Categories
বিনোদন ভিডিও সংবাদ

ঢাকাই চলচ্চিত্রের যত হাসির রাজা

চলচ্চিত্র হচ্ছে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম আর কৌতুক হচ্ছে চলচ্চিত্রের প্রাণরস। কৌতুক অভিনেতারা এই বিনোদন দেয়ার চেষ্টা করেন। ঢাকাই চলচ্চিত্রের সূচনালগ্ন থেকে কৌতুক অভিনেতারা দর্শকদের বিনোদিত করেছেন সুঅভিনয় দিয়ে।

ষাটের দশকে ‘১৩ নাম্বার ফেকু ওস্তাগার লেন’ ছবির মাধ্যমে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে বড় পর্দায় আসেন খান জয়নুল। নাচের পুতুল সিনেমায় বাবুগিরি করে বেড়ানো নায়িকার ছোট ভাই, ছন্দ হারিয়ে গেল-তে সেই অর্থকষ্টে থাকা অথচ প্রফুল্ল বন্ধু, অবুঝ মন’-এর কম্পাউন্ডার ইত্যাদি চরিত্রগুলোতে লাফালাফি-ঝাপাঝাপি না করে শুধু ভ্রু আর মুখের ভাঁজের অনবদ্য অভিনয় দিয়ে প্রচণ্ড হাস্যমুখর পরিবেশ তৈরি করতে পারার অসামান্য ক্ষমতা তার। বশীর হোসেন পরিচালিত ‘১৩ নাম্বার ফেকু ওস্তাগার লেন’ সিনেমার কাহিনিকার এবং সংলাপ রচয়িতা। ১৯৭৬ সালের ১৫ জানুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যান এ কৌতুক অভিনেতা।

বিশিষ্ট নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার, লেখক, অভিনেতা ও কৌতুক অভিনেতা আশীষ কুমার লৌহ। ১৯৫৫ সালে বিভিন্ন মঞ্চনাটকে অভিনয় ও কৌতুক প্রদর্শন করে প্রচুর খ্যাতি অর্জন করেন। এ সময় তিনি বেতার ও টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত অভিনয়শিল্পী হয়ে যান। শিল্পী হিসেবে তিনি বেতার ও টেলিভিশনে বিভিন্ন নাটকে অভিনয় এবং নাটক লেখা শুরু করেন। ষাটের দশকে টেলিভিশনে প্রথম ধারাবাহিক কৌতুক নাটক ‘হীরা-চুনি-পান্না’ নাটকে হীরার ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের মাঝে দারুণ সাড়া জাগিয়েছিলেন। ষাটের দশকেই তিনি চলচ্চিত্র জগতে অভিনয় শুরু করেন।

কৌতুক অভিনেতা সাইফুদ্দিন ১৯৫৬ সালে ঢাকার প্রথম সবাক বাংলা ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’ এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। ষাটের দশক থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত চলচ্চিত্রে নিয়মিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রায় ৪০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে মুখ ও মুখোশ, চাওয়া-পাওয়া, আঁকাবাঁকা, ময়নামতি, এতটুকু আশা, নীল আকাশের নিচে, জল ছবি, মধু মিলন, বধূ বিদায়, আরাধনা, সুন্দরী, শহর থেকে দূরে, শেষ উত্তর, বড় ভালো লোক ছিল, চন্দ্রনাথ, দহন ও বেদের মেয়ে জোসনা উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৯ সালে সুন্দরী ছবির জন্য সেরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৫৯ সালে ‘আকাশ আর মাটি’ ছবির মাধ্যমে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক প্রকৌশলী রবিউল আলমের। শতাধিক ছবিতে অভিনয় করা এ অভিনেতার অন্যতম গুণ ছিল তিনি কুলার মতো কান দুটোকে তালে তালে নাচাতে পারতেন। উল্লেখযোগ্য ছবি ছুটির ঘণ্টা, গুণ্ডা, আলোর মিছিল, চৌধুরী বাড়ী, নীল আকাশের নিচে প্রভৃতি। ১৯৮৭ সালে মারা যান রবিউল।

১৯৬০ সালে বিষকন্যা ছবিতে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন আনিস। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৬৩ সালে মুক্তি পায় আনিস অভিনীত প্রথম ছবি জিল্লুর রহমান পরিচালিত ‘এই তো জীবন’। তার পর থেকে তিনি অভিনয় করেই গেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তিনি অভিনয় করেছেন। নবাব সিরাজদ্দৌলা নাটকে গোলাম হোসেন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি মঞ্চে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। আড়াই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

টেলিসামাদ ১৯৬৬ সালে ‘কার বউ’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আগমন করেন। চার দশকে প্রায় ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। চারুকলা ও সংগীতেও রয়েছে এ গুণী অভিনেতার পারদর্শিতা। দিলদার আলী ও মনা পাগলা ছবির প্রযোজনা, সংগীত পরিচালনা ও প্লেব্যাক করেছেন তিনি। এ দুই ছবিতে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক নজর কাড়েন এ অভিনেতা। ২০১৫ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ ছবি মুক্তি পায় ‘জিরো ডিগ্রি’। গত শনিবার মারা যান এ জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা।

মঞ্চাভিনয় থেকে সত্তরের দশকে চলচ্চিত্রে আসেন তিনি। হাবা হাসমত নামে একটি ছবি পরিচালনা ও এতে মর্মস্পর্শী অভিনয় করে এ নামেই খ্যাতি পান তিনি। নতুন বউ,আলোর মিছিল, রংবাজ, অবুঝ মন এবং নীল আকাশের নিচে-সহ শতাধিক ছবিতে অভিনয় এবং ‘স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা, এখানে আকাশ নীল, হাসি-কান্না, নকল মানুষ, মধুমিতা শিরোনামের ছবিগুলো নির্মাণ করেন তিনি। ২০১৪ সালে না ফেরার দেশে চলে যান এ অভিনেতা।

