Categories
ধর্ম

বিপদে যে দোয়া পড়তে হয়

উচ্চারণ : আল্লাহু আল্লাহু রব্বি লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।

অর্থ : আল্লাহ! আল্লাহ! আমার রব! তাঁর সঙ্গে আমি কাউকে শরিক করি না।

উপকার : আসমা বিনতে উমাইস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দেবো না, যা তুমি বিপদের সময় পাঠ করবে? তার তিনি এই দোয়াটি বলেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২৫)

Categories
ধর্ম

ভীতিকর পরিস্থিতিতে যে দোয়া পড়তে হয়

উচ্চারণ : ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গজবিহি, ওয়া শাররি ইবাদিহি, ওয়া মিন হামাজাতিশ শায়াতিনি ওয়া আঁইয়াহদুরুন।’

অর্থ : ‘আল্লাহর পূর্ণ কালিমাসমূহের দ্বারা তাঁর গজব ও তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট ও শয়তানের কুমন্ত্রণা ও আমার কাছে তার (শয়তানের) উপস্থিতি থেকে আশ্রয় চাইছি।’

উপকার : আমর ইবনে শুআইব (রহ.) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্র থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) তাদের ভীতিকর পরিস্থিতিতে এ বাক্যগুলোর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দিতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) এ বাক্যগুলো তার সাবালক সন্তানদের শেখাতেন এবং নাবালকদের জন্য লিখে তা তার গলায় ঝুলিয়ে দিতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮৯৩)

Categories
ধর্ম

নামাজের নিষিদ্ধ ও মাকরুহ সময়

এমন কিছু সময় আছে, যেসব সময় ফরজ, ওয়াজিব ও নফল কোনো ধরনের নামাজ আদায় করা জায়েজ নেই। এমনকি কাজা নামাজও পড়া যাবে না।

সূর্যোদয়ের সময়, যতক্ষণ তা পুরোপুরি উদয় হয়ে না যায়। (বুখারি, হাদিস : ১৫২৩)

সূর্য মধ্যাকাশে অবস্থানের সময়। যতক্ষণ পর্যন্ত তা ঢলে না পড়ে। (মুসলিম, হাদিস : ১৩৭৩)

সূর্য যখন হলুদ বর্ণ ধারণ করে তখন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে ওই দিনের আসর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত আদায় করতে পারবে। (বুখারি, হাদিস : ৫৪৫)

নামাজের নিষিদ্ধ সময়ে জানাজা এলে তা আদায় করতে পারবে। কিন্তু মাকরুহ হবে। সেরূপ কোনো ব্যক্তি এ সময় আয়াতে সিজদা পাঠ করলে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করতে পারবে। কিন্তু মাকরুহ হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ১৫৬, সহিহ বুখারি, হাদিস : ১২৩১, মুসলিম ১৩৭৩, সুরা : মুহাম্মদ : ৩৩)

যে সময় নফল নামাজ মাকরুহ

ফজর উদয় হওয়ার পর দুই রাকাত সুন্নত থেকে অতিরিক্ত পড়া মাকরুহ। (মুসলিম, হাদিস : ১১৮৫)

ফজর নামাজের পর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত। (বুখারি, হাদিস : ৫৫১)

আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত নামাজ পড়া মাকরুহ। (বুখারি, হাদিস : ৫৫১)

ইকামতের সময় নামাজ পড়া মাকরুহ। (মুসলিম, হাদিস : ১১৬০)

ঈদের নামাজের আগে ঈদগাহে কোনো নামাজ পড়া মাকরুহ।

ঈদের নামাজের পরে ঘরেও কোনো নামাজ নেই, ঈদগাহেও নেই। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১২৮৩)

সময় যদি এত কম হয় যে সুন্নত পড়তে গেলে ফরজ নামাজের সময় শেষ হয়ে যাবে, এমন সময় নামাজ পড়া মাকরুহ।

খুব ক্ষুধা ও খানার প্রতি তীব্র চাহিদা হলে সে সময় নামাজ পড়া মাকরুহ। এর ফলে খানার সঙ্গেই মন লেগে থাকবে, নামাজের সঙ্গে নয়। (মুসলিম, হাদিস : ৮৬৯)

প্রস্রাব-পায়খানার বেগ নিয়ে নামাজ পড়া মাকরুহ। (মুসলিম, হাদিস : ৮৬৯)

Categories
ধর্ম

ঈদে মিলাদুন্নবী ২০ অক্টোবর

বাংলাদেশের আকাশে ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৯ অক্টোবর শনিবার থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে।

