Categories
ধর্ম

বিশ্বের প্রভাবশালী মুসলিমদের তালিকা

জর্দানভিত্তিক রয়্যাল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার (আরআইএসএসসি) বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিম নেতার নাম প্রকাশ করেছে। তালিকায় বিভিন্ন দেশের মুফতিরা স্থান পেয়েছেন।

সমাজসেবা, শিক্ষা, গবেষণা, রাজনীতি, নেতৃত্ব, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়।

হাদিস, ইসলামি আইনশাস্ত্র ও ইসলামি অর্থনীতি নিয়ে গবেষণাসহ নানা কাজের প্রেক্ষিতে শীর্ষস্থানীয় চিন্তাবিদ হিসেবে তালিকায় প্রথম স্থান লাখ বরেছেন পাকিস্তানের বিচারপতি শায়েখ মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানি।

ওই তালিকায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ ও যুক্তরাষ্ট্রের নারী কংগ্রেস রাশিদা তালিব ‘ওমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।

তালিকায় দ্বিতীয় নম্বরে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। তৃতীয় স্থানে আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শায়েখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। চতুর্থ স্থানে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইবনে আলী হুসেইন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোগান ষষ্ঠ, সপ্তম স্থানে রয়েছেন মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মুহাম্মদ, অষ্টম স্থানে ইরাকের আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হুসেইন সিস্তানি, নবম স্থানে ইয়ামেনের দার আল মুস্তফার পরিচালক শেখ আল হাবিব উমর বিন হাফিজ এবং দশম স্থানে রয়েছেন ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাদ আল সাদ।

তালিকায় ইন্দোনেশিয়া প্রেসিডেন্ট জোকো উইদাদো ১৩তম, আল আজহার বিশ্ব বিদ্যালয়ের গ্র্যান্ড মুফতি ড. আহমাদ তাইয়্যেব ১৪তম, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান ২৪তম, সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আলে শায়েখ ২৬তম ও ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতা মাওলানা মাহমুদ মাদানি রয়েছেন ২৮তম স্থানে রয়েছেন।

এ ছাড়া তালিকায় পাকিস্তান তাবলিগের বিশিষ্ট দাঈ মাওলানা তারিক জামিল ৩৬তম, মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ৪৪তম, মিসরীয় ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ ৪৬তম ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ৪৭তম স্থানে রয়েছেন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
ধর্ম

এবার হচ্ছে না তাজিয়া মিছিল

প্রতিবছর দেশের শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারিরা ১০ই মহররমে বের করেন তাজিয়া মিছিল। তবে মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এবার রাজপথে বিশাল আয়োজনে হচ্ছেনা তাজিয়া মিছিল। তবে বাইরের আয়োজনের বদলে ১০ই মহররম ছোট পরিসরে বিভিন্ন ইমমাবাড়ার ভেতরেই করা হচ্ছে আশুরার মিছিল।

ঢাকার ৪০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম তাজিয়া মিছিল বের করতে পারছেননা শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারিরা। মানতে কষ্ট হলেও জনগণের স্বার্থে সরকারের আদেশ মেনে নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তারা।

তবে রাজপথে তাজিয়া মিছিল না করলেও ইমামবাড়ার ভেতরেই স্বল্প পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে তাজিয়া মিছিল। এ আয়োজন রাজধানীর হোসাইনি দালান ইমামবাড়াও ভেতরে।

হোসাইনী দালান ইমামবাড়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম এম নাকী আসলাম বলেন, যেহেতু করোনার কারণে আমরা মিছিল নিয়ে বাহিরে যেতে পারবো না। তাই এর ভিতরেই আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মিছিল করবো। এই মিছিল দালানের উত্তর গেট দিয়ে বের হয়ে দক্ষিণ গেটে গিয়ে শেষ হবে।

একই সিদ্ধান্তের কথা জানা শিয়া মসজিদ ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষ।

তাই ১০ই মহররমকে কেন্দ্র করে ইমামবাড়া কেন্দ্রীক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। র‌্যাব পুলিশের পাশাপাশি রয়েছেন সাদা পোশাকেরও গোয়েন্দারাও।

