Categories
প্রযুক্তি

নকিয়া এবার বাজারে আনছে কাঁচের মতো স্বচ্ছ ফোন!

কাঁচের মতো স্বচ্ছ স্মার্টফোন আনছে এইচএমডি গ্লোবালের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। মডেল নকিয়া ভিটেক। বেশ কয়েক বছর ধরেই নকিয়া নতুন এই ফোন নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। কাঁচের মতো স্বচ্ছ ডিজাইনে এটি তৈরি করা হচ্ছে। শিগগিরই ডিভাইসটি বাজারে আসার কথা রয়েছে।

অত্যাধুনিক ডিজাইনের এই ফোনে থাকছে ১২ জিবি র‌্যাম। এতে ১০৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকছে। ব্যাকআপের জন্য থাকবে ৬৯০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের শক্তিশালী ব্যাটারি।

নকিয়ার ফ্লাগশিপ এই স্মার্টফোনের ডিসপ্লে হবে ৬.৯ ইঞ্চি ওলিড। এতে ৪কে রেজুলেশন পাওয়া যাবে। মেটাল ফ্রেম ন্যারো বেজেলে ডিসপ্লে ডিজাইন করা হয়েছে।

ছবি তোলার জন্য ফোনটিতে রয়েছে ১০৮ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি লেন্স। সঙ্গে আছে ১৬ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড শুটার এবং ৮ মেগাপিক্সেলের ডেপথ সেন্সর। সেলফি তোলার জন্য রয়েছে ৬৪ মেগাপিক্সেলের ৬৪ ফ্রন্ট ক্যামেরা।

ফোনটি কবে নাগাদ বাজারে আসবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি এইচএমডি গ্লোবাল। তবে ধারণা করা হচ্ছে ২০২২ সালের মধ্যেই অনন্য এই ডিভাইস বাজারে আসবে।

ভয়েসটিভি/আরকে

Categories
প্রযুক্তি

ফেব্রুয়ারিতে ই-কমার্স খাতে ‘ইউবিআইডি’ চালু হচ্ছে

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ডিজিটাল কমার্স (ই-কমার্স) খাতে স্থিতিশীলতা আনতে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে চালু হচ্ছে ইউনিক বিজনেস আইডি (ইউবিআইডি)। ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সবাইকে ইউবিআইডিতে নিবন্ধন করতে হবে। শুধুমাত্র ফেসবুকে যারা ব্যবসা করছেন তারাও এই নিবন্ধের আওতায় আসবেন।

১৯ জানুয়ারি বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। ডিজিটাল কমার্স খাতে স্থিতিশীলতা আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং আইসিটি বিভাগের কারিগরি সহায়তায় নির্মীয়মাণ প্ল্যাটফর্ম উদ্যোগগুলোর বর্তমান নির্মাণ অগ্রগতি পর্যালোচনা নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ থাকলে অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া সেন্ট্রাল লজিস্টিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (সিসিএমএস) মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাবে।

এদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লেনদেনের জন্য চালু হতে যাচ্ছে ‘বিনিময়’ নামে একটি অ্যাপ। এই অ্যাপটি ফেব্রুয়ারিতে চালু হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে বিকাশ থেকে নগদ, শিউর ক্যাশ থেকে উপায় বা যে কোনো মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো যাবে। এটিও চালু হবে আগামী মার্চে।

তিনি বলেন, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য পরবর্তীতে সেন্ট্রাল লজিস্টিক ট্র্যাকিং প্লাটফর্ম (সিএলটিপি) চালু করা হবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গ্রাহক পণ্য কেনার পরে সেটি কখন কোন অবস্থায় আছে বা হাতে পেতে কত দিন লাগবে সেটি দেখতে পারবেন। তবে এটি নির্মাণের দায়িত্ব ডাক বিভাগের হাতে থাকায় তারা সময়মতো নির্মাণ করতে পারেনি। আগামী সাত দিনের মধ্যে ডাক বিভাগ এই কাজ শেষ না করতে পারলে এটি আমরা হাতে নিয়ে পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে নির্মাণ করব।

পলক বলেন, প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরির মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবসায় যে আস্থাহীনতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে তা দূরীভূত হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর যে প্রতিশ্রুতি ছিল সেটা আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছি। এখন আমাদের লক্ষ্য ২০৩১ সাল নাগাদ একটি উচ্চ মধ্যম আয়ের জাতি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উদ্ভাবনী জাতি হিসেবে গড়ে উঠবো।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, এটুআই পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী, এটুআই টেকনিক্যাল হেড রেজওয়ানুল হক জামি, ই-ক্যাব পরিচালক জিয়া আশরাফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ই-কমার্স সেলের যুগ্ম-সচিব সাঈদ আলী প্রমুখ।

ভয়েস টিভি/আরকে

Categories
প্রযুক্তি

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নীতিমালা প্রণয়নে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ওটিটি (ওভার দ্যা টপ) থেকে অশ্লীলতা রোধ, রাজস্ব আদায় এবং এসব প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে চূড়ান্ত নীতিমালা প্রণয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এখন পর্যন্ত নীতিমালার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তার অগ্রগতি প্রতিবেদনও বিটিআরসিকে আগামী ২৬ মে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

১৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি ফাতেমা নজীবের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ওটিটি (হইচই, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন, বঙ্গবিডি) থেকে অশ্লীলতা রোধ, রাজস্ব আদায় এবং এসব প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা করতে কমিটি গঠন করে বিটিআরসি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৮ জানুয়ারি খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

