Categories
ভ্রমণ সারাদেশ

কল্পকাহিনীতে ঘেরা ৫ শ বছরের শিমুল গাছ

শেরপুর জেলার সবচেয়ে বৃহত্তম শিমুল গাছটি ঘিরে রয়েছে নানা কল্পকাহিনী। বহন করছে নানা ঐতিহ্য। ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনার স্বাক্ষী এই শিমুল গাছটি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গাছটির বয়স পাঁচ থেকে ছয় শ বছর। এটি ঘিরে বসে বৈশাখী মেলা। এর ছায়ায় প্রশান্তি পান ক্লান্ত পথিক। তবে বৃহদাকৃতির এ গাছটি ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। তাই এটি বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি স্থানীয়দের। গাছটি ঘিরে পর্যটনেরও বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত এলাকাবাসীর।

নকলা উপজেলা শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দক্ষিণে নারায়ণ খোলা গ্রামে গাছটির অবস্থান। ৫০ শতাংশ জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় ১০০ ফুট লম্বা শিমুল গাছটির গোড়ার পরিধি প্রায় ৪৬ গজ।

গাছটির গোড়ায় দাঁড়িয়ে কখনো মনে হয় পাহাড়ের পাদদেশে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভূতি। এর বিশালতায় ভরে যায় মন। এখানে এলে মুদ্ধতার আবেশে ছড়িয়ে যায় দর্শনার্থীর হৃদয়। আলোচিত এই গাছটি দেখতে তাই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অনেকেই। পহেলা বৈশাখে মেলা বসে গাছটি ঘিরে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস আলি বলেন, আমি বাপ-দাদার কাছ থেকে শুনে আসছি এই বেড় শিমুলের বয়স কমপক্ষে ৫ শ বছর হবে। আবার গ্রামের অনেকেই বলেছে, গাছটির বয়স ৬ শ বছর বা তারও বেশি হবে।

গাছটির পশ্চিম পাশের কাণ্ড হাতি সদৃশ এবং উত্তর পাশ নৌকার বৈঠা, রশি, পেঁচা ও সাপের সদৃশ। গাছটির যে কোনো একটি শাখা নাড়া দিলে সমগ্র গাছ নড়ে ওঠে। বিস্তৃত শিমুলগাছে সারাক্ষণই চলে পাখির কিচির-মিচির। কয়েক প্রজাতির পাখির আনাগোনা শুধু এই গাছকে কেন্দ্র করেই।

প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো গাছটি বেড়ে উঠেছেও প্রাকৃতিকভাবেই। একসময় বেড় শিমুল গাছটি পত্র-পল্লবে এতটাই ঘন ছিল যে এর নীচে রোদ, বৃষ্টি, কুয়াশাও পড়ত না। প্রচণ্ড গরমের সময়ও গাছের নীচে পাওয়া যেত হিমেল শান্তির পরশ। পথিক, কৃষক থেকে শুরু করে নানা পেশা ও শ্রেণির লোকজন গাছের তলায় শুয়ে-বসে বিশ্রাম নিত। দুপুর ও বিকেলে দেখা যেত ডালে ডালে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন অনেকে।

গাছটি যার জমিতে আছে তিনি তার বাবার পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে পেয়েছেন, তিনি আবার তার বাবার কাছ থেকে এভাবেই চলে আসছে শতাব্দী থেকে শতাব্দী ধরে। কিন্তু কেউ বলতে পারে না এর জন্মলগ্নের সঠিক ইতিহাস।

গাছটিকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানান কল্পকাহিনী। অনেকে মনে করেন, গাছটিতে ভৌতিক আসর বসে। রয়েছে জ্বিন-পরীদের নিয়মিত আনাগোনা। আবার অনেকে মনে করেন গাছের গোড়ায় গুপ্তধন আছে। বিশালাকারের একটি সাপ দেখা যায় মাঝেমধ্যে, গাছে কোপ বা ঢিল দিলে রক্ত বের হয়- এ ধরনের কল্পকাহিনী ছড়িয়ে রয়েছে এলাকায়। এলাকাবাসী তা বিশ্বাসও করেন।

অনেক আগে নাকি গাছটি বিক্রি করা হয়েছিল। লোকেরা গাছের একটি ডাল কাটতেই নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত আসতে শুরু করে। তারপর থেকে গাছের মালিক আর এটি বিক্রি করেননি, কেউ কিনতেও আসেননি।

জনশ্রুতি আছে যে, গরিব-দুঃখীর বিয়ের সময় নাকি বিবাহের কথা বললে, কাঁসার থালা, বাসন, ঘটি-বাটি ইত্যাদি কিছুক্ষণ পর গাছের নীচে পাওয়া যেত। আবার কাজ শেষে সমস্ত জিনিস ফেরত দিতে হত, যদি কেউ লোভ করে দুই একটা জিনিস রেখে দিত তবে অদৃশ্যভাবে ভয়-ভীতি দেখানো হত। তাই মানুষের লোভের কারণে এ জিনিস দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে গাছটি। জীবনের চলার পথে বিপদে আপদে এই গাছের নিচে মান্নত করলেও নাকি উপকার পাওয়া যেত।

শেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন ও নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব কুমার সরকার গাছটি দেখতে এসে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা জানায়, প্রশাসনের অযত্ন-অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও নানামুখী অত্যাচারের কারণে ঐতিহ্যবাহী বেড় শিমুল গাছটি অস্তিত্ব বিলীনের হুমকিতে পড়েছে। মারা যাচ্ছে অনেক পরজীবী গাছ। ভেঙে পড়ছে বড় বড় ডালগুলো।

ময়মনসিংহ থেকে গাছটি দেখতে আসা শাহরিয়ার সুমন জানান, তিনি আশ্চর্যজনক বিশালাকৃতির গাছটি দেখে অভিভূত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের অনেক স্থানে বেড়িয়েছেন কিন্তু এমন দৃষ্টিনন্দন গাছ কোথাও দেখেননি।

তিনি বলেন, এ গাছটি নিয়ে মিডিয়ায় প্রচার হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নজর কাড়বে। একই কথা জানালেন শেরপুর শহর থেকে আসা যুবক আরিফুর রহমান আকিব, জিয়া সরকার, মনিরসহ আরও অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, চারিদিকে খোলামেলা পরিবেশ থাকায় ধীরে ধীরে পিকনিক স্পট হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে। এই বেড় শিমুল গাছের নীচে চলচ্চিত্রের শুটিংও হয়েছিল। এখনও মাঝেমধ্যে নাটক ও টেলিফ্লিমের শুটিংও হয়।

খ্যাতিমান অভিনেতা অমিত হাসান, আলিরাজ, আনোয়ারা, জয়, জাবেদসহ আরও অনেকেই এখানে শুটিং করার জন্য এসেছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

‘বিশ্ব ভ্রমণকন্যা’ এলিজা বিনতে এলাহী বিশালাকৃতির দৃষ্টিনন্দন এই বেড় শিমুল গাছটি দ্রুত সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান জানান, এই বেড় শিমুল গাছ ও গাছটির আশপাশ এলাকা পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণার জন্য জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধতন দফতরে ছবি ও তথ্যসহ লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে।
এ গাছের ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের আবারও স্মরণ করিয়ে দেবেন বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, যেহেতু গাছ ও গাছের জায়গাটি সরকারি তথা খাস নয়, বরং ব্যক্তি মালিকানা। অতএব ইচ্ছা করলেই খুব সহজেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোড়ালো কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া জায়গার ওপরে মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, যেহেতু গাছটি ঐতিহ্যবাহী, স্বাভাবিক কারণেই গাছটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন। তাই পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য বা বসার জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ইট-সিমেন্টের বেঞ্চ বানিয়ে দিয়েছি। পুরোনো এ গাছটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

দর্শনার্থী টানতে এলাকাবাসী বিশালকৃৃতির দৃষ্টিনন্দন এ গাছটি সম্পর্কে প্রচারণা ও মূল রাস্তা থেকে গাছের গোড়া পর্যন্ত পাকা সংযোগ সড়ক তৈরিসহ বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
ভ্রমণ

আর্মেনিয়া যেনো আরেক বাংলাদেশ

পুরোপুরি স্থলসীমা দ্বারা ঘেরা  ইউরেশিয়া অঞ্চলের একটি দেশ আর্মেনিয়া । সাংবিধানিক নাম রিপাবলিক অফ আর্মেনিয়ার অবস্থান তুরস্কের পূর্ব দিকে, এছাড়াও দেশটির উত্তর দিকে রয়েছে জর্জিয়া। আর্মেনিয়ার পূর্ব দিকে অবস্থিত আজারবাইজান এবং স্বাধীনতার জন্য অপেক্ষায় থাকা রিপাবলিক অফ আর্টসেক।

এছাড়াও আর্মেনিয়ার দক্ষিণ দিকে ইরানের অবস্থান। আর্মেনিয়া- যেদেশের আরেক নাম বাংলাদেশ! আর্মেনিয়ার মানুষের মুখের ভাষা প্রধানত আর্মেনিয়ান। তারা অন্য কোন ভাষায় কথা বলে না। আর্মেনিয়ায় বসবাসকারী মানুষের প্রধান ধর্ম খ্রিস্টান। তবে তারা খ্রিস্টান ধর্মের মূল ধারার বিশ্বাসগুলোকে খুব একটা বেশি প্রাধান্য দেয় না।

আর্মেনিয়া একসময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিলো।আয়তন প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার। স্বাধীন দেশ হিসেবে পৃথিবীর বুকে ১৩৮তম দেশ এটি। এখানে তিন কোটি মানুষের বসবাস। জনসংখ্যার দিক থেকে আর্মেনিয়া বিশ্বের ১৩৭তম দেশ। আর্মেনিয়া ইউরোপীয় এবং এশিয়ার সীমান্তবর্তী একটা দেশ হলেও এদেশটির মানুষের জীবনধারা আনেকটা ইউরোপের মতো। শিক্ষার হার ৯৯ শতাংশ এবং মানুষের গড় আয় ৭৫ বছরের বেশি।

আরও পড়ুন- আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ

ইয়েরেভান হলো আর্মেনিয়ার সবচেযে বড় শহর ও রাজধানী। এটি আর্মেনিয়ার প্রশাসনিক বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এটি পুরনো সভ্যতার শহর। সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম থাকা শহরগুলোর মধ্যেই এটি অন্যতম।

