Categories
বিশ্ব

ভারতে শনাক্তের সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়াল

ভারতে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্তের সংখ্যা তিন কোটি ছাড়িয়ে গেছে। অপরদিকে একদিনের ব্যবধানে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। একদিন আগের তুলনায় সংক্রমণ বেড়েছে ১৯ শতাংশ। খবর এনডিটিভির।

একদিন আগেই দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণ ছিল ৪২ হাজার ৬৪০। একই সময়ে মারা গেছে ১ হাজার ১৬৭ জন। বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ৮৪৮।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৩৫৮ জনের। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল শেষবার দেশটিতে দৈনিক মৃতের সংখ্যা ১২শ’র কম ছিল।এখন পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৬০ জন করোনা সংক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে।

ভারতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ২৮ হাজার ৭০৯। বিশ্বের দ্বিতীয় দেশে হিসেবে ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ছাড়াল। এর আগে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই এই সংখ্যা ছাড়িয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভারতে দৈনিক সংক্রমণের হার কমতে দেখা গেছে। মঙ্গল এবং বুধবার তা ৩ শতাংশের নিচে রয়েছে। পাশাপাশি দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যাও এক মাসের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে। কমতে কমতে তা সাড়ে ৬ লাখের নিচে নেমেছে। দেশে এখন সক্রিয় রোগী রয়েছেন ৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৯৪ জন।

দৈনিক সুস্থতার সংখ্যাও বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৬৮ হাজার ৮১৭ জন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট সুস্থতার সংখ্যা ২ কোটি ৮৯ লাখের বেশি।

গত ২১ জুন ভ্যাকসিনে প্রদানের ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছে ভারত। একদিনেই ৮৮ লাখ ৯ হাজার মানুষকে ভ্যাকসিনের এক ডোজ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে মঙ্গলবার ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে ৫৩ লাখের বেশি মানুষকে।

এখন পর্যন্ত ভারতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মহারাষ্ট্রে। সংক্রমণেও শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ওই রাজ্য। গত ২৪ ঘণ্টায় ওই রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৪৭০। একই সময়ে মারা গেছে ১৮৮ জন। ওই রাজ্যে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ লাখ ৮৭ হাজার ৫২১। অপরদিকে মারা গেছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৯৫ জন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব

বিশ্বে শনাক্তের সংখ্যা ১৮ কোটি ছুঁইছুঁই

বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ। একইসঙ্গে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৮ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়েছে।

২৩ জুন বুধবার সকাল ৯টায় জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির করোনা ভাইরাস রিসোর্স সেন্টার এ তথ্য জানায়।

এতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১৭ কোটি ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ১৪৬ জন এবং মারা গেছে ৩৮ লাখ ৮০ হাজার ৩৪১ জন।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬৬০ জন এবং মারা গেছে ৬ লাখ ২ হাজার ৪৫৫ জন।

আক্রান্তের দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে শনাক্ত হয়েছে দুই কোটি ৯৯ লাখ ৭৭ হাজার ৮৬১ জন। মৃত্যুর দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন তিন লাখ ৮৯ হাজার ৩০২ জন।

মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় ও সংক্রমণের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে থাকা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে আক্রান্ত হয়েছে এক কোটি ৮০ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫৩ জন এবং মারা গেছে পাঁচ লাখ চার হাজার ৭১৭ জন। এছাড়াও জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টার এ তথ্যনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনার ভ্যাকসিন নিয়েছে ২৬৮ কোটি ১২ লাখ ৫ হাজার ৪১৩ জন।

গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৩ হাজার ৭০২ জন এবং মোট শনাক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৬১ হাজার ১৫০ জন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব

করোনা শেষ না হতেই ভারতে আরেক মহামারী মিউকরমাইকোসিস

ওয়ার্ডের ভেতর অনেক রোগীর ভিড়ে দমবন্ধ করা পরিবেশ, তার মধ্যেই এক বেড থেকে আরেক বেডে ছুটছেন নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ। টর্চের আলোয় এক রোগীর মুখের ভেতরটা দেখেই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন আরেক রোগীর এক্সরে প্লেট নিয়ে।

তিনি ডা. বেলা প্রজাপতি; ভারতের আহমেদাবাদের ‘সিভিল হসপিটালে’ ভর্তি প্রায় ৪০০ রোগী মিউকরমাইকোসিস রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব তার ওপরই ন্যস্ত।

