Categories
ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ সারাদেশ

বসন্ত-ভালোবাসায় গোলাপ গ্রাম!

গ্রামের নাম সাদুল্লাহপুর হলেও সবার কাছে এখন পরিচিত গোলাপের গ্রাম নামে। সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের তুরাগ নদীর পাড় ঘেঁষা গ্রামটি যেন গোলাপের সুগন্ধ আর চোখ জুড়ানো দৃশ্যের ডালি সাজিয়ে বসেছে। এ যেন গোলাপের রাজ্য। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষ হলেও গোলাপের চাষ সবচেয়ে বেশি। বাণিজ্যিক বা সখের বসেই হোক না কেন এ গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই গোলাপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগতম জানাতে অবিরত স্নিগ্ধতা ছড়াচ্ছে এসব গোলাপ। ফুল গাছগুলো দোল খাচ্ছে হিম ছড়ানো অলস হাওয়ায়। রঙিন ফুল, সবুজ পাতা আর মৌমাছির গুঞ্জনে তৈরি হয়েছ অপূর্ব এক মোহ। এমন দৃশ্য দেখার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিদিনই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন ফুল প্রেমীরা।

করোনাকালীন সময়ে সামাজিক উৎসব কম থাকায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে ফুল চাষীরা। তবে আসন্ন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, পহেলা ফাল্গুন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষীরা। ভালো দাম পেলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে উঠার আশা এখানকার ফুল চাষীদের।

এদিকে আসন্ন দিবসগুলো উপলক্ষে এবার ১শ ২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ। তিনি আরও জানিয়েছে, করোনার মধ্যে চাষীদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে উঠতে যথাযথ পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ থেকে চাষীদের জন্য ৩ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে সাভারে প্রায় ৩শ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে গোলাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষাবাদ হয়। এর মধ্যে সিংহভাগ ফুলই চাষ হয় বিরুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।

ভয়েসটিভি/টিআর/এএস

Categories
ভ্রমণ

সৌন্দর্যের ‘স্বর্গ’ দেবতাখুম

পাহাড়ের বুকে মারমাদের বসবাস। তাদের আবাসভূমির ওপর দিয়েই পর্যটকদের পদচারণা। পাহাড়ি মানুষগুলোর বাড়ির উঠোন ধরে এগোলেই পাওয়া যায় গহীন অরণ্যে লুকিয়ে থাকা দেবতাখুম। শীলবাধা পাড়ার বেশিরভাগ ঘরগুলো মাটি থেকে দুই ফুট ওপরে অবস্থিত। এটিই হয়তো তাদের ঘর তৈরির নিয়ম। পর্যটকদের ক্যামেরায় হরহামেশাই বন্দি হয় এই ঘরগুলো। অথচ যাদের ঘর নিয়ে পর্যটকদের এত উন্মাদনা, তাদের নেই পর্যটকদের নিয়ে তেমন আগ্রহ। স্থানীয় মারমা সদস্যরা নিজেদের কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।

দেবতাখুম পর্যটকদের কাছে অন্যতম কাঙ্ক্ষিত স্থান। দেবতাখুম ভ্রমণে শুরু থেকে রোমাঞ্চ হাতছানি দিয়ে যায়।পাহাড়ি আঁকাবাঁকা-উঁচুনিচু পথ দিয়ে চান্দের গাড়ির যাত্রায় শান্ত প্রকৃতি পর্যটকদের অন্তরে সুখের পরশ বুলিয়ে দেয়। বান্দরবান শহর থেকে প্রথমেই রোয়াংছড়ি পৌঁছাতে হয়। সেখানে দর্শনার্থীদের পরিচয়পত্র রোয়াংছড়ি থানায় জমা দিতে হয়। সকলের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে ভ্রমণ আবশ্যক।

দেবতাখুম ভ্রমণে গাইড ছাড়া এক পা-ও এগোতে দেবে না স্থানীয় প্রশাসন। রোয়াংছড়ি থানায় পরিচয়পত্র জমা দেয়ার পর কচ্ছপতলী বাজারে লিরাগাঁও সেনাবাহিনী ক্যাম্পে আবারও জমা করতে হয় দর্শনার্থীদের নাম-ঠিকানা। সেনাবাহিনীর কাছে চেক ইন করার পর আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, দুপুরের খাবার আপনি কচ্ছপতলী বাজারে খাবেন, নাকি দেবতাখুমের পথে পাহাড়িদের বাড়িতে। অনেকেই স্থানীয়দের হাতে তৈরি রান্না খেতে ভালোবাসেন। পাহাড়ি জুমের তৈরি চাল,লাল মুরগির সমন্বয়ে সুস্বাদু খাবারের আয়োজন থাকে সেখানে। এক্ষেত্রে গাইডের সঙ্গে আগে থেকেই আলোচনা করে রাখলে গাইডই সব ব্যবস্থা করে দেয়। গাইডের নির্দেশনানুযায়ী ভ্রমণ করলে দেবতাখুম সফর অনেকখানি সাবলীল হয়ে যায় পর্যটকদের জন্য।

পর্যটকদের অবশ্যই দুপুর ১২টার মধ্যেই রোয়াংছড়ি থানা ও কচ্ছপতলী বাজারের লিরাগাঁও সেনাবাহিনী ক্যাম্পে চেক ইন করতে হবে।

বান্দরবান শহর থেকে রোয়াংছড়ি মাত্র ঘণ্টাখানেকের পথ। পথিমধ্যে যতদূর চোখ যায় রাস্তার দু’ধারে ঢেউ খেলানো অসংখ্য পাহাড়। দিগন্ত বিস্তৃত উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়ে ঘিরে থাকা অঞ্চল তার বিশালতা প্রমাণ করে। পাহাড়ের চূড়ায় গুচ্ছাকারে কিছু জমে থাকা মেঘ ধরা পড়ে চোখে। নীলগিরির পথের মতো স্বচ্ছ মেঘ এখানে খালি চোখে ধরা না দিলেও সবুজ পাহাড়ের চূড়ায় সামান্য মেঘের স্তুপ ভ্রমণে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

দেবতাখুম

চান্দের গাড়িতে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করলে ৩৬০ ডিগ্রি প্রাকৃতিক দৃশ্যের অভিজ্ঞতা নেয়া যায়। পাহাড়িদের পরিশ্রমের প্রমাণ পাওয়া যায় পাহাড়ের বুকে বেড়ে ওঠা কলাগাছ, আখ, জুম চাষের ক্ষেত দেখে।

কচ্ছপতলী বাজার থেকে দেবতাখুম পৌঁছানোর রাস্তা দুটি। একটি পাহাড়ি পথ, অপরটি ঝিরিপথ। পাহাড়ি পথের যাত্রায় একদম প্রথম কদম থেকেই আপনাকে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে। দীর্ঘদিনের জং ধরে থাকা শরীর আপনার মনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ক্লান্তি ধরিয়ে দেবে। একে একে তিনটি পাহাড় মাড়াতে হবে। তিনটি পাহাড় পেরিয়ে আপনার উপলব্ধি হবে, পর্যটক ও স্থানীয় মারমা সম্প্রদায়ের কৃষিকাজ করা ব্যক্তিদের পদচারণায় পাহাড়ের বুকে মাটি অনেকখানি সিঁড়িতে রূপ নিয়েছে। এই সিঁড়িরূপী পাহাড়ি মাটি সামনের পথেও বন্ধুর হয়ে দেখা দেবে। একধাপ-দু’ধাপ করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে এগোবেন নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে। কয়েক প্রজাতির পাখি ও গাছের সংমিশ্রণে দেবতাখুমের যাত্রাপথ সমৃদ্ধ।

পঞ্চাশ মিনিটের অধিক সময় পাহাড়ি পথ পেরিয়ে আমরা দেখা পেয়েছিলাম প্রথম ঝিরিপথের। ঝিরির পানির স্রোত শারীরিক ভারসাম্য নষ্ট করলেও মানসিক তৃপ্তি উপহার দেবে তার হিমশীতল বৈশিষ্ট্যে। ঝিরিপথের বাকি অংশ কেবলই উচ্ছ্বাসের গল্প। কারণ অল্প একটু এগোলেই শীলবাধা পাড়া।

এই পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে বেয়ে চলা ঝিরিপথ, চারপাশ ঘিরে থাকা পাহাড়, পাথুরে পথ ও চমৎকার নীল আকাশ চোখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। এখান থেকেই দেবতাখুমের মূল আকর্ষণ শুরু। লাইফ জ্যাকেট কিনে একটু সামনে এগোলেই ঝিরির পানি সবুজ হতে শুরু করে। বাকি পথটুকু পর্যটকদের দুবার নৌকায় পার করে দেয়। নৌকা সর্বদা প্রস্তুত সেখানে। লাইফ জ্যাকেট পরিধান বাধ্যতামূলক। দেবতাখুমের ভেতরে যাওয়ার জন্য বাকি দায়িত্ব আপনাকে পালন করতে হবে। আগে থেকে তৈরি ভেলায় বসে পথ পাড়ি দিতে হবে। কাঁচা বাশের শক্তপোক্ত ভেলা রূপকথার উড়ে যাওয়া চাদরের মতো লাগে।

দেবতাখুমের পানি সবুজ ও ঠাণ্ড। শীতের মৌসুমেও প্রশান্তির বার্তা দিয়ে যায়।

খুমের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০০ ফুট। পথিমধ্যে অসংখ্য পাথর গতিপথ পাল্টে দেয়। বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার প্রমাণ দিয়ে নিজের ভেলাকে উদ্ধার করে নিতে হয়। ভেলা নিয়ে যতই ভেতরে প্রবেশ করবেন, ততই নিজেকে ভীষণ সুখী মানুষ মনে হবে।