নিজ দেশের নাম যখন ভিন্ন কোন দেশের মানুষ যখন নিজের রাজ্য হিসেবে পরিচয় দেয় গর্ব হওয়াটাই স্বাভাবিক। আপনারা নিশ্চয় জেনে থাকবেন ভারতের কাশ্মীরে বাংলাদেশ নামের একটি জায়গা আছে। এবার জেনে রাখুন আর্মেনিয়ায় বাংলাদেশ সর্ম্পকে। আর্মেনিয়ার একটি জেলার নাম হলো বাংলাদেশ। জেলাটির অফিসিয়াল নাম মালাতিয়া সেবাস্তিয়া হলেও সেখানকার মানুষ নিজেদের বাংলাদেশ জেলার বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিতে বেশি পছন্দ করেন।

আর্মেনিয়া মুলত কৃষি প্রধান একটি দেশ। দেশটির অর্থনীতিতে কৃষির অবদান সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও দেশটিতে হাইড্রো ইলেকট্রনিক্স মিনারেল রিসোর্সেস কোয়ারির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ অর্জিত হয়। আর্মেনিয়ার পর্যটন ব্যবসা অনেক উন্নত। দেশটির জিডিপি প্রায় ১৩ বিলিয়ম মার্কিন ডলার আসে এই খাত থেকে। পর্যটনের দিক থেকে তারা পৃথিবীতে ১২৭তম।

আর্মেনিয়ার মাথাপিছু আয় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। এদেশের মুদ্রার নাম ড্রাম। এদেশের মুদ্রার মান বাংলাদেশের মুদ্রার মানের চাইতে আনেক কম। যেমন তাদের এক ড্রাম সমান বাংলাদেশের ১৬ পয়সা আর ভারতীয় রুপির ১৪ পয়সা।

আরও পড়ুন- আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার যুদ্ধে মিসাইল গিয়ে পড়লো ইরানে

আর্মেনিয়ার প্রাচীন শাসকরা ছিলো অনেকটাই সৌখিন। তাদের রুচির নিদর্শন এখন সমগ্র আর্মেনিয়াতেই কমবেশি পাওয়া যায়।তাদের নির্মিত মন্দির এবং দুর্গগুলো দেশটির সৌন্দর্য্য বৃদ্দি করে চলেছে।

আর্মেনিয়া এমন একটি দেশ যেদেশ প্রায় সকলেই দাবা খেলতে জানে। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো আর্মেনিয়া দাবা খেলা রাস্ট্রীয়ভাবে শেখানো হয়।সেখানের প্রতিটি স্কুল কলেজের দাবা খেলার বিষয়টি বাধ্যতামুলক হিসেবে নেয়া হয়েছে।

আর্মেনিয়ায় প্রচুর পাহাড়ি অঞ্চল রয়েছে । সেখানে রাস্তাঘাট তৈরি করা অনেক কষ্টসাধ্য।কিন্তু শুনলে আবাক হবেন আর্মেনিয় সরকার এমন কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহুল এই যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ বাদ দিয়েছে। তার পরির্বতে অন্য একটি পদ্ধতিতে তারা যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। আর তা হলো ঝুলন্ত গাড়ি। একারণে দেশটিতে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ঝুলন্ত তার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তাদের দেশে এই তারে ঝুলতে থাকা যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে গ্রিনিচ রেকর্ডে নাম লেখিয়েছে। কোন দেশের মানুষ সবচেয়ে সুন্দর তা নিয়ে রয়েছে মতভেদ। কারণ সৌন্দর্য্যের সংজ্ঞা নিয়ে একের জনের কাছে একেক রকম বক্তব্য পাওয়া যায়। তবে সকলে একটি মত দিয়েছেন যে এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যবর্তী অঞ্চলের মানুষরা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর। এর মধ্যে আর্মেনিয়ার জনগণকেই সবচেয়ে সুন্দর মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

আর্মেনিয়ার বেশিরভাগ মানুষ মনে করে হযরত নুহ আ. এর সেই বিশাল নৌকাটি এখন আর্মেনিয়ার একটি পাহাড়ের ওপর রয়েছে। কিন্তু এটি লোকশ্রুতি।আর্মেনিয়ার পাহাড়ে নয় নুহ আ. সেই নৌকাটি এখন রয়েছে তুরস্কে।পৃথিবীতে যারা প্রথম মদ তৈরি করা রপ্ত করেছে আর্মেনিয়া নিঃসন্দেহে তাদের মধ্যে আন্যতম। এখনো কিছু ঐতিহাসকিরা মদ তৈরির প্রথম উদ্যোক্তা হিসেবে আর্মেনিয়াকেই মনে করে।

আর্মেনিয়াকে বাংলায় ঝগড়াটে দেশও বলতে পারেন। কারণ আর্মেনিয়ার পাশ্চবর্তী সবদেশগুলোর সাথে তাদের সর্ম্পক ভালো নয়। আর্মেনিয়ার সাথে তুরস্ক এবং আজারবাইজানের ইতোমধ্যে আনেকবার যুদ্ধ হয়েছে। সম্প্রতি আর্মেনিয়ার নাগোর্নো কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে তুরস্ক ও আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধ করছে।

তাদের প্রধান আয়ের উৎস পর্যটন। সমগ্র অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র। তেমনি কিছু বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে আছে খোরভিরাট,গার্ণি টেম্পল এবং ভিলিজোন নেশন্যাল পার্ক। এই প্রত্যেকটি পর্যটন কেন্দ্রের কারণে প্রতিবছর অসংখ্য বিদেশি মানুষ আর্মেনিয়ায় ঘুরতে আসে।

সাম্প্রতিক সময়ে আর্মেনিয়া ফুটবলে অনেক ভালো করেছে। তাই দেশটিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। তবে দেশটির মানুষজন রেসলিং এবং ভারোত্তল খেলাকেও অনেক পছন্দ করে।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ

এশিয়ার কর্মসংস্থানের দেশ কম্বোডিয়া

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি দেশ কম্বোডিয়া। ব্যবসা, বাণিজ্য, আমদানি ও রপ্তানিতে দিনে দিনে এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে দেশটি।

কম্বোডিয়ার উত্তর-পূর্বে লাউস। পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে ভিয়েতনাম, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে থাইল্যান্ড এবং দক্ষিণ পশ্চিমে থাইল্যান্ড উপসাগর। প্রায় দেড় কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশ কম্বোডিয়া বাংলাদেশের তুলনায় আয়তনে কিছুটা বড়।

কম্বোডিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এর নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে সেই দেশের অর্থনীতি। আর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্বোডিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক, ব্যবসা বাণিজ্য ও দুই দেশের পারষ্পরিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সম্প্রতি সফর করেছেন দেশটি।

কম্বোডিয়ার আগের নাম হচ্ছে কম্পুচিয়া। রাজধানীর নাম নমপেন। নমপেন তেমন বড় নগরী নয়। মাত্র ২৫-৩০ লাখ মানুষের বাস এখানে। নমপেন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে যারা চাকরী করে তারা কেউই ইংরেজি বলতে পারে না।

নমপেন শহরে ছয়-সাতটি মসজিদ রয়েছে। সত্তর ও আশির দশকে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় দ্রুত ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিয়ে আমাদের দেশের পত্রপত্রিকায় প্রতিদিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হতো।

১৯৫৩ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে ফ্রান্সের কাছ থেকে। রাস্তাঘাটগুলো সাদামাটা ধরনের। যানবাহনে আমাদের মতো বৈচিত্র্য নেই। রাস্তায় মোটর বাইকের ছড়াছড়ি। এটাই দেশটির বেশ জনপ্রিয় বাহন।

রাস্তার পাশে আমাদের দেশের মতো ছোট ছোট দোকানপাট রয়েছে। যুবকরা আমাদের বেকারদের মতোই জটলা করে আর আড্ডা দেয়। বিকেল বেলা স্বাধীনতা স্কোয়ারে হাজারো মানুষের ঢল নামে।

কম্বোডিয়ানরা বেশ শান্তশিষ্ট ও বন্ধুসুলভ। তাদের একটি বৈশিষ্ট্য সত্যি প্রশংসনীয় সেটি হলো তারা বেশি রাত জাগে না। শহরের মানুষেরাও রাত ৯-১০ টার মধ্যে ঘুমিয়ে যায় এবং বেশ সকালে জেগে ওঠে।

কম্বোডিয়ার অ্যাংকরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মধ্যযুগীয় মন্দির। সুবিশাল এই স্থাপনাটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ মন্দির। ১২শ শতাব্দীতে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা ২য় সূর্যবর্মণ। প্রথমদিকে হিন্দু মন্দির হিসেবে ব্যবহৃত হলেও পরে এটি বৌদ্ধ মন্দিরে পরিণত হয়।

পর্যটনশিল্প থেকে আয়ের ২৮ শতাংশ মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহার করা হয়। বৌদ্ধ ধর্মের রীতি অনুযায়ী কম্বোডিয়ানরা ঘটা করে নববর্ষ পালন করে। ফুটবল তাদের অন্যতম প্রিয় খেলা।

কম্বোডিয়ার বেশিরভাগ মানুষ বাস করে গ্রামে এবং অনেকটা আমাদের গ্রামীণ জীবনের মতো। নারীরা প্রধানত বাড়িতে কাজ করে আর পুরুষরা কঠোর শ্রমঘন কাজ করে।

কম্বোডিয়া দেশ হিসেবে সবুজ-শ্যামল, আদিগন্ত ধানক্ষেত। ভিয়েতনাম যুদ্ধের অংশ হিসেবে ওই সময় আমেরিকাও কমিউনিস্ট নিধন করতে কম্বোডিয়ার ওপর বোমা বর্ষণ করে। গোটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা যতো বোমা ফেলেছে শুধু কম্বোডিয়ায় ফেলেছে তার তিন গুণ। পুরো কম্বোডিয়া তখন এক মৃত্যুপুরী। প্রাচীনকাল থেকেই কম্বোডিয়াতে রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিল।

কম্বোডিয়ার প্রধান নদী ‘মেকং।’ আর আছে বড় একটি হ্রদ- নাম টনলি স্যাপ অর্থাৎ সুস্বাদু পানির হ্রদ। দেশটির কৃষি ও মৎস্য সম্পদ এই দু’টি জলাধারের ওপর প্রধানত নির্ভরশীল।

প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রধান খাদ্য ভাত আর মাছ। জলবায়ু অনেকটা বাংলাদেশের মতো। বর্তমানে কম্বোডিয়ার জনসংখ্যা মাত্র এক কোটি ৪০ লাখ। দেশটির আয়তন এক লাখ ৮১ হাজার বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

