Categories
ধর্ম

ডান দিক থেকে খাবার পরিবেশন করা সুন্নত

ঘরে কিংবা মজলিসে খাদ্য বিতরণ ও সভা-সমাবেশে কোনো কিছু বিতরণের ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করতে হবে। কারণ ডান দিক থেকে শুরু করা সুন্নত। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুল (সা.)-এর জন্য একটি বকরির দুধ দোহন করা হলো। তখন তিনি আনাস ইবনে মালেক (রা.)-এর ঘরে অবস্থান করছিলেন এবং সেই দুধের সঙ্গে আনাস ইবনে মালেকের বাড়ির কূয়ার পানি মেশানো হলো। তারপর পাত্রটি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে দেওয়া হলো। তিনি তা থেকে পান করেন। পাত্রটি তাঁর মুখ থেকে আলাদা করার পর তিনি দেখেন, তাঁর বাম দিকে আবু বকর ও ডান দিকে একজন বেদুঈন আছে। পাত্রটি তিনি হয়তো বেদুঈনকে দিয়ে দেবেন—এ আশঙ্কায় ওমর (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আবু বকর (রা.) আপনার পাশে, তাকে পাত্রটি দিন। তিনি বেদুঈনকে পাত্রটি দিয়ে দেন, যে তাঁর ডান পাশে ছিল। অতঃপর তিনি বলেন, ডান দিকের লোক বেশি হকদার।’ (বুখারি, হাদিস : ২৩৫২)

অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ডান দিকের ব্যক্তিদের (অগ্রাধিকার), ডান দিকের ব্যক্তিদের (অগ্রাধিকার)। শোনো! ডান দিক থেকেই শুরু করবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২৫৭১)

তবে বাম দিকে কোনো সম্মানিত মানুষ, বিশেষ অতিথি ও বয়স্ক ব্যক্তি থাকলে ডান পাশের মানুষের অনুমতি নিয়ে বাম দিকের ব্যক্তিকে কোনো কিছু দেওয়া যাবে। সাহল ইবনু সাদ (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.)-এর কাছে একটি পেয়ালা আনা হলো। তিনি তা থেকে পান করেন। তখন তাঁর ডান দিকে ছিল একজন বয়ঃকনিষ্ঠ বালক, আর বয়স্ক লোকেরা ছিলেন তাঁর বাম দিকে। তিনি বলেন, হে বালক, তুমি কি আমাকে অবশিষ্ট (পানিটুকু) বয়স্কদের দেওয়ার অনুমতি দেবে? সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আপনার কাছ থেকে ফজিলত পাওয়ার ব্যাপারে আমি আমার চেয়ে অন্য কাউকে প্রাধান্য দিব না। অতঃপর তিনি তা তাঁকে প্রদান করেন।’ (বুখারি, হাদিস : ২৩৫১)

Categories
ধর্ম

ইসলামে পরিমিত খাবার গ্রহণের গুরুত্ব

শারীরিক সুস্থতা মহান আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। এটি বান্দার প্রতি সবিশেষ অনুগ্রহ। মহানবী (সা.) বলেন, ‘দুটি নিয়ামত এমন আছে, যেগুলো অবহেলার কারণে বহু মানুষ ধোঁকাপ্রাপ্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তা হলো, সুস্থতা আর অবসর।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

জটিল রোগ-ব্যাধি থেকে বাঁচতে এবং সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে ইসলাম মুমিনদের পরিমিত খাবার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

ইসলামে পরিমিত খাবার গ্রহণের তাগিদ

আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে আদম সন্তানরা, তোমরা প্রত্যেক নামাজের সময় সাজসজ্জা পরিধান কোরো এবং খাও ও পান কোরো। তবে অপচয় কোরো না। কেননা, তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩১)

আয়াতের আলোকে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণে মুসলমানের নীতি হবে মনের চাহিদায় নয়; বরং শরীরের চাহিদা অনুযায়ী খাবে; যাতে সে দুনিয়ার পেশাগত কার্যক্রম ও ইবাদত-বন্দেগি স্বাভাবিকভাবে করতে পারে। পক্ষান্তরে অবিশ্বাসী মনের চাহিদা পূরণে খাবার গ্রহণ করে। প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘মুমিন এক পেটে খায়, আর কাফির ও মুনাফিক সাত পেটে খায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৩৯৪)

সুতরাং যে শারীরিক সুস্থতা চাইবে সে খাদ্য ও পানীয় দ্বারা পেট ভর্তি করবে না। মিকদাম বিন মাদিকারিব (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘পেটের চেয়ে মন্দ কোনো পাত্র মানুষ ভরাট করে না। পিঠের দাঁড়া সোজা রাখার মতো কয়েক লোকমা খানাই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। আরো বেশি ছাড়া যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খানার জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য অন্য তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৩৮০)

অভিজ্ঞ আলেমরা বলেন, পরিমিত খাবার শুধু শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করে না; বরং হৃদয়কে বিগলিত করে, ইবাদত-বন্দেগিতে উৎসাহিত করে। আর অপরিমিত খাবার শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি হৃদয়কে শক্ত করে তোলে; ফলে ইবাদত-বন্দেগিতে অমনোযোগী হয়।