মো. তানভীর আহমেদ বলেন, আদালতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান এবং সাইবার পুলিশ সেন্টার থেকে দুটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়া ও ওটিটি নীতিমালা প্রণয়নে কমিটি

বিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের রেগুলোশন না থাকায় এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে কোনো রাজস্ব আদায় হয় না।

একইভাবে সাইবার পুলিশ সেন্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং পর্নোগ্রাফি আইন থাকলেও এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে অশ্লীলতারোধে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। ফলে সবসময় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে যদি এ ধরনের একটা নীতিমালা হয় তাহলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সুবিধা হবে। এসব বিষয়ে বিবেচনায় নিয়ে আদালত একটি খসড়া নীতিমালা করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নেটফ্লিক্স, হইচইসহ ইন্টারনেট মাধ্যমে (ওটিটি প্লাটফর্ম) ছড়িয়ে পড়া ওয়েব সিরিজের অনৈতিক, নিন্দনীয় ও আইন বহির্ভূত ভিডিওর অংশগুলো সরিয়ে ফেলতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

এছাড়াও নেটফ্লিক্সের মতো অন্যান্য ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে কীভাবে রেভিনিউ সংগ্রহ করা হয় তা ১ মাসের মধ্যে বিটিআরসিকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

ভয়েসটিভি/আরকে

Categories
জাতীয় প্রযুক্তি

নতুন ১৫৫টি আইএসপি লাইসেন্স দিচ্ছে বিটিআরসি

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা ক্যাটাগরিতে ১৫৫টি আইএসপি (ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান) লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তা অনুমোদনের জন্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠিয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগোযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, লাইসেন্স দেওয়া তো বন্ধ ছিল না। আবেদন জমা পড়েছিল। যেগুলোকে লাইসেন্স দেওয়া যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে, যাদের সক্ষমতা আছে তারা যোগ্যতা অনুযায়ী লাইসেন্স পাবে।

দেশে চার ক্যাটাগরিতে ২ হাজারের বেশি আইএসপি লাইসেন্স রয়েছে। নেশনওয়াইড, বিভাগীয় পর্যায়ে, জেলা ও থানা পর্যায়ে আইএসপি অপারেটররা সেবা দিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে লাইসেন্সবিহীন অপারেটরের সংখ্যা লাইসেন্সড অপারেটরের দ্বিগুণ।

জানা যায়, বিভাগীয় ক্যাটাগরিতে চারটি, জেলা ক্যাটাগরিতে ৩০টি এবং উপজেলা বা থানা ক্যাটাগরিতে ১২১টি নতুন লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ইন্টারনেট বাজার, সক্ষমতার পরিসর ছোট। তার ওপরে রয়েছে বৈধ, অবৈধ মিলিয়ে ৬ হাজারের বেশি আইএসপি। লাইসেন্সধারীদেরই ব্যবসা করে টিকে থাকতে কষ্ট হচ্ছে। তারওপর নতুন লাইসেন্স এ খাতে আরও চাপ বাড়াবে। কোথায় আইএসপি একেবারেই নেই সেই জায়গাগুলো খুঁজে বের করে চিহ্নিত করতে হবে। তারা আরও বলেন, দেশে ইন্টারনেটের বাজার বড় করতে পারলে তা এই খাতের জন্যই মঙ্গলজনক।

দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, আমি মনে করি যেসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে সেটাই অনেক বেশি। যারা বর্তমানে অপারেশনে আছে, নেশনওয়াইড সেবা দিচ্ছে তাদের আরও সুযোগ দেওয়া উচিত। লাইসেন্সপ্রাপ্ত যারা আছে তারাই তো এখন ব্যবসা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে আমাদের ট্রান্সমিশন স্বল্পতা রয়েছে। এই স্বল্পতা কাটিয়ে উঠে যদি আমাদের নেশনওয়াইড আইএসপিগুলোকে বলা হয় তুমি রোল-আউট অবলিগেশন মেনটেইন করো, বিভাগীয় আইএসপিগুলোর মধ্যে যারা সক্ষম তাদের যদি হালনাগাদ করা হয় সেটাই মনে হয় যথেষ্ট। নতুন করে আমার মনে হয় না নেশওয়াইড বা ডিভিশনাল লাইসেন্স নিয়ে সেবার মাঠে আসার প্রয়োজন আছে।

তবে তিনি মনে করেন বিভিন্ন থানায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে দেখতে হবে সেখানে লাইসেন্স কয়টা আছে। একটা থানায় যদি ২০টা লাইসেন্স দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটা সংখ্যা অনেক বেশি হবে। তখন দেখা যাবে নিজেদের মধ্যে মারামারি কাটাকাটি হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে আইএসপিএবি সভাপতি বলেন, এমনিতেই দুই হাজারের বেশি আমাদের মেম্বার (সদস্য প্রতিষ্ঠান)। এটা এখন প্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় সংগঠন। এরপরে যদি আরও লাইসেন্স দেওয়া হয় তাহলে দেখা যাবে আমাদের আসল কাজ যে সেবাটা দেওয়া সেটা কঠিন হয়ে যাবে। এত সদস্য এই খাতে ব্যবসা করতে পারবে না। সেবার মান খারাপ হয়ে যাবে। আমি যদি বিজনেসই করতে না পারি তখন দেখা যাবে কোয়ালিটি অব সার্ভিস খারাপ হচ্ছে, আমি নজর দেব না।

