Categories
ধর্ম

বিপদে যে দোয়া পড়তে হয়

উচ্চারণ : আল্লাহু আল্লাহু রব্বি লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।

অর্থ : আল্লাহ! আল্লাহ! আমার রব! তাঁর সঙ্গে আমি কাউকে শরিক করি না।

উপকার : আসমা বিনতে উমাইস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দেব না, যা তুমি বিপদের সময় পাঠ করবে? তারপর তিনি এই দোয়াটি বলেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২৫)

Categories
ধর্ম

সফর থেকে ফেরার পর দোয়া

উচ্চারণ : ‘আয়িবুনা ইনশাআল্লাহু তায়িবুনা আবিদুনা লি-রাব্বিনা হামিদুন। ’

অর্থ : আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী, ইবাদতকারী নিজ রবের প্রশংসাকারী।

উপকার : আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন সফর থেকে পরিবারের কাছে ফিরতেন, তখন এই দোয়া পড়তেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৪৭)

Categories
ধর্ম

যে দোয়ার বরকতে দ্রুত বিয়ে হয়

বিয়ে হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি বিষয়। কিন্তু সমাজের নিদারুণ নিয়ম তন্ত্রের মধ্যে পড়ে অনেক যুবক-যুবতি ঠিক সময়ে বিয়ে করতে পারে না।

ফলে তারা মনোকষ্টে ভোগে। আবার কেউ কেউ বিয়ে করতে চাইলেও পছন্দ মতো পাত্র কিংবা পাত্রী না পাওয়ায় বিয়ে হয় না।

বিয়ে করা যুবক-যুবতীদের জন্য ক্ষেত্র ভেদে ফরজ আবার কখনও সুন্নত।

এজন্য দ্রুত বিয়ে করে নেয়াই ভালো।

অনেকের বয়স অতিক্রম হয়ে যায়, তারপরও বিয়ে হয় না। তাদের জন্য নিম্নের আমলটি দেয়া হলো-

যেসব যুবক-যুবতীদের বিবাহের বয়স অতিক্রম হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বিয়ে হচ্ছে না, তাদের মধ্যে যুবকেরা ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি চেপে ধরে এবং যুবতীরা বাম হাত দিয়ে দান হাতের কব্জি চেপে ধরে প্রত্যহ ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয়ের আগে ৪০ বার হিসাবে ৪০ দিন পর্যন্ত ইয়া ফাত্তাহু (الفتاح) অর্থ হে উন্মুক্তকারী পড়বেন।

নিয়মিত নামাজের পর তাসবিহে ফাতেমি পড়লে দ্রুত বিয়ে হতে পারে। আর তাসবিহে ফাতেমি পড়ার আগে কুরআন তেলাওয়াত ও দরূদ পাঠ করে পড়া উত্তম। তাসবিহে ফাতেমি হলো-

– اَلْحَمْدُ لِلّه : আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার পড়া।

সুরা তাওবার এ আয়াতটি তেলাওয়াত করা:

فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُلْ حَسْبِيَ اللّهُ لا إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণ : ফাইং তাওয়াল্লাও ফাকুল হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম। ’

সব সময় জবানে ইসতেগফার জারি রাখা। অর্থাৎ ‘আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ’ পড়া। কেননা যে ব্যক্তি বেশি বেশি ইসতেগফার করে, সে মুসতাজেবুদ দাওয়াহ হয়ে যায়।

যার দোয়া আল্লাহ কখনো ফেরত দেন না।

اَسْتَغْفِرُ الله – اَسْتَغْفِرُ الله
উচ্চারণ : আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ।

اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِىْ لَا اِلَهَ اِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَ اَتُوْبُ اِلَيْهِ
উচ্চারণ : ‘আসতাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

সুরা আদ-দোহাসহ সুরা কাসাসের এ আয়াত পাঠ করা-

فَسَقَى لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّى إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ : ‘ফাসাক্বা লাহুমা ছুম্মা তাওয়াল্লা ইলাজজিল্লি ফাক্বালা রাব্বি ইন্নি লিমা আংযালতা ইলাইয়্যা মিন খায়রিং ফাক্বির।’

হজরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন খুব একাকি ও বিষন্নতা অনুভব করতেন তখন তিনি এ আয়াতটি বেশি বেশি পাঠ করতেন।

