Categories
প্রযুক্তি

সোমালিয়ার চেয়েও ইন্টারনেটে গতি কম বাংলাদেশে

মোবাইল ইন্টারনেটের গতির দিক দিয়ে আফ্রিকার দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার চেয়েও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। অনলাইনে ইন্টারনেটের গতি সংক্রান্ত জনপ্রিয় ওয়েবসাইট স্পিডটেস্ট-এর বৈশ্বিক সূচকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। খবর বিবিসির।

পাকিস্তানের পেছনে থাকা বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। অথচ দেশের মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর দাবি, অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশের মানুষকে ৪জি গতির ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে তারা।

স্পিডটেস্ট মোট ১৪০টি দেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি জরিপ করে এই সূচক তৈরি করেছে। তাদের ওই জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬তম। শুধু তলানিতেই নয় সূচকে গত বছরের চাইতে এক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ৪৫তম অবস্থান নিয়ে শীর্ষে রয়েছে মালদ্বীপ। মিয়ানমারের অবস্থান ৮৮তম। এছাড়া নেপাল ১১৪, চার ধাপ পিছিয়ে পাকিস্তান ১১৮, শ্রীলঙ্কা ১২০, ভারত ১৩১ এবং সবচেয়ে নীচে ১৪০তম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান।

মোবাইলের ইন্টারনেটের গতির দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ১৮৩ এমবিপিএস এর বেশি। তারপরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, চীন, সৌদি আরব, নরওয়ে, কুয়েত ও অস্ট্রেলিয়া।

এই প্রতিটি দেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ১০০ থেকে ১৭০ এমবিপিএস এর বেশি। তালিকায় ১৩৬তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি ১০.৫৭ এমবিপিএস। যেটা কিনা ভারতে ১২.৪১ এমবিপিএস এবং পাকিস্তানে প্রায় ১৮ এমবিপিএস।

অবশ্য ওই একই সূচকে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার গতিতে অন্য অনেক দেশের চাইতেই এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। সেখানে ১৭৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৬; যা গত বছরের চাইতে এক ধাপ এগিয়ে এসেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ডাউনলোড গতি গড়ে ৩৩.৫৪ এমবিপিএস বলে ওই সূচকে উঠে এসেছে। সে হিসেবে তুরস্ক, গ্রীসের চাইতেও এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার চাইতেও বাংলাদেশ এই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গতিতে কয়েক ধাপ এগিয়ে আছে। ব্রডব্যান্ডে গতি বেশি থাকার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে এই ইন্টারনেট মানুষ ক্যাবলের মাধ্যমে ব্যবহার করে।

যেখানে কিনা মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে স্পেকট্রাম বা বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের এই ক্যাবল দেশের প্রতিটি পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার কারণে নেটওয়ার্ক পেতে কোন সমস্যা হয় না।

আরও পড়ুন: ইন্টারনেটের ধীরগতি সমাধানের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিট

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
প্রযুক্তি

ফাইভজি নেটওয়ার্ক চালু করলো রাশিয়া

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্বপ্ন থেকে বাস্তবে পরিণত হলো। বিশ্বের প্রথমবারের মতো দ্রুতগতির ফাইভজি নেটওয়ার্ক সেবা চালু করলো রাশিয়া। ৬ মার্চ শনিবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রাশিয়ান টেলিকম অপারেটর এমটিএস জানিয়েছে, তারা রাজধানীর মস্কো ও এর আশপাশের ১৪টি এলাকায় ফাইভজি নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে। এলাকাগুলোর মধ্যে মস্কোর জনপ্রিয় গোর্কি পার্ক, মস্কোর স্টেট ইউনিভার্সিটি এলাকা ও মস্কো সিটি ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস সেন্টার অন্যতম।

এ বিষয়ে এমটিএসের সভাপতি আলেক্সি কর্নিয়া জানান, দফায় দফায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পর প্রথমবারের মতো রাশিয়ায় বড় পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু করেছি আমরা, যা আমাদের হাজার হাজার গ্রাহককে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করবে।

