Categories
ধর্ম

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

ঢাকা : মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ১ আগস্ট শনিবার যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশের মুসলমানরা উদযাপন করছেন কোরবানির ঈদ। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ মোতাবেক পশু কোরবানি করছেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। এসময় মুকাব্বির হিসেবে ছিলেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী কাজী মাসুদুর রহমান।

নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। করোনার কারণে নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকলেও পরস্পরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এর আগে জাতীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন মুসল্লিরা। প্রথম জামাতে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরাও অংশ নেন।

এদিকে বায়তুল মোকাররমে ঈদের আরও পাঁচটি জামাত পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী হাবিবুর রহমান মেশকাত।

তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা ইসহাক।

চতুর্থ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন জাতীয় মসজিদের চিফ খাদেম মো. শহীদুল্লাহ।

পঞ্চম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খান। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন জাতীয় মসজিদের খাদেম হাফেজ মো. আব্দুল মান্নান।

ঈদুল আজহার ষষ্ঠ ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক উপ-পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রব মিয়া। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন জাতীয় মসজিদের খাদেম হাফেজ মো. আব্দুর রাজ্জাক।

ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে এসে নামাজ আদায়ের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এবার ঈদের ছুটি ৩ দিন ঘোষণা করেছে সরকার। ঈদ উপলক্ষে আজ ৩১ জুলাই, ১ আগস্ট শনিবার ঈদের দিন এবং ২ আগস্ট রোববার ছুটি থাকবে। ছুটির সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বাধ্যতামূলক কর্মস্থলে থাকতে হবে। তারা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে ঈদুল ফিতরের মতো এই ঈদেও সরকারের নির্দেশনায় খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ঈদ জামাত হচ্ছে এলাকার মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে; কোলাকোলি এবং হাত মেলানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রণালয় জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবার পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজের জামায়াতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লীরা প্রত্যেকে নিজ-নিজ দায়িত্বে বাসা থেকে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

প্রত্যেককে নিজ-নিজ বাসা থেকে ওযু করে মসজিদে আসবেন এবং ওযু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদে ওযুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।

জামায়াতে আসা মুসল্লীকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মুসল্লীরা মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করতে পারবেন না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে আরও বলা হয়, শিশু, বৃদ্ধ, যে কোন ধরণের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ করবেন না। এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না। হচ্ছে না শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদ জামাতও।

প্রসঙ্গত, প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজের ছেলে হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপি মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। এজন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত। সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় শনিবার দিনের শুরুতেই মসজিদে সমবেত হবেন এবং ঈদুল আজহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। তবে এবার করোনা ও বন্যার মতো দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে ভিন্ন পরিবেশে কুরবানীর ঈদ হওয়ায় অন্যান্য বারের চেয়ে পশু কোরবানি কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সামর্থবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে দরিদ্র-দু:স্থরাও বঞ্চিত হবেন না। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির সমুদয় অর্থ এবং কোরবানি দেওয়া পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ তাদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হবে।

ভয়েসটিভি/নিজস্ব প্রতিবেদক/এএস

Categories
ধর্ম

ঈদের জামাত শেষে পশু কোরবানিতে ব্যস্ত মুসল্লিরা

ঢাকা : করোনা মহামারির মাঝে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ১ জুলাই শনিবার মসজিদে মসজিদে ঈদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ জামাতে আদায় করেছেন। নামাজ শেষে পশু কোরবানিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। ফজরের নামাজের পরই পশুকে কোরবানি করার জন্যে গোসল করিয়ে প্রস্তুত করে রাখা হয়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। এসময় মুকাব্বির হিসেবে ছিলেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী কাজী মাসুদুর রহমান।

নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। করোনার কারণে নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকলেও পরস্পরে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এর আগে জাতীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন মুসল্লিরা। প্রথম জামাতে দেশের বরেণ্য ব্যক্তিরাও অংশ নেন।

ঈদের জামাতের পর মসজিদের ইমাম খুতবা পাঠ করেন। এছাড়া জামাতের আগে কিভাবে কোরবানি করতে হবে, কোরবানির মাংস কিভাবে বিলিবণ্টন করতে হবে ইত্যাদি সম্পর্কে বয়ান করেন। এছাড়াও বয়ানে মহামারি করোনাভাইরাস ও চলমান বন্যা থেকে দেশবাসীকে রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানান।

