Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

যে দেশের জনসংখ্যা মাত্র ৫০ জন!

ভ্যাটিকান সিটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ। ইউরোপ মহাদেশের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র ইতালীর রাজধানী রোমের পাশেই অবস্থিত বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটি।

পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে আমরা এতো দিন জেনে আসছি ইউরোপের দেশ ভ্যাটিকেন সিটির কথাই । কিন্তু এর চেয়েও ছোট দেশ রয়েছে তা আপনি জানেন ? হ্যা, ভ্যাটিকান সিটির চেয়েও ছোট দেশে রয়েছে । দেশটির বাসিন্দা মাত্র ৫০ জন। দেশটির নিজস্ব পতাকা, পাসপোর্ট, মুদ্রা সবই আছে।

ভ্যাটিকানের আয়তন ১১০ একর। ভ্যাটিকান সিটির জনসংখ্যা প্রায় ৯২০ জন। রোমান ক্যাথলিক গির্জার বিশ্ব সদর দফতর হিসেবে কাজ করে। উত্তর-পশ্চিম রোমের ভ্যাটিকান পাহাড়ের উপর একটি ত্রিভুজাকৃতি এলাকায়, তিবের নদীর ঠিক পশ্চিমে, ভ্যাটিকান শহর অবস্থিত।

১৯২৯ সালের দিকে ইতালির ফ্যাসিবাদী সরকার প্রধান বিনেটো মুসোলিনির সময়ে পিটরো গ্যাসপারি নামক একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুসোলিনির অনুমতি সাপেক্ষে ভ্যাটিকান সিটি প্রতিষ্ঠা করেন। রহস্যঘেরা এ ছোট্ট দেশটিকে নিয়ে লোকমুখে নানা কথা প্রচলিত আছে।

এদিকে উত্তর মহাসাগরে ব্রিটেনের জলসীমায় সাফোক উপকূলে অবস্থিত পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম এই দেশের নাম প্রিন্সিপ্যালিটি অব সিল্যান্ড। দেশের রাজধানী নাম এইচএম ফোর্ট রাফস। মুদ্রার নাম সিল্যান্ড ডলার। ০.২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ দেশ নিয়েই জানুন আরো কিছু তথ্য ।

তবে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ‘দেশ ‘প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভার। অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের মধ্যেই অবস্থান। এ দেশের নিজস্ব মুদ্রা, পাসপোর্ট, ভিসা সবই রয়েছে। তবে প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভার নিজেকে দেশ ঘোষণা করলেও অস্ট্রেলিয়ার বাকি দেশগুলো কিন্তু একে দেশ হিসাবে মানতে নারাজ। মাত্র ২৬ জনসংখ্যা নিয়ে নামমাত্র জায়গা জুড়ে দেশ ঘোষণার পিছনে কী সুবিধা থাকতে পারে প্রিন্সিপ্যালিটি অব হাট রিভারের?

সিল্যান্ড এর এই অবকাঠামো ২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময় বৃটিশরা তৈরি করেছিলো। জার্মানরা যেকোনো সময় ইংল্যান্ডে আক্রমণ করতে পারে সেই ভয়ে ইংল্যান্ড সেনারা সমুদ্র উপকূলে এমন অনেক দূর্ঘ তৈরি করে। এসব দূর্ঘের মাধ্যমে শএু জাহাজের উপর নজরদারি করা হতো। প্রয়োজনে জাহাজে আক্রমণের ব্যবস্থাও ছিল। ২য় বিশ্ব যুদ্ধ শেষ হবার পর ইংল্যান্ড সেনারা কিছু দূর্ঘ নিজেরাই বোমা মেরে ধংস করে ফেলে।

পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর সাবেক বৃটিশ সেনা কর্মকর্তা মেজর প্যাডি রায় বেটস এবং তার পরিবার এই জায়গাটি দখল করে। তারপর তারা এটিকে একটি স্বাধীন মাইক্রোরাষ্ট্র হিসেবে ঘোষনা দেয়। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র সিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও কেউ এর বিরোধিতাও করেনি।

সিল্যান্ড দেশটির মোট জনসংখ্যা মাএ ২৭ জন। অতীতে জার্মান দূরবিত্তরা সিল্যান্ড আক্রমণ করে দেশটির রাজপুত্রকে অপহরণ করেছিলো। তারপর থেকে এখানে নিরাপত্তা রক্ষী নিযুক্ত করা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে যদিও এই অবকাঠামোটিকে ২৭ জনের বসবাসের উপযোগী বলে মনে হয় না কিন্তু, এর ভিতরে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সিল্যান্ডের দুটি কংক্রিটের ভিতরেও আছে অসংখ্য ঘর। অতীতে এসব ঘরে বৃটিশ সৈন্যরা অবস্থান করতো।

দেশের ভিতরে রয়েছে পানি ও জলের ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রয়েছে জেনারেটর। পর্যটকরা চাইলেই দেশটিতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারে না।

সিল্যান্ড পৃথিবীর যে জায়গায় অবস্থিত তার ঠিক বিপরীত পাশে আমেরিকার বিশ্ব বিখ্যাত স্টাচু অব লিবাটি অবস্থিত।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিনোদন ভিডিও সংবাদ

শোবিজের রঙিন দুনিয়া ছেড়ে ইসলামের পথে লাক্স তারকা আমব্রিন

এক সময়ের জনপ্রিয় মডেল, অভিনেত্রী ও উপস্থাপিকা আমব্রিনা সার্জিন আমব্রিন। তিনি মূলত বিপিএল উপস্থাপনা করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছেন। সেই অ্যামব্রিনা এখন শোবিজ ছেড়ে ইসলামের সকল বিধি বিধান মেনে চলছেন। তার অনুরাগীদেরও ইসলামের পথে আসার পরামর্শ দেন। হঠাৎ তার এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে মেয়ের অসুস্থতা। তখন তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন মেয়ে সুস্থ হলেই শোবিজ ছেড়ে ইসলামের পথে জীবন ধারণ করবেন।

এই লাক্স তারকা বিয়ের পর কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। নাটক, বিজ্ঞাপন আর উপস্থাপনায় সবার নজর কাড়লেও ২০১৮ সালে কন্যা সন্তানের মা হওয়ার পরই তার জীবনে আসে পরিবর্তন। ধীরে ধীরে শোবিজ থেকে দূরে সরে যান তিনি।

আমব্রিনের মেয়ের নাম আমায়া। অসুস্থ মেয়ে সুস্থ হওয়ার পর প্রতিজ্ঞা মতো তিনি শোবিজ ছেড়ে দেন। বর্তমানে ধর্মকর্মের দিকে মন দিয়েছেন। প্রায়ই ধার্মিক চিন্তা ভাবনা ও দর্শন নিয়ে হাজির হন তিনি ফেসবুকে।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে মানুষের রিজিক নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন যা তার ভক্ত-অনুরাগীদের বেশ মনে ধরেছে। তিনি লিখেছেন, আমি পুরো জীবনে কত টাকা আয় করবো সেটা লিখিত, কে আমার জীবনসঙ্গী হবে সেটা লিখিত, কবে কোথায় মারা যাবো সেটাও লিখিত। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, আমি কতগুলো দানা ভাত দুনিয়াতে খেয়ে, তারপর মারা যাবো সেটাও লিখিত। একটি দানাও কম না – আবার একটি দানা বেশিও না।

