Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

কীর্তিমান আবিস্কারক এ পি জে আব্দুল কালাম

একজন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা এ পি জে আব্দুল কালাম। যার পুরো নাম আবুল পাকির জয়নুল-আবেদিন আব্দুল কালাম। ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি ও বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক এ পি জে আব্দুল কালাম সমগ্র ভারতবাসীর কাছে অনেক বড় একটি গর্বের বিষয়।

তার অনন্য কীর্তি ও দেশাত্ববোধ প্রতিটি মানুষের কাছে আজো এক মহান অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। ৮৪ বছরের জীবন কালে তার সৃজনশীল চিন্তা, কীর্তমান আবিস্কার ও নিস্বার্থভাবে ভারতবাসীর জন্য করে যাওয়া উন্নয়ন পুরোবিশ্ব আজীবন স্মরণ রাখবে।

আব্দুল কালাম ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রামেশ্বরম শহরে এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ছিল জয়নুল আবেদিন। রামেশ্বরমে একজন সামান্য নৌকাচালক ছিলেন তিনি। তার কাজছিল প্রতিদিন হিন্দু তীর্থ যাত্রীদের রামেশ্বরম ও তার পাশের ধনুশকডিতে পারাপার করানো।

বিখ্যাত এই মানুষটির মায়ের নাম ছিল অশ্বিআম্মা। তিনি ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ। আব্দুল কালাম দরিদ্র পরিবারে সন্তান হওয়ায়, ছোট বেলায় নিজের লেখা পড়ার খরচ চালাতে বিক্রি করতেন খবরের কাগজ।

অনেক অভাব অনটনের পরেও এই গুণী মানুষটি কখনোই তার বাবা মাকে এসব বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেননি। স্কুল জীবনে সাধারণ মানের ছাত্র থাকলেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত ও কঠোর পরিশ্রমী। শিক্ষাগ্রহণের তীব্র বাসনা ছিল তার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তিনি পড়াশোনা করতেন ও অঙ্ক কষতেন।

এ পি জে আব্দুল কালাম রামনাথপুরম স্কোয়ার্টজ ম্যাট্রিকুলেশন স্কুল থেকে শিক্ষা সম্পূর্ণ করার পর তিরুচিরাপল্লির সেন্ট জোসেফ’স কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৪ সালে সেই কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করে। পাঠক্রমের শেষের দিকে তিনি পদার্থবিদ্যা সম্পর্কে উৎসাহ হারিয়েছিলেন।

১৯৫৫ সালে তিনি মাদ্রাজে চলে আসেন। মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে তিনি বিমানপ্রযুক্তিতে শিক্ষা গ্রহণ করেন। স্কুল জীবন থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ভারতীয় বায়ুসেনার একজন বিমান পাইলট হওয়ার। আব্দুল কালাম অল্পের জন্য পাইলট হওয়ার সুযোগ হারান। এক পরীক্ষায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর আট জন কর্মীর দরকার ছিল কিন্তু তিনি পরীক্ষায় নবম হয়েছিলেন।

১৯৬০ সালে স্নাতক সম্পন্ন করার পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার এরোনটিক্যাল ডেভলপমেন্ট এস্টব্লিশমেন্টে একজন বিজ্ঞানী হিসেবে যোগদান করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানে তিনি একটি ছোট হোভারক্রাফটের নকশা তৈরি করে তার কর্মজীবন শুরু করেন।

কালাম ভারতীয় জাতীয় মহাকাশ গবেষণা কমিটিতে প্রখ্যাত মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. বিক্রম সারাভাইয়ের অধীনে কাজ করতেন। এরপর তিনি ভারতীয় মহাকাশ গবেষনা প্রতিষ্ঠান আই.এস.আরো’তে যোগদান করেন। আর সেখানে অনেক বছর কাজ করে বিভিন্ন মহাকাশ সম্বন্ধে পরিকল্পনা সফলতা সঙ্গে পরিচলনা করেন।

এই বিজ্ঞানী তার নিজের তৈরি ভারতের সর্বপ্রথম উপগ্রহ রেহিনি অর্থাৎ এস.এল.ভি.থ্রি এর সফল উৎক্ষেপন করে। সেই সঙ্গে সেটাকে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করতে সফল হন। এছাড়াও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান আই.এস.আর.ও এর হয়ে এমন অনেক মহাকাশ বিষয়ক কাজ করেছিলেন। যার দৌলতে সেই সময় ভারত আর্ন্তজাতিক স্পেস ক্লাবের সদস্য হতে পেরেছিলেন।

তখনকার সময় তিনি ভারতের বিখ্যাত বিজ্ঞানী রাজা বামান্যোর সাথে মিলে ভারতের প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হন। ১৯৮২ সালে আব্দুল কালাম ভারতীয় প্রতিরাক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন। সে বছর আন্না বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট উপাধিতে সম্মানিত করে।

স্বদেশি মিশাইলে উন্নতির জন্য তার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয় যেখানে তিনি সভাপতি ছিলেন। ভারতের সর্বচ্চপদে নিযুক্ত হওয়ার আগে ভারত রত্ন সম্মানের অধিকারি হওয়া ভারতের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন আব্দুল কালাম।

১৯৯৮ সালে তার নেতৃত্বেই ভারত দ্বিতীয়বারের জন্য পরমাণু বোমার সফল ভাবে পরিক্ষা করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে তার জন্য ভারত পরমাণু হাতিয়ার নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০২ সালে ভারতের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও জনতার প্রতি সম্মানকে গুরুত্ব দিয়ে তৎকালীন সরকার তাকে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদের জন্য ঘোষণা করেন।

রাজনীতিতে থাকার মাধ্যমে তিনি সর্বদা দেশের উন্নতির কথা ভাবতেন। তিনি মনে করতেন যুব সমাজের উন্নতি পারে এই দেশেকে অনেক এগিয়ে নিতে যেতে তিনি এটাও চেয়েছিলেন যে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণে ভারত একটি বড় শক্তি হিসাবে পরিচিত পাক বিশ্বের বুকে ।

তিনি বলেছিলেন- ভারতকে ৬০০ বছর ধরে অন্য শক্তিরাই শাসন করছে। ভারতের বিকাশের জন্য শান্তির পরিস্থিতি থাকা অবশ্যক আর শান্তি শক্তি দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত হয় এই কারণে ক্ষেপণাস্ত্রকে বিকশিত করা হয়েছে যাতে দেশ শান্তিপূর্ণ হয় ।

২০০৭ সালের আব্দুল কালামের রাষ্ট্রপতি হওয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারপর তিনি ভারতের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রফেসর হিসাবেও নিযুক্ত হয়েছিলেন। ইনস্টিটিউড অফ সিলং আহমেদাবাদ এবং ইন্দোরের মতো অনেক ভারতীয় বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানেও তিনি অধ্যাপক হিসেবে কাজ করে ছিলেন। এছাড়া আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের এয়ার স্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং এর অধ্যাপক হিসেবেও অনেক বছর কাজ করেছেন এই গুণীজন।

২০১৫ সালে ২৭ জুলাই মেঘালয়ের শিলং শহরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানে বসবাসযোগ্য পৃথিবী বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে আব্দুল কালাম হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তখন তাকে বেথানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু ঘটে।

মৃত্যুর পরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে শিলং থেকে গুয়াহাটি নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর সেখান থেকে সি-১৩০ হারকিউলিস বিমানে নতুন দিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভারতের তৎকালিন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তিন বাহিনীর প্রধান তার মরদেহে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন। এরপর জাতীয় পতাকায় ঢেকে তার মরদেহ ১০ রাজাজি মার্গে দিল্লির বাসস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা শেষ শ্রদ্ধা জানান।

ভারত সরকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালামের মৃত্যুতে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা করে।

এই গুণীজনের চির বিদায়ে শেষ শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরা। তারই অংশ হিসেবে ভুটান সরকার দেশের পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও এক হাজার বাতি প্রজ্জ্বলনের নির্দেশ দেয়।

ইন্দোনেশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সুসিলো বমবাং ইয়ুধোয়োনো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী সিয়েন লুং আব্দুল কালামের প্রতি সম্মান জানান ও তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
জাতীয় ভিডিও সংবাদ

দৃষ্টিসীমার দিগন্ত জুড়ে যেভাবে নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু

ইউরোপ যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। কিন্তু ক্যামেরার চোখে সেসবের দৃশ্য নিশ্চয় অনেকের দেখা হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় ব্রিজের মতো কিভাবে নদী শাসন, পিয়ার নির্মাণ, পাইলিং, স্প্যান বসানো, ভায়াডাক্ট, রোড কনস্ট্রাকশন নিয়ে যেভাবে নির্মিত হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু তা নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।