ফলে আগামী ২০ অক্টোবর বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

সভায় জানানো হয়, চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের আকাশে কোথাও ১৪৪৩ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী ৮ অক্টোবর শুক্রবার পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী ৯ অক্টোবর শনিবার থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা করা হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি, ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০ অক্টোবর ২০২১ খ্রি. বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে।

সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আব্দুর আউয়াল হাওলাদার (দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব), ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. মো. মুশফিকুর রহমান (অতিরিক্ত সচিব), বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক আব্দুল্লাহ সাজ্জাদ (অতিরিক্ত সচিব), ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনিম হাসান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. নজরুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. ছাইফুল ইসলাম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. শাহেনূর মিয়াসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
ধর্ম

ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ

অর্থ : আল্লাহর নামে বের হলাম, আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, আল্লাহ ছাড়া কোনো আশ্রয়দাতা নেই এবং আল্লাহ ছাড়া কারো কোনো ক্ষমতা নেই।

সূত্র : আনাস বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি ঘর থেকে বের হয়, তখন সে এই দোয়া পড়বে। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪২৬)

Categories
ধর্ম

নামাজে সালাম ফেরানোর পর দোয়া

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া জালজালালি ওয়াল ইকরাম’।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ, তুমিই শান্তিময় এবং তোমার থেকে শান্তি আসে। তুমি কল্যাণময় এবং সন্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী।’

উপকার : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) নামাজের সালাম ফেরানোর পর এই দোয়া পাঠ করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫১২)

Categories
ধর্ম

নৌযানে আরোহণের দোয়া

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি মাজরেহা ওয়া মুরসাহা ইন্না রাব্বি লাগাফুরুর রহিম।

অর্থ : পবিত্র আল্লাহর নামেই গতি ও স্থিতি। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

উপকার : ইমাম জাসসাস (রহ.) বলেন, আল্লাহ আমাদের নুহ (আ.)-এর ভাষ্যে নৌযানে আরোহণের সময় এই আয়াতটি পড়ার শিক্ষা দিয়েছেন। (আহকামুল কোরআন : ৭/৯৮)

Categories
ধর্ম

হালাল জীবিকার ব্যবস্থা করা ফরজ

মহান আল্লাহ মানবজাতিসহ অগণিত সৃষ্টবস্তুর রিজিকের ব্যবস্থা করেছেন, সবার জন্য রিজিক নির্ধারিত করেছেন। তবে যারা হারাম রিজিক ভক্ষণ করে, তাদের ওই পরিমাণ হালাল রিজিক তাদের কমিয়ে দেওয়া হয়। হালাল রিজিক ভক্ষণ করা ঈমান রক্ষার জন্য জরুরি। হালাল উপার্জনের মাধ্যমে গ্রহণ করা খাবার খেয়ে নেক আমল করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়। হারাম রিজিক ভক্ষণ দ্বারা ঈমান ও আমল নষ্ট হয়। তাই মহান আল্লাহ হালাল রিজিক ভক্ষণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। নিম্নে হালাল রিজিক গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো—

বৈধ রিজিক তালাশের নির্দেশ : বৈধ রিজিকের অন্বেষণ করা ফরজতুল্য। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহকে বেশি পরিমাণ স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমুআ, আয়াত : ১০)। এ আয়াতে মহান আল্লাহ নামাজ সম্পন্ন করার পর হালাল রিজিক তালাশের নির্দেশ দিয়েছেন। হালাল রিজিক সন্ধানের একটি উপায় হলো ব্যবসা করা। মহান আল্লাহ সঠিক পন্থায় ব্যবসা করা হালাল ঘোষণা করেছেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল ও সুদকে হারাম ঘোষণা করেছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৭৫)

নবীদের জন্য হালাল রিজিক গ্রহণের নির্দেশ : পবিত্র কোরআনে নবীদের প্রতি হালাল রিজিক সন্ধানের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, ‘হে রাসুলরা, তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো ও সত্কর্ম করো। তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আমি অবগত।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৫১)

হালাল ব্যবসায় মানুষের সিংহভাগ রিজিক : ইমাম গাজালি (রহ.) বর্ণনা করেন, ‘তোমরা ব্যবসা-বাণিজ্য করো। কেননা, তাতে ৯ দশমাংশ জীবিকা আছে।’ (ইহইয়াউ উলুমিদ্দিন, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৪)

সত্যবাদী ব্যবসায়ীর জন্য সুসংবাদ : মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আমানতদার সত্যবাদী ব্যবসায়ী পরকালে নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গী হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ১২০৯)

