Categories
রাজনীতি

দেশের মেগা প্রকল্পে গণলুট চলছে: ফখরুল

দেশের মেগা প্রকল্পে গণলুট চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে, লুট করছে। তারা দেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। মেগা প্রজেক্টে গণলুট চলছে। ১০ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট হয়ে যাচ্ছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। এভাবে মেগা প্রজেক্টটাকে তারা টাকা বানানোর প্রজেক্ট হিসেবে তৈরি করে নিয়েছে।’

২০ জুন রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন। জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সমাজ উন্নয়নে মৃত্যুঞ্জয়ী জিয়া’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা আয়োজন করে জিয়া পরিষদ।

ফখরুল বলেন, ‘আনপ্রোডাক্টিভ খাতে টাকা দেয়া হচ্ছে। এমন এমন কাজ করা হচ্ছে, যে কাজগুলোর কোনো দরকারই নেই। দেখবেন যে স্কুলে-মাদরাসায় টাকা দিয়েছে বড় বড় গেট তৈরি করতে। এই মুহূর্তে তো গেট তৈরি করার চেয়ে ক্লাস রুম তৈরি করা বেশি দরকার। সেটা তারা করছে না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতে কি করুণ অবস্থা। এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ভ্যাকসিনের নিশ্চিয়তা হবেও না এজন্য যে, যারা স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে জড়িত, ভ্যাকসিনের সঙ্গে জড়িত- এরা সবাই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। এত বড় দুর্নীতি করছে যে, মানুষে জীবকে তারা মূল্যহীন করে ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ অন্ধকার চতুর্দিকে। বাইরে কিছু দেখতে পাই না। এর মধ্যে জিয়াউর রহমান খুব প্রাসঙ্গিক। এজন্যে যে, জিয়াউর রহমানের আদর্শ যদি আমরা চর্চা করি, তাকে যদি আমরা সামনে নিয়ে আসি, নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেই তাহলে আমরা তার পথ দেখতে পাব। তাতে আমরা অন্ধকার টানেলের দূরে যে লাইট সেই লাইটটা আমরা দেখতে পাব। তাহলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘একদলীয় শাসনের কবরের ওপর বহুদলীয় গণতন্ত্রের বাগান রচনা করেছিলেন শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, স্বৈরশাসনের গোরস্তানের ওপর সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আরেকবার আজকে গণতন্ত্রহীন বাংলাদেশে গণতন্ত্র উপহার দেবে সেই বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে।’

‘আসুন আমরা শুভ দিনের প্রতীক্ষা করব না শুধু, শুভ দিনকে এগিয়ে আনার জন্য আমরা একসাথে কাজ করব’ বলেন নজরুল ইসলাম খান।

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হাই শিকদার, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, বিএসএমএমইউ‘র অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে গোলাম হাফিজ কেনেডী, জামাল উদ্দিন রুনু, লুৎফুর রহমান, তোজাম্মেল হোসেন, হাসনাত আলী, মাসুদুল হাসান খান, কামরুল হাসান, আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, জিয়া পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

আরও পড়ুন: প্রকল্পে টাকা বৃদ্ধির ধারা বন্ধ করুন : প্রধানমন্ত্রী

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
রাজনীতি

নির্বাচনের বেশি দেরি নেই, দলের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে হবে

আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই, আর মাত্র দুই বছর বাকি আছে। দলকে দ্বন্দ্ব-কোন্দল মুক্ত করে সামনের নির্বাচনে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। দলের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য ফিরিয়ে আনতে হবে। পার্টিকে শক্তিশালী করতে হলে প্রয়োজন ইস্পাত কঠিন ঐক্য।’

২০ জুন রোববার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

দলের শৃঙ্খলার ব্যাপারে শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা থেকে সম্মেলন করে নতুন কমিটি দিতে হবে। এর পর জেলা সম্মেলন করতে হবে। পকেট কমিটি করা যাবে না। করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ চলছে। প্রয়োজনে ঘরোয়াভাবে সম্মেলনে করে কমিটি দিতে হবে।