তাই খাবার গ্রহণে মুসলিমদের সতর্ক হতে হবে। রকমারি খাবারে মুগ্ধ হয়ে বেশি খাবার গ্রহণের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের মধ্য থেকে এমন লোকদের আবির্ভাব ঘটবে যারা খাবে রকমারি খাবার, পান করবে রকমারি পানীয়, পরিধান করবে রকমারি পোশাক এবং তারা আবোল-তাবোল বকবে। এরাই হবে আমার উম্মতের নিকৃষ্টতম লোক।’ (সিললাতুল আহাদিসিস সহিহা, হাদিস : ৩৬৬৩)

উপকারী খাবার গ্রহণ

শারীরিক সুস্থতার অন্যতম নিয়ামক হলো উপকারী, স্বাস্থ্যকর ও বরকতময় খাবার গ্রহণ করা। কোরআন-হাদিসে কিছু খাবারকে বরকতময় ও উপকারী বলা হয়েছে। এসব খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে স্বাস্থ্য সবল হয়।

১. খেজুর : সালমান বিন আমির বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ইফতার করবে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার (শুরু) করে। কেননা, খেজুর বরকতময় খাবার।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৬৫৪)

২. জায়তুন তেল : ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জায়তুন তেল খাও এবং তা মালিশ কোরো। কেননা তা বরকতময় গাছ থেকে উৎপন্ন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৮৫২)

৩. মধু : কোরআন ও হাদিসে বহু জায়গায় মধুকে শিফা তথা আরোগ্য লাভের কার্যকর মাধ্যম বলে ঘোষণা করেছে।

৪. কালিজিরা : প্রিয় নবী (সা.) বিভিন্নভাবে উম্মতকে জানিয়ে দিয়েছে যে কালিজিরা (ঠাণ্ডাজনিত) সব রোগ থেকে আরোগ্য লাভে সহায়ক।

Categories
জাতীয় ধর্ম

হজ-ওমরাহ পালনে জটিলতা দূর করতে সৌদি গেলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

করোনা মহামারির মধ্যে নানা বিধিনিষেধের কারণে হজ ও ওমরাহ পালনে জটিলতা দূর করতে সৌদি গেলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সৌদি আরব সফরকালে এ প্রতিনিধি দল ওমরাহ এবং পবিত্র হজ কার্যক্রম বিষয়ে দেশটির সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

১৩ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় ৬ সদস্যের এই প্রতিনিধি দল সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব (হজ) গাজী উদ্দিন মো.মনির, হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব দিদারে আলম মো. মাকসুদ চৌধুরী, ধর্ম সচিবের একান্ত সচিব মো. যোবায়ের।

বাংলাদেশের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ভাইস মিনিস্টার এর সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সফররত প্রতিনিধি দলটি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কায় সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ভাইস-মিনিস্টারের সাথে তার দফতরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিবেন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি দল মক্কায় মোয়াসসা জুনুব এশিয়ার চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠকে করবেন। একই দিনে প্রতিনিধি দল মক্কায় হাজিদের জন্য ভাড়া বাড়ি ও হোটেল পরিদর্শন করবেন।

এছাড়া প্রতিনিধি দল পবিত্র মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফা পরিদর্শন করবেন। জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় বাংলাদেশ হজ অফিস সমূহ পরিদর্শন করবেন প্রতিমন্ত্রী। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি দল মদিনাস্থ ন্যাশনাল আদিল্লা অফিসের চেয়ারম্যানের সাথে হজ ও ওমরাহ সংক্রান্ত বিষয়ে মত বিনিময়ের কথা রয়েছে। প্রতিনিধি দলটি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
ধর্ম

যে বন্ধু কল্যাণের চাবিকাঠি

মানুষ সামাজিক প্রাণী। তাই জীবনে চলার পথে প্রতিটি মানুষেরই অন্য কোনো মানুষের সঙ্গে বন্ধু নামের বিশ্বাসী ও মজবুত একটি সম্পর্কের সৃষ্টি হয়ে যায়। যার কাছে মনের সব লুকানো কথা আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে খুলে বলা যায়। আত্মার সঙ্গে আত্মার শক্তিশালী বন্ধন হলো, বন্ধু।

বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কখনো কখনো এই বন্ধুত্ব হতে পারে মানুষের সফলতার সোপান, আবার কখনো কখনো বন্ধু নির্বাচনে ভুল করার কারণে এই বন্ধুত্বই হতে পারে চরম ব্যর্থতার কারণ। আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় কতক লোক আছে, যারা কল্যাণের চাবিকাঠি এবং অকল্যাণের দ্বার রুদ্ধকারী। পক্ষান্তরে এমন কতক লোকও আছে যারা অকল্যাণের দ্বার উন্মোচনকারী এবং কল্যাণের পথ রুদ্ধকারী। সেই লোকের জন্য সুসংবাদ, যার দুই হাতে আল্লাহ কল্যাণের চাবি রেখেছেন এবং সেই লোকের জন্য ধ্বংস, যার দুই হাতে আল্লাহ অকল্যাণের চাবি রেখেছেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৩৭)

অতএব, বন্ধু নির্বাচনে সব সময় এমন মানুষকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যে কল্যাণের পথ দেখাবে। এবং অকল্যাণের পথ থেকে বন্ধুকে ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। পক্ষান্তরে এমন লোকদের বন্ধু তালিকা থেকে দূরে রাখা উচিত, যারা বন্ধুকে অকল্যাণের পথে ঠেলে দেবে। তাঁর দুনিয়া-আখিরাত ধ্বংসের কারণ হবে। কারণ আত্মার সঙ্গে আত্মার বন্ধুত্ব কল্যাণকর; কিন্তু প্রেতাত্মার সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক ভয়ংকর। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর রীতিনীতির অনুসারী হয়। কাজেই তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ করে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮৩৩)

