Categories
পশ্চিমবঙ্গ

বদলে যাচ্ছে সেই শিয়ালদহ

প্ল্যাটফর্ম চত্বরে হকারের ভিড়। রংচটা দেয়াল। ইতিউতি খসে পড়ছে পলেস্তারা। পশ্চিমবঙ্গের শিয়ালদহ স্টেশনের এই চেনা ছবি বদলে যাচ্ছে। নতুন রূপে সেজে উঠছে গোটা স্টেশন চত্বর। শপিং মল থেকে রেস্তরাঁ। বিমানবন্দরের ধাঁচে সেবা মিলবে এগজিকিউটিভ লাউঞ্জ থেকে সুইট রুম- পাঁচতারা হোটেলের মতোই।

করোনার কারণে লোকাল এবং দূরপাল্লার রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বিশেষ কিছু ট্রেন চললেও স্টেশনে তেমন ব্যস্ততা নেই। ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি দিন গড়ে ১২ লক্ষ যাত্রীর চাপ সামলাতে হত শিয়ালদহ স্টেশনকে। তার ওপর দৈনিক গড়ে ৯১৯টি ট্রেনের চাপ। চাতালে হরেক জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসতেন হকাররা। অপরিচ্ছন্ন, যত্রতত্র দেয়ালে পানের পিকের দাগ।

এগজিটিউটিভ লাউঞ্জে তৈরি হয়েছিল আগেই। তা আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। নিউ নর্মালে ট্রেন ধরতে এসে যাত্রীরা চাইনিজ থেকে তন্দুরি চেখে দেখতে পারবেন। তার জন্য পয়সাও খুব বেশি খরচ করতে হবে না। কর্তৃপক্ষের দাবি, দাম রাখা হয়েছে সাধারণের সাধ্যের মধ্যেই। মাত্র ৫০ টাকায় বিলাসবহুল লাউঞ্জে এক ঘন্টা কাটানো যাবে।

স্টেশনে ঢুকে ডিসপ্লে বোর্ডে যদি দেখা যায়, ট্রেনের দেরি আছে, তাহলে যাত্রীরা এসি ডরমেটরি, টু-বেড, ফোর-বেড অথবা এসি সুইটে সময় কাটাতে পারবেন। ১২ এবং ২৪ ঘন্টার জন্য ঘরগুলির ভাড়া ৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা। ভারী ব্যাগ নিয়ে আর দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। স্টেশনেই মুশকিল আসান। স্টেশনের মূল ফটক দিয়ে ঢুকেই দোতলায় পাঁচতারা বন্দোবস্ত।

১ নম্বর গেটের দিকে সিঁড়ির দু’পাশে দোকানের ভিড়ে হাঁটাচলাই দায় ছিল। পাশে ছিল একটি টিকিট কাউন্টারও। সেটিও আর থাকছে না। ওই জায়গাটি ঘিরে একটি সংস্থাকে ভাড়া দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সব টিকিট কাউন্টারকে একই জায়গায় আনারও চেষ্টা চলছে।

দক্ষিণ শাখার প্ল্যাটফর্মের কাছে একটি শপিংমল তৈরি হচ্ছে। সেখানে নামীদামি সংস্থার রেস্তোরাঁও থাকছে। বিভিন্ন ছোট ছোট দোকান ভাড়া দেয়া হয়েছে। অনেকটা বিমানবন্দরের ধাঁচে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে মেট্রোর ঢোকা-বেরনোর পথও তৈরি হচ্ছে। সে কথা মাথায় রেখেই গোটা বিষয়টি সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। স্টেশনের দেয়ালে শিল্পীদের আঁকা ছবি অন্য মাত্রা যোগ করেছে।

শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার শৈলেন্দ্র প্রতাপ সিংহ জানান, চেষ্টা করছি নতুন অনেক কিছু তৈরি করার। যাত্রীদের স্বাচ্ছ্যন্দ এবং পরিষেবাই রেলের কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। পাল্টে যাচ্ছে প্ল্যাটফর্ম নম্বরও। যাতে সহজে ট্রেন ধরতে পারেন যাত্রীরা।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নারী ওসি

সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রথম নারী ওসি দেবশ্রী চট্টোপাধ্যায়। এ দুর্ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ি চালক এবং দেহরক্ষীরও মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ওপর হুগলির দাদপুর থানা এলাকায়।

পশ্চিমবঙ্গ সশস্ত্র পুলিশের ১২ ব্যাটালিয়নের কমান্ডান্ট পদে কর্মরত ছিলেন দেবশ্রী চট্টোপাধ্যায়। কলকাতা পুলিশের ইতিহাসে থানার প্রথম নারী ওসি ছিলেন দেবশ্রী। ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে তিনি শিলিগুড়ির ডাবগ্রামে ব্যাটালিয়নের সদর দফতর থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। কলকাতার পর্ণশ্রী এলাকায় তার বাড়ি।

হুগলি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর থানা এলাকায় মহাসড়কের ওপর একটি বালি বোঝাই ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারে দেবশ্রীর গাড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রচণ্ড গতিতে ছিল পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িটি। বালির ট্রাকটি রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিল। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ দুর্ঘটনায় থেতলে গেছে ওই পুলিশ কর্মকর্তার শরীর।

পরে পুলিশ দেবশ্রী এবং তার গাড়ির চালক মনোজ সাহা ও দেহরক্ষী তাপস বর্মনকে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাপসের বাড়ি কোচবিহারে এবং মনোজ সাহা মালদহের বাসিন্দা।

দেবশ্রী চট্টোপাধ্যায় কলকাতা পুলিশে সাব ইনস্পেক্টর হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন। কলকাতা পুলিশের অন্যতম দক্ষ অফিসার বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত ছিলেন তিনি। এরপর তিনি কলকাতার উত্তর বন্দর থানার ওসির দায়িত্বও পালন করে। পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে তিনি রাজ্য পুলিশে বদলি হয়ে যান। রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব পান। তাঁর স্বামীও কলকাতা পুলিশের কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি স্বেচ্ছা অবসর নেন।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

ফের পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন

দ্বিতীয়বারের মতো পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এখন তিনি লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা। ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার গভীর রাতে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর নির্দেশে অধীর রঞ্জনকে পশ্চিমবঙ্গ সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণু গোপাল।

প্রথমবার অধীর রঞ্জনকে যখন পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের দায়িত্ব দেয়া হয় তখন ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচন নিকটবর্তী। কিন্তু দু’বছর আগে এই সেপ্টেম্বর মাসেই অধীর রঞ্জনকে তার পদ থেকে সরিয়ে হঠাৎ করেই সোমেন মিত্রকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করেছিল এআইসিসি।

অধীর রঞ্জন বলেন, ‘আমি কংগ্রেসের সৈনিক। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা এবং কর্মীদের প্রত্যাশা, দু’টোই পূরণের জন্য চেষ্টার ত্রুটি করব না।’

বাংলার ভারপ্রাপ্ত এআইসিসি নেতা গৌরব গগৈয়ের মতে, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ ও সঙ্কটজনক সময়ে তিনি দায়িত্ব নিচ্ছেন। বাংলার কংগ্রেস কর্মীদের ভাবাবেগকে মর্যাদা দেয়ার জন্য সনিয়াজি’র প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

বাঘের মতো লড়ব: মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘লড়ব যখন বাঘের মতো লড়ব। মরব তো এক বারই।’ তিনি বলেন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ ‘সৎ এবং নিরপেক্ষ’, সেই সঙ্গে মানবিকও। এমন ‘বঙ্গ-বীরভূমির’ পুলিশের বিরুদ্ধে কুৎসা ও সমালোচনা করছেন যাঁরা, তাঁদের সামনে মাথা উঁচু করে ‘বীরদর্পে’ কাজ করার পরামর্শ দিলেন।