সরকারকে দেখতে হবে যেখানে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে তা বাজারে কয়টা আছে, মার্কেটের সাইজ কেমন। যে জায়গায় দেওয়া হচ্ছে সেখানে আসলে কোনও উপকার হবে কিনা। নাকি নতুন একটা মাসল পাওয়ার (পেশি শক্তি) সেখানে অ্যাড করলাম। তিনি এই খাতে পেশিশক্তির দাপট ও রাজনৈতিক ছত্রছায়াকে নেতিবাচক ও উৎপাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এদের দাপটে আইএসপিগুলো সব জায়গায় ঢুকতে পারে না। এটা দূর করতে হবে। সরকারকে এ বিষয়ে বিশেষ নজরদারির আহ্বান জানান তিনি।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
প্রযুক্তি

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ তৈরি ও উৎক্ষেপণে রাশিয়ার আগ্রহ

দেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-২’ মহাকাশে পাঠানোর কথা। সেই স্যাটেলাইটটি তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ তৈরি করে দিয়েছিল— সেই বিষয়টি উল্লেখ করে এরই মধ্যে থ্যালাস কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী হারভে ডেরে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের সফল নির্মাণ, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন কার্যকরী পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর লেখা ওই চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাক গ্রহণ ও বিতরণ শাখায় রিসিভ করা হয় ৫ অক্টোবর। চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। রাশিয়া স্যাটেলাইট তৈরি, উৎক্ষেপণ, রক্ষণাবেক্ষণে নিজেরাই সক্ষম বলে জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্রথমটি কমিউনিকেশন হলেও বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইট হবে আর্থ অবজারভেটরি ও মাল্টিপারপাস ভিত্তিক। বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের স্যাটেলাইট প্রয়োজন তা ঠিক করতে সরকার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়। প্যারিসভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাইসওয়াটার হাউসকুপারস-কে (পিডাব্লিউসি) চূড়ান্ত করে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল)। প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে গত বছরের ২ জানুয়ারি একটি চুক্তিও সম্পন্ন হয়।

সংশ্লিষ্ট ‍সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইটের লাইফ টাইম হবে ১৮ বছরের মতো। দেশের সমুদ্রসীমায় ‘সি রিসোর্স’ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণে এই স্যাটেলাইট কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। তারা ভারনারেবল অবস্থায় থাকা সমুদ্র সম্পদ নিয়েও আশাবাদী যে, এই স্যাটেলাইট দিয়ে সেসব পর্যবেক্ষণ করে তা দেশের জন্য নিশ্চিত করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, থ্যালাস আমাদের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা আমাদের প্রথম স্যাটেলাইট (বঙ্গবন্ধু-১) তৈরি করে দিয়েছে, একটা ব্যবসা করেছে। আবার করতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। থ্যালাস আমাদের স্যাটেলাইট বানিয়ে দিয়েছে, সেসময় কোনও বিকল্প ছিল না। তবে আমরা থ্যালাসের কাজে স্যাটিসফায়েড। আমরা এবার এক্সপ্লোর করে দেখবো। আমরা জেনেছি, রাশিয়া এই খাতে ভালো করছে।

বঙ্গবন্ধু-২ তৈরিতে রাশিয়া এগিয়ে এলে কমার্শিয়াল লোন নিতে হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জি টু জি (সরকার টু সরকার) পর্যায়ে যেহেতু এটা হবে, ফলে অনেক ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। ওদের (রাশিয়ার) স্টেট কোম্পানি (সরকারি প্রতিষ্ঠান) এই প্রস্তাব দিয়েছে। এতে করে খরচ অনেক কমে আসবে।

তবে এটা এটা কূটনীতির অংশ বলে মনে করেন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি জানান, সরকারের হাতে ১০-১৫টা অপশন রয়েছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্টরা বসে এ বিষয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সব মিলিয়ে রাশিয়া লিডিং (এগিয়ে আছে)।’

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাকাশ গবেষণায় রাশিয়ার সাফল্য বিশ্বের অন্য কোনও দেশের চেয়ে কম নয়। এছাড়া রাশিয়া নিজেরা যেমন স্যাটেলাইট তৈরি তেমনি উৎক্ষেপণের কাজটাও করে। রাশিয়ার স্যাটেলাইট লঞ্চিং প্যাড কাজাখস্তানে অবস্থিত। রাশিয়ায় এটি তৈরি হলে তা হবে ব্যয় ও সময় সাশ্রয়ী। এটি উৎক্ষেপণের জন্য স্যাটেলাইটটি দূর দেশে পরিবহন করতে হবে না। এসব কিছু রাশিয়াকে এগিয়ে রাখছে প্রথম কাতারে বলে মনে করছেন তারা। থ্যালাস স্যাটেলাইট তৈরি করলেও তারা উৎক্ষেপণ করে না। এজন্য তাদের তৃতীয় পক্ষের সহযোগিতা নিয়ে হয়। বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইটের বেলায়ও এমন হয়েছে। ফ্রান্সে তৈরি হলেও স্যাটেলাইটটি বিমানে করে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যেতে হয়েছে। লঞ্চিং প্যাডটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার (কেনেডি স্পেস সেন্টার)। আবার যে রকেটে করে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হয় সেটি ছিলো একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের। প্রতিষ্ঠানটির নাম স্পেস-এক্স। দেখা যায় ওই স্যাটেলাইটের পেছনে বহুপক্ষের সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল। রাশিয়ার হাতে এটি গেলে তা একটি দেশের কাছেই থাকবে।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে থ্যালাস লিখেছে, থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস একমাত্র লিডিং স্যাটেলাইট টেলিকমিউনিকেশন নির্মাতাই নয়, প্রথমসারির আর্থ অবজারভেশন টেকনোলজিস নির্মাতাও। এছাড়া থ্যালাসের বিশেষত্ব হলো অতি উচ্চ রেজুলেশনের লো আর্থ অরবিট অবজারভেশন স্যাটেলাইট তৈরিতে। এই স্যাটেলাইট সরবরাহ করে ভালোমানের ছবি জটিল ডাটা বিশ্লেষণের জন্য। গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন কৃষি, মৎস্য, নগর পরিকল্পনা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ইত্যাদিতে যা কাজে লাগে।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, থ্যালাস ফ্রান্সের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। আর রাশিয়ার সরকারি একটা সংস্থা সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছে তারা এটা তৈরি করে দেবে। সরকারের আগ্রহ রাশিয়ার প্রতি। তিনি জানান, অনেকগুলো কারণে রাশিয়া এগিয়ে আছে।

এখানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বেশ শক্তিশালী বলে তিনি মনে করেন। তিনি জানান, একটা সরকারের পক্ষে আরেকটা সরকারের সঙ্গে কাজ করার অনেক সুবিধা। কাজটা দ্রুত হয়। এরসঙ্গে অনেকগুলো বিষয় নিহিত থাকে।

জানা গেছে, রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান রজোকসমস সরকারকে স্যাটেলাইট বানিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এটি হবে একটি আর্থ অবজারভেটরি স্যাটেলাইট। এটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করবে। ফলে দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের জন্য অরবিটাল স্লট প্রয়োজন হবে না।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, দেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট তৈরি করে দেওয়ার ব্যাপারে চীনও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
প্রযুক্তি

২০২১ সালে প্রযুক্তির যত ব্যর্থতা

২০২১ সালটি প্রযুক্তিতে আশা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগুলেও বছরজুড়ে প্রযুক্তি গেছে ভুল রাস্তায়। প্রযুক্তিনির্ভরতার খেসারত তথা তথ্য ফাঁস, ইন্টারনেট আউটেজ ও র‌্যানসামওয়্যারের আক্রমণ ছিল তুমুল আলোচনায়।

ফেসবুক-লিঙ্কডইনে তথ্য ফাঁস

এপ্রিলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানান, অন্তত ৫০ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফোন নম্বর, জন্ম তারিখ ও ই-মেইল ঠিকানা একটি ওয়েবসাইটে ফাঁস হয়েছে। কাজটি একজন মাত্র হ্যাকারের। ফেসবুক জানায়, ২০১৯ সালে এমন একটি ঘটনা ঘটলেও তখন সেটার সমাধান করা হয়েছিল। এবারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি থেকে বোঝা যায় সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটির নিরাপত্তা কতটা দুর্বল।

একই মাসে সমপরিমাণ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয় লিঙ্কডইন থেকে। তবে সেগুলো গোপন তথ্য ছিল না। ছিল প্রোফাইলের পাবলিক তথ্য। সেগুলো বিক্রির জন্য একজন হ্যাকার ওয়েবসাইটে নিলামে তুলেছিল। অবশ্য লিঙ্কডইন জানায়, এখানে নিয়মের কোনও লঙ্ঘন হয়নি।

ভুল অপরাধী চিহ্নিত

মে মাসে রিয়েল টাইম ক্রাইম অ্যালার্ট অ্যাপ সিটিজেন ঘোষণা দেয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসের বনে অগ্নিসংযোগকারীকে ধরিয়ে দিতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেবে। সূত্র হিসেবে একজন ব্যক্তির ছবি দেওয়া হয়। তিনি মূলত একজন পুলিশ। সব ঠিক থাকলেও একজন ভুল ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছিল সিটিজেন অ্যাপ।

র আক্রমণ

এ বছর র‌্যানসামওয়্যারের আক্রমণও হয়েছিল বেশ। পাসওয়ার্ড রিসেটের নাম করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয় এতে। আমেরিকার অন্যতম বড় জ্বালানি পাইপলাইন প্রতিষ্ঠান কলোনিয়াল পাইপলাইনও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে হ্যাকারদের ৪৪ লাখ ডলার মুক্তিপণ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক আবার সচল করে তারা।

ইন্টারনেটে বড় ‍দুই আউটেজ

দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে পরপর দুবার ইন্টারনেটের আউটেজ হয়। এতে ইন্টারনেটের বড় একটা অংশ অচল হয়ে পড়ে। টেক প্রতিষ্ঠানে এরকম বড় রকমের আউটেজের খবর কেউ কখনও শোনেনি। জুনের ৮ তারিখে রেডিট, অ্যামাজন এবং এরকম আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আউটেজের কারণে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখে। ১৭ জুন আকামাই টেকনোলজিসও পড়ে একই দুর্যোগে।

ইন্টারনেট আউটেজ

আবার ডিসেম্বরে অ্যামাজনে তিনবার আউটেজের ঘটনা ঘটে। যার প্রভাব পড়ে ডিজনি প্লাস, স্ল্যাক, নেটফ্লিক্স, হুলুসহ অনেক কিছুর ওপর।