যানজটের রাজধানী ঢাকার বাবুবাজার অথবা কেরানীগঞ্জ ব্রিজ অথবা পোস্তগোলা ব্রিজে উঠেই হাফ ছেড়ে বাঁচা। স্বস্তির নিঃশ্বাস। বুক ভরে বাতাস নিন। দুপাশে বাধাহীনভাবে গাড়ি এগিয়ে চলছে। বলা হচ্ছে এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এক্সপ্রেসওয়ে। যার দৈর্ঘ্য ৫৫ কিলোমিটার। তবে এর পুরো সুফল পেতে অবশ্যই পদ্মা সেতুর পুরো নির্মাণ পর্যন্ত অর্থাৎ ২০২১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আমরা যখন রওনা হয়েছি তখন রোদ আর শীত আড়াআড়িভাবে আছড়ে পড়ছে সড়কে। রাস্তার মাঝে ছোট গাছ বাড়ন্ত বয়সে উপনীত হয়েছে।

ঢাকা থেকে ঘণ্টা খানেকের মধ্যে পদ্মা  সেতুর মাওয়া প্রান্তে আমরা। বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। ২০ ফুট থেকে ৩৫ ফুট ওপরে কাজ চলছে। দুটি স্তরে কাজ চলমান। এর মধ্যে একটি হলো বাইপাস সড়ক অন্যটি মূল সেতুর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ সড়ক।

আরও পড়ুন- দৃষ্টিসীমায় দিগন্তজুড়ে দাঁড়িয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতু

এক সময়ের স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন দৃষ্টিসীমায় দিগন্তজুড়ে দাঁড়িয়ে। পদ্মার তীর থেকে দেখা যাচ্ছে প্রায় পুরো পদ্মা সেতু। অধিকাংশ ইস্পাতের কাঠামো। স্প্যান বসানো শেষ হতে যাচ্ছে আগামী মাসে। স্প্যান বসানো বাকি মাত্র ৩টি। এরই মধ্যে ৬ হাজার মিটার দৃশ্যমান।

খরস্রোতা পদ্মার বুকে প্রকাণ্ড এক সেতু। বিশ্ব ব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলোর সরে যাওয়ার পরেও এই সেতু নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের দুঃসাহসী চ্যালেঞ্জে অনেকটাই এখন বিজয়ী বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয়। শুরুতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৬ হাজার কোটি টাকা। তবে এখন প্রকল্প ব্যয় ছাড়িয়ে যাবে ১১ হাজার কোটি টাকা। আর সর্বমোট ব্যয় ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

যেভাবে শুরু

চায়না মেজর ইঞ্জিনিয়ারিং কন্ট্রস্ট্রাকশন কোম্পানি ২০১৫ সালে ভাসমান ক্রেন রইহাং-৫ নিয়ে আসে। যার সক্ষমতা ছিলো ১ হাজার টন ওঠানো।

নদী শাসন ও পাইলিংয়ের কাজ ছিলো সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং। নদীশাসন মানে এক কথায় নদীপাড় বিশালকৃতির অসংখ্য ব্লক দিয়ে বাঁধাই করা। আর পাইলিংয়ের জন্য পদ্মায় গিয়ে প্রকৌশলীরা সবচেয়ে বেশি বেগ পোহাতে হয়েছে। নদীর গভীরে যতই যায় ততই কাদামাটি। বিশ্বের অনেক বিজ্র নির্মাণে একটি নিদিষ্ট গভীরে শক্ত মাটি পাওয়া যায়। কিন্তু পদ্মার ক্ষেত্রে বালি মাটি এবং মাটির স্তর নরম থাকায় বাড়তি ট্যাম বসিয়ে স্ক্রিন গ্রাউটিং করে নরম মাটি শক্ত করা হয়। এমনকি এ কারণে ১২০ মিটার পর্যন্ত গভীরে যেতে হয়েছে।

সাধারণভাবে চিন্তা করলে ৪০ তলা বিশিষ্ট একটি ভবনও হারিয়ে যাবে এই গভীরতায়। সবশেষে পাইলিংয়ের কাজ শেষ হলো। তবে সবক্ষেত্রে যে ১২০ মিটার পাইলিং করতে হয়েছে বিষয়টি এমন নয়।

যেভাবে বসানো হয় স্প্যান

পাইলিং শেষে শুরু হয় স্প্যান বসানোর কাজ। এই স্প্যান হলো সংযোগ কাঠামো। মানে এক একটি স্প্যানের সংযোগ মূল পিয়ারের ওপর।
এসব স্প্যান বানানো হয়েছে চীনে। এরপর মাওয়া প্রান্তে স্ক্রু নাট বল্টু লাগিয়ে প্রকাণ্ড একটি স্প্যান তৈরি করা হয়েছে।

তিয়ানইয়াহাউ নামের ৩ হাজার ৬ শ টন উঠাতে সক্ষমতা সম্পন্ন একটি ক্রেন নিয়ে আসা হয় বাংলাদেশে। এরপরে চ্যালেঞ্জিং ছিলো স্থলভাগের সঙ্গে নদীর সংযোগ। এ কারণে বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়েছে। ৩৮তম স্প্যান বসানোর সময আমাদের টিম সেখানে উপস্থিত হয়ে যা দেখলো তা ছিলো নিচ থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওয়াকটকিতে নির্দেশনা দিচ্ছেন। ক্রেনটি দুপাশের কয়েকটি প্রসারণমান শিকল দিয়ে স্প্যানকে সুক্ষভাবে নড়াচ্ছেন। খুব ধীরে এটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এরপর বাধলো বিপত্তি ভূভাগে হওয়ার কারণে ক্রেনটি পজিশনিং করা কষ্টসাধ্য। একারণে আরও একটি জাহাজ এলো । সেখানে দুটি বড় কর্ড দিয়ে বেধে ধীরে ধীরে ক্রেনটি বাম পাশে নিয়ে যাওয়া হয়।

সময় লাগলো ঘণ্টাখানেক। তারপর ওপরে দুপ্রান্তে জোড়া লাগানোর কাজ। এপ্রান্তে ১৬টি পাইলিংয়ের মজবুত পিয়ার আর ঐপাশে ৭টি পাইলিংয়ের নদীর পিয়ার। দুটোর দুরকম ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ।

দুটো কাছাকাছি আসতেই চীন এবং এদেশীয় প্রকৌশলীরা ছুটলেন। একের পর এক সুউচ্চ লাইন ধরে এগিয়ে চলছেন। ও প্রান্তে ঝালাই শেষে বসলো স্প্যান আর দৃশ্যমান হলো ১৫০ মিটার। মোট ৪২টি পিয়ারে ৪১টি স্প্যানের আর মাত্র বাকি ৩টি। যা ২০২০ সালের ডিসেম্বরেই শেষ হবে।

রেলসেতু

৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু রেলসংযোগ নির্মিত হবে। তবে এটি শেষ হতে সময় লাগবে ২০২৪ সাল। ২০২১ সালের পুরোটা সময় জুড়ে রেলওয়ে স্লিপার এবং সড়কের স্লাব বসানোর কাজ হবে। তার পর রং করা দুপাশের সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ নানা কাজ। তাই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

সেতু হয়ে গেলে ঠিক কেমন দেখতে পাবেন প্রতিবেদনের ভিডিওতে রয়েছে।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
বিনোদন ভিডিও সংবাদ

সপ্তাহের বিনোদনের রঙিন দুনিয়া

সপ্তাহজুড়ে বিনোদনের রঙিন দুনিয়ায় ঘটে যায় নানান ঘটনা। আলোচিত সেসব ঘটনা নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।

না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন কোভিড-সহ নানাবিধ রোগের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হেরে গেছেন ‘ফেলুদা’।

গেল রোববার দুপুরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ৮৬ বছর বয়সী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। প্রবীণ এই মহাতারকা, অভিনেতা-নাট্যকার-বাচিকশিল্পী-কবি ও চিত্রকর কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা ছিলেন।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় পরিবারের আদি বাড়ি ছিল বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কাছে কয়া গ্রামে। তার পিতামহের আমল থেকে চট্টোপাধ্যায় পরিবার নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে থাকতে শুরু করেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্র ‘বায়োগ্রাফি অব নজরুল’। প্রামাণ্যচিত্রটি ২০ নভেম্বর বড় পর্দায় মুক্তি পাচ্ছে।

যমুনা ফিউচার পার্কের বল্কবাস্টার সিনেমাসে সন্ধ্যা ৬টায় এর প্রিমিয়ার শোর আয়োজন করা হয়েছে। ব্লকবাস্টার সিনেমাজে সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় এ ছবির একটি করে শো চলবে।

প্রামাণ্যচিত্রটির পরিচালক ফেরদৌস খান বলেন, দুই বছর ধরে এই কাজটি করা হয়েছে। তার উদ্দেশ্য বইবিমুখ মানুষদের মধ্যে নজরুলের প্রতি অন্যরকম একটি আগ্রহ তৈরি করা। এখানে কবিকে নিয়ে পরিপূর্ণ তথ্য দেয়া হয়েছে।

এক ঘণ্টা ৩৪ মিনিট ১২ সেকেন্ড ব্যাপ্তি এ প্রামাণ্যচিত্রে নজরুল ইসলামের ঘটনাবহুল জীবন তুলে ধরতে তার স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিলস্না, কলকাতা, চুরুলিয়া, আসানসোল, দুর্গাপুর, হুগলি, কৃষ্ণনগরে দৃশ্যধারণ করা হয়েছে।