মিউকরমাইকোসিস হল ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাকের সংক্রমণ; বিরল অথচ প্রাণঘাতি এই রোগ করোনাভাইরাস মহামারীর পায়ে পায়ে ছড়িয়ে পড়েছে ভারতজুড়ে।

গত বসন্তে কোভিড-১৯ সংক্রমণের যে দ্বিতীয় ঢেউ ভারতকে একপ্রকার গ্রাস করে নিয়েছিল, তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না টিকিৎসকরা। মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সে সময় মরিয়া চেষ্টা নিতে হয়েছে হাসপাতালগুলোকে। আর তাতেই প্রাণঘাতি আরেক ভয়ঙ্কর ব্যাধি মিউকরমাইকোসিস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছিল বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

ডা. প্রজাপতির ভাষায়, “করোনাভাইরাসের এই মহামারী হঠাৎ করেই ডেকে এনেছে আরেক মহামারী।”

এই ছত্রাক বাসা বাঁধে মূলত মানবদেহে মৃত কলার ওপর। সে কারণেই এর আরেক নাম ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। ভারতে মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে কালো ছত্রাকে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজারে পৌঁছায়।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী দেশটির রাজ্যগুলোতে গত কিছুদিনে অন্তত দুই হাজার ১০০ রোগীর মৃত্যু হয়েছে মিউকরমাইকোসিসে।

ভারতে কালো ছত্রাকে আক্রান্তদের শনাক্ত করে উচ্চমূল্যের ‘ছত্রাকনাশী’ ওষুধ দেওয়ার দায়িত্ব নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর। মৃত্যুর কোনো সংখ্যা তারা এখনও প্রকাশ করেনি।

ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পার্থক্যটা অত্যন্ত নগ্নভাবে দেখিয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাসের মহামারী। ভারতের মিউকরমাইকোসিস মহামারী এর একটি উদাহরণ।

পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে ভারতের স্বাস্থ্য খাতের স্বাস্থ্য আগে থেকেই দুর্বল, তার মধ্যেই গত এপ্রিলে আঘাত হানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। সংক্রমণ আর মৃত্যু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে শয্যা, অক্সিজেন, আইসিইউ আর প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রীর অভাব আরও স্পষ্ট হতে থাকে।

এর মধ্যেই ভারতের ১৪০ কোটি মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার কঠিন কাজটি আরও বেশি কঠিন করে তোলে মিউকরমাইকোসিস।

ভারতের বিপুল জনসংখ্যার খুব সামান্য একটি অংশ এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের টিকা পেয়েছেন। ফলে সংক্রমণের সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউ এবং তার প্রভাবে সব ধরনের বিপদের ঝুঁকিই তাদের সামনে রয়েছে।
মহামারী বিশেষজ্ঞ ডা. দিলীপ মাভালাঙ্কার বলছেন, “কোভিডি-১৯ এর বিস্তার কমে এলে মিউকরমাইকোসিসও কমে আসবে। কিন্তু কেন এটা হচ্ছে তা যদি আমরা বের করতে না পারি, তাহলে সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের সঙ্গে এটা আবারও ফিরে আসতে পারে।”

কালো ছত্রাক কীভাবে এমন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল, সে বিষয়ে ভারতের অনেক চিকিৎসকেরই নিজস্ব একটি ধারণা আছে।

হাড় এবং প্রাণ কোষ খেকো এই ছত্রাক পাকস্থলী, অন্ত্র, ফুসফুস, চামড়া এবং সাইনাসে আক্রমণ করতে পারে। সময়মত চিকিৎসা না করলে এটা চক্ষুকোটর এবং মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এর চিকিৎসাও বেশ জটিল। বেশিরভাগ সময় রোগীকে বাঁচাতে গিয়ে অস্ত্রোপচার করে তার কোনো অঙ্গ কেটে ফেলতে হয়। এর ওষুধ অপ্রচলিত এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ রোগে মৃত্যু হার ৫০ শতাংশের বেশি।

মিউকরমাইকোসিস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। কালো ছত্রাক আমাদের চারপাশে সবসময়ই আছে। বাড়ি কিংবা হাসপাতালে সাধারণভাবেই এ ছত্রাক তৈরি হতে পারে, সেখান থেকে ছড়াতে পারে এর স্পোর।