এমটিএস জানিয়েছে, নতুন প্রজন্মের এই নেটওয়ার্কে সেকেন্ডে এক দশমিক পাঁচ গিগাবাইট গতিতে ডাটা ডাউনলোড করতে পারবে ব্যবহারকারীরা। ফলে ১০ গিগাবাইটের কোনো সিনেমা বা ফাইল ডাউনলোড করা যাবে এক মিনিটেরও কম সময়ে। তবে চাইলেই গ্রাহকরা ফাইভজি সেবা পাবেন না।

এমটিএস জানিয়েছে, ফাইভজি কাভারেজ আছে এমন এলাকা বা কাছাকাছি এলাকায় যখন যেসব গ্রাহক অবস্থান করবে, তখন তাদের খুদেবার্তা পাঠিয়ে পঞ্চম প্রজন্মের টেলিকম সেবা ব্যবহারের আমন্ত্রণ জানানো হবে। দ্রুত মোবাইল ইন্টারনেট ছাড়াও, ভবিষ্যতে ফাইভজি নেটওয়ার্ক নগরীর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আশা করছে টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি।

শিগগিরই ফাইভজি নেটওয়ার্কের আওতায় আরও নতুন নতুন এলাকাকে সংযুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে এমটিএস কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া এই গ্রীষ্মেই রাশিয়ার বন্দরনগরী সেন্ট পিটার্সবাগের অন্তত ১০টি এলাকায় ফাইভজি সেবা চালুর ঘোষণাও দিয়েছে টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটি।

ফাইভজি চালু ও সেবা প্রদানে বিশ্বে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে চায় রাশিয়া। ২০২৪ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি বড় শহরে পঞ্চম প্রজন্মের টেলিকম সেবা চালু করতে চায় দেশটি। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই সময়ে পাঁচ মিলিয়ন মানুষ ফাইভজি সেবার আওতায় আসবে।

২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশেরও বেশি ফাইভজি নেটওয়ার্ক সেবার আওতায় আসবে। দেশটিতে ফাইভজি গ্রাহক সংখ্যা পাঁচ কোটিতে দাঁড়াবে বলে আশা করছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে স্কোয়াডে চমক

ভয়েস টিভি/এমএইচ

Categories
প্রযুক্তি

হোয়াটসঅ্যাপে প্রাইভেসি পলিসি না মানলে অ্যাকাউন্ট ডিলিট

ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা (প্রাইভেসি পলিসি) রক্ষার জন্য যে নতুন নীতি ঘোষণা করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। আগামী ১৫ মে’র মধ্যে তাতে সম্মতি না জানালে তাদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ইনঅ্যাক্টিভ হয়ে যাবে। তার চারমাস পর (১২০ দিন) সেই অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি ডিলিট করে দেয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষার নতুন নীতি কার্যকর করতে হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। সেই নীতিতে সম্মতি জানানোর জন্য ব্যবহারকারীদের জন্য ১৫ মে পর্যন্ত বেধে দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে যদি কোনো ব্যবহারকারী সম্মতি না জানান, তাহলে তাকে আর নতুন করে সময় দেয়া হবে না।

হোয়াটসঅ্যাপের নতুন প্রাইভেসি পলিসিতে সম্মতি না জানালে ব্যবহারকারীদের কি কি মাশুল গুণতে হবে তা নিজেদের আলাদা একটি পেজে বিস্তারিত জানিয়েছে সংস্থাটি।

বলা হয়েছে, ‘নতুন নীতিতে সম্মতি জানানোর জন্য যে অ্যাকসেপ্ট বাটন রয়েছে তাতে ‘ক্লিক’ না করলে ব্যবহারকারীরা কয়েকদিন হোয়াটসঅ্যাপ কল ও নোটিফিকেশন পাবেন। কিন্তু অ্যাপ থেকে কোনো মেসেজ পড়তে ও পাঠাতে পারবেন না।’