ব্রি লারসন নাকি বিচ্ছিরি দেখতে। হ্যাঁ, বলছি দুর্দান্ত অভিনয় করে মাত্র ২৬ বছর বয়সে সেরা অস্কার জয়ী অভিনত্রেী “ব্রি লারসনের” কথা। অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেমখ্যাত বড় পর্দার ‘ক্যাপ্টেন মার্ভেল ‘ব্রি লারসন।

সম্প্রতি ‘ডব্লিউ’ সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রি নিজেই বলেছেন এই কথা। ব্রি দীর্ঘদিন নিজেকে নিয়ে অতৃপ্তিতে ভুগেছেন। ৩১ বছর বয়সী মার্কিন এই অভিনয়শিল্পী কথা বলছেন হলিউডের শুরুর দিকে নিজের মানসিক সংকট আর সংগ্রাম নিয়ে। তারপর একসময় লড়াই করে সেখান থেকে বেরিয়েও এসেছেন।

ব্রি লারসনকে সবশেষ বড় পর্দায় দেখা গেছে জাস্ট মার্সি সিনেমায়। এরপর তাকে দেখা যাবে ক্যাপ্টেন মার্ভেল টুতে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে মুক্তি পাবে ছবিটি।

২০১৯ সালে বিশ্ব চলচ্চিত্রে তোলপাড় করা সিনেমার নাম জোকার। ঝুলিভরা প্রশংসা, সমালোচনা, বিতর্ক আর পুরস্কার নিয়ে সারা বছর আলোচনায় ছিল ছবিটি।

৫০০ কোটি টাকা খরচ করে বানানো একটা ছবি ,বক্স অফিসে কত টাকা তুলে আনতে পারে? কল্পনার লাগাম ছেড়ে দিলেও হয়তো আন্দাজ করা যায় না।

জোকার–এর আয় ছাড়িয়েছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। যদিও চলচ্চিত্রের বড় বাজার চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশে ছবিটি ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। এবার জোকার নিষিদ্ধ হলো ভারতের ছোট পর্দায়। টেলিভিশনে কিছুতেই ছবিটি দেখানোর অনুমতি মিলল না।

ভারতের বড় পর্দায় মুক্তির জন্য ছবিটিকে ‘ইউ’সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১৮ বছরের কম বয়সীদের ছবিটি দেখার অনুমতি নেই। কিন্তু টেলিভিশনে দেখানোর জন্য অনুমতি মেলেনি। ‘ভায়োলেন্স’আছে এমন ৫৮টি দৃশ্য ছেঁটে ফেলে পুনরায় ছবিটি জমা দেওয়া হয়েছিল সেন্সর সার্টিফিকেটের জন্য। কিন্তু ফল বদলায়নি।

কেবল বাণিজ্যিকভাবেই নয়, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রেও এগিয়ে জোকার। টড ফিলিপস পরিচালিত জোকার ঘরে এনেছে গোল্ডেন গ্লোব ও বাফটা পুরস্কার। এ ছাড়া ৯২তম অস্কারে সেরা সিনেমা, সেরা পরিচালকসহ ১১টি বিভাগে পেয়েছে মনোনয়ন।

সেরা অভিনেতার অস্কার উঠেছে জোকার চরিত্রের অভিনেতা হোয়াকিন ফিনিক্সের হাতে। সেরা অরিজিনাল স্কোর বিভাগেও অস্কার জিতেছে ছবিটি।

এবার ব্রিটিশ ফ্যাশন কাউন্সিলের নতুন অ্যাম্বাসেডর পদে নিযুক্ত হলেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। ১৬ নভেম্বর সোমবার নিজেই টুইট করে এ কথা জানিয়েছেন প্রিয়াংকা।

আগামী ১ বছর, অর্থাৎ ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাস অবধি লন্ডনে কাজ করাকালীন এই পদে নিযুক্ত থাকবেন অভিনেত্রী।

টুইটে প্রিয়ঙ্কা লেখেন, ‘ব্রিটিশ ফ্যাশন কাউন্সিল ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য অ্যাম্বাসেডর মনোনীত হয়ে খুবই সম্মানিত বোধ করছি। আগামী যতদিন আমি লন্ডনে থেকে কাজ করব, ততদিন আমি এই পদ সামলাব। খুব শীঘ্রই আমরা কিছু নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছি, আমার এই যাত্রায় আপনাদের সকলকে সঙ্গে চাই’।

জানা গেছে, প্রিয়ঙ্কা ফ্যাশনের ক্ষেত্রে কিছু কৌশল গড়ে তুলবেন যা ইন্ডাস্ট্রিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং নৈতিকতা বজায় রেখে কাজ করার অভ্যাস তৈরি করবে। এই পদে নিযুক্ত থাকাকালীন প্রিয়ঙ্কা সেখানকার ‘লন্ডন ফ্যাশন উইক’, ‘দ্য ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডস’-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।

স্বর্ণের মেকআপ, পোশাকেও মণিমুক্তা ঠাসা পোশাকে দেখা মিললো বলিউড অভিনেত্রী উর্বশী রাওতেলার । অভিনয়ে তেমন কোন আলোচনায় না থাকলেও ফ্যাশন আইকন হয়ে বরাবরই আলোচনায় থাকেন তিনি।

হঠাৎ যেন সবাইকে চমক দিতে ভালোবাসেন এই বলিউড ডিভা। আর তাই তো সোশ্যাল মিডিয়ায় যখনই নিজের নতুন নতুন অবতারের ছবি পোস্ট করছেন, তখনই একেবারে ভাইরাল।

বলিউডের কোন ছবিতে অভিনয়ে দেখা যায়নি তাকে। তবে আইটেম সং করেছেন বেশ কিছু ছবিতে। মডেলিং-এ ঝোঁক বেশি তার।

কয়েক দিন আগেই গিয়েছিলেন আরবে । সেখান থেকে শেখেদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। সম্প্রতি আরব ফ্যাশন উইকে শো-স্টপার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন উর্বশী। দারুণ এক ভিডিও শেয়ার করে সে কথা অনুরাগীদের জানিয়েছেন নায়িকা। জানা যায়, এই প্রথম কোনো ভারতীয় আরব ফ্যাশনের জগতে পা রেখেছে তিনি!

তবে এখানেই শেষ নয়, উর্বশীর এই ফ্যাশন উইকে যেভাবে ধরা দেবেন, তাও বড় চমক। জানা গিয়েছে, উর্বশীর এই মেকআপে ব্যবহার হয়েছে ২২ ক্যারেট স্বর্ণ। শুধু তাই নয়, উর্বশীর পোশাকও মণিমুক্তা ঠাসা! ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও আপলোড করে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন উর্বশী।আবেদনময়ী এই অভিনত্রেী।

৪৬ বছরে পা রাখলেন টাইটানিকের নায়ক লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও । অস্কারজয়ী এই তারকার খ্যাতি বিশ্বময়। জন্মদিনে তাই কোটি ভক্তের শুভেচ্ছায় ভাসছেন টাইটানিকের জ্যাক।

১৯৭৪ সালের ১১ নভেম্বর ক্যালিফর্নিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন হালের অন্যতম জনপ্রিয় এ অভিনেতা। এবার তিনি ৪৬ বছরে পা রাখলেন। নিঃসন্দেহে হলিউডের সেরা অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন ডিক্যাপ্রিও।

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে টেলিভিশন ধারাবাহিক দিয়ে তিনি শুরু করেন তার অভিনয় জীবন। মহাকাব্যিক প্রণয়ধর্মী টাইটানিক চলচ্চিত্রে জ্যাক ডসন চরিত্রে অভিনয় করে, তিনি বিশ্বব্যাপী তারকা খ্যাতি লাভ করেন। ছবিটি সে সময় ও পরবর্তী এক দশক সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র হিসেবে তালিকায় ছিল।

এরপর তার অভিনীত কয়েকটি চলচ্চিত্র বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়। কিন্তু সেই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় নেননি তিনি। ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, দ্য অ্যাভিয়েটর, দ্য ডির্পাটেড, শাটার আইল্যান্ড, দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট, দ্য গ্রেট গ্যাটসবি, ইনসেপশন, রেভিন্যান্টের মতো সিনেমা উপহার দিয়ে দর্শকের মনে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ফিরে পান।

আলেহান্দ্রো গনজালেস ইনারিতুর ‘রেভেন্যান্ট’ ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে তিনি পান ৮৮তম অস্কার আসরে সেরা অভিনেতার পুরস্কার।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিনোদন ভিডিও সংবাদ

১৩ মহিয়সী নারীকে উৎসর্গ করে এবার ইউটিউবে হাজির ‘নবাব’

তরুণ নির্মাতা অনন্য মামুন পরিচালিত এবং শাকিব খান অভিনীত ‘নবাব এলএলবি’ সিনেমার টাইটেল গান প্রকাশ হয়েছে। গত ২২ নভেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘আই থিয়েটারে’ অবমুক্ত করা হয়েছে ‘আমি নবাব’ শীর্ষক গানটি। আর গানটিতে ১৩ জন মহিয়সী নারীকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

তারা হলেল,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কবি সুফিয়া কামাল, বেগম সম্পাদক নুরজাহান বেগম, প্রীতিলতা, সেলিনা হোসেন, বেগম রোকেয়া, জাহানারা ইমাম, ক্রিকেটার সালমা খাতুন, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী, এভারেস্টজয়ী নিশাত মজুমদার, রাবেয়া খাতুন, রমা চৌধুরী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি।