চিকিৎসকদের ধারণা, ভারতের জনাকীর্ণ হাসপাতালগুলোর পরিবেশ এবং মেডিকেল অক্সিজেনের ঘাটতিই কালো ছত্রাকের এই ব্যাপক সংক্রমণের পথ করে দিয়েছে। এর সঙ্গে আছে স্টেরয়েড।

কোভিড রোগীদের চিকিৎসায় স্টেরয়েডের ব্যবহার বিশ্বজুড়েই স্বীকৃত। ফুসফুসের প্রদাহ কমিয়ে এ ওষুধ রোগীর জীবন বাঁচাতে পারে, একটু সহজে শ্বাস নিতে সহায়তা করতে পারে।

শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যখন করোনাভাইরাসকে ঠেকাতে অনেক বেশি শক্তি ব্যবহার করে, তখন শরীরের কিছু ক্ষতি হয়। স্টেরয়েড দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দমিয়ে রেখে সেই ক্ষতি কমাতে অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।

কিন্তু স্টেরয়েড যখন দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সাময়িকভাবে দমিয়ে রাখছে, সেই সুযোগেই মিউকরমাইকোসিসের সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে বলে অনেক চিকিৎসকের ধারণা। আর কতটা স্টেরয়েড ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতে ‘মিউকরমাইকোসিস’ সংক্রমণ নিয়ে এক গবেষণায় জড়িত অনুজীববিজ্ঞানী অরুণালোক চক্রবর্তী বলেন,

অক্সিজেন সঙ্কটের মধ্যে ভারতে অনেক চিকিৎসক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ স্টেরয়েড রোগীদের ওপর প্রয়োগ করেছেন। আর রোগীদের স্টেরয়েড দেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি সময় ধরে। তাতে ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগীরা।

স্টেরয়েড আরও দুইভাবে মিউকরমাইকোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। যাদের ডায়াবেটিস আছে এবং যাদের নেই, সবার রক্তেই চিনির পরিমাণ অতি মাত্রায় বাড়িয়ে দিতে পারে স্টেরয়েড। আর রক্তে শর্করা যাদের বেশি, তাদের কালো ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি এমনিতেই বেশি।

চিকিৎসক বেলা প্রজাপতি জানান, স্টেরয়েড প্রয়োগে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। তাতে কলতন্ত্র পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। আর দুর্বল টিস্যু হয় ছত্রাক সংক্রমণের প্রধান লক্ষ্য।
কোভিড আক্রান্তদের বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় চিকিৎসকরা অনেক সময় স্টেরয়েড দেওয়ার আগে জানার সুযোগই পান না রোগীর ডায়াবেটিস কিংবা অন্যান্য জটিলতা আছে কি না।

অনুজীববিজ্ঞানী অরুণালোক চক্রবর্তী বলেন, কোভিড নিয়ে কোনো রোগী ভর্তি হলে জরুরিভিত্তিতে তার শ্বাসতন্ত্রের সুরক্ষা দিতেই ব্যস্ত থাকেন চিকিৎসকরা। অন্যসব জটিলতা দেখার সুযোগ তাদের প্রায়ই হয় না।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুয়ায়ী, সেখানে মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই কোভিড- ১৯ রোগী, যাদের অর্ধেকের বেশির ডায়াবেটিস আছে।

সিভিল হসপিটালে চিকিৎসাধীন তরুণ প্রকৌশলী অলোক কুমার চৌধুরী সেই সব রোগীদের একজন, যারা কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর কালো ছত্রাকের শিকারে পরিণত হয়েছেন। ৩০ বছর বয়সী অলোকের বাঁ চোখে দেখা গেল ব্যান্ডেজ, শিরায় সুচ বিঁধিয়ে দেওয়া হচ্ছে ফোটায় ফোটায় ওষুধ।

গত এপ্রিলে ভারত যখন সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কবলে পড়ল, অলক তখন নয়াদিল্লিতে সরকারি চাকরির জন্য পরীক্ষার পস্তুতি নিচ্ছিলেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার পর দিল্লির হাসপাতালে শয্যা, অক্সিজেন ও ওষুধের ঘাটতির কারণে তিনি ট্রেনে চেপে গুজরাটে বড় ভাইয়ের বাড়িতে চলে যান।