সেক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সামনে দুটি পথ খোলা থাকছে। হোয়াটসঅ্যাপের নতুন নীতিতে সম্মতি জানানো এবং চ্যাট হিস্ট্রি ডাউনলোড করে অন্য মেসেজিং অ্যাপে চলে যাওয়া।

১৫ মে’র মধ্যে নতুন প্রাইভেসি পলিসিতে সম্মতি না জানালে ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট অকেজো হয়ে যাবে। তার ১২০ দিন পর সেই অ্যাকাউন্ট আপনা আপনিই মুছে যাবে।

সূত্র : আনন্দবাজার

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
প্রযুক্তি ভিডিও সংবাদ

চুরি হওয়া মোবাইল শনাক্তে ‘থিফ গার্ড’

মোবাইল চুরি করে আর পার পাবে না চোর। দেশের যে কোন জায়গায় চুরি যাওয়া মোবাইলের অবস্থান শনাক্ত করা যাবে নিমিষেই। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন দেশের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান। নিজের মোবাইল চুরি হওয়ার আক্ষেপ থেকে মোবাইল অ্যাপ ‘থিফ গার্ড’ বানিয়ে ফেলেছেন তিনি।

বাড়ি কিংবা রাস্তা নয়, যেকোনো স্থান থেকে আপনার অ্যান্ড্রয়েট মোবাইল ফোনটি চুরি হলে তার সাথে খোয়া যায় নিত্যসঙ্গী মোবাইলের সব ব্যক্তিগত তথ্যও। এমন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাধান খুঁজতে থাকেন দেশের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাইদুর রহমান। সম্প্রতি তিনি তৈরি করেছেন মোবাইল অ্যাপ থিফ গার্ড।

১৩ টি ফিচারের এই অ্যাপটি বাজারে আনছে তারই প্রতিষ্ঠান সফটালজি। সফটালজি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, তার চুরি হওয়া ফোনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিলো। যা তাকে খুবই কষ্ট দিয়েছে।

থিফগার্ড ডট কম থেকে ডাউনলোড করে শুরুতে ইউজার নাম, মোবাইল নম্বর, ইমেইল, পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাপ চালু করতে হবে। যে কেউ আপনার মোবাইলে ভুল পাসওয়ার্ড দিতে চাইলেই বেজে উঠবে অ্যালার্ম। চাইলেই কেউ সিম খুলতে বা মোবাইল বন্ধ করতে পারবে না। উল্টো মোবাইল ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি ও লোকেশন পাঠিয়ে দিবে আপনার ইমেইলে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অ্যাপের ফিচারগুলো আন্তর্জাতিকমানের। শিগগিরই বাজারে আসবে অ্যাপটি। অ্যাপটি ব্যবহারে প্রতি বছর গ্রাহককে খরচ করতে হবে ৩৫০ টাকা। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, এটি এখন পরীক্ষামূলক পর্যায়ে। সব ধরনের সমস্যা অতিক্রম করে দ্রুতই এগিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোবাইল ফোন চুরি হলে চোরের ছবি ও লোকেশন জানতে সহায়তা করবে অ্যাপটি। এ সময় চোর মোবাইল ফোন বন্ধ করতে বা কম্পিউটারের সঙ্গে কানেক্ট করতেও পারবে না। সিম পরিবর্তন করলে মোবাইল তার মালিককে নতুন সিম নাম্বার জানিয়ে দিবে। অনুমতি ব্যতীত কেউই ডিভাইসে থাকা কোনো ডাটাতে অ্যাক্সেস করতে পারবে না।

এক্ষেত্রে মোবাইল ফোন চুরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেকোনো স্মার্টফোন অথবা কম্পিউটার থেকে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে গিয়ে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলেই চুরি হয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের ক্যামেরা চালু করা যাবে এবং মোবাইল তার মালিকের ইমেইলে ছবি পাঠাতে থাকবে। এ সময় জিপিএস অন করে দিলে লোকেশনও পাঠাতে থাকবে।