আমস্টারডাম হচ্ছে সাইকেলের দেশ আর কম্বোডিয়া হচ্ছে মোটরসাইকেলের দেশ। কম্বোডিয়া শহরের বাড়িগুলো বেশিরভাগই ৩/৪ তলা বিশিষ্ট। ঝকঝকে তকতকে বাড়িঘর। কম্বোডিয়া শান্তিপ্রিয় দেশ- এখানে ঝগড়া, মারামারি, হানাহানি নেই বললেই চলে। কম্বোডিয়ায় ইংরেজি পত্রিকা কম।

কম্বোডিয়া কাছের দেশ থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনামের মতো দ্রুত উন্নতির পথে অগ্রসর না হলেও তাদের মানসিক প্রবণতা ক্রমেই উন্নয়ন আর নিজেদের সামাজিক, আর্থিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার প্রসারে পযর্টকদের আকৃষ্ট করা। সে জন্য এখানে যেমন ইওনের মতো বিলাসবহুল শপিংমল আছে তেমনি ঢাকার বঙ্গবাজারের মতো সাধারণ বিক্রয়কেন্দ্রও আছে।

কম্বোডিয়ার সাধারণ মানুষ পযর্টকদের জন্য আকষর্ণীয়। তারা সরল মন নিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

বিপুল পৃথিবী আবৃত সামাজিক আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে পূর্ণ বলে মানুষের কাছে প্রিয় দশর্নীয় স্থান দেশটি। এক একটা দেশ মানুষের মনে সঞ্চিত করে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা আর মানবসভ্যতার ইতিহাস।

একদিকে থাইল্যান্ড থেকে শুরু করে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত সার্বিক পরিবর্তন আর উন্নতির ইতিহাস, অন্যদিকে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন শহর আর সমুদ্রের ওপারে ছোট ছোট জনপদ, মালয়েশিয়ার সমুদ্রে বাঁক দিয়ে অন্য শহরে যাওয়ার ব্যবস্থা, ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা-জাভা-বালি দ্বীপের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আর সিঙ্গাপুর মানুষের তৈরি প্রাকৃতিক সৌন্দযের্র পাশাপাশি অদূরবর্তী ভিয়েতনাম আর কম্বোডিয়া।

ভিয়েতনামে যেতে হয় মালয়েশিয়া থেকে আর কম্বোডিয়া থাইল্যান্ড থেকে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনামের মতো কম্বোডিয়া এত দ্রুত উন্নতি করতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে আছে। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে কম্বোডিয়া যেতে খুব বেশি সময় লাগে না।

সবদেশে কম্বোডিয়ার কনস্যুলেট নেই বলে ব্যাংকক থেকে সে দেশে যাওয়ার জন্য ভিসা নিতে হয়। ভিসা আফিসও শহর থেকে বেশ দূরে। যাওয়ার সময় গাড়ি পাওয়ার অসুবিধা না হলেও আসার সময় যানবহনের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। ভিসা অফিস বড় না। তবে সকালে ফর্ম জমা দিলে বিকালেই ভিসা পাওয়া যায়। ভিসা অফিসে সবাই বেশ সহযোগিতাও করে।

অনেকেই ব্যাংকক থেকে কম্বোডিয়ার সিয়াম রিফে বেড়াতে যাওয়া পছন্দ করেন। সিয়াম রিফ এয়ারপোর্টে পৌঁছানোর পর অনেককে পুলিশের দৃষ্টিতে পড়তে হয়। এখানে আর মিশরের কায়রো এয়ারপোর্টে ভোগান্তির শিকার হতে হয় পযর্টকদের। তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো পযর্টকদের বিব্রত করে ঘুষ নেয়া।

সিয়াম রিফ ছোট শহর। তবে এয়ারপোর্ট থেকে শহরের ভেতরে প্রবেশ করার সময় এদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য রাস্তার সুব্যবস্থা চোখে পড়ার মতো। আসা ও যাওয়ার রাস্তা দুই অংশে ভাগ করা। বড় অংশে বড় গাড়ি আর পাশের ছোট অংশে অন্য গাড়ির চলাচলের ব্যবস্থা। তার ফলে ট্রাফিক জ্যাম এড়ানো যায় আর তাড়িতাড়ি রাস্তা অতিক্রম করাও সম্ভব হয়।

ছোট শহর বলেই সিয়াম রিফে সব রাস্তার মানুষের চলাচল তেমন নয়। তবে, এখানকার ছোট ছোট হোটেলগুলো পরিচ্ছন্ন আর তিন বেলাই খাবারের সুব্যবস্থা আছে।

এখানে পযর্টকদের মূল আকষর্ণ নদীতে বসবাসরত মানুষের আবাসস্থল দেখতে যাওয়া। নদীর পাশে একতলা, দোতলা যন্ত্রচালিত অসংখ্য নৌকা দাঁড়িয়ে থাকে। সেগুলো এককভাবে বা দলগতভাবে ভাড়া করা যায়।

নদীর দেশ বাংলাদেশ হলেও এখানকার নদী ও মানুষের প্রতি আকর্ষন অনেক। প্রথম দিকে নৌকা প্রাকৃতিক পরিবেশকে পাশে রেখে চলতে থাকে, তারপর অনেকদূর যাওয়ার পর নদীবাসীদের চোখে পড়বে। অসংখ্য নর-নারী ও অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়ে বিভিন্ন ধরনের নৌকায় জীবনধারণ করে।

অনেক নৌকার ওপর দোকান সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য দিয়ে। সেজন্য নৌকাবাসীদের আর দূরে গিয়ে বাজার করার প্রয়োজন হয় না। সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এখানে ছোটদের শিক্ষাব্যবস্থাও আছে। একটা বড় নৌকার ওপর স্কুল বসে এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এখানে ছোট ছোট নৌকা করে পড়াশোনা করতে আসে। শহরবাসী না হলেও এখানকার শিশুরা শিক্ষা বঞ্চিত নয়।

নদীর ওপর শুধু এক জায়গায় নয়, নদীর বিভিন্ন অংশে একইভাবে দল বেঁধে মানুষ বাস করে। যাদের কোনো ঘর-বাড়ি নেই। পর্যটকরা এই নতুন সভ্যতার নিদর্শন দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারেন না।

সিয়াম রিফ ছোট শহর হলেও এখানে আকষর্ণীয় একাধিক দোকান আছে, যেখানে সে দেশের সামগ্রী সাজিয়ে রাখা আছে পযর্টকদের কেনার জন্য। এখানে ছোট একটা বাজারও আছে যেখানে অপেক্ষাকৃত কম দামে সুভেনির কিনতে পাওয়া যায়।

সিয়াম রিফ থেকে প্লেনে নমপেন যেতে পনেরো বিশ মিনিটের বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না বলে প্লেনেও ছোট গ্লাসে শুধু পানি পান করতে দেয়া হয়। নমপেন এয়ারপোর্ট অপেক্ষাকৃত বড়। এখানে বিদেশি পযর্টকদের বিব্রত হতে হয় না।

কম্বোডিয়া বিচিত্র এক দেশ। নমেপন রাজধানী হলেও এখানে যাতায়াতের জন্য কোনো ট্যাক্সি পাওয়া যায় না। চলাচলের জন্য নিতে হয় থাইল্যান্ডের টুকটুকের চেয়ে একটু ছোট আর ঢাকার সিএনজির তুলনায় একটু বড় যানবাহন। এই শ্রেণির যানে নমপেনের সব জায়গায় যেতে কোনো অসুবিধা হয় না। ভাড়াও খুব বেশি নয়।

নমপেনে দেখার অনেক ঐতিহাসিক স্থান আছে। তবে এসব ছাড়া একটা ফল সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে যায়। সেটা হলো বিশাল আকারের ডাব। এত বড় ডাব বোধহয় পৃথিবীর আর কোনো প্রাচ্য দেশে দেখা যায় না। এ ধরনের এক একটা ডাব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তিনটা ডাবের সমান। নমপেনের রাস্তার আশপাশের অসংখ্য দোকানে প্রতিদিনই সাজানো থাকে।

কম্বোডিয়ার ইতিহাস খুব প্রাচীন। এক সময় মংখেমের রাজ্য থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের প্রান্ত পযর্ন্ত বিস্তৃত হয়েছিলো। এদের সবচেয়ে উন্নতি হয় এ্যাংগোর আমলে। এখনো এরা এ্যাংগোরের কথা ভুলতে পারেনি বলে অনেক সুভেনিরেই নাম ব্যবহার করে থাকে।

দেশটি অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ও নির্মম অত্যাচারের সাক্ষী। কম্বোডিয়ার ইতিহাসে হিন্দু ও বৌদ্ধদের অবদান এখনো জড়িয়ে আছে। এখানকার প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ তার সাক্ষী। নমপেনের অদূরে একাধিক ঐতিহাসিক প্রাসাদ ও স্তূপের ধ্বংসাবশেষ পযর্টকদের প্রধান আকর্ষণ।

এখানে প্রতিদিন দলে দলে বিদেশি পযর্টক খানিক সময় কাটিয়ে থাকেন। এখানকার সব ধরনের মানুষ সাদাসিধে ও হাসিখুশি।

কম্বোডিয়ার নিজস্ব কারেন্সি থাকলেও সারাদেশে চলে আমেরিকান ডলার। প্রকৃতপক্ষে এরা সব হিসাব করে ডলারে, নিজেদের কারেন্সিতে নয়। শুধু শহরে নয়, পযর্টন স্পটেও ডলারের বিনিময়ে সবকিছু কেনা যায়। অবশ্য ডলারের পরিবর্তে কম্বোডিয়ার কারেন্সিও ব্যবহার করা যায়। কম্বোডিয়ার চার হাজার মুদ্রা এক ডলারের সমান। একটা ডাব কিনতে হলে দাম বলা হয় এক ডলার। এভাবে অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বলা হয় ডলারে।

নমপেনে জাপানিদের অর্থায়নে তৈরি বড় একটা শপিং সেন্টার হলো ইওন। এখানে জাপানিদের বেশ কয়েকটা দোকান ছাড়াও পৃথিবীর বিখ্যাত ব্র্যান্ডের অনেক দোকান আছে যেখানে প্রয়োজনীয় সবকিছুই পাওয়া যায়। নমপেন শহর বর্তমানে বাড়ানো হচ্ছে পুরনো ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান আর বনানীর মতো।