সেখানে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৫৪ শতাংশে নেমে এলে মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে যান এই তরুণ। স্থানীয় একটি হাসপাতালে অক্সিজেন সাপোর্ট থেকে স্টেরয়েডের চিকিৎসা নিয়ে দুই সপ্তাহে তিনি করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হন। কিন্তু এরপর থেকেই মাথার বাঁ দিকে শুরু হয় তীব্র ব্যথা।

চিকিৎসকরা ভেবেছিলেন, স্টেরয়েডের কারণে হয়ত এমনটা হয়েছে, অলক দ্রুতই সেরে উঠবেন।

কিন্তু হঠাৎ করেই অলক তার বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। পরে এমআরআই পরীক্ষায় তার মিউকরমাইকোসিস শনাক্ত হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার চোখ ফেলে দিতে হবে।

এরপর তিনি সিভিল হসপিটালে যান। অস্ত্রোপচারে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মিলে তার ‘সাইনাস’ থেকে ‘মৃত কোষ’ বের করে আনেন। বাকি সংক্রমণ দূর করতে তাকে ছত্রাকনাশী ‘অ্যামফোটারিসিন বি’ ওষুধের ১৫ দিনের কোর্স দেওয়া হয়।

অনুজীববিজ্ঞানী অরুণালোক চক্রবর্তী বলেন, অলোক কুমার যদি তার চোখ ফেলতে রাজি না হতেন, তাহলে হয়ত জীবনটাই হারাতেন। কারণ চোখ ফেলে না দিলে তার চোখের পেছনে সংক্রমণের পাতলা স্তরটি সরানো যেত না।

অলোক কুমার বলেন, “আমি বাঁ চোখের দৃষ্টি হারিয়েছি, লেখাপড়ায় অসুবিধা হচ্ছে। আমি অবশ্যই জানতে চাই কেন আমার মিউকর হয়েছিল। যদি সেটা ভুল চিকিৎসার কারণে হয় তাহলে এর দায় কাউকে নিতে হবে।”

অনুজীববিজ্ঞানী অরুণালোক চক্রবর্তীর যে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন, সেই গবেষণা প্রতিবেদন এ মাসেই ইউএস সেন্টার্স ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, স্টেরয়েডের অতি ব্যবহার, ডায়াবেটিস এবং কিছু হাসপাতালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সম্পর্ক রয়েছে ভারতের এই কালো ছত্রাকের মহামারীর পেছনে।

করোনাভাইরাসের মহামারীর আগেও ভারতে বছরে গড়ে মিউকরমাইকোসিস সংক্রমণের ৫০ জন রোগী পাওয়া যেত। পশ্চিম ইউরোপ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে এ সংখ্যা দুই বছরে একজন।

এই যে পার্থক্য, এর পেছনে পরিবেশ ও ডায়াবেটিস দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ভারতে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দ্বিগুণ।

ভারতে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে যারা মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত হতেন, তারা হয় নিজেদের শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি জানতেন না, নয়ত ঠিকমত ইনসুলিন নিতেন না।

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে যারা এ ছত্রাকের শিকার হয়েছেন, তাদের অনেকেরই ডায়াবেটিস ছিল না। চিকিৎসক এবং গবেষকরা বলছেন, এখানে মূল বিষয় হয়ে উঠেছে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় স্টেরয়েডের ব্যবহার।

গত মে মাসে গুজরাটের আহমেদাবাদে ‘মিউকরমাইকোসিসকে’ মহামারী ঘোষণা করা হয়। অন্যান্য রাজ্যেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আক্রান্ত রোগীর বাঁচা-মরার বিষয়টি নির্ভর করে কত তাড়াতাড়ি অস্ত্রোপচার করে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো সরিয়ে দুই সপ্তাহের জন্য ‘অ্যামফোটেরিসিন বি’ ওষুধের প্রয়োহ শুরু করা হয়, তার ওপর।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই রোগকে নতুন ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “এটা ঠেকাতে একটা ব্যবস্থা দাঁড় করাতে হবে।”

ভারতে অ্যামফোটেরিসিন বির সরবরাহ নিতান্তই সামান্য। কিছু সরকারি হাসপাতালে এ ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। সরবরাহে ঘাটতি থাকায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ওষুধটি আমদানি করতে হয়, সেখানে এর প্রতি ভায়ালের দাম ৩০০ ডলার।