৯ সেপ্টেম্বর বুধবার পুলিশ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ কথা বলেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার পুলিশ বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতে ১ সেপ্টেম্বর পুলিশ দিবস ঘোষণা করেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে সেই দিন অনুষ্ঠান করা যায়নি।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ স্বীকার করুন আর না করুন, আগে কলকাতা পুলিশকে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সঙ্গে তুলনা করা হত। আমার মনে হয়, কলকাতা পুলিশ এখন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের চেয়েও ভালো হয়ে গিয়েছে। বেঙ্গল পুলিশও আগের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। উন্নত হয়েছে।’ এ হেন বঙ্গ পুলিশ বাহিনীর বদনাম যাঁরা করছেন, তাঁদের কোনো রকম ভয় না-পেয়ে বীরদর্পে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কোনো কাজ না-করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে শুধু গালি দেয়া! করোনা-আমপানে যে পুলিশ বাহিনী লড়ছেন, তাঁদের পাশে না-দাঁড়িয়ে পরিবার, ছেলেমেয়েদেরও গালি দিচ্ছেন কী করে? এরা সব পাষণ্ড, নিপীড়ক, শোষকের দল।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পুলিশ আছে বলে আপনিও শান্তিতে আছেন। পুলিশ আপনার বাড়ি, গাড়ি পাহারা দিচ্ছে। চায়ের দোকানে চা খাচ্ছেন, পুলিশ ঘিরে রাখছে। আর সেই পুলিশের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন। হুমকি দিচ্ছেন। দেশটাকে কিনে নিয়েছেন নাকি? সবাইকে ভয় দেখাচ্ছেন। রাজীব কুমারের বৃদ্ধা মাকেও ভয় দেখিয়ে এসেছিলেন, আমি তা কোনো দিন ভুলব না।’

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

করোনা রোগীদের মহাসড়ক অবরোধ!

হাসপাতালে নিম্নমানের খাবার এবং নিম্ন স্বাস্থ্যসেবার অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ করেছেন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে।

বেশ কয়েকদিন ধরেই এসব অনয়িমের প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা। কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি না মানায় ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে কাঁথির কাছে জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করেছেন তাঁরা। এই ঘটনায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

কাঁথির বাসিন্দা এক রোগী বলেন, ‌‘খাবার নিম্নমানের। মুখে তোলা যায় না। টিফিনে বাসি পাঁউরুটি দেয়া হচ্ছে। বারবার বলেও কোনও কাজ হয়নি। পরিষেবাও অত্যন্ত খারাপ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না হাসপাতাল চত্বর। শৌচালয়েরও বেহাল অবস্থা।’

স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন সকালে ওই হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রোগীরা রাস্তায় লম্বা লাইন করে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন। কেউ দূরত্ববিধি মানেননি বলে অভিযোগ।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

মাকে খুব ভয় পেতেন প্রণব মুখোপাধ্যায়

সাহেব যে আর নেই, তা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না। সাহেব মানে, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। সোমবার তাঁর মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকেই মনখারাপ শ্যামল ত্রিবেদীর। মনে পড়েছে, প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাটানো দীর্ঘ সময়ের কথা। পুরনো ছবিগুলো হাতে নিয়েই বসে রয়েছেন সর্ব ক্ষণ। দীর্ঘ প্রায় পনেরো বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে এলেই প্রণব মুখোপাধ্যায়ের দেহরক্ষী হিসেবে থাকতেন পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে কর্মরত শ্যামল ত্রিবেদী।

১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর বাড়ি গিয়ে দেখা গেল, নীচের বৈঠকখানায় পুরনো ছবিগুলো নিয়ে একাই বসে রয়েছেন তিনি। এক-একটা করে উল্টেপাল্টে দেখছেন। মাঝেমধ্যে হাতরাচ্ছেন পুরনো ফাইলগুলো।