তবে শাকিব ভক্তদের জন্য খুশির খবর হচ্ছে  ২৩ নভেম্বর থেকে ‘আমি নবাব’ গানটি অ্যাপের পাশাপাশি আই থিয়েটার-এর ইউটিউব চ্যানেলেও দেখা যাচ্ছে ।গানটি প্রকাশের পরপরই প্রশংসায় ভাসছে শাকিব নিয়ে চিত্রায়িত গানটি।গানটির কথা লিখেছেন মাহমুদ হাসান তবীব। কণ্ঠ দিয়েছেন সম্প্রীত দত্ত। সুর করেছেন দোলান মৈনাক।

সিনেমাটির পরিচালক অনন্য মামুন জানিয়েছেন, ‘আমাদের এই ছবিতে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের গল্প রয়েছে। আমরা চেয়েছি নারীর প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি ছবি নির্মাণের। কারণ নারীর সঙ্গে মানুষের সম্পর্কটা জন্মের শুরু থেকেই। নারী মা, কন্যা, বোন ও বধূ। সেই ভাবনা থেকে টাইটেল সংটিতে দেশের ১৩ জন কীর্তিমান নারীদের সম্মান জানানোর চেষ্টা করেছি।

সেলিব্রেটি প্রোডাকশনের ব্যানারে সিনেমাটিতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করছেন মাহিয়া মাহি ও অর্চিতা স্পর্শিয়া। এ ছাড়া অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, শাহেদ আলী, এল আর খান সীমান্ত, রাশেদ অপু, আনোয়ারসহ অনেকেই। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আই থিয়েটারে ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা আছে সিনেমাটির।

আরও পড়ুন- ‘অপু বিশ্বাসের ট্রাউজারে’ ট্রলের শিকার শাকিব খান

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
ভিডিও সংবাদ লাইফস্টাইল

মাস্ক পরে ব্যায়াম? ডেকে আনছেন যেসব বিপদ

বিশ্বজোড়া করোনার ত্রাস এখনও কমার নাম নেই। গোটা পৃথিবীতেই মানুষ সংক্রমণের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য নানা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করছেন। মুখে মাস্ক পরে বেরোনো এখন দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ।

কিন্তু সম্প্রতি সেই ফেস মাস্কেরই একটি বিপজ্জনক দিক উঠে এসেছে সামনে। মাস্ক পরে জগিং করতে করতে আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এক ব্যক্তি। প্রচণ্ড বুকে ব্যথা হচ্ছিল তাঁর। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে জানা যায় মুখে মাস্ক থাকা অবস্থায় শারীরিক পরিশ্রমের ধকল নিতে পারেনি ওই ব্যক্তির ফুসফুস।

আসলে সংক্রমণ রুখতে মাস্ক যত কার্যকরই হোক, অন্তত ব্যায়াম বা অন্য কোনও শারীরিক কসরত করার সময় তা থেকে দূরে থাকতেই হবে। নিজের নিরাপত্তার জন্যই জগিং বা ব্যায়ামের সময় কখনও মাস্ক পরবেন না।

যদি নিজের বাড়িতেই ব্যায়াম করেন, মাস্ক পরার এমনিতেই প্রয়োজন নেই। আর লকডাউন উঠে যাওয়ার পর যদি পার্কে যান, তা হলে খেয়াল রাখবেন যেন আপনার থেকে বাকি ব্যক্তিদের দূরত্ব অন্তত ছ’ ফুট হয়। এই দূর‍ত্ব বজায় রেখে দৌড়োলে বা ব্যায়াম করলে ইনফেকশন ছড়ানোর ভয় নেই।

ব্যায়ামের সময় কেন মাস্ক পরবেন না
মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় ব্যায়াম করার মধ্যে অনেক ঝুঁকি রয়েছে। ব্যায়াম, বা যে কোনও শারীরিক কসরত করার সময় আমরা ফুসফুসে বাতাস বেশি টানি, ফুসফুসকেও অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। মুখে মাস্ক থাকলে ফুসফুসে বাতাস ঢোকার পথে একটা বাধার সৃষ্টি হয়, যার ফলে আপনি একটুতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, হাঁফিয়ে যান। তা ছাড়া একটানা অনেকক্ষণ মাস্ক পরে থাকলে তা ঘামে ভিজে গিয়ে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা তৈরি হয়।

কখন মাস্ক পরতেই হবে
আউটডোর ব্যায়াম করতে চান অথচ মাস্ক ছাড়া স্বস্তিবোধ করছেন না? আপনার হাঁপানি বা হার্টের সমস্যা থাকলে কিন্তু একেবারেই মাস্ক পরে ব্যায়াম করা চলবে না। এমনিতে যাঁরা সুস্থ, তাঁরাও মাস্ক পরে কোনওরকম ভারী এক্সারসাইজ করা থেকে বিরত থাকুন। জোর করে ব্যায়াম চালিয়ে যাবেন না, একটু ক্লান্ত লাগলেই থামিয়ে দিন।

আরও পড়ুন- ‘ভালো মানুষ’ হওয়া সম্ভব?

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
ভিডিও সংবাদ লাইফস্টাইল

সুস্থ থাকার সহজ কিছু উপায়

সুস্থ থাকার সহজ কিছু উপায়
ভেজাল বা বাইরের অধিকাংশ খাবারগুলোতে সাধারণত পুরোনো তেল ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর। বাইরের খাবারে যে রঙ ব্যবহার করা যায় তার দাম খুব বেশি হওয়ায় বাইরের অধিকাংশ খাবারে টেক্সটাইলের রঙ ব্যবহার করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এ ধরণের খাবার খেলে লিভার, কিডনি, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অচলসহ ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত জায়গায় যদি খাবার তৈরি না করা হয় সেটাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। খোলা তেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবার অপরিচ্ছন্নতার কারণে বাইরের খাবার খাওয়ার কারণে অনেক সময় টাইফয়েড, আমাশয়, ডায়রিয়া থেকে শুরু করে খাদ্য এবং পানি-বাহিত যেকোনো রোগের কারণ হতে পারে এসব খাবার।

চিকিৎসকরা বলছেন, এসব খাবার খেয়ে শিশুরা পেটের পীড়াসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয় দীর্ঘ মেয়াদে কিডনির জটিল রোগ, লিভার সিরোসিস, এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে।

প্রতিকারে প্রয়োজনঃ
যতটা সম্ভব বাইরের খোলা খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বাইরের মুখরোচক খাবার সম্পর্কে পুষ্টি বিজ্ঞানীরা জানান, বাচ্চাদের স্কুলের টিফিনের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হওয়া দরকার। তা না হলে আজকের শিশু দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই ঘরে তৈরি খাবারে শিশুদের অভ্যস্ত করতে হবে।
কখনও জেনে, কখনও না জেনে আমরা অনিরাপদ খাবার খাচ্ছি। নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়েরই সমান দায়িত্ব।

ইদানিং পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও বাজার করার দায়িত্বটি পালন করছে। এ ক্ষেত্রে কোনটাতে ফরমালিন আছে, কোনটাতে নেই এবং কীভাবে বোঝা যাবে এ জ্ঞানটুকু রাখতে হবে। কেনাকাটার পর ফলমূল, মাছ-তরকারি থেকে কীভাবে বিষাক্ত কেমিক্যাল দূর করা যায় তার জন্য নারীদেরই সচেতন হতে হবে।

আমরা অনেক সময় ফ্রিজে খাবার রেখে দিয়ে পরে খাই। এতে কখনও কখনও ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়ে পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তারপর রান্না-বান্না করার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট তাপমাত্রার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো ধরণের খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে।

আরও পড়ুন- গর্ভবতী হতে মেনে চলুন সাতটি ধাপ

সুস্বাস্থ্যের জন্য কেমিক্যালযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। সচেতনতার বিকল্প নেই। এক সময় পুষ্টি সম্পর্কে মানুষ ততটা সচেতন ছিল না। এখন গ্রামের মানুষও পুষ্টি সম্পর্কে জানে।

সে ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য সম্পর্কে দেশের গণমাধ্যমগুলো আরও বেশি মানুষকে সচেতন করতে পারে। বিক্রেতার আচরণ পাল্টাতে হবে, সচেতন করে এবং নিরাপদ খাদ্য আইনের সংস্কার করে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে। তাদের কোনোভাবে নিবন্ধিত করে মান তদারকি করা যায় কি-না ভাবতে হবে।

স্বাস্থ্যই সুস্থতা, আর সুস্থ থাকার সহজ উপায় সচেতন থাকা, আমাদের সচেতন হবার চেষ্টা করতে হবে এবং অন্যদেরও স্বাস্থ্য সচেতনতায় উৎসাহিত করতে হবে।

আরও পড়ুন- সুস্থ শারীরিক সম্পর্কে দূর হয় মাইগ্রেন, বলছে গবেষণা

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
ভিডিও সংবাদ লাইফস্টাইল

শীতের সবজি ফুলকপির পুষ্টিগুণ ও অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