এখানে বিচ্ছিন্নভাবে নতুন মডেলের বাড়ি সবার দৃষ্টি আকষর্ণ করে। ভবিষ্যতের অথর্নীতির কথা চিন্তা করে এখানেও বড় আকারের দ্বিতীয় শপিংমল ইওন তৈরি করা হয়েছে। এই অত্যাধুনিক মলে ব্র্যান্ড দোকানের যেমন অভাব নেই, তেমনি ক্রেতারাও প্রতিদিন ভিড় জমাতে ভোলেন না।

এই মলের একটা আকষর্ণীয় দোকান হলো স্পোটর্স সামগ্রীর দোকান। এখানে পুরুষ, মহিলা ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের জিনিসের বিপুল সম্ভার অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যায়। এখানে শুধু খেলার সামগ্রী নয়, পরিধানেরও সব ধরনের পোশাক পাওয়া যায়।

নমপেন থেকে প্রায় তিরিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত অঞ্চলে পর্যটকরা ছুটে যান এখানকার সবচেয়ে ঐতিহাসিক সিহানুক জেনোসাইডাল সেন্টার দেখতে। এ দেশের ইতিহাসে অসংখ্য নৃপতি ও শাসকদের সঙ্গে সিহানুকও পোল পুটের নামও জড়িত।

সিহানুকের আমলে সরকারের বিরোধীদের নৃশংসভাবে হত্যা করে এই অংশে ফেলে দেয়া হয়। পরবর্তীকালে এই অংশে স্মৃতিস্তূপ তৈরি করে নিহতদের দেহের অংশবিশেষ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এই স্তূপে দর্শনাথীদের প্রবেশের আগে সবাইকে একটা করে অডিও সরঞ্জাম দেয়া হয় এবং দর্শনার্থীরা কানে লাগিয়ে বিভিন্ন অংশে কীভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল তার রেকর্ড করে শোনানোর ব্যবস্থা থাকে।

স্মৃতিস্তূপের উনিশটা অংশে হত্যা ও অত্যাচারের নিদর্শনও বর্ণনা আছে। স্তূপের শেষ প্রান্তে অসংখ্য খুলি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কম্বোডিয়ার বিভিন্ন অংশে তিনশ হত্যা স্থান আছে। আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়েও কম্বোডিয়ার জেনোসাইড প্রোগ্রাম ওয়েবসাইটে দেখার ব্যবস্থা আছে।

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন দশর্নীয় স্থানের বাইরে পযর্টকদের খাওয়ার জন্য ভালো রেস্তোরাঁ আছে। এখান থেকে নিজেদের সহজভাবে গন্তব্যস্থানে ফেরার জন্য সব সময় অটোরিকশা পাওয়া যায় বলে পর্যটকদের কোনো অসুবিধা হয় না।

নমপেন শহরের মধ্যেই রাজবাড়ী পর্যটক ও শহরবাসীদের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। বর্তমান রাজা প্রাসাদের একাংশে বসবাস করেন এবং অবশিষ্ট অংশ দশর্নার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। বধ্যভূমি ও প্রাসাদ দেখার জন্য প্রবেশমূল্য দেশের রাজস্ব খাতে অনেক সহায়তা করে।

রাজবাড়ী বিরাট অংশজুড়ে অবস্থিত এবং এখানে বিভিন্ন আকর্ষণীয় মন্দির, দেব-দেবীর মূর্তি ও ছোট-বড় আকারের অসংখ্য সুন্দর কক্ষ আছে। সকাল থেকেই রাজবাড়ী দেখার জন্য দশর্নার্থীদের ঢল নামে।

কম্বোডিয়ার মুদ্রার মান ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার বা ভিয়েতনামের মতো। একশ আমেরিকান ডলার ভাঙালে ৩ লাখ ৮০ হাজার খেমর রুজ মুদ্রা পাওয়া যায়। হাতে এত মুদ্রা থাকলেও ব্যবহারে কোনো অসুবিধা হয় না। কারণ এখানে এখানকার মুদ্রা ও আমেরিকান ডলার দুভাবেই হিসাব করা হয়।

অনেক সময় বড়মানের কম্বোডিয়ার নোট দেয়ার পর দোকান বা অন্যত্র নিজেদের মুদ্রা না দিয়ে ডলার ফেরত দেয়। এখানে নিজেদের মুদ্রার পাশাপাশি ডলারের মাধ্যমে বেচাকেনা হয় বলে পযর্টকদের খানিকটা সুবিধা হয়।

পাশ্চাত্যে পযর্টকদের কাছে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, মিয়ানমার আকষর্ণীয় হলেও ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া দিন দিন অনেক বেশি আকষর্ণীয় স্থান হয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান, প্রমোদ ভ্রমণের সুব্যবস্থা, সহজপ্রাপ্য যানবাহন, পছন্দনীয় খাদ্যপ্রাপ্তি ও ব্র্যান্ড জিনিস অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়ার কারণে।

থাইল্যান্ডে টুকটুক ও ট্যাক্সি মিটার ছাড়া যেভাবে ভাড়া চায়, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় গাড়িচালকদের মধ্যে এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় না বলে পযর্টকরা এসব দেশের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে।

কম্বোডিয়া কাছের দেশ থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনামের মতো দ্রুত উন্নতির পথে অগ্রসর না হলেও তাদের মানসিক প্রবণতা ক্রমেই উন্নয়ন আর নিজেদের সামাজিক, আর্থিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার প্রসারে পযর্টকদের আকৃষ্ট করা। কম্বোডিয়ার সাধারণ মানুষ পযর্টকদের জন্য আকষর্ণীয়। তারা সরল মন নিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
ভ্রমণ সারাদেশ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গজনী অবকাশ

সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের গজনী অবকাশ কেন্দ্রে প্রকৃতি যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। এখানকার পাহাড়, উঁচু-নিচু টিলা ও সমতল ভূমিতে সবুজের সমারোহ। এর মধ্যে শাল, গজারি, সেগুন, লতাপাতার বিন্যাস প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে দোলা দিয়ে যায়। এই পাহাড়ের পাশ ঘেঁষেই ভারতের মেঘালয় রাজ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি গজনী ইংরেজ শাসনামল থেকেই পিকনিক স্পট হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের প্রধান ও উত্তরাঞ্চলের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গজনী।

১৯৯৩ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবকাশ কেন্দ্রটি তৈরি হয়। জেলা শহর থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়নের প্রায় ৯০ একর পাহাড়ি এলাকা জুড়ে এর অবস্থান। গারো, কোচ, হাজং, বর্মন, বানাই, ডালু ও হদিসহ ৭টি নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাস এ পাহাড়ে।

এখানে রয়েছে সারি সরি গজারী, শাল, সেগুন, মহুয়া, আকাশমনি, ইউকেলিপটস, বাঁশ, পাহাড়ি কাঠাঁল, কলা, আনারস, সফেদাসহ নাম না জানা শত শত গাছ-গাছালি এবং লতাপাতার বিন্যাস।

পাহাড়, ঝর্ণা, টিলা, লেক, হৃদসহ প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম সৌন্দর্য মিলে অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয় ভ্রমণকারীদের ক্লান্ত মনে।

লাল মাটির উঁচু-নীচু পাহাড়, ছোট-বড় টিলা, মাঝে সীমান্ত সড়ক সমতল, গহীন জঙ্গল আর ক্ষুদ্র নৃতাত্বিকদের ঘরবাড়ির সৌন্দর্য্য বিষন্ন মনকে করবে উৎফুল্ল। তাই প্রতিবছর শীতকালে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে ভ্রমণপিপাশু মানুষগুলো ছুটে আসেন এ প্রাকৃতিক ‍লীলাভূমি শেরপুরে।

গজনী অবকাশের‌ সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য কৃত্রিম ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ৩৩ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট বৃহৎ ডাইনোসোরের ভাস্কর্য। আর এই ভাস্কর্যটি পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়।

রয়েছে চুকুলুপি চিলড্রেনস পার্ক, ড্রাগন টানেল, দন্ডায়মান জিরাফ, ডলফিন, পদ্ম সিঁড়ি, লেক ভিউ পেন্টাগন, হাতির প্রতিকৃতি, স্মৃতিসৌধ, গারো মা ভিলেজ, কৃত্রিম জলপ্রপাত, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিফলক।

আর গারো মা ভিলেজে মাশরুম ছাতার নিচে বসে পাহাড়ের ঢালে দিগন্তজোড়া ধান ক্ষেত ও নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীদের জীবনমান উপভোগ করা যায়।
পাহাড়ের চূড়ায় পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ৬ কক্ষ বিশিষ্ট উন্নতমানের দ্বিতল রেস্ট হাউজ।

পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য রয়েছে ৬৪ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট সাইট ভিউ টাওয়ার। সাইট ভিউ টাওয়ারের চূড়ায় উঠলে চারদিকে দেখা যায় ধূসর, আকাশী ও সবুজের সমারোহ।

গজনীতে তৈরি করা হয়েছে গ্রীক ধারায় চৌবাচ্চার দুইটি হাঁস এবং পানির খেলা। সাদা সিমেন্ট দ্বারা ঝিলের পাড়ে নির্মিত আছে জলপরী ভাস্কর্য। জলপরীকে দেখে মনে হয়, জলে সাতার কেটে ক্লান্ত হয়ে পানি থেকে মাত্র উঠে শান্ত-ক্লান্ত অবস্থায় বসে আছে।

দর্শনার্থীদের জন্য আছে মিনি চিড়িয়াখানা। ছোট পরিসরের চিড়িয়াখানাটিতে রয়েছে বনবিড়াল, বন্যশুকুর, বক, চিল, ঘুঘু, বানর, পাহাড়ি ইঁদুর, গুঁইসাপ, অজগর সাপ, মেছো বাঘ, হরিণ, ভাল্লুকসহ প্রায় ৪০ প্রজাতির প্রাণী।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
ভ্রমণ

দেখা যাচ্ছে না কাঞ্চনজঙ্ঘা, হতাশায় পর্যটকরা

পঞ্চগড় থেকে এ বছর শীতের কিছুটা আগেই পরিষ্কার ভাবে দেখা দিয়েছে হিমালয়ের দ্বিতীয় সবোর্চ্চ ও পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই দেখা যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উত্তরের প্রান্তিক ও সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে ছুটে যাচ্ছেন ভ্রমণ পিয়াসুরা।

