ধারিত হতো। পাখিরা মাটি থেকে কাছাকাছি ওড়ার অর্থ বৃষ্টি হবে। তারা উঁচুতে উড়ছে মানে আবহাওয়া ভালো। অবশ্য বিষয়টি স্রেফ প্রচলিত বিশ্বাস নয়। নিম্নচাপ প্রায়ই খারাপ আবহাওয়া পূর্বাভাস দেয়। অন্যদিকে সেসময় পাখিদের জন্য উড়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

এককালে ধারণা করা হতো আবাবিল পাখি মৃতদের আত্মা বহন করে। আর তাই ছেলে হারানো শোকার্ত মায়েরা পাখিটিকে পবিত্র মনে করত। আবাবিল পাখিকে হত্যাও অশুভ হিসেবে দেখা হতো। খ্রিস্টানরা এখনো পাখিটিকে আত্মত্যাগ, পুনর্জন্ম এবং নতুন সূচনার প্রতীক মনে করে। ইংল্যান্ডে শ্রমজীবী মানুষের প্রতীক হিসেবেও এই পাখির চিহ্ন ব্যবহার করা হতো।

নাবিকদের জন্য আবাবিল পাখির ট্যাটু বিশেষ অর্থ বহন করত। সাধারণত কোনো নাবিক ৫০০০ নটিক্যাল মাইলের বেশি ভ্রমণ করার পর তাদের অভিজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে এই ট্যাটু অঙ্কন করত। দূরের যাত্রায় নাবিকদের জন্য সৌভাগ্যের প্রতীক ছিল আবাবিল। অনেক যোদ্ধা শক্তি ও দ্রুততার চিহ্ন হিসেবে হাতের আঙুলে সোয়ালোর ট্যাটু করাতেন।

গ্রিক পুরাণে আবাবিল

প্রাচীনকালে আবাবিলের সঙ্গে দেবতা এমনকি মৃত মানুষের আত্মার সম্পর্ক রয়েছে বলে ভাবা হতো। গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী, আবাবিল ছিল প্রণয়ের দেবী আফ্রোদিতির আশীর্বাদপুষ্ট। আফ্রোদিতি একবার অলিম্পাস থেকে মর্ত্যে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। রাজহাঁসদের সাথে রথে চড়ে তিনি বের হন। কিন্তু যাত্রাপথে তুমুল ঝড়ের কবলে পড়েন আফ্রোদিতি। রথ ভেঙে দেবী পৃথিবীতে পতিত হন। আহত আফ্রোদিতি কাছাকাছি একটি আবাবিল পাখি দেখে তার কাছে সাহায্য চান। পাখিটি উড়ে গিয়ে তার জন্য মিষ্টি বেরি ফল নিয়ে আসে। পরদিন আরও তিনটি পাখি খাবার ও সাহায্য নিয়ে আসে। এভাবে যতদিন যায়, তার কাছে তত বেশি পাখি আসতে থাকে।

এক মাস পর রথ সারানো হয়ে যায়। আফ্রোদিতি ফিরে যাবে এমন সময় দেখা গেল তার হাঁসগুলো নেই। সেগুলো আগেই ঘরে ফিরে গেছে। এবার আবাবিলরাই দেবীকে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব রাখে। আফ্রোদিতি খুশি হয়ে বরদান দেয় যে এই ভূমি আবাবিলদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হবে। শয়ে শয়ে আবাবিল পাখি মিলে তাকে অলিম্পাস পর্বতে পৌঁছে দিয়ে আসে। অলিম্পাস ঘুরে প্রায় একবছর পর পাখিরা নিজেদের ঘরে ফিরে। সেই থেকে তারা ঠিক করে যে প্রতিবছর একবার হলেও যে স্থানে তারা আফ্রোদিতিকে সাহায্য করেছিল সেই স্থানে ফিরে আসবে।

বহু বছর পর মানুষ সেই জায়গায় এসে ঘরবাড়ি গড়ে তোলে, আবাদ শুরু করে। তারা অবাক হয়ে দেখে প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে আবাবিল পাখিরা এখানে আসে।

আবাবিল শীতনিদ্রায় যায় বলে ভাবতেন অ্যারিস্টটল

আবাবিল পাখি নিয়ে প্রাচীনকাল থেকেই গ্রিকরা ভাবতে শুরু করেছিল। গভীরভাবে প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করত তারা। সাধারণভাবে তারা ধারণা করেছিল শীত আসলে পাখিরা দূরে কোথাও চলে যায়। কিন্তু কোথায় যায়, সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা ছিল না। মিশরে যেহেতু পাখিগুলো সারাবছরই থাকত, তারা ধারণা করেছিল পাখিগুলো কোনো উষ্ণ অঞ্চলে যাচ্ছে।

কিন্তু সমস্যা শুরু হয় অ্যারিস্টটলকে নিয়ে। তিনি কাঠামোগত পদ্ধতিতে প্রকৃতিকে বোঝার চেষ্টা করছিলেন। পাখিদের গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হিস্টরিয়া অ্যানিমালিয়াম বইয়ে তিনি লিখেন, শীতকালে পালকহীন অবস্থায় কিছু পাখিকে গাছের কোটরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, উষ্ণ অঞ্চলের কাছাকাছি থাকা পাখিগুলো দেশান্তরী হয়। অন্যদিকে যেসব পাখি উষ্ণ অঞ্চল থেকে দূরে থাকে, তারা শীতকালে গাছের কোটরে বা এরকম জায়গায় আশ্রয় নিয়ে পুরো শীতকাল হাইবারনেশন বা শীতনিদ্রায় কাটিয়ে দেয়।

