Categories
পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ব

অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও চিকিৎসা সরাঞ্জাম নিয়ে চট্টগামে ভারতের জাহাজ

দুইটি ৯৬০ এলপিএম মেডিক্যাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট (এমওপি), চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস সাবিত্রী’ চট্টগ্রাম বন্দর জেটিতে পৌঁছেছে। ২ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টায় জাহাজটি বন্দরের এনসিটি ৫ নম্বর জেটিতে আসে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জন্য এগুলো উপহার হিসেবে আনা হয়েছে।

চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার এর পক্ষ থেকে জাহাজটিকে স্বাগত জানান চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন মইন। তিনি আইএনএস সাবিত্রীর কমান্ডার এন রবি সিংকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

বিএনএস পতেঙ্গার নেভি হাসপাতালের কমান্ডিং অফিসার কমান্ডার এম মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষে এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাগজপত্র গ্রহণ করেন।

আইএনএস সাবিত্রী জেটিতে আসার সময় নৌবাহিনীর চিরায়ত রেওয়াজ অনুযায়ী সুসজ্জিত ব্যান্ড দল বাদ্য পরিবেশন করে। নৌবাহিনীর সিনিয়র চিফ পেটি অফিসার মো.ওমর ফারুকের পরিচালনায় ২৯ সদস্যের ব্যান্ড দলটি পরিবেশন করে- জয় বাংলা বাংলার জয়, ধনধান্যে পুষ্প ভরা, যে মাটির বুকে, একাত্তরের মা জননী, ও ভাই খাঁটি সোনা, প্রতিদিন তোমায় দেখি ইত্যাদি দেশের গান।

ভয়েস টিভি

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

জগৎ শেঠ : যাদের কাছে ধার নিতেন রাজা-জমিদাররাও!

অষ্টাদশ শতকে বাংলার ইতিহাসে বিখ্যাত ধনী জগৎ শেঠ, যাদের কাছে ধার নিতেন রাজা-জমিদাররাও! এই জগৎ শেঠ কোনও একজন ব্যক্তি নন। জগৎ শেঠ একটি পারিবারিক উপাধি। সেই সময়কার সুবা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে এই পরিবারটির আবাস ছিল। বিপুল ধনসম্পদ ও সেই সুবাদে প্রভূত রাজনৈতিক ক্ষমতা ভোগ করতো জগৎ শেঠরা।

এই বংশের প্রাচীন ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, জগৎ শেঠরা বাংলার মানুষ নন। তাঁদের আদি নিবাস রাজস্থানের জোধপুরের নাগোর অঞ্চলে। প্রথমে তারা শ্বেতাম্বর জৈন ধর্মাবলম্বী ছিলেন। পরে বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করেন। আরও পরে তারা আবার জৈনধর্ম নেন।

ইতিহাস বলে, এই পরিবারের গোড়াপত্তনকারি পুরুষ হীরানন্দ সাহু। গুপ্তধনের বদৌলতেই তিনি অগাধ সম্পদের মালিক হয়েছিলেন। হীরানন্দ সাহু জোধপুর থকে ভাগ্য অন্বেষণে পাটনায় আসেন। অসম্ভব দরিদ্র হীরানন্দ মনের দুঃখে দিন কাটাতেন। এমন সময়ে এক দিন তিনি পাটনা শহরের কাছে একটি জঙ্গলে প্রবেশ করেন। সেখানে কারও আর্তনাদ শুনতে পেয়ে তা অনুসরণ করে একটি ভাঙা প্রাসাদে পৌঁছান। তার ভিতর থেকেই সেই আওয়াজ আসছিল। সেখানে দেখেন এক মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। হীরানন্দ তার যথাসাধ্য সেবা করলেও সেই বৃদ্ধ মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি হীরানন্দকে এক গুপ্তধনের সন্ধান দিয়ে যান।