ভয়েস টিভি/টিআর

Categories
ধর্ম

২৯-৩০ আগস্ট এবারের আশুরার রোজা

৩০ আগস্ট রোববার ১৪৪২ হিজরি সনের ১০ মহররম। সেই দিন দেশে পালিত হবে পবিত্র আশুরা। প্রতিবছর মহররম মাসে দুদিন আশুরার রোজা রাখেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। এবারের আশুরার রোজা হবে ২৯-৩০ আগস্ট।

এ মাসকে সম্মান দেখানোর অন্যতম কারণ হলো- মাসটির নাম ’মহররম’। এর অর্থ- সম্মানিত। আর হাদিসেও এ মাসটিকে আল্লাহর মাস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এটি (মহররম) শাহরুল্লাহ তথা আল্লাহর মাস।’ (মুসলিম)

মহররম মাসের অন্যতম আমল রোজা পালন করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরায় নিজে রোজা রেখেছেন এবং সাহাবাদের রোজা রাখতে বলেছেন। বর্ণনা করেছেন আশুরার রোজার অসামান্য ফজিলত ও মর্যাদা।

আশুরার রোজা রাখার কারণ বর্ণনা ও নির্দেশ: হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় এসে দেখলেন, ইয়াহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিসের রোজা?

তারা (ইয়াহুদিরা) বলল, এটা একটা উত্তম দিন। আল্লাহ তাআলা এ দিন বনি ইসরাইল জাতিকে তাদের দুশমন (ফেরাউন)-এর আক্রমণ থেকে নিরাপদ করেছেন। তাই (হজরত) মুসা আলাইহিস সালাম এ দিন রোজা রেখেছিলেন।

বিশ্বনবির নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরার রোজা রাখার সময়টি ঘনিয়ে এসেছে। ১০ মহররম ঠিক রেখে আগের কিংবা পরের দিন মিলিয়ে নেয়া উত্তম। সে হিসেবে ২৯-৩০ আগস্ট শনি ও রোববার রোজা রাখা যায়। আবার চাইলে ৩০-৩১ আগস্ট রোববার ও সোমবার রোজা রাখা যায়।

ভয়েস টিভি/টিআর

Categories
ধর্ম

নবীজির জীবনে ব্যবসা-বাণিজ্য

পুরো পৃথিবী সৃষ্টিকারী এবং প্রতিপালনকারী মহান আল্লাহ। রুটি-কাপড় এবং বাসস্থান হল মানুষের মৌলিক প্রয়োজন।

প্রয়োজন পুরো করার জন্য মানুষ বিভিন্ন উপায়ে অর্থ উপার্জন করে। তন্মধ্যে ব্যবসা হল সবচেয়ে উত্তম এবং শ্রেষ্ঠ।

রিজিক উপার্জনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য করেনি ইসলাম। তবে যে পেশাই অবলম্বন করা হোক তা যেন হালাল হয় সেটার ওপরই জোড় দিয়েছে ইসলাম। হালাল রিজিক উপার্জন করাকে ইসলাম ইবাদত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ফরজ ইবাদতসমূহের (নামাজ, রোজা, জাকাত ইত্যাদি) পরে হালাল উপার্জন করাও একটি ফরজ এবং ইবাদতের গুরুত্ব রাখে।’

অন্য হাদিসে এসেছে, ‘কোনো মানুষ এর চেয়ে উত্তম উপার্জন খায়নি যা সে নিজ হাতে উপার্জন করে খায়। নবী দাউদ (আ.)ও নিজ হাতের উপার্জন খেতেন।’ (সহিহ বোখারি)

রিজিক অনুসন্ধানের উত্তম মাধ্যম ব্যবসা

রিজিক অনুসন্ধানের জন্য হুকুম করেছেন মহান আল্লাহ এবং তার রাসূল (সা.)। উপার্জনের গুরুত্ব এবং ফজিলতের দ্বারাই অনুমিত হয় যে, প্রত্যেক নবীই কোনো না কোনো ব্যবসা করতেন।

হজরত আদম (আ.) কৃষি কাজ করতেন। হজরত ইদরিস (আ.) সেলাই কাজ করতেন। হজরত দাউদ (আ.) লোহার বর্ম বানাতেন। আমাদের নবীজি (সা.)ও নিজে ব্যবসা করেছেন।