শীতকাল চাঁদে কাটায় আবাবিল

১৬৮০ সালের দিকে ইংরেজি শিক্ষাবিদ চার্লস মর্টন দাবি করেন শীতকালে আবাবিল পাখি চাঁদে যায়। শীতকালে আবাবিলদের দেখা যায় না, তা সকলেই জানত। কিন্তু সে সময় তারা কোথায় যায় এ বিষয়ে কারও কোনো ধারণা ছিল না। মর্টন পাখিদের অনেক অনুসন্ধান করেও খোঁজ না পেয়ে এই তত্ত্ব দেন। তিনি ধারণা করেন পাখিরা এমন জায়গায় যায় যেখানে তাদের খুঁজে পাওয়ার সাধ্য মানুষের নেই। এমন ধারণা থেকেই তিনি পাখিদের চাঁদে যাওয়ার তত্ত্ব দেন।

মর্টনের প্রায় ৭০ বছর আগেই গ্যালিলিও চাঁদে পাহাড় ও সমুদ্র খুঁজে পাওয়ার দাবি করেন। সম্ভবত তিনি ফ্রান্সিস গডউইনের ১৬৩৮ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ম্যান ইন দ্য মুন’ উপন্যাসও পড়েছিলেন। উপন্যাসটিতে চাঁদে গিয়ে এক ব্যক্তি ঝাঁকে ঝাঁকে পাখির দেখা পান।

মর্টনের হিসাব অনুযায়ী পাখিরা গড়ে ঘণ্টায় ১২৫ মাইল গতিতে দুই মাস ধরে উড়ার পর চাঁদে গিয়ে পৌঁছে। যাওয়ার পথে বাতাস তাদের পথে কোনো বাধার সৃষ্টি করে না। গ্রীষ্মকালে তারা শরীরে বাড়তি মেদ সঞ্চয় করে রাখে এবং চাঁদে গিয়ে বেশিরভাগ সময়ই ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। সেখানে কেবল শীত পড়লেই তারা ঘুম থেকে জেগে উঠে।

নদীতে ঘুমায় আবাবিল

জল ভালোবাসে বলেই নদী ও হ্রদ ঘিরেও আবাবিলকে নিয়ে বিভিন্ন গল্প আছে। লোককথায় আছে আবাবিল পাখি হ্রদে রাত কাটায়। অনেকে নদীর তলদেশ থেকে পাখিকে উঠতে দেখেছেন বলেও দাবিও করেন।

স্যামুয়েল জনসন তো জোর দিয়েই বলেছিলেন, ‘সোয়ালো নিশ্চিতভাবেই পুরো শীতকাল ঘুমিয়ে কাটায়…তবে তা নদীর তলদেশে’।

আবাবিল কীভাবে পরিভ্রমণ করে তা এখনো অজানা

১৯ শতকে গিয়ে অবশেষে আবাবিলের রহস্য উন্মোচিত হয়। ভারতে ব্রিটিশদের শাসন জোরদার হতে শুরু করে। ফলে এই অঞ্চলে অতিথি পাখি হিসেবে আসা আবাবিলদের দেখে তাদের পরিযায়ী আচরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হন পাখি বিশারদরা।

১৮৬৪ সালে আলজারনন চার্লস সুইনবার্ন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, শীতকালে সোয়ালো উষ্ণতার খোঁজে দক্ষিণে পাড়ি দেয়।

তবে আবাবিল কীভাবে পৃথিবীর আরেক প্রান্তে যাওয়ার পথ খুঁজে পায় তা এখনো ধাঁধার মতোই। ধারণা করা হয় পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের সাহায্যে ম্যাগনেটোরিসেপশনের মাধ্যমে তারা গতিপথ চিনতে পারে।

তবে এই বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানা যায় না। অনেকে ধারণা করেন তাদের চোখে বিশেষ স্নায়বিক ক্ষমতা আছে। আবার অনেকের মতে এর সঙ্গে শ্রবণ ক্ষমতাও সম্পর্কিত। কয়েক শত বছরের বিতর্কের পরেও আমরা বিস্তারিত কিছু জানি না। আর তাই এই পাখি নিয়ে শার্লট স্মিথের মতো আমরাও দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে পারি:

“হায়! আমরা কত কম জানি

প্রকৃতি রহস্যের ঘোমটায় তাকে ঢেকে রেখেছে

বিভ্রান্ত বিজ্ঞানকে একাই তার রহস্য বুঝতে দাও

সব নীতি সেই ঠিক করবে।”

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

৮৬ টাকায় বিক্রি হলো মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ!

প্রতিটি দেশেরই সামরিক সংঘাতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেই দেশের আকাশপথের যোদ্ধারা। আকাশপথে শত্রুপক্ষকে দুর্বল করার জন্য বিমানসেনাদের জুড়ি মেলা ভার। আর তা যদি হয় মার্কিন সৈন্য, তাহলে তো কথাই নেই!

বড় বড় জাহাজের মাধ্যমে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় এই যুদ্ধ বিমানগুলোকে। এ রকমই একটি বিমানবাহী জাহাজ হল আমেরিকার ‘কিটি হক’। ভিয়েতনাম থেকে শুরু করে প্রথম ইরাক যুদ্ধ, আমেরিকার বহু রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাক্ষী এই বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ১৯৬০ সালে নিজের যাত্রা শুরু করে।

কিন্তু একসময় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত সেই ‘কিটি হক’ কিনা এখন স্রেফ ফেলনা বস্তু হিসেবে বিক্রি হচ্ছে! আর সেটির বিনিময় মূল্য শুনলেও চোখ কপালে উঠে যাবে পাঠকের!