সেই গুপ্তধনের মধ্যে নাকি ছিল প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা। এই সোনাই হীরানন্দের বংশকে ধনী করে তোলে। হীরানন্দ তার সাত ছেলেকে ভারতের সাতটি জায়গায় গদিয়ান করে দেন। কনিষ্ঠ পুত্র মানিকচাঁদ আসেন মুর্শিদাবাদে। তিনিই জগৎশেঠ বংশের প্রতিষ্ঠাতা। এক সময়ে বাংলার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়। মানিকচাঁদ ঢাকাতেও তার গদি স্থাপন করেন।

মূলত তেজারতি বা ব্যাঙ্কিং ছিল মানিকচাঁদের ব্যবসা। তখন বাংলা মুঘল শাসনাধীন। নবাব পদে আসীন মুঘল বংশীয় আজিম-উস-শান। মুর্শিদকুলি খান তার দেওয়ান মাত্র। এই সময় নবাবের সঙ্গে দেওয়ানের মনোমালিন্য হয়। মুর্শিদকুলি মুর্শিদাবাদে চলে আসেন। মানিকচাঁদও তার সঙ্গে চলে আসেন। ক্রমে মানিকচাঁদ মুর্শিদকুলির অন্যতম প্রধান পরামর্শদাতা হয়ে ওঠেন। সঙ্গে সঙ্গে তারও শ্রীবৃদ্ধি ঘটতে থাকে।

কথিত আছে, মুর্শিদকুলি বাংলা-বিহার উড়িষ্যার নিজামতি পদ লাভ করে মুর্শিদাবাদে টাঁকশাল স্থাপন করেছিলেন। সেই টাঁকশালের প্রধান পরামর্শদাতা ছিলেন মানিকচাঁদ।

তৎকালীন দিল্লির বাদশা ফারুখশিয়রের কাছ থেকে মুর্শিদকুলিই মানিকচাঁদের জন্য ‘শেঠ’ উপাধি জোগাড় করে দেন। বিনিময়ে মানিকচাঁদ মুর্শিদকুলিকে বিপুল অর্থ দিয়েছিলেন। তিনিই ভাগীরথীর পূর্ব তীরে প্রাসাদ নির্মাণ করেন, যা আজও একটি দ্রষ্টব্য স্থান।

মানিকচাঁদ পুত্র সন্তান ছিল না। নিজের ভাগ্নে ফতেচাঁদকে দত্তক নিয়েছিলেন তিনি। ফতেচাঁদই প্রথম জগৎ শেঠ নামে পরিচিত হন।

ইতোমধ্যে মুর্শিদকুলির মৃত্যু হলে তার জামাতা সুজাউদ্দিন বাংলার সুবেদার হন। জগৎশেঠ ফতেচাঁদ তার প্রধান পরামর্শদাতাদের অন্যতম হয়ে ওঠেন। ফতেচাঁদের সহায়তাতেই সুজাউদ্দিন দেড় কোটি টাকা রাজস্ব হিসেবে দিল্লিতে পাঠাতে পেরেছিলেন। এ থেকেই বোঝা যায়, জগৎ শেঠ এর মধ্যেই কী পরিমাণ আর্থিক সম্পদের মালিক হয়ে উঠেছিলেন।

মৃত্যুর আগে সুজাউদ্দিন তার ছেলে সরফরাজ খানকে জগৎশেঠের পরামর্শ মেনে চলার উপদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোগবিলাসে আসক্ত সরফরাজ তা মানেননি। উল্টো জগৎ শেঠ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের তিনি জনসমক্ষে অপমান করতে শুরু করেন। অপমানিতদের মধ্যে আজিমাবাদের শাসনকর্তা আলিবর্দি খানও ছিলেন। আলিবর্দি তার দাদা হাজি আহমদ ও জগৎ শেঠের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সরফরাজকে সিংহাসনচ্যুত করেন।

১৭৪৪ সালে ফতেচাঁদ মারা যান। তার তিন ছেলে আনন্দচাঁদ, দয়াচাঁদ ও মহাচাঁদ। আনন্দচাঁদ ও দয়াচাঁদ অল্প বয়সেই মারা গিয়েছিলেন। ফলে বিপুল ধন-সম্পত্তির উত্তরাধিকার এসে পড়ে পৌত্র মহতাবচাঁদ ও স্বরূপচাঁদের উপর। দিল্লির বাদশাহের কাছ থেকে মহতাব ‘জগৎ শেঠ’ উপাধি লাভ করেন। স্বরূপচাঁদ লাভ করেন ‘মহারাজ’ উপাধি।