সুস্থ্ হয়ে উঠতে প্রত্যেক রোগীকে এ ওষুধের ৬০ খেকে ১০০ ভায়াল নিতে হয়। এর উৎপাদক কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের গিলিয়াড সায়েন্সেস দুই লাখ ভায়াল অ্যামফোটেরিসিন বি ভারতকে অনুদান হিসেবে দিয়েছে।

ভারতের চিকিৎসকরা এর পরিবর্তে সমান কার্যকর সস্তা ওষুধও ব্যবহার করছেন। কিন্তু সে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিডনি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।

আহমেদাবাদের স্টার্লিং হাসপাতালে ‘মিউকরমাইকোসিস’ আক্রান্ত কয়েক ডজন রোগীর চিকিৎসা করা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অতুল প্যাটেল বলেন, কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই রোগীকে অন্য ওষুধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের জন্য খুবই বেদনাদায়ক।

অরুণালোক চক্রবর্তীর সঙ্গে একই গবেষণায় যুক্ত থাকা প্যাটেল জানান, ডায়রিয়া কিংবা জ্বরের রোগীকে যে ধরনের স্টেরয়েড দেওয়া হয়, করোনাভাইরাসের মাঝারি মাত্রার সংক্রমণেও সেই একই ওষুধ দিচ্ছেন অনেক চিকিৎসক, যদিও ওই মাত্রার রোগীর স্টেরয়েড প্রয়োজন নেই।

প্যাটেলের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর ক্ষেত্রেও ওই ঘটনাই ঘটেছে। গুজরাটের এক গ্রামের কৃষক পরিবারের সদস্য ৬০ বছর বয়সী আম্বাবেন হীরাবাঈকে এখন স্টার্লিং হাসপাতালে ছত্রাকের চিকিৎসাসহ অন্যন্য সেবার জন্য প্রতিদিন ৭০০ ডলার (৬০ হাজার টাকা) করে দিতে হচ্ছে।

এই রোগীর ক্ষেত্রে ছত্রাকের সংক্রমণের সঙ্গে ডায়াবেটিসের কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাননি সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অতুল প্যাটেল। অনেক খরচ হলেও কোভিড-১৯ এর পর ‘মিউকরমাইকোসিস’ সংক্রমিত হওয়ায় তিনি কোনো ঝুঁকি নেননি।

প্রচণ্ড মাথাব্যথা আর মুখে অসাড়তা নিয়ে গত ১৭ মে হাসপাতালে আসেন আম্বাবেন হীরাবাঈ। জুনের শুরুতে তিনি প্রথমবার একটু ভালো বোধ করার কথা জানান।

ডা. অতুল প্যাটেল সম্পর্ক এই রোগীর ভাষ্য: “তিনিতো আমার কাছে ঈশ্বরের মত।”

ভয়েস টিভি/ডি

Categories
বিশ্ব

একদিনে আরও সাড়ে ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু

মহামারি করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত বিশ্ব। প্রতিদিন বেড়েই চলছে মৃতের সংখ্যা, আক্রান্তও হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। এরই মধ্যে বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ কোটি ৮৯ লাখেরও বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্যানুযায়ী, ২০ জুন রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে মারা গেছেন আরও ৮ হাজার ৫৬৪ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ এক হাজার ৪৫০ জন।

এ নিয়ে বিশ্বে এখন পর্যন্ত মোট করোনায় মৃত্যু হলো ৩৮ লাখ ৭৫ হাজার ৭ জনের এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ কোটি ৮৯ লাখ ৪২ হাজার ৮১২ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার ৯৩৩ জন।

করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ৪৪ লাখ এক হাজার ৯৩০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৮৩ জনের।

আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছেন ২ কোটি ৯৮ লাখ ৮১ হাজার ৩৫২ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭৪০ জনের।

আক্রান্তে তৃতীয় এবং মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত করোনায় এক কোটি ৭৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫০ জন সংক্রমিত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৮৬৮ জনের।

আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৬ জন। ভাইরাসটিতে মারা গেছেন এক লাখ ১০ হাজার ৭২৪ জন।

এ তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৫৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪৯ হাজার ১২২ জন।

এদিকে আক্রান্তের তালিকায় রাশিয়া ষষ্ঠ, যুক্তরাজ্য সপ্তম, ইতালি অষ্টম, আর্জেন্টিনা নবম এবং কলম্বিয়া দশম স্থানে রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩২তম।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
বিশ্ব