ফেসবুকের আগাগোড়া খারাপ বছর

অক্টোবরের ৪ তারিখে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু তার আগের রাতেই ফ্রান্সেস হগেন ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দাবি করেন ফেসবুক কীভাবে ভুল তথ্য, বাজে কথা এবং সহিংসতা ছড়ায়।

তার ফাঁস করা তথ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশ করতে শুরু করে। এরপর ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টগ্রামে বড় রকমের আউটেজ হয়। স্থায়ী হয় প্রায় ঘণ্টাখানেক। হগেনের ইস্যুটি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনও চলছে।

‘ভুলপথে’ টেসলা

‘ফুল সেলফ ড্রাইভিং’ সফটওয়্যার ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক গাড়ি চালানোয় বেশ পরিচিত টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। যদিও এর সম্পূর্ণ অটোমেশন এখনও হয়নি। বরং যখন তখন হঠাৎ করেই ড্রাইভিং-এর নিয়ন্ত্রণ নিতে হয়।

এ বছর প্রযুক্তির যত ব্যর্থতা

ফিচারটি যখন খুব জনপ্রিয় পেতে থাকে, তখন অনেক ড্রাইভারই অভিযোগ করেছে, তারা বুঝতে পারে না তাদের গাড়ি কীভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে। টেসলার মডেল-৩ গাড়ি নিয়ে নিউইয়র্কের একটি রাস্তায় পরীক্ষা চালায় সিএনএন। এই সময় দেখা যায় ভুল দিক দিয়ে আসা একটি সাইকেলকে পাশ দিতে গিয়ে গাড়িটি একটি ইউপিএস ট্রাকের দিকে এগিয়ে যায় এবং দুর্ঘটনার হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায়।

আরও পড়ুন : ‘ভুল করে থাকতে পারি, অন্যায় করিনি

ভয়েসটিভি/এমএম

Categories
প্রযুক্তি

গুগলকে টপকে অনলাইনের শীর্ষে টিকটক

গুগলকে পেছনে ফেলে এখন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন সাইট টিকটক। চীনের তৈরি ভাইরাল এই ভিডিও অ্যাপটি মার্কিন সার্চ ইঞ্জিন গুগলের চেয়েও বেশি ‘হিট’ বলে জানিয়েছে আইটি নিরাপত্তা কোম্পানি ক্লাউডফ্লেয়ার। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, র‌্যাংকিং অনুযায়ী টিকটক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও জুন মাসে গুগলকে টপকে এক নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে। এরপর জুলাইয়ে গুগল শীর্ষে ফিরলেও আগস্ট থেকে আবারও শীর্ষস্থান দখল করে নেয় টিকটক।

এর আগের বছরের হিসাব অনুযায়ী গুগল ছিল শীর্ষে। এরপর শীর্ষ দশে ছিল টিকটক, অ্যামাজন, অ্যাপল, ফেসবুক, মাইক্রোসফট ও নেটফ্লিক্সসহ কয়েকটি সাইট। নিজস্ব ওয়েব ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ টুল ক্লাউডফ্লেয়ার রেডার ব্যবহার করে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

টিকটকের শীর্ষে ওঠার কারণ- বছরজুড়ে চলা করোনা মহামারি। করোনায় লকডাউনের কারণে মানুষ ঘরের মধ্যে আটকা পড়ে এবং বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে টিকটক ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

আরেক কোম্পানি সেন্সর টাওয়ার জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে তিনশো কোটি বারেরও বেশি ডাউনলোড হয়েছে টিকটক।

চীনা কোম্পানি বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন এই সামাজিক নেটওয়ার্কটির এখন বিশ্বব্যাপী সক্রিয় ব্যবহারকারী একশো কোটিরও বেশি এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। চীনে সেন্সরশিপ নীতিমালার কারণে বাইটড্যান্স টিকটকের বিকল্প হিসেবে ডৌয়িন নামে ভিন্ন একটি অ্যাপ ব্যবহার করে।

জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। ২০১৯ সালে ভারতে টিকটকের ওপর একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়, মিউজিক্যালি (টিকটকের অন্য নাম) জেনেশুনে কম বয়সী ব্যবহারকারীদের কনটেন্ট হোস্ট করছে। এজন্য সেসময় অ্যাপটিকে রেকর্ড ৫৭ লাখ ডলার জরিমানা করে যুক্তরাষ্ট্র।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
জাতীয় প্রযুক্তি

১২ ডিসেম্বর থেকে দেশে ফাইভজি সেবা

বিশ্বে বর্তমানে টেলিযোগাযোগশিল্পে সবচেয়ে আলোচিত ফাইভজি বা পঞ্চম প্রজন্মের সেবা দেশে ১২ ডিসেম্বর রোববার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। এদিন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল ফোন কম্পানি টেলিটকের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার চারটি এলাকায় এবং ঢাকার বাইরে দুটি এলাকায় এই সেবা চালু করা হবে। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে, সংসদ ভবনের কাছে মানিক মিয়া এভিনিউতে, সচিবালয়ে এবং ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় টেলিটকের বিটিএস বা বেইস ট্রানসিভার স্টেশনের মাধ্যমে এটি চালু করা হবে। ঢাকার বাইরে চালু করা হবে টুঙ্গিপাড়ায় এবং সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায়। এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অন্যতম একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।