এই সময়েই জগৎ শেঠদের আর্থিক প্রতিপত্তি বিশেষ পর্যায়ে ওঠে। তাঁদের গদিতে সর্বদাই ১০ কোটি টাকার কারবার চলত, উল্লেখ করেছেন ‘মুর্শিদাবাদ কাহিনী’র লেখক নিখিলনাথ রায়। শুধু নবাব নন, তাঁদের খাতক ছিলেন বড় বড় জমিদার, মহাজন ও অন্য ব্যবসায়ীরাও।

ক্রমে ইংরেজ ও ফরসি বণিকরাও জগৎ শেঠের কাছ থেকে টাকা ধার নিতে শুরু করেন। জগৎ শেঠের নিয়মিত আনাগোনা শুরু হয় কলকাতা ও চন্দননগরে। ইংরেজ ও ফরাসি বণিকদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য অনেক ধার দিতেন মহতাবচাঁদ। বলাই বাহুল্য, সেটা ঘটত চড়া সুদের বিনিময়ে।

আলিবর্দি খান নবাব হওয়ার পর বাংলায় মরাঠি বর্গীদের আক্রমণ ঘটে। নিরন্তর যুদ্ধ চালাতে হয় নবাবকে। এই যুদ্ধের খরচও অনেকাংশে ঋণ হিসেবে দিয়েছিলেন জগৎ শেঠ মহাতাব। বর্গীদের আক্রমণ আলিবর্দি সাফল্যের সঙ্গেই রুখতে পেরেছিলেন। তবে এর পিছনে যে জগৎ শেঠের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে, তা সুবে বাংলায় কারও জানতে বাকি ছিল না। এই সময় বাংলার অভ্যন্তরীণ বাজারেরও নিয়ন্ত্রা হয়ে ওঠেন জগৎ শেঠ।

জগৎ শেঠ এই সময় থেকে বাংলার অনেক জমিদারকে তার খাতকে পরিণত করেন। বাংলার নবাবের রাজস্ব নীতি ছিল ভয়ানক কড়া। রাজস্ব অনাদায়ে আলিবর্দী জমিদারদের কঠোর শাস্তি দিয়েছেন, এমন নজিরও প্রচুর। এই কারণে দ্রুত টাকা জোগাড় করতে জমিদাররা জগৎ শেঠের দ্বারস্থ হতে শুরু করেন। জগৎ শেঠও তার চড়া সুদের বিনিময়ে ঋণ দেন। অনেক সময়ে তাঁদের জামিনদার হয়ে নবাবের সঙ্গে বিবাদের মীমাংসা করেন।

এই সময়েই জগৎ শেঠ পরিবারের বৈভব বাড়তে থাকে। কিন্তু আলিবর্দির পর যখন সিরাজউদ্দৌলা নবাব হন, তখন জগৎ শেঠদের ভাগ্যের চাকা অন্য দিকে ঘুরতে শুরু করেছে। মোহনলালকে দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ করেন সিরাজ। মোহনলালের সঙ্গে জগৎ শেঠের সম্পর্ক ভাল ছিল না। ও দিকে ইংরেজদের হয়ে সাফাই গাইতে গিয়ে জগৎ শেঠ সিরাজের কাছে অপমানিত হন। সিরাজ নাকি জনসমক্ষে তাঁকে একটি চড় মারেন।

আহত বাঘ জগৎ শেঠ এ বার লিপ্ত হন সিরাজ-বিরোধী ষড়যন্ত্রে। লর্ড ক্লাইভের সঙ্গে সেই ষড়যন্ত্রে অংশ নেন সিরাজের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বিরক্ত বাংলার বেশ কিছু বিখ্যাত জমিদারও। জানা যায়, মিরজাফর এবং ঘসেটি বেগমও জগৎ শেঠের উদ্যোগেই এই ষড়যন্ত্রের অংশীদার হয়ে ওঠেন।