তাই ওলামায়ে কেরাম নারী-পুরুষদের এ আমলটি দিয়ে থাকেন।

যদি কোনো ছেলে এ আয়াতটি ১০০ বার পাঠ করে তাহলে শীঘ্রই আল্লাহ তাআলা তার জন্য ভালো পাত্রীর ব্যবস্থা করে দেন।

আর মেয়েরা যদি নিয়মিত সুরা দোহা ১১ বার তেলাওয়াত করে তবে তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা সর্বোত্তম পাত্রের ব্যবস্থা করে দেন।

সুরা ইয়াসিন পাঠ করা:

সুরা ইয়াসিন বিয়ে সংক্রান্ত সব সমস্যার সমাধান করে দেয়।

সুরা ইয়াসিন পড়ার একটি বিশেষ আমল রয়েছে। যাদের বিয়ের প্রস্তাব আসে কিন্তু বিয়ে হয় না। তাদের জন্য এ আমলটি কার্যকরী। আর তাহলো-

সুরা ইয়াসিনে ৭টি মুবিন রয়েছে। প্রতিদিন সকালে সূর্য যখন পূর্ব আকাশে লাল হয়ে উঠে তখন, পশ্চিমমুখী হয়ে সুরা ইয়াসিন পড়া।

আর যখনই ‘মুবিন’ শব্দ তেলাওয়াত করা হবে তখনই শাহাদাত আঙুল দিয়ে পেছনের দিকে অর্থাৎ সূর্যের দিকে ইশারা করা।

সুরা তাওবার এ আয়াতটি তেলাওয়াত করা:

فَإِن تَوَلَّوْاْ فَقُلْ حَسْبِيَ اللّهُ لا إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ : ফাইং তাওয়াল্লাও ফাকুল হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।’

Categories
ধর্ম

অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু থেকে বাঁচার দোয়া

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাদমি ওয়া আউজুবিকা মিনাত তারাদ্দি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল গারাকি ওয়াল হারাকি ওয়াল হারামি, ওয়া আউজুবিকা আঁইয়াতাখব্বাতানিশ শায়তানু ইনদাল মাওতি, ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা ফি সাবিলিকা মুদবিরান ওয়া আউজুবিকা আন আমুতা লাদিগান। ’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ থেকে, আমি আপনার কাছ থেকে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ থেকে এবং অতি বার্ধক্য থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের প্রভাব থেকে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ থেকে। ’

উপকার : আবুল ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) এরূপ দোয়া করতেন।

Categories
ধর্ম

পরিবার : আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের অনুষঙ্গ

প্রবাদে আছে, ‘পরিবারের দিকে খেয়াল দাও, দেখবে সমাজ আপনা থেকেই ঠিক হয়ে যাবে।’ ইসলামী সমাজের যে স্বপ্ন আমরা দেখি তার বাস্তবায়ন করতে হলে পরিবারে ইসলাম চর্চার দিকে আমাদের গুরুত্বারোপ করতে হবে সবচেয়ে বেশি। পরিবার হচ্ছে সমাজ জীবনের প্রথম ভিত্তি ও প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান। যে পরিবার ইসলামী ভাবধারা, ইসলামী নীতিমালা ও ইসলামী বিধিবিধানের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং পরিচালিত হয় তাকে ইসলামী পরিবার বলে। একটি আদর্শ পরিবারের সব উপাদানই ইসলামে বিদ্যমান। পরিবার একটি জবাবদিহিতামূলক দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান। মুসলিম পরিবারে সবার কাজকর্মের, অধিকার ও কর্তব্যের যেমন পরিবারে জবাবদিহি করতে হয়, তেমনি আল্লাহর কাছেও এর জন্য জবাবদিহি করতে হয়।

এ ছাড়াও একটি মুসলিম পরিবারে সব রকম মানবীয় গুণাবলির প্রশিক্ষণ হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত হয়। যার প্রভাব পরিবারের বাইরেও অন্যান্য সামাজিক সম্পর্কের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। পারস্পারিক প্রীতি-ভালোবাসা, দয়া-সহানুভূতিসহ অন্যান্য উৎকৃষ্ট সব গুণের চর্চা মুসলিম পরিবারে এনে দেয় প্রশান্তির ঝরনাধারা।

বিয়ের মাধ্যমে মুসলিম পরিবারের সূচনা হয়। জীবনসঙ্গী নির্বাচন পরিবারের একটি অন্যতম অধ্যায়। বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে তাই দ্বীনদারিতাকেই সবচেয়ে বেশি প্রায়রিটি দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ সা. আত্মিক ও ঈমানের সৌন্দর্যকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন- ‘নারীদের চারটি গুণ দেখে বিয়ে করো- তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারি। তবে তুমি তার দ্বীনদারিতাকে বেশি প্রাধান্য দেবে। নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (বুখারি-৫০৯০)