ধরেন এটা লিখিত যে- আমি সারাজীবনে ১ কোটি টাকা আয় করবো, এই সিদ্ধান্ত আল্লাহ তায়ালা নিয়েছেন। আমি হালাল উপায়ে আয় করবো, না হারাম উপায়ে আয় করবো – সেই সিদ্ধান্ত কিন্তু আমার। যদি ধৈর্য ধারণ করি, আল্লাহ তায়ালার কাছে চাই তাহলে হালাল উপায়েই ঐ ১ কোটিই (কমও না বেশিও না)।

আমি যে ফলটি আজকে বার্সেলোনায় বসে খাচ্ছি, সেটা হয়তো মরোক্কো, ইতালি, কিংবা ইংল্যান্ড বা অন্য কোনো দেশ থেকে ইমপোর্ট করা। ওই গাছে যখন মুকুল হয়েছে, তখনই এটা নির্ধারিত যে, সেটি আপনার কাছে পৌঁছাবে। এর মধ্যে কতো পাখি ওই ফলের উপর বসেছে, কত মানুষ ওই এই ফলটি পাডতে গেছে, কত মানুষ পছন্দ হয়নি বলে – কিনেনি।

যতক্ষণ না আমি কিনতে যাচ্ছি ততোক্ষণ সেটা ওখানেই থাকবে। এর মধ্যে আমি মারা যেতে পারতাম, অন্য কোথাও চলে যেতে পারতাম, কিন্তু না। রিজিকে যেহেতু লিখিত – আমি এই ফলটি না খেয়ে মারা যাবো না। রিজিক জিনিসটা এতটাই শক্তিশালী।

কিংবা যেই আত্মীয় অথবা বন্ধু -বান্ধব আমার বাসায় আসছে, সে আসলে আমার খাবার খাচ্ছে না। এটা তারই রিজিক। শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালা আমার মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। হতে পারে এর মধ্যে আমাদের জন্য মঙ্গল রয়েছে। আলহামদুল্লিলাহ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক পথ ও রিজিকের তৌফিক দান করুন,আমিন।’

২০০৭ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজের রঙিন দুনিয়ায় পা রাখেন আমব্রিন। প্রথমে মডেলিং, অভিনয় দিয়ে বেশ পরিচিতি পান। পরে ক্রিকেটে উপস্থাপনা করে বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলে দেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে (বিপিএল) উপস্থাপনা করে বেশি পরিচিত পান আমব্রিন।

২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর কানাডাপ্রবাসী তৌসিফ আহসান চৌধুরীকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর থেকে কানাডাতেই থাকছেন। সেখানেই তিনি পরিবার নিয়ে স্থায়ী হয়েছেন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
খেলার খবর ভিডিও সংবাদ

ক্রিকেট বলের ভেতর-বাহির

বলা হয়ে থাকে অন্যান্য খেলার তুলনায় ক্রিকেট খেলার হিসাব-নিকাশটা বেশ জটিল। ক্রিকেট বলও তেমনি। একে তো ব্যয়বহুল, তার উপর সেটা দিয়ে খেলার নিয়ম-কানুনও অনেক।

ক্রিকেট বলটি হয় খুব শক্ত। কিন্তু বানানো হয় নরম সব জিনিস দিয়ে। একেবারে ভেতরে থাকে একটা কর্কের টুকরা। দেখতে ছোট টেনিস বলের মতো। সেটা সুতা দিয়ে খুব করে প্যাঁচানো হয়। ওপরে থাকে চামড়া বা লেদারের আবরণ। সে জন্য চার টুকরা চামড়া ব্যবহার করা হয়।

প্রথমে দুটি করে সেলাই করা হয়। তারপর সেগুলো ছাঁচে ফেলে দুটি অর্ধ গোলাকৃতির টুকরা বানানো হয়। সে দুটির মাঝে ভরা হয় সুতা দিয়ে প্যাঁচানো কর্কের গোলকটা। তারপর করা হয় আসল সেলাই। মোট ছয়টি সেলাই করা হয়। এরপর সেগুলো ছাঁচে বসিয়ে চেপে সমান করা হয়। এই সেলাইয়ের অংশটিকে বলা হয় ‘সিম’।

ক্রিকেট বলের ওজনেরও হয় রকমফের। ছেলেদের ক্রিকেট বলের ওজন হয় ১৫৫ গ্রাম থেকে ১৬৩ গ্রাম। অপরদিকে, মেয়েদের ক্রিকেটে ১৪০ থেকে ১৫১ গ্রাম। ১৩ বছরের কম বয়সীদের ক্রিকেট বলের ওজন হয় ১৩৩ থেকে ১৪৪ গ্রাম।

ছেলেদের ক্রিকেটে বলের পরিধি হয় ২২.৪ থেকে ২২.৯ সেন্টিমিটার। অন্যদিকে, মেয়েদের ক্রিকেটে বলের পরিধি হয় ২১ থেকে ২২.৫ সেন্টিমিটার। ১৩ বছরের কম বয়সীদের ক্রিকেটে ২০.৫ থেকে ২২ সেন্টিমিটার।

খেলা শুরুর আগেই ম্যাচে ব্যবহারের বল আম্পায়ারের কাছে দেয়া হয়। কেউ আউট হলে, ওভার শেষে বা বিরতির সময়ও বল জমা দিতে হয় আম্পায়ারের কাছে।

নতুন বল শুধু খেলার শুরুতেই দেয়া হয়। তবে টেস্ট ম্যাচে ইনিংসের মাঝেও নতুন বল পাওয়া যায়। সে জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৮০ ওভার পর্যন্ত। এরপর ফিল্ডিং অধিনায়ক চাইলেই শুধুমাত্র নতুন বল দেওয়া হয় ।

খেলার মধ্যে বল হারিয়ে গেলে বা ব্যাটাররা পিটিয়ে বল ছাতু বানিয়ে ফেললে বল পরিবর্তন করা যায়। যদি আম্পায়ারের মনে হয় বল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে জন্য অবশ্য নতুন বল নয়, কাছাকাছি মানের পুরনো আরেকটি বল দেওয়া হয়।

নতুন বল দিয়ে ভালো সুইং করানো যায় বলে পেইসারদের জন্য এটি বেশি কার্যকর হয়ে থাকে। আর পুরনো বলে সুবিধা পায় স্পিনাররা। বলে গতি থাকলে আর ঠিকমতো পুরনো করতে পারলে পেইসাররা নিতে পারেন রিভার্স সুইং এর সুবিধা।

আগে ক্রিকেট মানেই ছিল সাদা জার্সি আর লাল বল। এখন সেসব কেবল টেস্ট ম্যাচেই ব্যবহৃত হয়। সীমিত ওভার, অর্থাৎ ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয় সাদা বলে। সম্প্রতি শুরু হয়েছে দিবারাত্রির টেস্ট। তাতে ব্যবহার করা হয় গোলাপি বল।

বর্তমানে কুকাবুরা, ডিউকস এবং এসজি এই তিনটি কোম্পানি আন্তর্জাতিক খেলাগুলোর জন্য ক্রিকেট বল বানায়। অল্প কিছু দেশ ডিউকস এবং এসজি কোম্পানির বল ব্যবহার করে। সেটাও কেবল টেস্ট ক্রিকেটে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ড ব্যবহার করে ডিউকস বল। এসজি বল ব্যবহার করে কেবল ভারত। বাকি সব খেলা হয় কুকাবুরা বল দিয়ে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও তাই।