দিলদার চলচ্চিত্রে আসেন ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কেন এমন হয় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। তিনি ২০০৩ সালে সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে ‘তুমি শুধু আমার’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০০১ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৫ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে আরও যারা দর্শক মাতিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- ব্ল্যাক আনোয়ার, আফজাল শরীফ, লালু ও মন্টু, ফরিদ আলী, আবদুল আজিজ, শেখর আহমেদ, কাজল, জ্যাকি আলমগীর, রতন, সুরুজ বাঙালি, গিট্টু আজিজ, চিকন আলী, ববি, বেবী জামান, মতি ও সোনা মিয়া।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিনোদন ভিডিও সংবাদ

বলিউডের ক্ষণজন্মা গ্লামার কুইন দিব্যা ভারতী

নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই সিনেমায় অভিনয় করার সুযোগ পান তিনি। সমসাময়িক এমনকি সিনিয়র নায়িকাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখেও সমানে পাল্লা দিয়েছেন। নিজের গ্লামার এবং অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দ্রুত উঠে এসেছেন জনপ্রিয়তার প্রথম সারিতে। কিন্তু রহস্যময় অকালমৃত্যু তাকে থামিয়ে না দিলে আরও অনেক আলোকবর্ষ পাড়ি দিত তার তারকা খ্যাতি।

বলছিলাম ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল, মুম্বাইয়ের ৫ তলা বিল্ডিংয়ের ব্যালকনি থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করা বলিউডের অন্যতম সুন্দরী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর কথা। যিনি ধুমকেতুর মতো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এসে পেয়েছিলেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। কিন্তু হারিয়ে গেছেন খুবই তাড়াতাড়ি। সেই রাতে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় ভারতীয় উদীয়মান নায়িকা দিব্যা ভারতীর। তখন দিব্যার বয়স মাত্র ১৯ বছর। হত্যা, আত্মহত্যা নাকি নেহায়েত দুর্ঘটনা কী ঘটেছিল সেই রাতে তা নিয়ে আজও রয়েছে অনেক বিতর্ক।

বলিউডে সুন্দরী অভিনেত্রীদের তালিকায় প্রথম সারিতেই উঠে আসে দিব্যা ভারতীর নাম। নব্বইয়ের দশকের অন্যতম সুন্দরী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিব্যার সৌন্দর্যের তুলনা করা হয়েছিল স্বয়ং শ্রীদেবীর সাথেও। লাগাতার দর্শকদের হিট ছবি উপহার দিয়ে গেছেন এই অভিনেত্রী।

দিব্যার জন্ম ১৯৭৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। বাবা ওমপ্রকাশ ভারতী ছিলেন জীবনবিমা কর্মী। মা মিতা গৃহিণী। ছোট ভাই কুণাল এবং সৎ বোন পুনমের সঙ্গে মুম্বাইয়ে বেড়ে ওঠা দিব্যার। ছোটবেলা থেকেই হিন্দি, মারাঠি আর ইংরেজি ভাষায় দক্ষ ছিলেন দিব্যা। পড়তেন মানেকজি কুপার হাই স্কুলে। তবে অভিনয়ে আসার পর আর পড়াশোনা করেননি তিনি। অভিনয় জগতে ভীষণ আগ্রহ ছিল ছোট থেকেই। অল্প বয়সেই হিন্দি গানের সাথে নাচে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। স্কুলের পড়া বাদ দিয়েই তিনি অনুশীলন করতেন অভিনয় আর নাচ।

স্কুলে পড়ার সময়ই তিনি বেশ কিছু বলিউড সিনেমার প্রস্তাব পান, তবে কম বয়সের কারণে এবং অভিনয়ে পরিপক্কতা না আসায় অডিশনেই বাদ পড়েন তিনি। এরপর ১৯৯০ সালে তেলেগু ছবির বিখ্যাত প্রযোজক ডি রামানাইড়ু ‘ববিলি রাজা’ সিনেমার জন্য নিজের ছেলের বিপরীতে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব দিলে তা লুফে নেন। ৯ম শ্রেণীতে পড়াকালীন দিব্যার প্রথম সিনেমা ‘ববিলি রাজা’ মুক্তি পায়। সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে আশাতীত সাফল্য পায় এবং দিব্যার হাসিমাখা পুতুল সদৃশ চেহারা সকলের নজর কাড়ে।

সেবছরই তামিল সিনেমা ‘নিলা পানি’ এবং ১৯৯১ সালে ‘না ইল্লে না সরগাম’, ‘রডি আলুডু’, ‘এসেম্বলি রোডি’, ‘ধর্ম ক্ষেত্রাম’ নামক ৪টি তেলেগু সিনেমায় কাজ করেন তিনি এবং প্রতিটি সিনেমাই বাণিজ্যিক সফলতা পায়। এরপর ১৯৯২ সালে সানি দেওলের বিপরীতে রাজিব রাই পরিচালিত ‘বিশ্বাত্মা‘ ছবির প্রস্তাব পান তিনি। মুক্তির পর সিনেমাটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে, বিশেষ করে সিনেমাটির প্রতিটি গানই জনপ্রিয়তা লাভ করে। ‘সাত সামুন্দর’ গানের সুর ও কথায় বাংলাদেশেও তৈরি হয় ‘নীল সাগর পার হয়ে’ গানটি, যার চিত্রায়নে সালমান শাহ ও সোনিয়াকে দেখা যায়। ‘বিশ্বাত্মা’ সিনেমাটিতে অভিনয়ের প্রশংসা প্রাপ্তির সাথে সুন্দর চেহারার নায়িকা হিসেবেও বেশ আলোচিত হন তিনি। বিভিন্ন ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদেও জায়গা করে নেয় দিব্যার ছবি।