যেহেতু বন্ধুত্ব ও বন্ধুদের আচার-আচারণ মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই যে বন্ধু সর্বদা আল্লাহর কথা স্মরণ করাবে, কখনো বিপথগামী হতে গেলে সে তার বন্ধুকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সতর্ক করবে, সে ধরনের বন্ধু নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আবু মুসা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ মিসক বিক্রেতা ও কর্মকারের হাঁপরের মতো। আতর বিক্রেতাদের থেকে শূন্য হাতে ফিরে আসবে না। হয় তুমি আতর খরিদ করবে, না হয় তার সুঘ্রাণ পাবে। আর কর্মকারের হাঁপর হয় তোমার ঘর অথবা তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে, না হয় তুমি তার দুর্গন্ধ পাবে।’ (বুখারি, হাদিস : ২১০১)। বন্ধু নির্বাচনে কোন ধরনের মানুষকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, সে ব্যাপারে পবিত্র কোরআনের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর মুমিন পুরুষ এবং মুমিনা নারীরা একে অপরের বন্ধু। তারা ভালো কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামাজ প্রতিষ্ঠিত করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন-যাপন করে। তাদের ওপর আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী সুকৌশলী।’ (সুরা : আত তওবা, আয়াত : ৭১)

যারা মহান আল্লাহর দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধু নির্বাচন করবে না এবং বন্ধুর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ঈমানহারা হবে, কিয়ামতের দিন তাদের আপসোসের সীমা থাকবে না। কিন্তু সেদিন তাদের কিছুই করার থাকবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘জালিম ব্যক্তি সেদিন নিজের দুহাত কামড়াতে কামড়াতে বলবে, হায়, আমি যদি রাসুলের সঙ্গে সৎপথ অবলম্বন করতাম। হায়, দুর্ভোগ আমার, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম! আমাকে তো সে বিভ্রান্ত করেছিল আমার কাছে উপদেশ পৌঁছার পর। আর শয়তান তো মানুষের জন্য মহাপ্রতারক।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ২৭-২৯)

তাই প্রতিটি মানুষের উচিত, বন্ধু নির্বাচনে এমন লোকদের প্রাধান্য দেওয়া, যাদের মধ্যে মহান আল্লাহ কল্যাণ রেখেছেন। মহান আল্লাহ সবাইকে বন্ধু নির্বাচনে সতর্ক হওয়ার তাওফিক দান করুন।

Categories
ধর্ম

ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা নয়

অতীত মানে যা চলে গেছে, আর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সুতরাং বর্তমানকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত। ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় নিজেকে হতাশ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহর আদেশ আসবেই, সুতরাং তোমরা এর জন্য ব্যস্ত হয়ে পোড়ো না।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১)

এখানে আল্লাহর আদেশ মানে কিয়ামত অথবা কাফির ও মুশরিকদের শাস্তি কিংবা ইসলামী আইন।

যা এখনো ঘটেনি তা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আপনি কি ফল পাকার আগেই তা ছিঁড়ে ফেলাকে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করেন? আজ আগামী দিনের কোনো বাস্তবতা নেই, তাই তা অস্তিত্বহীন। অতএব, আপনি তা নিয়ে ব্যস্ত হবেন কেন? ভবিষ্যৎ বিপর্যয় সম্পর্কে কেন আপনার আশঙ্কা থাকতেই হবে? ভবিষ্যৎ দুর্বিপাকের দুর্ভাবনা নিয়ে আপনাকে কেন বিভোর থাকতেই হবে? বিশেষ করে যখন আপনি জানেন না যে আপনি আগামী দিনের সুখটাই শুধু দেখতে পারবেন কি না?

যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানতে হবে তা এই যে, আগামী দিন অদৃশ্য জগতের এমন এক সেতু, যা আমাদের সামনে না আসা পর্যন্ত আমরা তা অতিক্রম করতে পারি না। কে জানে, হয়তো আমরা কখনো সেই সেতুর কাছে না-ও পৌঁছতে পারি, অথবা আমরা সেটার কাছে পৌঁছার আগেই ওটা ধসে যেতে পারে, অথবা আমরা হয়তো সেই সেতুতে পৌঁছে তা নিরাপদে পার হব?