ঈদের নামাজ আদায় শেষে মুসল্লিরা কুরবানির পশু জবাইয়ের ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

এদিকে বায়তুল মোকাররমে ঈদের আরও পাঁচটি জামাত পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী হাবিবুর রহমান মেশকাত।

তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা ইসহাক।

চতুর্থ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন জাতীয় মসজিদের চিফ খাদেম মো. শহীদুল্লাহ।

পঞ্চম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ১০টায়। এতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ূর রহমান খান। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন জাতীয় মসজিদের খাদেম হাফেজ মো. আব্দুল মান্নান।

ঈদুল আজহার ষষ্ঠ ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক উপ-পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রব মিয়া। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন জাতীয় মসজিদের খাদেম হাফেজ মো. আব্দুর রাজ্জাক।

ঈদের জামাতে অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে এসে নামাজ আদায়ের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

ভয়েসটিভি/নিজস্ব প্রতিবেদক/এএস

Categories
ধর্ম

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা

ঢাকা : রাত পোহালেই মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ১ আগস্ট শনিবার যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশের মুসলমানরা কোরবানির ঈদ উদযাপন করবে। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ মোতাবেক পশু কোরবানি করবেন।

তবে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ও দেশব্যাপী ভয়াবহ বন্যার কারণে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কার মধ্যেই এসেছে এবারের ঈদ। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈদকে ঘিরে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকার কথা তা এবার ম্লান করে দিয়েছে করোনা ও বন্যা।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এবার ঈদের ছুটি ৩ দিন ঘোষণা করেছে সরকার। ঈদ উপলক্ষে আজ ৩১ জুলাই, ১ আগস্ট শনিবার ঈদের দিন এবং ২ আগস্ট রোববার ছুটি থাকবে। ছুটির সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বাধ্যতামূলক কর্মস্থলে থাকতে হবে। তারা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না।

করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধে ঈদুল ফিতরের মতো এই ঈদেও সরকারের নির্দেশনায় খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ঈদ জামাত হবে এলাকার মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে; কোলাকোলি এবং হাত মেলানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রণালয় জারিকৃত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবার পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজের জামায়াতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লীরা প্রত্যেকে নিজ-নিজ দায়িত্বে বাসা থেকে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

প্রত্যেককে নিজ-নিজ বাসা থেকে ওযু করে মসজিদে আসবেন এবং ওযু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিত করতে মসজিদে ওযুর স্থানে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।

জামায়াতে আসা মুসল্লীকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মুসল্লীরা মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করতে পারবেন না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে আরও বলা হয়, শিশু, বৃদ্ধ, যে কোন ধরণের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ করবেন না। এবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত হচ্ছে না। হচ্ছে না শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানের ঈদ জামাতও। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এবার ঈদের ৬টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ইসলামিক ফাউেন্ডশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঈদুল আজহায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে ছয়টি ঈদ জামাত। সকাল ৭টায় হবে প্রথম জামাত। এরপর পর্যায়ক্রমে ৭টা ৫০, ৮টা ৪৫, ৯টা ৩৫, ১০টা ৩০ এবং ১১টা ১০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে শেষ ঈদ জামাত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈদুল আযহা’র জামাত সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ- মসজিদুল জামিআয় অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনা ভাইরাস উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের এই জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এই ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র ইমাম খতীব ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দীন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ-উল-আযহা’র জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, এবারের ঈদ জামাত আয়োজনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের জানান, এবারের ঈদে ডিএসসিসি’র পক্ষ থেকে খোলা মাঠে ঈদ জামাত আয়োজনের কোনো উদ্যোগ থাকছে না। তবে সরকারের নির্দেশনা মেনে মসজিদগুলোতে ঈদ জামাত আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার বলেন, ডিএনসিসি আওতাধীন এলাকায় খোলা মাঠে কোনো ধরনের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে না। মেয়র আতিকুল ইসলামও নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সারাদেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং সরকারি সংস্থাসমূহের প্রধানগণ জাতীয় কর্মসূচির আলোকে নিজ নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন করে ঈদ উদযাপন করবেন।

ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমসমূহ যথাযোগ্য গুরুত্ব সহকারে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার ও সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। ঈদ উদযাপন উপলক্ষে দেশের সকল হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনসমূহে যথাযথভাবে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করবে। এ উপলক্ষে সারাদেশে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রক্ষার্থে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

কোরবানিকৃত পশুর রক্ত বা বর্জ্য পদার্থ দ্বারা যাতে পরিবেশ দুর্গন্ধময় না হয় সে বিষয়ে সকল প্রকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান। ঈদুল আযহার পূর্ববর্তী জুমার খুৎবায় এ বিষয়ে মুসল্লীদের সচেতন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজের ছেলে হজরত ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপি মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। এজন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত। সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় শনিবার দিনের শুরুতেই মসজিদে সমবেত হবেন এবং ঈদুল আজহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য। তবে এবার করোনা ও বন্যার মতো দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে ভিন্ন পরিবেশে কুরবানীর ঈদ হওয়ায় অন্যান্য বারের চেয়ে পশু কোরবানি কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সামর্থবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে দরিদ্র-দু:স্থরাও বঞ্চিত হবেন না। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির সমুদয় অর্থ এবং কোরবানি দেওয়া পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ তাদের মধ্যে বন্টন করে দেয়া হবে।

মুসলমানদের ধর্মীয় এই উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত স্থানগুলোতে পশু কোরবানির জন্য নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে উভয় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোরবানীর পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সূত্র: বাসস

Categories
ধর্ম

রাজধানীতে ঈদের জামাত কখন, কোথায়

ঢাকা : রাত পোহালেই মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু সৌদি নাগরিকদের অংশগ্রহণে পবিত্র হজ সম্পন্ন হয়েছে। দেশে কোরবানির প্রস্তুতিপর্বও ইতোমধ্যে প্রায় সম্পন্ন। এখন অপেক্ষা দিনের আলো ফোটার।

এবার করোনা মহামারির কারণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজ হচ্ছে না। শুধুমাত্র মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

কোরবানি ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে ছয়টি ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে, তৃতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে, চতুর্থ জামাত ৯টা ৩৫ মিনিটে, পঞ্চম জামাত হবে সকাল সাড়ে ১০টায় এবং সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে।

এছাড়া সরকারি আলিয়া মাদরাসা, ঢাকা মসজিদ এবং ধানমন্ডি ঈদগাহ মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

পুরান ঢাকার বংশাল বড় মসজিদ, নিমতলী ছাতা জামে মসজিদ, তারা মসজিদ, নাজিরা বাজার আহলে হাদিস মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং সকাল সাড়ে ৮টায় দুটি করে ঈদের জামাত হবে।

চকবাজার জামে মসজিদ, যাত্রাবাড়ী মারকাজ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং লাল শাহী মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ হবে।

ধানমন্ডি তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ও সকাল ৯টায়, ধানমন্ডির বায়তুল আমান মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ও সাড়ে ৮টায় দুটি করে জামাত হবে।

রাজধানীর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল ৬টা, সকাল ৮টা এবং সকাল ১০টায় ঈদের তিনটি জামাত হবে।

মিরপুর কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তিনটি জামাত হবে সকাল ৭টায়, সকাল ৮টায় এবং ৮টা ৪৫ মিনিটে।

গত ১৪ জুলাই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। প্রত্যেকে মুসল্লি নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে। অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। করোনা সংক্রমণরোধে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে। ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

এতে আরও বলা হয়, ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু ও বৃদ্ধসহ অসুস্থ ব্যক্তি বা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশ নেবেন না। সর্বসাধারণের সুরক্ষার নিমিত্তে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে।

ভয়েসটিভি/নিজস্ব প্রতিবেদক/এএস

Categories
ধর্ম

হজের খুতবা দেবেন শায়খ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান

চলতি বছর হজের খুতবার জন্য শায়খ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল মানিয়াকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২৮ জুলাই মঙ্গলবার সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এক রাজকীয় ফরমানে তাঁকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