পলাশীর যুদ্ধে সিরাজের পরাজয়ের পরে জগৎ শেঠ ইংরেজদের আসল রূপ বুঝতে পারেন। কিন্তু তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। মীরজাফরের পরে বাংলার নবাবি তখতে বসেন মীরকাশিম। স্বাধীনচেতা নবাবের সঙ্গে ইংরেজদের সঙ্ঘাত বাধে। ১৭৬৪-এ বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত মীরকাশিম জগৎ শেঠ মহাতাবচাঁদ ও স্বরূপচাঁদকে বন্দি করে মুঙ্গেরে নিয়ে যান এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের হত্যা করেন।

বাংলার এই ব্যাঙ্কার পরিবারকে ঘিরে অনেক কিংবদন্তি, অনেক রহস্য। বহু আলোছায়া ঘিরে রয়েছে মুর্শিদাবাদে অবস্থিত জগৎ শেঠদের প্রাসাদকে ঘিরেও। পল্লবিত রয়েছে গুপ্তধন সংক্রান্ত নানা কাহিনিও। আজ এই প্রাসাদ একটি সংগ্রহশালা।

জগৎ শেঠের প্রাসাদে রয়েছে এমন কিছু জিনিস যা তাঁদের বৈভবের সাক্ষ্য বহন করে। বহুমূল্য আসবাব, অস্ত্রশস্ত্র ইত্যাদি ছড়িয়ে রয়েছে সারা বাড়িতেই। কিন্তু সেই সঙ্গে রয়েছে কিছু রহস্যও। প্রাসাদে ঢোকার মুখেই রয়েছে এক গোপন সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ। যে সুড়ঙ্গটি কাঠগোলা বাগানের সঙ্গে যুক্ত। মনে রাখা দরকার, জগৎ শেঠরা ছিলেন জৈন ধর্মাবলম্বী। আর কাঠগোলা বাগান আসলে জিয়াগঞ্জের ধনী ব্যবসায়ী জৈন ধর্মাবলম্বী দুর্গার পরিবারের প্রাসাদ।

জগৎ শেঠের প্রাসাদে রয়েছে ভূগর্ভস্থ কক্ষ। মাটির নীচের এই ঘরগুলিতেই নাকি সঞ্চিত থাকত জগৎ শেঠ পরিবারের টাকা-পয়সা, সোনা-দানা।

বিংশ শতকের গোড়ার দিক পর্যন্ত এই পরিবারের উপাধি হিসেবে ‘জগৎ শেঠ’ ব্যবহৃত হয়েছে। জানা যায়, ১৯ শতকে লর্ড বেন্টিঙ্কের সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৎকালীন জগৎ শেঠ ইন্দ্রচাঁদকে বছরে ১২০০ পাউন্ড পেনশন দিত বলেন। সে কালের হিসেবে অঙ্কটা খুব কম নয়।

ঠিক কী পরিমাণ সম্পদের অধিকারী ছিল এই পরিবার, তা আজ আর জানা যায় না। জগৎ শেঠের প্রাসাদে রাখা জিনিসপত্র এবং সেই প্রাসাদ ও বাগানের সৌন্দর্য থেকে খানিক আন্দাজ পাওয়া যায় মাত্র। কোথায় গেল সেই বিপুল সম্পদ? উত্তর মেলে না।

জগৎ শেঠ প্রাসাদে রাখা রয়েছে কৌতূহল জাগানো বেশ কিছু জিনিস। তার মধ্যে রয়েছে লর্ড ক্লাইভের পোশাক। রয়েছে বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য এক অতি উচ্চমানের মসলিন কাপড়ও। কিন্তু এর কোনওটিই জগৎ শেঠের কিংবদন্তিতুল্য বৈভবের সাক্ষ্য হিসেবে যথেষ্ট নয়।