পরবর্তী বছর মুক্তি পায় ‘দিল কা ক্যায়া কাসুর’, সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে সফল না হলেও অভিনয়ের জন্য দিব্যা বেশ প্রশংসিত হন। ১৯৯২ সালে মুক্তি পায় ডেভিড ধাওয়ানের ‘শোলা অউর শবনম’, এ সিনেমাটিতে গোবিন্দের বিপরীতে দেখা যায় দিব্যাকে। ছবির এক দৃশ্যে সাঁতারের পোশাকে আবির্ভূত হয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে দিব্যা। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত হয় ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দিওয়ানা’ সিনেমাটি। নবাগত শাহরুখ খানের বিপরীতে দিব্যার অনবদ্য অভিনয় আর ছবির গানগুলো বিশেষ করে ‘তেরা নাম রাখ দিয়া’ গানের জনপ্রিয়তায় বর্ষসেরা সিনেমার তকমা পায় ‘দিওয়ানা’। সেই বছরেই ফিল্মফেয়ার উৎসবে দিব্যা ও শাহরুখ দুজনেই ‘লাক্স ফেইস অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার অর্জন করেন।

এরই মধ্যে দিব্যার সাথে পরিচয় হয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সাথে। অভিনেতা গোবিন্দের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার সুবাদে ‘শোলা আউর শবনম’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন বেশ কয়েকবার দেখা হয় তাদের। সেখান থেকেই আলাপ এবং সম্পর্ক গড়ায় ভালবাসায়। ১৯৯২ সালের ১০ মে ইসলামী রীতিতে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পূর্বেই দিব্যা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তার নতুন নাম হয় সানা নাদিয়াদওয়ালা।

পুলিশের তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ অনুযায়ী- মুম্বাইয়ের ভারসোভায় পাঁচতলা ভবন তুলসীতে উপস্থিত ছিলেন- দিব্যার পোশাক ডিজাইনার ও বান্ধবী নিতা লুলা, তার স্বামী ড. শ্যাম লুলা ও বাসার পরিচারিকা অমৃতা। পরদিন ভোরে আউট ডোর শুটিং থাকায় নিতা নুলাকে বাসায় ডেকে পাঠান তিনি। তবে দিব্যার স্বামী সেদিন বাসায় ছিলেন না। লিভিং রুমে দুই অতিথির সাথে গল্প করছিলেন আর পরিচারিকা তাদের খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত ছিলেন।

নিতার ভাষ্যানুযায়ী, তখন প্রায় রাত ১১:৪৫ মিনিট, দিব্যা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। বাড়ির সব জানলায় গ্রিল থাকলেও লিভিং রুমের লাগোয়া জানালাটিতে কোনো গ্রিল ছিল না। দিব্যা অমৃতার সাথে কিছুটা উচ্চস্বরে কথা বলতে বলতে জানালার পাশে গেলে হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে যান। গাড়ি পার্কিংয়ের মাটিতে আছড়ে পড়ে তার দেহ। মুম্বাইয়ের কুপার হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বলিউডের আকাশে ক্ষণস্থায়ী উজ্জ্বল এই নক্ষত্র মাত্র ১৯ বছর বয়সেই অর্জন করে গেছেন নাম, খ্যাতি আর ভক্তদের অপরিসীম ভালবাসা। আর এই ভালবাসাই সদা হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণোচ্ছল, মায়াবী চেহারার দিব্যা ভারতীকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে সকলের মাঝে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

বিয়ের অদ্ভুত যতো নিয়ম!

যে কোনো দেশ, সংস্কৃতি ও ধর্মে বিয়ে খুবই পবিত্র একটি বন্ধন। সুন্দরভাবে প্রত্যেকের সেজে আসা, অনুষ্ঠানে জাকজমকপূর্ণ আবহ, কন্যা সম্প্রদান এবং রকমারি খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু পৃথিবীতে এমন কিছু বিয়ের নিয়ম প্রচলিত আছে যা জানলে অবাক হতেই হয়। চলুন জেনে আসি কয়েকটি বিয়ের অদ্ভুত নিয়ম।

সুইডেনের বিয়ের রীতিটা বেশ অদ্ভুত। বর যদি বাথরুমে যাওয়ার জন্য বিয়ের টেবিল থেকে উঠে যায় তবে উপস্থিত পুরুষ মেহমানরা এসে নববধূকে কিস করার সুযোগ পায়। তেমনিভাবে নববধূ যদি বাথরুমে যায় তবে উপস্থিত নারীরা এসে বরকে কিস করে যায়।

ক্রাইং রিচুয়াল: চীনের তুজিয়া নামক একটি সম্প্রদায় বিয়ের প্রায় ৩০ দিন আগে থেকে কনে কান্নাকাটি করে বিয়ের প্রস্তুতি নেয়। কনে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কান্নাকাটি করে। এভাবে টানা ১০ দিন কান্নাকাটির পর সঙ্গে তার মা-ও যোগ দেয় এবং তার দশ দিন পর নানিও যোগ দেয়। এভাবে বিয়ের আগ পর্যন্ত পরিবারের সব নারী সদস্যরা যোগ দেন। তারা একসঙ্গে সুর করে কান্না করে, যে কোনো মানুষ শুনলে বুঝবে তারা হয়তো গান গাইছে।

পশুর সাথে বিয়ে: ভারতে নারী-পুরুষের সঙ্গে পশুর বিয়ে দেয়া যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। যাদের মঙ্গলিক দোষ রয়েছে, তাদের সঙ্গেই বিয়ে দেয়া হয়। তারা মনে করে প্রথম বিয়ে পশুর সঙ্গে হলে তাদের মঙ্গলিক দোষ কেটে যাবে। এবং পরবর্তিতে তাদের দ্বিতীয় বিয়ে মানুষের সঙ্গেই হয়।

বর কনের গায়ে ময়লা ঢেলে দেয়া: স্কটল্যান্ডে বর এবং কনের গায়ে ময়লা ঢেলে দেয়া খুবই পুরোনো একটা রীতি। বিরক্তিকর এই সারপ্রাইজটি তাদেরকে বিয়ের কয়েকদিন আগেই দেয়া হয়। এবং তারা মনে করে এই রীতিটি বর ও কনের বিবাহ পরবর্তী জীবনে খারাপ আত্না থেকে রক্ষা করবে।