সিএনএন-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিক্রির উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন থেকে দীর্ঘ ১৬ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে টেক্সাসে আসছে এই জাহাজটি।

কিন্তু অবিশ্বাস্য ব্যাপার এই যে, গত বছর ১ ডলারেরও কম দামে ইউএস নেভাল সিস্টেমস কমান্ড থেকে ‘কিটি হক’কে কিনে নেয় ব্রাউনসভিলের ইন্টারন্যাশনাল শিপব্রেকিং লিমিটেড!

১৪০৭ ফুট লম্বা ও ২৫২ ফুট চওড়া এই ক্যারিয়ার-জাহাজটি এর বিশাল আকারের জন্যই পানামা খাল পার হতে পারছিল না। তাই সামনের দিনগুলোতে এটি দক্ষিণ আমেরিকা উপকূল দিয়ে এবং মেক্সিকো উপসাগর দিয়ে নিজের গন্তব্যে যাত্রা করবে।

রাইট ভ্রাতৃদ্বয় উত্তর ক্যারোলিনায় কিটি হক এলাকায় প্রথম সফলভাবে নিজেদের বিমানটি উড়িয়েছিলেন। তাই সেই জায়গার নাম অনুসারেই এই জাহাজের নাম কিটি হক।

কিটি হক-ই আমেরিকার শেষ তেলচালিত বিমানবাহী জাহাজ। এর পর থেকে সব বিমানবাহী জাহাজই পরমাণু-শক্তি চালিত।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

তুইয়া: লাউয়ের খোলে পানি সংরক্ষণ

  1. লাউয়ের খোলকে একটা বিশেষ প্রক্রিয়ায় পানি সংরক্ষণের পাত্র বানিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পানির পাত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন পাহাড়ের কয়েকটি জনগোষ্ঠী। বিশেষ করে বান্দরবানে ম্রো ও খুমী জনগোষ্ঠী বিভিন্ন প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম জিনিসের পরিবর্তে এখনও লাউয়ের খোল ব্যবহার করছেন।

লাউয়ের খোল ব্যবহার একদিকে পরিবেশবন্ধব, অন্যদিকে এই খোলের পানি ঠান্ডা থাকে। গরমকালে জুমক্ষেতে কাজ করার ফাঁকে পানিভর্তি লাউয়ের খোল অনেকে কলা গাছের গোড়ায় গর্ত করে পুঁতে রাখেন। ঘন্টা দুয়েক পরে এর পানি ফ্রীজে রাখার মত ঠান্ডায় জমে যায়। অভ্যস্ততা না থাকলে বাচ্চারা হঠাৎ খেলে অনেক সময় সর্দি-কাশি লেগে যায়।

লাউয়ের খোল ব্যবহারকারী ম্রো ও খুমীরা বলছেন, এই লাউয়ের খোলে অন্তত এক সপ্তাহ পানি রাখা যায়। আর এই পানি গরমকালে বেশ ঠান্ডাই থাকে। এছাড়া লাউ খোলের ভেতরের অংশ পানিকে আরও বিশুদ্ধ করে। ঝিরি-ঝরণার পানি অপরিষ্কার থাকলে এর ময়লা পাত্রের একটা নরম অংশ আপনা-আপনিই পরিশুদ্ধ করে।

এখনও ম্রো ও খুমীদের গ্রামে গেলে এদের প্রত্যেকের ঘরে এর ব্যবহার দেখা যায়। একটা-দুইটা নয়, কারও বাড়িতে কমপক্ষে ত্রিশ-চল্লিশটা এই লাউয়ের খোল পাত্র থাকে। তবে ত্রিপুরা এবং বম জনগোষ্ঠীর মধ্যে লাউয়ের খোলের ব্যবহার থাকলেও তা শুধুমাত্র দুর্গম এলাকা ছাড়া আর কোথাও দেখা যায় না।

ষাটোর্ধ্ব বয়সী চিংতুই ম্রো ও রুইতন ম্রো বলেন, “এটিকে আমরা ঘরে এবং ঘরের বাইরে পানির পাত্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকি। ঘরে অনেকগুলো লাউয়ের খোলে পানি জমা করে রাখা হয়। আবার ক্ষেতখামারে গেলে পানি ভরে নিয়ে যাওয়া যায় খাওয়ার জন্য”।

”একসময় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জগ পর্যন্ত ছিল না। পানি রাখার জন্য তখনকার সময় প্লাস্টিকের কোন কিছুই বের হয়নি। জগের বিকল্প হিসেবে লাউয়ের খোল ব্যবহার করে আসছি। বলা যায় এটি একধরণের পাহাড়ি জগ।”

তাইলেং নামে এক ম্রো নারী জানান, “প্লাস্টিকের বোতলে পানি রাখলে খাওয়ার সময় প্লাস্টিকের মত গন্ধ আসে। বরং লাউ খোলের পানি খেতে ভাল লাগে। দীর্ঘদিন ব্যবহার করে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। গরমকালে এই পাত্রের পানি ঠান্ডা হয়ে থাকে”। তার ঘরে কমপক্ষে ৪০টি লাউয়ের খোল রয়েছে বলে জানান তিনি।

দীর্ঘ সময় ধরে লাউয়ের খোল পানির পাত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন খুমীরাও। তাদেরও ঘরে ঘরে রয়েছে এই লাউ খোলের পানির পাত্র। একসময় দুর্গম পাহাড়ে লাউয়ের খোল ছাড়া পানি ধরে রাখার বিকল্প উপায় ছিল না। তখন থেকে তাদের ঘরে লাউয়ের খোল ব্যবহারের প্রচলন ঘটে।

বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য ও খুমী সোস্যাল কাউন্সিলের সহ-সভাপতি সিংঅং খুমী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা এখনও ঝিরি-ঝরণা এবং খালের পানির উপর নির্ভরশীল। ঘরে পানি সংরক্ষণ করে রাখার কোন উপায় ছিল না। ব্যবহারের জন্য এক সময় কোন কলস ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্র পর্যন্ত ছিল না”।