একইভাবে ‘যখন তোমাদের কাছে কোনো পাত্র বিয়ের প্রস্তাব দেয়, যার দ্বীনদারি ও চরিত্র যদি তোমাদের পছন্দ হয়, তাহলে তার সাথে বিয়ে সম্পন্ন করো; অন্যথায় জমিনে বড় বিপদ দেখা দেবে এবং সুদূরপ্রসারী বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে।’ (তিরমিজি : ১০৮৪-৮৫)

মূলকথা সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ মুসলিম পরিবার তখনই গঠিত হবে, যখন স্বামী ও স্ত্রী দু’জনই আল্লাহ ও তার রাসূলের দেখানো পথে নিজেদের জীবন পরিচালিত করবে। নিজেদের পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্প্রীতি, শ্রদ্ধাবোধ, সহযোগিতা ও ত্যাগ করার মানসিকতা দাম্পত্য সম্পর্ককে ভারসাম্যপূর্ণ করবে। একটি সুস্থ ও সুন্দর দাম্পত্য সম্পর্ক পরিবারের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অন্যতম নিয়ামক; যা পরিবারের অপর সদস্যদেরও সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে। মা-বাবার উত্তম আখলাক সন্তানদের জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মা-বাবা যদি ইসলাম চর্চার ক্ষেত্রে আন্তরিক ও আপসহীন হন, তা হলে আশা করা যায় তাদের সন্তানরাও এ ধারা অব্যাহত রাখবে। তাদের হাত ধরেই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইসলামকে চিনবে। রাসূল সা: বলেন, ‘প্রতিটি শিশু ইসলামী স্বভাবের ওপর জন্মগ্রহণ করে। অতঃপর তার মা-বাবা তাকে ইহুদি, খ্রিষ্টান অথবা মূর্তিপূজারকে পরিণত করে।’ (তিরমিজি)

মা-বাবা দ্বীনদার হলে তাদের সন্তানরাও ইসলামের সুশীতল ছায়ায় বেড়ে উঠে পরম যত্নে; কারণ সন্তানরা তারবিয়ার প্রথম পাঠ তাদের মা-বাবার কাছ থেকেই পেয়ে থাকে। মুয়াজ রা. থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমাকে রাসূল সা. বলেন, ‘তুমি তোমার উপার্জিত সম্পদ তোমার পরিবারের জন্য সামর্থ্য অনুসারে ব্যয় করো। পরিবার পরিজনদের শিষ্টাচার শিক্ষাদানের ব্যাপারে শাসন থেকে বিরত থেকো না এবং আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে পরিবারের লোকজনকে ভীতি প্রদর্শন করো।’ এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, সন্তানকে আদর্শ-চরিত্রবান ও ইসলামী আদর্শে গড়ে তুলতে মা-বাবার ভূমিকা অপরিসীম। সন্তানকে দ্বীনী শিক্ষা থেকে শুরু করে সব রকম আচার-আচরণ শিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে মা-বাবাকে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। হাদিসে এসেছে- ‘স্ত্রী তার স্বামীর পরিজনদের এবং সন্তানদের তত্ত্বাবধানকারিণী। তাকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।’(বুখারি ও মুসলিম)

সমাজ-সভ্যতার ও মানবতার ভিত্তি স্তর হচ্ছে পরিবার। ইসলামী পরিবারে স্নেহ, মমতা, ভক্তি, শ্রদ্ধা, সহানুভূতি, সমবেদনা, উদারতা, ত্যাগ প্রভৃতি সামাজিক মানবীয় গুণাবলির প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে। শ্রেষ্ঠ শিক্ষায়তন পরিবারের সদস্যরা তাই নৈতিক চরিত্র গঠন ও উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ পায়। মুসলিমদের প্রতিটি পরিবার প্রকৃতপক্ষে পুরো মুসলিম উম্মাহরই অংশ। তাই প্রতিটি পরিবার যদি তাদের সদস্যদের সঠিকভাবে ইসলামিক অনুশাসন মেনে গড়ে তোলে, তাহলে এর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে সারা পৃথিবীর মুসলিম উম্মাহই উপকৃত হবে। ইসলামী সমাজব্যবস্থার সূচনা মুসলিম পরিবারগুলোকে কেন্দ্র করে এভাবেই বিকাশ লাভ করবে। ইনশা আল্লাহ।