কনেকে কিডন্যাপ করা: এটি খুবই উন্মাদ প্রকৃতির একটি নিয়ম যেটি বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। এটি ব্রাইড কিডন্যাপিং নামেই বেশ পরিচিত। রাস্তায় চলাফেরা অবস্থায় পূর্বে ঠিক করা মেয়েটিকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে নির্দিষ্ট কক্ষে ততক্ষণ আটকে রাখা হয় যতক্ষণ না বরের পরিবার হতে কেউ এসে কনেকে স্কার্ফ পড়িয়ে বিবাহকার্য সম্পন্ন না করে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিনোদন ভিডিও সংবাদ

সিনেমার ‘নবাব’ আনোয়ার হোসেন

বাংলা সিনেমার নন্দিত অভিনেতার নাম আনোয়ার হোসেন। তাকে বলা হয় বাংলার মুকুটবিহীন নবাব। খান আতার ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ছবিটির নাম ভূমিকায় দাপুটে অভিনয় সুবাদে তিনি পরিণত হয়েছিলেন কিংবদন্তিতে। আর এ ছবির আগে ও পরে অসংখ্য ছবিতে নানামুখী চরিত্রে তার অভিনয় সমৃদ্ধ করেছে বাংলা চলচ্চিত্রকে।

নবাব সিরাজউদ্দৌলা হিসেবে খ্যাতি পাওয়া আনোয়ার হোসেন ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। আনোয়ার হোসেন ২০১০ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পান। ১৯৭৫ সালে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী অভিনেতা তিনি। নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘লাঠিয়াল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তাকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার দেয়া হয়। এরপর আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ছবিতে সহ-অভিনেতার পুরস্কার পান ১৯৭৮ সালে।

আনোয়ার হোসেন ১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুর জেলার সরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলজীবনে প্রথম অভিনয় করেন আসকার ইবনে সাইকের ‘পদক্ষেপ’ নাটকে। ১৯৫৭ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং নাসিমা খানমকে বিয়ে করেন।

অভিনয় জীবনের ৫১ বছরে পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। ২০০৭ সাল পর্যন্ত অভিনয় করেছেন আনোয়ার হোসেন। ১৯৫৮ সালে ‘তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমেই অভিনয়ের সূচনা। ১৯৬৪ সালের ১ মে তার অভিনীত ‘দুই দিগন্ত’ ছবি দিয়ে ঢাকার ‘বলাকা’ সিনেমা হলের উদ্বোধন হয়েছিল।

আনোয়ার হোসেন অভিনীত অন্যতম ছবিগুলোর মধ্যে মধ্যে রয়েছে- জহির রায়হান পরিচালিত ‘কাঁচের দেয়াল’ ও ‘জীবন থেকে নেয়া’, মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘তোমার আমার’ ও ‘সূর্যস্নান’, কাজী জহির পরিচালিত ‘বন্ধন’, খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, এম এ হামিদ পরিচালিত ‘অপরাজেয়’, সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, জহিরুল হক পরিচালিত ‘রংবাজ’, আলমগীর কবির পরিচালিত ‘ধীরে বহে মেঘনা’, নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘লাঠিয়াল’, আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
খেলার খবর ভিডিও সংবাদ

দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনে বাংলাদেশের সম্মতি

দুই বছর পর পর বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে তা এই অঞ্চলের ফুটবলের উন্নয়নে সাহায্য করবে বলে মনে করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে দুই বছর পর পর নারী ও পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পক্ষে ভোটও দেয় তারা।

বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার ফুটবল ফেডারেশন একটি যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ওই ১৬৬টি জাতীয় ফেডারেশনের সাথে আছে যারা দুই বছর পর পর বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পক্ষে ভোট দিয়েছে।

তবে বিশ্বকাপের চিরাচরিত কাঠামো, অর্থাৎ চার বছর পরপর টুর্নামেন্ট আয়োজনের বর্তমান কাঠামোতে পরিবর্তন আনার বিপক্ষে ইউরোপের ফুটবল খেলা দেশগুলোর পরিচালক সংস্থা উয়েফা এবং ওই মহাদেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলো।

যৌথ বিবৃতিতে এসব ফেডারেশন বলেছে যে, চার বছরে একটি বিশ্বকাপের আয়োজন একটি প্রতিভাবান প্রজন্মকে বঞ্চিত করছে। কারণ এর ফলে যথেষ্ঠ সুযোগ তারা পাচ্ছে না।

বিবৃতিতে এটা স্পষ্ট যে ফেডারেশনগুলো মূলত এশিয়ার ফুটবল দলগুলো যে বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না, সেদিকেই নজর দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের ১০০ বছর হতে চলছে। কিন্তু এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন্সের বর্তমান সদস্যদের চার ভাগের একভাগও বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান জানান, যে চারটি দেশের ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ফিফার কংগ্রেসে নেয়া প্রস্তাবনার পক্ষে সমর্থন জানানো হয়েছে। এশিয়া থেকে যদি আরো বেশি দল বিশ্বকাপে খেলতে পারে, তা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন তিনি।

কাতারে আগামী বছর ফুটবল বিশ্বকাপের যে আসর বসতে যাচ্ছে, তাতে এশিয়া থেকে চারটি দেশ সরাসরি খেলতে পারবে। আর মহাদেশীয় প্লে-অফ খেলে সুযোগ পেতে পারে আরো একটি দেশ।

দুই বছর পর পর যদি বিশ্বকাপ হয়, তাহলে বাছাইপর্বে অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে পারবে বাংলাদেশ। আগে বাংলাদেশ চার বছরে যে কয়টা ম্যাচ খেলতো, দুই বছরের মধ্যেই সেই সংখ্যক ম্যাচ খেলতে পারবে।

মূলত ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা দুই বছর পরপর বিশ্বকাপের টুর্নামেন্ট আয়োজনের চিন্তা করছে এবং বিভিন্ন অঙ্গসংস্থাকে এ বিষয়ে ভাবার তাগিদও দিচ্ছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, উয়েফা এবং ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো ফিফার এই প্রস্তাবনায় রাজি হবে না বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