শারীরিক কসরত বেশি হলেও খুমের অকল্পনীয় সৌন্দর্যের রূপ সকল ক্লান্তি মুছে দেবে। সুনসান নীরবতায় ঘেরা দেবতাখুম। পৃথিবীর সমস্ত নীরবতা যেন এখানে এসে জমা হয়েছে। প্রশান্তি নিয়ে ভেলায় শুয়ে তৃপ্তির ঘুম অসম্ভব কিছুই নয়। খুমের দুদিকে বেড়ে ওঠা দানবাকৃতির পাহাড় যেন খুমের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে দিয়েছে কয়েকগুণ। খুমের অপার্থিব মায়াবী দৃশ্যে মুগ্ধ হয়ে পর্যটকরা সামনে এগোতে থাকে। সামনে দেখা মেলে সরু পথের, তখন মোড় ঘুরিয়ে আবারও সোজা আকৃতিতে আনতে হয় ভেলা। আরও খানিকটা পথ সামনে এগোলেই খুমের শেষ প্রান্তের দেখা মিলবে। ৬০০ ফুটের এই পথ পাড়ি দিতে সময়ের প্রয়োজন হবে আনুমানিক ১ ঘণ্টা। যাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই, তাদের সময় তুলনামূলক বেশি লাগবে।

একবেলা পাহাড় হলে অন্যবেলা ঝিরিপথ। ঝিরিপথে নাম-পরিচয়হীন তিন থেকে চারটি ঝর্ণা রয়েছে। প্রতিটি ঝর্ণা শীতকালে মৃত থাকে, বর্ষায় জেগে ওঠে। আবেদনময়ী শীতকাল চিরকালই জীবনে অতীত ফেরত আনে। মানুষের ব্যস্ততম জীবনে একটুখানি প্রশান্তির আশ্রয় মেলে ভ্রমণের মাধ্যমে। জমে থাকা ভারী নিঃশ্বাস প্রকৃতির কোলে ছেড়ে দিয়েই শান্তি খোঁজার প্রয়াস সবার মাঝে। গহীন অরণ্যের মাঝে লুকিয়ে থেকেও দূর-দূরান্তের পর্যটকদের একটুখানি প্রশান্তির উপলক্ষ হয়ে আছে।বান্দরবানের গহীন অরণ্যে অবস্থান করেও চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে যাচ্ছে বছরের পর বছর পর্যটকদের। তাই দেবতাখুমের সৌন্দর্য রক্ষার্থে পর্যটকদের ভূমিকাও কোনো অংশে কম নয়। সচেতনতা প্রতি পদেই জরুরি দেবতাখুম ভ্রমণে।

ভয়েস টিভি/এমডি/এসএফ

Categories
ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ সারাদেশ

প্রাচীন নিদর্শন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি

রাজধানীর গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে মানিকগঞ্জ শহরে পৌঁছানোর ঠিক আগে গ্লোরা বাসস্ট্যান্ড হয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তরে বালিয়াটি জমিদার বাড়ির অবস্থান।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সবসময় যানবাহনের চাপ থাকলেও দু’পাশ কিন্তু বেশ সুন্দর। শুধু সবুজ আর সবুজ। কখনও মনে হতে পারে যেন সবুজের আল্পনা অঁকে রেখেছে কেউ।

দূরে গ্রাম আর মাঠের পর মাঠ জুড়ে ফসলের ক্ষেত। কোথাও আবার ডোবা-নালা। একদিন একটু ইচ্ছে হলে যে কেউই গ্রামীণ আমেজ পেতে এই মহাসড়ক ধরে লং ড্রাইভে যেতে পারেন। চোখ জুড়ানো সবুজ দেখতে পাবেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। সেইসঙ্গে কিছু মনোরম দৃশ্য যে বিশেষভাবে নজর কাড়বে না। তা একদমই বলা যাবে না।

বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে রয়েছে মোট সাতটি স্থাপনা। এই জমিদার বাড়ি বা প্রাসাদটির সবগুলো ভবন একসঙ্গে স্থাপিত হয়নি। বিভিন্ন ভবন জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকারীকারীরা বিভিন্ন সময়ে স্থাপন করেছিলেন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্লকটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এই প্রাসাদটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষিত ও পরিচালিত হচ্ছে। উনিশ শতকের এই ইমারত ঔপনিবেশিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। ১৯৮৭ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর বালিয়াটি প্রাসাদ সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- একটি নিম্নবিত্ত সাহা পরিবার থেকেই পরবর্তীতে বালিয়াটি জমিদার বংশের উদ্ভব হয়েছিলো। এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি জমিদার বাড়িটি। দর্শনীয় স্থান হিসেবে এটি বেশ পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের ঢল নামে এই জমিদার বাড়িতে। দূর-দূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা।

বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে আছে দৃষ্টিনন্দন ইমারত, নির্মাণ কৌশল আর নানা অলংকরণ। জমিদার আমলের বিশাল বিশাল ভবনগুলো জমিদারদের বিত্ত বৈভবের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ঝড়-তুফান, বৃষ্টি-বাদল উপেক্ষা করে এখনো কালের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটি। জমিদার বাড়ির সিংহ দরজায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে প্রশস্ত আঙিনা। একই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে চারটি বহুতল ভবন। এগুলোর পেছনে রয়েছে অন্দরমহল এবং বেশ কয়েকটি বড়-বড় পুকুর। জমিদার বাড়ির ভেতরের রং মহল খ্যাত ভবনটি এখন জাদুঘর। পুরো জমিদার বাড়ির চত্বরটি উঁচু প্রাচীরে ঘেরা। প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রাসাদের ২০০ কক্ষের প্রতিটিতেই রয়েছে প্রাচীন শিল্পের সুনিপুণ কারুকাজ। প্রাসাদ চত্বরটি প্রায় ১৬ হাজার ৫৫৪ বর্গমিটার জমির ওপর ছড়িয়ে থাকা সাতটি দালানের সমাবেশ। প্রতিটি দালানই ঊনবিংশ শতকে নির্মিত। জমিদার বাড়ির চারটি প্রবেশ দ্বার রয়েছে। প্রতিটি প্রবেশ দ্বারের উপর রয়েছে একটি করে তেজী সিংহের পাথরের মূর্তি।

বর্তমানে জমিদার বাড়ির প্রশস্ত আঙিনাজুড়ে রয়েছে ফুলের বাগান। আর পুকুরের চারপাশে রয়েছে চারটি শান বাঁধানো নান্দনিক ঘাট। বাড়ির প্রতিটি দেয়াল ২০ ইঞ্চি পুরু। গাঁথুনিতে সিমেন্টের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে চুন-সুরকি আর শক্তিশালী কাদামাটি। লোহার রডের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে লোহার পাত। ভেতরে রয়েছে লোহার সিঁড়ি। ধারণা করা হয়, সামনের চারটি প্রাসাদ ব্যবসায়ী কাজে ব্যবহার করা হতো। এছাড়া, অন্দরমহলে গোবিন্দরাম পরিবার বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।

বালিয়াটি প্রাসাদটি স্থাপত্য কৌশলের অন্যতম নিদর্শন। সুবিশাল এই প্রাসাদ পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্লকের সমন্বয়ে গঠিত। যার মধ্যে পূর্বদিকের একটি ব্লক ছাড়া চারটি ব্লকের দুটিতে একটি দ্বিতল ভবন এবং একটি টানা বারান্দা বিশিষ্ট ত্রিতল ভবন রয়েছে। প্রাসাদটির পেছনে রয়েছে অন্দরমহল। উত্তরদিকের ভবনটি কাঠের কারুকার্যে তৈরি। সুবিশাল প্রাসাদটির চারপাশেই সু-উচ্চ দেয়াল রয়েছে। প্রতিটি অর্ধ-বৃত্তাকার খিলান আকৃতির রয়েছে সিংহ খোদাই করা তোরণ।

জমিদার বাড়িটির ঐতিহ্য শুরু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। আর এই গোলাবাড়িটি লবণের একটি বিশাল গোলা ছিল বলেই ধারণা করা হয়। জমিদাররা ধর্মপ্রাণ হওয়ায় বাড়ির মন্দিরে পূজা অর্চনা করা হতো।

১৮৮৪ সালে বালিয়াটি জমিদারের উত্তরাধিকার জমিদার কিশোরীলাল রায় চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেন- বিখ্যাত জগন্নাথ কলেজ।

জমিদার বাড়ির পশ্চিম অংশকে পশ্চিম বাড়ি এবং পূর্ব অংশ পূর্ববাড়ি বলেও নামকরণ রয়েছে। এ বাড়ির প্রথম জমিদার পুরুষ রায় চাঁন। তিনি দুটি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের সম্পত্তির দশ আনা অংশ এবং দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সন্তানদের দান করেন ছয় আনা অংশ। দশ আনার জমিদার বাড়িটিই বর্তমানে পর্যটকদের দর্শনীয় স্থান। এখানে পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত চারটি সু-বৃহৎ অট্টালিকা রয়েছে। এগুলো বড় তরফ, মেঝো তরফ, নয়া তরফ এবং ছোট তরফ নামেও পরিচিত। তবে ছয় আনার জমিদার বাড়ির অস্তিত্ব এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

বালিয়াটি জমিদার বাড়িটি রোববার পূর্ণদিবস ও সোমবার অর্ধদিবসসহ সরকারি ছুটির দিনসহ ঈদের পর দিন এই প্রাসাদ বন্ধ রাখা হয়। বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা আছে। এরমধ্যে দেশি, বিদেশি এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন প্রবেশ মূল্য।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
জাতীয় ভ্রমণ

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পরিবেশ অধিদফতরের বিধি-নিষেধ

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতর। দ্বীপটিকে ‘প্রতিবেশগত সঙ্কটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে অধিদফতর জানিয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন এবং পর্যটকদের অসচেতনতা, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা, পরিবেশ এবং প্রতিবেশ বিরোধী আচরণের কারণে সেন্টমার্টিনের বিরল প্রতিবেশ এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত।

পরিবেশ ও বিরল জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারসহ দ্বীপটিকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ০৪ ধারার ক্ষমতাবলে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে অধিদফতর।

বিধিনিষেধসমূহ-

– দ্বীপের সৈকতে সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যানসহ কোনো ধরনের যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক বাহন চালানো যাবে না

– দ্বীপের সৈকত, সমুদ্র এবং নাফ নদীতে প্লাস্টিক বা কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না

– পশ্চিম দিকের সৈকতে কোনাপাড়ার পর দক্ষিণ দিকে এবং পূর্ব দিকের সৈকতে গলাচিপার পর দক্ষিণ দিকে যাওয়া যাবে না

– দ্বীপের চারপাশে নৌ-ভ্রমণ করা যাবে না

– জোয়ার-ভাটা এলাকায় পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটা যাবে না

আরও পড়ুন – আরও আকর্ষণীয় হচ্ছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন

– সামুদ্রিক কাছিমের ডিম পাড়ার স্থানে চলাফেরা,রাতে আলো জ্বালানো এবং ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করে ছবি তোলা যাবে না

– সৈকতে রাতের বেলা কোনো ধরনের আলো বা আগুন জ্বালানো, আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানো যাবে না

– সৈকতে মাইক বাজানো, হৈ-চৈ এবং উচ্চস্বরে গান-বাজনা করা কিংবা বার-বি-কিউ পার্টি করা যাবে না

– ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে স্পিডবোট, কান্ট্রি বোট, ট্রলার কিংবা অন্যান্য জলযানে যাতায়াত কিংবা নোঙর করা যাবে না

– সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে সরকারের অধিগ্রহণ করা ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ ভ্রমণ করা যাবে না

– প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, তারা মাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস, সামুদ্রিক শৈবাল এবং কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না

– জাহাজ থেকে পাখিকে চিপস বা অন্য কোনো খাবার খাওয়ানো যাবে না

– দ্বীপে সুপেয় পানির পরিমাণ সীমিত হওয়ায় পানির অপচয় রোধ করতে হবে

সর্বোপরি সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রতিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে ভ্রমণকারীসহ সবাইকে।

বর্ণিত এসব বিধি-নিষেধের লঙ্ঘন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে ওই সরকারি গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন- কক্সবাজার সৈকতে বর্জ্যের সঙ্গে ভেসে আসছে মৃত প্রাণী

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
ভ্রমণ সারাদেশ

অপরূপ সাজে সুন্দরবন, ভ্রমণ পিয়াসুদের ভিড়

সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় বইছে হিম হিম হাওয়া। তবে এখনো তীব্র শীত আসেনি উপকূলীয় এলাকায়। হালকা শীতের মধ্যেই এখন পর্যটকরা ছুটছেন সুন্দরবনে। করোনার মহামারিতে দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত পহেলা নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় সুন্দরবন।

এরই মধ্যে, দেড় মাসে পশ্চিম সুন্দরবন খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চল পরিদর্শন করেছেন সাত হাজার পর্যটক।

বন বিভাগ বলছে, দীর্ঘদিন মানুষ ঘরবন্দি থাকার পর বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পেয়েই প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে ছুটছেন সুন্দরবনে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের তুলনায় এ বছর পর্যটকের সংখ্যা কমেছে। এ কারণে কমবে রাজস্ব আয়ও।

পশ্চিম সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য অনুমতি নিতে হয় খুলনা বিভাগীয় বন কার্যালয় ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের নীলডুমুর ও মুন্সিগঞ্জ বন অফিস থেকে।

এর মধ্যে সুন্দরবনের কলাগাছিয়া এলাকায় প্রবেশের জন্য নীলডুমুর ও মুন্সিগঞ্জ বন অফিস অনুমতি দেয়। হিরনপয়েন্ট, মান্দারবাড়িয়া, দুবলারচর, কটকা, কুন্নেরদীপ, পুটনি, বঙ্গবন্ধু চর এসব এলাকা পরিদর্শনে অনুমতি দেয় খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়।

সুন্দরবন

খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে পশ্চিম সুন্দরবন খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চল পরিদর্শন করেছে ৬৫ হাজার ১৪২ জন পর্যটক। এর মধ্যে বিদেশি পর্যটক ৪৪৩ জন। রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮২ লাখ ৬৭ হাজার ৩৫০ টাকা।

কোভিডের কারণে চলতি বছরের ২৫ মার্চ থেকে সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর গেল পহেলা নভেম্বর পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে সুন্দরবন। চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরে নভেম্বর মাসে সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন ৬ হাজার ৫৭৭ জন পর্যটক। এর মধ্যে দেশি ৪ হাজার ৯৮ জন পর্যটক, বিদেশি চারজন ও তীর্থযাত্রী ২৪৭৫ জন। রাজস্ব আদায় হয়েছে ১২ লাখ ২০ হাজার ৮১০ টাকা।

অন্যদিকে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে নভেম্বর মাসে দেশি পর্যটক ছিল ২৬৫৬ জন, বিদেশী ৮৮ জন। রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৫ টাকা।

সে হিসেবে দেখা যায়, চলতি অর্থ বছরে নভেম্বর মাসে পর্যটকের সংখ্যা ও রাজস্ব আদায় বেড়েছে। এছাড়া ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্চের কলাগাছিয়া ও দোবেকী এলাকা পরিদর্শন করেছেন ৬০২২ জন। রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮০ টাকা।

খুলনা বিভাগীয় বন অফিসের অফিস সহকারী আলী হোসেন জানান, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ ভ্রমণ করতে হলে সাতক্ষীরা রেঞ্চ, খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান ও মোংলার পশুর নদী হয়ে প্রবেশ করতে হয়। তবে পর্যটকরা সাধারণত মোংলার পশুর নদী ও সাতক্ষীরা রেঞ্চের মুন্সিগঞ্জ, নীলডুমুর এলাকা দিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। এখন থেকে পাস নিয়ে পশ্চিম ও পূর্ব বন বিভাগ দুই এলাকাই ভ্রমণ করা যায়।

সম্প্রতি সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আমিনুর রহমান বুলবুল। তিনি বলেন, টানা সাত মাস বন্ধ থাকায় প্রকৃতি যেন সেজেছে নতুন রূপে। প্রকৃতিকে উপভোগ করেছি। তাছাড়া অনেকদিন পর বাইরে বের হওয়ার সুযোগ পেয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভ্রমণ পিপাসু মানুষরা ছুটছেন সুন্দরবনে।

শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ওসমান গণি জানান, যৌবন ফিরে পেয়েছে সুন্দরবন। সুন্দরবনে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলেন পর্যটকরা। তবে দীর্ঘদিন সেগুলো থেকে মুক্ত ছিল সুন্দরবন। এতে পরিবেশ দূষণও কমেছে।

অন্য বছরের তুলনায় এ বছর সুন্দরবনে পর্যটকদের সমাগম কমেছে। হতাশ হয়ে পড়েছেন সুন্দরবন উপকূলজীবীরা। সুন্দরবন উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল। তিনি জানান, সুন্দরবনে পর্যটকদের নিয়ে ভ্রমণের জন্য এখানে ২৫০টি ট্রলার রয়েছে। করোনার কারণে দীর্ঘ সাত মাস বন্ধ ছিল সুন্দরবনে প্রবেশ। বর্তমানে সুন্দরবনে প্রবেশ উন্মুক্ত হলেও পর্যটকদের সংখ্যা খুবই কম। সপ্তাহে একটিও ভাড়া পাচ্ছেন না ট্রলার মালিকরা। প্রায় ৫০০টি পরিবার জড়িত একাজে। যাদের জীবন জীবিকা পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। করোনার কারণে বন্ধ থাকা ও বর্তমানে পর্যটক না থাকায় এসব ট্রলার মালিকরা হতাশ হয়ে পড়েছে। অভাব অনটনে কষ্টে আছেন তারা।

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবে সংসদীয় কমিটির নির্দেশনায় গত ২৫ মার্চ থেকে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ হয়ে হয়। টানা সাত মাস বন্ধ থাকার পর গত ১ নভেম্বর সরকারি নির্দেশনায় পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে এখন অনেকেই সুন্দরবনে ছুটছেন।

তিনি বলেন, সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কলাগাছি ও দোবেকী দুটি পয়েন্ট রয়েছে। এই দুই পয়েন্ট দিয়েই বর্তমানে সুন্দরবনে প্রবেশ করছে পর্যটকরা। সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে। মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক।

খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মহসিন জানান, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর সুন্দরবনে পর্যটকদের সংখ্যা অনেক কম। গত অর্থ বছরে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতে টানা সাত মাস বন্ধ থাকায় চলতি অর্থ বছরে সেই পর্যটক না হওয়ার সম্ভবনা বেশি। পর্যটক না থাকলে রাজস্ব আদায়ও কমে যাবে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ সারাদেশ

নরসিংদী জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য

মেঘনা, শীতলক্ষ্যা, আড়িয়াল খাঁ ও পুরাতন ব্রক্ষপুত্র নদীর তীর বিধৌত জেলা নরসিংদী। নরসিংদী জেলার গোড়াপত্তন হয় আনুমানিক পঞ্চাদশ শতাব্দীতে। রাজা নরসিংহ প্রাচীন ব্রক্ষপুত্র নদের পশ্চীম তীরে নরসিংহপুর নামে একটি ছোট নগর স্থাপন করেছিলেন। কালের বিবর্তনে এ নদকে কেন্দ্র করে অসংখ্য চরের পাড়ে বসতি গড়ে ওঠে। পরর্বতীতে রাজা  নরসিংহের নামানুসারেই এ জেলার নামকরণ করা হয়। বর্তমানে ৬ টি পৌরসভা, ৭টি থানা, ৬ টি উপজেলা, ৭১ টি ইউনিয়ন ও ১০৯৫ টি গ্রাম নিয়েই এ জেলা। নরসিংদী জেলার মোট জনসংখ্যা ২২,২৪,৯৪৪।

এর মোট আয়তন ৩,৩৬০.৫৯ বর্গ কি:মি: । রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক পথে এর দূরত্ব ৫৭ কি:মি: ও রেলপথে ৫৫ কি:মি:। জেলাটি বাংলাদেশের পূর্বাংশে অবস্থিত। এর উত্তরে কিশোরগঞ্জ, পূর্বে ব্রাহ্মনবাড়িয়া, দক্ষিণে নারায়নগঞ্জ এবং পশ্চিমে গাজীপুর জেলা পরিবেষ্টিত ।

এক সময় নরসিংদী ছিল প্রশাসনিক ভাবে ঢাকা জেলাধীন, নারায়ণগঞ্জ মহকোমার একটি থানা। পরর্বতীতে ১৯৭৭ সালে ঢাকা জেলার মহকোমায় উন্নিত হয়। ১৯৮৪ সালে নরসিংদী সদর, পলাশ, শিবপুর, মনোহরদী, বেলাব, রায়পুরা এই ৬ টি উপজেলা এবং নরসিংদী পৌরসভা নিয়ে নরসিংদীকে জেলা ঘোষণা করে সরকার।

জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে, উয়ারী বটেশ্বর, বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ইরানি মাজার, সোনাইমুড়ি টেক, চরসিন্দুর শীতলক্ষ্যা সেতু, ড্রিম হলিডে পার্ক, পান্থশালা, ঘোড়াশাল রেলওয়ে সেতু, হেরিটেজ নওপাড়া রিসোর্ট, লক্ষ্ন সাহার জমিদার বাড়ি, পারুলিয়া দরগা মসজিদ,  গিরিশচন্দ্র সেনের বাড়ি।

এ ছাড়াও রয়েছে শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিনন্দন চিনাদী বিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় বিলটি দেখতে আসেন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। আর বর্ষা মৌসুমে চিনাদি বিলের সৌর্ন্দয্য আরো ফুটে ওঠে। এখানে আসলে চোখে পড়েবে বক, চিল, মাছরাঙা, পানকৌড়ি, বালিহাঁস, ঘুঘুসহ,  নানান প্রজাতির পাখি।

শীতকালে অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে বিলটি। ‘স্বপ্ন চিনাদি নাম দিয়ে ২০১৬ সালের তৎকালীন জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান বিল কে পর্যকটের জন্য আকর্ষনীয় করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আগত দর্শনার্থীদের জন্য নির্মাণ করা হয় গনশৌচাগার, একটি গোলঘর ও নৌকা ঘাট।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যে দিক থেকে এ জেলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ । নরসিংদীকে রাজনৈতিক সাহিত্যিক সামরীক ও বেসামরীক ব্যক্তিত্বরা মুহিমান্বিত করেছেন। তাদের মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, ৬৯ এর গণ অভ্যূথানের মহানায়ক শহীদ আসাদ, আধুনিক বাংলা সাহ্যিতে দেশ বরেণ্য কবি শামসুর রাহমান, সাহিত্যিক-প্রাবন্দ্রিক ও সমালোচক ড: আলাউদ্দিন আল আজাদ, কবি আল হরিচরণ আচার্য্য এবং বিখ্যাত চিত্র শিল্পি সাহাবুদ্দিন , পবিত্র কোরানের বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন, উপমহাদেশের প্রথম আইপিএস অফিসার স্যার কে.জি গুপ্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক বিসি আ .আ .ম.স. আরিফিন সিদ্দিক।

এ ছাড়াও ইতিহাসের পাতায় অন্যন্য আবিষ্কার আড়াই থেকে তিন হাজার বছরের প্রচীন সভ্যতার সাক্ষর বহনকারী  বেলাবো উপজেলার উয়ারী বটেশ্বর। উয়ারীতে প্রাপ্ত খ্রীষ্টপূর্ব কালের ছাপাঙ্কক্ষীত রূপ্য মূদ্রা, শিবপুরের জয়মঙ্গল গ্রামের গুপ্তযুগের স্বর্ণ মুদ্রা ও সপ্তম সতাব্দীর মহা রাজা দেব খড়গের ত্র্যাম্বলীপি।

রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময়  ইতিহাস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ঢাকার বাইরে প্রথম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পাঁচদোনা নামক স্থানে মুক্তিযোদ্ধারা প্রবলভাবে প্রতিরোধ করে এবং শুরু হয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধে  পাকিস্তানী হানাদার  বাহিনীর একটি সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয় । হতাহত হয় বেশ কিছু পাকিস্তানী সৈন্য।

জেলায় শিক্ষার হার ৪৫%। মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৭৪৬ টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৩৬ টি, কলেজ ৩৬ টি,কারিগরী বিদ্যালয় ১৬টি। এখানকার প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নরসিংদী সরকারি কলেজ, সরকারি শহিদ আসাদ কলেজ, নরসিংদী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট,আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ।

নরসিংদী জেলা কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে এক সমৃদ্ধ জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কলার জন্যও বিখ্যাত নরসিংদী জেলা। তা ছাড়া লটকন একসময় অপ্রচলিত ফলের তালিকায় থাকলেও নরসিংদীতে এর  ব্যাপক পরিমানের চাষ হওয়ায় বর্তমানে সারা দেশে জনপ্রিয়তাও বেশ বেড়েছে লটকনের। বর্তমানে তা বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।

তাঁত শিল্পের মেলাও বলা হয় এ জেলাকে, আধুনিক শিল্প ও বাণিজ্য সমৃদ্ধ বর্তমানে নরসিংদীতে রয়েছে ক্ষুদ্র তাঁত শিল্পের গৌরবময় ইতিহাস। প্রায় একশত বছর পূর্বে এ অঞ্চলে ছোট ছোট তাঁত শিল্প গড়ে ওঠে। এ ছাড়াও রয়েছে নরসিংদী শেখের চর বাবুরহাট  কাপড়ের বাজার ।

নরসিংদী জেলায় আরো রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার  মধ্যে বৃহত্তম ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানা। এটি  জেলার পলাশ উপজেলায় অবস্থিত।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় দেশের অনেক অঞ্চলের সারের চাহিদা এ সারকারখানা পূরণ করে। ১ হাজার ৩শত মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতা সর্ম্পূন কারখানাটিতে  দুটি গ্যাস টারবাইন জেনারেটর, যার প্রতিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৯ মেগাওয়াট করে। কিন্তু কারখানাটি সচল রাখার জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় ১৩ মেগাওয়াট।

বিশিষ্ট দানবীর ও শিক্ষানুরাগী,আব্দুল কাদির মোল্লার জন্ম এ জেলাতেই। তিনি নরসিংদীকে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে আর্দশিক, নৈতিক, শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত করার লক্ষ্যে “মানুষ মানুষের জন্য, সেবাই আমাদের অঙ্গীকার এই মিশন এবং ভিশন নিয়ে গড়ে তোলেন পিতার নামে মজিদ মোল্লা ফাউন্ডেশন।

এছাড়াও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্কুল,কলেজে অবকাঠামো নির্মাণ করেছেন। তিনি ২০১৮ সালে  মাদার তেরেসা সম্মাননা এবং ২০১৫ সালে দেশসেরা করদাতা  পুরস্কার পেয়েছেন ।

সমাজের দুস্থ, অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের অনন্য সৃষ্টি বাঁধনহারা।

”বাঁধনহারা হতে পারি শূন্য ছাড়া নয় আমাদেরও ইচ্ছে করে ভাল মানুষ হই” এ স্লোগান নিয়ে জেলার এই ব্যতিক্রমী সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে । বাঁধনহারা সদস্যদের লেখাপড়ার ব্যয়সহ অন্যন্যা সুযোগ সুবিধা জেলা প্রশাসন বহন করে।

ভয়েস টিভি /আইএ

Categories
ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ সারাদেশ

পাবনা জেলার ইতিহাস

পাবনা বাংলাদেশের মধ্যভাগের রাজশাহী বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অঞ্চল। ১১টি থানা ১০টি পৌরসভা ৭৪টি ইউনিয়ন ও ১ হাজার ৫৪৯টি গ্রাম নিয়ে পাবনা জেলার আয়তন ২৩৭১.৫০ বর্গ কিলোমিটার। প্রায় ২৩ লাখ মানুষের বসবাস এ জেলায়।

পাবনা জেলার নামকরণ নিয়ে রয়েছে নানান মত। খুব বেশি তথ্য জানা না গেলেও প্রত্নতাত্ত্বিক কানিংহাম অনুমান করেন যে, প্রাচীন রাজ্য পুন্ড্র বা পুন্ড্রবর্ধনের নাম থেকে পাবনা নামের উদ্ভব হয়েছে। আবার অনেকের মতে ‘পাবন’ বা ‘পাবনা’ নামে একজন দস্যুর আড্ডাস্থল থেকেই একসময় ‘পাবনা’ নামের উদ্ভব হয়। তবে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

ভৌগোলিক সীমানা, রাজশাহী বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ পাবনা জেলা। এটি ২৩°৪৮′ হতে ২৪°৪৭′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০২′ থেকে ৮৯°৫০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। জেলার চাটমোহর ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত চলনবিল। এর উত্তর দিক ঘিরে আছে সিরাজগঞ্জ জেলা আর দক্ষিণে পদ্মা নদী। এর পূর্ব প্রান্তদিয়ে যমুনা নদী বয়ে গেছে এবং পশ্চিমে নাটোর জেলা।

রাজশাহী জেলার ৫টি থানা ও যশোর জেলার ৩টি থানা নিয়ে সর্ব প্রথম পাবনা জেলা গঠিত হয়। ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দের ২১ নভেম্বর যশোরের খোকসা থানা পাবনা ভুক্ত করা হয়। অন্যান্য থানা গুলোর মধ্যে ছিল রাজশাহীর খেতুপাড়া, মথুরা, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ ও পাবনা। ‘যশোরের চারটি থানা ধরমপুর, মধুপুর, কুষ্টিয়া ও পাংশা’।

১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে সেশন জজের পদ সৃষ্টি হলে এ জেলা রাজশাহীর দায়রা জজের অধীনে যায়। তখন পশ্চিম বাংলার মালদহ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ ডব্লিউ মিলস জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিযুক্ত হন পাবনায়। ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ অক্টোবর জেলার পূর্ব সীমা নির্দিষ্ট করা হয় যমুনা নদী। ১২ জানুয়ারি ১৮৫৫ খ্রিষ্টাব্দে সিরাজগঞ্জ থানাকে মোমেনশাহী জেলা থেকে কেটে নিয়ে ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে মহকুমায় উন্নীত করে পাবনা ভুক্ত করা হয়। নিযুক্ত করা হয় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। এর ২০ বছর পর রায়গঞ্জ থানা এ জেলায় সামিল হয়।

সড়ক পথের পাশাপাশি এ জেলায় রয়েছে জল ও বিমানপথে যোগাযোগের সুব্যবস্থা। পাবনার বাসগুলো দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ রুটেই চলাচল করে। পাবনা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের কাছাকাছি পাবনা রেলওয়ে স্টেশন অবস্থিত। ঈশ্বরদী বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি রেলওয়ে স্টেশন। এই জেলায় দশটি রেলওয়ে স্টেশন আছে। এবং ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন রেলপথ ঢালারচর এক্সপ্রেস ট্রেন উদ্বোধন করেন। এ ছাড়াও ঈশ্বরদী উপজেলায় রয়েছে একটি বিমানবন্দর ।