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘‘কখনো তুমি ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলে এ কথা বোলো না যে আমি আগামীকাল এই কাজ করব…।’’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ২৪)

মানুষের আগামী মাত্রই অনিশ্চিত। তাই ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলে আগামীর কোনো কথা বা কাজ হতে পারে না। ‘ইনশাআল্লাহ’ মানে যদি আল্লাহ এমনটি চান। আল্লাহ চাইলেই আমরা আগামীতে পৌঁছতে পারি এবং আমাদের আগামীর কাজ সংঘটিত হতে পারে।

সুতরাং ভবিষ্যতের আশঙ্কায় বিভোর হওয়া নিজের বিশ্বাসকে অবজ্ঞা করার নামান্তর। কেননা, সেই আশঙ্কা এ জগতের সঙ্গে আমাদের এক দীর্ঘকালীন সম্পর্ক থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়, যে সম্পর্ককে একজন প্রকৃত মুমিন পরিহার করে। এই পৃথিবীর বহু মানুষ ভবিষ্যৎ দারিদ্র্য, ক্ষুধা, পীড়া ও দুর্যোগের ভয়ে অযৌক্তিকভাবে ভীত। এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা শয়তানের ধোঁকামাত্র। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীল কাজ করার আদেশ করে, অথচ আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের ক্ষমা ও দানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬৮)

অনেকেই এমন আছে যে তারা নিজেদের আগামী দিনের বুভুক্ষু (ক্ষুধার্ত) ভেবে, এক মাস পরের রোগী ভেবে অথবা এক শ বছর পর পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে—এই কল্পিত ভয়ে কান্না করে। যে ব্যক্তি জানে না কখন সে মরবে (অথচ আমাদের সবাইকে মরতে হবে), যে ব্যক্তির কাছে তার মৃত্যুর সময়ের কোনো ইঙ্গিত নেই, ওই ব্যক্তির উচিত নয় নিজেকে এ ধরনের চিন্তা-ভাবনায় নিমগ্ন রাখা। যেহেতু আপনি আজকের কর্ম নিয়ে ব্যস্ত আছেন, তাই ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা পরিহার করুন। এ পৃথিবীর কল্পিত দৃশ্য নিয়ে অযৌক্তিকভাবে নিজেকে নিঃশেষ করা থেকে সাবধান হোন।

লা তাহজান অবলম্বনে

Categories
ধর্ম

বিনয় জান্নাতি মানুষের বৈশিষ্ট্য

বিনয় শব্দের অর্থ নম্রভাব, নম্রতা, কোমলতা, মিনতি প্রভৃতি। নম্রতা শব্দের অর্থ বিনীত, ঔদ্ধত্যহীন, নিরহংকার, অবনত, নরম, কোমল, শান্তশিষ্ট প্রভৃতি।

আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.) বলেছেন, ‘বিনয় ও নম্রতার মূল হলো, তুমি তোমার দুনিয়ার নিয়ামতের ক্ষেত্রে নিজেকে তোমার নিচের স্তরের লোকদের সঙ্গে রাখো, যাতে তুমি তাকে বোঝাতে পারো যে তোমার দুনিয়া নিয়ে তুমি তার চেয়ে মর্যাদাবান নও। আর নিজেকে উঁচু করে দেখাবে তোমার চেয়ে দুনিয়াবী নিয়ামত নিয়ে উঁচু ব্যক্তির কাছে, যাতে তুমি তাকে বোঝাতে পারো যে দুনিয়া নিয়ে সে তোমার ওপর মর্যাদাবান নয়।’

বিনয়-নম্রতার প্রকারভেদ

ক্ষেত্র বিবেচনায় বিনয় ও নম্রতাকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। নিম্নে ভাগগুলো উল্লেখ করা হলো—

১. মানুষের সঙ্গে নম্রতা : মানুষের সঙ্গে আচার-আচরণে নম্রতা অবলম্বনের বিষয়ে মহান আল্লাহ তাঁর রাসুলকে বলেন, ‘আল্লাহর অনুগ্রহে তুমি তাদের প্রতি কোমল হৃদয় হয়েছিলে। যদি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতে, তাহলে তারা তোমার আশপাশ থেকে দূরে সরে পড়ত। সুতরাং তুমি তাদের ক্ষমা করো এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। আর কাজকর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করো…।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

২. চাকর বা অধীনদের সঙ্গে নম্রতা : চাকর-চাকরাণী ও গৃহপরিচারিকার সঙ্গে সদাচরণ করার জন্য ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে। আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারো খাদেম যখন তার খাবার নিয়ে আসে, তখন তাকে যদি সঙ্গে না বসায় তাহলে সে যেন তাকে এক লুকমা বা দুই লুকমা খাবার দেয়। কেননা সে তার গরম ও কষ্ট সহ্য করেছে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৪৬০)

৩. জীব-জন্তুর সঙ্গে নম্রতা : জীব-জন্তু ও পশু-পাখির সঙ্গেও নম্রতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিশাম ইবনে জায়েদ (রা.) বলেন, আমি আনাস (রা.)-এর সঙ্গে হাকাম ইবনে আইয়ুবের কাছে গেলাম। তখন আনাস (রা.) দেখলেন, কয়েকটি বালক কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, কয়েকজন তরুণ একটি মুরগি বেঁধে তার দিকে তীর ছুড়ছে। আনাস (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.) জীব-জন্তুকে বেঁধে এভাবে তীর ছুড়তে নিষেধ করেছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৫১৩)

শাদ্দাদ ইবনে আউস (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) থেকে আমি দুটি কথা মনে রেখেছি, তিনি বলেছেন, “আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের ওপর ‘ইহসান’ অত্যাবশ্যক করেছেন। অতএব তোমরা যখন হত্যা করবে, দয়ার্দ্রতার সঙ্গে হত্যা করবে, আর যখন জবাই করবে তখন দয়ার সঙ্গে জবাই করবে। তোমাদের সবাই যেন ছুরি ধারালো করে নেয় এবং তার জবেহকৃত জন্তুকে কষ্টে না ফেলে।” (মুসলিম, হাদিস : ১৯৫৫)