শতাধিক বছর ধরে টানেলে নিখোঁজ রহস্যময় ভৌতিক ট্রেন

শতাধিক যাত্রী নিয়ে এক বিশাল ট্রেন চোখের পলকেই অদৃশ্য হয়ে যায়। অবাক করা বিষয় হলেও সত্যিই আজও খোঁজ মেলেনি সেই রহস্যময় ট্রেনটির। এমনকি ট্রেনে থাকা ১০০ জন যাত্রী ও ৬ জন রেলকর্মীও গায়েব হয়ে গিয়েছেন। নিখোঁজ এই ট্রেনের রহস্য আজও জানতে পারেনি কেউ।

১৯১১ সালেই প্রথমবারের মতো জাঁকজমকভাবে রোমের একটি স্টেশন একটি ট্রেন চালু করেন ইটালির জেনেটি নামক রেল সংস্থা। উদ্বোধনের দিন যাত্রীদের বিনা টিকিটে ঘোরানোর ব্যবস্থা করেছিল সংস্থাটি। ঘোষণা শুনে ট্রেনে ১০০ জন যাত্রী আসন গ্রহণ করেন। যাত্রীদের সঙ্গে মোট ৬ জন রেলকর্মী ছিলেন।

যাত্রীদের জন্য ট্রেনে বাহারি সব খাবারেরও ব্যবস্থা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল ট্রেনে করে যাত্রীদের ইতালির বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখানো। ট্রেনটিটে থাকা যাত্রীরা ভ্রমণ খুব উপভোগ করছিলেন। তবে সে ট্রেনটি আর গন্তব্যে পৌঁছায়নি, মাঝপথে রহস্যজনকভাবে বিশাল ট্রেনটি গায়েব হয়ে যায়! ট্রেনলাইনটি একটি টানেলের মধ্য দিয়ে ছিল। সেই টানেলে প্রবেশ করে ট্রেনটি। ঘন্টার পর ঘণ্টা পার হলেও ট্রেনের খোঁজ মেলেনি সেদিন। আজও ট্রেনটির কোনো খোঁজ মেলেনি।

ট্রেনটির সন্ধানে ওই সুড়ঙ্গে অনেকে গেলেও ট্রেনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পাহাড়ের বুক চিড়ে তৈরি হওয়া ওই সুড়ঙ্গের ভেতর বিকল্প কোনো রাস্তাও ছিল না। এমনকি ট্রেন দুর্ঘটনারও কোনো চিহ্ন মেলেনি। ট্রেনের মধ্যে মোট ১০৬ জন ছিলেন। পরে তাদের মধ্যে দু’জনের সন্ধান পাওয়া যায়। টানেলের বাইরে থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়। তবে তারা কোনো তথ্যই দিতে পারেননি ট্রেনের বিষয়ে। অগোছালো কথা বলছিলেন তারা। তারা জানান, সেদিন ট্রেনটি যখন টানেলে প্রবেশ করছিলো, তখন চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। প্রাণ বাঁচাতে তারা দু’জন ঝাঁপিয়ে পড়েন ট্রেন থেকে। এরপর আর তাদের কিছু মনে নেই।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বোমা পড়ে সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ট্রেনটির খোঁজও থেমে যায়। এর পর থেকে ওই ট্রেনকে ঘিরে এমন সব ঘটনা বা তথ্য সামনে আসতে থাকে, যা আরও রহস্যময়। মেক্সিকোর এক চিকিৎসক দাবি করেন, অনেক বছর আগে মেক্সিকোর একটি হাসপাতালে নাকি ওই ১০৪ জন যাত্রীকে ভর্তি করা হয়েছিল। তারা প্রত্যেকেই পাগলামি করছিলেন। তারা সবাই একটি ট্রেনের কথা বলছিলেন। সেই ট্রেনে করেই না কি তারা মেক্সিকোতে পৌঁছান।

বিজ্ঞানীরা অনেক অনুসন্ধান করেও পাননি ঘটনার কোনো যুক্তি বা সূত্র। এখনও বিশ্বজুড়ে এই ভৌতিক ট্রেনটি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে আধুনিকমনা অনেকেই বিশ্বাস করেন না ভূতুড়ে এই ঘটনাটি। এমনকি ইটালির বিভিন্ন প্রান্তে যেমন- জার্মানি, রোমানিয়া ও রাশিয়াতেও নাকি বিভিন্ন সময়ে অনেকেই ওই রকমই একটি যাত্রীবোঝাই ট্রেন দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা ট্রেনের যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, তা অদৃশ্য হওয়া ট্রেনটির মতোই। তখনকার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ট্রেনটি না কি ট্রাইম ট্রাভেল করে ১৯৪০ সালের মেক্সিকোয় পৌঁছে গিয়েছিল। তবে এসব ব্যাখ্যার কোনো প্রমাণ পায়নি বিজ্ঞানীরা। রহস্যময় এই ঘটনা আজও অজানাই থেকে গেলো বিশ্ববাসীর কাছে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

আদিমানুষ থেকে আধুনিক মানুষ

বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী জীব মানুষ। আধুনিক মানুষ হল হোমিনিনা উপজাতির। শিম্পাঞ্জি, গরিলা ও ওরাং ওটাংদের মত মানুষ বানর পরিবারের অন্তর্গত হোমিনিডি গোত্রের শাখা।

তাদের বৈশিষ্ট হল স্থির খাড়া অবস্থান এবং দ্বিপদী চলৎশক্তি, উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এবং ভারী সরঞ্জাম ব্যবহারে সক্ষমতা, যোগাযোগের ক্ষেত্রে জটিলতর ভাষার ব্যবহার, আকারে বৃহত্তর ও জটিল মস্তিষ্ক এবং খুবই উন্নত ও সংঘবদ্ধ প্রাণী।

প্রারম্ভিক হোমিনিন-বিশেষত অস্ট্রালোপিথেসিন, যাদের মস্তিষ্ক এবং শারীরিক গঠন অনেকটা আদিমানব বানরের মতো, যাদের হমো প্রজাতির হোমিনিন না বলে “মানব” বলা হয়। ইউরেশিয়ার অধিকাংশ স্থান তাদের দখলে ছিল এবং আফ্রিকাতে প্রায় ২০০,০০০ বছর পূর্বে আধুনিক হোমো স্যাপিয়েন্সরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছিল।