এই অ্যাপে অন্যান্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে- মোবাইল ফোনের মালিক চাইলে হারিয়ে যাওয়া ফোনের স্ক্রিন লক করতে পারবেন। এছাড়া যেকোনো সময় ভাইরাস স্ক্যান করতে পারবেন। যেকোনো পাবলিক প্লেসে অন্য কেউ পকেট থেকে মোবাইল বের করতে চাইলে সাইরেন বেজে উঠবে। মোবাইলটা টেবিলে বা চার্জে দিয়ে আপনি অন্য কোথাও থাকলে এবং সে সময়ে কেউ মোবাইলটা চার্জ থেকে খুলতে চাইলে তাৎক্ষণিক সাইরেন বেজে উঠবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সঠিক প্যাটার্ন দিয়ে নির্দিষ্ট অপশনে গিয়ে বন্ধ না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত অ্যালার্ম বাজতেই থাকবে।

প্রথমিকভাবে অ্যান্ড্রয়েড ৭ থেকে ১২ ভার্সনে কাজ করবে অ্যাপটি। আপাতত এক বছর ও দুই বছর মেয়াদে এ থিফগার্ড অ্যাপটি সারাদেশের মোবাইল ফোনের দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। ধীরে ধীরে আইফোনে ব্যবহার উপযোগী করতে চান উদ্যোক্তারা। এজন্য কাজ করছে একটি টিম। এছাড়া ব্যবহারকারীদের সমস্যা সমাধানে রয়েছে কল সেন্টার। ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারলে এ ধরনের আরো অ্যাপ তৈরি করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

Categories
প্রযুক্তি

দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একযোগে সাইবার হামলা

সাইবার হামলার শঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ দেশের কয়েকটি আর্থিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম-সিআইআরটি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

১৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে সাইবার অপরাধ তদন্তে সরকারের বিশেষায়িত এই সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ পুলিশ, করোনা-বিডি, ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও বিকাশসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাইবার হামলার মুখে পড়ার তথ্য এসেছে।

‘ক্যাসাব্লাংকা’ নামের একটি হ্যাকার গ্রুপকে এর জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিআইআরটির সাইবার থ্রেট গবেষণা দল। ‘

১৫ ফেব্রুয়ারি দেশের শীর্ষস্থানীয় এসব প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা ঘটার কথা তারা জানিয়েছে এবং সেগুলোক উচ্চ হুমকির হামলা হিসেবেও চিহ্নিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখনই কোনো আর্থিক লাভের জন্য এই হামলা চালানোর ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে এটি মারাত্মক হুমকির হতে পারে, যা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি বা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

হ্যাকাররা সরকারের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের আদলে ভুয়া ওয়েব পোর্টাল তৈরি করে মানুষকে টিকার বিষয়ে বিভ্রান্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এবং সাইবার হামলার শিকার হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সকল কর্মী, গ্রাহক ও ভোক্তাদের সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

সন্দেহজনক বিষয়ে এই ঠিকানায় যোগাযোগের অনুরোধও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
প্রযুক্তি

শেয়ারইটে হ্যাকিং ঝুঁকি!

জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড ফাইল শেয়ারিং অ্যাপ শেয়ারইটে গুরুতর ত্রুটি বের করেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ড মাইক্রো। ত্রুটি কাজে লাগিয়ে গ্রাহকের সংবেদনশীল ডেটা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ ছিলো হ্যাকারদের।

গুগল প্লে স্টোরে শেয়ারইট অ্যাপটি ডাউনলোড হয়েছে এক শ কোটি বারের বেশি।

ট্রেন্ড মাইক্রোর বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন বলছে, ত্রুটি কাজে লাগিয়ে যে স্মার্টফোনগুলোতে শেয়ারইট ইনস্টল করা রয়েছে সেগুলোতে ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ ছিলো।

ট্রেন্ড মাইক্রোর নিরাপত্তা গবেষক ইকো ডুয়ান বলেছেন, শেয়ারইট নামের অ্যাপ্লিকেশনে আমরা বেশ কিছু দূর্বলতা বের করেছি৷ দূর্বলতা কাজে লাগিয়ে গ্রাহকের সংবেদনশীল ডেটা ফাঁস করা যেতে পারে এবং শেয়ারইট-এর অনুমোদন নিয়ে ক্ষতিকর কোড বা অ্যাপের মাধ্যমে ধ্বংসাত্মক কোড চালানো যেতে পারে।