”আমাদের আগের প্রজন্মের বয়োজ্যেষ্ঠরা লাউয়ের খোলে বিশেষ কায়দায় পানি সংরক্ষণ করে রাখত। এখনও দুর্গম এলাকার বেশিরভাগ খুমী বাসিন্দা লাউয়ের খোলের মাধ্যমে পানি সংগ্রহ করে। আর লাউয়ের খোলের পানিই খায়।”

লাউয়ের খোল থেকে কিভাবে তৈরি হয় ‘পানির পাত্র’

সুন্দর ও ভাল আকৃতির পরিপক্ক দেখে লাউ সংগ্রহ করা হয় প্রথমে। ছিদ্র করে ভেতরে পানি জমিয়ে রেখে পঁচানো হয় ভেতরের অংশ। পনের-বিশ দিন পর পঁচা অংশ ফেলে দিয়ে পরিস্কার করে নিতে হয়। তারপর ভাল করে শুকানো হয় রোদে। শুকনো লাউকে ঘরে চুলার উপর ঝুলিয়ে রাখা হয় কয়েক মাসের মত। এতে করে বাইরে অংশ কালো হয়ে উঠে। তারপর ভাল করে ধুয়ে ব্যবহার করা হয় পানির পাত্র হিসেবে।

তবে যেগুলো পানির পাত্র হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয় সেগুলোতে জুমের বিভিন্ন বীজ রেখে দেওয়া হয়। জুমবীজ ছাড়াও ঘরে হলুদ এবং লবণের পাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এ লাউয়ের খোল। ফেটে না গেলে কিংবা না ভাঙ্গলে এই লাউয়ের খোল অনেক বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

টিপের উৎস : সেকাল-একাল

প্রভাষক লতা সমদ্দার শহরের মূল পথ ধরে যেকোনো দিনের মতোই ফিরছিলেন নিজ গন্তব্যে। সেই একই পথে ছিলেন পুলিশ কন্সটেবল নাজমুল। তবে একটি সাধারণ দিনের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন দিকে মোড় নেয় সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ- যখন কপালে টিপ পরায় লতা সমদ্দারকে হেনস্তার অভিযোগ আসে কন্সটেবল নাজমুলের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক তদন্তে নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে পুলিশ বিভাগ। এ ঘটনার পর ‘টিপ’ কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তোলপাড়। নানান জন নানান মত তুলে ধরে ব্যক্ত করেন টিপের প্রাসঙ্গিকতা, প্রয়োজনীয়তা ও কারো কারো কাছে অপ্রয়োজনীয়তা। কেউ কেউ তুলে এনেছেন টিপ সংক্রান্ত ধর্মীয় নৈতিকতা ও দৃষ্টিকোণ। টিপের উৎস নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।

উপমহাদেশের টিপের ইতিহাস বেশ পুরানো। কেবল নারী নয়, এই অঞ্চলের পুরুষের মাঝেও টিপের চর্চা ছিল বেশ নিয়মিত বিষয়। টিপ উপমহাদেশের ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলংকা, মৌরিতানিয়া, মায়ানমার থাইল্যান্ডে সাজ সজ্জার অতি প্রচলিত এক অনুষঙ্গ।

অবশ্য সবসময় টিপ কেবলই সাজসজ্জার বিষয় হিসেবে দেখা হতো না। এর সাথে জরিয়েছিল সেই সময়ের মানুষের নানা বৈচিত্রময় ধ্যান ও ধারণা। প্রাচীন ভারতে টিপকে মনোযোগের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। একইসাথে টিপকে তৃতীয় চোখের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করতো অনেকে।

দুই ভ্রুর মাঝখানে অলঙ্করণ করা এই চক্রকে বিন্দিও বলা হয় আমাদের উপমহাদেশের বেশিভাগ স্থানে, বিন্দি শব্দটি বিন্দু থেকে এসেছে। বিন্দুকে মহাবিশ্বের সূচনার প্রতীক হিসেবে বৈদিক যুগের সাধকেরা টিপ পরিধান করতেন। বলা যেতে পারে, সাধুদের কাছে মহাবিশ্বকে কপালের মাঝখানে লালনের এক প্রতীক ছিল টিপ। এছাড়া প্রাচীন ভারতে বিন্দির (টিপের) লাল রঙ সম্মান, প্রেম এবং সমৃদ্ধিরও প্রতিনিধিত্ব করে।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতে, হাজার হাজার বছর ধরেই বিশ্বের অনেক দেশের নারীদের মধ্যে টিপ পরার রীতি চালু রয়েছে। এটা শুধুমাত্র বাঙালি জাতি বা নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়ের কোন ব্যাপার ছিল না। আঠারো শতকে এ অঞ্চলে টিপের ব্যবহার খুব সাধারণ হয়ে উঠেছিল। সেই সময় সব ধর্মের নারীদের মধ্যেই টিপ পরার প্রচলন ছিল। তখনকার মুসলমানদের মধ্যেও টিপের প্রচলন ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ সাজগোজ করার সময় টিপকে শেষ উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করতো নারীরা। সব ধর্ম, সব শ্রেণির নারীদের মধ্যেই এই রীতি চালু ছিল।

ইতিহাসের অলিগলি বইয়ে জিয়াউল হক টিপ প্রসঙ্গে লিখেছেন : টিপের রীতি চালু হয়েছে প্রায় ৯৫০০ থেকে ১১৫০০ বছর আগে। সেই সময় তৎকালীন সমাজে শ্রেণিভেদ প্রবল ছিল। সমাজে উচ্চ শ্রেণির মানুষেরা পবিত্রতার প্রতীক হিসাবে তারা কপালে চন্দনের সাদা বিন্দু ব্যবহার করতেন।