বিনয় ও নম্রতার গুরুত্ব

বিনয়ী হওয়ার নির্দেশ : আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ধীরস্থিরতা ও নম্রতা অবলম্বন করার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘তুমি তোমার অনুসারী মুমিনদের প্রতি সদয় হও।’ (সুরা শুআরা, আয়াত : ২১৫)

মহান আল্লাহ বিনয়ী মানুষদের প্রশংসায় বলেন, “দয়াময় আল্লাহর বান্দা তো তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং তাদের যখন অজ্ঞ ব্যক্তিরা সম্বোধন করে তখন তারা বলে ‘সালাম’…।” (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৬৩-৬৬)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘এটা আখিরাতের নিবাস, যা আমি নির্ধারণ করি তাদের জন্য যারা পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। মুত্তাকিদের জন্য আছে শুভ পরিণাম।’ (সুরা কাসাস, আয়াত : ৮৩)

রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুমিন ব্যক্তি নম্র ও ভদ্র হয়। পক্ষান্তরে পাপী মানুষ ধূর্ত ও চরিত্রহীন হয়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৬৪)

অন্যত্র রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের জান্নাতি মানুষের সংবাদ দেব না? আর তারা হলো সরলতার দরুণ দুর্বল প্রকৃতির লোক। মানুষ তাদের হীন, তুচ্ছ ও দুর্বল মনে করে। তারা কোনো বিষয়ে কসম করলে আল্লাহ তা সত্যে পরিণত করেন। রাসুল (সা.) আরো বলেন, আমি কি তোমাদের জাহান্নামিদের সংবাদ দেব না? আর তারা হলো প্রত্যেক অনর্থক কথা নিয়ে ঝগড়াকারী বদমেজাজি ও অহংকারী।’ (মুসলিম, মিশকাত, হাদিস : ৫১০৬)

মহান আল্লাহ আমাদের বিনয়ী হওয়ার তাওফিক দান করুন।

Categories
ধর্ম

তুচ্ছ জিনিসের চাপে ভেঙে পড়বেন না

অনেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের চাপে নয়; বরং অতি তুচ্ছ ব্যাপারে অল্পতেই ভেঙে পড়েন। মুনাফিকদের বিষয়টা একটু ভেবে দেখুন—তারা তাদের সংকল্পে কত দুর্বল! পবিত্র কোরআন তাদের কিছু কথা আমাদের কাছে বর্ণনা করছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা (তাবুকের যুদ্ধ থেকে) পেছনে থেকে গেল তারা আল্লাহর রাসুলে (বিরুদ্ধাচরণ করে) পেছনে বসে থাকাতেই আনন্দবোধ করল এবং তারা তাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করা অপছন্দ করল এবং তারা বলল, গরমের মধ্যে অভিযানে বের হয়ো না।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ৮১)

অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আর তাদের একদল নবীর কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করে বলছিল, আমাদের ঘর-বাড়িগুলো সত্যিই অরক্ষিত। আসলে সেগুলো অরক্ষিত ছিল না। প্রকৃতপক্ষে তারা পালাতে চেয়েছিল।’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ১৩)

অন্য আয়াতে মুনাফিকদের মনোভাব এভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে—‘আমাদের আশঙ্কা হয় যে আমাদের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৫২)

এমন মনোভাবের অধিকারী লোকেরা কত হতভাগা! পেট পূজা, গাড়ি-বাড়ি, দালান-কোঠা তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। তারা আদৌ কখনো একবারের জন্যও আদর্শ ও পুণ্যবান লোকদের জীবনাদর্শের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েও দেখেনি। এরা দামি দামি গাড়ি, পোশাক, জুতা ও খাবার নিয়ে কোনো অজুহাত, স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য, সন্তান বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মনোমালিন্য, সমালোচনা বা তিরস্কার হজম করতে বাধ্য হওয়ার কারণে অথবা অন্য কোনো সামান্য কারণে অনেকে দিন-রাত মর্মপীড়ায় ভোগেন। এমন সব বিষয় হলো এসব লোকদের দুর্দশা, দুর্বিপাক বা মসিবত।

প্রবাদ আছে, যখন কোনো পাত্র পানি শূন্য হয় তখন তা বায়ুপূর্ণ হয়। তাই যে বিষয় আপনাকে উদ্বিগ্ন ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করছে, তা নিয়ে একটু ভেবে দেখুন ও নিজেকে প্রশ্ন করুন। এটা কি আপনার শক্তি নষ্ট করার ও আপনাকে কষ্টে ফেলার যোগ্যতা রাখে? এটা এক অপরিহার্য প্রশ্ন। কেননা, এটা যা-ই হোক না কেন—এটা আপনার উদ্বিগ্নতার কারণ। আপনার শরীর রক্ত-মাংসে গড়া। এ বিষয়টির জন্য শক্তি ও সময়ের অপচয় করছেন! যদি এটা (যে বিষয়টি আপনাকে উদ্বিগ্ন করছে তা) আপনার শক্তি ও সময় নষ্ট করার যোগ্যতা না রাখে তাহলে (এটা নিয়ে ভেবে ভেবে) আপনি আপনার সর্বাপেক্ষা মূল্যবান সময়, জীবন, যৌবন ও ধন-সম্পদের এক বিশাল অংশ অপব্যয় করে ফেলছেন কেন?