এই প্রাসাদের অন্যতম রহস্যময় বস্তুটি হল একটি আয়না। কেউ যদি এই আয়নার সামনে দাঁড়ান, তিনি নিজের মুখ দেখতে পান না। দেহের অন্যান্য অংশ দেখা গেলেও খুব আশ্চর্যজনকভাবে এই মুখ দেখতে না পারার ব্যাপারটা আসলে আয়না নির্মাতাদের কৃৎকৌশল। কিন্তু জগৎ শেঠ পরিবারের ইতিহাসের দিকে তাকালে এই আয়নাকে বড় বেশি প্রতীকী বলে মনে হয়। বাংলার ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কলঙ্কের সঙ্গে জড়িত জগৎ শেঠের আয়না যেন লুকিয়ে ফেলতে চায় অনেক কিছু। আয়নার পিছনে কী রয়েছে যেমন জানা যায় না, তেমনই আয়নার সামনে দাঁড়ানো মানুষও আত্মপরিচয় হারিয়ে ফেলেন। হারিয়ে যায় বাংলার ইতিহাসের এক অকথিত অধ্যায়।

আরও পড়ুন : নেই গরু, স্ত্রী-সন্তানই ভরসা

ভয়েস টিভি/ এএন

Categories
পশ্চিমবঙ্গ বিনোদন

এবার ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দেব

একে টানা বৃষ্টি। তার উপর ডিভিসি থেকে ছাড়া জল। সব মিলিয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দলের সাংসদ-বিধায়কদের নির্দেশ দিয়েছেন নিজেদের এলাকায় গিয়ে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে।

দীপক অধিকারী দেব বুধবার নিজের এলাকায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতে পা রাখলেও, সচরাচর আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তাকে দেখা যায় না। কিন্তু বুধবার কেন্দ্রকে কার্যত তুলোধনা করেন তিনি।

দেব বলেন, ‘‘ভোটের আগে এসে অনেক বড় বড় কথা বলে গিয়েছিলেন। বাংলাকে সোনার বাংলা বানাবেন, এই করবেন, সেই করবেন। অনেক কথা বলেছিলেন। কিন্তু ভোটের পর তাদের কারও হদিস মিলছে না। এত বলার পর, এত বার চিঠি দেওয়ার পরও ঘুম ভাঙেনি কেন্দ্রের। শুধু ভোটের সময় এসে বড় বড় কথা বলে চলে যান।’’

ভৌগলিক অবস্থানের কারণে ঘাটালে প্রতি বছরই বন্যা হয়। পাশ দিয়েই গিয়েছে শিলাবতী নদী। একটু বেশি বৃষ্টি হলেই বানভাসি অবস্থা হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, কেশপুর, চন্দ্রকোনা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে ১৯৮২ সালে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের সুপারিশ করা হয়।

সংসদ সদস্য হওয়ার পর দেব নিজেও সংসদে বহু বার তা রূপায়নের জন্য অনুরোধ করেছেন। কিন্তু এত দিনেও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বাস্তবায়ন হয়নি। মমতা দেশের প্রধানমন্ত্রী না হলে, তা রূপায়ণ হওয়ার সম্ভাবনাও নেই বলে বুধবার মন্তব্য করেন দেব। তার কথায়, ‘‘সাধারণত কারও বিরুদ্ধে এভাবে কথা বলি না আমি। কিন্তু আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি, দিদি যত দিন না প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, তত দিন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়নের কোনও সম্ভাবনাই নেই। তাই দিদিকে প্রধানমন্ত্রী করতেই হবে। তা না হলে, কেন্দ্রে যে সরকারই থাকুক, বিশেষ করে আজকের সরকার যদি থাকে, ঘাটালের মানুষের এই দুর্দশা ঘুচবে না।’’

Categories
পশ্চিমবঙ্গ বিনোদন

মমতাকে ‘মাফিয়া’ বলে সমালোচিত কঙ্গনা

ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানউত। দিল্লিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক করেন বলিউডের গীতিকার জাভেদ আখতার এবং অভিনেত্রী শাবানা আজমির সঙ্গে। সেই বৈঠককে ‘মাফিয়া’দের বৈঠক বলে নিজের ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন কঙ্গনা।