মানুষ ও অন্যান্য নর-বানরেরা অনেককাল আগে একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত হয়ে অন্যান্য শাখা থেকে অতীতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে বিদ্যমান শিম্পাঞ্জি ও গরিলা থেকে আলাদা বংশানুক্রম তৈরি করেছে। সে হিসেবে মানুষ আধুনিক নরবানরগুলোর সাথে সম্পর্কযুক্ত হলেও সরাসরি উত্তরসূরী নয়।

১.৪ কোটি বছর আগে ওরাং ওটাং প্রজাতির উদ্ভব ঘটে। পূর্বপুরুষের বাকি জনপুঞ্জ নতুন প্রজাতি ওরাং ওটাং এর থেকে প্রজননগতভাবে আলাদা হয়ে যায় এবং তার ফলে এই দুই প্রজাতির বিবর্তন ঘটে। আবার প্রায় ৯০ লক্ষ বছর আগে সেই মুল প্রজাতির জনপুঞ্জ থেকে আরেকটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং পরবর্তিতে ভিন্ন ধারায় বিবর্তিত হয়ে গরিলা প্রজাতির উৎপত্তি ঘটায়।

৬০ লাখ বছর আগে সাধারণ পুর্বপুরুষের অংশটি থেকে ভাগ হয়ে মানুষ এবং শিম্পাঞ্জির বিবর্তন ঘটে। তারপর এই দুটো প্রজাতি প্রজননগতভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন থেকেই মানুষের প্রজাতির বিবর্তন ঘটতে শুরু করে, আর ওদিকে আলাদা হয়ে যাওয়া শিম্পাঞ্জির সেই প্রজাতিটি ভিন্ন গতিতে বিবর্তিত হতে হতে আজকের শিম্পাঞ্জিতে এসে পৌঁছেছে।

গরিলা, শিম্পাঞ্জী এবং হোমিনিন বংশের মধ্যে পার্থক্যের সামান্য পরিমাণ জীবাশ্ম প্রমাণ রয়েছে। হোমিনিন বংশের সদস্য হিসাবে প্রস্তাবিত প্রাচীন জীবাশ্মগুলি ছিল স্যালেনথ্রোপাস টিচডেনেসিস, অর্রোরিন টিউগেনেসিস এবং আর্দিপীথেকাস কাদাব্বা।

প্রতিটি প্রজাতির হোমিনিনদের দ্বিপদী পূর্বপুরুষদের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এই তিনটি শাখার যেকোনো একটি আফ্রিকান এপস এর অন্য শাখার পূর্বপুরুষ, অথবা একটি পূর্বপুরুষ হোমিনিন এবং অন্যান্য আফ্রিকান হোমোনয়েডিয়ার সাথে ভাগ করে নিয়েছে ।

প্রথম হোমোনিনা ছিল হোমো ইরেক্টাস যারা আফ্রিকা ছেড়ে ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। এইচ.ইরেক্টাসের একটি জনগোষ্ঠীকে কখনও কখনও একটি পৃথক প্রজাতি হোমো এরগ্যাস্টার হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করে যারা আফ্রিকায় থাকত এবং পরে হোমো স্যাপিয়েন্সে পরিণত হয়েছিল। তারাই প্রথম অগ্নি এবং জটিল সরঞ্জাম ব্যবহার করত।

হোমো ইরেক্টাস এবং আর্কাইক মানুষেরা যেমন হোমো রোডেসিয়েন্সিস আফ্রিকা থেকে এসেছিল, কিন্তু জর্জিয়ার দুমানসিতে তাদের transitional ফর্মগুলি পাওয়া গিয়েছিল। আফ্রিকান হোমো ইরেক্টাস এর বংশধররা ৫০০,০০০ বৎসর আগে ইউরেশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল পরে তারা পর্যায়ক্রমে হোমো এন্টিসেসর, হোমো হাইডেলবার্গেনসিস এবং হোমো নিয়ানডার্টালেনসিস এ বিবর্তিত হয়েছে।

ফিলিস্তিন এবং দক্ষিণ ইউরোপ থেকে আর্কাইক হোমো স্যাপিয়েন্সের জীবাশ্ম পাওয়া যায় তা প্রায় ৯০,০০০ বছর আগের ছিল। ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী আধুনিক মানুষ প্রায় ২ লাখ বছর আগে আফ্রিকা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল বতসোয়ানা।

প্রাইমেটকে বানরের শব্দার্থ হিসেবে বিবেচনা করলে, স্বীকার করতেই হবে, মানুষও একধরনের প্রাইমেট বা বানর জাতীয় প্রাণী ছাড়া কিছু নয়। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত দু’শরও বেশি প্রাইমেটদের সন্ধান পেয়েছেন। মানুষকে প্রাইমেট বর্গের মধ্যে হোমিনিডি অধিগোত্রের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে, মাঙ্কি একটি প্যারাফাইলেটিক গ্রুপ।

মানুষের বুদ্ধির উন্নতি মানুষের জটিল ভাষা ব্যবহার করার ক্ষমতার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। তাই এরা আজ আধুনিক সভ্যতা আবিষ্কার করতে পেরেছে। চার পায়ের বদলে দুই পায়ে চলতে শুরু করার সাথে সাথে মানব শরীরে ধীরে ধীরে নানা পরিবর্তন আসে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিনোদন ভিডিও সংবাদ

পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী নাসরিন

ফখরুল হাসান বৈরাগী পরিচালিত ‘অগ্নিপথ’ ছবির মধ্য দিয়ে ১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্রে যাত্রা করেন অভিনেত্রী নাসরিন আক্তার। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘লাভ’ তার দ্বিতীয় ছবি। নৃত্য সহশিল্পী হিসেবে যাত্রাটা শুরু হলেও দেশের প্রথম সারির অনেক নায়কের বিপরীতেও অভিনয় করেছেন তিনি। কৌতুক অভিনেতা দিলদারের নায়িকা হিসেবে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এখন তাকে সিনেমা অঙ্গনে খুব একটা দেখা যায় না। মোস্তাফিজুর রহমান মানিক ভাইয়ের পরিচালনায় ‘আনন্দ অশ্রু’ সিনেমার কাজ শেষ হলেই বেকার। অথচ একটা সময় ছিল সিডিউল দেয়া নিয়েই আতঙ্কে থাকতেন তিনি।