১২ ডিসেম্বর রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে এই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন। এ ছাড়া আজ শনিবার সকাল ১১টায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থান করবে।

জানা যায়, টেলিটকের ফোরজি সিমেই ফাইভজি সেবা মিলবে। ফোরজি সিম ফাইভজিতে সক্রিয় করে নিতে হবে। তবে টেলিটক গ্রাহকরা সবাই এখনই এ সুবিধা পাবে না। প্রথম পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকের ফোরজি সিম ফাইভজিতে সক্রিয় করে দেওয়া হবে। আর ফাইভজি সেবা পেতে হলে মোবাইল হ্যান্ডসেটটিও ফাইভজি সক্ষম হতে হবে। ভয়েস কল বা মোবাইল ফোনে কথা বলতে এ সেবা কাজে লাগবে না। সেবাটি ইন্টারনেটের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

প্রথম পর্যায়ে কতজন গ্রাহক এই সুবিধা পাবে—এ প্রশ্নে টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাব উদ্দিন জানান, সংখ্যাটি এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি। প্রথম পর্যায়ে ফাইভজি সেবায় ইন্টারনেটের গতি ফোরজির ১০ গুণ বেশি বা এক জিবিপিএস পর্যন্ত গতি পাওয়া যাবে। পরে আরো বাড়বে।

এর আগে গত অক্টোবরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং টেলিটক থেকে জানানো হয়েছিল, মধ্য ডিসেম্বরে রাজধানী ঢাকায় ১০টি বিটিএসে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজি চালু করা হবে। পরে বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হবে ২০০ বিটিএসে।

এই সেবা চালুর লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি (বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) কয়েক মাস আগে টেলিটকের অনুকূলে ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ড থেকে ৬০ মেগাহার্জ (৩৩৪০-৩৪০০) তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়।

টেলিটকের ১০০ মেগাহার্জ তরঙ্গের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শর্ত সাপেক্ষে ও অস্থায়ীভাবে। এ ক্ষেত্রে সব মোবাইল ফোন অপারেটরের জন্য ইউনিফায়েড লাইসেন্সিং গাইডলাইন অনুমোদনের পর এর সব শর্ত মানতে হবে টেলিটককে। এ ছাড়া অন্য অপারেটরদের জন্য ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের তরঙ্গের যে মূল্য নির্ধারণ করা হবে, তা টেলিটকের জন্যও প্রযোজ্য হবে।

ফাইভজি সেবার জন্য নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে সরকার এরই মধ্যে টেলিটককে দুই হাজার ১৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে মোট দুই হাজার ২০৪ কোটি টাকা। বাকি ৬০ কোটি টাকা টেলিটক নিজে বহন করবে। এ ছাড়া এই সেবার জন্য ২০০ বিটিএস প্রস্তুত করতে টেলিটকের আরো প্রায় ২২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় নিউ ইয়র্কে এক গোলটেবিল আলোচনায় বলেন, ‘চলতি বছরের শেষ নাগাদ আমাদের ফাইভজি প্রযুক্তি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর গত ২৫ সেপ্টেম্বর টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ওয়েবিনারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, ১২ অথবা ১৬ ডিসেম্বর টেলিটকের মাধ্যমে ফাইভজি সেবার উদ্বোধন করা হবে এবং অন্য সব অপারেটরের জন্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফাইভজি তরঙ্গ নিলাম হবে। মন্ত্রী ওই দিন বলেন, ‘আশা করা যায়, ২০২২ সালের মধ্যেই দেশের বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটররাও ফাইভজি চালু করতে সক্ষম হবে।’

তবে বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটরদের পক্ষে বলা হচ্ছে, দেশে ফাইভজি চালুর জন্য যে ইকোসিস্টেম প্রয়োজন, তা এখনো নেই। মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ফরহাদ (অব.) সম্প্রতি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটককে পরীক্ষামূলকভাবে ফাইভজির জন্য অনুমোদন ও স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) প্রদানের সিদ্ধান্তটি সরকারের। আমরা এ জন্য সরকারকে স্বাগত জানাই। তবে পরবর্তী সময়ে অন্য অপারেটরদের ফাইভজি সেবায় আসার যে কথা বলা হচ্ছে, তার জন্য দেশের ইকোসিস্টেম প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। এই সেবা যেহেতু শিল্প খাতে বহুল ব্যবহৃত হবে, তাই কলকারখানায় অটোমেশন বা মেশিন টু মেশিন কানেক্টিভিটি ইত্যাদি প্রযুক্তি উন্নয়নের প্রয়োজন আছে।’

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
প্রযুক্তি

কাঁঠাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে পুষ্টিকর দই ও আইসক্রিম

কাঁঠালের কোয়া দিয়ে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর দই, চকলেট, আইসক্রিম এবং পনির তৈরির উপকরণ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা। একই সঙ্গে তারা এসব খাদ্য তৈরি করে দেখিয়েছেন।

সম্প্রতি কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ‘পোস্টহারভেস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রসেসিং অ্যান্ড মার্কেটিং অব জ্যাকফ্রুট’ প্রকল্পের মাধ্যমে তারা এসব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। বারি’র পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের চার ছাত্র এই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তাকে সহায়তা করেন।