Categories
ধর্ম

যে দোয়া পড়লে অনবরত সওয়াব লেখা হয়

উচ্চারণ : ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আদাদা খলকিহি, ওয়া রিজাকা নাফসিহি, ওয়া জিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহ।’

অর্থ : আমি আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা ও তাঁর প্রশংসা বর্ণনা করছি, তাঁর সৃষ্টি সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর মর্জি অনুযায়ী, তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ এবং তাঁর কালামের কালির পরিমাণ।

উপকার : জোয়ায়রিয়াহ (রা.) বলেন যে রাসুল (সা.) সাতসকালে আমার কাছ থেকে ঘরের বাইরে গেলেন এবং আমি জায়নামাজে বসে অজিফা পড়ছিলাম, তারপর চাশতের পর দিনের এক-চতুর্থাংশ চলে গেল। তখন রাসুল (সা.) ফের ঘরে এলেন। তখনো আমি একই অবস্থায় জায়নামাজে অজিফা পড়ায় মগ্ন ছিলাম। তা রাসুল (সা.) দেখে আমাকে বলেন যে আমি যাওয়ার সময় তোমাকে যে অবস্থায় দেখেছি, এখনো কি তুমি সেই আগের অবস্থায় রয়ে গেছ? আমি বলেছি হ্যাঁ, রাসুল (সা.) বলেন, আমি তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর যে চারটি কলেমা পাঠ করেছি, তা যদি তোমার সকাল থেকে এই পর্যন্তের সব অজিফার বিপরীতে ওজন করা হয়, তাহলে ্এই চারটি কলেমার ওজন বেশি ভারী হবে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৮০৬)

Categories
ধর্ম

পরকালের ভয়ে পরিশুদ্ধ জীবন

পরকালে বিশ্বাস ঈমানের অপরিহার্য অংশ। পরকালের বিশ্বাস ও ভয় মানুষকে পরিশুদ্ধ জীবনযাপনে সাহায্য করে। মানুষের ইহকালীন জীবনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পবিত্র কোরআনে মুমিনদের নানাভাবে পরকালীন জীবনের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে মুমিন কখনো পরকালীন জীবনের ভয় থেকে মুক্ত হতে পারে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমরা আশঙ্কা করি, আমাদের প্রতিপালকের কাছ থেকে এক ভীতিপ্রদ ভয়ংকর দিনের।’ (সুরা : দাহর, আয়াত : ১০)

পরকালের ব্যাপারে উদাসীনতা নয় : মুমিন কখনো পরকালের ভয় থেকে মুক্ত হতে পারে না। কেননা হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমরা দুটি বড় বিষয়কে ভুলে থেকো না। আমরা বললাম, বড় বিষয় দুটি কী? তিনি বললেন, জান্নাত ও জাহান্নাম। (মুসনাদে আহমাদ)

দ্বিন পালনের নিশ্চয়তা : পরকালের ভয় মানুষকে ধর্মীয় জীবনযাপনে সাহায্য করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘সেসব লোক, যাদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে, নামাজ আদায় থেকে ও জাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখে না। তারা ভয় করে সেই দিনকে, যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৭৩)

আল্লাহমুখী করে : পরকালের ভয় মানুষকে আল্লাহমুখী করে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের সাধনায় লিপ্ত করে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা শয্যা ত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও ভয়ে এবং আমি তাদের যে জীবিকা দান করেছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে।’ (সুরা : সাজদা, আয়াত : ১৬)

পাপমুক্ত জীবন লাভ : পরকালের ভয় মানুষকে পাপমুক্ত জীবনযাপনে সাহায্য করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্য হই, তবে আমি ভয় করি মহাদিবসের শাস্তির।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ১৩)

দুনিয়ার মোহ দূর করে : পরকালের ভয় মানুষের দুনিয়ার মোহ দূর করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, (দুনিয়ার ও আখিরাতের প্রকৃত রূপ ও পরিণতি সম্পর্কে) আমি যা জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তবে তোমরা কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৮৫)

জান্নাতে প্রবেশের পরই ভয়মুক্তি : জান্নাতে প্রবেশের আগে মুমিন পরকালীন ভয় থেকে মুক্ত হতে পারে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘স্থায়ী জান্নাত, যাতে তারা প্রবেশ করবে, সেথায় তাদের সোনা নির্মিত কঙ্কণ ও মুক্ত দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং সেখানে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ হবে রেশমের। আর তারা বলবে, সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত করেছেন।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ৩৩-৩৪)