কথা শুরু করতেই বলে ওঠেন শ্যামল, ‘মেনে নিতে পারছি না সাহেব নেই। এই ভাবে চলে যাবেন, ভাবতেই পারছি না।’ জানালেন, প্রণব মুখোপাধ্যায় শরীরের যত্ন নিতেন। তবে, সুগারের সমস্যা থাকলেও বড় রসগোল্লা দেখলে লোভ সামলাতে পারতেন না তাঁর সাহেব। একটুকরো হলেও ছিঁড়ে খেতেন। দেশ-বিদেশে চার দিকে ঘুরে বেড়ালেও বাংলায় ঢুকলেই বাঙালি খাবার আলু-পোস্ত বা পোস্তর বড়া খেতে খুব পছন্দ করতেন।

২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার পরেই শেষ দেখা শ্যামলের সঙ্গে। তার পর আর দেখা হয়নি। তবে ফোনে যোগাযোগ রাখতেন। গত ৮ অগস্ট করোনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরেও প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে ফোনে খবর নিয়েছেন শ্যামল।

কথা-প্রসঙ্গে উঠে আসে ২০১১ সালে বেথুয়াডহরিতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির অ্যাক্সিডেন্টের কথা। সে সময়ে শ্যামলই প্রণব মুখোপাধ্যায়কে গাড়ি থেকে কোলে করে বার করে বেথুয়াডহরি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে কৃষ্ণনগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

শ্যামল জানান, অ্যাক্সিডেন্টের প্রায় বছর ঘুরতেই আবার বেথুয়াডহরিতে আসেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। এর পর অনেকবার সেখানে এসেছিলেন তিনি। তবে শেষবারের মতো এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর, বিল্বগ্রামে পূর্বপুরুষের ভিটেবাড়ি দেখতে। সেই সময়ে বেশ কিছুটা সময় কাটিয়েছিলেন নাকাশিপাড়ায়।

শ্যামল জানান, পরিবারের গল্প বলতে গেলেই মায়ের কথা বলতেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি গল্পের মধ্যেই বলে উঠতেন- ‘ছোট থেকেই মাকে খুব ভয় পেতাম।’ আর সাহেবের স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর, ছোটবেলার গল্প বলতে গিয়ে কোনোদিন ভাবতে দেখিনি। ডান্ডা-গুলি খেলা থেকে ছোটবেলার দুষ্টুমি সবই শোনাতেন।’

২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন বিল্বগ্রামে এসে মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রণব মুখোপাধ্যায় নিজেকে সেখানকার ভূমিপুত্র হিসাবে পরিচয়ও দেন। সোমবার তাঁর মৃত্যুসংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরেই বিল্বগ্রাম এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওই এলাকার বাসিন্দা তথা বর্তমান তৃণমূলের নেতা কণিষ্ক চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে খুব সহজেই মিশে যেতে দেখেছি।’

সূত্র: আনন্দবাজার

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

প্রণব মুখার্জির শেষকৃত্য সম্পন্ন

শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার মধ্য দিয়ে নয়াদিল্লিতে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে দিল্লির রাজাজি মার্গের বাসভবনে থাকা সাবেক এই রাষ্ট্রপতির মৃতদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

এনডিটিভিতে প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে ০১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে দিল্লির লোদি রোড মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় প্রণব মুখার্জির।

সাধারণত কোনো প্রয়াত রাষ্ট্রনেতার শেষকৃত্যে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কামানবাহী শকটে। মৃতদেহ থাকে খোলা অবস্থায়। কিস্তু সাবেক এই রাষ্ট্রপতির শেষকৃত্যে এবার কিছু প্রটোকল বদল করা হয়।

কোভিড প্রটোকল মেনে প্রণবের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় শববাহী শকটে। তবে গান স্যালুটসহ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়ই হয় শেষকৃত্য।

দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অর্থ, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন প্রণব মুখার্জি। ২০১২-২০১৭ সালে দেশটির ১২তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে প্রণব মুখার্জিকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হয়।