এর আগেও পশ্চিববঙ্গের নির্বাচন ও তার পরবর্তী সময়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছিলেন কঙ্গনা।

কঙ্গনা তখন বলেছেন, ‘বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি…। যা ট্রেন্ড দেখছি তাতে বাংলায় আর হিন্দুরা মেজরিটিতে নেই এবং তথ্য অনুযায়ী গোটা ভারতবর্ষের তুলনায় বাংলার মুসলিমরা সবচেয়ে গরিব আর বঞ্চিত। ভালো, আরেকটা কাশ্মীর তৈরি হচ্ছে।’

এমন মন্তব্য করার জন্য প্রবল সমালোচিত হয়েছিলেন বলিউডের কন্ট্রোভার্সি ক্যুইন। উসকানিমূলক মন্তব্যের জন্য একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তার টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনও হেলদোল নেই অভিনেত্রীর। ফের একবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেছেন তিনি। এবারও তার পোস্ট ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেনন বলিউডের কিংবদন্তি গীতিকার জাভেদ আখতার এবং খ্যাতনামা অভিনেত্রী শাবানা আজমি।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ব

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তার পরাজয়কে চ্যালেঞ্জ করে মমতা একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলার বিচারক এক সময় বিজেপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন অভিযোগ তুলে বিচারক বদলের আবেদন করেন মমতা। ৭ জুলাই বুধবার আদালত তার আবেদন খারিজ করে তাকে এ জরিমানা করেছেন।

বিচারক কৌশিক চন্দ আবেদনটি খারিজ করে দিয়ে মন্তব্য করেছেন, তিনি মনে করেন না যে এই মামলায় তার দিক থেকে কোনও স্বার্থের সংঘাত ছিল।

রায় দিতে গিয়ে বিচারক কৌশিক চন্দ বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তিরই রাজনৈতিক ঝোঁক থাকতে পারে। কিন্তু এটা ভাবা অত্যন্ত ভুল যে একজন বিচারক নির্লিপ্ত না হয়ে তার কর্তব্য পালন করতে ব্যর্থ হবেন। যে আবেদনকারীর মামলাটি শোনার তার কোনও ব্যক্তিগত আগ্রহ নেই, আবার মামলাটি শুনতে তার দ্বিধাও নেই।

প্রধান বিচারপতি যে মামলা তার কাছে পাঠিয়েছেন, সেটি শোনা তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এই সব কারণ দেখিয়েই তিনি মমতার মামলা সরিয়ে নেয়ার আবেদনটি খারিজ করে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা জমা দিতে বলেন। তবে, তিনি যে এই মামলা থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন, সেটাও রায়ে উল্লেখ করেছেন।

তার কারণ হিসাবে বিচারপতি বলেন, তিনি যদি মামলাটি থেকে সরে না যান তাহলে এই বিতর্ক থামবে না।

রায়ের পরে নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জীর নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান জানিয়েছেন, জরিমানার ব্যাপারটা কখনই মানা যায় না। মামলা সরানোর আবেদন করেছিলাম বলেই জরিমানা করা হয়েছে। আমরা এই জরিমানার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাব।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

ভুয়া টিকা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তুলকালাম : অসুস্থ হয়ে পড়লেন মিমি

করোনার ভুয়া টিকা দেয়ার ঘটনা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। ভুয়া টিকা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীসহ কয়েকজন রাজনীতিক।

রাজ্য বিজেপির দাবি, এ ঘটনার মদদদাতাদের খুঁজে বের করতে হবে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে তদন্তের ভার দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে।

ভুয়া টিকা দেওয়ার ঘটনা প্রকাশের পরে তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশও। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা সৈকত ঘোষের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আটক দেবাঞ্জন দেবকে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্রকে এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। তাঁর নির্দেশ, এ ঘটনায় পুলিশ যেন কোনো আপস না করে, সহানুভূতি না দেখায়।