ব্যবসাকে উপার্জনের সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম আখ্যা দেয়ার বড় কারণ এটাই যে, নবীজি (সা.) স্বয়ং নিজে ব্যবসা করেছেন। তিনি অন্য আরেকজনের সঙ্গে মিলে শেয়ারে ব্যাপক পরিসরে ব্যবসা করেছেন।

মুদারাবা তথা ব্যবসার মাল আদান-প্রদান করে লাভ নির্দিষ্ট হারে বণ্টন করে নেয়া। এ ধরনের ব্যবসাও করেছেন।

নবুওয়াত লাভ করার পূর্বে নবীজি (সা.) মুদারাবার ভিত্তিতে ব্যবসা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে সায়েব (রা.)-এর সঙ্গে শেয়ারে ব্যবসা করেছেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে সায়েব (রা.) বলেন, আমি জাহেলিয়াতের যুগে নবীজির ব্যবসার শেয়ার ছিলাম। আমি যখন মদিনায় গেলাম তখন নবীজি (সা.) বললেন, আমাকে চিন? বললাম, কেন চিনব না?

আপনি তো আমার অনেক ভালো ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। না কোনো অঙ্গীকার ভঙ্গ করতেন, না কোনো কিছুতে ঝগড়া করতেন!’ (খাসায়েসে কুবরা, উসদুল গাবাহ)

উপার্জনের অনেক রকম পদ্ধতি আছে। বৈধ পন্থায় রিজিক অনুসন্ধান করাকে উত্তম বলেছেন মহান আল্লাহ।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সূরা জুমু‘আ, আয়াত : ১০)

ব্যবসা-বাণিজ্যের ফজিলত

সৎ ব্যবসায়ীর শান-মর্যাদা বর্ণনা করে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সত্যবাদী আমানতদার ও বিশ্বাসী ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে নবীগণ সিদ্দিকগণ এবং শহীদগণের দলে থাকবেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ১২০৯)

রিজিকের ১০টি অংশ। তন্মধ্যে ৯টি অংশ ব্যবসা-বাণিজ্যে নিহিত। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘পেশাদার মুসলমানকে আল্লাহতায়ালা ভালোবাসেন।

রুটি-রুজির ব্যবস্থা করা মানুষের ওপর ফরজ। মুত্তাকী বান্দাদের নিকট হালাল রিজিক উপার্জন ঈমানের অংশ। জীবন-যাপনে সঙ্কীর্ণতা ইজ্জত-সম্মানের জন্য কলঙ্ক। ব্যবসা-বাণিজ্যে মুসলমানদের অবহেলা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।

হালাল ধনসম্পদ উত্তম জিনিস

নবী কারিম (সা.) হজরত আমর ইবনুল আস (রা.)কে বলেছেন, আমি চাই তোমার উপযুক্ত ধনসম্পদ অর্জন হোক। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ধনসম্পদের জন্য মুসলমান হইনি। আমি আমার দিলের টানে মুসলমান হয়েছি।

নবীজি (সা.) বললেন, হালাল ধনসম্পদ অনেক উত্তম জিনিস।’ (মুসনাদে আহমদ)

ব্যবসার উদ্দেশ্য অনেক ব্যাপক

ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য শুধু মুনাফা অর্জন নয় বরং এর দ্বারা মানুষের সঙ্গে পরিচিতি বাড়বে। তখন তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা। আন্তরিকতা দেখানো এবং হাস্যোজ্জ্বলভাবে কথা বলা উচিত। যাতে অন্যদের অন্তরে আপনার ইজ্জত-সম্মান এবং ভালোবাসাও ঠিক থাকে।

তারা আপনার কোনো কথা সহজে মান্য করে। তাহলে ইসলামের সৌন্দর্য অন্যদের কাছে তুলে ধরা সহজ হবে। ঈমানদারীর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করার মধ্যে আল্লাহপাক অগণিত রিজিক দানের ওয়াদা করেছেন।