টানা ৩ সপ্তাহ কোমায় থাকার পর গতকাল ৩১ আগস্ট সোমবার ৮৪ বছর বয়সে মারা যান ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশের জামাতা প্রণব মুখার্জি। এর আগে ৯ আগস্ট রাতে দিল্লির বাড়িতে বাথরুমে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পর দিন সকাল থেকে তাঁর স্নায়ুতে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত ভর্তি করা হয় দিল্লির সামরিক হাসপাতালে। হাসপাতালে ভর্তির পর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।

এছাড়া এমআরআই করে দেখা গেছে তাঁর মাথার ভেতর রক্ত জমাট বেঁধে রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার উন্নতি হয়নি। ১৩ আগস্ট থেকে তিনি গভীর কোমায় চলে যান। দীর্ঘ দিন ধরে ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ভারতীয় রাজনীতির একটি বিরাট অধ্যায়ের অবসান হলো।

ভয়েস টিভি/টিআর

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে ভারতে ৭ দিনের শোক

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে ভারত সরকার ৩১ আগস্ট সোমবার থেকে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।  ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি ছিলেন তিনি।

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। এ সম্পর্কিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে ভারত হারালো একজন বিজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক নেতাকে আর বাংলাদেশ হারালো একজন আপনজনকে। তিনি উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে বেঁচে থাকবেন।”

শিক্ষক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি ও ভারতীয় রাজনীতির ‘চাণক্য’  প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে টুইট করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তিনি তার টুইটে লিখেছেন, “ভারতরত্ন শ্রী প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে পুরো ভারত শোক প্রকাশ করছে। তিনি আমাদের জাতীয় উন্নয়নের ধারায় অনন্য স্বাক্ষর রেখে গেছেন। একজন অসামান্য জ্ঞানী, একজন গৌরবময় রাষ্ট্রনায়ক, যিনি সব ধরনের রাজনীতিতে সম্মানিত এবং সমাজের সব অংশে প্রশংসিত ছিলেন।”

দীর্ঘদিন কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পদে থাকার পরে ২০১২ সালে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

২০১৯ সালে তাকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান – ‘ভারতরত্ন’ দেওয়া হয়। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত।

এছাড়া প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জি এক টুইটার পোস্টে লিখেছেন: “বাবা, আপনার প্রিয় কবির একটি চরণ উদ্ধৃত করে সবার প্রতি আপনার বিদায় বানী তুলে ধরছি। দেশ ও জাতির সেবায় আপনার জীবন ছিল পূর্ণাঙ্গ, অর্থবহুল। আপনার কন্যা হিসেবে জন্ম নিয়ে নিজেকে আমি ভাগ্যবতী মনে করছি।”

ভয়েস টিভি/ডিএইচ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতির বর্ণাঢ্য জীবন

ইতিহাস, রাজনীতি বিজ্ঞান ও আইনে মাস্টার্স শেষ করে কলেজ শিক্ষক আর সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে তুলে এনেছিলেন রাজনীতির শীর্ষে, হয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশেরও অকৃত্তিম বন্ধু। স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকে জীবনের শেষ অবধি তিনি বাংলাদেশের পরম বন্ধু ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তার দুই তনয়া শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে পরম মমতায় আগলে রেখেছিলেন ভারতের এই জনপ্রিয় রাজনীতিক।

মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পর তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ৩১ আগস্ট সোমবার বিকেলে মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে ভারতে সাত দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে বাংলাদেশেও একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

পৃথক শোক বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন রাজনীতিবিদ ও আমাদের পরম সুহৃদ হিসেবে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অনন্য অবদান কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। আমি সবসময় মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১১ই ডিসেম্বর। পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার এক সাধারণ পরিবারে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছিলেন তিনি।

পরে পাঁচ দশকের রাজনীতির পথ পাড়ি দিয়ে ২০১২ সালে ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী পদের জন্যও আলোচনায় এসেছিলেন, তবে হতে পারেননি। তবে মেয়াদ শেষে অবসরের পর আর সক্রিয় রাজনীতিতে জড়াননি তিনি।