তিনি বলেন, নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য পকেট কমিটি করা যাবে না। কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে গেলে আওয়ামী লীগ কোণঠাসা হয়ে যাবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, সাম্প্রদায়িক, মাদক ব্যবসায়ী- এদের দলে ও কমিটিতে নেয়া যাবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এ দেশে লুটপাটতন্ত্র চালু করেছিল বিএনপি। হাওয়া ভবনের নামে খাওয়া ভবন চালু করে লুটপাটতন্ত্র চালু করেছিল। কোনো দুনীতির বিচার হতো না। কোনো নেতা, কোনো কর্মীকে শাস্তির আওতায় আনা হতো না।

তিনি বলেন, এই ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু কন্যা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে চলছেন। আমাদের দলের অনেকের সাজা হয়েছে, অনেকে জেলে আছে, দুদক তদন্ত করছে। বিএনপির সময় এটা ভাবাই যেতো না।

সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, ১২ বছর আগের ঋণগ্রস্ত বাংলাদেশ এখন ঋণ সহায়তার এক অভূতপূর্ব সাফল্যের দেশ। বিশ্ব আজ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের দিকে।

করোনাভাইরাসের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনার আবারও বিস্তার ঘটছে। সবাইকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমদের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মান্নান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
রাজনীতি

দেশের উন্নয়নই বিএনপির গাত্রদাহের কারণ: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘১২ বছর আগের পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আলোর পথে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে। বাংলাদেশের এই বিশাল উন্নয়ন-অর্জনই বিএনপির গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলটি নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের এই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে চায়।’

১৯ জুন শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ত্রিবার্ষিক ভার্চুয়াল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি তাঁর রাজধানীর বাসভবন থেকে এতে যুক্ত হন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মহামারি করোনাকালেও বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে দুইশ’ মিলিয়ন ডলার এবং সুদানকে সাত দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে। এতেই বোঝা যায় বাংলাদেশের অবস্থান আজ কোথায় এসে পৌঁছেছে।’

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় আজ দুই হাজার ২২৭ ডলার, যা কল্পনাও করা যায় না বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

দেশকে অস্থিতিশীল করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় বিএনপি উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়নের সুফল জনগণ পেতে শুরু করছে।’

সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়নের সুফল জনগণ ভোগ করতে শুরু করেছে উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী বছর পদ্মা সেতু-মেট্রোরেলসহ বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সম্মেলন নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে কারো যেমন পরাজয়ের গ্লানির সম্পর্ক নেই, তেমনি কারও বিজয়ের উল্লাস নেই। যারা নির্বাচিত হন তাদের ওপর দায়িত্ব বর্তায় নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা শেখানো এবং সততা ও কর্মনিষ্ঠা চর্চা।’

সৎ, নির্ভীক, কর্মনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক কর্মীরাই হলো শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে প্রত্যেক কর্মীকে অতীতের মতো জনমানব, গণমুখী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অর্জন করতে হবে। সব কর্মীকে প্রকৃত সমাজকর্মী, দেশকর্মী হিসেবে বিকশিত হতে হবে।’ স্বেচ্ছাসেবক লীগের মধ্যে শৃঙ্খলা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই শৃঙ্খলাকে আরও দৃঢ় করতে হবে, সুসংগঠিত করতে হবে। শেখ হাসিনার নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’

এ সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালপুর রহমান বাবুসহ অন্য নেতারা ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
রাজনীতি

হার্ট অপারেশনের আগে ক্ষমা চেয়ে ‘কিছু সত্য’ বললেন নাজমুল

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের বার্থ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজকালের মধ্যেই তার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হবে বলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন।

১৮ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় দেয়া ওই পোস্টে তিনি হাসপাতালের গাউন পরা অবস্থায় দুটি ছবি সংযুক্ত করে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে ‌জীবনের ‌‘কিছু বাস্তবতা’ তুলে ধরেছেন।