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রাচীন জনপদ পাবনা। ১৮২৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ অক্টোবর স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে পাবনা স্বীকৃতি লাভ করে। ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে জেলার বেশির ভাগ অংশ রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখনকার দিনে এসব এলাকায় সরকারের দায়িত্বপূর্ণ কর্মচারীদের খুব অভাব ছিল।

পাবনা জেলা লোক সঙ্গীত, লোকগাঁথা, লোকনৃত্য, কৌতুক, নকসা, পালাগান ইত্যাদি সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যমন্ডিত। প্রাচীনকাল থেকেই বস্ত্র শিল্প ছিল প্রসিদ্ধ। ভারতবর্ষের চার পঞ্চমাংশ রেশম আমদানী হতো জেলার হান্ডিয়াল বন্দর থেকে। এছাড়াও এ জেলা তাঁত শিল্পর জন্য বিখ্যাত।

এ জেলায় বর্তমানে শিক্ষার হার ৯৮.৪৭%। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে সর্বমোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪১টি। তার মধ্যে শতবর্ষ পেরিয়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে গোপাল চন্দ্র লাহিড়ী ইন্সটিটিউট। যা জিসিআই ইন্সটিটিউট নামেই পরিচিত। রয়েছে পাবনা জিলা স্কুল এবং ঐতিহ্যবাহি বিদ্যাপীঠ পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ ও পাবনা বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। নির্মাণাধীন রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের মেরিন একাডেমি। এছাড়াও চিকিৎসা বিজ্ঞান, কৃষি বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিভাগে নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবস্থিত এ জেলায়।

এ জেলায় জন্মেছেন কীর্তিমান অনেক ব্যক্তিত্ব তাদের মধ্যে অন্যতম- আবদুল করিম খন্দকার বীর উত্তম, বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী সুচিত্রা সেন, পৃথিবীর ২২ জন লিভিং ঈগলের একজন সাইফুল আজম, পাবনা জেলার সর্ব শেষ জমিদার ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ছেফাত উল্লাহ বিশ্বাস ও ময়েন উদ্দিন বিশ্বাস । এছাড়া সংগীত শিল্পী বাপ্পা মজুমদার, অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, আজিজুল হাকিম, চলচ্চিত্র পরিচালক রেদওয়ান রনি, বাংলাদেশের জনপ্রিয় নাট্যকার অভিনেতা ও লেখক বৃন্দাবন দাসসহ উল্লেখ্যযোগ্য ব্যক্তিবর্গের জন্মস্থান এই পাবনা জেলাতেই ।

মহান মুক্তাযুদ্ধে ও রয়েছে এ জেলার বিশেষ অবদান বৃটিশ থেকে শুরু করে দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ নানা ভাবেই আষ্ঠেপিষ্ঠে রয়েছে এ জেলা। মহান ভাষা আন্দোলনে ঢাকার পরেই ভাষার দাবিতে মিছিল হয়েছিল এই পাবনাতে। এবং সারাদেশে যখন ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের পতাকা উত্তোলন হয়। তখনও শত্রু মুক্ত হয়নি এ জেলা। ১৮ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় পাবনা। জেলার ৯ উপজেলা ও ১১ থানার মধ্যে পাবনা সদর, আটঘরিয়া, ঈশ্বরদী, সাঁথিয়ায় রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গণকবর ও বদ্ধভূমি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পর্যায়ক্রমে এই গণহত্যা ও বধ্যভূমিগুলো চিহ্নিত করে অধিকাংশ স্থানেই মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেছে।

পাবনার দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা জগতে উল্লেখ্য যোগ্য প্রতিষ্ঠান পাবনা মানসিক হাসপাতাল। পাবনা সার্কিট হাউজ। চাটমোহরের শাহী মসজিদ, হান্ডিয়ালের জগন্নাথ মন্দির, পাবনা সদরে কাঁচারী মসজিদ, শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র আশ্রম, জোড়বাংলা, জগশেঠের কুটিবাড়ি, শহরের রায়বাহাদুর গেট, তাঁড়াশ বিল্ডিং, পাকশী ফুরফুরা খানকা শরীফ, পাকশী রেলওয়ে কলোনী,ঈশ্বরদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রীজ,সুজানগরে গাজনার বিল, ঈশ্বরদীতে রাসেল পার্কসহ নানা দর্র্শনীয় ও ইতিহাস সমৃদ্ধ স্থাপনা রয়েছে এ জেলাতে।

অর্থনীতিতেও বেশ সমৃদ্ধ এ জেলা। এখানে প্রচুর ছোটবড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কারখানা গড়ে উঠেছে। যেমন, স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেড,স্কয়ার ট্রয়লেটিজ লিমিটেড,স্কয়ার কনজুমার প্রডাক্ট লিমিটেড,ইউনিভার্সাল ফুড লিমিটেড,নিয়ন ফার্মা,রশিদ রাইস ব্রান ওয়েল, বেঙ্গল মিট। এছাড়া পাবনা শহরে বিসিক শিল্প নগরী রয়েছে যেখানে যথেষ্ট সংখ্যক শিল্প কারখানা আছে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
ভ্রমণ সারাদেশ

কল্পকাহিনীতে ঘেরা ৫ শ বছরের শিমুল গাছ

শেরপুর জেলার সবচেয়ে বৃহত্তম শিমুল গাছটি ঘিরে রয়েছে নানা কল্পকাহিনী। বহন করছে নানা ঐতিহ্য। ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনার স্বাক্ষী এই শিমুল গাছটি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছটির বয়স পাঁচ থেকে ছয় শ বছর। এটি ঘিরে বসে বৈশাখী মেলা। এর ছায়ায় প্রশান্তি পান ক্লান্ত পথিক। তবে বৃহদাকৃতির এ গাছটি ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। তাই এটি বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি স্থানীয়দের। গাছটি ঘিরে পর্যটনেরও বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত এলাকাবাসীর।

নকলা উপজেলা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দক্ষিণে নারায়ণ খোলা গ্রামে গাছটির অবস্থান। ৫০ শতাংশ জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ১০০ ফুট লম্বা শিমুল গাছটির গোড়ার পরিধি প্রায় ৪৬ গজ।

গাছটির গোড়ায় দাঁড়িয়ে কখনো মনে হয় পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভূতি। এর বিশালতায় ভরে যায় মন। এখানে এলে মুদ্ধতার আবেশে ছড়িয়ে যায় দর্শনার্থীর হৃদয়। আলোচিত এই গাছটি দেখতে তাই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অনেকেই। পহেলা বৈশাখে মেলা বসে গাছটি ঘিরে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস আলি বলেন, আমি বাপ-দাদার কাছ থেকে শুনে আসছি এই বেড় শিমুলের বয়স কমপক্ষে ৫ শ বছর হবে। আবার গ্রামের অনেকেই বলেছে, গাছটির বয়স ৬ শ বছর বা তারও বেশি হবে।

গাছটির পশ্চিম পাশের কাণ্ড হাতি সদৃশ এবং উত্তর পাশ নৌকার বৈঠা, রশি, পেঁচা ও সাপের সদৃশ। গাছটির যে কোনো একটি শাখা নাড়া দিলে সমগ্র গাছ নড়ে ওঠে। বিস্তৃত শিমুলগাছে সারাক্ষণই চলে পাখির কিচির-মিচির। কয়েক প্রজাতির পাখির আনাগোনা শুধু এই গাছকে কেন্দ্র করেই।

প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছটি বেড়ে উঠেছেও প্রাকৃতিকভাবেই। একসময় বেড় শিমুল গাছটি পত্র-পল্লবে এতটাই ঘন ছিল যে এর নীচে রোদ, বৃষ্টি, কুয়াশাও পড়ত না। প্রচণ্ড গরমের সময়ও গাছের নীচে পাওয়া যেত হিমেল শান্তির পরশ। পথিক, কৃষক থেকে শুরু করে নানা পেশা ও শ্রেণির লোকজন গাছের তলায় শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিত। দুপুর ও বিকেলে দেখা যেত ডালে ডালে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন অনেকে।

গাছটি যার জমিতে আছে তিনি তার বাবার পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে পেয়েছেন, তিনি আবার তার বাবার কাছ থেকে এভাবেই চলে আসছে শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে। কিন্তু কেউ বলতে পারে না এর জন্মলগ্নের সঠিক ইতিহাস।

গাছটিকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানান কল্পকাহিনী। অনেকে মনে করেন, গাছটিতে ভৌতিক আসর বসে। রয়েছে জ্বিন-পরীদের নিয়মিত আনাগোনা। আবার অনেকে মনে করেন গাছের গোড়ায় গুপ্তধন আছে। বিশালাকারের একটি সাপ দেখা যায় মাঝেমধ্যে, গাছে কোপ বা ঢিল দিলে রক্ত বের হয়- এ ধরনের কল্পকাহিনী ছড়িয়ে রয়েছে এলাকায়। এলাকাবাসী তা বিশ্বাসও করেন।

অনেক আগে নাকি গাছটি বিক্রি করা হয়েছিল। লোকেরা গাছের একটি ডাল কাটতেই নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত আসতে শুরু করে। তারপর থেকে গাছের মালিক আর এটি বিক্রি করেননি, কেউ কিনতেও আসেননি।

জনশ্রুতি আছে যে, গরিব-দুঃখীর বিয়ের সময় নাকি বিবাহের কথা বললে, কাঁসার থালা, বাসন, ঘটি-বাটি ইত্যাদি কিছুক্ষণ পর গাছের নীচে পাওয়া যেত। আবার কাজ শেষে সমস্ত জিনিস ফেরত দিতে হত, যদি কেউ লোভ করে দুই একটা জিনিস রেখে দিত তবে অদৃশ্যভাবে ভয়-ভীতি দেখানো হত। তাই মানুষের লোভের কারণে এ জিনিস দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে গাছটি। জীবনের চলার পথে বিপদে আপদে এই গাছের নিচে মান্নত করলেও নাকি উপকার পাওয়া যেত।

শেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন ও নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব কুমার সরকার গাছটি দেখতে এসে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা জানায়, প্রশাসনের অযত্ন-অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও নানামুখী অত্যাচারের কারণে ঐতিহ্যবাহী বেড় শিমুল গাছটি অস্তিত্ব বিলীনের হুমকিতে পড়েছে। মারা যাচ্ছে অনেক পরজীবী গাছ। ভেঙে পড়ছে বড় বড় ডালগুলো।