এছাড়া যোদ্ধারা ক্ষিপ্ততা, হিংস্রতা ও সাহসের প্রতীক হিসাবে তারা কপালে লাল টিপ দিতো।

তিনি আরও লিখেছেন, সেই সময় যেসব নারীদের মন্দিরে উৎসর্গ করা হতো, তাদের চিহ্নিত করার জন্যও টিপ দেয়ার রীতি চালু হয়েছিল।

এই উপমহাদেশের সময়রেখার আকেবাকে চোখ মেলে তাকালেই টিপ ব্যবহারের বহু বৈচিত্রময় ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যাবে।

টিপের ইতিহাসের যেমনই হোক, এ অঞ্চলের নারীদের জীবনে টিপের আবেদন ও প্রাসঙ্গিকতা ভিন্ন এক রূপ নিয়েছে সাম্প্রতিককালে।

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই শিক্ষিত, আধুনিক ও মননশীল নারীদের ফ্যাশন আইকনে পরিণত হয় টিপ।

ষাট-সত্তরের দশকের কিংবা এরও আগে সাদাকালো সিনেমা-গুলোয় বড় খোঁপার সঙ্গে কপালের ভ্রু’র বেশ কিছুটা ওপরে মাঝারি কিংবা ছোট্ট টিপ পরতে দেখা যএতো সিনেমার নায়িকাদের।

টিপ নিয়ে ইসলামে ধর্মীয় বিধি-নিষেধ রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ইসলামিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মুখতার আহমেদ বলেন, শরীয়া দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলতে গেলে, একজন মুসলমান নারী টিপ পরতে পারবেন কি পারবেন না, এ ব্যাপারে স্পষ্ট কোন দিক নির্দেশনা কোরান বা হাদিসে নেই। একজন নারী তার সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য অবশ্যই বিভিন্ন ধরনের অলংকার পরতে পারবেন। টিপও তার অলংকরণ বা সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য একটি উপকরণ হিসাবে তিনি ব্যবহার করতে পারবেন। টিপ পরা নিষিদ্ধ, এরকম কোন বক্তব্য কোরান বা হাদিসে নেই।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

‘ছোটবেলায় ফর্সা হওয়ার জন্য পুরো একটা সাবান খেয়ে ফেলেছিলাম‌’

বরেণ্য অভিনেত্রী তারানা হালিম। বর্তমানে পর্দায় তার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। সম্প্রতি একটি টেলিভিশনের ঈদের বিশেষ ‘রাঙা সকাল’-এ অতিথির আসনে বসেন তিনি। সেখানেই নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করেন।

তারানা হালিম বলেন, ‘ছোটবেলায় আশেপাশের অনেকেই আমার গায়ের রং নিয়ে কটু কথা বলতো। যেহেতু শিশু মন, মানুষের কথায় প্রভাবিত হয়েছিলাম। মন খারাপ করে ভাবতাম, কেন উজ্জ্বল শ্যামলা হলাম? কেন দুধে-আলতা ফর্সা হলাম না। অবশ্য শুধু বাইরের মানুষের দোষ দিয়ে কি হবে, আমার একমাত্র ভাইও আমার দুর্বল জায়গা নিয়ে মজা করে ক্ষেপাতো। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে একদিন কাঁদতে কাঁদতে বাথরুমে গিয়ে পুরো একটা সাবান খেয়ে ফেলেছিলাম। ভেবেছিলাম, সাবান মেখে যদি গায়ের ধুলো ময়লা চলে যায়, তাহলে নিশ্চয়ই সাবান খেলে ফর্সাও হওয়া যাবে।’

তিনি জানান, ‘বড় হয়ে এই ঘটনার কথা যতবার ভেবেছি, ততোবারই হেসেছি। সেই সাথে আল্লাহকে ধন্যবাদ দিয়েছি, আমাকে তিনি এভাবে তৈরি করেছেন। সব মানুষই সুন্দর। অসৎ কর্মই কিছু মানুষকে ক্ষেত্র বিশেষে অসুন্দর করে তোলে।’

বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিশুদের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র প্রথম চ্যাম্পিয়ন ছিলেন তারানা হালিম। তার জীবনে ‘৯’ সংখ্যাটির একটি মজার সংযোগ রয়েছে। ১৯৮২ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে তিনি ৯ম হয়েছিলেন, ১৯৮৪ সালে এইচএসসিতেও ৯ম স্থান দখল করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এলএলএম পরীক্ষাতেও ৯ম হয়েছিলেন। এছাড়াও ৯ম সংসদ অধিবেশনে প্রথমবার সাংসদ হয়েছিলেন, সেটিও ২০০৯ সালে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

দুর্ঘটনা কমাতে দেশের মহাসড়কে এই প্রথম আইটিএস

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দেশে প্রথমবারের মতো ইনটেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) স্থাপন করা হচ্ছে জয়দেবপুর থেকে রংপুর পর্যন্ত ২৬০ কিলোমিটারে মহাসড়কে। সড়কের ২৫টি জায়গায় বিশেষ টাওয়ারে আইটিএস স্থাপন করে পুরো সড়কটি মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। ভেহিকল ডিটেক্টিভ সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো গাড়ি নির্ধারিত গতি অতিক্রম করলে সেটিকে চিহ্নিত করা যাবে। এতে দুর্ঘটনা কমবে।