এতে করে তেঁতুলিয়া উপজেলার পিকনিক কর্ণার সহ সকল বিনোদন কেন্দ্রে দেখা দিয়েছি উপচে পড়া ভিড়। তবে অক্টোবরের শেষের দিকে দেখা দিলেও নভেম্বরের শুরু থেকে আকাশ পরিষ্কার না থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পেয়ে হতাশায় পর্যটকরা।

অন্যদিকে পর্যটকদের রাত যাপনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আবাসিক ও হোটেল না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে।

হেমন্ত ও শীতের এই সময়ে বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র পঞ্চগড় থেকে খালি চোখেই দেখা যায় হিমালয় পর্বতমালার দ্বিতীয় উচ্চতম ও পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। আর এর স্থান মাউন্ট এভারেস্ট ও কেটু এর পরে। তবে পর্বতের কিছু অংশ ভারতের সিকিম ও কিছু অংশ নেপালে অবস্থিত হলেও পঞ্চগড়ের প্রায় সব জায়গা থেকে খালি চোখে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের  দেখা মিলছে।

এ দৃশ্য নিয়ে খবর ছড়িয়ে পড়ায় তা উপভোগ করতে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী নদী মহানন্দা তীরের ঐতিহাসিক তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোয় প্রতিদিন ভিড় করছে পর্যটকরা।

সূর্যের আলোর সাথে কখনও শুভ্র, গোলাপী আবার কখনও লাল রঙ নিয়ে হাজির হয় বরফ আচ্ছাদিত এই পর্বত চূড়া। পাহাড়টির সৌন্দর্য্য উপভোগ করার মুক্ষম সময় ভোর ও বিকেল, তখন পর্বত চূড়াটি পোড়ামাটির রঙ নেয়। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কিছুটা ঝাপসা হয়ে আসলে তখন রঙ হয় সাদা। যেন আকাশের বুকে এক খন্ড বরফ।

যারা দেশের সীমানা পেড়িয়ে যাদের এই পর্বতচূড়া দেখার সুযোগ মিলে না তারা শীতের এসময় ছুটে আসেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। এবং পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই উপভোগ করেন এমন অপরুপ সৌর্দয।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর নভেম্বর শুরু হয়ে ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি বা শেষে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলেও এবছর অক্টোবর মাসের শেষের দিকে দেখা মিলছে এবং বিগত বছরের তুলানায় আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় গত ২৯ অক্টোবর থেকে টানা ৩ দিন অনেক পরিষ্কার দেখা গেছে। তবে গত ১ নভেম্বর থেকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে পর্বত শৃঙ্গটি দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে আবহাওয়ার ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার বিষয়ে খোজ খবর না নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তথেকে চলে আসায় ভোগান্তি সহ হতাশ হতে দেখা গেছে অনেক পর্যটককে।

পর্যটকরা বলছেন রাত যাপনের জন্য আবাসীক ও হোটেল ব্যাবস্থা পর্যাপ্ত না থাকায় চরম দূর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।

অন্যদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসারসোহাগ চন্দ্র সাহা বলছেন, তেঁতুলিয়ায় পর্যটনের পরিবেশ পুরো পুরি ভাবে সৃষ্টি করতে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ভয়েস টিভি/টিআর

Categories
বিশ্ব ভ্রমণ

সৌন্দর্যের রানি খ্যাত মালদ্বীপ যেন এক টুকরো বাংলাদেশ

স্বর্গের দ্বীপ, প্রকৃতির কন্যা, সৌন্দর্যের রানি খ্যাত পৃথিবীর অন্যতম নয়নাভিরাম ও অপরূপ রূপের দেশ মালদ্বীপ। বিধাতা যেনো এখানে দুই হাত ভরে প্রকৃতির রূপে কল্পনাতীতভাবে সাজিয়েছেন। যা দুনিয়াজোড়া মানুষকে মুগ্ধ করে ও টানে। এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নতমানের টুনা মাছ পাওয়া যায়। মালদ্বীপকে টুনা কন্যাও বলে থাকেন অনেকে। মালদ্বীপের মূল আকর্ষণ হলো এর সরল, শান্ত ও মনোরম পরিবেশ, আদিম সমুদ্র সৈকত ও ক্রান্তীয় প্রবাল প্রাচীর। এখানকার সমুদ্রের রং অতি পরিষ্কার, পানির রং নীল ও বালির রং সাদা। ছোট ছোট দ্বীপগুলো যেনো নানান রঙের মাছের অ্যাকুরিয়াম। আজ আপনাদের জানাবো মালদ্বীপের নানা তথ্য।

শ্রীলঙ্কা থেকে আনুমানিক ৪০০ মাইল দক্ষিণ পশ্চিমে ১১৯২টি ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে ভারত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপ। যার মধ্যে ২০০টি বাসযোগ্য। মালদ্বীপের ইতিহাস ও ঐতিহ্য খুবই প্রাচীন।

সংস্কৃত শব্দ দ্বীপমালা থেকেই মালদ্বীপ। আবার কারও কারও মতে মালদ্বীপ হচ্ছে দ্বীপরাজ্য। কারও কারও ভাষায় এটি মহল দ্বীপ। মহল অর্থ প্রাসাদ। দ্বাদশ শতক থেকেই মালদ্বীপে মুসলিম শাসন চলছে।

১১৮৩ খ্রিষ্টাব্দে ইবনে বতুতা মালদ্বীপ ভ্রমণ করেছিলেন। ১১৫৩-১৯৫৩ অবধি ৮০০ বছরে ৯২ জন সুলতান নিরবচ্ছিন্নভাবে শাসন করেন এই দ্বীপটি। বিভিন্ন সময়ে পর্তুগিজ ও ব্রিটিশরা পর্যটক হিসেবে, কখনো কখনো বাণিজ্য কুঠি স্থাপন, কখনো ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য এখানে আসে।

১৯৬৫ সালের ২৬ জুলাই মালদ্বীপ ব্রিটিশদের কাছ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে এবং ১৯৬৮ সালে সালতানাতে মালদ্বীপ থেকে রিপাবলিক মালদ্বীপে পরিণত হয়।

মালদ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার। এর প্রায় শতভাগই মুসলমান। বিদেশিসহ এখানে প্রায় ৫ লাখ লোক বসবাস করেন। যার মধ্যে বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন প্রায় ৮০ হাজার। যা বসবাসকারী জনসংখ্যার এক নবমাংশ। যাদের অধিকাংশই বয়সে তরুণ-যুবক এবং কর্মঠ।

বাসযোগ্য প্রতিটি দ্বীপেই বাংলাদেশি শ্রমিকেরা রয়েছেন। যারা মাছ ধরা, কৃষি কাজ ও ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট মেরামতসহ অবকাঠামো উন্নয়ন, অফিস-আদালত, দোকান, বাসা-বাড়িতে কাজ, গাড়ি ও নৌকা চালনা ছাড়াও হোটেল, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টে কাজ করেন।

বাংলাদেশি শ্রমিকেরাই মূলত মালদ্বীপের দ্বীপগুলোতে প্রথম কৃষিকাজ শুরু করেন। স্থানীয়রাও অকপটে স্বীকার করেন, মালদ্বীপের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদান প্রায় ৬০ ভাগ। অধিকাংশ মালিক বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মকাণ্ড, সততা ও বিশ্বস্ততায় এতটাই মুগ্ধ যে, বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সকল দায়দায়িত্ব তাদের ওপর দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন।

মালদ্বীপে জলরাশির দিগন্তজোড়া সমুদ্রবক্ষ, সমুদ্র গর্জন, বায়ুপ্রবাহ যেনো তাদের নিজস্ব কণ্ঠস্বর ক্ষণে ক্ষণে পরিবর্তন করে পর্যটকদের অশান্ত মনকে শান্ত করে। হতাশা দূর করে উচ্ছলতা ফিরিয়ে দেয় আর মুগ্ধতায় ফিরিয়ে দেয় মনপ্রাণ। যারা সমুদ্র পছন্দ করেন, নির্জনতায় হারিয়ে যেতে চান, সমুদ্রের অবগাহনে নিজেকে স্নান করাতে চান, প্রকৃতির সুশোভিত ও অপরূপ সৌন্দর্যের সুরা পান করতে চান, তাদের জন্য মালদ্বীপই হচ্ছে আকর্ষণীয়, প্রিয় ও আদর্শ স্থান।

অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন যারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। যার সংখ্যা নিতান্তই কম নয় এবং দিন দিন এর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মজার ব্যাপার হলো, দাম্পত্যজীবনে মালদ্বীপের মেয়েদের কাছে বাংলাদেশি ছেলেরা অত্যন্ত বিশ্বস্ত।

আরও পড়ুন- অপরূপ সুন্দর মালদ্বীপে কি করছে বাংলাদেশিরা

গোলাপের বাগানে যেমন জাত সাপের মতো বিষধর সাপ কিংবা অন্যান্য কীটপতঙ্গও থাকে তেমনি অনেক দুষ্ট প্রকৃতির লোক ও বাংলাদেশি দালালও সেখানে রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই মদ, জুয়া, গাঁজা, হেরোইন, নারী পাচার, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা ও অপহরণের মতো ভয়ংকর অপরাধের সঙ্গেও জড়িত।

এই অপরাধগুলো বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে শুধু ম্লানই করে না অনেক সময় ইমেজ সংকটও সৃষ্টি করে। এই পরিস্থিতি এড়াতে বাংলাদেশ সরকারের বিএমইটি, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে মালদ্বীপে শ্রমিক পাঠানোর সময় আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানী মালে, আধুনিক শহর হলুমালে, হুলহুলে বিমানবন্দর, বিলিংগিলি, ধোনিদো, আড্ডুসহ বড় বড় শহর, হাসপাতাল, অবকাশ যাপন কেন্দ্রগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের আধিক্য। এগুলোর উন্নয়নের সিংহভাগই সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মাধ্যমে। এখানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞসহ প্রায় তিন’শ বাংলাদেশি ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন। তাদের অনেকেই পরিবার-পরিজনসহ মালদ্বীপে বসবাস করেন।

মালদ্বীপে বিশ্বের সেরা সেরা চেইন অবকাশ যাপনকেন্দ্রে বাংলাদেশিরাও কাজ করেন অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে। প্রায় ৮-১০ হাজার শ্রমিক এখানকার রিসোর্টে কাজ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের সুনাম অর্জন করাসহ প্রায় ৪০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত মাসিক আয় করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছেন।

