Categories
পশ্চিমবঙ্গ

এবার ফ্যাশন পত্রিকার প্রচ্ছদজুড়ে এমপি মহুয়া

স্পষ্ট নির্ভীক বক্তা হিসেবে বারবার নজর কেড়েছেন তিনি। কিন্তু এবার অন্য রকম সাজের জন্য সকলকে তাক লাগিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সম্প্রতি এক ফ্যাশন পত্রিকার প্রচ্ছদে স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

সাধারণত ব্লক প্রিন্ট ব্লাউজ এবং সুতির শাড়িতে ছিমছাম সাজেই দেখা যায় মহুয়াকে। কিন্তু এবার ভোল পাল্টে ডিজাইনার পায়েল খণ্ডওয়ালার হাতে বোনা সিল্কের শাড়ি এবং মেটালিক হাই-নেক ব্লাউজে একদম গ্ল্যামারাস অবতারে দেখা গেল তাকে।

চকচকে চুল পেতে আঁচড়ানোয় একটা পরিচ্ছন্ন সাজের সঙ্গে মহুয়ার স্বল্প মেকআপে মানিয়েছে বেশ। কালার ব্লক করা মেটালিক স্ট্রাইপ দেয়া শাড়ি তার সৌন্দর্যে অভিজাত ছোঁয়া এনে দিয়েছে। এই সাজের সঙ্গে গয়না বা অন্য কোনও অ্যাকসেসরি পরেননি মহুয়া। অথচ তার গ্ল্যামারের ছ’টা যেন বেরিয়ে আসছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে বাতিল হলো মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাতিল হলো মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। ৭ জুন সোমবার নবান্ন উৎসবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ তথ্য জানান।

জনমত দেখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৭ দিনের মধ্যে মূল্যায়ন পদ্ধতি জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ৩৪ হাজার ই-মেইল জমা পড়েছে। ৮৩ শতাংশ মানুষ পরীক্ষা না নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞ কমিটিও এ বছর পরীক্ষা না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তাই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বাতিল করা হলো।

মমতা আরও বলেন, পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা ৭ দিনের মধ্যে জানানো হবে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই দিকেও খেয়াল রাখারও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ বিনোদন

জলোচ্ছ্বাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে সোহম

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আসার আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গের নিজ নির্বাচনী এলাকা চণ্ডীপুরে রয়েছেন সোহম চক্রবর্তী। এই আসন থেকেই সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক তিনি।

সোহম ও তার টিমের উদ্যোগেই বিপজ্জনক এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়েও সকলের খোঁজ নিয়েছিলেন তারকা বিধায়ক। ঠিক মতো খাবার-দাবার সকলে পাচ্ছেন কিনা জানতে চেয়েছেন। নিজের এলাকায় কন্ট্রোলরুমও খুলেছেন তিনি। আবার ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও চণ্ডীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখছেন তিনি।

নিজের টুইটার প্রোফাইলে এলাকা পরিদর্শনের ছবি আপলোড করেছেন সোহম।

ক্যাপশনে তৃণমূল বিধায়ক জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং তার টিমের সদস্যরা যতভাবে সম্ভব অসহায় মানুষকে সাহায্য করছেন যাতে খুব তাড়াতাড়ি এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা যায়।

একুশের ভোটে জেতার পরই করোনা মোকাবিলায় টিম নিয়ে নেমে পড়েছিলেন সোহম। চণ্ডীপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। দুর্যোগের এই সময়ে করোনা রোগীদের থাকার জন্যও আলাদা বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

২৬ মে মঙ্গলবার সকালেই চণ্ডীপুর বিধানসভার ভগবানপুরে ৬০টি শয্যার একটি সেফ হোম খোলা হয়েছে। যেখানে অক্সিজেন কনসেনট্রেটরও রয়েছে। ভগবানপুর গ্রামীণ হাসপাতালের ঠিক পাশেই এই সেফ হোমটি গড়ে তোলা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এখানে কোভিড রোগীরা থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তারকা বিধায়ক। খুব শিগগিরি চণ্ডীপুর ব্লকেও একটি সেফ হোম খোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

উড়িষ্যার স্থলভাগে আছড়ে পড়লো ঘূর্ণিঝড় ইয়াস

উড়িষ্যার স্থলভাগে আছড়ে পড়লো অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ২৬ মে বুধবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের বুলেটিনে আবাহওয়া অফিস জানিয়েছে, উড়িষ্যার বালেশ্বরের দক্ষিণে ইয়াস স্থলভাগে আছড়ে পড়া শুরু করেছে।

এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ ১৫৫ কিলোমিটার। আগামী ৩ ঘণ্টা ধরে এই প্রক্রিয়া চলবে।

এই মুহূর্তে ধামরা থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্ব উত্তর-পূর্ব, দিঘা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিম ও বালেশ্বর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে ইয়াস-এর চোখ।

আবাহওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ৬ ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় ১৭ কিলোমিটার গতিবেগে এগোচ্ছে ইয়াস। বুধবার দুপুরের মধ্যে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রূপে ইয়াস উড়িষ্যার পারাদ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যে উড়িষ্যার বালেশ্বরের দক্ষিণ ও ধামরার উত্তর দিক দিয়ে অতিক্রম করে যাবে বলেই পূর্বাভাস। তারপর ঘূর্ণিঝড় চলে যাবে ঝাড়খণ্ডের দিকে।

বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উড়িষ্যার বালেশ্বর, ভদ্রক, কেন্দ্রাপাড়া, জগৎসিংহপুরের মতো উপকূলবর্তী বিভিন্ন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। অতি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা পশ্চিবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও। দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকাতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

উড়িষ্যা উপকূল থেকে আর মাত্র ২০ কিমি দূরে ইয়াস

আর কিছুক্ষণ পরেই উড়িষ্যার ধামড়া বন্দরে আছড়ে পড়বে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। কলকাতা আবহাওয়া অফিস ২৬ মে বুধবার সকাল ৮টায় জানিয়েছে, বর্তমানে ধামড়া থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস।

পশ্চিমবঙ্গের দীঘা সমুদ্র সৈকত থেকে দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। আছড়ে পড়ার সময় ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ থাকবে ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার। সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে আছড়ে পড়বে ইয়াস।

ইয়াস আছড়ে পড়ার আগেই কার্যত বিপর্যস্ত ধামড়া বন্দর। গতরাত থেকেই সেখানে শুরু হয়েছে ঝড়ো হাওয়া সঙ্গে বৃষ্টিপাত। বিস্তীর্ণ এলাকা এখন জলমগ্ন। জনজীবন স্তব্ধ। ইতোমধ্যে জনবসতির অনেকটাই পানির নীচে চলে গিয়েছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার এগিয়ে এসেছে সমুদ্র।

ভারতের সবচেয়ে পুরোনো বন্দর ধামড়া পোর্ট। ৫০০ বছরের ইতিহাস জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। কার্যত লণ্ডভণ্ড হতে চলেছে সেই বন্দর। ইয়াসের প্রভাবে রাত থেকে বন্ধ রয়েছে বিমানবন্দর।

দীঘার সমুদ্রও বর্তমানে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। সমুদ্রের জলস্তর ৩০ ফুট উচ্চতায় উঠেছে। পাশাপাশি গঙ্গার পানিও বাড়তে শুরু করেছে। এর অন্যতম কারণ ঘুর্ণিঝড়ে পাশাপাশি বুধবার (২৬ মে) রয়েছে বুদ্ধ পূর্ণিমা এবং চন্দ্রগ্রহণ।

অপরদিকে গত রাত থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। সকাল থেকেই ঘূর্ণিঝড় মনিটরিং করছেন তিনি। রাজ্যে ইতোমধ্যে কয়েক লাখ লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপ প্রবল জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়েছে। দফায় দফায় ভেঙে পড়ছে গাছ, কাঁচাবাড়ি। সেখানে নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। মেদিনিপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার গ্রামগুলোয় ঢুকতে শুরু করেছে নোনাপানি।

ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে কলকাতায় শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সঙ্গে চলছে দমকা হাওয়া। ইতোমধ্যে কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে পথে যানবাহন বের করতে নিষেধ করা হয়েছে। শহরের সমস্ত ফ্লাইওভার নো এন্ট্রি’ বোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয়েছে ফেরি পারাপার এবং রেল চলাচল। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিন রাত ৮টা পর্যন্ত কলকাতার বিমানবন্দর থেকে সমস্ত বিমান ওঠানামায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর থেকেই রাজ্যের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া বলে আগেই জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের জেরে রাজ্যের হুগলি জেলায় গাছ ভেঙে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