রিভার্স সুইং করার জন্য বলের এক পাশ মসৃণ আর অন্য পাশ খসখসে রাখতে হয়। তবে সেটা করতে হবে বৈধভাবে। বল মাঠে বা অন্য কিছুতে ঘষা, নখ দিয়ে খোঁটানো, সিমের সেলাই খুলে ফেলা—এগুলো একেবারেই নিষিদ্ধ।

রিভার্স সুইং করার জন্য ফিল্ডিং দলের সবাই সুযোগ পেলেই বলের একই পাশ বারবার করে ঘষতে থাকে। আর অন্য পাশ মসৃণ রাখতে লালা মাখানো হতো। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে লালা ব্যবহারেও দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

এমনিতেই ক্রিকেট বল খানিকটা ব্যয়বহুল, তার ওপর একটা দিয়ে বেশি খেলাও যায় না। তাই পাড়ার ক্রিকেটে সাধারণত ব্যবহার করা হয় টেনিস বল। তার ওপর আঠালো টেপ পেঁচিয়ে করা হয় শক্ত। এর জনপ্রিয় নাম “টেপ টেনিস বল”।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

পৃথিবীর আজব যতো প্রাণী ও বৃক্ষ!

পৃথিবীর আরেক নাম বৈচিত্র্যতা। সৃষ্টি লগ্ন থেকে এ পর্যন্ত পৃথিবীর বুকে আছে নানান ধরনের বৈচিত্র্যতাময়। পশু-পাখি থেকে শুরু করে কীটপতঙ্গ পর্যন্ত রয়েছে এক এক ভিন্নতা। লাখ লাখ জীবের মধ্যে যদি আকার-উচ্চতাভেদে একটি ক্রম তৈরি করা হয়, তাহলে সবার আগে কাদের নাম আসবে বলে ধারণা করেন?

অনেকেরই মাথায় আসবে ডাইনোসরদের কথা। তবে প্রাণী দিক থেকে সব থেকে লম্বা হচ্ছে নীল তিমি। যা প্রায় ৯৮ ফুট লম্বা। এবার আসি উদ্ভিদের কাছে উদ্ভিদকূলে এমন এক সদস্য রয়েছে যাদের উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুটের চেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত হিসাব করা সবচেয়ে উচ্চতম সদস্য প্রায় ৩৮০.১ ফুট উঁচুও হয়ে থাকে।

পৃথিবীতে বিদ্যমান ৩টি রেডউড প্রজাতির মধ্যে অন্যমত হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়া রেডউড। ক্যালিফোর্নিয়া রেডউড কোস্টাল রেডউড নামেও পরিচিত। এটি মূলত মোচাকৃতি ফলদায়ক নগ্নবীজী কাষ্ঠল বৃক্ষ। এদেরকে কোস্টাল নামকরণের পেছনে প্রধান কারণ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালোফোর্নিয়ার দক্ষিণ পশ্চিমের সৈকত ঘেঁষে এদের অবস্থান।

ক্যালিফোর্নিয়া রেডউড বৃক্ষ বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা জীব হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। এরা এতই উঁচু হয় যে জমিন থেকে দাঁড়িয়ে এদের শীর্ষবিন্দু দেখতে পারবেন না। একটি ৩০ তলা অট্টালিকার সমান হয়ে থাকে। পৃথিবীর উচ্চতম রেডউড হচ্ছে হাইপেরিয়ন। ২০০৬ সালে আবিষ্কৃত এই বৃক্ষটি উচ্চতায় প্রায় ৩৮০.১ ফুট লম্বা হয়। এরপরই আছে হেলিওস, ইকারাস এবং দাইদেলাস।

মানুষের হাতে অনিষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে এদের অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে। এসব উঁচু বৃক্ষকে মাটিতে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে সহায়তা করে এদের প্রায় ২৭ ফুট চওড়া প্রশস্ত কাণ্ড। এই গাছগুলো শুধু লম্বার দিক দিয়েই প্রথম নয়, বরং গড় আয়ুর তালিকাতেও এরা প্রথম। সরকারি তথ্যমতে, সবচেয়ে বয়স্ক রেডউডের প্রায় ২,২০০ বছর। অর্থাৎ, এই গাছ যখন চারা ছিল তখন পৃথিবীতে রোমান সাম্রাজ্যের শাসন ছিল!

পৃথিবীর বুকে ক্যালিফোর্নিয়া রেডউডের সবচেয়ে পুরাতন ফসিলের বয়স প্রায় ২০০ মিলিয়ন বছর। জুরাসিক যুগে এদের পথচলা শুরু হয়। ধারণা করা হয়, পৃথিবী থেকে ডাইনোসরের বিলুপ্তির পরপরই এদের আবির্ভাব ঘটে। অর্থাৎ, আবির্ভাবের দিক দিয়ে এরা ফুল, মাকড়সা এবং পাখিদের থেকেও প্রাচীন।

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের আগমন ঘটেছে প্রায় ২ লাখ বছর আগে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে রেডউড বৃক্ষ জীবজগতের মুরুব্বি গোছের সদস্য। এরপর আমেরিকা ব্যতীত অন্যান্য মহাদেশ থেকে এরা বিলুপ্ত হয়ে যায়। ১৮৫০ সালে বাণিজ্যিকভাবে রেডউড কর্তনের আগে এখানে প্রায় ২০ লাখ একর জায়গাজুড়ে রেডউড বন ছিল। বলতে গেলে বাংলাদেশের অর্ধেক আয়তনের সমান হবে সেই বন।

মানুষের কাঠ এবং জ্বালানীর চাহিদা মেটাতে রেডউড কর্তন শুরু হয়। স্থানীয় আদিবাসীরা, সাধারণত এই গাছ কাটতো না। তবে গাছ ভূপাতিত হয়ে গেলে তার কাঠ ব্যবহারের জন্য কেটে নিয়ে যেত। শত বছর ধরে কমতে কমতে সেই বনের মাত্র ৫ শতাংশ বাকি রয়েছে। বর্তমানে যে বন দেখা যায়, তার অধিকাংশ গাছের বয়স বড়জোর দেড়শ থেকে দুইশত বছর হবে।

ক্যালিফোর্নিয়া রেডউড বৃক্ষকে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাই এই গাছের সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় প্রাচীন যুগের এই অনন্য নিদর্শন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১৯১৮ সালে এই বৃক্ষ সংরক্ষণের জন্য গঠিত হয় “সেভ দ্য রেডউডস লীগ”।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

যেসব বিশ্ব নেতারা কোনোদিন পচবেন না

একজন মানুষের মৃত্যুর পর তার শরীর কতদিনই বা অক্ষত থাকে। আবার অক্ষত রাখার জন্যও মানুষ বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকে। কিন্তু কেনোই বা অক্ষত ভাবে রেখে দেয় একটি প্রাণহীন দেহ। তবে বিশেষ কোনো কারণে, বিশেষ কোনো ব্যাক্তিদের দেহ’ই এভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আজ জানাবো এমন কয়টি অক্ষত দেহের কথা।