পরকালে ক্ষতিগ্রস্তরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত : পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাই প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত। কেননা পরকালীন জীবনই মানুষের আসল জীবন। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন! ক্ষতিগ্রস্ত তারাই, যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের ও নিজেদের পরিজনবর্গের ক্ষতিসাধন করে। জেনে রেখো, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ১৬)

পরকালের ব্যাপারে অন্যকে সতর্ক করা : মুমিন শুধু নিজে পরকালীন পরিণতিতে ভয় করবে না, বরং অন্যকেও সতর্ক করবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে, যখন দুঃখ-কষ্টে তাদের প্রাণ কণ্ঠাগত হবে। অবিচারকারীদের জন্য কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই, যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে এমন কোনো সুপারিশকারীও নেই।’ (সুরা : মুমিন, আয়াত : ১৮)

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা

Categories
ধর্ম

অস্থিরতায় পাঠ করার দোয়া

উচ্চারণ : ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু বিরাহমাতিকা আসতাগিস।

অর্থ : হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী! আপনার রহমতের অসিলায় আমি সাহায্য কামনা করছি।

সূত্র : আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে কোনো কঠিন কাজ উপস্থিত হলে তিনি এই দোয়া পড়তেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫২৪)

Categories
ধর্ম

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.)-এর পাঁচ অমূল্য উপদেশ

ইমাম ইবনুল কায়্যিম জাওজিয়্যা (রহ.) ছিলেন অষ্টম শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ও চিন্তাবিদ। তিনি ইসলামের নানা বিষয়ে কালজয়ী বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। নিম্নে ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.)-এর পাঁচটি অমূল্য উপদেশ তুলে ধরা হলো—

মুমিনের সৌভাগ্য : নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে চাইবে এবং তাঁর সাড়া দানের প্রত্যাশা করবে। দোয়া করবে আল্লাহ যেন দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের অভিভাবক হয়ে যান। দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর নিয়ামতগুলো পূর্ণতা দান করেন। তিনি তোমাদের সেসব মানুষের অন্তর্ভুক্ত করে নেন, যারা আল্লাহর নিয়ামত লাভ করলে কৃতজ্ঞতা আদায় করে, সংকটে পড়লে ধৈর্য ধারণ করে এবং পাপে লিপ্ত হলে ক্ষমাপ্রার্থনা করে। এই তিনটি বৈশিষ্ট্য মুমিনের জন্য সৌভাগ্য লাভের মাধ্যম, দুনিয়া-আখিরাতে সাফল্য লাভের নিদর্শন। আল্লাহর প্রকৃত বান্দারা এসব গুণাবলিকে উপেক্ষা করতে পারে না।

কোরআন দ্বারা উপকৃত হওয়ার শর্ত : যদি তুমি কোরআন দ্বারা উপকৃত হতে চাও তবে কোরআন তিলাওয়াত ও শ্রবণ করার সময় মনোযোগ ধরে রাখবে এবং অন্তরের কান খুলে দেবে। তুমি তোমাকে সে ব্যক্তির মতো উপস্থিত করবে যে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। কেননা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাঁর রাসুলের মাধ্যমে তোমাকেই সম্বোধন করেছেন। আল্লাহ বলেছেন, ‘এতে উপদেশ আছে তার জন্য, যার আছে অন্তঃকরণ অথবা যে শ্রবণ করে নিবিষ্টচিত্তে।’ (সুরা কাফ, আয়াত : ৩৭)

সময় নষ্ট করা : সময় নষ্ট করা মৃত্যুর চেয়েও ভয়ংকর। কেননা সময়ের অপচয় তোমাকে আল্লাহ ও পরকাল থেকে দূরে ঠেলে দেবে। মৃত্যু তোমাকে শুধু জীবন ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।