নাসরিনের দাবি, এফডিসির সিনিয়র পরিচালকরা সিনেমায় অনিয়মিত হওয়ার কারণেই তার মতো সিনিয়র শিল্পীরাও কাজ পাচ্ছেন না। এখন নতুন পরিচালকদের সময় যাচ্ছে।

পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী নাসরিন আক্তার নার্গিস বাংলা চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন। পুরো নাম নাসরিন আক্তার নার্গিস হলেও চলচ্চিত্র অঙ্গনে শুধু নাসরিন নামেই অধিক পরিচিত।

নাসরিনের দুই সন্তানদের মধ্যে মেয়ে কামরুন্নাহার আফরিনের বয়স ছয় বছর। পড়ে ক্লাস ওয়ানে। আর ছেলে গোলাম মোরশেদ রিদয় বয়স চার বছর।

রুপালি পর্দায় কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদের সঙ্গে জুটি হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। তবে দিলদারের জুটি হিসেবে নাসরিনের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। তাকে দেখা গেছে আফজাল শরীফ ও কাবিলার সঙ্গেও।

নব্বই দশকের প্রায় সব ছবিতেই দেখা মিলতো তার। নানা রকম চরিত্রে হাস্য রসাত্মক দৃশ্য নিয়ে হাজির হতেন তিনি। ঢাকাই সিনেমার দর্শকদের কাছে প্রিয় এক নাম নাসরিন।

চলচ্চিত্রের সোনালী দিন দেখেছেন। বহু সুপারহিট ও কালজয়ী সিনেমার অংশ তিনি। নব্বই দশকে নায়ক-নায়িকারা যতোটা জনপ্রিয় ছিলেন তার চেয়ে কম পরিচিত ছিলেন না চলচ্চিত্র অভিনেত্রী নাসরিন।

শাবনূর-মৌসুমীদেরও আগে সিনেমায় যাত্রা শুরু তার। এসেছিল নায়িকা হওয়ারও প্রস্তাব। তবে সে ভাগ্য আর হয়নি তার। ‘দিলদারের নায়িকা’ হিসেবেই জনপ্রিয় থেকে গেলেন নাসরিন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
জাতীয় ভিডিও সংবাদ

বায়ান্নো বাজার তেপ্পান্নো গলি

পুরান ঢাকা বাঙালির এক অতুলনীয় ঐতিহ্য। বলতেই হবে বাঙালির শেকড়টা কিন্তু সেই পুরান ঢাকাতেই। ‘ঢাকা’ নামের যেমন চমকপ্রদ তত্ত্ব আছে, ঢাকা অথবা তৎকালীন ঢাকা গড়ে ওঠা এলাকাগুলোর নামও বেশ ভারি চমৎকার। এলাকার নামগুলো জানলেই, ইতিহাসের প্রাথমিক অধ্যায় জেনে যাওয়া যায়।

একসময় ঢাকা শহরকে বলা হতো ‌‘বায়ান্নো বাজার তেপ্পান্নো গলি’। সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে গলি ও বাজারের সংখ্যা। তাই এইসব এলাকার ইতিবৃত্ত খুঁজে বের করা কৌতূহলোদ্দীপক ও রোমাঞ্চকর একটা ব্যাপার।

প্রচুর গলি, বাজার থাকায় এর নামকরণ করেছিলো হয়তো কেউ। শুধু বাজার নয়, এখানে আছে অনেকগুলো ‘পুর’, ‘গঞ্জ’, ‘তলা’, ‘তলী’ এবং বাহারি নামের এলাকা। এলাকার নামকরণের পেছনে লুকিয়ে আছে একটির চেয়ে একটি রোমাঞ্চকর ঘটনা। ৪০০ বছরের ইতিহাসে পুরান ঢাকার রাস্তাগুলো যেন একেকটা গল্প।

একেকটি রাস্তা তার নিজের পরিচয় দেয় নামে, স্থাপত্যে, প্রকৃতি-পরিবেশে। প্রত্যেকটি এলাকার নামের সাথে জড়িয়ে আছে অজানা অনেক স্মৃতি। তাদের নিজস্ব কিছু বলার যেমন আছে; আছে অস্তিত্বও। চলুন দেখে আসি এলাকাগুলোর গোড়াপত্তনের কাহিনী।

১. ইস্কাটন:- ইস্কাটন শব্দটি “স্কটল্যান্ড” এর একটি বিকৃত সংস্করণ। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময়কালে একটি গির্জা কিছু স্কটিশ প্রচারক দ্বারা সেখানে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই নামের উৎপত্তি সেখান থেকেই।

২. ওয়ারী:- ১৮৮৪ সালে, ঢাকা নগরীর ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন ওয়্যার নামের এক ব্যক্তি। তার নামানুসারেই তখনকার ঢাকার উপকণ্ঠ এলাকাটি পরিচিত হয়েছিলো ওয়ারী নামে। ঢাকাইয়্যাদের কাছে ওয়ারীই পুরান ঢাকার রাজধানী। সেসময় ওয়ারী খুবই পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছিল। তাই এর রাস্তাগুলো সুন্দর, পরিষ্কার এবং প্রশস্ত।

৩. গেন্ডারিয়া:- ঢাকার জৌলুশ পৃথিবীর সবাইকেই আকর্ষন করতো। এক ইংরেজ পর্যটক ঘোড়ায় চড়ে ঢাকার আসেন। বর্তমানে গেন্ডারিয়া এলাকায় গিয়ে বলে ওঠেন, ‘হোয়াট অ্যা গ্রান্ড এরিয়া!’। সেই থেকে এলাকাবাসী এই আবাসিক এলাকার নাম দেন ‘গেন্ডারিয়া’।

