Categories
রাজনীতি

‘নির্বাচন নিয়ে চিন্তাই করছি না’

এবার নির্বাচন নিয়ে কোনো চিন্তাই করেছন না জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগে এই সরকারকে যেতে হবে। তারা পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার পর নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে নির্বাচন দিতে হবে, এটাই ফাইনাল।

২৭ অক্টোবর বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত ২০১৮ সালে আপনারা দেখেছেন যে নির্বাচনের ৭/৮দিন আগে থেকে তারা এমনভাবে মিথ্যা, সাজানো, গায়েবি মামলা দেওয়া শুরু করলো যে, প্রার্থীসহ কর্মীদের গ্রেফতার করা হলো। সব নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে মাঠ খালি করে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরা হলো। আর এবার তারা আগে থেকেই বিরোধী নেতা-কর্মীদের নামে করা মামলাগুলো অতিদ্রুত শেষ করতে চায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে তালিকা করেছে এসব মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করতে হবে এবং নেতারা যেন নির্বাচন করতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সহিংস ঘটনা ঘটেছে, অনেকগুলো পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশের গুলিতে কয়েকজন মারা গেছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে সরকার বিরোধীদলকে ঘায়েল করে বেআইনি ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চায়। বিএনপিকে নির্মূল করতে চায়।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন কোনো ঘটনা ঘটলেই সত্য-মিথ্যা সাজিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে দেওয়া হয়। এবারও দেখলাম গ্রেফতার বাণিজ্য করার জন্য প্রকৃত অপরাধীরা যেন ধরা না পরে সেজন্য অসংখ্য নেতাকর্মীর নামে মামলা দেয়া হলো।

প্রত্যেকটি ঘটনায় সরকারি দলের ইন্ধন রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, রংপুরে দেখা গেলো রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতারা এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে। পরে বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে। চার মামলায় ৪১জনকে আসামি করা হয়েছে। কুমিল্লায় পাগল ইকবাল বলে একজনকে সাজিয়েছে। বলা হচ্ছে সে নাকি কোরআন শরিফ নিয়ে মণ্ডপে রেখেছে। যেগুলো কোনোমতে বিশ্বাসযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, আমি প্রথম দিন থেকে বলেছি সরকারের এজেন্সিগুলো দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করেছে। মূল উদ্দেশ্যে হলো জনগণের ভাতের সংকট, ভোটের সংকট, বাকস্বাধীনতার সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্কট, এসব থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

চৌমুহনীতে ২৩টি মামলায় ৭ হাজার ৯৬১ কে আসামি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই মামলা শেষ হবে কবে? এগুলোতো শেষ হবে না। উদ্দেশ্য হলো এসব মামলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের জড়িয়ে তাদেরকে হয়রানি করা এবং একটা বড় গ্রেফতার বাণিজ্য করা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পূজামণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনায় মোট ৬০টি মামলায় ১৫ হাজার ৯৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় ইতোমধ্যে বিএনপির ১৪৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপনারা ল করে জেনে গেছেন যে, এসব ঘটনার পেছনে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ আছে। তারা নিজেদের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য জাতির মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছে। আমাদের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে সেটা বিনষ্ট করছে সরকার।

তিনি বলেন, আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই বরকত উল্লাহ বুলুসহ বিএনপির যেসব নেতাকর্মীর নামে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে, এসব ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা নেই। এই মামলাগুলো দিয়েছে শুধু তাদেরকে হয়রানি করা ও রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর জন্য। আগামী নির্বাচনের আগেই যেন মামলা-সাজা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঠ থেকে একদম সরিয়ে দেওয়া যায়, সেজন্যই এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের ছেড়ে দিতে হবে এবং সুষ্ঠূ তদন্তের মাধ্যমে যারা দায়ী তাদেরকে অবশ্যই বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। বিএনপি সব সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে।

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের পিলারে ফাটল ও পাটুরিয়ায় ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে এসব ঘটনা ঘটছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রমুখ।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
রাজনীতি

সম্প্রীতি মিছিলে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষ: দেড় হাজার আসামি

রাজধানীর নয়াপল্টনে সম্প্রীতি মিছিলে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের দেড় হাজার অজ্ঞাত নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

২৭ অক্টোবর বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পল্টন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন মিয়া।

তিনি বলেন, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও অবৈধ সমাবেশের অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা করে। মামলায় অজ্ঞাত দেড় হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। এখন পর্যন্ত ৫০ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাদের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