নবীরা হালাল উপার্জন করতেন : ইমাম বুখারি (রহ.) বর্ণনা করেন, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, প্রত্যেক নবী ছাগল চরাতেন। সাহাবিরা বলেন, আপনিও কি এমনটি করতেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি মক্কাবাসীর ছাগল কয়েক কিরাত (আরবের পরিমাপ বিশেষ) দ্বারা চরিয়েছি।’ (আল জামে আস সহিহ, হাদিস নম্বর : ২২৬২)

মিকদাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো ব্যক্তি নিজের হাতের উপার্জনের চেয়ে উত্তম খাবার খায় না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) তাঁর নিজের হাতের উপার্জন থেকে খেতেন।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ২০৭২)

ভূমির মালিককে চাষ করার নির্দেশ : মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যার জমি আছে সে নিজেই চাষ করবে।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ২৩৪০)

অন্য হাদিসে এসেছে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যেকোনো মুসলিম কোনো গাছ রোপণ করবে বা ক্ষেত-খামার করবে তার থেকে কোনো পাখি খাবে বা মানুষ বা প্রাণী খাবে তা দ্বারা সে সদকার পুণ্য পাবে।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ২৩২০)

হারাম রিজিক বর্জনের নির্দেশ : জাবির বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হে লোকসকল, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো আর সুন্দরভাবে ইবাদত করো। কেননা, কোনো আত্মা তার রিজিক পরিপূর্ণ হওয়া ছাড়া ইন্তেকাল করবে না—যদিও তাতে দেরি হয়। তাই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো আর সুন্দরভাবে তালাশ করো। তোমরা হালালকে গ্রহণ করো ও হারামকে বর্জন করো।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২১৪৪)

হারাম গ্রহণ করলে হালাল রিজিক কমে যায় : হিলয়াতুল আউলিয়াতে আসবাহানি (রহ.) লিখেছেন, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, যেকোনো মুমিন বা ফাসিকের রিজিক হালালভাবে আল্লাহ লিপিবদ্ধ করেন। যদি সে তার কাছে রিজিক আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করে, তাহলে আল্লাহ তাকে তা দেন। আর যদি অধৈর্য হয়ে হারাম ভক্ষণ করে, আল্লাহ তার হালাল রিজিক থেকে কমিয়ে দেন।’ (হিলয়াতুল আউলিয়া ও তাবাকাতুল ফুকাহা, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩২৬)

হালাল উপার্জন জান্নাতে প্রবেশের কারণ : আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি হালাল রিজিক ভক্ষণ করল আর সুন্নত মতে আমল করল এবং মানুষ তার কষ্ট থেকে নিরাপদ রইল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তখন এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল, এ ধরনের লোক বর্তমানে অনেক। তিনি বলেন, আমার পরে তা কয়েক যুগ পাওয়া যাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫২০)

অন্য হাদিসে এসেছে, জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.)-এর দরবারে নুমান বিন কাউকাল (রা.) এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি কি বলেন, যদি আমি ফরজ নামাজ আদায় করি, হারামকে হারাম মনে করি ও হালালকে হালাল মনে করি—আমি কি জান্নাতে যাব? নবী (সা.) বলেন, হ্যাঁ যাবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৫)

হালাল জীবিকা তালাশ করা ফরজ : নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হালাল রিজিক তালাশ করা অন্য ফরজের পরে ফরজ।’ (আল মুজামুল কবির, হাদিস : ৯৯৯৩)

সারকথা হলো, হালাল রিজিক তালাশ করা প্রত্যেক মানুষের ওপর ফরজ। হারাম রিজিক গ্রহণ করলে পরকালে এর জবাবদিহি করতে হবে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Categories
ধর্ম

ইবাদতে আগ্রহ বাড়ার দোয়া

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা জিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।

অর্থ : হে আল্লাহ, আপনার জিকির করতে, আপনার শুকরিয়া জ্ঞাপন করতে এবং সুন্দরভাবে আপনার ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন।

উপকার : মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর হাত ধরে বলেন, হে মুআজ, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসি, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসি। তিনি বলেন, হে মুআজ, আমি তোমাকে অসিয়ত করছি, তুমি প্রত্যেক নামাজের পর এ দোয়া (উপরোক্ত) কখনো পরিহার করবে না। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২২)