এ ক্ষেত্রে অবকাশ যাপনকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস সুসম্পর্ক স্থাপন করে বাংলাদেশে বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় উৎসবে দূতাবাসে আমন্ত্রণের পাশাপাশি চাকরিমেলা, সভা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে বাংলাদেশ থেকে পর্যটন শিল্পের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে তাদের অনুরোধ করতে পারে।

বাংলাদেশের সুন্দরবন, কক্সবাজার, সিলেট, কুয়াকাটাসহ অন্যান্য দর্শনীয় ও মনোরম স্থানগুলো পর্যটকদের জন্য খুবই উপযুক্ত ও আকর্ষণীয়—এ সম্পর্কে তাদের ধারণা দেওয়া ও পরিচিত করানো যায়। যদি পর্যটন খাতে বিনিয়োগের অনুরোধ, প্রশিক্ষণের জন্য কর্মী প্রেরণ ও পর্যটক পাঠানোর অনুরোধ করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন কর্তৃপক্ষ, বোয়েসেল ও বায়রাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করতে সক্ষম হয় তাহলে এ দেশ একদিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, সৃষ্টি হবে আরও কর্মসংস্থান অন্যদিকে সেখানে তৈরি হবে আমাদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি।

রাজধানী মালেতেই বাস করেন প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশি। প্রতি শুক্রবার বিকেলে রিপাবলিক স্কয়ারে ঘটে এদের মিলনমেলা। ছুটির দিনে এয়ারপোর্ট জেটি, গোসল পার্ক, কৃত্রিম বিচ থেকে সুনামি টাওয়ার হয়ে ইন্দিরা গান্ধী হাসপাতালের পেছন পর্যন্ত এবং মাজেদিয়া মাগুসহ সর্বত্রই প্রবাসী বাঙালিতে গিজগিজ করে। কখনো কখনো মনে হবে, এ যেন বৈশাখী, ঈদ বা বাংলাদেশের কোনো জাতীয় উৎসব।

ঠিক এমনিভাবে আড্ডু, বিলিংগিলি, হলুমালে, ধোনিদোতেও ছুটির দিনে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। মনে হয় এগুলো যেনো বাংলাদেশের কোনো এক সমুদ্রসৈকত।

মালেতে কখনো কখনো বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবার কখনো কখনো প্রবাসীদের উদ্যোগেও চলে নানান রকমের নাচ-গান, নাটক, যাত্রাপালা, বাউল সংগীত ও ওয়াজ মাহফিল।

নীল দরিয়া নামে একটি বাংলাদেশি শিল্পগোষ্ঠী ও বাংলাদেশ হাইকমিশনস ইলেভেন নামে ক্রিকেট ও ফুটবল টিম রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ সবুজ দল, লাল দল, বি বাড়িয়া, কুমিল্লা ইত্যাদি নামেও ক্রিকেট ও ফুটবলের টিম আছে।

মালদ্বীপের মোবাইল কোম্পানিগুলো তাদের বিপণন প্রসারের জন্য ও সরকারি নির্দেশনাসমূহ খুদে বার্তা স্থানীয় ভাষা ধিবেহীর পাশাপাশি বাংলায়ও দিয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকায়ও বাংলায় লেখা বিজ্ঞপ্তি ও বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে।

কৃত্রিম বিচে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের ওপর ছেলেমেয়েদের জলক্রীড়া বা সার্ফিং।

যখন সুনামি টাওয়ার ঘেঁষে বিশাল এলাকা জুড়ে শুরু হয় মায়াবী গোধূলি, শুরু হয় সূর্যাস্ত রাতের নিস্তব্ধতা, পর্যটকেরা যখন আসেন গোসল পার্কে সমুদ্রস্নানে নিজেকে বিলীন করে দিতে নীলাভ প্রকৃতিতে, তখনই প্রবাসী বাংলাদেশিরাও মালদ্বীপের লোকাল খাবার কুরুম্বা, খিল্লি, মলু ভিলা, আমড়া, আরি মলুভিলা গান্ডু, শুকনা মাছ ইত্যাদির পসরা সাজিয়ে সমুদ্রের পাশে ঘাদিয়া পেতে বসে যান। চলে মধ্য রাত অবধি।

সেখানকার পরিবেশ দেখলে মনে হবে আমাদের চেনা অতিপরিচিত কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত কিংবা টিএসসি বা শাহবাগের আড্ডা স্থল। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বদুথাকুরুফানু মাগুতে বাবরি দোলানো বাহারি রঙের চুলের স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে বাংলাদেশি তরুণদের সমান তালে চলে মোটর বাইক রেস, সমুদ্রের শোঁ শোঁ আওয়াজের সঙ্গে মোটর বাইকের ভোঁ ভোঁ শব্দ। সমস্ত এলাকা জুড়েই মনে হয় আমাদেরই সমুদ্রসৈকত—ভারত মহাসাগরের বুকে এ যেন এক টুকরো বাংলাদেশ।

ভয়েসটিভি/এএস/ডিএইচ

Categories
ভ্রমণ সারাদেশ

জলে ভাসা হাওর জীবন

অকূল জলরাশির মধ্যে মধ্যে ছবির মতো একেকটি গ্রাম। দেখলে মনে হবে যেন অথৈ পাথারে ভাসছে একগুচ্ছ কচুরিপানা। দিগন্তজোড়া নীল জল আর দূরে দৃষ্টি মেললেই চোখের সীমানায় জলরাশি ঘিরে দেয়ালের মতো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে মেঘালয় পর্বতমালা। বলছি পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় টাঙ্গুয়ার হাওরের কথা। এ হাওরের মনোহর দৃশ্যে মন কাড়বে ঠিকই তবে একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে হাওরবাসীর জল জীবনের দুঃখগাঁথা।

বিস্তীর্ণ জলরাশির মধ্যে ছবির মতো গ্রামগুলো খালি চোখে দেখতে যতো সুন্দর তারচেয়েও কষ্টের সেখানকার মানুষের জীবন। বাজার-সদাই থেকে শুরু করে চিকিৎসা-শিক্ষা সবকিছুর জন্যেই পাড়ি দিতে হয় অথৈ জল। আর এতে তাদের একমাত্র বাহন হলো ডিঙ্গি। এক কথায় ডাঙ্গার জীবন নির্ভর ছোট্ট ডিঙ্গির ওপর।

হাওর

হাওরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তাদের দুঃখে ভরা জীবনের কাহিনী। বিস্তীর্ণ জলরাশির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের দূরত্ব যেমন অনেক আবার গ্রামগুলো থেকে মফস্বলের ঠিকানাও বহুদূর, শহর তো সুদূর পরাহত। তাই কোনো গ্রামের কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে পল্লী চিকিৎসকের ওপরেই নির্ভর করতে হয়। কারণ হাসপাতালে পৌঁছাতে তাকে পাড়ি দিতে হয় কয়েক ঘণ্টার জলের পথ। এর একমাত্র বাহন ডিঙ্গি। আর এতে পথেই অনেকের জীবনাবসান ঘটে।

হাওর

সুনামগঞ্জের মধ্যপাড়া বাজারটিও পানিবেষ্টিত একটি দ্বীপ। এ হাটে কথা হয় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক হুমায়ুনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কেউ অসুস্থ হলে কয়েক মাইল পথ ডিঙ্গিতে চড়ে কোনো দ্বীপ বাজারে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাঠানো হয় জেলা সদরে। এতে যে সময় ক্ষেপণ এবং রোগীকে যত ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয় এতেই অনেক রোগী মারা যান। সুচিকিৎসা জোটে না আমাদের কপালে।

হাওর

তার কথায় উঠে আসে হাওরের বিভিন্ন কুসংস্কারের কথা। চিকিৎসায় ওঝা-বৈদ্য থেকে শুরু করে মঙ্গল কামনায় দরগায় শিরনী দেয়ার কথাও। বসন্ত রোগ থেকে মুক্তি পেতে কলা গাছের পাতায় বিন্নি ধানে ভাজা খৈ জলে ভাসিয়ে দেয়ার কথাও।

শুধু চিকিৎসা নয় বেঁচে থাকার তাগিদে বাজার-সদাইয়ের জন্যও প্রতিনিয়ত জলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় তাদের। কয়েক গ্রাম পর পর গ্রাম্য বাজারে মিলে তাদের খোরাকের চাল-ডাল-সবজি। সবাই ডিঙ্গিতে চড়েই সদাই করতে হাটে যায়। আর সওদাগরেরাও বড় বজরায় জিনিসপত্র নিয়ে হাটে আসে। এভাবেই চলে তাদের জীবন।

আধুনিক জীবনের ছোঁয়া বঞ্চিত হাওরবাসীকে শিক্ষার জন্যও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। ছোট্ট ডিঙ্গিতে চড়ে কয়েক মাইল পথ পাড়ি দিতে হয় স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের। আর যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা একটু ভালো তাদের ছেলেমেয়েরা শহরে পড়ালেখা করে। তবে অনেকের ভাগ্যেই জোটে না শহরের বড় কলেজে পড়ার ভাগ্য। তাই মাঝপথেই লেখাপড়ায় ক্ষান্ত দিয়ে নেমে পড়েন পূর্ব পুরুষের দেখানো পথে উপার্জনের খোঁজে।

হাওর

হাওরে যাতায়াতের একমাত্র বাহন ডিঙ্গি বা বজরা। বিয়ে থেকে শুরু করে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গেলেও ভরসা এ নৌকা। দূরের পথে পাড়ি দিতে দিতে মাঝি গান ধরেন- তরী ভাট্যায় পথ আর উজান না/মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে/আমি আর বাইতে পারলাম না।

হাওরবাসীর জীবনও মূলত জলের ওপর ভাসে। এ জলেই তাদের জীবিকা। অর্ধেক বছর চলে মাছ ধরে বাকি বছর চলে চাষে। বৃষ্টির মওসুমে হাওরে পানি থাকে কূলে কূলে ভরা। তখন জালে ধরা পড়ে বিভিন্ন প্রজাতির নানা স্বাদের মাছ। শহরের মানুষের কাছে স্বাদু পানির মাছের চাহিদা বাড়তি থাকায় তারা ভালো দামও পান। আবার এই পানিই মাঝেমধ্যে ফুসে উঠে তাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বন্যার সময় তাদের জীবন বর্ণনাতীত কষ্টের। সরকারি সহায়তা পৌঁছায় তবে তা নগণ্য।