বিশ্বের কিছু কিছু দেশের নেতাদের মৃত্যুর দীর্ঘ দিন পরও এখনও তাদের চেহারা অবিকৃত আছে। তাদের বিশেষ কর্ম ও কৃতিত্বের কারণে আজও অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করে রেখে দেয়া হয়েছে ইতিহাস ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য।

চেয়ারম্যান মাও : গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠাতা মাও সেতুং ২০ শতকের খুব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন৷ চীন পরাশক্তি হয়ে ওঠে তাঁর হাত ধরেই৷ তবে সাত কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্যও দায়ী করা হয় তাঁকে৷ মাও ১৯৭৬ সালে মারা যান৷ মৃত্যুর পরও অবিকৃত আছে তাঁর চেহারা৷ বেইজিংয়ের এক রাজকীয় সমাধিতে ফর্মালডিহাইড দিয়ে সেভাবেই রাখা হয়েছে মৃতদেহ৷

কিম ইল সাং : উত্তর কোরিয়ার প্রথম নেতা কিম ইল সাং-কে ইতিহাস মনে রাখবে দুই কোরিয়ার যুদ্ধ শুরু করার জন্য৷ উত্তর কোরিয়ায় কমিউনিস্ট শাসন শুরু করেন তিনি৷ তবে তাতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসেনি৷ সোভিয়েট ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে বিপর্যস্ত হয় উত্তর কোরিয়া৷ ১৯৯৪ সালে ৮২ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান কিম ইল সাং৷ ১০ দিন জাতীয় শোক পালনের পর কুমসুসান প্যালেস অব সান-এ মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়৷

কিম জং ইল: মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে৷ ২০১১ সালে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তিনি৷ উত্তর কোরিয়ায় ‘চিরন্তন নেতা’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই নেতার মৃতদেহও অবিকল রাখা আছে কুমসুসান প্যালেস অব সান-এ৷

হো চি মিন: ভিয়েতনামের অবিসংবাদিত নেতা হো চি মিন-কে ইতিহাস মনে রাখবে খুব বড় দুটি কারণে৷ তার কারণেই ফরাসি শাসকেরা ভিয়েতনাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল৷ দক্ষিণ ভিয়েতনাম ও মার্কিন সেনাদের সঙ্গে যুদ্ধে উত্তর ভিয়েতনামকে নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি৷ যুদ্ধে জয় অবশ্য দেখে যেতে পারেননি, তার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর৷

লেনিন: লেনিন ছিলেন সোভিয়েট ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অক্টোবর বিপ্লবের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি৷ অনেক ইতিহাসবিদ লেনিনকেও কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী মনে করেন৷ ১৯২৪ সালে মারা যান তিনি৷ মৃত্যুর পর মগজ বের করে নিয়ে তার দেহ মস্কোর রেড স্কয়ারে সংরক্ষণ করা হয়৷

 

Categories
বিনোদন ভিডিও সংবাদ

চ্যালেঞ্জ ও হতাশা জয়ী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি যেভাবে আজ বিশ্বখ্যাত

প্রতিটি মানুষেরই জীবনে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ আসে৷ হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি তার জীবনেও সৌন্দর্য সাফল্যের মাঝে এসেছিল নানা চ্যালেঞ্জ, সমস্যা ও হতাশা৷ তবে তিনি অদম্য মনোবলের পরিচয় দিয়ে সব কিছু মোকাবিলা করেছেন৷ সব জয় করে মার্কিন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি অভিনয়, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানব হিতৈষী হিসেবেও বিশ্ব জুড়ে নিজেকে করেছেন পরিচিত।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ভয়েট ১৯৭৫ সালের ৪ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার লসএঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন।

তার মা-বাবার নাম যথাক্রমে মার্শেলিন বার্ট্রান্ড ও জন ভইট মা-বাবা উভয়েই ছিলেন পেশাদার অভিনয় শিল্পী। হলিউডের সর্বাধিক জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি । ১৯৮২সালে লুকিন’ টু গেট আউট চলচ্চিত্রে বাবা জন ভইটের সাথে একটি শিশু চরিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্র জগতে জোলির আবির্ভাব হয়।

তবে পেশাদার চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসেবে তার অভিষেক ঘটে স্বল্প বাজেটের ছবি সাইবর্গ অভিনয়ের মধ্যদিয়ে। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় ছবিটি।

১৯৯৫ সালে তার অভিনীত প্রথম বড় মাপের ছবি হ্যাকারস মুক্তি পায় । এই ছবিকে তিনি নাম ভুমিকায় অভিনয় করে। এর পরে অঞ্জলিনা জেলি কে আর পিছেনে ফিরে তাকাতে হয়নি । অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ২০০৭ সালে।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে গভীর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে মায়ের বাসা ছেড়ে প্রেমিকের সাথে বসবাস করতে শুরু করেন জোলি। বাউন্ডলে স্বভাবের জোলি তখন ‘মরেনো হাইস্কুল’-এ যাওয়া শুরু করলেন। সেখানে তিনি ‘বিগড়ে যাওয়া বহিরাগত’হিসেবে কুখ্যাত ছিলেন। টানা ২বছর নিজের সমস্ত উজাড় করে দেওয়ার পরও যখন তার প্রেমিক তাকে ছেড়ে চলে যায় তখন তিনি মানসিক ভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন যে, সবকিছু ভুলে সম্পূর্ণ ধ্যান জ্ঞান অভিনয়ের দিকে ঢেলে দেন। অভিনয়ের দিকে পুরোপুরি মনোযোগ দিলেও সে সময় ব্যক্তিগত জীবনে জোলি এতটাই অসুখী ছিলেন যে হেরোইন থেকে শুরু করে সবধরনের নেশা দ্রব্য সেবন করা শুরু করেছিলেন।

আরও পড়ুন : কুমারী থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুচিত্রা সেনের নাতনি রাইমা

ব্যক্তিগত জীবনে জোলি তিন বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে অভিনেতা জনি লি মিলারকে বিয়ে করেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। দ্বিতীয়বার তিনি বিয়ে করেন অভিনেতা বিলি বব থরটনকে, ১৯৯৯ সালে। সবশেষ ২০১৪ সালে ব্র্যাড পিটকে বিয়ে করে সংসারী হন জোলি। কিন্তু তা-ও ভেঙে যায় ২০১৬ সালে।

এর মধ্যে লম্বা সময় দাম্পত্য জীবন কেটেছে বার ব্রাড পিটের সাথে প্রায় ১০ বছর । বাকী দুটি বিয়ে স্থায়িত্ব ছিলো তিন বছরেরও কম ।
জোলির ছয় সন্তান রয়েছে, যাদের মধ্যে তিনটি গৃহীত বা দত্তক নেয়া । মানে কম্বোডিয়া, আফ্রিকা ও ভিয়েত নাম সংগ্রহ করা । আর বাকী ৩ সন্তান রয়েছে, যা তার নিজের গর্ভের।

জোলি জীবনের প্রথম ত্রিশ বছর বয়স অভিনয়ের পাশাপাশি লেখাপড়াও করে । ডিগ্রি নেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও।