ময়মনসিংহ থেকে গাছটি দেখতে আসা শাহরিয়ার সুমন জানান, তিনি আশ্চর্যজনক বিশালাকৃতির গাছটি দেখে অভিভূত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের অনেক স্থানে বেড়িয়েছেন কিন্তু এমন দৃষ্টিনন্দন গাছ কোথাও দেখেননি।

তিনি বলেন, এ গাছটি নিয়ে মিডিয়ায় প্রচার হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নজর কাড়বে। একই কথা জানালেন শেরপুর শহর থেকে আসা যুবক আরিফুর রহমান আকিব, জিয়া সরকার, মনিরসহ আরও অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, চারিদিকে খোলামেলা পরিবেশ থাকায় ধীরে ধীরে পিকনিক স্পট হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে। এই বেড় শিমুল গাছের নীচে চলচ্চিত্রের শুটিংও হয়েছিল। এখনও মাঝেমধ্যে নাটক ও টেলিফ্লিমের শুটিংও হয়।

খ্যাতিমান অভিনেতা অমিত হাসান, আলিরাজ, আনোয়ারা, জয়, জাবেদসহ আরও অনেকেই এখানে শুটিং করার জন্য এসেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

‘বিশ্ব ভ্রমণকন্যা’ এলিজা বিনতে এলাহী বিশালাকৃতির দৃষ্টিনন্দন এই বেড় শিমুল গাছটি দ্রুত সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান জানান, এই বেড় শিমুল গাছ ও গাছটির আশপাশ এলাকা পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধতন দফতরে ছবি ও তথ্যসহ লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।
এ গাছের ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের আবারও স্মরণ করিয়ে দেবেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, যেহেতু গাছ ও গাছের জায়গাটি সরকারি তথা খাস নয়, বরং ব্যক্তি মালিকানা। অতএব ইচ্ছা করলেই খুব সহজেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোড়ালো কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া জায়গার ওপরে মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, যেহেতু গাছটি ঐতিহ্যবাহী, স্বাভাবিক কারণেই গাছটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন। তাই পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য বা বসার জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ইট-সিমেন্টের বেঞ্চ বানিয়ে দিয়েছি। পুরোনো এ গাছটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

দর্শনার্থী টানতে এলাকাবাসী বিশালকৃৃতির দৃষ্টিনন্দন এ গাছটি সম্পর্কে প্রচারণা ও মূল রাস্তা থেকে গাছের গোড়া পর্যন্ত পাকা সংযোগ সড়ক তৈরিসহ বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
ভ্রমণ

আর্মেনিয়া যেনো আরেক বাংলাদেশ

পুরোপুরি স্থলসীমা দ্বারা ঘেরা  ইউরেশিয়া অঞ্চলের একটি দেশ আর্মেনিয়া । সাংবিধানিক নাম রিপাবলিক অফ আর্মেনিয়ার অবস্থান তুরস্কের পূর্ব দিকে, এছাড়াও দেশটির উত্তর দিকে রয়েছে জর্জিয়া। আর্মেনিয়ার পূর্ব দিকে অবস্থিত আজারবাইজান এবং স্বাধীনতার জন্য অপেক্ষায় থাকা রিপাবলিক অফ আর্টসেক।

এছাড়াও আর্মেনিয়ার দক্ষিণ দিকে ইরানের অবস্থান। আর্মেনিয়া- যেদেশের আরেক নাম বাংলাদেশ! আর্মেনিয়ার মানুষের মুখের ভাষা প্রধানত আর্মেনিয়ান। তারা অন্য কোন ভাষায় কথা বলে না। আর্মেনিয়ায় বসবাসকারী মানুষের প্রধান ধর্ম খ্রিস্টান। তবে তারা খ্রিস্টান ধর্মের মূল ধারার বিশ্বাসগুলোকে খুব একটা বেশি প্রাধান্য দেয় না।

আর্মেনিয়া একসময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিলো।আয়তন প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার। স্বাধীন দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে ১৩৮তম দেশ এটি। এখানে তিন কোটি মানুষের বসবাস। জনসংখ্যার দিক থেকে আর্মেনিয়া বিশ্বের ১৩৭তম দেশ। আর্মেনিয়া ইউরোপীয় এবং এশিয়ার সীমান্তবর্তী একটা দেশ হলেও এদেশটির মানুষের জীবনধারা আনেকটা ইউরোপের মতো। শিক্ষার হার ৯৯ শতাংশ এবং মানুষের গড় আয় ৭৫ বছরের বেশি।

আরও পড়ুন- আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ

ইয়েরেভান হলো আর্মেনিয়ার সবচেযে বড় শহর ও রাজধানী। এটি আর্মেনিয়ার প্রশাসনিক বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এটি পুরনো সভ্যতার শহর। সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম থাকা শহরগুলোর মধ্যেই এটি অন্যতম।

নিজ দেশের নাম যখন ভিন্ন কোন দেশের মানুষ যখন নিজের রাজ্য হিসেবে পরিচয় দেয় গর্ব হওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনারা নিশ্চয় জেনে থাকবেন ভারতের কাশ্মীরে বাংলাদেশ নামের একটি জায়গা আছে। এবার জেনে রাখুন আর্মেনিয়ায় বাংলাদেশ সর্ম্পকে। আর্মেনিয়ার একটি জেলার নাম হলো বাংলাদেশ। জেলাটির অফিসিয়াল নাম মালাতিয়া সেবাস্তিয়া হলেও সেখানকার মানুষ নিজেদের বাংলাদেশ জেলার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি পছন্দ করেন।

আর্মেনিয়া মুলত কৃষি প্রধান একটি দেশ। দেশটির অর্থনীতিতে কৃষির অবদান সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও দেশটিতে হাইড্রো ইলেকট্রনিক্স মিনারেল রিসোর্সেস কোয়ারির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ অর্জিত হয়। আর্মেনিয়ার পর্যটন ব্যবসা অনেক উন্নত। দেশটির জিডিপি প্রায় ১৩ বিলিয়ম মার্কিন ডলার আসে এই খাত থেকে। পর্যটনের দিক থেকে তারা পৃথিবীতে ১২৭তম।

আর্মেনিয়ার মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। এদেশের মুদ্রার নাম ড্রাম। এদেশের মুদ্রার মান বাংলাদেশের মুদ্রার মানের চাইতে আনেক কম। যেমন তাদের এক ড্রাম সমান বাংলাদেশের ১৬ পয়সা আর ভারতীয় রুপির ১৪ পয়সা।

আরও পড়ুন- আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার যুদ্ধে মিসাইল গিয়ে পড়লো ইরানে

আর্মেনিয়ার প্রাচীন শাসকরা ছিলো অনেকটাই সৌখিন। তাদের রুচির নিদর্শন এখন সমগ্র আর্মেনিয়াতেই কমবেশি পাওয়া যায়।তাদের নির্মিত মন্দির এবং দুর্গগুলো দেশটির সৌন্দর্য্য বৃদ্দি করে চলেছে।

আর্মেনিয়া এমন একটি দেশ যেদেশ প্রায় সকলেই দাবা খেলতে জানে। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো আর্মেনিয়া দাবা খেলা রাস্ট্রীয়ভাবে শেখানো হয়।সেখানের প্রতিটি স্কুল কলেজের দাবা খেলার বিষয়টি বাধ্যতামুলক হিসেবে নেয়া হয়েছে।

আর্মেনিয়ায় প্রচুর পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে । সেখানে রাস্তাঘাট তৈরি করা অনেক কষ্টসাধ্য।কিন্তু শুনলে আবাক হবেন আর্মেনিয় সরকার এমন কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহুল এই যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ বাদ দিয়েছে। তার পরির্বতে অন্য একটি পদ্ধতিতে তারা যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। আর তা হলো ঝুলন্ত গাড়ি। একারণে দেশটিতে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ঝুলন্ত তার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তাদের দেশে এই তারে ঝুলতে থাকা যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গ্রিনিচ রেকর্ডে নাম লেখিয়েছে। কোন দেশের মানুষ সবচেয়ে সুন্দর তা নিয়ে রয়েছে মতভেদ। কারণ সৌন্দর্য্যের সংজ্ঞা নিয়ে একের জনের কাছে একেক রকম বক্তব্য পাওয়া যায়। তবে সকলে একটি মত দিয়েছেন যে এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যবর্তী অঞ্চলের মানুষরা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর। এর মধ্যে আর্মেনিয়ার জনগণকেই সবচেয়ে সুন্দর মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

আর্মেনিয়ার বেশিরভাগ মানুষ মনে করে হযরত নুহ আ. এর সেই বিশাল নৌকাটি এখন আর্মেনিয়ার একটি পাহাড়ের ওপর রয়েছে। কিন্তু এটি লোকশ্রুতি।আর্মেনিয়ার পাহাড়ে নয় নুহ আ. সেই নৌকাটি এখন রয়েছে তুরস্কে।পৃথিবীতে যারা প্রথম মদ তৈরি করা রপ্ত করেছে আর্মেনিয়া নিঃসন্দেহে তাদের মধ্যে আন্যতম। এখনো কিছু ঐতিহাসকিরা মদ তৈরির প্রথম উদ্যোক্তা হিসেবে আর্মেনিয়াকেই মনে করে।

আর্মেনিয়াকে বাংলায় ঝগড়াটে দেশও বলতে পারেন। কারণ আর্মেনিয়ার পাশ্চবর্তী সবদেশগুলোর সাথে তাদের সর্ম্পক ভালো নয়। আর্মেনিয়ার সাথে তুরস্ক এবং আজারবাইজানের ইতোমধ্যে আনেকবার যুদ্ধ হয়েছে। সম্প্রতি আর্মেনিয়ার নাগোর্নো কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে তুরস্ক ও আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধ করছে।

তাদের প্রধান আয়ের উৎস পর্যটন। সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র। তেমনি কিছু বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে আছে খোরভিরাট,গার্ণি টেম্পল এবং ভিলিজোন নেশন্যাল পার্ক। এই প্রত্যেকটি পর্যটন কেন্দ্রের কারণে প্রতিবছর অসংখ্য বিদেশি মানুষ আর্মেনিয়ায় ঘুরতে আসে।