সৎ ব্যবসায়ীর মর্যাদা

সৎ ব্যবসায়ীর শান-মর্যাদা বর্ণনা করে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সত্যবাদী আমানতদার ও বিশ্বাসী ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে নবীগণ সিদ্দিকগণ এবং শহীদগণের দলে থাকবেন।’ (জামে তিরমিজি, দারাকুতনি ও দারেমি)

ব্যবসা পছন্দ আল্লাহপাকের

হালাল রিজিক উপার্জনের জন্য যে পন্থাই অবলম্বন করা হোক এটা পছন্দ করেন মহান রাব্বুল আলামিন। যে ব্যক্তি নিজের পরিবার-পরিজনের পেট চালানোর জন্য কষ্ট করে সে যেন আল্লাহর রাস্তায় আছে।

আর যে ব্যক্তি নিজের বৃদ্ধ পিতা-মাতার পেট চালানোর জন্য কষ্ট করে এবং মানুষের কাছে যাতে হাত পাততে না হয় সে জন্য হালাল উপার্জন করে সেও আল্লাহর রাস্তায় আছে।’ (তাবরানি; আততারগিব ওয়াত তারহিব)

আখেরাতের জন্যও সম্পদ থাকা জরুরি

আখেরাতে উত্তম জীবন-যাপনের জন্যও ধনসম্পদ থাকা জরুরি। যাতে আল্লাহর সৃষ্টিজীব এবং নিজের অধীনদের ওপর মন খুলে খরচ করা যায়। বর্তমানে মুসলমানদের মধ্যে সবচে বেশি মানুষ অকর্মণ্য। মুসলমানদের জন্য উচিত ব্যবসা-বাণিজ্যে আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসা।

কেননা ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। এতে এগিয়ে আসলে ইনশাআল্লাহ অকর্মণতাও দূর হবে। জীবনেও ফিরে আসবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য।

ব্যবসা-বাণিজ্যে ধোঁকা-প্রতারণা থেকে বেঁচে থাকা

ব্যবসা, কারিগরি এবং পেশা অবলম্বনের অনেক ফজিলত রয়েছে। কিন্তু এ সমস্ত ফজিলতগুলো ঐ ব্যবসায়ীর জন্য যিনি ইসলামী নীতিমালা এবং নবীজি (সা.)-এর নির্দেশিত পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবসা করবে।

ধোঁকাবাজ মুসলমান হতে পারে না। ধোঁকা দেয়া, মিথ্যা বলা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। প্রকৃতপক্ষে ধোঁকাদাতা খোদ নিজেকেই ধোঁকা দেয়।

নবী কারিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ধোঁকা দেয় ও প্রতারণা করে সে আমার দলভুক্ত নয়।’ (সহিহ বোখারি ও সহিহ মুসলিম)

তাই একজন মুসলমান ব্যবসায়ীকে ধোঁকা, প্রতারণা থেকে সব সময় বেঁচে থাকতে হবে। এ ব্যাপারটা মানতে পারলে ব্যবসায়ীর সততা এবং ঈমানদারীর চর্চা অব্যাহত থাকে।

সবচে বড় কথা হল, এতে আল্লাহর রহমত এবং বরকত হয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘হালাল যদিও কম হয়, কিন্তু এতে বরকত আছে।’

পণ্য বিক্রি করার জন্য মিথ্যা না বলা

সূরা আলে ইমরানের ৬১নং আয়াতে বলা হয়েছে, মিথ্যার ওপর অভিশাপ দিয়েছেন মহান আল্লাহ।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ব্যবসায়ী গোনাহগার এবং অসভ্য। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ব্যবসা-বাণিজ্যকে কি আল্লাহ হালাল করেননি?

নবীজি (সা.) উত্তরে বললেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু অধিকাংশ ব্যবসায়ী মিথ্যা কসম করে। নিজের পণ্যের ব্যাপারে মিথ্যা মিথ্যা বিবরণ দেয়। এভাবে অধিকাংশ মানুষ গোনাহগার হয়ে যায়। আল্লাহর পানাহ! আল্লাহর পানাহ! (মুসনাদে আহমদ)