জোলি তার বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মিডিয়া কভারেজ পেয়েছেন। তার শরীরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও উল্লেখ যোগ্য দিক, তার ঠোঁট জোড়া । বিভিন্ন মিডিয়া ম্যাগাজিন ও সাময়িকীর পরিচালিত ভোটে একাধিক বার তিনি বিশ্বের ‘সবচেয়েসুন্দরী’বা ‘সেক্সি’ নারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

অস্কারজয়ী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির শরীরে থাকা বিভিন্ন রকমের উল্কি প্রায়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়।
জেলি জাতী সংঘের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দীঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন । মাঠ পর্যায়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে জোলি পরিদর্শন করেছেন এবং২০টিরওবেশি দেশে তিনি শরণার্থীও অভ্যন্তরীণ ভাবে উচ্ছেদ হওয়া মানুষের সাথে দেখা করেছেন। জেলির নিজস্ব আয় থেকে বিশ্বের অনেক দেশে অনাথ অসহায় শিশুদের খাদ্যের ব্যবস্থা হয়।

মানিবিক মানুষ হিসেবে জেলি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পুরস্কার ও সম্মানা পেয়েছেন।

৪৬ বছর বয়সী জোলি ২০২১ সালে বাংলাদেশেও এসেছিলেন । ঘুরে দেখেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প। সেখানে কথা বলেন এবং সাহায্য করেন শরণার্থীদের ।

ভয়েস টিভি/ডি

Categories
বিনোদন ভিডিও সংবাদ

অভিনেত্রীর নামে নেদারল্যান্ডসে ফুল লন্ডনে মোমের মূর্তি

১৯৯৪ সালে বিশ্বসুন্দরী খেতাব জিতে ভারতবাসীর হৃদয় জয় করে নেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। অনেক ভারতীয়ের কাছেই তিনি সর্বকালের সেরা মিস ওয়ার্ল্ড। বলিউডের অনেক স্মরণীয় চরিত্রকেও পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছেন তিনি। তিনি প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী, কান চলচ্চিত্র উৎসবে যিনি জুরি সদস্য হয়েছেন। ১ নভেম্বর ৪৮ বছরে পা রেখেছেন এই অভিনেত্রী। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন সম্পর্কে অজানা তথ্য নিয়ে আমাদের এই প্রতিবেদন

এ অভিনেত্রীর ডাকনাম অ্যাশ। তার জন্ম ১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর। ছোটবেলাতেই মুম্বাই চলে আসেন তার মা বাবা। সান্তা ক্রুজের আর্যবিদ্যা মন্দির উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন ঐশ্বরিয়া। এক বছর চার্চ গেটের জয় হিন্দ কলেজে পড়াশোনা করেন, তারপর মাতুঙ্গার রুপারেল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন।

১৯৯৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ড হন ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। এর অনেক আগে থেকেই অবশ্য টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের কাজ করতেন। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম ক্যামলিন পেনসিলের বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন তিনি। ১৯৯৭ সালে মনিরত্নমের তামিল ছবি ‘ইরুভার’-এ প্রথম অভিনয় করেন তিনি। ববি দেওলের সঙ্গে ‘… অর পেয়ার হো গায়া’ ছবি দিয়ে তার বলিউডে অভিষেক।

তামিল ছবি ‘জিন্স’-এ প্রথম বাণিজ্যিক সাফল্য। তিনি সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান।

আরও পড়ুন : দ্বিতীয়বার মা হচ্ছেন ঐশ্বরিয়া!

২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল ছিল তাঁর কর্মজীবনের একটু বাজে সময়। এরপর তিনি অভিনয় করেন ব্লকবাস্টার ছবি ‘ধুম ২’-তে। পরবর্তী সময়ে তাঁকে ‘গুরু’ এবং ‘যোধা আকবর’-এ অভিনয় করতে দেখা যায়।

নেদারল্যান্ডসের কেউকেনহফ গার্ডেন্সে তাঁর নামে টিউলিপের একটা জাত আছে। অপরাহ্‌ উইনফ্রে শোতে যাওয়া প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী তিনি। মাদাম তুসোর মিউজিয়ামেও প্রথম ভারতীয় হিসেবে তার মূর্তি তৈরি হয়েছিল।
২০০৯ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন অভিনেত্রী। মডেলিং, অভিনয় ছাড়া গানও গাইতে পারেন। তার গানের কণ্ঠও বেশ ভালো। প্রিয় মানুষদের গান শোনানোটাও তার পছন্দ।

ব্যক্তি জীবনে ঐশ্বরিয়া খুব সুশৃঙ্খল মানুষ। মেয়ে আরাধ্যকে খুব একটা প্রকাশ্যে আনেন না। স্বামী, শাশুড়ি জয়া বচ্চন, শ্বশুর অমিতাভ বচ্চন কীভাবে আরাধ্যর সঙ্গে আচরণ করবেন, তা-ও ঠিক করে দিয়েছেন তিনি! এমনকি তার মেয়েকে সবকিছু কিনেও দেওয়া যায় না।

ভয়েস টিভি/ডি

 

Categories
ভিডিও সংবাদ

সেকেন্ডে ৮০ বার ডানা ঝাঁপটায় ক্ষুদ্রতম পাখি হার্মিং বার্ড

চড়ুই থেকেও ছোট্ট পাখি হামিং বার্ড প্রতি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার উড়তে পারে। চড়ুই থেকেও ছোট্ট একটি পাখি । যাদের সারাদিন ডানা ঝাপটিয়ে উড়াউড়িতে মোটেও ক্লান্তি নেই।

পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট্ট এবং ক্লান্তিহীন পাখিটি হলো হামিং বার্ড। যার দেখা মিলে যা দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকার উষ্ণ অঞ্চলে । আজ জানাবো হামিং বাড নিয়ে আজব কিছু তথ্য।

এই পাখি যখন ওড়ে তখন তার ডানার দ্রুত সঞ্চালনের ফলে বাতাসে গুনগুন শব্দ হয়। ইংরেজিতে গুনগুন করাকে হামিং বলে। এজন্যই এই পাখির নাম হামিং বার্ড।

হামিং বার্ড খুব শৌখিন একটি পাখি। এদের গায়ের রং অতি উজ্জ্বল। পালকের উজ্জ্বল রং ও বৈচিত্র্যের কারণে স্ত্রী পাখিদের তুলনায় পুরুষ হামিং বার্ড দেখতে বেশি সুন্দর। এই পাখির বাসা দেখলেই এর শৌখিনতার প্রমাণ মিলে।

অন্যান্য পাখি যেমন খড়কুটো, গাছের পাতা দিয়ে বাসা তৈরি করে, সেখানে এরা বাসা তৈরি করে নরম পালক এবং ফুলের পাপড়ি দিয়ে। সেই নরম তুলতুলে বাসায় এরা শুধু রাতেই বিশ্রাম নেয়। অবিরাম ছোটাছুটির কারণে দিনে বিশ্রাম নেয়ার সময় কোথায়?

গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার উড়তে পারে এরা। ওড়ার সময় এদের ছোট্ট দুটি ডানা গড়ে প্রতি সেকেন্ডে ৮০ বার ওঠানামা করে। তখন এদের ডানার পালক পর্যন্ত দেখা যায় না।

চোখে পড়ে শুধু আবছা এক রঙের ছটা। দ্রুত ডানা সঞ্চালনের আশ্চর্য এই ক্ষমতার জন্য হামিং বার্ড উড়ন্ত অবস্থায় শূন্যে এক জায়গায় স্থির হয়ে ভেসে থাকতে পারে।

কারণ, উড়তে উড়তেই খাবারটা সংগ্রহ করে নেয়া যায়। এ জন্য পায়ের ওপর ভর দিয়ে কোনো ডালে বসতে হয় না। তাছাড়া পায়ের চেয়ে ডানার ওপরই এদের ভরসা বেশি।

হামিং বার্ড ফুল থেকে মধু খাওয়ার সময়ও শূন্যে ভেসে থাকে। এভাবেই তারা এক ফুল থেকে আরেক ফুলে গিয়ে মধু খায়। তারা সারাদিন যেহেতু ডানা সঞ্চালনের ওপর নির্ভর করে কাটায়, এ জন্য তাদের প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। ফলে এই পাখি সারা দিনে প্রচুর আহার করে আর শক্তি সঞ্চয় করে।

অথচ রাতের বেলা এদের উল্টো অবস্থা। তখন শুধুই বিশ্রাম। ফলে রাতে এদের ক্যালরি খরচের ভয় নেই। একটি হামিং বার্ডের সারা দিন যে ক্যালরি লাগে, তা একজন বয়স্ক মানুষের প্রয়োজনীয় ক্যালরির তুলনায় প্রায় ৪০ গুণ বেশি।

শুধু পাখি কেন, পৃথিবীতে উষ্ণ রক্তের আর এমন কোনো প্রাণী নেই, যার দেহের অনুপাতের চেয়ে বেশি ক্যালরির প্রয়োজন হয়। অথচ ছোট এই পাখি দৈর্ঘ্যে হয় মাত্র ৫.৭ সেন্টিমিটার এবং ওজন হয় মাত্র ১.৬ গ্রাম। অর্থাৎ একটি কাগজের খামের ওজনের সমান এদের ওজন।

স্ত্রী হামিং বার্ড একবারে সাধারণত দুটি ডিম পাড়ে। সাদা রঙের এই ডিম আকারে যত ছোটই হোক না কেন তা স্ত্রী হামিং বার্ডের ওজনের ১৩ শতাংশ। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে তিন সপ্তাহ। তারপর এক মাসের মধ্যেই বাচ্চা উড়তে শিখে যায়।

হামিং বার্ড বেজায় সাহসী। সহজে হাল ছেড়ে দেয়ার পাত্র নয়। কারণ, সাধ্যে না কুলালে ফুড়ুত করে উড়াল দিয়ে বিপদ এড়িয়ে কীভাবে পালাতে হয় তা এই পাখিই ভালোই জানে।

ভয়েস টিভি/আইএ

Categories
বিনোদন ভিডিও সংবাদ

দেশের সেরা ১০ সুন্দরী আবেদনময়ী নায়িকা!

হলিউড, বলিউডের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারলেও ঢাকাই সিনেমায় বেশ কয়েকজন নজরকাড়া সুন্দরীর আবির্ভাব ঘটে। এসব আবেদনময়ী অভিনেত্রীরা বড় পর্দায় নিজেদের কাজ ও রূপের মাধুর্য দিয়ে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে। আজ জানাবো বাংলাদেশের সবচেয়ে আবেদনময়ী ১০ সুন্দরী নায়িকা সম্পর্কে।

জয়া আহসান
তালিকার শীর্ষে রয়েছেন কয়েক প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় চির তরুণী অভিনেত্রী জয়া আহসান। বর্তমান সময়ের সেরা আবেদনময়ী অভিনেত্রীদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন। বাংলাদেশ ও কলকাতা দুই বাংলাতেই দাপিয়ে কাজ করছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। গোপালগঞ্জে জন্ম নেয়া জয়া কখনও তার বয়স প্রকাশ করেননি। দিন দিন সৌন্দর্য বেড়েই চলেছে এই অভিনেত্রীর।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ছয়টি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ও তিনটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। বড় পর্দায় বেছে বেছে কাজ করা জয়া ২৩টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

পূর্ণিমা
তিনি তিন প্রজন্মের ক্রাশ হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ রীতা। তিনি চলচ্চিত্র জগতে পূর্ণিমা নামে অধিক পরিচিত। ৪০ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর জন্ম চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। পূর্ণিমা চলচ্চিত্র জগতে পা দেন জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্যে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে তিনি প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। পূর্ণিমার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় রিয়াজের বিপরীতে। রিয়াজের বিপরীতেই ২৫টির বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

নুসরাত ফারিয়া
বর্তমান সময়ে সুপার হট অভিনেত্রীদের অন্যতম একজন নুসরাত ফারিয়া। নায়িকা হওয়ার আগে তিনি টিভি উপস্থাপিকা, রেডিও জকি ও বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। ২৮ বছর বয়সি এই চিত্রনায়িকা বিজ্ঞাপনচিত্রে গ্লামারাস হিসেবে উপস্থিতি এবং ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার কারণে দারুণ পরিচিত। ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশেই সমান জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। ওপার বাংলার বেশ কয়েকজন শীর্ষ অভিনেতার সঙ্গে জুটি বেঁধে দারুণ অভিনয় করেছেন নুসরাত ফারিয়া।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার আশিকী চলচ্চিত্র দিয়ে তার বড় পর্দায় অভিষেক হয়। এই কাজের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ নবীন অভিনয়শিল্পী হিসেবে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন।

মাহিয়া মাহি
চলচ্চিত্রের ফিন্সেস খ্যাত অভিনেত্রীর মাহিয়া মাহি। ২০১২ সালে ‘ভালোবাসার রঙ’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয়। ২৮ বছর বয়সী এ অভিনেত্রীর আসল নাম শারমিন আকতার নিপা। রাজশাহীতে জন্ম নেয়া মাহী বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত অভিনেত্রী। ২০১৯ সালে মাহীকে নিয়ে বই প্রকাশ করেন তার ভক্তরা, বইটির নাম ‘মাহী দ্য প্রিন্সেস’।

৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই অভিনেত্রী এখন পর্যন্ত ৩১টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে ৪টি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ও ২টি বাচসাস পুরুস্কার অর্জন করেন।

শবনম বুবলী
ঢালিউড কিং শাকিব খানের নায়িকা হিসেবে পরিচিত শবনম বুবলী ঢাকাই সিনেমার অন্যতম আলোচিত চরিত্র। সংবাদ পাঠিকা থেকে নায়িকা হন নোয়াখালীর মেয়ে বুবলী। তিনি শাকিব খানের সঙ্গে বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল ছবি উপহার দিয়েছেন। তাঁর রূপ ও অভিনয় দর্শক মনে বেশ সাড়া ফেলেছে।

২০১৬ সালে বসগিরি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পে তার অভিষেক ঘটে। চলচ্চিত্রটির মাধ্যমে তিনি শ্রেষ্ঠ নবীনশিল্পী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন। এ পর্যন্ত বুবলী ১৫টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