বিশাল ব্যবধানে ইব্রাহিম রাইসি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ইব্রাহিম রাইসি। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভোটের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করেছে। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী তিনি বিশাল জয় পেয়েছেন।

উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামাল অর্ফ জানিয়েছেন, ২ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ শুক্রবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। প্রেস টিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন রাইসি। তাকে ভোট দিয়েছেন ১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ।

ইরানের যেকোনো নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শুক্রবার দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে দেশের জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন রক্ষণশীল প্রার্থী মোহসেন রেজায়ি। তিনি পেয়েছেন ৩৩ লাখ ভোট।

অপরদিকে, সংস্কারপন্থী জোটের প্রার্থী নাসের হেম্মাতি পেয়েছেন ২৪ লাখ ভোট। নির্বাচনের অপর প্রার্থী আমির হোসেন কাজিজাদে হাশেমি পেয়েছেন প্রায় ১০ লাখ ভোট।

বিচারপতি রাইসিকে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগাম অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীরাও।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
বিশ্ব

বেলারুশ ছাড়া সব দেশই মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ চায়

সহিংস সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়া হিসেবে মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রির বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ১৮ জুন শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মিয়ানমারের ওপর অস্ত্রনিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে ১১৯টি দেশ। স্বৈরশাসিত বেলারুশই একমাত্র এর বিপক্ষে মত দেয়। আর চীন-রাশিয়াসহ মোট ৩৬টি দেশ প্রস্তাবে মতামত দেয়া থেকে বিরত থাকে।

দেশটির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক জান্তার প্রতি নিন্দাও জানানো হয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অং সান সু চিসহ সব রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দাবির পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমাতে সহিংসতা না চালানোর আহ্বানও জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এই প্রস্তাবের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও রাজনৈতিকভাবে এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি।

মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রানার বারগেনার সাধারণ পরিষদকে বলেন, “সেদেশে একটি বড় ধরনের গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাটি বাস্তব। এক্ষেত্রে সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে ক্ষমতা জনপ্রতিনিধিদের কাছে ফিরিয়ে আনার সুযোগ ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে উঠছে।”

জাতিসংঘে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উলুফ স্কুগ বলেন, “এই প্রস্তাব মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে বেআইনি ঘোষণা করেছে, জনগণের ওপর তাদের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে এবং বিশ্বের চোখে তাদেরকে একঘরে করে দিয়েছে।”

তবে জাতিসংঘে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রদূত চিয়াও মোয়ে তুন বলেন, তার ভাষায় ‘গুরুত্ব হারিয়ে ফেলা’ এই প্রস্তাব অনুমোদনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দীর্ঘসূত্রতায় তিনি হতাশ।

সবশেষ সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির অজুহাতে ঘটানো ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তার হাতে আটক আছেন সেদেশের জনপ্রিয় নেত্রী অং সান সু চি। আদালতে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ছাড়া তাকে দেখা বা তার বিষয়ে কিছু জানা যাচ্ছে না।

অভ্যুত্থানের পর সামরিক জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ নিষ্ঠুরভাবে দমন করে চলেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারী, কর্মী ও সাংবাদিকদের আটক করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী অ্যাসিসটেন্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার (এএপিপি)-এর তথ্যানুযায়ী, মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর এ পর্যন্ত পাঁচ হাজার জনকে আটক করা হয়েছে এবং বিক্ষোভ দমন অভিযানে হত্যা করা হয়েছে ৮৬০ জনেরও বেশি মানুষকে।

গত মাসে, মিয়ানমারের জান্তার বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাধারণ পরিষদকে একটি প্রস্তাব পাসের অনুরোধ জানায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “রাষ্ট্রগুলোকে নিষেধাজ্ঞা মানতে আইনিভাবে বাধ্য করা না গেলেও এ ধরনের একটি প্রস্তাব উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করবে।”

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
বিশ্ব

করোনাকালেই সর্বোচ্চ মানুষ বাস্তুচ্যুত

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেও সারাবিশ্বে থেমে নেই সহিংসতা, সংঘাত, নিপীড়ন কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা। এতে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৮ কোটি ২০ লাখে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