ড. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, ‘কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহারের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ধারাবাহিকতায় এ বছর আমরা দই, পুষ্টিকর আইসক্রিম, চকলেট এবং চিজ তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছি। সবচেয়ে বড় বিষয়, এগুলো তৈরি করতে দুধের সঙ্গে শুধু কাঁঠাল প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যদি কোনও উদ্যোক্তা কাঁঠালের কোয়া সংরক্ষণ করেন, তবে তা দিয়ে সারা বছরই এসব খাবার উৎপাদন করতে পারবেন। কাঁঠাল যেহেতু নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল, তাই এটি দিয়ে তৈরি খাবারও বাজারের পণ্য থেকে অধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও স্বাস্থ্যসম্মত হবে। এখানে কৃত্রিম রঙ বা ফ্লেভার ব্যবহার করা হয় না। পণ্যগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি এবং দেখতেও খুবই সুন্দর।’

তিনি জানান, এই দই তৈরিতে শতকরা ৩ থেকে ৫ ভাগ কাঁঠালের কোয়া ব্যবহার করা হয়। আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহার করা হয় ৫ থেকে ৮ ভাগ কোয়া। পনির তৈরিতে ৫০-৬০ ভাগ কোয়া ব্যবহার করতে হয়। ফলে ক্ষুধা নিবারণ ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে এসব পণ্য আদর্শ পণ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে নিঃসন্দেহে। এই থেকে তৈরি খাদ্যগুলো থেকে বেশি পরিমাণ ক্যালরি পাওয়া যাবে। যে কেউ স্বল্প টাকা বিনিয়োগ করে সেগুলো তৈরি করতে পারবেন। এসব পণ্য তৈরি করতে বড় ধরনের কোনও যন্ত্রপাতির দরকার নেই। ফ্রিজ এবং ছোটখাটো কিছু হোম মেড যন্ত্রপাতি দিয়েই এসব খাবার খুব সহজেই তৈরি করা যাবে। যদি কোনও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ৮০০ টাকার কাঁচামাল ব্যবহার করেন, তাহলে তিনি খুব সহজেই ১৫০০ টাকার পণ্য তৈরি করতে পারবেন। অর্থাৎ বিনিয়োগের দ্বিগুণ লাভ করতে পারবেন। আর দেশের বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান যদি ব্যাপক পরিসরে এসব পণ্য তৈরি করে, তাহলে দেশে এসব পণ্যের ব্যাপক বাজার তৈরি হবে। পাশাপাশি বিদেশেও রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কাঁঠাল দিয়ে দই ও অন্যান্য পণ্য উদ্ভাবনের বিষয়ে ড. ফেরদৌস বলেন, ‘কাঁঠাল দিয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পর এর কোয়া দিয়ে সারা বছর ব্যবহার করা যায়- এমন কী পণ্য উৎপন্ন করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে থাকি। প্রতি বছর অনেক পাকা কাঁঠাল নষ্ট হয়, তবে ওই কাঁঠাল থেকে কোয়া সংগ্রহ করে তা সহজেই সারা বছর সংরক্ষণ করা যায়। এই চিন্তা থেকেই দই, আইসক্রিম, চকলেট ও চিজ তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয় এবং সফলতাও আসে। ইতোমধ্যে আমাদের এখানে চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স ইউনিভার্সিটির ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের চার ছাত্র; শমিক কর প্রান্ত, আবির হাসান রিজন, অভীক চাকমা ও আ স ম রাফসান জানি তাদের অ্যাকাডেমিক কোর্স শেষ করে ট্রেনিং করতে আসেন। তাদের এই কাজে সম্পৃক্ত করি এবং সফলভাবে আমরা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হই। যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদন হয়, তারা যদি এসব প্রযুক্তি ওই এলাকায় ছড়িয়ে দিতে পারেন, তাহলে সেখান থেকেও কাঁঠাল চাষি, উদ্যোক্তা বা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা লাভবান হতে পারবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

বারি’র পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান কৃষিবিদ হাফিজুল হক খান বলেন, ‘প্রতি বছর আমাদের দেশে বিপুল পরিমাণ কাঁঠাল নষ্ট হয়। অপচয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে কাঁঠালের বহুবিধ ব্যবহারে এসব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবো। দই, আইসক্রিমসহ যেসব পণ্য উৎপন্ন করা হয়েছে, তা পুষ্টিকর, স্বাস্থ্যসম্মত ও লাভজনক হবে। আমরা যদি এই সেক্টরে প্রশিক্ষিত লোকবল তৈরি করতে পারি, তাহলে এর ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি হবে।’

এর আগে পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের বিজ্ঞানীরা কাঁঠাল দিয়ে চিপস, আচার, কাটলেট, জ্যাম, জেলিসহ প্রায় ২০টি পণ্যের উপকরণ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছিলেন। যা তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও সাড়া জাগিয়েছিল। এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে অনেক উদ্যোক্তাই ইতোমধ্যে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে শুরু করেছেন। শুধু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাই নয়, বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানও এসব পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ বা দেশের বাইরে রফতানি করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