পোস্টে তিনি লেখেন, সবাই আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দিয়েন। বাচবো কি না জানি না। তবে এই চরম মুহূর্তে কিছু সত্য কথা বলে যাই। আমি রাজনীতিটা একমাত্র দেশরত্ন শেখ হাসিনারে মেনেই করতাম এবং করি। কোনদিন তার বাইরে যাইনি। সাবেক অনেক বড় ভাইদের কথায় আমি কখনও চলি নাই বরং পেছনের সারির অনেককে নেতা বানাইছি নিজের ইচ্ছায়। আর প্রেম করেছিলাম কিন্তু মানিয়ে নিতে পারিনি তাই বিয়ে হয়নি। আর শেষ কথা হলো বাংলাদেশে কোন ব্যাংকে আমার নামে এক পয়সাও লোন নাই এবং লোনের কোন টাকা বিদেশেও নিয়ে আসিনি। তদবির ঠিকাদারি, দালালি, পদ বাণিজ্য কখনও করিনি। লন্ডনে গায়ে খেটে জীবনে যে কাজ করিনি তা করে জীবন যুদ্ধে লিপ্ত ছিলাম। কিন্তু আমার কপাল ভালো না কিছুক্ষণ আগেই আমার এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়েছে। অনেকগুলো ব্লক ধরা পড়েছে। ওপেন হার্ট সার্জারি করতে হবে হয়তোবা আজকালের মধ্যেই করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি হাসপাতালেই করবে কারণ এই দেশে চিকিৎসা ফ্রি। তাই আর কেউ কষ্ট কইরা ভুল তথ্য দিয়েন না। যে কোটি টাকার অপারেশন। যদি মরে যাই একটাই কষ্ট থাকবে নিজের দলের মানুষের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছে বারবার আমার নামে। আর আফসোস হয়তোবা বড় কোন ভাই আমার নামে অনেক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমার নেত্রীর কান ভারী করে রেখেছে। সেই ভুলগুলো হয়তো ভাঙিয়ে যেতে পারলাম না। আপা আপনিই আমার মমতাময়ী জননী, স্নেহময়ী ভগিনী, আপনাকে অনেক ভালোবাসি। ক্ষমা করে দিয়েন আমাকে। সবাই ভালো থাকবেন আপনাদের আর যন্ত্রনা দিবো না।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
রাজনীতি

বিএনপির অন্তরে ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসা: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি কথামালার আড়ালে জনবিরোধী এক ধ্বংসাত্মক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক। বিএনপিই এ দেশে সহাবস্থানের রাজনীতির পথে অন্তরায়। বিএনপির ধ্বংসাত্মক রাজনীতি সহবস্থানের পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে দিনের পর দিন। বিএনপি মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের অন্তরে ষড়যন্ত্র ও প্রতিহিংসা।

১৭ জুন বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের চলমান অগ্রযাত্রায় প্রয়োজন দায়িত্বশীল বিরোধীদল কিন্তু বিএনপি সেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে অব্যাহতভাবে ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

সরকার স্বাধীনতার চেতনা ধ্বংস করছে- বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট কোন চেতনা? বিএনপি নেতাদের কাছে আরও জানতে চাই ভোটারবিহীন নির্বাচন, হ্যাঁ-না ভোটের নামে প্রহসন, এক কোটি সাতাশ লাখ ভুয়া ভোটার সৃষ্টি, মাগুরার নির্বাচন, ১৫ ফেব্রুয়ারির জালিয়াতির নির্বাচন কি তাহলে স্বাধীনতার চেতনা? স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি, রাতের বেলায় কারফিউ গণতন্ত্র, আর সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দান করাও কি স্বাধীনতার চেতনা?

বিদেশের কাছে দেশকে মর্যাদাহীন করা, সংখ্যালঘু নির্যাতন, হাওয়া ভবনের নামে আকণ্ঠ নিমজ্জিত দুর্নীতি চর্চা এসব যদি বিএনপির স্বাধীনতার চেতনা হয়, তাহলে বলার কিছু নেই, বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, জন্মের পর থেকেই এসব চেতনাই বিএনপি ধারণ ও বাস্তবায়ন করে আসছে। বিএনপি চেতনার মর্মমূলে রয়েছে স্বাধীনতার প্রতি আস্থার ঘাটতি। স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়ে তারা আজ চেতনার কথা বলে! নির্লজ্জতারও একটি সীমা থাকে। গণতন্ত্রকে পকেটবন্দি করেছিল বিএনপি। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে একুশ হাজার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল বিএনপি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নৈরাজ্যের মাধ্যমে কেড়ে নিয়েছিলো মানুষের অধিকার, আগুন সন্ত্রাস আর দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছিল বিএনপির সেরা অর্জন।