বাস্তুচ্যুত মানুষের এই সংখ্যা এক দশকে দ্বিগুণ হয়েছে, তার মানে বিশ্বে ১ শতাংশেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইউএনএইচসিআর শুক্রবার বার্ষিক ‘গ্লোবাল ট্রেন্ডস রিপোর্টে’ এ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারীর মধ্যে মানুষের চলাফেরা সীমিত থাকায় বিদেশে আশ্রয় চাওয়া মানুষের সংখ্যা কমাসহ সামগ্রিকভাবে অভিবাসন কমেছে। তারপরও গতবছর নানা বাধা-নিষেধের মধ্যেও বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ মানুষ, যা ২০১৯ সালের চেয়ে বেশি।

বেশিরভাগ মানুষই বাড়িঘর ছাড়া হয়েছে নিপীড়ন, সংঘাত, সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে। করোনাভাইরাসের কারণে আন্তর্জাতিক সীমানা পেরোনোয় নিষেধাজ্ঞা থাকায় বহুসংখ্যক মানুষ নিজ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

মোট বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের অর্ধেকের বেশি, অর্থাৎ, ৪ কোটি ৮০ লাখ মানুষই অভ্যন্তরীনভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, বলছে ইউএনএইচসিআর।

সংস্থাটি আরও বলছে, ২০২১ সালে করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ শিথিল হয়ে গেলে সংঘর্ষ, সংঘাত আরও বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি খারাপের দিকে যাবে খাদ্য সংকট। চরম আবহাওয়া এবং মহামারীর কারণে সংকট আরও প্রকট হবে। দক্ষিন সুদান, মধ্য আফ্রিকান রিপাবলিক ও সিরিয়ায় দেখা দিতে পারে দুর্ভিক্ষ। বিশ্বব্যাপী চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও আরও বাড়তির দিকে যাবে।

ইউএনএইচসিআর এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহামারীর কারণে মানুষের পালিয়ে আরেক দেশের সীমানা পেরোনো কঠিন হয়ে পড়লেও কিছু দেশ বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে লড়াইয়ের মুখে পালিয়ে আসা মানুষদের উগান্ডা তাদের সীমানায় ঢুকতে দিচ্ছে। সেখানে তাদের কোভিড পরীক্ষাও করা হচ্ছে।

বিদেশে বাস্তুচ্যুত এই মানুষদের দুই-তৃতীয়াংশই এসেছে মাত্র ৫ টি দেশ থেকে। এর মধ্যে আছে সিরিয়া। দেশটিতে ১০ বছরের গহযুদ্ধে ১ কোটি ৩৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি। এসব মানুষের প্রায় অর্ধেকই বিদেশে চলে গেছে। আর বাকীরা দেশের ভেতরেই বাড়িঘর ছাড়া হয়ে আছে।

বিদেশে বাস্তুচ্যুত প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষই আশ্রয় নিয়ে আছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষদের মধ্যে বাড়ছে শিশুর সংখ্যা। ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রায় ১০ লাখ নবজাতক জন্মের পর থেকেই শরণার্থী হিসেবে বেড়ে উঠছে। ফলে অনিশ্চয়তার মুখে আছে তাদের ভবিষ্যৎ।

তবে ইউএনএইচসিআর বলছে, এই অন্ধকারের মধ্যেও আছে কিছু আশার আলো। কিছু দেশ এই শরণার্থীদের নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ বছরই ৬২ হাজার ৫শ’ এবং ২০২২ সালে ১২৫,০০০ শরণার্থী নেবে বলে কথা দিয়েছে। আর ভেনেজুয়েলার ১০ লাখের বেশি শরণার্থীকে স্থায়ী মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলম্বিয়া।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
বিশ্ব

রয়টার্সের দাবি বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে।  নিজস্ব হিসাবের বরাত দিয়ে ১৮ জুন শুক্রবার  সকালে এক প্রতিবেদনে একথা জানায়।

করোনা মহামারিতে বৈশ্বিক মৃত্যুর সংখ্যা বৃহস্পতিবারই ৪০ লাখ পার হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থাটি।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মতো কয়েকটি দেশে করোনায় নতুন আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অনেকটা কমে এলেও বিশ্বজুড়ে এখনও অনেক দেশেই দ্রুতগতিতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে করোনার ভারতীয় ধরন বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতেও বিশ্বের অনেক দেশ তার নাগরিকদের জন্য করোনা টিকা নিশ্চিত করতে রীতিমতো সংগ্রাম করছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর বিশ্বজুড়ে সংক্রমিত রোগীর মৃত্যু প্রথম ২০ লাখে পৌঁছাতে এক বছরেরও বেশি সময় নিয়েছিল। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দ্বিতীয় ২০ লাখ পার করতে সময় লেগেছে মাত্র ১৬৬ দিন।