এছাড়া টাওয়ারে স্থাপন করা হবে ভ্যারিয়েবল মেসেজিং সাইন। এর মাধ্যমে এ সড়কে চলা গাড়িগুলোকে যে কোনো বিপদে আগাম সতর্ক দেওয়া হবে। যেমন সামনে যদি ঝড় হয়, বা দুর্ঘটনা ঘটে তা সঙ্গে সঙ্গে অন্য সব গাড়িকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে চলমান ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প: এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় এই আটিএস পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির পরিচালক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, “পুরো সড়কটিকে মনিটরিং করতে টাঙ্গাইলের পাকুল্লা, বগুড়ার মহাস্থানগড় এবং রংপুরের ইসলামপুর- এ তিন স্থানে মনিটরিং ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখান থেকে আইটিএসের মাধ্যমে পুরো সড়কটিকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ঢাকার মিরপুর হবে কেন্দ্রীয় মনিটরিং ভবন।”

তিনি বলনে, সড়ক কোনো দুর্ঘটনা হলে সঙ্গে সঙ্গে মনিটরিং ভবন থেকে তা তদারকি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়কের ওজন নিয়ন্ত্রণে পাকুল্লা, মহাস্থানগড় এবং ইসলামপুরে তিন স্টেশনও স্থাপন করা হবে। কোনো ট্রাক নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি পণ্য পরিবহন করলে , সে ট্রাককে জরিমানা করা হবে।

পাকুল্লা, মহাস্থানগড় এবং ইসলামপুর – তিনটি স্টেশনে একটিওয়েই ইন মোশন (ডব্লিউআইএম) সিস্টেম বসানো হবে। এর মাধ্যমে কোনো ট্রাক অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি পণ্য বহন করলে তা জানা যাবে। কোনো ট্রাক নির্ধারিত ওজনের বেশি মালামাল বহন করলে জরিমানা করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক জানান, আগামী দুই বছরে এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার পাশাপাশি আইটিএস পদ্ধতি স্থাপনের কাজও শেষ হবে।

ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এনডিই) ও চীনা কোম্পানি ফাইবারহোম টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজিস কোম্পানি লিমিটেড এ প্রকল্পের জন্য যৌথভাবে সরকারের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সঙ্গে ১৮ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

এনডিই সলিউশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ হোসেন বলেন, “এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই প্রকল্পই ভবিষ্যতে এরকম অনেক প্রকল্পের পথ খুলে দেবে।”

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

স্ত্রীর মা হওয়ার আবেদনে যাবজ্জীবনের আসামিকে প্যারোলে মুক্তি!

স্বামী জেলে, কিন্তু মা হতে চান স্ত্রী। মাতৃত্বের অধিকার চেয়ে ভারতের জোধপুর হাইকোর্টে আবেদন করেন ওই নারী। তার আবেদনে সাড়া দিয়ে স্বামীকে শর্ত সাপেক্ষে (প্যারোলে) ১৫ দিনের জন্য মুক্তি দিয়েছেন আদালত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদন করা নারীকে গর্ভধারণের সুযোগ দিতে তার স্বামী নন্দলালকে (৩৪) মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জোধপুর হাইকোর্ট।

আদালত রায়ের সময় বিচারক সন্দীপ মেহতা রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘গর্ভধারণের সুযোগ পাওয়া ওই নারীর অধিকার। এই অধিকার থেকে কোনো নারীকে আইন বঞ্চিত করতে পারে না।’

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে,’তার স্ত্রীর জীবনে স্বামীর জেলে থাকার প্রভাব পড়েছে। কিন্তু রেখা তো কোনও দোষ করেননি। তাই তার দাবি গ্রহণযোগ্য।’

একটি খুনের মামলায় নন্দলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন এই নন্দলাল। রায়ের পর বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি কারাগারে আছেন।

বংশ বিস্তার ও সংরক্ষণ ভারতীয় সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় দর্শনের মধ্যে পড়ে, তাই এর আইনগত বিষয়টিও নজরে আছে বলে জানান আদালত।

নন্দলালকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে হিন্দু শাস্ত্র, বিশেষ করে ঋগ্বেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন আদালত। ইহুদি, খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের প্রসঙ্গও টানা হয়।

এর আগে ২০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন নন্দলাল। ভাল আচরণের পাশাপাশি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আত্মসমর্পণ করায় সন্তুষ্টি জানিয়ে তখন প্যারোলে মুক্তি দিয়েছিলেন আদালত।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডুবে যাওয়া সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ রাশিয়ার মস্কভা

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেই একদিন আগে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার যে যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণ ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছিল সেটি ডুবে গেছে। গত বুধবার রুশ ওই যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং ১৪ এপ্রিল সেটি ডুবে যায় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

১৫ এপ্রিল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। মস্কভা নামের রুশ ওই যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরণের কথা মস্কো স্বীকার করলেও সেটির কারণ এখনও জানায়নি দেশটি। তবে ইউক্রেন জানিয়েছিল, তাদের সামরিক বাহিনী মিসাইলের মাধ্যমে রাশিয়ার ওই যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। যদি ইউক্রেনের দাবি সত্য হয়, তাহলে ১২ হাজার ৪৯০ টনের মস্কভা হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শত্রুপক্ষের হামলায় ডুবে যাওয়া সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ। সিরিয়া যুদ্ধেও মিসাইল ক্রুজারটি মোতায়েন করা হয়েছিল।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্ল্যাক সি ফ্লিটের ফ্ল্যাগশিপ মস্কভাকে বন্দরে নিয়ে যাওয়ার সময় ‘উত্তাল সমুদ্রে’ এটি ডুবে যায়। ৫১০ জন ক্রু মাধ্যমে পরিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র ক্রুজারটি ছিল রাশিয়ার সামরিক শক্তির প্রতীক। মূলত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার নৌ আক্রমণের নেতৃত্বে ছিল মস্কভা নামের এই যুদ্ধজাহাজটি।