পরিমনি
বর্তমানে ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরিমনি। ২০১২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে অভিনয় জগতে পা রাখেন ২৯ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী। এরপর একে একে বিভিন্ন ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মন কেড়েছেন। তাঁর রূপ ও সৌন্দর্য সহজেই মানুষকে আকৃষ্ট করে। সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে সংবাদের শিরোনাম হচ্ছেন। বিনোদন সংবাদের পুরোটা জুড়েই তার অবস্থান। মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলও খাটতে হয়েছে তাকে।

তার আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। ২০১৫ সালে ভালোবাসা সীমাহীন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার বড় পর্দায় অভিষেক হয়। তবে ২০১৫ সালে রানা প্লাজা ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হল- প্রণয়ধর্মী সিনেমা আরো ভালোবাসবো তোমায়, লোককাহিনী নির্ভর সিনেমা মহুয়া সুন্দরী, এবং অ্যাকশনধর্মী ছবি রক্ত। এ পর্যন্ত ৩১টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন পরিমনি।

বিদ্যা সিনহা মীম
মডেল ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মীম। লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ২০০৭ প্রতিযোগিতায় প্রথম-স্থান লাভ কেরন। ৫ ফুট সাড়ে ৮ ইঞ্চি উচ্চতার এই অভিনেত্রীর জন্ম রাজশাহীর বাঘায়। ২০০৭ সালে হুমায়ুন আহমেদ পরিচালিত আমার আছে জল সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হয়। জোনাকির আলো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ৩৯তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মৌসুমীর সাথে যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন। ২৮ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী এখন পর্যন্ত ২০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

দেশের বর্তমান জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। নজরকাড়া রূপ দিয়ে দর্শককের মন কেড়েছেন তিনি। এছাড়া দারুন সব বিজ্ঞাপন, টিভি নাটক ও সিনেমায় আভিনয় করে খ্যাতি কুড়িয়েছেন আবেদনময়ী এই নায়িকা।

অপু বিশ্বাস
ঢালিউডের অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস অর্ধশতাধিক সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক হৃদয় রাঙ্গিয়েছেন। ৩২ বছর বয়সী আবেদনময়ী এই অভিনেত্রীর জন্ম বগুড়ায়। তিনি ২০০৬ সালে আমজাদ হোসেন পরিচালিত কাল সকালে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পে পদার্পণ করেন। তিনি ২০০৬ সালে এফআই মানিক পরিচালিত কোটি টাকার কাবিন চলচ্চিত্রে শাকিব খানের বিপরীতে প্রধান নায়িকা হিসাবে অভিনয় করেন। অপু বিশ্বাস ৭২টিরও অধিক চলচ্চিত্রে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। কর্মজীবনে তিনি একটি বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং ছয়বার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে মনোনয়ন লাভ করেন।

মৌসুমি
প্রিয়দর্শিনী অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত তিনি। প্রায় একশ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তুমুল জনপ্রিয় এই চিত্রনায়িকা। দর্শক এখনও মুগ্ধ তার অভিনয়ে। যার কথা বলছি- তিনি আরিফা পারভিন জামান মৌসুমী। যিনি মৌসুমী নামে অধিক পরিচিত। ৪৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর জন্ম খুলনায়। মৌসুমী অভিনীত প্রথম ছায়াছবি কেয়ামত থেকে কেয়ামত। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ছোট পর্দার বেশ কিছু নাটক ও বিজ্ঞাপন চিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী।

এছাড়া ২০০৩ সালের চলচ্চিত্র কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি পরিচালনার মাধ্যমে একজন পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। মৌসুমীর নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও আছে। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এছাড়াও অর্জন করেন একাধিক বাচসাস পুরস্কার ৬ বার মেরিল ও প্রথম আলো পুরস্কার। মৌসুমী প্রায় ৯০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

শাবনূর
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অন্যতম সফল অভিনেত্রী শাবনূর। তার আসল নাম কাজী শারমিন নাহিদ নূপুর। ৫ ফু ৩ ইঞ্চি উচ্চতার ৪১ বছর বয়সী এ অভিনেত্রীর জন্ম যশোরে। ১৯৯৩ সালে চাঁদনী রাতে চলচ্চিত্র দিয়ে শাবনূরের চলচ্চিত্রে অভিষেক। সালমান শাহের সাথে জুটি বেধে তিনি সফলতা লাভ করেন।

শাবনূর ২০০৫ সালে মোস্তাফিজুর রহমান মানিক পরিচালিত দুই নয়নের আলো ছবিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তিনি ছয়বার বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি রেকর্ড সংখ্যক ১০ বার তারকা জরিপে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেছেন। প্রায় দেড় শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন শাবনূর।

পুজা চেরি রায়
উল্লেখিত দশজনের বাইরেও হাল আমলের আরেকজন আবেদনময়ী নায়িকা হলেন পূজা চেরি। মডেলিং ও শিশুশিল্পী হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। শিশুশিল্পী হিসেবে কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর ২০১৮ সালে নূর জাহান চলচ্চিত্র দিয়ে তার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে। তাঁর অভিনীত পোড়ামন-২ ও দহন চলচ্চিত্র দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

খুলনার মেয়ে পুজা বাংলা সিনেমার সবচেয়ে কম বয়সী নায়িকা। দর্শকের মনকাড়া অভিনয়ের মধ্য দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন ২১ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী। এ পর্যন্ত ১৭টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন পূজা। বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের কাছে হার্টথ্রুব নায়িকা পুজা চেরি।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও স্বর্গীয় স্থান হিসেবে পরিচিত যেসব এলাকা

কৌতুহলী মানুষ আবিষ্কারের নেশায়, নতুন কিছু দেখার আশায় চষে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও রহস্যে ঘেরা এই পৃথিবীর বৈচিত্রপূর্ণ স্থান সম্পর্কে মানুষের কৌতুহলের অন্ত নেই।

আর এই ছুটে চলার পিছনে শুধুই একটি কারন কাজ করে তা হলো আত্মতুষ্টি! তবে যদি এমন ভ্রমণ পিপাসুদের কাওকে প্রশ্ন করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান কোনটি বা পৃথিবীতে সবচেয়ে সুন্দর জিনিস কি তাহলে আমার মনে হয় সে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে! কারন তার সৌন্দর্য দর্শনের তৃষ্ণা আজও মেটে নাই। আর এই তৃষ্ণা কখনো মেটারও নয়!