তৃতীয়বারের মতো শপথ নিলেন মমতা

তৃতীয়বারের মতো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। ৫ মে বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে শপথ নেন তিনি। করোনা আবহের কারণে ছোট পরিসরে সীমিত সংখ্যক আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে হয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।

এর আগে ৩ মে সোমবার সন্ধ্যায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। ভারতের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শপথগ্রহণের দিন ঠিক হওয়ার পর সোমবার রাজভবনে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা বৈঠক করেন মমতা ব্যানার্জী। এরপর তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এবার দুর্দান্ত জয় পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচনে ২৯২ আসনের মধ্যে ২১৩টি আসনে জিতেছে তৃণমূল। বিজেপি জয় পেয়েছে ৭৭টিতে।

তবে দল জয় পেলেও নিজ আসন নন্দীগ্রামে ধাক্কা খেয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। এরপর অনেকের প্রশ্ন জাগে, ভোটে হারার পর মমতার ভাগ্য তাহলে কী হবে? তিনি কি টানা তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন?

সংবিধানে যাই থাকুক না কেন, এর আগেও কিন্তু পরাজিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসার নজির রয়েছে ভারতে। আবার ভারতীয় সংবিধানের ১৬৪ (৪) নং ধারা অনুযায়ী, নির্বাচনে না জিতেও মুখ্যমন্ত্রী হওয়া যায়। তবে মসনদে বসার ছয় মাসের মধ্যে তাকে অন্য কোনো আসন থেকে জিতে আসতে হবে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতার শপথ ৫ মে

তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার কেন্দ্রে বসছেন। আগামী ৫ মে বুধবার তিনি নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

৩ মে সোমবার বিকেলে তৃণমূল ভবন থেকে বৈঠক শেষে শপথগ্রহণের জন্যে এই দিন নির্ধারণ করা হয়। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় এ তথ্য জানান।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনের পরে তৃণমূল কার্যালয়ে পরিষদীয় দলের সঙ্গে আলোচনায় বসেন মমতা ব্যানার্জি। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে এসে সিদ্ধান্ত জানান মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

তিনি জানান, মমতাই পরিষদীয় দলের নেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ৫ মে শপথ নেবেন তিনি। তারপর ৬ ও ৭ মে বাকি বিধায়করা শপথ নেবেন।

পার্থ আরও জানান, বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিধানসভার স্পিকার হবেন বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ই। স্পিকার নির্বাচনের দিন দায়িত্ব পালন করবেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। কারা মন্ত্রী হবেন সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি; সেটা মমতা ঠিক করবেন।

সোমবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে আসেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মমতাকে বিধানসভার পরিষদীয় দলের দলনেত্রী নির্বাচিত করেন জয়ী বিধায়করা।

এছাড়া বৈঠকে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘প্রোটেম স্পিকার’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তাকেই বিধানসভার অধ্যক্ষ পদে বসানোর প্রস্তাব দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন তৃণমূল মহাসচিব। আগামী ৬ মে ‘প্রোটেম স্পিকার’ হিসেবে বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন বিমান। আর তার হাতে সুব্রত মুখোপাধ্যায় দায়িত্ব তুলে দেবেন।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯২ আসনের মধ্যে ২১৩টি আসনে জিতেছে তৃণমূল। যদিও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ আসন নন্দীগ্রামে জিততে পারেননি মমতা। এই আসনে ফল নিয়ে চরম নাটকীয়তার পর রোববার রাতে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দেয়, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী জিতেছেন।

এর আগে নন্দীগ্রামে পরাজিত মমতা মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন কি-না এ নিয়ে কথা ওঠে। বলা হয়েছিল, ভারতের সংবিধানের ১৬৩ ও ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা ধরে রেখে মমতা যদি নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরে যান, তাহলে অন্য কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে ৬ মাস সময় পাবেন তিনি। সেক্ষেত্রে দলের কোনো এক সদস্যকে পদত্যাগ করে তার আসনটি শূন্য করে দিতে হবে। আর সেখান থেকেই নির্বাচন করে রাজ্যের ২৯৪ আসনের বিধানসভার আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হবেন মমতা।

টানা ছয় মাস মন্ত্রী কিংবা মুখ্যমন্ত্রী থাকতে হলে তাকে রাজ্যের কোনো একটি আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। তা না হলে ১৮০ দিন পর তার পদ বাতিল হয়ে যাবে।

ভারতের সংবিধানের ১৬৩ ও ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশটিতে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হতে হলে বিধানসভার সদস্য হতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করবেন রাজ্যের বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতারাই।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
পশ্চিমবঙ্গ বিনোদন

তারকা প্রার্থীদের মধ্যে কে জিতলেন কে হারলেন?