হেমন্তে হাওরের জলে টান ধরে। শুকাতে থাকে জল আর জেগে ওঠে দিগন্ত জোড়া মাঠ। এরপর হাওরবাসীর ব্যস্ততা বেড়ে যায়। মাঠ প্রস্তুত করে সারা বছরের খোরাক জোগাতে ধান লাগানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন নারী-পুরুষ সবাই।

ট্যাকের ঘাটের মাঝি আশরাফুল জানান, বিস্তীর্ণ হাওরে সবারই কমবেশি জমি আছে। আর এ ধানেই চলে তাদের সারাবছর।

হাওর

কয়েক মাসের ঘাম ঝরানো প্রচেষ্টায় এক সময় ঘরে ওঠে সোনালী ধান। পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধে ভরে ওঠে পাড়া। এভাবে মাছ আর ধানে জীবিকা চলে হাওরবাসীর।

আবার পানি ওঠে হাওরে। জলে ভরে যায় চারপাশ। গভীর রাতে ধান ভানতে ভানতে হাজার বছর ধরে উপন্যাসের আম্বিয়ার মতো কোনো গৃহবধূ গান ধরে- কাদা দিলি সাদা কাপড়ে/কলসি-দড়ি গলায় বেঁধে মরব ডুবে কোন পুকুরে…

আরও পড়ুন: ভোট গণনা নিয়ে উত্তেজনা চরমে, বিক্ষোভ-ভাঙচুর

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ

হিমালয় কন্যা খ্যাত নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নেপাল

বেশ ছোট আয়তনের একটি দেশ হওয়া সত্ত্বেও নেপালের ভূমিরূপ অত্যন্ত বিচিত্র। নেপাল এবং চীনের সীমান্ত জুড়ে যে অঞ্চল সেখানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ১০ টি পর্বতের ৮ টিই অবস্থিত। এই এলাকাতেই পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট রয়েছে। মন্দির, স্বচ্ছ হ্রদ, সারি সারি সবুজ ভ্যালি, বন্য প্রানী সংরক্ষণ কেন্দ্র, পাহাড় কিংবা তাদের রাজপ্রাসাদ- সব কিছুতেই রয়েছে এক অসাধারণ মুগ্ধতা, এ যেন পৃথিবীর বুকে এক টুকরো স্বর্গ। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড বনে যেতে পারে নেপাল। তাহলে চলুন, নেপাল সম্পর্কে আরো কিছু জানা-অজানা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য জেনে নেয়া যাক।

বলা হয়, নেপাল নামের উৎপত্তি দুটি শব্দ, নে এবং পাল থেকে এসেছে। এর অর্থ পবিত্র গুহা। এই পবিত্র গুহা বা নেপাল শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই নয় বিশ্বের অনিন্দ্যসুন্দর এবং আকর্ষণীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

নেপালের ভূ-প্রকৃতি অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। এর মোট আয়তন প্রায় ১৪ লাখ ৭ হাজার ১৮১ বর্গ কিলোমিটার। ভূ-প্রকৃতির বৈচিত্র্য অনুসারে নেপালকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়- পর্বত, পাহাড়ি উঁচু ভূমি ও নিচু সমতল ভূমি অর্থাৎ তরাই।

নেপাল অনেকটা স্যান্ডউইচের মতো চীন এবং ভারতের মাঝখানে অবস্থান করছে। নেপাল এবং চীনের সীমান্তজুড়ে যেসব অঞ্চল রয়েছে সেসব জায়গায় পৃথিবীর সর্বোচ্চ ১০টি পর্বতের আটটি অবস্থিত। এখানে রয়েছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট।

নেপাল আরো এক কারণে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মনে করা হয় নেপালের লুম্বিনিতে জন্মেছিলেন বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ।

এই চমৎকার স্থান নেপাল ভ্রমণের আগে তাদের সংস্কৃতি সম্বন্ধে অবশ্যই জেনে নেয়া প্রয়োজন। তাদের সংস্কৃতিতে কারো সঙ্গে দেখা হলে প্রথমে প্রার্থনার ভঙ্গিতে হাত জোর করে নমস্তে বা নমস্কার বলতে হয়।

যদি কোনো প্রবীণকে ঠিকানা জিজ্ঞেস করতে চান তবে নারীর ক্ষেত্রে দিদি এবং পুরুষের ক্ষেত্রে দাই সম্বোধন করতে হবে। নেপালে পায়ে ধরে সম্মান দেখানোর কোনো রীতি নেই।

নেপালের ধর্মবিশ্বাস বলতে বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং বিশ্বাসের একটি বৈচিত্র্যতাকে বোঝায়। কিন্তু, নেপালের মুখ্য ধর্ম হলো হিন্দুধর্ম, যার ২০১১ সাল অনুযায়ী সর্বোমোট জনসংখ্যার হিসাব হলো ৮১.৩ শতাংশ। একটি জরিপ অনুযায়ী, নেপাল হলো পৃথিবী জুড়ে সর্বোচ্চ ধর্মীয় হিন্দু দেশ, যার সাথে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থযাত্রার কেন্দ্রস্থলগুলির মধ্যে বেশিরভাগই কেন্দ্রীভূত।

এটি হলো গণতন্ত্র জুড়ে একটি বহু-সাংস্কৃতিক, বহু-জাতিগত, বহু-ভাষাগত এবং বহু-ধর্মীয় দেশ। নেপালের জাতীয় প্রাণী হলো গাভী, যাকে হিন্দুধর্মে একটি পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণে, নেপালে গরু হত্যা বেআইনি।

নেপালে ছোট পোশাক পরে লোকালয়ে না আসাই ভালো। বিশেষত নারীর ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রযোজ্য। ছোট পোশাক পরলে অনেকেরই ভ্রু কুচকানোর সম্মুখীন হতে পারেন।

যদি কোনো নেপালি পরিবারে নিমন্ত্রণে যান তবে ঘরে প্রবেশের আগে অবশ্যই জুতা খুলে প্রবেশ করতে হবে। খাওয়ার আগে হাত ও মুখ ধুয়ে নিতে হবে। খাবার খাওয়ার সময় পরিবেশন না করা পর্যন্ত নিজে খাবার নেয়া যাবে না।

পেশাদার পর্বতারোহী না হলে ছোটখাটো পাহাড়ে যাওয়াই ভালো। সে ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম থাকে। তবে এই বিষয়ে খুব সতর্ক হতে হবে। আরোহণের সময় একজন স্থানীয় সঙ্গী বা গাইড সঙ্গে রাখা ভালো। নয় তো অচেনা জায়গায় আরোহণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এ ছাড়া নেপালে পবর্ত আরোহণের জন্য কিছু সংস্থা রয়েছে সেগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করে নেয়া যায়। তবে প্রস্তুতি ছাড়া পর্বতে আরোহণ করা ঠিক হবে না।

এই দেশে পানি পানের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকতে হবে। এমনকি সেটা হোটেলে দেয়া পানির ক্ষেত্রেও। কেননা সেখানে ফুটানো পানির বেশ অভাব। অনেকেই দোকান থেকে মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিনে নেন। তবে সুযোগ থাকলে আপনি পানি নিজেই ফুটিয়ে খেতে পারেন।

নেপালের খাদ্য তালিকায় সাধারণত থাকে ডাল, ভাত, তরকারি। এর সাথে থাকতে পারে আচার বা চাটনি। নেপালের খাবারে সাধারণত বেশি ঝাল দেয়া হয়। তাই খাবার চাওয়ার আগে কী রকম খাবার খেতে পছন্দ করেন সেটি জানিয়ে দিন।

এবার জানাবো নেপালের রাজনীতি সম্পর্কে। একটি বহুদলীয় প্রজাতন্ত্রের কাঠামোতে সংঘঠিত হয় নেপালের রাজনীতি। এর সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী। আর সরকারের হাতে নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত। আইনসভার উপরই আইন প্রণয়নের দায়িত্ব ন্যস্ত। বর্তমানে রাম বরণ যাদব নেপালের রাষ্ট্রপতি এবং কে পি শর্মা অলি নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

২০০৮ সালের মে মাস পর্যন্ত নেপাল একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র ছিল। ঐ মাসের ২৮ তারিখে নেপালের আইনসভা সংবিধানে সংশোধন আনে এবং নেপালকে একটি প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত করে।

১০ বছর ধরে নেপালে মাওবাদীদের সহিংসতা চলছে। ১৯৯১ সাল থেকে রাজা বীরেন্দ্র বীরবিক্রম শাহ দেব গণতন্ত্রের চর্চা শুরু করেন। ২০০১ সালে প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে সপরিবারে নিহত হওয়ার পর সিংহাসনে বসেন তাঁর বড় ভাই জ্ঞানেন্দ্র বীরবিক্রম শাহ দেব। পরে মাওবাদী আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করে সিংহাসন ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

রাজতন্ত্র বিলোপের দাবিতে ১৯৯৬ সাল থেকে আন্দোলন শুরু করে মাওবাদীরা। জাতিসংঘের হিসাবে ২০০৬ সালে তাদের আন্দোলনের ইতি ঘটার সময় পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়, বাস্তুচ্যুত হয় লক্ষাধিক। তবে গৃহযুদ্ধ শেষ হলেও নেপালে রাজনৈতিক স্থিতি ফেরেনি।

একটি সংবিধান রচনার জন্য মাওবাদীদের সঙ্গে নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলো পার্লামেন্ট গঠন করলেও এখনো সংবিধান প্রণয়ন করতে পারেনি। মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল দেশটির ৪০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। তাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বিদেশি সহায়তা। আর বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তারা প্রতিবেশী ভারতের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

মাউন্ট এভারেস্টকে কাছ থেকে দেখতে চাইলে ছোট বিমান ভাড়া করা সম্ভব। বিমান ভাড়া দেয়ার বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে রাজধানী কাঠমান্ডুতে।

তবে হেঁটে মাউন্ট এভারেস্টে উঠতে হলে বেশ পরিশ্রম করতে হবে। আগেভাগে প্রশিক্ষণও নিতে হবে। এ জন্য শহরেই বিভিন্ন গাইড ফার্ম রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা সাহায্য করতে পারবে।

আর নাগরকোট গিয়েও মাউন্ট এভারেস্ট দেখা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে কাঠমান্ডু থেকে বাসে করে যেতে হবে নাগরকোটে। এই জায়গা থেকে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া দেখা যায়।