ভয়েস টিভি/ডি

Categories
বিশ্ব

পাচারের সময় মেক্সিকো থেকে ২২ বাংলাদেশি উদ্ধার

পাচারের সময় মেক্সিকো থেকে ২২ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। পুয়েবলা শহরের অদূরে পালমার ডি ব্রাভোর কাছ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এখনো ভুক্তভোগীদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। তাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে মেক্সিকান প্রশাসন।

স্টেট পুলিশ অ্যান্ড পার্সোনাল অব দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মাইগ্রেশন (আইএনএম)-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ২২ জনের কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না।

এর আগে গত সপ্তাহে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টার সময় ভূমধ্যসাগর থেকে ১৬৪ বাংলাদেশিসহ মোট ৪৩৯ জন অভিবাসী প্রত্যাশীকে উদ্ধার করে লিবিয়ান কোস্ট গার্ড।

রাবারের ডিঙি নৌকায় করে ওই অভিবাসী প্রত্যাশীদের পাচার করা হচ্ছিল। তারা সবাই এশিয়ান এবং আফ্রিকান নাগরিক।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে সাড়ে চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন উপায়ে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন।

গত বছর ইতালিতে গেছে ৪ হাজার ১৪১ জন বাংলাদেশি। পাশাপাশি ২৮০ জন গেছেন মালটায়, ৮১ জন স্পেনে, ৮ জন গ্রিসে।

এছাড়া একই বছর পশ্চিম বলকান (ডব্লিউবি) দেশগুলোর মধ্য দিয়ে প্রবেশের সময় ৮ হাজার ৮৪৪ জন বাংলাদেশিকে ট্র্যাক করা হয়।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
বিশ্ব

একদিনে করোনা কেড়েছে আরও ৯ হাজার মানুষের প্রাণ

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যু বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে আরও ৯ হাজার ১২১ জন। এ সময়ে শনাক্ত হয়েছে আরও ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৯০৪ জন।

করোনা আক্রান্ত ও প্রাণহানির পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, ১৭ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিশ্বে করোনা রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮০ জন। যার মধ্যে মারা গেছে ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ১৬৯ জন। এ পর্যন্ত ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে ১৬ কোটি ২২ লাখ ৮৫ হাজার ১৯ জন সুস্থ হলেও সক্রিয় রোগীর সংখ্যা এখনও ১ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ৯২৭ জন।

বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সবার ওপরে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ১৩ হাজার ৮৩৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪২৮ জনের। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬১। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ১৬ হাজার ১৪৪ জনের। চিকিৎসাধীন ৫১ লাখ ৩৩ হাজার ২৪৩ জন।

এর পরেই অবস্থান করা এশিয়ার জনবহুল দেশ ভারতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা বিশ্বে সর্বোচ্চ থাকলেও তা এখন কমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায়ও শনাক্ত হয়েছে আরও ৬৭ হাজার ২৯৪ জন। এ সময়ে নতুন করে প্রাণহানি ঘটেছে ১ হাজার ৪১১ জনের। যাতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫৫ জনে। আর মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৩১ জনের। চিকিৎসাধীন ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮০ জন।

তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা কোপা আমেরিকা আয়োজনকারী ফুটবলপ্রিয় দেশ ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৬৭৩ জনের এবং শনাক্ত হয়েছে ৮৫ হাজার ৮৬১ জন। যা নিয়ে দেশটিতে এখন মোট মৃতের সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৭ এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৭৬ লাখ ২৯ হাজার ৭১৪। চিকিৎসাধীন ১১ লাখ ৫ হাজার ২৭৬ জন।

তালিকায় এরপরের স্থানে থাকা ফ্রান্স, তুরস্ক, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও ইতালিতে সংক্রমণের সংখ্যা ৪০ থেকে ৬০ লাখের মধ্যে থাকলেও তুরস্ক বাদে অপর দেশগুলোতে মৃত্যু লাখ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, মৃত্যু দুই লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে সংক্রমণে ১৫ নম্বরে থাকা মেক্সিকোতে। আর ৩২ নম্বরে থাকা বাংলাদেশেও মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৩ হাজার ২শ।

ভয়েস টিভি/এসএফ