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ নৌবাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিল এই যুদ্ধজাহাজ। ১৮৬ দশমিক ৪ মিটার দীর্ঘ যুদ্ধজাহাজটির গতি ছিল ঘণ্টায় ৩২ নটিক্যাল মাইল বা ৫৯ কিলোমিটার। সোভিয়েত আমলের যুদ্ধজাহাজ মস্কভা ১৯৮৩ সালে কমিশন লাভ করে।

যুদ্ধজাহাজটি ৭০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম ১৬টি ভুলকান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সজ্জিত ছিল। এ ছাড়া মস্কভায় সাবমেরিন বিধ্বংসী ও মাইন-টর্পেডো অস্ত্র ছিল।

বিবিসি বলছে, ইউক্রেন দাবি করেছে যে, তাদের নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ওই যুদ্ধজাহাজে আঘাত করেছে। তবে মস্কো কোনো হামলার খবর সামনে আনেনি। রাশিয়ার দাবি, আগুন লাগার পর জাহাজটি সমুদ্রে ডুবে যায়।

পাল্টাপাল্টি এই দাবির মধ্যেই রাশিয়া জানিয়েছিল, অগ্নিকাণ্ডের কারণে যুদ্ধজাহাজের গোলাবারুদের বিস্ফোরণ ঘটেছে। পরে জাহাজের সকল ক্রুকে কৃষ্ণসাগরের নিকটবর্তী রাশিয়ার পৃথক একটি জাহাজে সরিয়ে নেওয়া হয়ে। মস্কো এর বেশি আর কোনো তথ্য সামনে আনেনি।

অবশ্য ইউক্রেনের বন্দরনগরী ওডেসার গভর্নর ম্যাক্সিম মার্চেনকো জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী বুধবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে কৃষ্ণসাগরে একটি রাশিয়ান যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। রুশ এই যুদ্ধজাহাজটিতে ইউক্রেনের তৈরি নেপচুন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ওডেসার গভর্নর জানান, ‘কৃষ্ণসাগর পাহারা দেওয়া নেপচুন ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার জাহাজের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। ইউক্রেনের জয় হোক!’

মস্কভা যুদ্ধজাহাজটি রাশিয়ার ব্ল্যাক সি ফ্লিটের ফ্ল্যাগশিপ। ফ্ল্যাগশিপ জাহাজ হচ্ছে কোনো নৌবহরের নেতৃত্বদানকারী জাহাজ যেটি অধিনায়ক ব্যবহার করেন। নৌবহরের অন্যান্য জাহাজের তুলনায় ফ্ল্যাগশিপ জাহাজ সাধারণত খুবই দ্রুতগামী এবং শক্তিশালী হয়।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

এবার নেপালের অর্থনীতিতে আশঙ্কার কালোছায়া

চরম অর্থসংকটে শ্রীলঙ্কায় যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, তখন দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ নেপালের অর্থনীতিতেও ঘনিয়ে আসছে আশঙ্কার কালোছায়া। অনেকের মতে, অদূর ভবিষ্যতে নেপালের অবস্থা হতে পারে শ্রীলঙ্কার চেয়েও ভয়াবহ। আসন্ন এই বিপদ এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে ভুগছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির চারদিকে এখন শুধুই হাহাকার। চলছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট। কাগজের অভাবে স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। কারণ, কাগজ আমদানির মতো বৈদেশিক মুদ্রা তাদের কাছে নেই। বিদেশি ঋণের ভারে জর্জরিত দ্বীপরাষ্ট্রটি। সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধেরও অবস্থা নেই তাদের। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি ব্যয় মেটাতে পারছে না দেশটি। ফলে জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছুঁয়েছে।

শ্রীলঙ্কার মতো নেপালও ধীরে ধীরে এমন গভীর অর্থনৈতিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (সিপিএন-ইউএমএল)। চলতি সপ্তাহে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দলটির শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা বিষ্ণু পাউদেল, সুরেন্দ্র পাণ্ডে ও ড. যুবরাজ খতিবাদা বলেছেন, নেপালের অর্থনীতি সংকটে রয়েছে এবং দ্রুত আরও বাজে পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে।

তাৎক্ষণিক ইতিবাচক পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন সিপিএন-ইউএমএলের ভাইস চেয়ারম্যান বিষ্ণু পাউদেল। নেপালের অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত হওয়া ঠেকাতে অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির আরেক শীর্ষনেতা সুরেন্দ্র পাণ্ডে বলেন, সব পণ্যের দাম বাড়ায় এ বছর মূল্যস্ফীতি দুই অংকে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া, ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ সক্ষমতার অভাব, বেসরকারি খাতের দুর্বল মনোবল ও সরকারের ক্রমহ্রাসমান উন্নয়ন ব্যয়ের কারণে নেপাল মূলধন ব্যয় বাড়াতে পারবে না।

সাবকে অর্থমন্ত্রী যুবরাজ খাতিবাদা বলেছেন, দেশটির অর্থনীতি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে এবং বাহ্যিক খাতের ভারসাম্যহীনতা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

গত ১০ এপ্রিল নেপাল সরকার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মহা প্রসাদ অধিকারীকে বরখাস্ত করেছে। অর্থনীতিকে সংকটময় অবস্থা টেনে তুলতে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নেপালি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংকের (এনআরবি) তথ্যমতে, হিমালয়ান দেশটির মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ৯৭৫ কোটি মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় অন্তত ১৭ শতাংশ কম। ক্রমবর্ধমান আমদানি এবং রেমিট্যান্স, পর্যটন ও রপ্তানি থেকে আয় কমে যাওযায় ২০২১ সালের জুলাই মাস থেকেই নেপালের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিম্নমুখী।