বড় বড় সবুজ পাতার মাঝখানে এক গুচ্ছ ফুল! বাতাসে হিমের ছোঁয়া, গা শিরশির করে। ঘাসের ওপর শিশির জমে থাকে। কবি বলেন- শিউলির প্রলোভনেই হেমন্তের হাত ধরে আসে শীত। ছাতিম আর শিউলি ফুলের ঘ্রাণ ছাড়া শীতের আগমন যেন নিষ্প্রাণ, ছন্দ-গন্ধহীন।

ফুলকপি হলো শীতের মৌসুমের সবজিগুলোর মধ্যে এক বিশেষ সবজি যা খেতেও সুস্বাদু এবং এতে খাদ্য গুণাগুণেরও কমতি নেই।

ভাজি, নিরামিষ, মাছের-তরকারি, পাকড়া যেভাবেই খান না কেন ভালো লাগে প্রতিবারই।

পুষ্টি উপাদান-
ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে যা আমাদের দেহে ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়াও রয়েছে আয়রন, সালফার, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও ফাইবার।

উপকারিতা-
ফুলকপির রয়েছে নানান স্বাস্থ্য উপকারিতা। তা হলো-
১) ক্যান্সার- ফুলকপিতে বিদ্যমান সালফারযুক্ত সালফোরাফেন উপাদানটি ক্যান্সার সেল ধ্বংস করে এবং যেকোনো টিউমারের বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।
২) সবল হৃদযন্ত্র- ফুলকপির সালফোরাফেন রক্ত চাপ কমায় ও রক্ত প্রবাহ নিয়মিত রেখে হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে।
৩) পরিপাকে সহায়ক- ফাইবার ও সালফার সমৃদ্ধ ফুলকপি পরিপাকে সহায়ক।
৪) স্মৃতিশক্তি বান্ধব- স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি ও সচল রাখতে ফুলকপির ভিটামিন বি ও বি কমপ্লেক্সযুক্ত কলিন অনেক উপকারি। এছাড়াও ফুলকপি মস্তিষ্কের দূর্বলতা ও স্মৃতিবিভ্রমের সমস্যায় সহায়ক।
৫) ঠাণ্ডা জাতীয় সমস্যার প্রতিষেধক- ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি শীতকালের ঠাণ্ডা জ্বর, সর্দি, কাশি ও টনসিলের প্রদাহ থেকে বাঁচিয়ে রাখে।
৬) দেহ গঠনে- ফুলকপি কোলেস্টেরলমুক্ত তাই দেহ গঠনে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
৭) রক্ত উৎপাদক- ফুলকপির আয়রন দেহে রক্ত উৎপাদক। গর্ভবতী মা ও বাড়ন্ত শিশুর আয়রনের চাহিদা মেটাতে তাই ফুলকপি একটি বেস্ট অপশন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে চমকে ওঠার মত কিছু তথ্য

অস্ট্রেলিয়া ছিল ব্রিটিশ কয়েদিদের উপনিবেশ। ১৯ শতক জুড়ে অস্ট্রেলিয়া এক গুচ্ছ ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে কাজ করতো। ১৯০১ সালে এগুলো একত্র হয়ে স্বাধীন অস্ট্রেলিয়া গঠন করে। অস্ট্রেলিয়া ৬টি অঙ্গরাজ্য হলো- নিউ সাউথ ওয়েল্স, কুইন্সল্যান্ড, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া, ভিক্টোরিয়া, ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া। এছাড়াও আছে দুইটি টেরিটরি— অস্ট্রেলীয় রাজধানী টেরিটরি এবং উত্তর টেরিটরি।

অস্ট্রেলিয়া মূলত একটি দ্বীপ এবং মহাদেশ। এটি এশিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে ওশেনিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটির উত্তরে তিমুর সাগর, আরাফুরা সাগর, ও টরেস প্রণালী; পূর্বে প্রবাল সাগর এবং তাসমানিয়া সাগর; দক্ষিণে ব্যাস প্রণালী ও ভারত মহাসাগর আর পশ্চিমে ভারত মহাসাগর রয়েছে।

আয়তন অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের ৬ষ্ঠ বৃহত্তম দেশ। অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম অর্ধাংশ জুড়ে রয়েছে এক বিস্তীর্ণ মালভূমি, যা পশ্চিম মালভূমি নামে পরিচিত। পূর্ব উপকূলে রয়েছে সুদীর্ঘ গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ পর্বতমালা, যা পূর্ব উপকূলের সবুজ, উর্বর, জীব বৈচিত্র্যময় ও জনবহুল সমভূমিগুলিকে দেশের অভ্যন্তরভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।

পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৪০০০ কিমি এবং উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৩৭০০ কিমি দীর্ঘ। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ, কিন্তু ৬ষ্ঠ বৃহত্তম দেশ।

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর। এটি অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ধরে প্রায় ২০১০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। এটি আসলে প্রায় ২৫০০ প্রাচীর ও অনেকগুলি ছোট ছোট দ্বীপের সমষ্টি। কুইন্সল্যান্ডের তীরের কাছে অবস্থিত ফেয়ারফ্যাক্স দ্বীপ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অংশ।

বাইরের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল অঞ্চলের মধ্যে আছে অ্যাশমোর ও কার্টিয়ার দ্বীপপুঞ্জ, অস্ট্রেলীয় অ্যান্টার্কটিকা, ক্রিসমাস দ্বীপ, কোকোস দ্বীপপুঞ্জ, কোরাল সি দ্বীপপুঞ্জ, হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ, এবং নরফোক দ্বীপ।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বসতি ছিল এখানকার আদিবাসী জাতিগুলি। এরা প্রায় ৫০ ০০০ থেকে ৬০,০০০ বছর আগে দেশটিতে আসে। ১৭শ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত বহির্বিশ্বের কাছে দ্বীপটি অজানা ছিল। ১৭৮৮ সালে দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার পোর্ট জ্যাকসনে প্রথম স্থায়ী উপনিবেশ সৃষ্টি হয়;

অস্ট্রেলিয়াতে আটটি রাজধানী শহর রয়েছে, যার প্রতিটি রাজ্য বা অঞ্চলের নির্ধারিত সরকারি সীমানায় কাজ করে। ১৯০১ সালের ফেডারেশন অফ অস্ট্রেলিয়া পর মেলবোর্ন প্রাথমিক রাজধানী ছিল। ১৯২৭ সালে, জাতীয় সরকারের কেন্দ্র নতুনভাবে নির্মিত ক্যানবেরার শহরটিতে স্থানান্তরিত হয় যা জাতীয় রাজধানী হিসাবে কাজ করে চলেছে।

ক্যানবেরা প্রশাসনিকভাবে এটি অস্ট্রেলীয় রাজধানী অঞ্চলের উত্তর অংশটি গঠন করেছে। ক্যানবেরা একটি আধুনিক ও দ্রুত প্রসারমান শহর। আর্থ-ভৌগোলিকভাবে শহরটি অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বভাগে, অস্ট্রেলীয় আল্পস পর্বতমালার পাদদেশে, একটি সমতল কৃষিপ্রধান অঞ্চলে, মোলোংলো নদীর তীরে অবস্থিত।

সিডনি শহর থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও মেলবোর্ন থেকে ৬৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত শহরটি অস্ট্রেলিয়ার এই দুই প্রধানতম নগরীর মধ্যবর্তী একটি জায়গায় অবস্থিত। জনসংখ্যার বিচারে এটি অস্ট্রেলিয়ার ৮ম বৃহত্তম শহর ও অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরভাগের বৃহত্তম শহর; এখানে প্রায় ৪ লক্ষ লোক বাস করে।

ক্যানবেরার চারপাশ ঘিরে থাকা উচ্চভূমির তুলনায় এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশ কম। শহরটিকে বার্লি গ্রিফিন নামের একটি কৃত্রিম হ্রদের চারপাশ ঘিরে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। মোলোংলো নদীর উপরে বাঁধ ফেলে ১৯৬৩ সালে এই হ্রদটি সৃষ্টি করা হয়।

সিডনি অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী এবং অস্ট্রেলিয়া তথা ওশেনিয়ার বৃহত্তম শহর।শহরটি অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের জ্যাকসন বন্দরকে ঘিরে অবস্থিত। শহরটি স্থলভাগের অভ্যন্তরে পশ্চিমের ব্লু পর্বতমালার দিকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।

এর উত্তরে হকসবেরি শহর, দক্ষিণে রয়াল ন্যাশনাল পার্ক বা রাজকীয় জাতীয় উদ্যান এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে ম্যাকার্থার শহর। সিডনিতে ৬৫৮টি উপশহর, ৪০টি স্থানীয় সরকার অঞ্চল এবং ১৫টি সংলগ্ন অঞ্চল বা রিজিয়ন আছে। সিডনির অধিবাসীদেরকে স্থানীয় ইংরেজি ভাষায় “সিডনিসাইডার্স” নামে ডাকা হয়।

২০১৭ সালের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ী সিডনি মহানগর এলাকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫১ লক্ষ। এখানে নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৬৫ ভাগ জনগণ বাস করে।

অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির প্রায় ৭০ ভাগ সেবা খাত। তবে রপ্তানির সিংহভাগ খনন শিল্প ও কৃষিখাত থেকে আসে। অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রার নাম হল অস্ট্রেলীয় ডলার।অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও এই মুদ্রা ব্যবহার হয় ক্রিস্টমাস আইল্যান্ড, কোকোস আইল্যান্ড, নোরফল্ক আইল্যান্ড।