বারি’র পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ জানায়, প্রতি বছর দেশে উৎপাদিত মোট কাঁঠালের ৪৩-৪৫ ভাগ শুধু প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। জাতীয় ফলের এই অপচয় রোধে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন হাতে নেয় ‘পোস্টহারভেস্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রসেসিং অ্যান্ড মার্কেটিং অব জ্যাকফ্রুট’ নামে একটি গবেষণা প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেন কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহারের নানা উপকরণ ও প্রযুক্তি। যাতে উদ্যোক্তারা সারা বছরই বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে কাঁঠালকে ব্যবহার করতে পারেন। কাঁঠালের অপচয় রোধ, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, উদ্যোক্তা তৈরি, বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি পণ্যের বড় ধরনের উৎপাদনের মাধ্যমে এটাকে শিল্পের মর্যাদা প্রদান, কর্মক্ষেত্রের ব্যবস্থা, সর্বোপরি এসব পণ্য রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে একের পর এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন ড. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। কাঁচা ও পাকা কাঁঠালের যেসব প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য তারা উদ্ভাবন করেছেন, তা দেশের বড় বড় সুপারশপে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গত বছর ঢাকার কাওলার আছমা বেগম একটি সুপার শপে তিন-চার লাখ টাকার শুধু ফ্রেশ-কাট কাঁচা কাঁঠাল বিক্রি করেন। মার্কেটে ব্যাপক চাহিদা থাকার পরও কোভিড-১৯-এর কারণে সরবরাহ করতে পারেননি। কাঁঠালের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ধারাবাহিকতায় এবার তারা পাকা কাঁঠালের কোয়া দিয়ে মুখরোচক দই, পুষ্টিকর আইসক্রিম, চকলেট এবং চিজ তৈরির উপকরণ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের ধারণা, খুব স্বল্প মূলধন বিনিয়োগে উদ্যোক্তারা এসব পণ্য নিয়ে কাজ করলে তারা সহজেই খুব বেশি লাভবান হতে পারবেন এবং সারা বছর তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

Categories
প্রযুক্তি

ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞা বদলের পাশাপাশি বাড়লো গতি

২০ এমবিপিএস (মেগাবিটস পার সেকেন্ড) বা তার বেশি গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগকে ব্রডব্যান্ড হিসেবে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে পরিবর্তন হলো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সংজ্ঞা ও গতি। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এরই মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ব্রডব্যান্ডের নতুন গতি ও সংজ্ঞা অনুমোদন দিয়েছে।

আর এরই সঙ্গে সংশোধন হতে যাচ্ছে জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা। দেশে জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় ২০০৯ সালে। প্রায় এক যুগ পরে এই নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর পাশাপাশি জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা ২০২৩-এর খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, এখন ব্রডব্যান্ডের গতি হবে ২০ এমবিপিএস বা তার চেয়ে বেশি। দেশে এখন যে পরিমাণ ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয় তাতে করে ব্রডব্যান্ডের গতি ১০ এমবিপিএস থাকা উচিত নয়। ফলে এটি বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, মোবাইল ইন্টারনেট হলো সাময়িক সমাধান। ব্রডব্যান্ডই আসল। আমাদের এতে ফিরতেই হবে।

জানা গেছে, ২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে ৬ বার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতি পরিবর্তন হয়েছে। ২০০৮ সালে যা ছিল ১২৮ কেবিপিএস, ২০১১ সালে ৫১২ কেবিপিএস, ২০১৩ সালে ১ এমবিপিএস, ২০১৫ সালে ২ এমবিপিএস, ২০১৬ সালে ৫ এমবিপিএস এবং ২০১৮ সালে ১০ এমবিপিএস গতি নির্ধারণ করে ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞা ঠিক করা হয়। গতি এর নিচে থাকলে তাকে ন্যারোব্যান্ড বলে অভিহিত করা হয়। ২০২১ সালের জন্য ব্রডব্যান্ডের গতি ঠিক করা হয় ২০ এমবিপিএস।

আরও পড়ুন : সারাদেশে ব্রাডব্যান্ড ইন্টারনেটের একরেট থাকবে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১২ অক্টোবর তারিখে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ইন্টারনেটের স্বল্প গতির ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ব্রডব্যান্ডের গতি বৃদ্ধির জন্য জাতীয় পর্যায়ে ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করার ব্যাপারে তার মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বর্তমান গতিকে ১০ এমবিপিএসকে ৩০ এমবিপিএসে উন্নীত করার বিষয়ে মত ব্যক্ত করেন। সে সময় বৈঠক থেকে তাকে জানানো হয়, জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা ২০২১ প্রণয়নের ব্যাপারে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে। পরবর্তী সময়ে বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞা ২০ এমবিপিএস করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।

জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা-২০২১ প্রণয়নের ব্যাপারে বলা হয়েছে, সময়ের পরিক্রমায় দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে আইওটি, বিগ ডেটা, ক্রিপ্টোকারেন্সি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, টেলিমেডিসিন ও ওয়্যারলেস মেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-কমার্স, মোবাইল আর্থিক সেবা। এসব সেবার বিকাশের ফলে গ্রাহক পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এ কারণেই ২০০৯ সালের ব্রডব্যান্ড পলিসি সংশোধন করে ২০২১ প্রণয়ন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,এরই মধ্যে ২০২৩ সালের খসড়া ব্রডব্যান্ড নীতিমালায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে ব্রডব্যান্ডের গতি ঠিক করা প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। নীতিমালার ওই প্রস্তাবনায় ২০২৩ সালের স্বল্প মেয়াদি লক্ষ্যে ৩০ এমবিপিএস, ২০৩১ সালের মধ্য মেয়াদি লক্ষ্যে ২ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড) এবং ২০৪১ সালের দীর্ঘ মেয়াদি লক্ষ্যমাত্রায় ব্রডব্যান্ডের গতি ১০ জিবিপিএস নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভয়েসটিভি/এমএম