প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক ভারতের এক্সপ্রেস গ্রুপের সিনিয়র এডিটর জয়ন্ত রায় চৌধুরী বিবিসিকে জানিয়েছেন, প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও তিনি সবসময় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিলেন। যখন খুব অসুবিধায় পড়েছেন যেমন কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে নিজে দল করার চেষ্টা করলেন, আবার ফিরলেন। সেই খারাপ সময় কাটাতে পেরেছেন কারণ তাঁর চেনাজানা। এতোটা গুরুত্ব ছিলো তাঁর সেজন্য কেউ তাকে আলাদা করতে পারেনি। বেশিদিন কেউ তাকে চেপে ধরে নামিয়ে রাখতে পারেনি।’

জয়ন্ত রায় চৌধুরী বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞান, মেধা, প্রজ্ঞা আর কৌশলের কারণে প্রণব মুখোপাধ্যায় পরিণত হয়েছিলেন একজন বড় মাপের শিক্ষকে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কীভাবে পাল্টাচ্ছে, ভারত বা এশিয়ার জন্য তার তাৎপর্য প্রভাব কেমন হবে – এগুলো নিয়ে তার বিরাট দক্ষতা, এটা ছিলো তার বিরাট গুণ। উনি বিরাট একজন শিক্ষক। উনাকে না জিজ্ঞেস করে ইন্দিরা গান্ধী বা মনমোহন সিং কিছু করতেন না। এমনকি নরেন্দ্র মোদীও তাঁর কাছে পরামর্শ নিয়েছেন। সুতরাং উনি বড় রাজনীতিক সেটা সবাই জানে। কিন্তু তিনি যে বড় মাপের শিক্ষক সেটা সবার জানা নেই।’

বাবার পথ ধরে শুরুতে রাজনৈতিক দল কংগ্রেসে যোগ দেয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয় নেতারা তাকে সে সুযোগ দেননি। পরে কংগ্রেস থেকেই বেরিয়ে আসা অজয় মুখার্জীর বাংলা কংগ্রেসে যোগ দেন। কিন্তু তাঁর মেধা আর জ্ঞানে আকৃষ্ট হয়ে অজয় মুখার্জী তাকে রাজ্যসভার সদস্য করে পাঠান ১৯৬৯ সালে।

তাঁর দীর্ঘকালের ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ী বলছেন, মূলত রাজনীতিক প্রণব মুখোপাধ্যায় আলো ছড়াতে শুরু করেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভারতীয় পার্লামেন্টে তাঁর তৎপরতার মাধ্যমেই। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধই বড় কারণ প্রণব বাবুর জাতীয় রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশে। ইন্দিরা গান্ধী তাঁর মেধায় আকৃষ্ট হয়ে তাকে কংগ্রেসে নেন ও বড় বড় নেতাদের রেখে তাকেই নাম্বার টু হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এক সময় তাকে ইন্দিরা গান্ধীর মানসপুত্র বলা হত। অতি অল্প বয়সে ১৯৮২ সালে তাকে অর্থমন্ত্রী করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী।

তবে সেই কংগ্রেস থেকেও তাকে বেরিয়ে ভিন্ন দল করতে হয়েছিলো গান্ধী পরিবারের সঙ্গে বিরোধের জের ধরেই। যদিও পরে আবারও ফিরে আসেন তিনি কংগ্রেসে। পাঁচবার রাজ্যসভায় গিয়েছেন আর লোকসভায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ২০০৪ সাল থেকে ২০১২ সালে, যা তাকে পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

নিজের বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতার আলোকে বই লিখেছেন অন্তত আটটি। সর্বশেষ ২০১৭ সালে প্রকাশিত বইয়ে বাংলাদেশে ২০০৮ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পেছনের ভূমিকাও উঠে এসেছিলো।

তবে ভারতে কংগ্রেসের বাইরেও উপমহাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তার গ্রহণযোগ্যতা তাকে রাজনীতিতে বিশেষ মর্যাদায় তুলে এনেছিলো বলে মনে করেন লাহিড়ী।