এছাড়াও স্বাধীন প্যাসিফিক আইল্যান্ড স্টেট কিরিবাটি, নাওরু এবং তুবালুর মুদ্রা হিসেবেও ব্যবহৃত হয় অস্ট্রেলীয় ডলার। অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ হল অস্ট্রেলিয়ার সবথেকে বড় স্টক এক্সচেঞ্জ।

অস্ট্রেলিয়ার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ খ্রিস্ট-ধর্মের অণুসারী আর প্রায় এক-তৃতীয়াং মানুষ কোন ধর্মের সাথেই একাত্মতা প্রদর্শন করে না। বাকীরা বিভিন্ন ধর্মের অণুসারী এবং এদের মধ্যে মুসলমান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের দ্রুত বর্ধনশীল।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপরাষ্ট্র ও দ্বীপমহাদেশ অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছে নানা দর্শনীয় স্থান।যেগুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিনিয়তই ভিড় জমান দর্শনার্থীরা।

অস্ট্রেলিয়ার সবচাইতে জনপ্রিয় শহর হল সিডনি। শহরটি অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। এটি দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলসের রাজধানী এবং একটি আধুনিক শহর। এই অঞ্চলের প্রথম অধিবাসীরা হাজার হাজার বছর পূর্ব থেকেই এই উপকূলে বাস করতো।

মেলবোর্ন

ভিক্টোরিয়া রাজ্যের রাজধানী এবং অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল শহর হচ্ছে মেলবোর্ন যা অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত। মেলবোর্ন শহর পৃথিবীর সবচেয়ে বাসযোগ্য শহর।

ক্যানবেরা

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী হচ্ছে ক্যানবেরা। সব দেশের এম্বেসি কিংবা হাইকমিশন এখানে অবস্থিত।ক্যানবেরা পথের দুইপাশে অসংখ্য ক্যাঙ্গারু। ক্যাঙ্গারুর চলাফেরা খুব মজার, তাদের মত লেজে ভর দিয়ে জোড়া পায়ে লাফিয়ে আর কোন প্রাণী ছুটতে পারেনা।

তার চেয়েও মজার হচ্ছে, মায়ের পেটের থলেতে ক্যাঙ্গারুর বাচ্চার বসে থাকা। বাচ্চা গুলোকে দেখে মনে হয়, পৃথিবীতে বুঝি এর থেকে আরামের কোন জায়গা নেই। নিউক্যাসেল এর বীচে এলে বড় বড় জাহাজ দেখা যায়, কারণ ১৭৯৭ সালে এখানে কয়লাখনি আবিষ্কার হওয়ার পরথেকেই নিউক্যাসেল থেকে কয়লা ভর্তি জাহাজ চলাচল শুরু হয় আর নিউক্যাসেল এখন পৃথিবীর বৃহত্তম কয়লা রপ্তানির বন্দর।

নিউক্যাসেলে রয়েছে , বিশাল জায়গা নিয়ে আঙ্গুরের ক্ষেত তার সঙ্গে নানারকম ওয়াইন বিক্রির দোকান। পর্যটকরা এলে তাঁদের বিনামূল্যে ওয়াইন চেখে দেখতে দেওয়া হয় । অনেক বিদেশী পর্যটক প্রতি বছর নিউক্যাসেলে বেড়াতে আসে এইসব সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।

কাকাডু
কাকডু একটি সুন্দর পার্ক যা অস্ট্রেলিয়ার উত্তর অংশে অবস্থিত। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন দ্বীপের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত এটি। অসাধারণ সুন্দর ভূ-প্রাকৃতিক দৃশ্যের পাশাপাশি সমৃদ্ধ বন্যপ্রাণী ও চমৎকার গাছপালা নিয়ে এটি গঠিত।

লর্ড হাও দ্বীপ
নির্জন, মনোমুগ্ধকর এবং আধা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দ্বীপ হল লর্ড হাও দ্বীপ। এটি বিশ্বের প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য অসাধারণ এক স্বর্গ স্বরূপ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাঝামাঝি অবস্থিত অর্ধচন্দ্রাকার ও আগ্নেয়গিরির অবশিষ্টাংশের এই দ্বীপটি মূলত তাসমানিয়া সাগরে অবস্থিত।

এই দ্বীপের বেশির ভাগ স্থানই কার্যত অক্ষত বন, প্রচুর উদ্ভিদ ও প্রাণীজ সম্পদ নিয়ে গঠিত। ভূপ্রাকৃতিক অসাধারণ বৈচিত্র্য এই দ্বীপের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক।

মহাসাগরীয় আগ্নেয়শীলার বৈচিত্র্য, দক্ষিণের প্রবাল প্রাচীর, সামুদ্রিক পাখির বাসা এবং এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এই দ্বীপটিকে পর্যটকদের জন্য করে তুলেছে অনন্য।

ওলগাস
অস্ট্রেলিয়ার আয়ারস পর্বতের পশ্চিম দিকে ওলগাস অবস্থিত। এটি ৩৬টি গঠনের পাথুরে এলাকা এবং পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ শুষ্ক স্থান। এটি আয়ারস পর্বত থেকে ১২০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত একটি সমতল মরুভূমি। দুঃসাহসিক কাজ করতে যারা ভালোবাসেন তারাই মূলত এই মরুভূমিতে বেশি ভ্রমণ করে থাকে।

অ্যালিস স্প্রিংস
অ্যালিস স্প্রিংস অস্ট্রেলিয়ার মাঝামাঝি অবস্থিত এবং কাছাকাছি শহর থেকে ১৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অ্যালিস স্প্রিংসে গুহা, গিরিসঙ্কট, সীমানাহীন মরুভূমি এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের দেখা মিলে।

এখানে অনেক জনবিরল ও দর্শনীয় স্থান আছে এবং পর্বত আরোহণের সুযোগ আছে যেমন- উলুরো,আয়ারস পর্বত, কাটা টিজুটা ও কিং ক্যানিয়ন। আশির দশকে পর্যটকের আনাগোনা বেশি হওয়ার ফলে এখানকার জনসংখ্যা ২৮০০০ এ উন্নিত হয়।

এক গবেষণায় দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ায় লম্বা সময় অবস্থান করলেই দক্ষ-অভিবাসীরা ভাল অবস্থায় থাকবেন ।কিন্তু এ বিষয়টি সে রকম নয়। ভাল থাকার জন্য অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়াটা জরুরী।

বহু-সংস্কৃতির দেশ অস্ট্রেলিয়ায় আগত অভিবাসীরা চাইলে তাদের ছেড়ে আসা দেশের সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারেন। কিন্তু, সম্প্রতি এক গবেষণায় ৩০০ অভিবাসীর ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, যারা অস্ট্রেলিয়ার সংস্কৃতি গ্রহণ করেছেন তারা ভালো রয়েছেন তাদের তুলনায় যারা এ দেশের সংস্কৃতি গ্রহণ করে নি।

পাশ্চাত্যের বাইরে অন্যান্য দেশ থেকে যেসব দক্ষ অভিবাসী অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন করেছেন তাদের মধ্যে যারা তুলনামূলকভাবে ভালো রয়েছেন বলেছেন, তাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে,তারা ছেড়ে আসা দেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতির সঙ্গেই বেশি সম্পৃক্ত

এই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অভিবাসীরা যদি অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতি গ্রহণ না করেন, সেক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করলেও ভাল থাকার জন্য তা যথেষ্ট হয় না।

দ্বি-সংস্কৃতি
অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতি বরণ করার পরিবর্তে, কোনো কোনো দক্ষ অভিবাসী তাদের নিজেদের সংস্কৃতি বজায় রাখেন এবং একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতিরও কিছু কিছু দিক গ্রহণ করেন ও চর্চা করেন।

তাদের জন্য, অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতি ও ছেড়ে আসা দেশের সংস্কৃতি- এই দুটির মধ্যে যখন যেটি দরকার তার চর্চা করার বিষয়টি অধিকতর বাস্তব সম্মত।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ান সংস্কৃতি পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করার সময়ে অভিবাসীরা তাদের ছেড়ে আসা দেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ও মূল্যবোধ পরিত্যাগ করে।

২০১৫ সালে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, অ্যাংলো অস্ট্রেলিয়ানদের তুলনায় ভাষা ও সংস্কৃতির দিক দিয়ে বৈচিত্রপূর্ণ সমাজ থেকে আসা বৃদ্ধ লোকদের ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হওয়ার বেশি সম্ভাবনা রয়েছে।

কেয়ার্ন্স

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু, স্বাচ্ছন্দ্যকর আবহাওয়া এবং গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ থেকে মোটামুটি কাছে হওয়ায় Cairns অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় অবকাশ যাপনস্থল যা অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপূর্ব কোণে অবস্থিত।

কেয়ার্ন্স প্রাদেশিক হলেও স্টাইলিশ শহর, এর জনসংখ্যা ১৫০,০০০। পর্যটকদের জন্য চমৎকার উপকূলীয় পরিবেশ এবং বিচিত্র বন্যপ্রাণীর দেখা মিলে এখানে।