জনগণ আওয়ামী লীগের বিচার করবে বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ নয়, ইতোমধ্যে অপরাজনীতির জন্য জনগণের আদালতে বিএনপির বিচার শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন ও আন্দোলনে জনগণের প্রত্যাখ্যান তারই প্রমাণ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জার্মানির বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ফারেন হোলজ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ হিসেবে জার্মানির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনে যে আহবান জানিয়েছেন তাতে জার্মান সরকারের সমর্থন বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
রাজনীতি

দৃষ্টি অন্যদিকে নিতেই পরীমণি ইস্যু: ফখরুল

পরীমণির ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে সরিয়ে নিতে সরকার নতুন কিছু নিয়ে হাজির হয়েছে। এখন খুব লাফালাফি হচ্ছে। পরীমনি কে? আমরা কি বুঝি না? আবার সেই ডাইভারশন (দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নেওয়া)। আবার সেই অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া। যখন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য, মুক্তি, দেশের গণতন্ত্র, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি নিয়ে কথা হচ্ছে, করোনা যখন বাড়ছে, তখন আবার এ ধরনের একটা নিয়ে হাজির করা হচ্ছে। মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা আওয়ামী লীগের পক্ষেই সম্ভব।

১৬ জুন বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপন কমিটির উদ্যোগে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই ঘটনা কতটুকু সত্য বা মিথ্যা জানি না। এটা দেখে মনে হয়েছে সবকিছুই এ দেশে সম্ভব। মামলা করল একটা, কিন্তু আরেক অপরাধের দায় দিয়ে গ্রেপ্তার করে তাকে রিমান্ডে নেয়া হলো। এটা আমি বুঝতে পারিনি। মামলা করল ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টা কিন্তু রিমান্ডে নেয়া হলো মাদকের জন্য। যেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে সেই বাড়িটাও তার না। এগুলো বোধগম্য না। তাহলে কি ক্ষমতাসীনরা যা চাইবে তা-ই হবে? প্রশাসন কি এভাবে তুলে নিয়ে সম্মান, পরিবারের কাছে সম্মান সবকিছু ধূলিসাৎ করে দেবে?’

মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো জাতি নিজে না জেগে উঠলে তার মুক্তি অর্জন করতে পারে না। এ জায়গায় বড় করে ভাবতে হবে। তরুণ-যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্র মুক্ত না হলে কারও নিরাপত্তা নেই। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ এবং সুচিকিৎসা পাচ্ছে না। তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা দাবি করেন।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
রাজনীতি

গণতন্ত্র বিকাশে বিএনপিকে সবচেয়ে বড় বাধা দেখছেন কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি দেশে গণতন্ত্র বিকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করা হয়েছে, তা হচ্ছে বিএনপির। আওয়ামী কখনো ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে না।

১৪ জুন সোমবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সৈনিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জিয়াউর রহমান। শেখ হাসিনাকে একাধিকবার হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে বিএনপি। আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল না এবং বেগম জিয়াকেও কখনো হত্যার ষড়যন্ত্র করেনি।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহাবস্থানে যে সহযোগিতা প্রয়োজন তা বিএনপি বড় বাধা সৃষ্টি করে রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

অদৃশ্য শত্রু করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের বিষয় মাথায় রেখে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপি ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ঐকবদ্ধ প্রতিরোধে সামিল হতে হবে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে এবং আওয়ামী লীগকে বাঁচাতে হলে গণতন্ত্র রক্ষার পাশাপাশি দলের কর্মীদেরও বাঁচাতে হবে।

ওবায়দুল কাদের সৈনিক লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক না হতে পারলে সৈনিক লীগ করে কোনো লাভ হবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে। শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী সৈনিক লীগের সম্মেলনের পর দলটিকে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম অথবা সহযোগী সংগঠন করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

সৈনিক লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক শিরীন আহমদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও সৈনিক লীগের নেতারা।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
রাজনীতি