ডুয়ান আরও বলেছেন, এই ত্রুটির কারণে রিমোট কোড এক্সিকিউশনেরও (আরসিই) আশঙ্কা রয়েছে। আগে এর মাধ্যমে গ্রাহকের ডিভাইস থেকে ফাইল ডাউনলোড ও চুরি করা হতো।

অ্যান্ড্রয়েড প্যাকেজের (এপিকে) মতো অনেক ফাইল আদান প্রদান করা যায় শেয়ারইটের মাধ্যমে। এই ত্রুটিগুলো অনিচ্ছাকৃত বলেও উল্লেখ করেছে ট্রেন্ড মাইক্রো।

নিরাপত্তা গবেষকরা ত্রুটির বিষয়ে শেয়ারইট নির্মাতাকে জানালেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
প্রযুক্তি

মঙ্গলে বসতি স্থাপন করতে চায় আমিরাত

আমিরাত হলো প্রথম আরব দেশ যারা মঙ্গল অভিযানে নেমেছে। আমিরাত এ অভিযানে সফলও হয়েছে। মঙ্গলে পাঠানো তাদের যানটি সেখানে সফলভাবে পৌঁছে ছবিও পাঠিয়েছে।

আমিরাতের আশা, ২১১৭ সালের মধ্যে মঙ্গলে বসতি স্থাপন করা যাবে। সেখানে মানুষ বসবাস করতে পারবে।

বিশ্বের পঞ্চম দেশ হিসাবে তারা মঙ্গলের কাছাকাছি পৌঁছাল। এই মাসে অবশ্য তিনটি দেশের মহাকাশযান মঙ্গলের কাছে গিয়েছে। চীন, আমেরিকা ও আমিরাতের।

আমিরাতের মঙ্গল যান আল আমাল যে ছবি পাঠিয়েছে, তাতে মঙ্গলের আগ্নেয়গিরি দেখা যাচ্ছে। এটা হলো সৌরমণ্ডলের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি। মঙ্গলের কক্ষপথে ঢোকার পর এই ছবি তুলেছে হোপ।

মঙ্গল

এ মহাকাশযান বানানো হয়েছে আমিরাতে। তা মঙ্গলে পাঠানো হয়েছে জাপান থেকে। সাত মাসের দীর্ঘ সফর শেষে তা মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছায়। মঙ্গলের কক্ষপথে মহাকাশযানটির থাকার কথা দুই বছর। ফলে আরো অনেক ছবি সে পাঠাবে, যা এই লাল গ্রহকে জানতে ও বুঝতে সাহায্য করবে।

আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী ও দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতৌম এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেছেন, আরব দুনিয়ার তরফ থেকে প্রথমবার মঙ্গলের ছবি নেয়া হলো। সৃষ্টি হলো ইতিহাস। এই মঙ্গল অভিযানের নেতৃত্বে আছেন এক নারী, সারাহ আমিরি। আমিরাতের বিজ্ঞানীদের মধ্যে তাকেই নেতৃত্বভার দেয়া হয়েছে। তিনি মঙ্গল অভিযানের ডেপুটি ম্যানেজারও।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
প্রযুক্তি

শুধু ব্যাংক নয় ফ্রিল্যান্সারদের আয় আসবে বিকাশ-রকেটে

ফ্রিল্যান্সারদের আয় এখন বিকাশ-রকেটের মতো মুঠোফোন আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসবে। আগে শুধু বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন করা ব্যাংক শাখার মাধ্যমে এসব আয় আসতো।

এ জন্য এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি লেনদেন সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। ১০ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের এই সুযোগ করে দিয়েছে।

এর ফলে আয় আনা আরও সহজ হবে। এ ছাড়া বৈধ চ্যানেলে আয় আসা বাড়বে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্রিল্যান্সারদের আয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আনতে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে। অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার, ডিজিটাল ওয়ালেট প্রোভাইডাররা বিদেশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে কাজ করতে পারবে।

এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন নিষ্পত্তির জন্য হিসাব পরিচালনা করতে হবে। বিদেশি লেনদেনসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা নস্ট্রো হিসাবে জমা হওয়ার পর তা ব্যাংকগুলো এমএফএসগুলোর হিসাবে টাকায় স্থানান্তর করবে। উল্লেখ্য, বিদেশের ব্যাংকে দেশের ব্যাংকের হিসাবকে নস্ট্রো হিসাব বলে।

আরও পড়ুন : ফ্রিল্যান্সাররা পাবে পরিচয় পত্র

এ ছাড়া প্রযুক্তিসেবা খাতের আয় সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকের নামে পরিচালিত ডিজিটাল ওয়ালেটে জমা হবে। বিদেশি লেনদেনসেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো এ দেশে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা কিংবা টাকা হিসাব পরিচালনা করতে পারবে। বিদেশি লেনদেনসেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে পরিচালিত হিসাবে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংক ওভারড্রাফ্ট সুবিধা প্রদান করতে পারবে। তবে ওভারড্রাফট সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে পেমেন্ট গ্যারান্টি থাকতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, রপ্তানিকারকেরা বৈদেশিক মুদ্রায় যে রিটেনশন কোটা সুবিধা পেয়ে থাকে, এ ক্ষেত্রেও এই সুবিধা থাকবে। মুঠোফোনে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন নিষ্পত্তি হিসাবে অর্থ জমা করার পূর্বে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজনীয় অংশ রিটেনশন কোটা হিসাবে জমা করা যাবে।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
প্রযুক্তি ভিডিও সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের অস্তিত্ব কী সংকটে

মানুষকে তাক লাগিয়ে দেয়ার মতো বুদ্ধমত্তা এবং কার্যকলাপ করে যেসব যন্ত্র বা রোবট সেগুলোই হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট। মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কৃত্রিম উপায়ে প্রযুক্তি নির্ভর করে যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে।

কম্পিউটারকে মিমিকস কগনেটিক এককে আনা হয় যাতে করে কম্পিউটার মানুষের মত ভাবতে পারে। যেমন শিক্ষা গ্রহণ এবং সমস্যার সমাধান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হল মেশিন দ্বারা প্রদর্শিত বুদ্ধি। কম্পিউটার বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে, এআই গবেষণার ক্ষেত্রটি ‘বুদ্ধিমান এজেন্ট’-এর অধ্যয়ন হিসাবে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করে: যে কোনও যন্ত্র যা তার পরিবেশকে অনুধাবন করতে পারে এবং এমন কিছু পদক্ষেপ নেয় যা কিছু লক্ষ্য অর্জনে তার সাফল্যকে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে নেয়। একটি সিস্টেমের বহির্ভূত তথ্য সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারার ক্ষমতা, এমন তথ্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং ঐ শিক্ষা ব্যবহার করে নমনীয় অভিযোজনের মাধ্যমে বিশেষ লক্ষ্য করা।

মেশিনগুলি ক্রমবর্ধমানভাবে সক্ষম হয়ে উঠে তখন মানসিক সুবিধার জন্য বুদ্ধিমত্তাকে সংজ্ঞা থেকে সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়। উদাহরণস্বরূপ, অপটিক্যাল অক্ষর স্বীকৃতিটি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার’ উদাহরণ হিসাবে আর অনুভূত হয় না, তখন এটি একটি রুটিন প্রযুক্তি হয়ে ওঠে। বর্তমানে যে সক্ষমতাগুলোকে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে সেগুলি মানুষের বক্তব্যকে সফলভাবে বুঝতে পারে।
চিন্তা করতে সক্ষম কৃত্রিম মানুষ মূলত গল্প বলার যন্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। রামন লোল ১৩শ শতাব্দীতে এই ধারণার উদ্ভাবন করেন। ১৯৫৬ সালে জন ম্যাকাটি আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ধারণা ডার্থমাউন্ট পরে ১৯৯০ এবং একবিংশ শতকের প্রথম দিকে সরবরাহ, ডেটা মাইনিং, চিকিৎসা নির্ণয়ের এবং অন্যান্য এলাকার জন্য এআই ব্যবহার করা শুরু করেছিল।২০১০ এর মাঝামাঝি পর্যন্ত, সারা পৃথিবীতে মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লিকেশনগুলি ব্যবহার করা হতো।