জলপ্রপাতের সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসুদের এখানে আকৃষ্ট করে। পরিবেশগত বিভিন্ন গবেষণার জন্য এই স্থানটিতে বিজ্ঞানী ও বাস্তুবিদেরাই বেশি ভ্রমণে যান।

অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় শহর কুইন্সল্যান্ডের কোরাল সাগরে পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অবস্থিত। এটি পৃথিবীর অন্যতম বড় প্রবাল প্রাচীর।

যা ২,৯০০টির বেশি প্রবাল প্রাচীর এবং শত শত দ্বীপ নিয়ে গঠিত। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ জীবন্ত প্রাণী একত্র হয়ে বিশাল প্রবাল প্রাচীর গঠিত হয়েছে যা পৃথিবীর সবচাইতে বিচিত্র বাস্তুতন্ত্রের একটি এবং অস্ট্রেলিয়ার দর্শনীয় স্থানগুলোর অন্যতম।

সিডনি থেকে ব্লু মাউন্টেন এর দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার, সিডনির অন্যতম দর্শনীয় স্থান এই ব্লু মাউন্টেন , ৯৬ কিলোমিটার লম্বা আর প্রায় ১১,৪০০ স্কয়ার কিলোমিটার জায়গা জুড়ে অবস্থিতি , এটি ২০০০ সালে ইউনেস্কো দ্বারা ঘোষিত।

অস্ট্রেলিয়ার দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। সেখানে রয়েছে বিরল জাতের উঁচু উঁচু গাছ, কাটুমবা জলপ্রপাত, সবুজে ঘেরা বিশাল নীলাভ পাহাড়, বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলরব। এখানে নানান জাতের গাছ রয়েছে ইউক্যালিপটাস গাছ, ব্লু গাম গাছ, অ্যাস ও ফার্ন গাছ।

এইসব গাছ থেকে অনেক উপকার পাওয়া যায়, যেমন- ইউক্যালিপটাস দিয়ে তেল তৈরি হয়, পাতা হারবাল চায়ে ব্যবহার হয় আর এই গাছের ফুল থেকে মধু হয় তবে তার গন্ধটা খুবই তীব্র।

এছাড়া ব্লু মাউনটেনের জঙ্গলের এই অ্যাস গাছ থেকে খুব সহজেই বুশ ফায়ারের সম্ভাবনা থাকে। রোদবৃষ্টি, ঝড়, বরফের দাপট আর প্রতিকূল আবহাওয়ায় ব্লু মাউনটেন পাহাড়ের কিছুটা অংশ এমনভাবে রূপান্তরিত হয়েছে, দেখলে মনে হবে যেন তিনজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।

আরও পড়ুন : ঢাকা ছাড়লেন অস্ট্রেলিয়ার ২২০ জন নাগরিক

স্থানীয় লোকেদের দেওয়া নামে এরা Three Sisters বলে বিখ্যাত। এই দর্শনীয় স্থানটি পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

নিউক্যাসেল শহরটা ঘুরে দেখার মত, কারন এই শহর কয়লাখনি,বীচ,আঙ্গুরের ক্ষেত আর ওয়াইনের জন্য বিখ্যাত, এখানে হোয়াইট আর রেড দুরকমের ওয়াইনই তৈরি হয়।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

চাঁদের আদ্যোপান্ত

যে চাঁদ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। আর চাঁদ নিয়ে যে কতো ধরনের গল্প আর উপমা আছে। তা তুলে ধরাও মুশকিল।

মহাবিশ্বে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী চাঁদ। এক এক প্রজন্মের কাছে এর পরিচয় এক এক রকম। ছোটবেলায় চাঁদকে সূতো কাটা বুড়ির ছোট্ট ঘর হিসেবে কল্পনা করে বাচ্চারা। কখনও আবার বিভিন্ন বয়সের রোমান্টিক লোকজন চাঁদকে সৌন্দর্যের উপমা হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, আজ থেকে সাড়ে ৪ বিলিয়ন বছর আগে, সোলার সিস্টেম গঠিত হওয়ার কিছুদিন পরে অনেকটা মঙ্গল গ্রহের মত আকৃতির একটি শিলা-ভূত্বকের কঠিন অংশ পৃথিবীর সঙ্গে সজোরে সংঘর্ষ হওয়ার ফলেই সৃষ্টি হয় চাঁদের।

পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ। তবে ১৯৯৯ সালে বিজ্ঞানীরা একটি ৫ কিলোমিটার প্রশস্ত গ্রহাণু আবিষ্কার করেন যেটি পৃথিবীর মহাকর্ষীয় আকর্ষণে ধৃত হয়ে আরেকটি ‘চাঁদে’ রূপ নিতে পারে।

পৃথিবী থেকে আমরা সব সময়ই চাঁদের একই আকৃতি দেখে থাকি। পৃথিবী ও চাঁদ উভয়ই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরলেও চাঁদ সর্বদা একই রকম। কারণ, অনেক আগেই পৃথিবীর মহাকর্ষীয় প্রভাব চাঁদের নিজস্ব কক্ষপথের ঘূর্ণনকে ধীরগতির করে দিয়েছে। তাই এর অরবিটাল পিরিয়ড ও রোটেশন পৃথিবীর সাথে মোটামুটি মিলে যাওয়ায় চাঁদের আকৃতি পরিবর্তিত হয়না।

পৃথিবীর বুকে থাকা ৪০০’র বেশি গাছ এসেছে চাঁদের মাটি থেকে। আসলে ব্যাপারটি হচ্ছে, ১৯৭১ সালে অ্যাপোলো ১৪ মিশনে নভোচারী স্টুয়ার্ট রোসা প্রায় ৫০০’র মত উদ্ভিদ-বীজ সাথে করে চাঁদে নিয়ে যান এবং লুনার সার্ফেসে রোপণ করেন। পরে সেগুলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে অঙ্কুরিত করা হয়। গাছগুলো এখনও বেঁচে আছে। এগুলো ‘মুন ট্রি’ নামে পরিচিত।

চাঁদ দেখতে গোলাকার হলেও আসলে তা গোলাকার নয়। বরং, চাঁদের গঠন ডিম্বাকার। আরেকটি মজার বিষয় হচ্ছে, চাঁদের ভরকেন্দ্র গ্রহটির জ্যামিতিক কেন্দ্রে অবস্থিত নয়। এর অবস্থান চাঁদের কেন্দ্র থেকে ২ কিলোমিটার বাহিরে।

চাঁদকে আমরা অনেকে স্বপ্নের জগত হিসেবে জেনে থাকলেও এখানেও প্রাকৃতিক বিরূপ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। চাঁদে মাঝে মাঝে ভূমিকম্পও হয়। এগুলো ‘মুনকোয়াক’ নামে পরিচিত। লুনার নাইট সিজনে চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা মাইনাস ১৮০ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যায়। যা অত্যন্ত শীতল। কখনও আবার এর আবহাওয়া বেশ উত্তপ্তও হয়ে ওঠে। বলাই বাহুল্য, মানুষের বসবাসের জন্য চাঁদ মোটেই উপযোগী নয়।

প্রতিবছর পৃথিবী থেকে কিছুটা রোটেশনাল এনার্জি নিয়ে নেয় চাঁদ। এতে নিজস্ব কক্ষপথে বছরে ৩.৮ সেন্টিমিটার উপরে চলে যাচ্ছে চাঁদ। গবেষকরা জানিয়েছেন, সৃষ্টিলগ্নে পৃথিবী থেকে ২২ হাজার ৫৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল চাঁদ। তবে এখন এটি ৪ লক্ষ্য ৫০ হজার কিলোমিটার দূরে চলে গেছে।

চাঁদ যাওয়ার সখ কার না জাগে। এবার সামর্থবানদের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এরইমধ্যে একজন-নারী ও একজন পুরুষকে চাঁদে পা রাখার সুযোগ করে দিচ্ছে নাসা।

চাঁদে যেতে কে না চায়। সেই আকাঙ্খা থেকেই সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ১৯৭২ সালে মানুষ প্রথমবারের মত চাঁদে পা রাখতে সক্ষম হয়। আর এবার চাঁদ নিয়ে নতুন প্রকল্প আর্টেমিস। ২০২৪ সালে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে আমেরিকান মহাকাশ সংস্থা নাসা।

চাঁদে মানুষ নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের পরিকল্পনার বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। দু হাজার ৮০০ কোটি ডলারের এই মিশনে প্রথমবারের মত একজন নারী চাঁদের বুকে পা রাখবেন। এতে নাসা একজন পুরুষ ও একজন নারীকে চাঁদে পাঠাবে।

তবে নাসা বলছে তাদের পরিকল্পিত সময়সূচি ঠিক রাখতে হলে কংগ্রেসকে ৩২০ কোটি ডলারের তহবিল তাদের হাতে সময়মত তুলে দিতে হবে। কারণ নির্ধারিত সময়ে চাঁদের বুকে নামতে হলে তাদের সময়মত একটা অবতরণ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে।

নভোচারীরা অ্যাপোলোর মতই একটি ক্যাপসুলে ভ্রমণ করবেন, যেটির নাম দেয়া হয়েছে ওরিয়ন। এসএলএস নামে একটি রকেট এটি উৎক্ষেপণ করবে।