এবার কোম্পানীগঞ্জ অবরোধের ডাক দিলেন কাদের মির্জা

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা আগামী ১৬ জুন বুধবার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবরোধ ঘোষণা করেছেন।

১৪ জুন সোমবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে বসুরহাট বাজারের জিরো পয়েন্টের বঙ্গবন্ধু চত্বর থেকে অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে প্রতিপক্ষ উপজেলা আ’লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবরোধের নামে ২০০ সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে তিনি এ অবরোধ ঘোষণা করেন।

লাইভে প্রতিপক্ষ উপজেলা আ’লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে কাদের মির্জা বলেন, তারা গতকালকে অবরোধের নামে ২০০ সিএনজি চালিত অটোরিকশা ভাঙচুর করেছে এবং লুটপাট করছে।

এটা এডিশনাল এসপি শামীম ও নতুন ওসির নেতৃত্ব হয়েছে। এটি কোন অবরোধ নয়, এটি হচ্ছে ডাকাতি। এসময় তিনি সিএনজি ড্রাইভারদের আক্রমণকারীদের গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

১২ জুন শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও সেতুমন্ত্রীর ভাগনে মাহবুবুর রশিদ মঞ্জু নিজের ফেসবুকে লাইভে এসে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের পক্ষ থেকে কোম্পানীগঞ্জে পরবর্তী ৪৮ঘণ্টা সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালনের ডাক দেন। কাদের মির্জার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা বাদলের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে এ অবরোধ ডাকা হয়।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
রাজনীতি

কোম্পানীগঞ্জে আ.লীগের একাংশের ৪ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় কাদের মির্জার প্রতিপক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের ৪ অনুসারী গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

১২ জুন শনিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে বাদলের ৪ অনুসারী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

বাদল অনুসারী চরকাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিন জানান, গুলিবিদ্ধরা হলো- চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের হিয়াল্লাইগো বাড়ির বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা ফখরুল ইসলাম সবুজ (৫৫), তার ছেলে চয়ন (২০), তার ভাগিনা আরিয়ান (২৩) ও চরকাঁকড়া ইউনিয়নের রুপনগর গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় (২৮) ।

এর আগে, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বসুরহাট বাজারের বসুরহাট- দাগনভূঞা সড়কের কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল ও তার অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুল হোসেন আলালের ওপর কাদের মির্জার অনুসারীরা হামলা করে। এ ঘটনার পর পুরো উপজেলায় অস্থিরতা বিরাজ করছে।

স্থানীয়রা জানায়, বাদলের ওপর মির্জার নেতৃত্বে হামলার খবরে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে অবস্থান নিয়ে বসুরহাট-পেশকারহাট রাস্তার মাথার প্রধান সড়ক অবরোধ করে বাদলের অনুসারীরা। এসময় পুলিশ এসে তাদেরকে বাঁধা দেয়।

একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ওপর। তারপর পুলিশ আওয়ামী লীগ নেতা সবুজকে বেধড়ক মারধর করলে তার অনুসারীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুঁড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। এতে আওয়ামী লীগ নেতা সবুজ, তার ছেলে ও এক ভাগিনসহ চার জন গুলিবিদ্ধ হয়।

বাদলের ওপর হামলার ঘটনার পর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এ ঘটনায় কাদের মির্জার সম্পৃক্ততার অভিযোগে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ও বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় কাদের মির্জার বিচার দাবি করে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাদলের অনুসারীরা। সমাবেশ থেকে বক্তারা কাদের মির্জার গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার জানান, রাস্তায় পুলিশের ওপর আক্রমণ করলে পুলিশ পাল্টা গুলি ছোঁড়ে। তবে এ ঘটনায় কতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

ওসি আরও জানান, তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর শুনেছেন। তবে কতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে এ বিষয়ে তিনি এখনো সুনির্দিষ্ট জানেন না।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, কতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে তারা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়েছিল। পুলিশ সরাতে গেলে তারা পুলিশের গাড়ি ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ তাদেরকে শর্ট গানের ২০-২২ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় ইটপাটকেলের আঘাতে ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