এই ধারা ঠেকাতে সম্প্রতি গাড়িসহ বিলাসবহুল পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে দেশটি। এনআরবির মুখপাত্র গুণখার ভট্ট চলতি মাসের শুরুর দিকে বলেছিলেন, ক্রমবর্ধমান আমদানির কারণে অর্থনীতিতে একধরনের সংকট দেখা দিতে পারে, এমন লক্ষণ আমরা দেখতে পাচ্ছি। তাই অবিলম্বে আবশ্যক নয় এমন পণ্য আমদানি বন্ধের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
জাতীয়

খেজুর সমাচার

খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) ইফতারিতে খেজুর রাখতেন। এজন্য রমজান মাসে বিশ্বব্যাপী খেজুরের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। এসময় দামও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। খেজুর অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। আরবিতে একে বলে ‘তামার’। খেজুর উৎপাদনের দেশ হিসেবে সৌদি আরব বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত হলেও দেশটি খেজুর উৎপাদনে শীর্ষ নয়। আরব দেশগুলো শুধু বাণিজ্যিকভাবে খেজুর উৎপাদন করে না বরং বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে খেজুর উপহারও পাঠায়।

গুণে-মানে ‘আজওয়া’ জাতের খেজুরকে সবাই সেরা মনে করে। পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খেজুরও এই আজওয়া। হাজার বছর যাবত মদিনা এবং এর আশপাশে আজওয়ার অসংখ্য বাগান রয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই খেজুরের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। পাওয়া যায় আমাদের দেশেও। প্রতি কেজির দাম পড়ে ৮০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা।

খেজুরের পুষ্টিগুণ অনেক। এতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন থাকে। যেমন, এ, কে ও বি৬। এছাড়াও থাকে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদান। পানি কম আর সুগার অনেক বেশি থাকে বলে সংরক্ষণ করা যায় দীর্ঘদিন, অন্তত বছর খানেক। খেজুরের বৈচিত্র্যও কম নয়। দুই শরও বেশি প্রজাতির হয়। শুধু খেজুরই নয়, কাজে লাগে এর বিচিও। ব্যবহার করা হয় সাবান, এমনকি আইলাইনার বানাতেও। কম যায় না খেজুরগাছের বীজও। সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে অনেক বছর। এক যুগেরও বেশি। যখনই পর্যাপ্ত আলো-পানি পায়, বীজ থেকে গাছ গজাতে শুরু করে। একেকটি গাছে প্রতি মৌসুমে ১০০ কেজিরও বেশি খেজুর হয়।

ভালো খেজুর জন্মাতে অন্তত ১০০ দিন ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস গরম তাপমাত্রা, সঙ্গে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। অবশ্য খেজুরগাছের লবণ সহ্য করার ক্ষমতা অনেক বেশি। তাই সেচের জন্য সাগরের পানিও ব্যবহার করা যায়।

ধারণা করা হয়, খেজুরগাছ মানুষের চাষ করা সবচেয়ে পুরোনো ফল বা ফসল। প্রথম শুরু হয়েছিল আনুমানিক পাঁচ থেকে আট হাজার বছর আগে। আজকে যেখানে ইরাক, সেই অঞ্চলে। তখন ওখানে গড়ে উঠেছিল সুমেরীয় সভ্যতা। ইরাকের বিখ্যাত মেসোপটেমিয়ার সভ্যতার সেটি প্রথম পর্যায়। প্রাচীন রোমেও 6 এই গাছ বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। তবে ওখানে আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ হওয়ায় ফল তেমন একটা হতো না। মূলত বাগানের সৌন্দর্য বাড়াতেই এই গাছ লাগানো হতো।

আবহাওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রচুর পরিমাণে খেজুর হয়। সেখানে এর ব্যবহারও হয় প্রচুর। তাই ওই অঞ্চলে একে বলা হয় ‘ট্রি অব লাইফ’। এমনকি সৌদি আরবের জাতীয় প্রতীকেও আছে এই গাছের ছবি। তবে সবচেয়ে বেশি খেজুর উৎপাদনে দেশটি দ্বিতীয়। এই বাবদে সবার ওপরে মিসর।

বিশ্বজুড়ে দুই শরও বেশি প্রজাতির খেজুর আছে। প্রতিবছর উৎপাদিত হয় প্রায় ৯০ লাখ মেট্রিক টন। এর পাঁচ ভাগের এক ভাগই হয় মিসরে। সংখ্যায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন। ১৫ লাখ মেট্রিক টন খেজুর উৎপাদন করে দ্বিতীয় সৌদি আরব। তিন, চার ও পাঁচে আছে ইরান, আলজেরিয়া ও ইরাক। যথাক্রমে উৎপাদন করে ১৩ লাখ, ১১ লাখ ও সোয়া ছয় লাখ মেট্রিক টন।

খেজুরের ইংরেজি ‘ডেট’। নামটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘ডাকটাইলোস’ থেকে। অর্থ ‘আঙুল’। বলাই বাহুল্য, আকৃতির জন্যই ফলটির এমন নামকরণ হয়েছে।

সুমেরীয় সভ্যতায় উদ্ভব হয়েছিল বিশেষ লিখন পদ্ধতি কিউনিফরমের। এর কিছুকাল পরেই প্রাচীন মিসরে গড়ে ওঠে বিখ্যাত লেখার পদ্ধতি হায়ারোগ্লিফিকস। এতেও আছে খেজুরগাছের ব্যবহার। আস্ত গাছের প্রতীক দিয়ে বছর বোঝানো হতো।

ওমানে একটি মজার রীতি আছে। নতুন শিশুর জন্ম হলে তার নামে একটি খেজুরগাছ লাগানো হয়, যেন তাকে কোনো অবস্থায়ই অভুক্ত থাকতে না হয়।

ভয়েস টিভি/এসএফ