অন্তরের পরিশুদ্ধি : অন্তরের সব রোগের মূল সংশয় ও প্রবৃত্তি পূজা। আর কোরআন এই দুই রোগ থেকে আরোগ্য দান করে। কেননা কোরআনে আছে সুস্পষ্ট ও অকাট্য দলিলগুলো। যা মিথ্যা থেকে সত্যকে পৃথক করে। আর তা জ্ঞান, চিন্তা ও বোধশক্তির মাধ্যমে সংশয়ের রোগগুলো দূর করে দেয়। অন্যদিকে কোরআনের প্রজ্ঞা, উত্তম উপদেশ মানুষকে প্রবৃত্তি পূজা থেকে ফিরিয়ে আনে। তা হয় কোরআনের তারগিব তথা পুরস্কার বিষয়ক ও তারহিব তথা ভীতিপ্রদর্শন বিষয়ক আয়াতগুলোর মাধ্যমে এবং দুনিয়াবিমুখতা বিষয়ক আয়াত এবং আখিরাতমুখী হওয়া বিষয়ক আয়াতগুলোর মাধ্যমে। আর সেসব দৃষ্টান্ত ও ঘটনাগুলোর মাধ্যমে আছে শিক্ষা ও আত্মসংযমের উপদেশ।

মানবজীবনের দুই পর্দা : বান্দার জীবনে দুটি পর্দা আছে। একটি তার ও আল্লাহর মাঝে এবং অপরটি তার ও মানুষের মাঝে। সে যখন তার ও আল্লাহর মধ্যকার পর্দাটি ছিঁড়ে ফেলে, তখন আল্লাহ তার ও মানুষের মধ্যকার পর্দা হটিয়ে দেন।

দারিদ্র্য হওয়া : যেসব দরজার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে প্রবেশ করে দারিদ্র্য হলো তার ভেতর সবচেয়ে নিকটতর। সে নিজের জন্য কোনো অবস্থা, অবস্থান ও সম্পর্ক খুঁজে পায় না। আর এমন কোনো সম্পদ নেই, যার জন্য হিসাব দিতে হবে; বরং সে আল্লাহর কাছে প্রবেশ করবে নিঃস্ব ও অসহায় অবস্থায় এবং দারিদ্র্যের কারণে ভগ্ন হৃদয় নিয়ে। সে তার সব প্রয়োজন আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করার সুযোগ পায়।

‘মাওয়ায়িজু ইমাম ইবনুল কায়্যিম জাওঝিয়্যা’ থেকে আলেমা মুশফিকা আফরার ভাষান্তর

Categories
ধর্ম

দাওয়াই হিসেবে মেহেদি পাতা

দাওয়াই হিসেবে মেহেদি পাতার ব্যবহার সম্পর্কে অনেকে জানে না। সাধারণত মেহেদি নারীদের সাজসজ্জা ও পুরুষের চুল ও দাড়ি রাঙানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এর অনেক ঔষধি গুণ আছে। আলী ইবনে ওবায়দুল্লাহ তাঁর দাদি সালমা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘তিনি (সালমা) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সেবা করতেন। তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেহে কোনো তলোয়ার বা দা-এর আঘাতে ক্ষত হতো, তিনি তাতে মেহেদি লাগাতে আমাকে নির্দেশ দিতেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০৫৪)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘নবী করিম (সা.) কখনো আঘাত পেলে অথবা কাটাবিদ্ধ হলে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে মেহেদি লাগাতেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৫০২)

সালমা (রা.) বলেন, ‘কেউ মাথা ব্যথার অভিযোগ নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এলে তিনি বলতেন, শিঙ্গা লাগাও এবং পায়ের ব্যথার অভিযোগের ক্ষেত্রে বলতেন, মেহেদি পাতার রস লাগাও।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৫৮)

হাফেজ ইবনুল কাইয়িম (রহ.) মেহেদি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে ‘আত-তিব্বুন নববি’ গ্রন্থে লিখেছেন—১. মেহেদি আগুনে পোড়া ক্ষতের জন্য বেশ উপকারী। ২. যদি কোনো শিরা বা অঙ্গে মেহেদির প্রলেপ দেওয়া হয়, তাহলে শিরার শক্তিতে সজীবতা আনে। ৩. যদি তা চাবানো হয়, তাহলে মুখের জখম ও দাঁতের মাড়ির ক্ষত উপশম হয়। ৪. জিহ্বার উপরিভাগের ক্ষত দূর করে। ৫. বিশেষত শিশুদের জিহ্বায় যে দানা দানা দেখা দেয়, তার জন্য মেহেদি খুবই উপকারী। ৬. ফোঁড়া ও যন্ত্রণাদায়ক আগুনের দগ্ধে মেহেদির প্রলেপ দিলে স্বস্তি ও প্রশান্তি লাভ হয়। ৭. মেহেদি ফুলের সঙ্গে খাঁটি মোম এবং গোলাপের তৈল মিলিয়ে মালিশ করলে নিউমোনিয়া এবং পাঁজরের ব্যথা চলে যায়। (আত-তিব্বুন নববি, পৃষ্ঠা ১৫০)