Categories
ধর্ম

যে নবীরা মসজিদ নির্মাণ করেছেন

ইসলামে মসজিদ নির্মাণের বিশেষ গুরুত্ব আছে। হাদিস শরিফে মসজিদ নির্মাণকে জান্নাতে গৃহ নির্মাণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। মসজিদ নির্মাণের মতো পুণ্যময় কাজ করেছেন নবীরা। নিম্নে যেসব নবী মসজিদ নির্মাণ করেছেন, তাঁদের বিষয়ে আলোচনা করা হলো—

আদম (আ.) : কাবাগৃহ সর্বপ্রথম ফেরেশতারা নির্মাণ করেন। অতঃপর আদম (আ.) তা পুনর্নির্মাণ করেন। কাবা নির্মাণের ৪০ বছর পর আদম (আ.) অথবা তাঁর কোনো সন্তানের দ্বারা বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করা হয়। (বুখারি, হাদিস : ৩৪২৫; মুসলিম, হাদিস : ৫২০)

ইবরাহিম ও ইসমাঈল (আ.) : প্রথম রাসুল নুহ (আ.)-এর সময়ে প্লাবনে বায়তুল্লাহর প্রাচীর বিনষ্ট হয়ে যায়। তবে এর ভিত্তি আগের মতো থেকে যায়। পরবর্তী সময়ে আল্লাহর হুকুমে একই ভিত্তি-ভূমিতে ইবরাহিম (আ.) তা পুনর্নির্মাণ করেন। ইবরাহিম (আ.)-কে কাবাগৃহ নির্মাণ করতে তাঁর পুত্র ইসমাঈল (আ.) সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম ও ইসমাঈল বায়তুল্লাহর ভিত্তি উত্তোলন করেছিল, তখন তারা প্রার্থনা করেছিল, হে আমাদের পালনকর্তা, আপনি আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১২৭)

দাউদ (আ.) : ইয়াকুব (আ.) কর্তৃক বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণের প্রায় হাজার বছর পর দাউদ (আ.) পুনরায় তা নির্মাণ শুরু করেন এবং তাঁর পুত্র সুলায়মান (আ.)-এর কাজ সমাপ্ত করেন। (নবীদের কাহিনি, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫৯)

আর সুলায়মান (আ.) জিনদের দ্বারা মসজিদের কাজ সম্পন্ন করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যখন আমি (আল্লাহ) সুলায়মানের মৃত্যু ঘটালাম, তখন তার মৃত্যুর খবর জিনদের কেউ জানায়নি ঘুণপোকা ছাড়া—যারা সুলায়মানের লাঠি খেয়ে যাচ্ছিল। অতঃপর যখন সে মাটিতে পড়ে গেল, তখন জিনেরা বুঝতে পারল যে যদি তারা অদৃশ্যের জ্ঞান রাখত, তাহলে তারা (বায়তুল মুকাদ্দাস নির্মাণের) লাঞ্ছনাকর শাস্তির মধ্যে আবদ্ধ থাকত না।’ (সুরা সাবা, আয়াত : ১৪)

মুহাম্মদ (সা.) : মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় গিয়ে প্রথমে কোবা নামক স্থানে ১৪ দিন অবস্থান করেন এবং সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এ মসজিদ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই যে মসজিদ প্রথম দিন থেকে তাকওয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে, সেটাই তোমার (সালাতের জন্য) দাঁড়ানোর যথাযোগ্য স্থান। সেখানে এমন সব মানুষ আছে, যারা উত্তমরূপে পরিশুদ্ধ হওয়াকে ভালোবাসে। বস্তুত আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১০৮)

কোবা থেকে মদিনায় যাওয়ার পথে আল্লাহ জুমার সালাত ফরজ করেন। ইয়াসরিবের উপকণ্ঠে পৌঁছে বনু সালেম বিন আওফ গোত্রের ‘রানুনা’ উপত্যকায় তিনি প্রথম জুমার সালাত আদায় করেন, যাতে ১০০ জন মুসল্লি শরিক হন। এটা ছিল রাসুল (সা.) কর্তৃক প্রথম জুমা। (আল-বিদায়াহ, আয়াত : ২/২১১)

রাসুল (সা.) মদিনায় গিয়ে মসজিদে নববী নির্মাণ করেন এবং সাহাবিরা তাঁর সঙ্গে তাঁকে সহযোগিতা করেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, (মসজিদে নববী নির্মাণের সময়) আমরা একটা একটা করে কাঁচা ইট বহন করছিলাম আর আম্মার দুটি দুটি করে কাঁচা ইট বহন করছিল। নবী করিম (সা.) তা দেখে তাঁর দেহ থেকে মাটি ঝাড়তে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, আম্মারের জন্য আফসোস, তাকে বিদ্রোহী দল হত্যা করবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৪৭)