সাম্প্রতিক সময়ে আর্মেনিয়া ফুটবলে অনেক ভালো করেছে। তাই দেশটিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। তবে দেশটির মানুষজন রেসলিং এবং ভারোত্তল খেলাকেও অনেক পছন্দ করে।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ

এশিয়ার কর্মসংস্থানের দেশ কম্বোডিয়া

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ কম্বোডিয়া। ব্যবসা, বাণিজ্য, আমদানি ও রপ্তানিতে দিনে দিনে এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে দেশটি।

কম্বোডিয়ার উত্তর-পূর্বে লাউস। পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে ভিয়েতনাম, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ পশ্চিমে থাইল্যান্ড উপসাগর। প্রায় দেড় কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশ কম্বোডিয়া বাংলাদেশের তুলনায় আয়তনে কিছুটা বড়।

কম্বোডিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এর নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে সেই দেশের অর্থনীতি। আর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক, ব্যবসা বাণিজ্য ও দুই দেশের পারষ্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্প্রতি সফর করেছেন দেশটি।

কম্বোডিয়ার আগের নাম হচ্ছে কম্পুচিয়া। রাজধানীর নাম নমপেন। নমপেন তেমন বড় নগরী নয়। মাত্র ২৫-৩০ লাখ মানুষের বাস এখানে। নমপেন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যারা চাকরী করে তারা কেউই ইংরেজি বলতে পারে না।

নমপেন শহরে ছয়-সাতটি মসজিদ রয়েছে। সত্তর ও আশির দশকে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় দ্রুত ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিয়ে আমাদের দেশের পত্রপত্রিকায় প্রতিদিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হতো।

১৯৫৩ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে ফ্রান্সের কাছ থেকে। রাস্তাঘাটগুলো সাদামাটা ধরনের। যানবাহনে আমাদের মতো বৈচিত্র্য নেই। রাস্তায় মোটর বাইকের ছড়াছড়ি। এটাই দেশটির বেশ জনপ্রিয় বাহন।

রাস্তার পাশে আমাদের দেশের মতো ছোট ছোট দোকানপাট রয়েছে। যুবকরা আমাদের বেকারদের মতোই জটলা করে আর আড্ডা দেয়। বিকেল বেলা স্বাধীনতা স্কোয়ারে হাজারো মানুষের ঢল নামে।

কম্বোডিয়ানরা বেশ শান্তশিষ্ট ও বন্ধুসুলভ। তাদের একটি বৈশিষ্ট্য সত্যি প্রশংসনীয় সেটি হলো তারা বেশি রাত জাগে না। শহরের মানুষেরাও রাত ৯-১০ টার মধ্যে ঘুমিয়ে যায় এবং বেশ সকালে জেগে ওঠে।

কম্বোডিয়ার অ্যাংকরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মধ্যযুগীয় মন্দির। সুবিশাল এই স্থাপনাটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ মন্দির। ১২শ শতাব্দীতে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা ২য় সূর্যবর্মণ। প্রথমদিকে হিন্দু মন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরে এটি বৌদ্ধ মন্দিরে পরিণত হয়।

পর্যটনশিল্প থেকে আয়ের ২৮ শতাংশ মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহার করা হয়। বৌদ্ধ ধর্মের রীতি অনুযায়ী কম্বোডিয়ানরা ঘটা করে নববর্ষ পালন করে। ফুটবল তাদের অন্যতম প্রিয় খেলা।

কম্বোডিয়ার বেশিরভাগ মানুষ বাস করে গ্রামে এবং অনেকটা আমাদের গ্রামীণ জীবনের মতো। নারীরা প্রধানত বাড়িতে কাজ করে আর পুরুষরা কঠোর শ্রমঘন কাজ করে।

কম্বোডিয়া দেশ হিসেবে সবুজ-শ্যামল, আদিগন্ত ধানক্ষেত। ভিয়েতনাম যুদ্ধের অংশ হিসেবে ওই সময় আমেরিকাও কমিউনিস্ট নিধন করতে কম্বোডিয়ার ওপর বোমা বর্ষণ করে। গোটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা যতো বোমা ফেলেছে শুধু কম্বোডিয়ায় ফেলেছে তার তিন গুণ। পুরো কম্বোডিয়া তখন এক মৃত্যুপুরী। প্রাচীনকাল থেকেই কম্বোডিয়াতে রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিল।

কম্বোডিয়ার প্রধান নদী ‘মেকং।’ আর আছে বড় একটি হ্রদ- নাম টনলি স্যাপ অর্থাৎ সুস্বাদু পানির হ্রদ। দেশটির কৃষি ও মৎস্য সম্পদ এই দু’টি জলাধারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল।

প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রধান খাদ্য ভাত আর মাছ। জলবায়ু অনেকটা বাংলাদেশের মতো। বর্তমানে কম্বোডিয়ার জনসংখ্যা মাত্র এক কোটি ৪০ লাখ। দেশটির আয়তন এক লাখ ৮১ হাজার বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

আমস্টারডাম হচ্ছে সাইকেলের দেশ আর কম্বোডিয়া হচ্ছে মোটরসাইকেলের দেশ। কম্বোডিয়া শহরের বাড়িগুলো বেশিরভাগই ৩/৪ তলা বিশিষ্ট। ঝকঝকে তকতকে বাড়িঘর। কম্বোডিয়া শান্তিপ্রিয় দেশ- এখানে ঝগড়া, মারামারি, হানাহানি নেই বললেই চলে। কম্বোডিয়ায় ইংরেজি পত্রিকা কম।

কম্বোডিয়া কাছের দেশ থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনামের মতো দ্রুত উন্নতির পথে অগ্রসর না হলেও তাদের মানসিক প্রবণতা ক্রমেই উন্নয়ন আর নিজেদের সামাজিক, আর্থিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার প্রসারে পযর্টকদের আকৃষ্ট করা। সে জন্য এখানে যেমন ইওনের মতো বিলাসবহুল শপিংমল আছে তেমনি ঢাকার বঙ্গবাজারের মতো সাধারণ বিক্রয়কেন্দ্রও আছে।

কম্বোডিয়ার সাধারণ মানুষ পযর্টকদের জন্য আকষর্ণীয়। তারা সরল মন নিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

বিপুল পৃথিবী আবৃত সামাজিক আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে পূর্ণ বলে মানুষের কাছে প্রিয় দশর্নীয় স্থান দেশটি। এক একটা দেশ মানুষের মনে সঞ্চিত করে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা আর মানবসভ্যতার ইতিহাস।

একদিকে থাইল্যান্ড থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত সার্বিক পরিবর্তন আর উন্নতির ইতিহাস, অন্যদিকে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন শহর আর সমুদ্রের ওপারে ছোট ছোট জনপদ, মালয়েশিয়ার সমুদ্রে বাঁক দিয়ে অন্য শহরে যাওয়ার ব্যবস্থা, ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা-জাভা-বালি দ্বীপের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আর সিঙ্গাপুর মানুষের তৈরি প্রাকৃতিক সৌন্দযের্র পাশাপাশি অদূরবর্তী ভিয়েতনাম আর কম্বোডিয়া।

ভিয়েতনামে যেতে হয় মালয়েশিয়া থেকে আর কম্বোডিয়া থাইল্যান্ড থেকে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনামের মতো কম্বোডিয়া এত দ্রুত উন্নতি করতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে আছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে কম্বোডিয়া যেতে খুব বেশি সময় লাগে না।

সবদেশে কম্বোডিয়ার কনস্যুলেট নেই বলে ব্যাংকক থেকে সে দেশে যাওয়ার জন্য ভিসা নিতে হয়। ভিসা আফিসও শহর থেকে বেশ দূরে। যাওয়ার সময় গাড়ি পাওয়ার অসুবিধা না হলেও আসার সময় যানবহনের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ভিসা অফিস বড় না। তবে সকালে ফর্ম জমা দিলে বিকালেই ভিসা পাওয়া যায়। ভিসা অফিসে সবাই বেশ সহযোগিতাও করে।

অনেকেই ব্যাংকক থেকে কম্বোডিয়ার সিয়াম রিফে বেড়াতে যাওয়া পছন্দ করেন। সিয়াম রিফ এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পর অনেককে পুলিশের দৃষ্টিতে পড়তে হয়। এখানে আর মিশরের কায়রো এয়ারপোর্টে ভোগান্তির শিকার হতে হয় পযর্টকদের। তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো পযর্টকদের বিব্রত করে ঘুষ নেয়া।

সিয়াম রিফ ছোট শহর। তবে এয়ারপোর্ট থেকে শহরের ভেতরে প্রবেশ করার সময় এদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য রাস্তার সুব্যবস্থা চোখে পড়ার মতো। আসা ও যাওয়ার রাস্তা দুই অংশে ভাগ করা। বড় অংশে বড় গাড়ি আর পাশের ছোট অংশে অন্য গাড়ির চলাচলের ব্যবস্থা। তার ফলে ট্রাফিক জ্যাম এড়ানো যায় আর তাড়িতাড়ি রাস্তা অতিক্রম করাও সম্ভব হয়।

ছোট শহর বলেই সিয়াম রিফে সব রাস্তার মানুষের চলাচল তেমন নয়। তবে, এখানকার ছোট ছোট হোটেলগুলো পরিচ্ছন্ন আর তিন বেলাই খাবারের সুব্যবস্থা আছে।

এখানে পযর্টকদের মূল আকষর্ণ নদীতে বসবাসরত মানুষের আবাসস্থল দেখতে যাওয়া। নদীর পাশে একতলা, দোতলা যন্ত্রচালিত অসংখ্য নৌকা দাঁড়িয়ে থাকে। সেগুলো এককভাবে বা দলগতভাবে ভাড়া করা যায়।

নদীর দেশ বাংলাদেশ হলেও এখানকার নদী ও মানুষের প্রতি আকর্ষন অনেক। প্রথম দিকে নৌকা প্রাকৃতিক পরিবেশকে পাশে রেখে চলতে থাকে, তারপর অনেকদূর যাওয়ার পর নদীবাসীদের চোখে পড়বে। অসংখ্য নর-নারী ও অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়ে বিভিন্ন ধরনের নৌকায় জীবনধারণ করে।