৪. বেচারাম দেউরী:- বেচারামের নামটি তালিকাভুক্ত করা হয় ১৭৯০ সালে। তিনি কী করতেন, এ সম্পর্কে ঠিক জানা যায় নি। তবে ধারণা করা হয়, তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ছিলেন, নয়তো একজন পিতল কর্মী ছিলেন। এখানে বেশ কিছু নান্দনিক জমিদার বাড়ি এবং পুরনো স্থাপত্য আছে, এজন্য এলাকাটিতে প্রচুর পর্যটক দেখা যায়।

৫. সেগুনবাগিচা:- একসময় ঢাকা নগরে রাশি রাশি গাছ ছিল। এইসব গাছের মধ্যে প্রচুর সেগুন গাছও ছিলো। আজকের সেগুন বাগিচা যে এলাকাটি। সেখানে ছিল হাজারো সেগুনগাছ। তাই এলাকাটির নাম হয়ে যায় সেগুনবাগিচা বা সেগুন বাগান।

পুরাণ ঢাকার অলিগলির দোকানে চোখে পড়বে বিভিন্ন সব স্বাদের খাবার। পুরাণ ঢাকার বিখ্যাত সব খাবারের মধ্যে “হাজী বিরিয়ানি” বেচারাম দেউরী “নান্না বিরিয়ানী” উল্লেখ। মুঘল আমল থেকেই সুনাম কুড়িয়েছে পুরান ঢাকার ঘি ও সরিষার তেলে তৈরি বিরিয়ানি। গ্রিল কয়েকবছর ধরে জনপ্রিয় হলেও কাবাব সেই পুরাণ ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার।

মোঘলদের পত্তনের পর ব্রিটিশ লর্ডেরা পুরান ঢাকার বেশকিছু সংস্কার করায় ব্রিটিশ শাসনকাল পর্যন্ত এই শহরের শ্রী কিছুটা বিদ্যমান ছিলো। কিন্তু আধুনিকায়নের যাতাকলে পিস্ট হয়ে সেই প্রাচীন অভিজাত এবং ছিমছাম ঢাকা শহর অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে তার পূর্বের প্রাচীন সৌন্দর্য।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিনোদন ভিডিও সংবাদ

বাংলা চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনেতা দিলদার

একজন কৌতুক অভিনেতা শুধু মানুষকে হাসায় না, কাঁদায়ও। তার অভিব্যক্তি দর্শকদের মনকে নাড়িয়ে তোলে। সেই রকম একটি চরিত্র মানুষের মনে আজও গেঁথে আছে। তার নাম দিলদার। অনেক ছবির নায়ক-নায়িকার চেয়েও শক্তিশালী ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন তিনি।

ঢাকাই চলচ্চিত্রে দিলদার মানেই দম ফাটানো হাসি! বাংলাদেশে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে এক চেটিয়া বাংলা সিনেমায় দাপুটে অভিনয় করে গেছেন। আশি-নব্বই দশকে বাংলা চলচ্চিত্র জগত একপাক্ষিক ছিলো না। কাহিনী নির্ভর ছবি তৈরি হতো। নায়ক নায়িকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা থাকলেও খলনায়ক আর সঙ্গে জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতার ভূমিকা ছিলো তুলনাহীন। বিভিন্ন ভূমিকার কারণে চলচ্চিত্রগুলো থাকতো মানুষের মণিকোঠায়। এমনই একটি নাম দিলদার।

পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই দম ফাটানো হাসির রোল। দর্শক পর্দায় তার অঙ্গভঙ্গি দেখে হেসে গড়াগড়ি খেতো। মুহূর্তে কাঁদিয়েও ফেলতে পারতেন এই জাত অভিনেতা। চরিত্রের এই বৈচিত্রময়তাও প্রবল ছিল এই গুণী অভিনেতার মধ্যে।

দিলদার চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন ১৯৭২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কেন এমন হয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর থেকে অসংখ্য সিনেমায় তার উপস্থিতি ঘটেছে। বিশেষ করে আশি ও নব্বইযের দশকের বাংলা সিনেমায় কৌতুক অভিনেতা মানেই দিলদার। অঘোষিতভাবে তিনি বাংলা কমেডির রাজপুত্র বনে গেয়েছিলেন।

কৌতুক অভিনেতা হিসেবে দিলদার জনপ্রিয়তার এমন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছিলেন যে, তাকে নায়ক করে ‘আব্দুল্লাহ’ নামে একটি ছবিও নির্মাণ করা হয়। ওই ছবিতে একজন লোক হাসানো মানুষের খোলস ছেড়ে তিনি হাজির হয়েছিলেন অন্যরূপে। ছবিতে দর্শক তার অভিনয় দেখে যেমন মুগ্ধ হয়েছেন, তেমনি চরিত্রের বৈচিত্রও দেখিয়েছেন অভিনেতা দিলদার।

দিলদারের উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘কন্যাদান’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘শান্ত কেন মাস্তান’, ‘প্রিয়জন’, ‘বিচার হবে’ এবং ‘বীরপুরুষ’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘তুমি শুধু আমার’ নামের একটি চলচ্চিত্রের জন্য ২০০৩ সালে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি।

বিষন্ন মনকে কিছুটা ভালো রাখতে আশ্রয় নিতে হয় বিনোদনের। সেই বিনোদনগুলোর মধ্যে চলচ্চিত্র একটি উত্তম মাধ্যম। কেননা মনের মত একটি চলচ্চিত্রই পারে মনে প্রশান্তির ছোঁয়া দিতে। যা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দিয়ে গেছেন অভিনেতা দিলদার। বাংলা চলচ্চিত্রে কমেডিয়ান আর দিলদার যেন একে অপরের পরিপুরোক হয়ে উঠেছিলো।

১৯৪৫ সালে চাঁদপুরে জন্ম নেয়া এই গুণী অভিনেতা ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই মাত্র ৫৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন। সেই শুন্যতা আজও পূরণ হয়নি।

ভয়েসটিভি/এএস