এবারে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে নজর ছিলো তারকাদের দিকে। ভোটের আগে কেউ যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে, কেউ বিজেপিতে।

ভোট শেষে জয়ের তালিকায় ঘাসফুল প্রতীকের প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি। গেরুয়া শিবিরের দু’জন তারকা প্রার্থী জয় পেয়েছেন নির্বাচনে। পরজয়ের তিক্ত স্বাদও পেয়েছেন দুই দলেরর একাধিক সেলিব্রেটি ক্যান্ডিডেট।

বারাসত কেন্দ্রে এবার হ্যাটট্রিক করলেন তৃণমূল প্রার্থী চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী । ওদিকে বারাকপুরের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় বাজিমাত করলেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী । প্রথমবার সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়েই জয়ের স্বাদ পেলেন অদিতি মুন্সি, লাভলি মৈত্র, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে প্রচার করেও হারতে হল সায়নী ঘোষকে।

আসানসোল দক্ষিণে জিতলেন বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পল। দিলীপ ঘোষের গড় হিসেবে পরিচিত খড়গপুর সদরে জিতলেন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়া অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়।

জয়ী হলেন যারা

লাভলি মৈত্র – সোনারপুর দক্ষিণ (তৃণমূল)
চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী – বারাসত (তৃণমূল)
জুন মালিয়া – মেদিনীপুর (তৃণমূল)
রাজ চক্রবর্তী – বারাকপুর (তৃণমূল)
কাঞ্চন মল্লিক – উত্তরপাড়া (তৃণমূল)
বীরবাহা হাঁসদা – ঝাড়গ্রাম
ইন্দ্রনীল সেন – চন্দননগর (তৃণমূল)
অদিতি মুন্সি – রাজারহাট-গোপালপুর (তৃণমূল)
সোহম চক্রবর্তী – চণ্ডীপুর (তৃণমূল)
হিরণ চট্টোপাধ্যায় – খড়গপুর সদর (বিজেপি)
অগ্নিমিত্রা পল – আসানসোল দক্ষিণ (বিজেপি)

পরাজিত যারা

রুদ্রনীল ঘোষ – ভবানীপুর (বিজেপি)
বাবুল সুপ্রিয় – টালিগঞ্জ (বিজেপি)
পায়েল সরকার – বেহালা পূর্ব (বিজেপি)
শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় – বেহালা পশ্চিম (বিজেপি)
তনুশ্রী চক্রবর্তী – শ্যামপুর (বিজেপি)
যশ দাশগুপ্ত – চণ্ডীতলা (বিজেপি)
পার্ণো মিত্র – বরানগর (বিজেপি)
অঞ্জনা বসু – সোনারপুর দক্ষিণ (বিজেপি)
লকেট চট্টোপাধ্যায় -চুঁচুড়া (বিজেপি)
পাপিয়া অধিকারী – উলুবেড়িয়া দক্ষিণ (বিজেপি)
কৌশানি মুখোপাধ্যায় – কৃষ্ণনগর উত্তর (তৃণমূল)
সায়নী ঘোষ – আসানসোল দক্ষিণ (তৃণমূল)
সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় – বাঁকুড়া (তৃণমূল)
দেবদূত ঘোষ – পরাজিত (সিপিএম)

আরও পড়ুন : ‘ভাত চাই? শ্রীলেখা মাসিকে কল করুন’

ভয়েস টিভি/ ডি

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

হেরে যাওয়া মমতার মূখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ কতটুকু?

বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের টানা তৃতীয়বারের মত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত হলেও সংকটে পড়লে নেত্রী মমতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়া  নিয়ে।

নন্দীগ্রামে নিজের আসনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেরে যাওয়ার খবর আসায় প্রশ্ন উঠেছে- দল সরকার গঠন করলে তিনি কি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন?