মমতার এমন কড়া নির্দেশনার পরও রাজ্য বিজেপির নেতারা ভুয়া টিকাকাণ্ড নিয়ে সরব হয়েছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘কলকাতায় ভুয়া টিকা দেওয়ার ক্যাম্প চলছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, একজন সাংসদও এই ভুয়া টিকা নিয়েছেন। আমার মনে হয়, এর পেছনে বহু প্রভাবশালী যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের চিহ্নিত করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ গিনিপিগ নয়।’

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তাই সিবিআইকে দিয়ে এ ঘটনার তদন্ত করাতে হবে। তাহলেই বেরিয়ে পড়বে আসল দোষী ব্যক্তিদের নাম।

অনেকটা একই সুরে কথা বলেছেন বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তৃণমূলের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, পৌর করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অতীন ঘোষ ও তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে। তাঁর প্রশ্ন, রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কেন মামলা হবে না?

ভুয়া টিকাকাণ্ডের বিষয়ে সিবিআইয়ের তদন্ত চেয়ে গতকাল শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদী আইনজীবী সন্দীপন দাস। আগামী সপ্তাহে মামলাটির শুনানি হতে পারে।

গত মঙ্গলবার কলকাতার কসবায় একটি কেন্দ্রে গিয়ে করোনার টিকা নেন তৃণমূলের সাংসদ ও অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। এ সময় তাঁকে দেওয়া হয়নি কোনো সনদ। জানানো হয়, মোবাইলে পাঠানো হবে টিকার সনদ। কিন্তু সেই সনদ না আসায় সন্দেহ হয় মিমির। পুলিশ ডাকেন তিনি। আটক করা হয় ওই কেন্দ্রের পরিচালক দেবাঞ্জন দেবকে। এরপরই কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরিয়ে আসে সাপ।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, নিজেকে একজন আইএএস কর্মকর্তা ও কলকাতা করপোরেশনের যুগ্ম কমিশনার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুয়া টিকার কেন্দ্র চালাতেন দেবাঞ্জন। সরকারি স্টিকার বসানো গাড়িতে চড়তেন। ছিল সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীও। দেবাঞ্জন ১৩ জনের একটি দল তৈরি করে তাদের দিয়ে ভুয়া টিকা দেওয়ার কেন্দ্র পরিচালনা করতেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ১১ জনকে চিহ্নিত করেছে। দেবাঞ্জনের কসবার দপ্তরে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু ভুয়া করোনার টিকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

এবার ফ্যাশন পত্রিকার প্রচ্ছদজুড়ে এমপি মহুয়া

স্পষ্ট নির্ভীক বক্তা হিসেবে বারবার নজর কেড়েছেন তিনি। কিন্তু এবার অন্য রকম সাজের জন্য সকলকে তাক লাগিয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সম্প্রতি এক ফ্যাশন পত্রিকার প্রচ্ছদে স্থান করে নিয়েছেন তিনি।

সাধারণত ব্লক প্রিন্ট ব্লাউজ এবং সুতির শাড়িতে ছিমছাম সাজেই দেখা যায় মহুয়াকে। কিন্তু এবার ভোল পাল্টে ডিজাইনার পায়েল খণ্ডওয়ালার হাতে বোনা সিল্কের শাড়ি এবং মেটালিক হাই-নেক ব্লাউজে একদম গ্ল্যামারাস অবতারে দেখা গেল তাকে।

চকচকে চুল পেতে আঁচড়ানোয় একটা পরিচ্ছন্ন সাজের সঙ্গে মহুয়ার স্বল্প মেকআপে মানিয়েছে বেশ। কালার ব্লক করা মেটালিক স্ট্রাইপ দেয়া শাড়ি তার সৌন্দর্যে অভিজাত ছোঁয়া এনে দিয়েছে। এই সাজের সঙ্গে গয়না বা অন্য কোনও অ্যাকসেসরি পরেননি মহুয়া। অথচ তার গ্ল্যামারের ছ’টা যেন বেরিয়ে আসছে।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গে বাতিল হলো মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাতিল হলো মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। ৭ জুন সোমবার নবান্ন উৎসবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ তথ্য জানান।