হিমালয় পর্বতারোহণ বা বৌদ্ধের জন্মস্থান দর্শন- যে কারণেই হোক না কেনো, প্রত্যেক ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্যই নেপাল ভ্রমণ হতে পারে আদর্শ স্থান। কাঠমান্ডু, অন্নপূর্ণা, নাগরকোট, পোখরা, লুম্বিনি, জানকপুর, বাখতাপুর, কাকানি ছাড়াও অসংখ্য দর্শনীয় স্পট রয়েছে এই নেপালে।

Categories
ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ

৪৫০ বছর আগের পুরোনো পানাম নগর

প্রাচীন সোনারগাঁর বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগরের মধ্যে পানাম ছিলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূইয়াঁদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত। সোনারগাঁর ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই নগরী গড়ে ওঠে।

সোনারগাঁ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর থেকে উত্তর দিকে হাঁটাপথেই পৌঁছানো যায় অর্ধ্বচন্দ্রাকৃতি পানাম পুলে। (যদিও পুলটি ধ্বংস হয়ে গেছে)। পুলটির দৈর্ঘ্য ছিলো ৭২ ফুট আর প্রস্থ ছিলো ১৫.৫ ফুট, মাঝখানটা ছিলো উঁচু। এই পুল পেরিয়েই পানাম নগর এবং নগরী চিরে চলে যাওয়া পানাম সড়ক। আর সড়কের দুপাশে সারি সারি আবাসিক একতলা ও দ্বিতল বাড়িতে ভরপুর পানাম নগর।

১৫ শতকে ঈসা খাঁ বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেছিলেন সোনাগাঁওয়ে। পূর্বে মেঘনা আর পশ্চিমে শীতলক্ষ্যা নদীপথে বিলেত থেকে আসতো বিলাতি থানকাপড়, দেশ থেকে যেতো মসলিন। শীতলক্ষ্যা আর মেঘনার ঘাটে প্রতিদিনই ভিড়তো পালতোলা নৌকা।

প্রায় ঐসময়ই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে ইউরোপীয় অনুপ্রেরণায় নতুন ঔপনিবেশিক স্থাপত্যরীতিতে গড়ে উঠে পানাম নগরী।পরবর্তিতে এই পোশাক বাণিজ্যের স্থান দখল করে নেয় নীল বাণিজ্য। ইংরেজরা এখানে বসিয়েছিলেন নীলের বাণিজ্যকেন্দ্র।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ

একমাত্র অমুসলিম দেশ যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত আযান হয়

দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্র  শ্রীলঙ্কা। পৃথিবীর একমাত্র অমুসলিম দেশ শ্রীলংকা যেখানে রেডিও ও টেলিভিশনে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত আযান দেয়া হয়।

১৯৭২ সালের আগে এই দ্বীপ সিলন নামেও পরিচিত ছিলো। এর প্রশাসনিক রাজধানীর নাম শ্রী জয়াবর্ধেনেপুরা কোট্টে। এর প্রধান শহর কলম্বো।

ভারতের দক্ষিণ উপকূল থেকে ৩১ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত। প্রাচীনকাল থেকেই শ্রীলঙ্কা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। সিংহলি সম্প্রদায় এই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী।

শ্রীলঙ্কা চা, কফি, নারিকেল, রাবার উৎপাদন ও রফতানিতে বিখ্যাত। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংবলিত সমুদ্রসৈকত, ভূদৃশ্য ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শ্রীলঙ্কাকে সারা পৃথিবীর পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

অমুসলিম দেশ শ্রীলঙ্কার ভৌগোলিক অবস্থান এর কারনে আবহাওয়া বেশ চমৎকার। চারদিকে সমুদ্র থাকার কারনে এর আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ।

এখানে অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়। তাই পর্যটকদের এই সময়টা এড়িয়ে চলাই ভাল। শ্রীলঙ্কা ভ্রমন করার জন্য বছরের সবচেয়ে ভাল সময় হল ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস।

শ্রীলঙ্কাতে সারা বছর প্রায় একরকম তাপমাত্রাই থাকে। উপকূলবর্তী এবং নিম্নাঞ্চল গুলোতে গড়ে ২৬ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। ক্যান্ডির মত উঁচু এলাকা গুলোতে তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত কম ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি থাকে। সারা বছর জুড়ে আদ্রতা বরাবরই বেশী থাকে।

রাজধানী কলোম্বোর একটু বাইরেই তাদের অন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বন্দরনাইকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরেই আসলে শ্রীলঙ্কা ভ্রমন শুরু হয়ে যায়।

কলম্বো হলো শ্রীলঙ্কার রাজধানী এবং সবচাইতে বড় শহর। এর লোক সংখ্যা আনুমানিক ১ মিলিয়ন।

শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ করছেন এমন পর্যটকদের কাছে পশ্চিমের উপকুলটা বেশী জনপ্রিয়। পশ্চিম উপকুলেই দেশের সবচাইতে বেশি পরিমান হোটেল এবং রিসোর্ট আছে।

এখানে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে আছে নেগম্ব, বেরুওালা, বেন্ততা, হিক্কাদুয়া ইত্যাদি।

ভিড় এড়িয়ে শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে সেক্ষেত্রে কলোম্বোর উত্তর দিকটা বেশী ভাল হবে। কাল্পিটিয়া হ্রদ এবং উইল্পাত্তু ন্যাশনাল পার্ক এর সৌন্দর্য আর বন্যপ্রাণীর সমারোহ মুগ্ধ করবেই।

শ্রিলঙ্কার আরেকটি বিখ্যাত শহর হল ক্যান্ডি। দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয় একে। এখানেই অনুষ্ঠিত হয় শ্রীলঙ্কার সবচাইতে বর্ণাঢ্য উৎসব ‘’এসালা পেরাহেরা’।

ক্যান্ডির দক্ষিণে আছে দেশের সবচাইতে উঁচু এলাকা ‘’নুয়ারা এলিয়া’’। একে দেশের প্রসিদ্ধ চা শিল্পের কেন্দ্র বিন্দু বলা চলে।

ক্যান্ডি থেকে আরও উত্তরে গেলে পাওয়া যাবে প্রাচীন শহর অনুরাধাপুর, পলন্নারুওা এবং বিখ্যাত গুহা মন্দিরের শহর দাম্বুলা।

এই জায়গার অপর নাম হল, “গোল্ডেন টেম্পলস ডামবুলের”। জায়গাটি কলম্বো থেকে ১৪৮ কিঃ মিঃ। ১৯৯১ সালে জায়গাটিকে World Heritage sight হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। Kandy-র থেকে ৭২ কিঃমিঃ উত্তরে। শ্রীলঙ্কার মধ্য ভাগে এই জায়গাটি।

সমস্ত লঙ্কার মধ্যে এই মন্দিরগুলো ভীষণ ভালভাবে সংরক্ষিত। পাহাড়ের ১৬০-মিঃ ওপরে এই গুহা মন্দিরের অবস্থান। এখন পর্যন্ত ৮০-টি গুহা মন্দির লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এখনকার সমস্ত মূর্তি ও দেয়ালে অঙ্কিত ছবি গৌতম বুদ্ধের জীবন এবং জীবনী অবলম্বনে।

মোট ১৫৩-টি বুদ্ধের মূর্তি, ৩-টি শ্রীলংকার রাজাদের এবং ৪-টি ভাস্কর হিন্দু দেব-দেবীদের। এই সব ভাস্কর্য মোট ২,১০০ বর্গমিটার জায়গা নিয়ে ছড়ানো।

এখানকার গুহা চিত্রগুলিতে গৌতম বুদ্ধকে ডাকিনী “মারা” যে ছলনা ও ষড়রিপুর লোভ দেখিয়ে তাঁর বোধিত্ব নষ্ট করার চেষ্টা করেছিল সেই চিত্র অঙ্কিত আছে। বুদ্ধের সর্ব প্রথম বাণীর চিত্রও আছে।

সিডনির পর ত্রিনকোমালি হলো বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোত্তম প্রাকৃতিক পোতাশ্রয়। এটা ইস্টার্ন প্রভিন্সের রাজধানীও। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার জন্য সাবেক এলটিটিই মুখ্যমন্ত্রী পিলায়ান এখন জেলে রয়েছেন।

ত্রিনকোমালিতে আছে হারবার ক্রুইজ। আছে নেভি হাউজ, এলিফ্যান্ট পয়েন্ট। এলিফ্যান্ট পয়েন্টে ১২ ইঞ্চির ব্রিটিশ কামানগুলো শত বছরের বেশি সময় ধরে শত্রুদের দূরে রাখছে।

ত্রিনকোর উত্তরে রয়েছে নিলাভেলি বিচ। এখানকার জায়গার দাম বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। প্রতি ইঞ্চি দাম সোনার মতো।

হিক্কাদুয়ার পরেই পাবেন শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকুল। উন্নয়নের ছোঁয়া কম থাকায় এই এলাকা গুলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।

আরও পড়ুন- অমুসলিম দেশ শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছে না বাংলাদেশ

এখানে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ শহর হল গল। ক্রিকেট প্রেমিরা ইতিমধ্যে অবশ্যই গল এর নাম শুনে থাকবেন। এর পরেই পাবেন বেশ কিছু চমৎকার সমুদ্র সৈকত। এর মধ্যে আছে উনাওাতুনা, অয়েলিংমা, মেরিসসা, টাংগালা এবং মাতারা সৈকত।

এখান থেকে আরও পূর্ব দিকে গেলে পাবেন দর্শনীয় ইয়ালা এবং বান্দারা ন্যাশনাল পার্ক। আরও আছে পুরাতন মন্দির বেষ্টিত শহর কাতারাগ্মা।

ঢাকা থেকে সরাসরি আকাশপথে কলম্বো যাওয়ার মাধ্যমে আপনার শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ শুরু করতে পারেন। অথবা যদি কম খরচে যেতে চান তাহলে ভারত হয়ে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে পাসপোর্টে ভারতের ডাবল এন্ট্রি ভিসা লাগাতে হবে। ঢাকায় অবস্থিত শ্রীলঙ্কার হাইকমিশন থেকে ভিসা নিতে হবে।

এয়ার ইন্ডিয়া, জেট এয়ারওয়েজ, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স, মালিন্দ এয়ার, শ্রীলংকান এয়ারওয়েজ সহ আরও অন্যান্য এয়ারলাইন্স এ ঢাকা থেকে শ্রীলঙ্কা যাওয়া যায়।

প্রথম থেকেই পরিকল্পনা করে পদক্ষেপ নিলে শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ হবে নিরাপদ আর অনেক আনন্দময়।

ভয়েসটিভি/একে