ভারতীয় সংবিধানের ১৬৩ ও ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দেশটির কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে হলে তাকে ভারতের নাগরিক হতে হবে এবং বয়স হতে হবে ২৫ বা তার বেশি।

তাকে রাজ্যের বিধানসভার সদস্য হতে হবে। আর বিধানসভার সদস্য না হয়েও কেউ যদি মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেন, তাকে রাজ্যপালের অনুমতি নিতে হবে।

কেউ হেরে যাওয়ার পরও তার দল যদি সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায় এবং দলের নির্বাচিত সদস্যরা যদি তাকে নেতা নির্বাচিত করেন, তাহলে তার মুখ্যমন্ত্রী হতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

তবে ভোটে না জিতেও মুখ্যমন্ত্রী হলে তাকে ওই পদে বসার ১৮০ দিনের মধ্যে কোনো একটি আসন থেকে জিতে আসতে হবে। তা না পারলে ছেড়ে দিতে হবে পদ।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ২৯৪ আসনের মধ্যে দুটির ভোটগ্রহণ প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত রয়েছে। ফলে এর একটি আসনে ছয় মাসের মধ্যে জিতে এলেই মমতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হবে ।

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

 

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

নিজের আসন নন্দীগ্রামে পিছিয়ে মমতা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে এগিয়ে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। পিছিয়ে পড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম রাউন্ড শেষে ১৪৯৭ ভোটে এগিয়ে যান শুভেন্দু অধিকারী। দ্বিতীয় রাউন্ডের শেষে লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪৬০। তৃতীয় রাউন্ড শেষে প্রায় ৮০০০ ভোটে পিছিয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখনও ১৪ রাউন্ডের গণনা বাকি।

সকাল থেকে পোস্টাল ব্যালটেও এগিয়ে ছিলেন শুভেন্দু। কিছুক্ষণের মধ্যে যদিও এগিয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে প্রথম রাউন্ড শেষে ফের উলটে যায় ফল। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, নন্দীগ্রাম ২ এ ১-২৬ নম্বর বুথে শুভেন্দু অধিকারীর স্ট্রং হোল্ড রয়েছে। ২৭-৯৬ নম্বর বুথে হবে শেয়ানে শেয়ানে টক্কর চলছে। ৯৭-১৭৭ নম্বর বুথ নন্দীগ্রাম ২-তে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তবে জানা যাচ্ছে, নন্দীগ্রাম ১-এ অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানে তৃণমূল।

২৯৪ আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে ২৯২টি আসনে। সাত কোটি ৩২ লাখ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন প্রায় ৮১ শতাংশ। দুপুরের পর থেকে ফলাফলের একটা ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ নির্বাচনের মূল লক্ষ্য নন্দীগ্রাম। পূর্ব মেদিনীপুরের এই আসনেই লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তাঁরই একসময়ের ডান হাত, মন্ত্রিসভার সাবেক সদস্য শুভেন্দু অধিকারী। তাই শুধু রাজ্যবাসী নয়, গোটা দেশই এখন তাকিয়ে আছে নন্দীগ্রামের দিকে। কে জেতে, কে হারে নন্দীগ্রামে ? মমতা, না শুভেন্দু।

নন্দীগ্রাম আজ দৃশ্যত উত্তেজনায় কাঁপছে। এই আসনের ফল গণনা হবে নন্দীগ্রাম থেকে ৬৭ কিলোমিটার দূরে হলদিয়ার গভর্নমেন্ট স্পনসরড হাইস্কুলে। সেই ভোটকেন্দ্রের ভোট গণনা দেখতে গতকাল শনিবার বিকেলে ও রাতে ছুটে গেছেন তৃণমূল ও বিজেপির বহু নেতা–নেত্রী। মমতার নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান গতকালই রাতেই হলদিয়ায় চলে গেছেন ভোট গণনায় যোগ দিতে। রাতে হোটেলে থেকে আজ সকালে দলবল নিয়ে ভোট গণনাকেন্দ্রে যাবেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা প্রলয় পালসহ অন্য বিজেপি নেতারা সেখানে গেছেন। তবে মমতা আজ এখানে আসবেন না। তিনি দক্ষিণ কলকাতার নিজের কালীঘাটের বাড়িতে অবস্থান করে ভোটের ফলাফলের ওপর নজর রাখবেন।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে মমতার হ্যাটট্রিক নাকি বিজেপি?

ভয়েস টিভি/এসএফ