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আপনাকে প্রতিটি জিনিসের যথাযথ মূল্যানুপাতে বিচার করতে হবে এবং তাকে তার যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে হবে। এর চেয়ে আরো বেশি সত্য হলো মহান আল্লাহর বাণী—‘অবশ্যই আল্লাহ প্রতিটি বস্তুর জন্য একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।’ (সুরা তালাক, আয়াত : ৩)

অতএব, প্রতিটি অবস্থাকে তার আকার, ওজন, পরিমাণ ও গুরুত্ব অনুসারে বিবেচনা করুন এবং অত্যাচার ও বাড়াবাড়ি থেকে বেঁচে থাকুন।

নবী করিম (সা.)-এর সাহাবিদের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিন। তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল গাছের নিচে বাইয়াত হয়ে (আনুগত্যের অঙ্গীকার করে) আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। তাঁদের সঙ্গে এমন এক লোক ছিল, যার লক্ষ্য ছিল একটি হারানো উট আর এ চিন্তার বশীভূত হয়েই সে বাইয়াত থেকে বঞ্চিত থাকল। ফলে অন্যেরা যে পুরস্কার পেল তা থেকেও সে বঞ্চিত থাকল।

সুতরাং নগণ্য বিষয়ের চিন্তায় বিভোর হবেন না। যদি আপনি এ পরামর্শ মানেন, তাহলে দেখবেন, আপনার বেশির ভাগ দুশ্চিন্তা আপনাকে ছেড়ে চলে গেছে।

ড. আয়েজ আল-কারনির লা তাহজান গ্রন্থ অবলম্বনে

Categories
ধর্ম

নবীপ্রেমের অনন্য নজির

ইসলামের ইতিহাসে খুবাইব বিন আদি (রা.)-এর আত্মোৎসর্গের ইতিহাস অবিস্মরণীয়। মহানবী (সা.)-এর নির্দেশনায় ইসলামের শিক্ষা প্রসারে জীবন বিলিয়ে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। বিশ্বাসঘাতকদের হাতে বন্দি হয়ে মৃত্যুর আগে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। নিম্নে তাঁর পুরো ঘটনা উল্লেখ করা হলো—

মহানবীর কাছে শিক্ষকের আবেদন : চতুর্থ হিজরিতে মহানবী (সা.)-এর কাছে আদল ও কাররাহ গোত্রের কিছু লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের মধ্যে অনেক মুসলিম আছেন। আপনি আমাদের কাছে সাহাবিদের একটি দল পাঠান, যারা আমাদের কোরআন ও ইসলামী শরিয়ত সম্পর্কে শেখাবে।

আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘মহানবী (সা.) তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ জন সাহাবিকে পাঠান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন, খুবাইব বিন আদি, মুরশিদ বিন আবু মুরশিদ, খালিদ বিন আবু বুকাইর, জায়েদ বিন দাসিনাহ (রা.) ও আবদুল্লাহ বিন তারিক (রা.)। তাদের মধ্যে নেতা ছিলেন আসিম বিন সাবিত আল আনসারি (রা.)।

সাহাবিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা : সাহাবিদের ক্ষুদ্র দলটি মক্কা ও উসফানের মধ্যবর্তী রাজি নামক স্থানে পৌঁছলে লিহয়ান গোত্র তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। তারা সাহাবিদের পদরেখা অনুসরণ করে কাছে চলে আসে। এদিকে মদিনা থেকে নিয়ে আসা খেজুর ও খাবার রসদের সন্ধান পেয়ে লিহয়ান গোত্রের লোকেরা বুঝতে পারে যে দলটি মদিনা থেকে এসেছে। এদিকে দলনেতা আসিম বিন সাবিত (রা.) কাফিরদের উপস্থিতি টের পেয়ে একটি টিলায় আশ্রয় নেন। অন্যদিকে গোত্রের লোকেরা তাদের ঘেরাও করে বলে, তোমরা নেমে আসো। তোমরা নিরাপদ থাকবে। আমরা তোমাদের কাউকে হত্যা করব না। আসিম বিন সাবিত বলেন, ‘একজন কাফিরের দায়িত্বে আমি অবতরণ করব না। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের পক্ষ থেকে মহানবী (সা.)-কে খবর দিন।’

খুবাইবকে যেভাবে বিক্রি করা হয় : অতঃপর তীরন্দাজ দলটি তীর নিক্ষেপ করে আসিম (রা.)-সহ সাতজনকে হত্যা করে। এরপর খুবাইব (রা.)-সহ তিনজন সাহাবি তাদের কথামতো নেমে আসে। তখন তাদের বন্দি করা হয়। সাহাবিদের একজন বলল, এটা প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাদের সঙ্গে যাব না। আমিও সঙ্গীদের মতো লড়াই করব। কাফিররা তাকেও হত্যা করে এবং খুবাইব ও ইবনে দাসিনাহকে নিয়ে যায়। মক্কায় গিয়ে উভয়কে বিক্রি করে দেয়। খুবাইব (রা.)-কে বনু হারেস বিন আমের ক্রয় করে। কারণ খুবাইব (রা.) বদরের যুদ্ধে হারেস বিন আমেরকে হত্যা করেছিল।