এই পৃথিবীতে এমন অনেক জায়গা আছে যা পৃথিবীর স্বর্গ বললে ভুল হবে না। আজ আমরা আপনাদেরকে জানবো বিশ্বের কিছু সৌন্দর্য স্থান সম্পর্কে।

১.সালার দে ইয়ুনি, বলিভিয়া :

সালার দে ইয়ুনি পৃথিবীর বৃহত্তম আয়না। বর্ষাকালে বলিভিয়ার বৃহত্তম এই লবণভূমি বিশাল এক প্রাকৃতিক আয়না তৈরি করে । যার আয়তন প্রায় ১০ হাজার ৫৮২ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত লবণের এই আশ্চর্য মরুভূমিকে দেখার জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক ও ফটোগ্রাফা বলিভিয়ায় ছুটে আসে।

২.বারোস আইল্যান্ড, মালদ্বীপ :

পর্যটকদের কাছে মালদ্বীপ অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। প্রায় আড়াইহাজার ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত মালদ্বীপে অসংখ্য নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত স্থান রয়েছে। মালদ্বীপের হাজারো দ্বীপের মধ্যে বারোস অন্যতম সুন্দর একটি দ্বীপ। পর্যটকদের অবকাশ যাপনের জন্য এখানে রয়েছে প্রয়োজনীয় সমস্ত আয়োজন। সুনীল সাগর, আকাশ আর প্রকৃতির অপূর্ব মায়া বারোস আইল্যান্ডকে করেছে মোহনীয়।

৩. এন্টিলোপ ক্যানিয়ন, আরিজোনা :

রহস্যময় এই গিরিখাতের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায়।মিলিয়ন বছর আগে পানির প্রবাহের কারণে সৃষ্টি হওয়া এই গভীর গিরিখাতের দেয়ালে সূর্য্যের আলো পৌঁছে অদ্ভুত আলোছায়া ও রঙের বৈচিত্র তৈরী করে পর্যটকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে।

৪.প্যাংগং লেক,লাদাখ :

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উপরে পাহাড় ও মরুভূমি বেষ্টিত ভারত-চীন সীমান্তবর্তী লাদাখে অনন্য রুপের আধার প্যাংগং লেক অবস্থিত।এটি একেক ঋতুতে একেক রূপ ধারণ করে। সুনীল এই লেকের অপার সৌন্দর্য অবলোকন করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত।

৫. কিউকেনহফ, নেদারল্যান্ডস:

পৃথিবীর বৃহত্তম ফুল বাগানের জন্য ন্যাদারল্যান্ডের কিউকেনহফ শহর বিখ্যাত।এটি বিশ্বের বৃহত্তম ফুলবাগান। একে “কিচেন গার্ডেন” বা “গার্ডেন অব ইউরোপ” খ্যাত বাগানে প্রায় ৩০ ধরনের ফুল রয়েছে।পঞ্চদশ শতাব্দীতে যাত্রা শুরু করা এই বাগানের বর্তমান জমির পরিমাণ প্রায় ৮০ একর। এই বাগান থেকে প্রতিবছর ৭০ লাখের বেশি টিউলিপ উৎপাদন করা হয়। সাধারণত গ্রীষ্মকালে মানে মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাগানটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

৬.নর্দান লাইটস বা অরোরা, আইসল্যান্ড :

আকাশে রঙের ছড়াছড়ি অর্থাৎ নর্দান লাইটস বা অরোরা প্রকৃতির এক অপূর্ব সৌন্দর্য্য নিদর্শন। নরওয়ে, সুইডেন, কানাডা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আইসল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও গ্রীনল্যান্ড থেকে সন্ধ্যা এবং রাতের বেলায় অরোরা দেখা যায়। তবে আইসল্যান্ডে অবস্থিত পিংভেলার ন্যাশনাল পার্ক নর্দান লাইটস বা অরোরা দেখার জন্য জনপ্রিয় স্থান হিসাবে সুপরিচিত। ইউনেস্কো কতৃক বিশ্বের দর্শনীয় স্থান হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই স্থানে প্রতি বছর হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক ছুটে আসে।

৭.হা লং বে, ভিয়েতনাম :

ভিয়েতনামের কুয়াংনি প্রদেশে অবস্থিত ১৫৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের হা লং বে-র নীল স্বচ্ছ পানি ও চুনাপাথরের পাহাড় এর সৌন্দর্য্য বহুগুন বাড়িয়ে দিয়েছে।এই বে একটি প্রাকৃতিক নিসর্গ। ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কো একে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। হা লং বে-তে আছে সুনীল পানি আর ছোট-বড় প্রায় ২ হাজার চুনাপাথরের দ্বীপ। এতে কয়েকটি ভাসমান গ্রাম ও কৃত্রিম গুহাও আছে।

৮.ঝাংজিয়াজি ন্যাশনাল পার্ক, চীন :

এই ন্যাশনাল পার্কটি চীনের হুনান প্রদেশের তিয়ানমেন পর্বতে অবস্থিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার পার্কটি দিনদিন পর্যটকদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। পার্কটির ১৪১০ ফুট উঁচুতে নির্মাণ করা হয়েছে অসম্ভব সুন্দর এক কাচের সেতু তিয়ানমেন পর্বত এবং ঝাংজিয়াজি ন্যাশনাল পার্কের বুনো সৌন্দর্য্য ।প্রতি বছর হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসু পর্যটক ছুটে আসে।

৯. ফি-ফি দ্বীপপুঞ্জ, থাইল্যান্ড :

ফি-ফি দ্বীপপুঞ্জ নান্দনিক সৌন্দর্য্যের জন্য অত্যন্ত সুপরিচিত তাই প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটকদের এই দ্বীপ ভ্রমণে আসেন।ভ্রমণকারীদের জন্য এই দ্বীপে রয়েছে ক্রুজ, ক্লিফ ডাইভিং, রক ক্ল্যাইম্বিং এবং মাছ ধরার ব্যবস্থা ।সাথে বোনাস হিসেবে আছে মায়া উপসাগর। এটি নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত একটি উপসাগর। দর্শনার্থীরা সেখানে গিয়েও উপভোগ করতে পারবেন এক অন্যরকম নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

১০. সিক্রেট লেগুন, পালওয়ান, ফিলিপাইন :

ফিলিপাইনের স্বর্গ হিসাবে খ্যাত পালাওয়ান দ্বীপের সাগরে জেগে ওঠা লাইমস্টোনের পাহাড়গুলো যেন প্রকৃতির অনন্য রত্ন। পালাওয়ান দ্বীপের জাতীয় উদ্যানটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে । এখানে রয়েছে চিত্তাকর্ষক চুনা পাথরের গুহা এবং ভূগর্ভস্থ নদী বা সিক্রেট লেগুন। বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, উপত্যকা আর পাহাড়ের মায়াজালে পালওয়ান সৈকত পরিণত হয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকতগুলোর মধ্যে অন্যতম।

১১.উইস্টেরিয়া টানেল, জাপান :

জাপানের কাওয়াচি ফুজি গার্ডেনে অবস্থিত উইস্টেরিয়া টানেল যেন এক প্রশান্তির জায়গা।পৃথিবীতে স্বর্গীয় অনুভুতি নিয়ে আসা উইস্টেরিয়া টানেলের সৌন্দর্য্য দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে কাওয়াচি ফুজি গার্ডেনে যেতে হবে। ব্যক্তি মালিকানাধীন এই বাগান শুধুমাত্র উইস্টেরিয়া ফুলের মৌসুমে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

১২.পোখারা, নেপাল :

নেপালে সবচেয়ে সুন্দর মাউন্টেন ভিউ পেতে এ শহর অতুলনীয়।ফেওয়া লেকে জড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি পোখারাকে নেপালের ভূস্বর্গ ও নেপাল রানী বলা হয়।লেক ও পাহাড়ের সৌন্দর্য্য ছাড়াও ভ্রমণকারীদের জন্য পোখারায় রয়েছে প্রাকৃতিক ঝর্ণা, প্যারাগ্লাইডিং, ঘোড়ায় চড়ার ব্যবস্থা। এছাড়াও রয়েছে পাহাড়ের চুড়ায় সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্থ দেখতে পোখারায় ভীড় করেন হাজারো দর্শনার্থী।
মশিউর রহমান (মহিন)