আজকাল মুসলমান ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক পিছিয়ে। যারাও বা ব্যবসা করছেন তারাও ইসলামের নির্দেশনা এবং নবীজি (সা.)-এর আদর্শের মূলনীতি জানেন পর্যন্ত না। জানলেও আমলে নেন না।
মুসলমানদের উচিত নবীজি (সা.)-এর ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত নির্দেশনা অধ্যয়ন করা। ইসলামের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা। তাহলে ইনশাআল্লাহ সফলতা আমাদের পদচুম্বন করবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে নবীর সুন্নত ব্যবসাকে আপন করে নেয়ার এবং ঈমানদারী, চেষ্টা-প্রচেষ্টা, মন দিয়ে ইসলামের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবসা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: মুহাদ্দিস জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম বাগে জান্নাত, চাষাড়া, নারায়ণগঞ্জ

Categories
ধর্ম

নতুন কাপড় পরিধানের দোয়া

মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতিটি কাজে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন। যাতে বান্দাকে পরকালে নাজাত দান করতে পারেন।

তাইতো কোরআন ও হাদিসে বান্দার প্রায় প্রতিটি কর্মের জন্য রয়েছে নির্ধারিত দোয়া ও ইবাদত। তেমনি নতুন কাপড় পরিধানেও রয়েছে দোয়া।

কোরআন মাজিদের এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা পোশাকের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছি, তোমাদের দেহের যে অংশ প্রকাশ করা দোষণীয় তা ঢাকার জন্য এবং তা সৌন্দর্যেরও উপকরণ। বস্তুত তাকওয়ার যে পোশাক সেটাই সর্বোত্তম। এসব আল্লাহর নির্দেশনাবলির অন্যতম, যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে। (সুরা: আরাফ, আয়াত: ২৬)

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি কাসানি মা উয়ারি বিহি আওরাতি ওয়া আতাজাম্মালু বিহি ফি হায়াতি।

অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাকে কাপড় পরিয়েছেন, যা দিয়ে আমি লজ্জাস্থান ঢাকি এবং জীবনে সৌন্দর্য লাভ করি।

সূত্র: আবু উমামা (রা.)-এর বর্ণনা থেকে বর্ণিত, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) নতুন কাপড় পরিধান করার সময় এই দোয়া পড়তেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৬০)

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
ধর্ম

সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত ধর্মসচিব

ঢাকা: ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ২৩ আগস্ট রোববার সকালে ধর্মসচিবের একান্ত সচিব (পিএস) মো. যুবায়ের এ তথ্য জানান।

পিএস জানান, ২২ আগস্ট শনিবার ধর্মসচিব নূরুল ইসলামের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। সেই সাথে তার এক সন্তান ও স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি এখন কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মো. যুবায়ের বলেন, শনাক্ত হওয়ার পর শনিবারই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে তিনি ভালো আছেন, তার তেমন কোনো শারীরিক জটিলতা নেই।

দ্রুত সুস্থতার জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

ভয়েস টিভি/টিআর

Categories
ধর্ম

৩০ আগস্ট পবিত্র আশুরা 

ঢাকা: আজ শুক্রবার আরবি নতুন বছর ১৪৪২ হিজরি। আগামী ৩০ আগস্ট রোববার ১০ মহররম। সেই দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে সভা শেষে এ কথা জানানো হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

সভায় অতিরিক্ত সচিব জানান, সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের আকাশে হিজরি ১৪৪২ সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার থেকে মহররম মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ৩০ আগস্ট  হবে ১০ মহররম। সেই দিন দেশে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। হিজরি সনের প্রথম মাস হচ্ছে মহররম।

কারবালা প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এর শাহাদাতবরণের শোকাবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মূলত পালিত হয় আশুরা। তবে ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র আশুরা অসংখ্য তাৎপর্যময় ঘটনায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।

ভয়েস টিভি/টিআর

Categories
ধর্ম সারাদেশ

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার মামলা

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে চট্টগ্রামের একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

১৯ আগস্ট বুধবার সকালে বিচারক আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে (সিএমএম আদালত-২) মামলাটি দায়ের করেন বিশ্ব সনাতন ঐক্যের সমন্বয়ক ও স্থানীয় সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ।