‘প্রণব মুখার্জী রাষ্ট্রপতি হওয়া পর্যন্ত জীবন উত্থানপতন ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। কংগ্রেস যখন ২০০৪ সালে ক্ষমতায় আসে ওই সময় থেকে প্রণব ছিলেন রাজনৈতিক পরিপক্বতার তুঙ্গে ছিলেন। পরে তিনি অর্থমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি সবাইকে নিয়ে রাজনীতির চেষ্টা করেছিলেন বলে তাকে রাজনীতির চাণক্য নামে অভিহিত করা হয়’ বলেন গৌতম লাহিড়ী।

গৌতম লাহিড়ী বলেন, যে কোন সংকটময় মূহুর্ত থেকে উত্তরণে তার তৎপরতায় বারংবার ঋদ্ধ হয়েছে ভারতের রাজনীতি। কূটনৈতিক দক্ষতা দিয়েই তিনি ভারতের রাজনীতিতে বিরোধী দলগুলো এমনকি বিজেপি নেতাদেরও শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।

গৌতম লাহিড়ী ও জয়ন্ত রায় চৌধুরী দুজনেই বলছেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সমর্থন ও স্বীকৃতির জন্য অনবদ্য অবদান রাখা মি. মুখার্জীর অসীম মমতা ছিলো বাংলাদেশের প্রতি।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
পশ্চিমবঙ্গ

ভারতবাসীকে নরেন্দ্র মোদীর সতর্ক বার্তা

করোনার কারণে আসন্ন উৎসবের মরসুমকে সামনে রেখে ভারতবাসীকে সতর্ক থাকার বার্তা দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রোববার তাঁর রেডিয়ো অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’ এ মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার গুরুত্বের কথাও মনে করিয়ে দিলেন তিনি।

মোদী বলেন, সামনেই শুরু হচ্ছে উৎসবের মরসুম। ফলে দেশে করোনার পরিসংখ্যান আরও বৃদ্ধি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এই পরিস্থিতিতে সতর্কতা মেনে চলার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মাস্ক পরা ও দূরত্ব বজার রাখা যে জরুরি, তা উল্লেখ করে মোদীর নতুন স্লোগান ‘দো গজ কি দূরি, মাস্ক জরুরি’। এ দিন অনুষ্ঠানের গোড়াতেই তিনি বলেন, সাধারণত, এই দিনগুলো বিভিন্ন উৎসবের হয়ে থাকে। তবে করোনাভাইরাস সব বদলে দিয়েছে।” পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “মানুষ এখন আরও বেশি সতর্ক এবং শৃঙ্খলা মেনে চলছেন, যা অনুপ্রেরণীয়।

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে গোটা দেশ জুড়েই শুরু হচ্ছে চতুর্থ পর্বের আনলক প্রক্রিয়া। আগামী আনলক পর্বের মধ্যেই পালিত হবে শিক্ষক দিবস। তবে করোনার আবহে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় যে ভাবে অনলাইন ক্লাসের মতো নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষকেরা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন, সে কথাও এ দিনের ‘মন কি বাত’-এ উল্লেখ করেছেন নরেন্দ্র মোদী।

তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষকেরা বহু চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা অত্যন্ত সাহসিকতা দেখিয়ে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন।

লকডাউনের সময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এরই মধ্যে দেশে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। সেই কর্মকাণ্ডের অঙ্গ হিসাবেই ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোদী। এ বার খেলনা তৈরির ক্ষেত্রে ভারত যে বিশ্বের অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারে, তা-ও মনে করে মোদী সরকার।

এ দিনের অনুষ্ঠানে মোদী জানিয়েছেন, বিশ্বের ৭ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি খেলনা শিল্পে ভারত অত্যন্ত ক্ষুদ্র অংশ দখল করে রয়েছে। এ ছবি বদলের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভারত উদ্ভাবকদের দেশ।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

ভয়েস টিভি/টিআর