৮৯ বছর বয়সী শায়খ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল মানিয়া আইনজ্ঞ হিসেবে বেশ প্রসিদ্ধ। তিনি অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন বা ওআইসির ইসলামিক ফিকহ একাডেমির সদস্য। এর আগে তিনি মক্কা আল মোকাররামা কোর্টের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দান সংলগ্ন মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবা শুরু হয়। হজের খতিব মসজিদে নামিরা থেকে যে খুতবা প্রদান করেন মনোযোগ দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। খুতবা শেষে জোহরের আজান হয়। একই আজানে দুই ইকামতে জোহর ও আসরের কসর দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়।

আরাফার ময়দানে উপস্থিত সফেদ-শুভ্র কাপড়ের ইহরাম পরিহিত হাজীদের সামনে দেয়া হজের খুতবা বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এ খুতবা যেমন সমবেত হাজীরা শোনেন, তেমনি শোনেন বিশ্ববাসী।

ভয়েস টিভি/ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক/ডিএইচ

Categories
ধর্ম

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু : মিনায় পৌঁছেছেন হাজীরা

মহামারি করোনার মধ্য দিয়ে ব্যাপক স্বাস্থ্য সতর্কতা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ১৪৪১ হিজরির পবিত্র হজ শুরু হলো। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বুধবার ২৯ জুলাই হজের প্রথম দিন মক্কা থেকে ইহরাম বেধে এক হাজার হাজী মিনায় পৌঁছেছেন।

নিয়ম অনুযায়ী পবিত্র নগরী মক্কা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে মিনায় এ দিন জোহরের আগেই হজে অংশগ্রহণকারীদের সবাইকে মিনায় পৌছানোর কথা। সেখানে তারা ৫ ওয়াক্ত (জোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও হজের দিন ফজর) নামাজ আদায় করবেন।

সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যথাযথ নিরাপত্তার মাধ্যমে হজে অংশগ্রহণকারীদের পবিত্র নগরী মক্কা থেকে মিনায় নেয়া হচ্ছে।

মিনায় গিয়ে অবস্থানকারী হজ পালনকারীরা বৃহস্পতিবার সকাল সকাল আরাফাতের ময়দানে গিয়ে অবস্থান নেবে। সেখানে তারা সকাল থেকে দিনভর ইবাদত-বন্দেগি ও রোনাজারিতে সময় অতিবাহিত করবে। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন তারা।

মক্কা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে প্রায় ২৫ লাখ লোকের জন্য তাবু স্থাপিত শহর মিনায় এবার স্বল্প সংখ্যক হজপালনকারীরা অবস্থান নেবে। মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার সীমিত পরিসরে অল্প সংখ্যক লোক হজে অংশগ্রহণ করেছে।

এ বছর হজের উদ্দেশ্যে মক্কায় আসা নির্বাচিত হজপালনকারীদের আগে থেকেই তাপ পরীক্ষা করে আলাদা আলাদা স্থানে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের ব্যাগপত্র জীবানুমুক্ত করার কাজ সম্পন্ন করেছে।

স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা কর্মীরা পবিত্র নগরী কাবা শরিফের চারদিকে জীবানুমুক্তকরণ করতে বিশেষভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছে।

এবারের হজে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তায় এবং কাবা শরিফের পরিচ্ছন্নতায় কাবা শরিফের চারদিক ঘেরাও করে দেয়া হয়েছে। কোনো হজপালনকারীকেই কাবা শরিফ স্পর্শ করতে দেয়া হবে না। যথাযথ দূরত্ব বজায় (১.৫ মিটার তথা ৫ ফিট) রেখে তাওয়াফ, নামাজে অংশগ্রহণ ও সাঈসহ হজের সব কার্যক্রম পালন করতে হবে।

মিনায় পাথর নিক্ষেপসহ সব কাজের সময় মাস্ক ব্যবহার ও দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। মিনায় পাথর নিক্ষেপের নুড়ি হজ কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যাগের মাধ্যমে সরবার করবে।

৩০ জুলাই মোতাবেক ৯ জিলহজ (বৃহস্পতিবার সকাল সকাল সব হজ পালনকারী আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হবেন। সৌদি সরকারে এমন কঠোর স্বাস্থবিধি ও নিরাপত্তা মেনে হজ ব্যবস্থাপনার জন্য হজে অংশগ্রহণকারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ভযেস টিভি/নিজস্ব প্রতিবেদক/ডিএইচ