অনেক নৌকার ওপর দোকান সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য দিয়ে। সেজন্য নৌকাবাসীদের আর দূরে গিয়ে বাজার করার প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এখানে ছোটদের শিক্ষাব্যবস্থাও আছে। একটা বড় নৌকার ওপর স্কুল বসে এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এখানে ছোট ছোট নৌকা করে পড়াশোনা করতে আসে। শহরবাসী না হলেও এখানকার শিশুরা শিক্ষা বঞ্চিত নয়।

নদীর ওপর শুধু এক জায়গায় নয়, নদীর বিভিন্ন অংশে একইভাবে দল বেঁধে মানুষ বাস করে। যাদের কোনো ঘর-বাড়ি নেই। পর্যটকরা এই নতুন সভ্যতার নিদর্শন দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারেন না।

সিয়াম রিফ ছোট শহর হলেও এখানে আকষর্ণীয় একাধিক দোকান আছে, যেখানে সে দেশের সামগ্রী সাজিয়ে রাখা আছে পযর্টকদের কেনার জন্য। এখানে ছোট একটা বাজারও আছে যেখানে অপেক্ষাকৃত কম দামে সুভেনির কিনতে পাওয়া যায়।

সিয়াম রিফ থেকে প্লেনে নমপেন যেতে পনেরো বিশ মিনিটের বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না বলে প্লেনেও ছোট গ্লাসে শুধু পানি পান করতে দেয়া হয়। নমপেন এয়ারপোর্ট অপেক্ষাকৃত বড়। এখানে বিদেশি পযর্টকদের বিব্রত হতে হয় না।

কম্বোডিয়া বিচিত্র এক দেশ। নমেপন রাজধানী হলেও এখানে যাতায়াতের জন্য কোনো ট্যাক্সি পাওয়া যায় না। চলাচলের জন্য নিতে হয় থাইল্যান্ডের টুকটুকের চেয়ে একটু ছোট আর ঢাকার সিএনজির তুলনায় একটু বড় যানবাহন। এই শ্রেণির যানে নমপেনের সব জায়গায় যেতে কোনো অসুবিধা হয় না। ভাড়াও খুব বেশি নয়।

নমপেনে দেখার অনেক ঐতিহাসিক স্থান আছে। তবে এসব ছাড়া একটা ফল সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে যায়। সেটা হলো বিশাল আকারের ডাব। এত বড় ডাব বোধহয় পৃথিবীর আর কোনো প্রাচ্য দেশে দেখা যায় না। এ ধরনের এক একটা ডাব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তিনটা ডাবের সমান। নমপেনের রাস্তার আশপাশের অসংখ্য দোকানে প্রতিদিনই সাজানো থাকে।

কম্বোডিয়ার ইতিহাস খুব প্রাচীন। এক সময় মংখেমের রাজ্য থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের প্রান্ত পযর্ন্ত বিস্তৃত হয়েছিলো। এদের সবচেয়ে উন্নতি হয় এ্যাংগোর আমলে। এখনো এরা এ্যাংগোরের কথা ভুলতে পারেনি বলে অনেক সুভেনিরেই নাম ব্যবহার করে থাকে।

দেশটি অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ও নির্মম অত্যাচারের সাক্ষী। কম্বোডিয়ার ইতিহাসে হিন্দু ও বৌদ্ধদের অবদান এখনো জড়িয়ে আছে। এখানকার প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ তার সাক্ষী। নমপেনের অদূরে একাধিক ঐতিহাসিক প্রাসাদ ও স্তূপের ধ্বংসাবশেষ পযর্টকদের প্রধান আকর্ষণ।

এখানে প্রতিদিন দলে দলে বিদেশি পযর্টক খানিক সময় কাটিয়ে থাকেন। এখানকার সব ধরনের মানুষ সাদাসিধে ও হাসিখুশি।

কম্বোডিয়ার নিজস্ব কারেন্সি থাকলেও সারাদেশে চলে আমেরিকান ডলার। প্রকৃতপক্ষে এরা সব হিসাব করে ডলারে, নিজেদের কারেন্সিতে নয়। শুধু শহরে নয়, পযর্টন স্পটেও ডলারের বিনিময়ে সবকিছু কেনা যায়। অবশ্য ডলারের পরিবর্তে কম্বোডিয়ার কারেন্সিও ব্যবহার করা যায়। কম্বোডিয়ার চার হাজার মুদ্রা এক ডলারের সমান। একটা ডাব কিনতে হলে দাম বলা হয় এক ডলার। এভাবে অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বলা হয় ডলারে।

নমপেনে জাপানিদের অর্থায়নে তৈরি বড় একটা শপিং সেন্টার হলো ইওন। এখানে জাপানিদের বেশ কয়েকটা দোকান ছাড়াও পৃথিবীর বিখ্যাত ব্র্যান্ডের অনেক দোকান আছে যেখানে প্রয়োজনীয় সবকিছুই পাওয়া যায়। নমপেন শহর বর্তমানে বাড়ানো হচ্ছে পুরনো ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান আর বনানীর মতো।

এখানে বিচ্ছিন্নভাবে নতুন মডেলের বাড়ি সবার দৃষ্টি আকষর্ণ করে। ভবিষ্যতের অথর্নীতির কথা চিন্তা করে এখানেও বড় আকারের দ্বিতীয় শপিংমল ইওন তৈরি করা হয়েছে। এই অত্যাধুনিক মলে ব্র্যান্ড দোকানের যেমন অভাব নেই, তেমনি ক্রেতারাও প্রতিদিন ভিড় জমাতে ভোলেন না।

এই মলের একটা আকষর্ণীয় দোকান হলো স্পোটর্স সামগ্রীর দোকান। এখানে পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের জিনিসের বিপুল সম্ভার অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যায়। এখানে শুধু খেলার সামগ্রী নয়, পরিধানেরও সব ধরনের পোশাক পাওয়া যায়।

নমপেন থেকে প্রায় তিরিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অঞ্চলে পর্যটকরা ছুটে যান এখানকার সবচেয়ে ঐতিহাসিক সিহানুক জেনোসাইডাল সেন্টার দেখতে। এ দেশের ইতিহাসে অসংখ্য নৃপতি ও শাসকদের সঙ্গে সিহানুকও পোল পুটের নামও জড়িত।

সিহানুকের আমলে সরকারের বিরোধীদের নৃশংসভাবে হত্যা করে এই অংশে ফেলে দেয়া হয়। পরবর্তীকালে এই অংশে স্মৃতিস্তূপ তৈরি করে নিহতদের দেহের অংশবিশেষ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এই স্তূপে দর্শনাথীদের প্রবেশের আগে সবাইকে একটা করে অডিও সরঞ্জাম দেয়া হয় এবং দর্শনার্থীরা কানে লাগিয়ে বিভিন্ন অংশে কীভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল তার রেকর্ড করে শোনানোর ব্যবস্থা থাকে।

স্মৃতিস্তূপের উনিশটা অংশে হত্যা ও অত্যাচারের নিদর্শনও বর্ণনা আছে। স্তূপের শেষ প্রান্তে অসংখ্য খুলি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কম্বোডিয়ার বিভিন্ন অংশে তিনশ হত্যা স্থান আছে। আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়েও কম্বোডিয়ার জেনোসাইড প্রোগ্রাম ওয়েবসাইটে দেখার ব্যবস্থা আছে।

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন দশর্নীয় স্থানের বাইরে পযর্টকদের খাওয়ার জন্য ভালো রেস্তোরাঁ আছে। এখান থেকে নিজেদের সহজভাবে গন্তব্যস্থানে ফেরার জন্য সব সময় অটোরিকশা পাওয়া যায় বলে পর্যটকদের কোনো অসুবিধা হয় না।

নমপেন শহরের মধ্যেই রাজবাড়ী পর্যটক ও শহরবাসীদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। বর্তমান রাজা প্রাসাদের একাংশে বসবাস করেন এবং অবশিষ্ট অংশ দশর্নার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। বধ্যভূমি ও প্রাসাদ দেখার জন্য প্রবেশমূল্য দেশের রাজস্ব খাতে অনেক সহায়তা করে।

রাজবাড়ী বিরাট অংশজুড়ে অবস্থিত এবং এখানে বিভিন্ন আকর্ষণীয় মন্দির, দেব-দেবীর মূর্তি ও ছোট-বড় আকারের অসংখ্য সুন্দর কক্ষ আছে। সকাল থেকেই রাজবাড়ী দেখার জন্য দশর্নার্থীদের ঢল নামে।

কম্বোডিয়ার মুদ্রার মান ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার বা ভিয়েতনামের মতো। একশ আমেরিকান ডলার ভাঙালে ৩ লাখ ৮০ হাজার খেমর রুজ মুদ্রা পাওয়া যায়। হাতে এত মুদ্রা থাকলেও ব্যবহারে কোনো অসুবিধা হয় না। কারণ এখানে এখানকার মুদ্রা ও আমেরিকান ডলার দুভাবেই হিসাব করা হয়।

অনেক সময় বড়মানের কম্বোডিয়ার নোট দেয়ার পর দোকান বা অন্যত্র নিজেদের মুদ্রা না দিয়ে ডলার ফেরত দেয়। এখানে নিজেদের মুদ্রার পাশাপাশি ডলারের মাধ্যমে বেচাকেনা হয় বলে পযর্টকদের খানিকটা সুবিধা হয়।

পাশ্চাত্যে পযর্টকদের কাছে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, মিয়ানমার আকষর্ণীয় হলেও ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া দিন দিন অনেক বেশি আকষর্ণীয় স্থান হয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান, প্রমোদ ভ্রমণের সুব্যবস্থা, সহজপ্রাপ্য যানবাহন, পছন্দনীয় খাদ্যপ্রাপ্তি ও ব্র্যান্ড জিনিস অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়ার কারণে।

থাইল্যান্ডে টুকটুক ও ট্যাক্সি মিটার ছাড়া যেভাবে ভাড়া চায়, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় গাড়িচালকদের মধ্যে এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় না বলে পযর্টকরা এসব দেশের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে।

কম্বোডিয়া কাছের দেশ থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনামের মতো দ্রুত উন্নতির পথে অগ্রসর না হলেও তাদের মানসিক প্রবণতা ক্রমেই উন্নয়ন আর নিজেদের সামাজিক, আর্থিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার প্রসারে পযর্টকদের আকৃষ্ট করা। কম্বোডিয়ার সাধারণ মানুষ পযর্টকদের জন্য আকষর্ণীয়। তারা সরল মন নিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

ভয়েসটিভি/এএস