বিপ্লব পার্থ নিজেই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিকেলে আদেশের জন্য রেখেছেন বলেও জানান তিনি।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ই আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মানববন্ধনে ডা. জাফরুল্লাহ হিন্দু ধর্মের দুটি গ্রন্থ রামায়ন এবং মহাভারত নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেন। এসব ধর্মগ্রন্থ নাকি মিথ্যাচার ও প্ররোচনায় ভরপুর? এতে সনাতন ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানি হয়েছে।

ভয়েস টিভি/নিজস্ব প্রতিবেদক/টিআর

Categories
ধর্ম

বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীতে বায়তুল মুকাররমে কোরআন খতম

ঢাকা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে ১০০ বার কোরআন খতম, আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক সচিব মো. নূরুল ইসলাম।

শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দসহ ১৫ই আগস্টের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় ১০০ জন কোরআনে হাফেজের মাধ্যমে ১০০ বার পবিত্র কোরআন খতম করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার ও এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম, পরিচালক মোহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার ও সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

খতমে কোরআন ও আলোচনা সভার পর জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান।

ভয়েস টিভি/নিজস্ব প্রতিবেদক/টিআর

Categories
ধর্ম

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

ঢাকা : মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ১ আগস্ট শনিবার যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশের মুসলমানরা উদযাপন করছেন কোরবানির ঈদ। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ মোতাবেক পশু কোরবানি করছেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। এসময় মুকাব্বির হিসেবে ছিলেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী কাজী মাসুদুর রহমান।

নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। করোনার কারণে নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকলেও পরস্পরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এর আগে জাতীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন মুসল্লিরা। প্রথম জামাতে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরাও অংশ নেন।

এদিকে বায়তুল মোকাররমে ঈদের আরও পাঁচটি জামাত পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী হাবিবুর রহমান মেশকাত।

তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা ইসহাক।

চতুর্থ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন জাতীয় মসজিদের চিফ খাদেম মো. শহীদুল্লাহ।

পঞ্চম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খান। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন জাতীয় মসজিদের খাদেম হাফেজ মো. আব্দুল মান্নান।

ঈদুল আজহার ষষ্ঠ ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক উপ-পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রব মিয়া। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন জাতীয় মসজিদের খাদেম হাফেজ মো. আব্দুর রাজ্জাক।

ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে এসে নামাজ আদায়ের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এবার ঈদের ছুটি ৩ দিন ঘোষণা করেছে সরকার। ঈদ উপলক্ষে আজ ৩১ জুলাই, ১ আগস্ট শনিবার ঈদের দিন এবং ২ আগস্ট রোববার ছুটি থাকবে। ছুটির সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বাধ্যতামূলক কর্মস্থলে থাকতে হবে। তারা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে ঈদুল ফিতরের মতো এই ঈদেও সরকারের নির্দেশনায় খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ঈদ জামাত হচ্ছে এলাকার মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে; কোলাকোলি এবং হাত মেলানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রণালয় জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবার পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজের জামায়াতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লীরা প্রত্যেকে নিজ-নিজ দায়িত্বে বাসা থেকে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

প্রত্যেককে নিজ-নিজ বাসা থেকে ওযু করে মসজিদে আসবেন এবং ওযু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদে ওযুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।

জামায়াতে আসা মুসল্লীকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মুসল্লীরা মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করতে পারবেন না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে আরও বলা হয়, শিশু, বৃদ্ধ, যে কোন ধরণের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ করবেন না। এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না। হচ্ছে না শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদ জামাতও।

প্রসঙ্গত, প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজের ছেলে হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপি মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। এজন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত। সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় শনিবার দিনের শুরুতেই মসজিদে সমবেত হবেন এবং ঈদুল আজহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। তবে এবার করোনা ও বন্যার মতো দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে ভিন্ন পরিবেশে কুরবানীর ঈদ হওয়ায় অন্যান্য বারের চেয়ে পশু কোরবানি কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সামর্থবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে দরিদ্র-দু:স্থরাও বঞ্চিত হবেন না। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির সমুদয় অর্থ এবং কোরবানি দেওয়া পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ তাদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হবে।

ভয়েসটিভি/নিজস্ব প্রতিবেদক/এএস