২০১৫ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য একটি মাইলফলক বছর ছিল, গুগলের মধ্যে এআই ব্যবহার করার জন্য সফটওয়্যার প্রকল্পগুলোর সংখ্যা ২০১২ সালে ২৭০০ এরও বেশি প্রকল্পে ‘স্পোরাইডিক ব্যবহার’ বৃদ্ধি পেয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য সহায়ক নাকি হুমকি এমন প্রশ্ন উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই আই অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রোবটিক কার্যক্রম হেলথকেয়ার মানে স্থাস্থ্যসেবা বিজনেস বিশ্লেষন এবং মার্কেটিং এর জন্য।

যেমন গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনগুলো কিভাবে এত নিখুঁত ফলাফল দিচ্ছে। কিভাবে ফেসবুক একের পর এক ব্যক্তির চাহিদামত কন্টেন্ট দিতে পারে। এজন্য কিছু তথ্য বা উপাত্তের ওপর নির্ভর করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্ট।
আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্ট এখন তিনটি ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে একটি হলো আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্টের সংর্কীণ প্রয়োগ আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্টের সাধারণ এবং সুপার প্রয়োগ।

সংকীর্ণ বা ন্যারো ইন্টালিজেন্ট হলো একেবারেই নিয়মবদ্ধ কাজ করে। তাকে গন্ডির মধ্যে যতটুকু কাজ করতে বলা হয় সে শুধু সেটুকুই করে।

ফেস ভেরিফিকেশন মোবাইলে অটোপাইলট ফিচার ডেসলার গুগল ম্যাপ এমন সংকীর্ণ ইন্টিলিজেন্সের প্রকৃষ্ট উদহারণ। শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হলো এমন বিষয় যা নিজে থেকেই তার কাজগুলোর গন্ডি বাড়াতে পারে।

আর সুপার এ আই হলো মানুষের বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যায়। এই উদহারণ আমরা দেখতে পারি সায়েন্স ফিকশন মুভি এবং অবাক করা সব চিত্রায়নে। অনেক বিজ্ঞানী মনে করে আগামী ২০৪০ সালে সুপার আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্ট পৃথিবী শাসন করবে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
প্রযুক্তি ভিডিও সংবাদ

গুগল ম্যাপে নিজের ঠিকানা যুক্ত করবেন যেভাবে

গ্যারেজে জন্ম নেয়া গুগলের কল্যাণে প্রযুক্তি বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। বলতে গেলে গুগল ছাড়া প্রযুক্তি বিশ্ব অন্ধ প্রায়। এখন অপরিচিত কোনো গন্তব্যে যেতে চাইলে গুগল ম্যাপের সাহায্যে আগে থেকেই দেখে নেয়া যায়- দূরত্ব, সময় ও রুট। তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বায়নের যুগে নিজের ঠিকানাটাও গুগল ম্যাপে দেখা যাবে সেটা কে না চায়!

গুগল লিমিটেড লায়াবেলিটি কোম্পানি ইন্টারনেটভিত্তিক সেবা ও পণ্যে বিশেষায়িত একটি আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ছাত্র থাকাকালীন ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন বিশ্ব প্রযুক্তিতে ১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এর আবির্ভাব ঘটায়। তখন এটি নিয়ন্ত্রণ করা হত তাদের এক বন্ধুর গ্যারেজ থেকে। সেই থেকে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বায়নের যুগে সবার আস্থার জায়গা দাঁড়িয়েছে গুগল।

গুগলের প্রধান সেবা গুগল সার্চ ছাড়াও নতুন পণ্য, অধিগ্রহণ ও অংশীদারত্বের সঙ্গে সঙ্গে কোম্পানিটির দ্রুত প্রসার হয়। উল্লেখযোগ্য সেবার মধ্যে হচ্ছে কাজ ও প্রোডাক্টিভিটি সেবা- গুগল ডক, শিট ও স্লাইড। এছাড়া জিমেইল, গুগল ক্যালেন্ডার, গুগল ড্রাইভ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-গুগল+, ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজিং ও ভিডিও চ্যাট, গুগল ট্রান্সলেট, ইউটিউব, গুগল কিপ, গুগল ফটোজ এবং গুগল ম্যাপ।

গুগল ম্যাপ এখন অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে আমাদের জীবনযাত্রা। মুঠোফোনে এক চাপেই জেনে নেয়া যায় পথঘাটের অবস্থা। অপরিচিত যেকোনো গন্তব্যে যেতে চাইলে গুগল ম্যাপে আগ থেকেই দেখে এবং চিনে নেয়া যায় দূরত্ব, সময় ও রুট নম্বর। বিশেষ করে রাজধানীর যানজটের চিত্র দেখা যায়, যার মাধ্যমে খুব সহজেই আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ করে দেয় গুগল ম্যাপ।

আপনার সার্চ করা স্থানটির ঠিকানা কেউ যুক্ত করে দিয়েছে গুগল ম্যাপে, যার ফলে খুব সহজেই আপনি সেটি খুঁজে পান। তবে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা গুগল ম্যাপে যুক্ত থাকে না। যার কারণে অনেক সময় অসুবিধায় পরতে হয়। সেক্ষেত্রে যে কেউ চাইলেই যে কোনো অফিস ও দোকান ম্যাপে যুক্ত করতে পারে। এছাড়া নিজেদের ঠিকানা অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাও সংযুক্ত করে নিতে পারি।

গুগল বিশ্লেষকদের দেয়া তথ্য মতে গুগল ম্যাপে ঠিকানা যোগ করার কিছু সহজ পদ্ধতি রয়েছে। যার মধ্যে প্রথমে স্মার্টফোনে থাকা গুগল ম্যাপটির ব্যবহার জানতে হবে। তবে তার আগে থেকে অবশ্যই স্মার্টফোনে নিজস্ব গুগল অ্যাকাউন্ট লগইন করে রাখতে হবে। পরে গুগল ম্যাপ অ্যাপটি চালু হবার পর কন্ট্রিবিউশন অপশন থেকে প্লাস আইকনে ক্লিক করে নিতে হবে।

তারপর ওপরের দিকে নামের ঘরে অফিস, প্রতিষ্ঠান অথবা বাড়ি যে স্থানটি সংযুক্ত করতে চান, সে নামটি টাইপ করে দিতে হবে। এবার নিচের ক্যাটাগরি থেকে ধরন সিলেক্ট করে দিতে হবে। যেমন- দোকান যুক্ত করতে চাইলে store অপশন, অথবা বাড়ি যুক্ত করতে চাইলে হাউস অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপরের ধাপ হচ্ছে- সেই লোকেশনের ছবি, মোবাইল নম্বর, বন্ধ এবং খোলার সময় এ্যাড করা। এগুলো যুক্ত করার জন্য নিচে ক্লিক করতে হবে।

এসকল প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো পূরণ করে সেভ অপশনে ক্লিক করলেই সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে। একদম শেষে লোকেশনটি গুগল ম্যাপে নিজের ঠিকানা যুক্ত করার জন্য ওপরে থাকা সেন্ড আইকনে ক্লিক করতে হবে। এরপর একটি মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। এটি তাৎক্ষণিক বা কয়েক দিন সময়ও লাগতে পারে।

ম্যাপ কন্ট্রিবিউটরদেরকে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে লেভেল ওয়ান থেকে শুরু করে কয়েকটি ধাপে ভাগ করা হয়। সেটি কন্ট্রিবিউটরদের কাজের ওপর পয়েন্ট ধরে নির্ধারণ করা হয়।

ভয়েসটিভি/এএস