জনমত দেখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৭ দিনের মধ্যে মূল্যায়ন পদ্ধতি জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ৩৪ হাজার ই-মেইল জমা পড়েছে। ৮৩ শতাংশ মানুষ পরীক্ষা না নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞ কমিটিও এ বছর পরীক্ষা না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তাই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বাতিল করা হলো।

মমতা আরও বলেন, পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তা ৭ দিনের মধ্যে জানানো হবে। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেই দিকেও খেয়াল রাখারও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ বিনোদন

জলোচ্ছ্বাসের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে সোহম

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আসার আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গের নিজ নির্বাচনী এলাকা চণ্ডীপুরে রয়েছেন সোহম চক্রবর্তী। এই আসন থেকেই সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক তিনি।

সোহম ও তার টিমের উদ্যোগেই বিপজ্জনক এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়েও সকলের খোঁজ নিয়েছিলেন তারকা বিধায়ক। ঠিক মতো খাবার-দাবার সকলে পাচ্ছেন কিনা জানতে চেয়েছেন। নিজের এলাকায় কন্ট্রোলরুমও খুলেছেন তিনি। আবার ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও চণ্ডীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখছেন তিনি।

নিজের টুইটার প্রোফাইলে এলাকা পরিদর্শনের ছবি আপলোড করেছেন সোহম।

ক্যাপশনে তৃণমূল বিধায়ক জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং তার টিমের সদস্যরা যতভাবে সম্ভব অসহায় মানুষকে সাহায্য করছেন যাতে খুব তাড়াতাড়ি এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠা যায়।

একুশের ভোটে জেতার পরই করোনা মোকাবিলায় টিম নিয়ে নেমে পড়েছিলেন সোহম। চণ্ডীপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। দুর্যোগের এই সময়ে করোনা রোগীদের থাকার জন্যও আলাদা বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

২৬ মে মঙ্গলবার সকালেই চণ্ডীপুর বিধানসভার ভগবানপুরে ৬০টি শয্যার একটি সেফ হোম খোলা হয়েছে। যেখানে অক্সিজেন কনসেনট্রেটরও রয়েছে। ভগবানপুর গ্রামীণ হাসপাতালের ঠিক পাশেই এই সেফ হোমটি গড়ে তোলা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এখানে কোভিড রোগীরা থাকতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তারকা বিধায়ক। খুব শিগগিরি চণ্ডীপুর ব্লকেও একটি সেফ হোম খোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

উড়িষ্যার স্থলভাগে আছড়ে পড়লো ঘূর্ণিঝড় ইয়াস

উড়িষ্যার স্থলভাগে আছড়ে পড়লো অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। ২৬ মে বুধবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের বুলেটিনে আবাহওয়া অফিস জানিয়েছে, উড়িষ্যার বালেশ্বরের দক্ষিণে ইয়াস স্থলভাগে আছড়ে পড়া শুরু করেছে।

এই মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার, সর্বোচ্চ ১৫৫ কিলোমিটার। আগামী ৩ ঘণ্টা ধরে এই প্রক্রিয়া চলবে।

এই মুহূর্তে ধামরা থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্ব উত্তর-পূর্ব, দিঘা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিম ও বালেশ্বর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে ইয়াস-এর চোখ।

আবাহওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ৬ ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় ১৭ কিলোমিটার গতিবেগে এগোচ্ছে ইয়াস। বুধবার দুপুরের মধ্যে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রূপে ইয়াস উড়িষ্যার পারাদ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যে উড়িষ্যার বালেশ্বরের দক্ষিণ ও ধামরার উত্তর দিক দিয়ে অতিক্রম করে যাবে বলেই পূর্বাভাস। তারপর ঘূর্ণিঝড় চলে যাবে ঝাড়খণ্ডের দিকে।

বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উড়িষ্যার বালেশ্বর, ভদ্রক, কেন্দ্রাপাড়া, জগৎসিংহপুরের মতো উপকূলবর্তী বিভিন্ন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। অতি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা পশ্চিবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও। দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকাতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।

ভয়েসটিভি/এএস