এর আগে ২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সম্প্রীতি মিছিলের আয়োজন করে বিএনপি। এসময় ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চ বানিয়ে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বের হলে নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় কয়েকজন আহত হন। আর কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

তখন পল্টন মডেল থানার ওসি জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে ৩০ জনের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
রাজনীতি

আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার আর নেই

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুল বাসেত মজুমদার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

২৭ অক্টোবর বুধবার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও তার ছেলে সাঈদ আহমেদ রাজা।

বাসেত মজুমদার দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

প্রবীণ এই আইনজীবীর জানাজা বেলা ১১টায় বনানী কেন্দ্রীয় মসজিদ, এরপর বাদ জোহর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে হবে। ঢাকার পর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় শানিচোঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর আবদুল বাসেত মজুমদারকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সোমবার (২৫ অক্টোবর) তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

বাসেত মজুমদার একাধিকবার বার কাউন্সিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দুঃস্থ আইনজীবীদের জন্য নিজের নামে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতিতে এই ফান্ড থেকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সাবেক সভাপতি বাসেত মজুমদার বর্তমানে নবগঠিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্বপালন করেন।

আইন পেশায় ৫৬ বছরে ধরে নিয়োজিত ‘গরিবের আইনজীবী’ খ্যাত আবদুল বাসেতের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১ জানুয়ারি।

কুমিল্লার লাকসাম (লালমাই) উপজেলার শানিচোঁ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম আব্দুল আজিজ মজুমদার, আর মা জোলেখা বিবি।

স্থানীয় হরিচর হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক (এসএসসি) এবং কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে আইএ (এইচএসসি) ও বিএ পাস করেন আবদুল বাসেত। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬৬ সালে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবীর বড় ছেলে গোলাম মহিউদ্দিন আবদুল কাদের ব্যবসা করেন। ছোট ছেলে সাঈদ আহমেদ রাজা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

দুই মেয়ের মধ্যে ফাতেমা আক্তার লুনা রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। সর্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিউজিকে পড়াশোনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। ছোট মেয়ে খাদিজা আক্তার ঝুমা উত্তরা মেডিক্যাল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
রাজনীতি

বিএনপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করে : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই তারা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার ওপর হামলা করে। তাই আওয়ামী লীগের পতন এখন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া বিএনপি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করে বলেন তিনি।

২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের প্রতিবাদে এক মিছিল তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে শোভাযাত্রা করে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সকাল থেকে পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জনগণের আন্দোলন থেকে দৃষ্টি সরাতে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করেছে।

তিনি বলেন, সরকার আমাদের সভা সমাবেশ করতে দেয় না। এসব করছে তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে। আমরা সব সময় দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করি। সজাগ আছি। কিন্তু এই সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে। সংখ্যালঘুদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ চাই। যারা খুন হয়েছেন তার বিচার চাই।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
রাজনীতি

অপপ্রচার করাই বিএনপির শেষ আশ্রয়স্থল : কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অপপ্রচার করাই বিএনপির শেষ আশ্রয়স্থল। যেকোনো ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে বিতর্কিত করাই বিএনপির কাজ।

২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার ওবায়দুল কাদের তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন।

কুমিল্লাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলা নাকি সরকারের নীলনকশা, সরকার নাকি হামলাকারীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়নি, বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, এসব অভিযোগ বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়।

মণ্ডপে হামলার পর থেকে বিএনপি মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারের ফানুস উড়িয়েই যাচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের তাদের এসব অভিযোগ কল্পনাপ্রসূত, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।

কোন সরকার কী চায় দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে? আর তা করে সরকারের কী লাভ? এসব প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, দোষারোপের রাজনীতি যেহেতু বিএনপির আদর্শ সেহেতু সরকারের বিরুদ্ধে কিছু না কিছু বলতেই হবে,- এ ধরনের কল্পিত ও অন্তঃসারশূন্য অভিযোগ তারই ধারাবাহিকতা।

বিএনপি নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য মায়াকান্না করলেও প্রকৃতপক্ষে পূজামণ্ডপে হামলার বিচার তারা চাননি এমনই দাবি করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলেও তারা বলছেন বিরোধীদের হেনস্তা করার জন্য মামলা করা হয়েছে। এটা বিএনপির ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।

ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ায়নি অথচ এখন প্রায় দুই সপ্তাহ পর বিএনপির দলীয় টিম বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করছেন, ঘটনার রেশ কেটে যাওয়ার পর এ লোক দেখানো পরিদর্শন দলীয়ভাবে বিএনপির দায়িত্বহীনতাকেই স্পষ্ট করছে বলে মনে করেন কাদের।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন সরকার নাকি পুরোহিতদের বাধা দিয়েছে বিএনপির সঙ্গে কথা বলতে, এমন সৃজনশীল মিথ্যাচার বিএনপির মুখেই মানায় বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
রাজনীতি

হেফাজত আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী হাসপাতালে

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুুল্লাহ বাবুনগরী অসুস্থ হয়ে ফটিকছড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

২৪ অক্টোবর রোববার থেকে হেফাজত আমির সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

জানা যায়, ৮৭ বছর বয়সী আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। শনিবার সকালে তার শরীরে জ্বরের প্রকোপ দেখা দেয়। জ্বরের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বাবুনগর মাদ্রাসার শিক্ষক আল্লামা ফরিদ উদ্দিন বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন হেফাজত আমির সুস্থ হয়ে উঠেছেন। শিগগির তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হবে।

আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী মরহুম আল্লামা জুুনায়েদ বাবুনগরীর আপন মামা। জুনায়েদ বাবুনগরীর মৃত্যুর পর তিনি হেফাজতে ইসলামের আমির নির্বাচিত হন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
চিকিৎসা রাজনীতি

নুরের নতুন রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ’

‘বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ’ নামে দেশে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা করলেন সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। নতুন এই দলের আহ্বায়ক গণফোরামের সাবেক নেতা ড. রেজা কিবরিয়া।

মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর দুপুরে পল্টনের প্রিতম জামান টাওয়ারে অবস্থিত দলটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নতুন দলের নাম ঘোষণা করেন নুরুল হক নুর। দলটির স্লোগান ‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকা’।

বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের চারটি মূলনীতি রয়েছে। মূলনীতিগুলো হলো- গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ। দলে ৮৩ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরবর্তীতে কমিটির পরিধি আরো বাড়ানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নুর তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির ২১ দফা তুলে ধরেন। এরমধ্যে রয়েছে দুর্নীতি প্রতিরোধ, সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বা ও ধর্মাবলম্বী, ন্যায় বিচার ও সুশাসন, ক্ষমতার ভারসাম্য, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার, দখল ও দূষণ প্রতিরোধ, জ্বালানি ও খনিজ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি।

গতবছর নতুন রাজনৈতিক দল করার ঘোষণা দেন নুরুল হক নুর। এজন্য গঠন করেন ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গ সংগঠন।

আরও পড়ুন : গ্রেফতারের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ছাড়া পেলো নুর

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
রাজনীতি

বিএনপির ‘সম্প্রীতি মিছিল’ পুলিশের বাধায় পণ্ড

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিএনপির সম্প্রীতি মিছিল পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে।

২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নেতাকর্মীরা রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল করে।

এরপর সমাবেশ করে প্রায় এক ঘণ্টা। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সমাবেশ শেষ করে মিছিল নিয়ে নাইটিংগেলের দিকে আগানোর চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ টিয়ারসেল ও লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়।

তবে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা মিছিল করছি না, সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে আমরা মিছিল করছি না।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে নয়াপল্টন থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত এ কর্মসূচি ২৫ অক্টোবর সোমবার ঘোষণা করা হয়েছিল।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
রাজনীতি

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছে পুলিশ, গ্রেফতার ২

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের নেতৃত্বে আজ প্রতিবাদ মিছিল করবে বিএনপি। ২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এ মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে।

ইতোমধ্যে সকাল থেকে বিএনপি কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছে পুলিশ। এ সময় দু’জনকে গ্রেফতার করতে দেখা গেছে।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সকালে বলেন, বিএনপি অফিসের সামনে সব সময়ই পুলিশ থাকে। এ আর নতুন কী?

তিনি বলেন, আমাদের বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিছিল করবোই।

এদিকে দলীয় অফিসের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু নেতাকর্মীকে মিছিল দিতে দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তাদের বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া পল্টন কার্যালয়ের সামনে কাউকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না পুলিশ। বিএনপির দুই কর্মীকে গ্রেফতারের অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।

বিষয়টি নিয়ে পল্টন থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হিরণ বারী জানান, পল্টনে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা নেই। তবে এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
রাজনীতি

রিজভী-দুলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও দলটির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

রাজধানীর শাহবাগের বিশেষ ক্ষমতা আইনে হওয়া মামলায় ২৫ অক্টোবর সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভয়েসটিভি/এএস