নাসার একজন প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টাইন বলেছেন, চাঁদের বুকে আর্টেমিস অবতরণের জন্য আগামী চার বছরে নাসার ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮ বিলিয়ন ডলার। এ প্রকল্পের বাজেটে নির্ধানিত খরচ গুলো হলো, এসএলএস উৎক্ষেপণের খরচ, ওরিয়ন বাবদ সব ব্যয়, এছাড়াও চাঁদে মানুষের নামার খরচ এবং নভোচারীদের মহাকাশ স্যুটের জন্য যাবতীয় খরচখরচা।

তিনি আরও জানান, আমেরিকান কংগ্রেস এবং সেনেটের কাছে অবতরণ ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য তাদের আবেদন করা ৩২০ কোটি ডলার ২০২১ সালে তাদের হাতে আসতে হবে। এই অর্থ সময়মত পেলে তবেই তাদের লক্ষ্য অর্থাৎ ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে দ্বিতীয়বারের মত অবতরণের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।

২০২৪ সালে চাঁদের বুকে প্রথম যে নারী পা রাখছেন, তার কিন্তু মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে।

আমেরিকার হাউস অফ রেপ্রেজেনটিটিভ চাঁদে অবতরণের যান তৈরির জন্য ৬০ কোটি ডলার অনুমোদন করে ইতোমধ্যেই একটি বিল পাশ করেছে। তবে নভোযানটি পুরোপুরি তৈরি করতে নাসার আরও বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে।

মি. ব্রাইডেনস্টাইন ২০১৯ সালের জুলাই মাসে সিএনএন টিভিতে বলেছেন, ২০২৪ সালে চাঁদের বুকে প্রথম পদচারণা করবেন যে নারী তিনি হবেন ”এমন একজন যার মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে – যিনি ইতোমধ্যেই কোন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে গেছেন”। নভোচারী গোষ্ঠীর মধ্যে থেকেই কাউকে এই মিশনের জন্য বেছে নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

ওই সাক্ষাৎকারের সময় ১২ জন নারী নভোচারীর নাম সামনে এসেছিল। এরপর আরও পাঁচজন নারী নভোচারী নাসার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এবছরের শেষের দিকে প্রশিক্ষণ শেষ করে তারা নাসায় যোগ দিয়েছেন। তবে যোগ্যতার জন্য যেসব মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে, আগামী চার বছরের মধ্যে সেগুলো অর্জন করে মিশনের জন্য তারা তৈরি হতে পারবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

আর্টেমিসের জন্য নভোচারী নির্বাচনের সময়সূচি জানতে চাওয়া হলে নাসার প্রধান বলেছেন, প্রথম মিশনটি পাঠানোর অন্তত দুবছর আগে তারা নভোচারীদের দলটি নির্বাচন করতে চান।

তবে তিনি বলেন, আর্টেমিসে নভোচারী হিসেবে কারা যাবেন সেটা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শিগগিরিই শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। এটা অনুপ্রেরণা হিসেবেও কাজ করবে বলেএ মনে করছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসও চাঁদে আবার নভোচারী পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কারণ আমেরিকা মহাকাশ চারণায় তাদের নেতৃত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে।

চাঁদেই যদি জ্বালানি তৈরি সম্ভব হয়, অনেকাংশেই খরচ কমে আসবে। তবে চাঁদ নিয়ে চাঁদে দখল প্রতিষ্ঠা নিয়ে কেউই পিছিয়ে নেই।

নাসা চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে জমে থাকা বরফ-পানির নমুনা সংগ্রহ কারার পরিকল্পনা করছে। এর সাহয্যে চাঁদেই স্বল্প খরচে রকেটের জন্য জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এতে পৃথিবী থেকে রকেটের জন্য জ্বালানি বহন করে নিয়ে যেতে হবে না এবং এটা চান্দ্র অর্থনীতির একটা ভিত তৈরি করবে।

তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স চীনের মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে পূর্ব এশিয়ান পরাশক্তি চীন প্রথম চাঁদের বেশ ভেতরের দিকে একটি রোবট চালিত রোভার যান স্বাচ্ছন্দে অবতরণ করিয়েছিল। পৃথিবীর গবেষণাগারে চাঁদের মাটির নমুনা পৌঁছে দেবার জন্য প্রথম মিশন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। চীন তাদের নভোচারীদের জন্য নতুন প্রজন্মের মহাকাশযান তৈরি করছে,যা চাঁদে পাঠানোর উপযোগী। যদিও ২০২৪-এর মধ্যে তারা এই মহাকাশযান বানাতে পারবে কিনা তার নিশ্চয়তা তারা দেয়নি। তবে এই দশকেই সে লক্ষ্যে চীন অনেকটাই এগিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নাসার নতুন নথিতে আমেরিকান পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের রূপরেখা দেয়া হয়েছে। এতে চাঁদে নভোচারীবিহীন পরীক্ষামূলক যান পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। এর প্রথম পর্যায় হলো আর্টেমিস ওয়ান। এটি পাঠানো হবে ২০২১ সালের শরতকালে।

এরপর আর্টেমিস-টুর জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো চিহ্ণিত করে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আর্টেমিস-টু নভোচারীদের নিয়ে একইধরনের মিশন চালাবে চাঁদকে পরিক্রমা করে। উৎক্ষেপক রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পর ওরিয়ন মহাকাশযানটি পরিচালনা করবেন নভোচারীরা নিজে। এরপর আর্টেমিস-থ্রি যাবে নভোচারীদের নিয়ে চাঁদে অবতরণের লক্ষ্যে।

আরও পড়ুন : এবার চাঁদে যাবে নারী মহাকাশচারী

অ্যাপোলো ১৭ চাঁদে অবতরণ করার ৪৮ বছর আগে এটাই হবে আমেরিকার চন্দ্র মিশন যেখানে নভোচারীরা আবার চাঁদের বুকে পা রাখবেন। ইতোমধ্যে নাসা বেশ কিছু সংস্থাকে অবতরণ যানের নকশা তৈরির কাজ দিয়েছে।

নাসা তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসাবে এই দশকের শেষ দিকে নভোচারীদের জন্য আর্টেমিস বেস ক্যাম্প নামে একটি ক্যাম্প তৈরি করবে যেখানে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদী অভিযান চালানোর জন্য অবকাঠামো থাকবে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
খেলার খবর ভিডিও সংবাদ

ক্ষমা চাইলেন অনুতপ্ত টাইগার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান

ভক্তের ফোন ছুড়ে ফেলাসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন অনুতপ্ত টাইগার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে দেশে ফিরেই বেশকিছু বিষয়ে আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেন টাইগার ক্রিকেটার এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

তবে, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এসব ইস্যু নিয়ে ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সাকিব আল হাসান। সোমবার (১৬ নভেম্বর) নিজের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিও বার্তায় অনুতপ্ত সাকিব সকলের ক্ষমা চান।

ভিডিও বার্তায় সাকিব বলেন, ‘দেশে ফেরার সময় ইমিগ্রেশন এক ভক্ত সামাজিক দূরত নিশ্চিত না করেই ছবি তুলতে আসেন। আর যেহেতু করোনার জন্য জনসমাগম এড়িয়ে চলা বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে সেফ রেখে ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছিলাম, সে সময় তাকে দূরে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে হাত লেগে তার ফোনটি পড়ে যায়। ওই ভক্তের ফোনটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভাঙেননি বলেও দাবি করেন সাকিব।’

বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার আরও বলেন, ‘ভুলত্রুটি নিয়েই আমরা জীবনে চলাচল করি। আমার কোনও ভুল হয়ে থাকলে আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনাদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকলেও আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

কলকাতায় কালীপূজা উদ্বোধনের বিষয়ে সমালোচনার বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘আমি পূজার উদ্বোধন করিনি। সে প্রমাণ আপনারা সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাবেন। আর আমি সেখানে উপস্থিত হওয়ার আগেই পূজার উদ্বোধন হয়।’ আর পূজা মণ্ডপে উপস্থিত হওয়া প্রসঙ্গে সাকিব জানান, আমরা যেখানে ছিলাম সেটা মণ্ডপ ছিলোনা। মণ্ডপের পাশেই আরেকটি স্টেজ ছিলো সেখানেই আমরা উপস্থিত হই।’

আরও পড়ুন-  ফেসবুক লাইভে দা উঁচিয়ে সাকিবকে হত্যার হুমকি

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘আমি কলকাতার হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছি। সেখানকার মানুষ আমাকে অনেক পছন্দ করে। তাই উপস্থিত সকলের অনুরোধে আমি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করি।’

কোনও ধর্মকে ছোট করার বা কোনও ধর্মকে বড় করার কোনও উদ্দেশ্য ছিলোনা উল্লেখ করে সাকিব বলেন, ‘আমার হয়তো সেখানে উপস্থিত হওয়াই উচিত হয়নি। তবে, আমি অনাকাঙ্খিতভাবে আপনাদের কষ্ট দিয়ে থাকলে আমি অবশ্যই ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

ইসলামকে শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে সাকিব সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ ও ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান।

এর আগে, এক ভক্তের মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলা এবং কলকাতায় পূজা মণ্ডপে উপস্থিত হওয়া নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হন সাকিব আল হাসান।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