Categories
জাতীয় ধর্ম

সন্ধ্যায় কুরবানির ঈদের তারিখ নির্ধারণে সভা

ঢাকা : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা অর্থাৎ কুরবানির ঈদের তারিখ নির্ধারণে সভা করবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে ২১ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে (বাদ মাগরিব) এই সভা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, সৌদি আরব কুরবানির ঈদের তারিখ নির্ধারণ করেছে চলতি মাসের ৩১ তারিখ।

মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। এ বিষয়ে ইসলাম ধর্ম মতে, প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার ছেলে হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন। আল্লাহর কুদরতে হজরত ইসমাইলের (আ.) পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়। হজরত ইব্রাহিমের (আ.) এই ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকেন।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম আজকের সভায় সভাপতিত্ব করবেন। বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

টেলিফোন নম্বর- ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭।

ফ্যাক্স নম্বর-৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১

ভয়েসটিভি/নিজস্ব প্রতিবেদক/এএস

Categories
ধর্ম

ঈদের নামাজ আদায়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরুরি বিজ্ঞপ্তি

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত আদায় প্রসঙ্গে জরুরি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ১৪ জুলাই মঙ্গলবার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হো‌সেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব অপরিবর্তিত থাকায় আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ আদায় সংক্রান্ত বিষয় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ওলেমা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে গত ১২ জুলাই জুম ক্লাউড ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভার আয়োজন করা হয়।

সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জামাত অনুষ্ঠানের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিম্নবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে ঈদুল আজহার নামাজের জামাত মসজিদে আদায়ের জন্য আহ্বান জানানো হলো-

১. বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদুল আজহার জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে;

২. ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন;

৩. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে;

৪.করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে;

৫.মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে;

৬.ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না;

৭.ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে;

৮.শিশু, বৃদ্ধ, যে কোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করবেন না;

৯.সর্বসাধারণের সুরক্ষার নিমিত্ত স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে;

১০.করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ কল্পে মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে;

১১.করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা হলো;

১২. খতিব, ইমাম, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হলো; এবং

১৩. পশু কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটি উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন।

ভয়েসটিভি/নিউজডেস্ক/ডিএইচ

Categories
ধর্ম সারাদেশ

৮০০ বছরের পুরনো হারুলিয়া মসজিদ সংস্কার দাবি

নেত্রকোনা : কেন্দুয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পূর্বদিকে হারুলিয়া গ্রাম। মোজাফরপুর ইউনিয়নের হারুলিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামে অবস্থিত ৮০০ বছরের পুরনো হারুলিয়া মসজিদ। প্রত্নতত্ত অধিদপ্তরের উদ্যোগে সঠিক সংরক্ষণ ও মেরামতের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এই মসজিদটি। সংস্কারের মাধ্যমে ঐতিহাসিক মসজিদটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নতুন প্রজন্মের কাছে মসজিদটি প্রাচীন ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির শাসন আমলে শাইখে মো. ইয়ার নামে এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।
দেয়ালে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দ লেখা দেখে স্থানীয়রা মনে করেন সিমেন্টবিহীন চুন ও লালি দিয়ে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দে নির্মাণ করা হয়েছে।

নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমার পিতামহ আফজাল হাদিস, যিনি হেঁটে হজব্রত পালন করেছিলেন, তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে বলে গেছেন মসজিদটি রাজা লক্ষ্মণ সেনের আমলে নির্মিত। মসজিদটির গায়ে ফারসি এবং সংস্কৃতিতে বিভিন্ন উপদেশ-নির্দেশের লেখা দেখেও ধারণা করা হয় রাজা লক্ষ্মণ সেনের আমলেই নির্মিত হয় মসজিদটি।

ভয়েসটিভি/নেত্রকোনা প্রতিনিধি/দেলোয়ার

Categories
জাতীয় ধর্ম

এবারো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ মসজিদে

ঢাকা: বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ঈদুল ফিতরের মতো আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ মসজিদে আদায় হবে। ১২ জুলাই রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ঈদুল আজহা উদযাপন নিয়ে  ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে  ঈদের  দিন ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে স্বাস্থ্যবিধি ও শারিরীক দূরত্ব মেনে মসজিদে নামাজ আদায় করতে হবে। একই সঙ্গে ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করা যাবে না।

 

ভয়েস টিভি/নিজস্ব প্রতিবেদক/ডিএইচ