১২ জুন শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল তার ব্যক্তিগত গাড়িতে করে আ’লীগ নেতা আলাল সহ ঢাকার উদ্দেশ্যে বসুরহাট হয়ে রওনা করে। যাত্রাপথে বসুরহাট বাজারের প্রেস ক্লাব কোম্পানীগঞ্জের একটু সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে কাদের মির্জার ৪০-৫০ জন অনুসারী মিজানুর রহমান বাদলের গাড়ির গতিরোধ করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
রাজনীতি

ফখরুলের যুদ্ধের ডাক অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী: কাদের

ক্ষমতায় যেতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা দলের কর্মীদের যুদ্ধের জন্য ডাক দিয়েছেন; তাদের এমন বক্তব্য একদিকে অগণতান্ত্রিক অপরদিকে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার পরিচয় বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

১১ জুন শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে তার সরকারি বাসভবন থেকে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

বিএনপি নেতাদের যুদ্ধের জন্য কর্মীদের ডাক দেয়ার মধ্য দিয়ে আবারও আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির আভাস দিচ্ছেন কিনা তা এখন ভেবে দেখার বিষয় বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যদি তাই হয় তাহলে এই আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জবাব দিতে জনগণ প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার হটানোর নামে যে যুদ্ধংদেহী মনোভাব বিএনপি দেখাচ্ছেন সেক্ষেত্রে জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সরকার কঠোরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। তাদের এ ধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে সরে এসে গণতান্ত্রিক ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি নেতারা গণতন্ত্র চান ও সরকার হটাতে চান- এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তার আগে নিজেরা গণতান্ত্রিক হোন এবং রাজনীতিতে ও দলের গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। গণতন্ত্র শুধু চাওয়ার বিষয় নয়, এটি চর্চারও বিষয়। সরকার পরিবর্তনের একমাত্র পথ নির্বাচন।

বিএনপিকে আগামী নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যাদের নির্বাচিত করবে তারাই পরবর্তী সরকার গঠন করবে।

বিএনপিকে একটি ব্যর্থ বিরোধী দল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থতা এবং নেতৃত্বের হঠকারিতাই কর্মীরা আজ হতাশাগ্রস্ত। গত একযুগ ধরে প্রাণান্তর চেষ্টা করেও কর্মীদের মাঠে নামাতে পারেনি।

বিএনপি মহাসচিব মাথাপিছু ঋণের বোঝা দেখেন, রাষ্ট্রের উত্তরণ ও সমৃদ্ধির কিছু দেখতে পান না; তারা দেশের অর্থনীতিকে পরনির্ভরশীল করে রেখে গিয়েছিলেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই দুর্নামের বৃত্ত থেকে দেশকে অমিত সম্ভাবনাময় রূপ দিয়েছেন। পরিচিত করেছেন উন্নয়ন ও অর্জনের রোল মডেল হিসেবে।

তিনি বলেন, সরকারের অর্জনে ক্রমশ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে বিএনপি। তাইতো তাদের মহাসচিব শুধু ঋণই দেখতে পায় কিন্তু মাথাপিছু আয় দুই হাজার দুইশ সাতাশ ডলার, এটা দেখতে পায় না। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেখতে পায় না বিএনপি।

মন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের মুখে সদাসর্বদা মিথ্যাচার আর নেতিবাচকতা মানায় না। তাদের বক্তব্যে গভীর হতাশা ও দলীয় ব্যর্থতাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

কাদের বলেন, ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে অবরুদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালায় তৎকালীন অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন মনোভাব নিয়েই জাতীয় রাজনীতিতে শেখ হাসিনার যাত্রা শুরু হয় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের মুক্তি আন্দোলনে শেখ হাসিনাকে সহ্য করতে হয়েছে অনেক জেল-জুলুম ও অত্যাচার নির্যাতন।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা অসংখ্যবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন কিন্তু জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসায় সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে দেশকে এগিয়ে নিতে অকুতোভয় নির্ভীক সেনানীর মত নিরবচ্ছিন্নভাবে পথ চলেছেন ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সকল বাধা বিপত্তি জয় করে আজ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বমহিমায় উজ্জ্বল। বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন তার যোগ্য নেতৃত্বে।

ভয়েস টিভি/এসএফ