এদিকে কাফিররা খুবাইবকে হত্যার জন্য হারাম শরিফ থেকে বের করে নিয়ে যায়। তখন খুবাইব বলেন, আমাকে দুই রাকাত নামাজ আদায়ের সুযোগ দাও। সুযোগ পেয়ে তিনি দুই রাকাত নামাজ পড়েন। এরপর তিনি বলেন, ‘তোমরা আমাকে ভীত মনে না করলে আমি আরো দীর্ঘ নামাজ পড়তাম।’

মৃত্যুকালে কবিতা পাঠ : এরপর খুবাইব (রা.) একটি বিখ্যাত কবিতা পাঠ করেন, ‘আমার কোনো পরোয়া নেই, যখন আমি মুসলিম হয়ে মারা যাই, আমার হত্যাকাণ্ড কিভাবে হচ্ছে? তা মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনে হচ্ছে, তিনি চাইলে আমার দেহের ছিন্নভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বরকত দেবেন।’ এরপর তাঁকে ইবনুল হারিস হত্যা করে।

মহানবী (সা.)-এর ভালোবাসায় দৃঢ়তা : সাইদ বিন আমির আল জুমাহি (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমি খুবাইবের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উপস্থিত ছিলাম। কুরাইশের লোকেরা তাঁকে শূলে চড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, তুমি ভালো মনে করো যে মুহাম্মদ তোমার স্থানে থাকবে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর শপথ, আমি ভালো মনে করি না যে মুহাম্মদ (সা.)-এর গায়ে কোনো কাঁটা বিদ্ধ হোক।’

খুবাইবের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর রাসুল (সা.) সাহাবিদের তা শোনান। তখন আমর বিন উমাইয়া আল জমিরি (রা.) খুবাইবের মরদেহ দাফনের জন্য আসেন। মক্কায় এসে তিনি সবার অগোচরে রাতের আঁধারে কাঠের শূল থেকে মরদেহ জমিনে নামিয়ে রাখেন। কিন্তু এরপর আর তাঁকে দেখা যায়নি।

আমর বিন উমাইয়া বলেন, মনে হলো, জমিন তাঁর মরদেহ গিলে ফেলেছে। এরপর কখনো তাঁর মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
ধর্ম

কোরআনের আলোকে মুনাফিকদের অভ্যাস

কিছু অভ্যাস এমন আছে, যেগুলো মানুষকে মুনাফিকের কাতারে নামিয়ে দেয়। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত, এ ধরনের অভ্যাস পরিত্যাগ করা। নিম্নে পবিত্র কোরআনের আলোকে এমন কিছু মন্দ অভ্যাস তুলে ধরা হলো—

ইবাদতে অলসতা : ইবাদত মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। ইবাদতে অবহেলা ও অলসতা আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই কোনো অবস্থাতেই ইবাদতে অলসতা করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন তারা নামাজে দাঁড়ায় তখন শৈথিল্যের সঙ্গে দাঁড়ায়—শুধু লোকদেখানোর জন্য এবং আল্লাহকে তারা অল্পই স্মরণ করে।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১৪২)

ধোঁকা দেওয়া : মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে। আসলে তিনি নিজেদের ধোঁকায় ফেলে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৪২)

আল্লাহর বিধান অপছন্দ করা : মহান আল্লাহর দেওয়া বিধান অপছন্দ করা মুনাফিকের লক্ষণ। তাই মহান আল্লাহর কোনো বিধান অপছন্দ করা যাবে না। ইরশাদ হয়েছে, ‘এটা এ জন্য যে আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তারা তা অপছন্দ করেছে। কাজেই তিনি তাদের আমল নিষ্ফল করে দিয়েছেন।’ (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত : ৯)

কৃপণতা : আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার ক্ষেত্রে কৃপণতা মুনাফিকের অভ্যাস। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুনাফিক পুরুষরা ও মুনাফিক নারীরা একে অন্যের অনুরূপ। তারা অসৎ কর্মের নির্দেশ দেয়, সত্কর্ম থেকে বিরত রাখে এবং নিজেদের হাত (আল্লাহর পথে ব্যয় করা থেকে) গুটিয়ে রাখে।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬৭)

ওয়াদা ভঙ্গ করা : ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর কাছে অঙ্গীকার করেছিল, আল্লাহ নিজ কৃপায় আমাদের দান করলে আমরা অবশ্যই সদকা করব এবং অবশ্যই সত্কর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবো। অতঃপর যখন তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদের দান করেন, তখন তারা এ বিষয়ে কার্পণ্য করল এবং বিমুখ হয়ে গেল। পরিণামে তিনি তাদের অন্তরে মুনাফেকি রেখে দিলেন—আল্লাহর সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত। তারা আল্লাহর কাছে যে অঙ্গীকার করেছিল, তা ভঙ্গ করার কারণে এবং তারা যে মিথ্যা বলেছিল সে কারণে।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৭৫-৭৭)

মুমিনের বিপদে খুশি হওয়া : ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের মঙ্গল হলে তা তাদের কষ্ট দেয়, আর তোমাদের অমঙ্গল হলে তারা তাতে আনন্দিত হয়। তোমরা যদি ধৈর্যশীল হও এবং মুত্তাকি হও, তাহলে তাদের ষড়যন্ত্র তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তারা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে আছেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১২০)

আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ : ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি কি তাদের দেখেননি, যারা দাবি করে যে আপনার প্রতি যা নাজিল হয়েছে এবং আপনার আগে যা নাজিল হয়েছে তাতে তারা ঈমান এনেছে, অথচ তারা তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, যদিও সেটাকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর শয়তান তাদের ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে চায়। তাদের যখন বলা হয়, আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তার দিকে এবং রাসুলের দিকে এসো, তখন মুনাফিকদের আপনি আপনার কাছ থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখবেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ৬০-৬১)

সংশোধনের নামে ষড়যন্ত্র করা : কিছু মানুষ ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়। পবিত্র কোরআনে এই অভ্যাসকে মুনাফিকের অভ্যাস আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যখন তাদের বলা হয়, তোমরা জমিনে ফ্যাসাদ সৃষ্টি কোরো না, তারা বলে, আমরা শুধু সংশোধনকারী।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১১)

ভ্রষ্টতা পছন্দ করা : ইরশাদ হয়েছে, ‘এরাই তারা, যারা হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা কিনেছে। কাজেই তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি। আর তারা হিদায়াতপ্রাপ্তও নয়।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬)

মিথ্যা বলা : ‘তারা তাদের শপথকে ঢালরূপে ব্যবহার করে, আর তারা আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বিরত রাখে। তারা যা করছে, তা কত মন্দ!’ (সুরা : মুনাফিকুন, আয়াত : ২)

মহান আল্লাহ সবাইকে মুনাফিকদের অভ্যাস ত্যাগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Categories
ধর্ম

তাওবার নামাজ পড়ার নিয়ম

গুনাহ হয়ে গেলে তাওবার নিয়তে নামাজ পড়াকে তাওবার নামাজ বলে। গুনাহ সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নামাজ পড়া উচিত। বিগত জীবনের গুনাহ থেকে তাওবার নিয়তেও তা পড়া যায়। বিজ্ঞ আলেমদের মতে, তাওবার নামাজ পড়া মুস্তাহাব। কারণ বিভিন্ন হাদিসে তাওবার নামাজের ফজিলত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সাহাবায়ে কেরাম তাওবার নামাজ পড়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। আসমা ইবনুল হাকাম (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি আলী (রা.)-কে বলতে শুনেছি,…তিনি বলেন, আবু বকর (রা.) আমাকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সত্যই বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যখন কোনো বান্দা কোনো ধরনের গুনাহ করে উত্তমরূপে অজু করে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১)

আমাদের উচিত, কখনো কোনো গুনাহ সংঘটিত হয়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব মহান আল্লাহর কাছে তাওবা করা। এর একটি উত্তম পদ্ধতি হলো, উত্তমরূপে অজু করে দুই রাকাত নামাজ পড়ে তাওবা করা।

তাওবা করার সময়সীমা : তিন মুহূর্ত আসার আগ পর্যন্ত মহান আল্লাহ তার বান্দার তাওবা কবুল করেন। কিন্তু এরপর আর তাওবা কবুল করা হয় না। নিম্নে সেই তিন মুহূর্ত তুলে ধরা হলো—

ক. মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত। (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৮)

খ. আজাব চলে আসার আগ পর্যন্ত । (সুরা : মুমিনুন, আয়াত : ৮৫)

গ. পশ্চিমাকাশে সূর্যোদয় হওয়ার আগ পর্যন্ত। (মুসলিম, হাদিস : ৬৭৫৪)

তাওবার নামাজ পড়ার নিয়ম : তাওবার নামাজের পদ্ধতি ওপরে উল্লিখিত আবু বকর (রা.)-এর হাদিসে স্পষ্ট বর্ণিত আছে। প্রথমে উত্তমরূপে অজু করতে হবে। তারপর একাগ্রচিত্তে নফল নামাজের মতো দুই রাকাত নামাজ পড়বে। তাওবার নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সুরা নেই। তাই যেকোনো সুরা দিয়েই তাওবার নামাজ পড়া যায়। এই নামাজের অজু ও নামাজের মাঝখানে কোনো দুনিয়াবি কাজ বা কথা না বলা উত্তম। কারণ হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার মতো এভাবে অজু করবে, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে এবং এর মাঝখানে দুনিয়ার কোনো খেয়াল করবে না, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৫৯)। নামাজ শেষে আল্লাহর তাসবিহ পড়বে, আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং ইস্তেগফার পড়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।

তাওবার দোয়া : তাওবার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো, সাইয়েদুল ইস্তিগফার। নিম্নে তার উচ্চারণসহ অর্থ তুলে ধরা হলো, ‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খলাকতানি, ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিক মাসতাতা‘তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানা‘তু, আবু-উ লাকা বিনি‘মাতিকা আলাইয়া ওয়া আবু-উ বিজাম্বি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।’

অর্থ—হে আল্লাহ, আপনি আমার রব, আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আমাকে আপনি সৃষ্টি করেছেন, আমি আপনার বান্দা। আমি যথাসাধ্য আপনার সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকব। আমি আমার নিকৃষ্ট আমল থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই, আপনার যে অসংখ্য নিয়ামত ভোগ করছি এ জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। আমি আমার কৃত অপরাধ স্বীকার করছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। আপনি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৭০)

উল্লেখ্য, কারো এই দোয়া মুখস্থ করা সম্ভব না হলে সে নিজের ভাষায়ও মহান আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে তাওবা করতে পারবে। ইনশাআল্লাহ, মহান আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন।