Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ ভ্রমণ

নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যের দ্বীপ বালি

সাদা বালির বিচ, পাহাড়, রাইস ট্যারেস, ভলক্যানো, পুরাতন মন্দির সবমিলে পৃথিবীর বুকে স্বর্গই বলা চলে। বালির মত বহুমুখী পর্যটন কেন্দ্র মনে হয় খুব কমই আছে। ছোট্ট একটি দ্বীপে এতো দর্শনীয় স্থান এ যেন কল্পনাই করা যায় না। একদিকে দক্ষিণ বালিতে রোদের তাপে টিকে থাকা মুশকিল, অন্যদিকে উত্তর বালিতে কনকনে ঠাণ্ডায় সোয়েটার পড়তে হয়। একদিকে সমতল, অন্যদিকে উঁচু নিচু পাহাড়।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। ১৭ হাজার ৪০৫টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া। এই দ্বীপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং সুন্দর দ্বীপ বালি। ইন্দোনেশিয়া মুসলিম দেশ হলেও বালি দ্বীপটি হিন্দু অধ্যুষিত। বালি ও তার আশেপাশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপমালা নুসা পেনিদা, নুসা লেমবনগান ও নুসা সেনিনগান নিয়ে প্রদেশ গঠিত হয়েছে।

খ্রিস্ট-পূর্ব প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলপথ দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে অস্ট্রোনেশিয়ানরা অভিবাসিত হয়ে এখানে বসবাস করছেন। সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত দিক দিয়ে বালীয়বাসী ইন্দোনেশীয় দ্বীপপুঞ্জ, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার লোকজনের অনেক মিল রয়েছে।

জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বালি’র বেশ সুনাম রয়েছে। প্রাচীন ও আধুনিক নৃত্যকলা, ভাস্কর্য, চিত্রকলা, চামড়া, ধাতবশিল্প ও সঙ্গীতের ন্যায় উচ্চ পর্যায়ের শিল্পকলা এ শহরে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইন্দোনেশীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এখানে অনুষ্ঠিত হয়। বিংশ শতকের গোড়ার দিকে পর্যটন শিল্পের দিকে ঝুঁকে পড়ে এ শহরটি।

কোরাল ট্রায়াঙ্গেলের অংশ হিসেবে এলাকাটিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক সামুদ্রিক প্রজাতিতে ভরপুর। কেবলমাত্র এখানেই পাঁচ শতাধিক প্রজাতির প্রাণীদের গড়া প্রবাল প্রাচীর রয়েছে। এ সংখ্যার তুলনান্তে পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলের চেয়ে সাত গুণ বেশি।

প্রায় ২৮০ প্রজাতির পাখি রয়েছে এখানে। এরমধ্যে বালি ময়না অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। বিংশ শতকের শুরুর দিকে বালিতে বেশ কিছু বৃহৎ আকারের প্রাণী ছিল। ১৯৩৭ সালে সর্বশেষ বালিতে বাঘ দেখতে পাওয়া যেতো। ১৯৪০-এর দশক থেকে ১৯৫০-এর দশক পর্যন্ত এখানে বাঘের উপ-প্রজাতির দেখাও মিলতো।

তিন দশক পূর্বে বালীয় অর্থনীতির অধিকাংশই কৃষিভিত্তিক ছিল। বর্তমানে পর্যটনশিল্প এখানে আয়ের প্রধান উৎস। বালি ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম সম্পদশালী অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বালি মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে প্রতিনিয়তই ভিড় জমান ভ্রমণ পিয়াসুরা।

ভয়েসটিভি/একে/এএস

Categories
বিশ্ব

ভারতে কার্যক্রম স্থগিত করলো অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

বিশ্ববাসীর মানবাধিকার সুরক্ষিত করাই তাদের প্রচেষ্টা। ভারতে সেই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সংকটের মুখে। তাদের সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করেছে দেশটির সরকার। বাধ্য হয়ে ভারতে সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিলো আন্তর্জাতিক এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। ভারতের সব কর্মীকেও কার্যত ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যামনেস্টি।

২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, ভারতে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়টি তারা জানতে পারে গত ১০ সেপ্টেম্বর। দেশটির সরকারের এ পদক্ষেপের ফলে সেখানে অ্যামনেস্টির মানবাধিকার সংক্রান্ত সব প্রচার কাজ ও গবেষণা থমকে গেছে। অধিকাংশ কর্মীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে অ্যামনেস্টি।

এ সংস্থার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জুলি ভেরার বলেন, ‘ভারত সরকারের এ ভয়ঙ্কর ও লজ্জাজনক পদক্ষেপের ফলে সেখানে মানবাধিকার বিষয়ক আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আপাতত থমকে গেছে। তবে ভারতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমাদের অঙ্গীকার এবং সম্পৃক্ততার অবসান তাতে হয়নি। সামনের দিনগুলোতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কীভাবে ভারতের মানবাধিকার আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে পারে, তা আমরা খুঁজে বের করব।’

এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ভারতের ‘ফরেইন কন্ট্রিবিউশন অ্যাক্টের’ আওতায় নিবন্ধন নেয়নি- এই যুক্তিতে সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। ভারতে কোনো এনজিওর বিদেশি তহবিল নিতে গেলে ওই আইনে নিবন্ধিত হতে হয়।

তবে অ্যামনেস্টি দাবি করেছে, ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সব নিয়ম মেনেই তারা সেখানে কাজ করে আসছে।

অ্যামনেস্টির বক্তব্য, ‘ভারত সরকারের ক্রমাগত মানবাধিকার সংগঠনগুলিকে অপদস্থ করার অপচেষ্টার এটা শেষ নিদর্শন। প্রমাণ হয়নি এমন অভিযোগ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের ভিত্তিতেই সরকার এই ব্যবস্থা নিয়েছে।’

আরও পড়ুন: ধর্ষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি চায় মানবাধিকার কমিশন

অ্যামনেস্টি বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির দাঙ্গায় মানবাধিকার লঙ্ঘনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল তাদের প্রতিবেদনে। জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা তুলে দেয়া নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছিল। তারই পাল্টায় ভারত সরকারের এসব পদেক্ষেপ।

ভারতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক অবিনাশ কুমার বলেছেন, অবিচারের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ হওয়া ছাড়া আর কিছুই তারা করেননি।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, অ্যামনেস্টি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকারে অর্থ নিয়েছে, যা ভারতীয় আইনে অলাভজনক কোনো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
বিশ্ব

বিশ্বে শনাক্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে

সারা বিশ্বে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে শনাক্তের সংখ্যা ৩ কোটি ৩৫ লাখ ছাড়িয়েছে। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১০ লাখ ছয় হাজারেরও বেশি।

২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকালে ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য থেকে জানা গেছে, বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চল করোনা ভাইরাস হানা দিয়েছে।  এতে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০ লাখ ৬ হাজার ৩৭৯ জনের। আর শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৪৯ হাজার ৮৭৩ জন।

এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ কোটি ৪৮ লাখ ৭৮ হাজার ১২৪ জন।

এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে ২ লাখ ৯ হাজার ৮০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর শনাক্ত হয়েছে ৭৩ লাখ ৬১ হাজার ৬১১ জন।

শনারেক্তর সংখ্যায় দ্বিতীয় এবং মৃতের সংখ্যায় তৃতীয় অবস্থানে আছে ভারত। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্ত ৬১ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ জন। আর  মারা গেছেন ৯৬ হাজার ৩৫১ জন।

এ ভাইরাসটিতে শনাক্তের সংখ্যায় তৃতীয় এবং মৃতের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। এখানে মোট শনাক্ত  ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩২৭ জন। আর মারা গেছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ১৬১ জন।

মৃতের দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে আছে মেক্সিকো। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মারা গেছেন ৭৬ হাজার ৬০৩ জন। মোট শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৭১৭ জন।

শনাক্ত দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে আছে রাশিয়া। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৭৩ জন। আর মারা গেছেন ২০ হাজার ৩৮৫ জন।

ভয়েস টিভি/টিআর

Categories
বিশ্ব

বিশ্বে ২৩৪ জনে একজন করোনায় আক্রান্ত

গোটা বিশ্বে এ পর্যন্ত তিন কোটি ৩৩ লাখ ৭ হাজার ৫৭৭ জন মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কোভিড-১৯-এর পরিসংখ্যান রাখা আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারসের হিসাবের আক্রান্তের এ সংখ্যা পাওয়া যায়। এ হিসাবে দেখা যায়, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রতি ২৩৪ জনের একজন করোনা আক্রান্ত।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৭৮২ কোটি। ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া রোগটিতে মারা গেছেন ১০ লাখ ২ হাজার ৪০২ জন। সুস্থ ২ কোটি ৪৬ লাখ ৩৮ হাজার ৪৮২ জন।

আক্রান্ত ও মৃতের তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে ৭৩ লাখ ২১ হাজার ৩৪৩ জন পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ জন। সুস্থ ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৬ জন।

ভারতে ৯৫ হাজার ৫৭৪ জনের প্রাণ গেছে নতুন এ রোগটিতে। পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতির এ দেশে ৬০ লাখ ৭৪ হাজার ৭০২ জন পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৫০ লাখ ১৬ হাজার ৫২০ জন।

ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৬ জনের প্রাণ গেছে নতুন রোগটিতে। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় দেশটিতে ৪৭ লাখ ৩২ হাজার ৩০৯ জন পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়েছেন ৪০ লাখ ৬০ হাজার ৮৮ জন।

করোনা ‘প্রতিরোধী’ ভ্যাকসিন অনুমোদনের ঘোষণা দেয়া রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত ১১ লাখ ৫১ হাজার ৪৩৮ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। মারা গেছেন ২০ হাজার ৩২৪ জন।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব

ভারতে করোনা আক্রান্ত ৬০ লাখ ছুঁইছুঁই

করোনা ভাইরাস সংক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ভারত। দেশটিতে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ইতোমধ্যে ব্রাজিলকে টপকে করোনা সংক্রমণে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে ভারত। দেশটিতে করোনা শনাক্তের নমুনা পরীক্ষায় জোর দিয়ে সরকার। গত ৯ দিনে এক কোটিরও বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ভারতে দৈনিক সংক্রমণ গড়ে ৮০ হাজারেরও বেশি। সবশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় দেশটিতে ৮৮ হাজারের বেশি মানুষের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৬০ লাখ ছুঁইছুঁই করছে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ২৭ সেপ্টম্বর রোববার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, এদিন আরও ৮৮ হাজার ৬০০ মানুষের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। সরকারি হিসেবে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ লাখ ৯২ হাজার ৫৩৩ জনে।

আরও পড়ুন: করোনা সংক্রমণে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে ভারত

আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৬২৭ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন করোনারোগী রয়েছে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৪০২ জন।

সবশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে আরও ১ হাজার ১২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৫০৩ জনে। মৃত্যুর বৈশ্বিক তালিকায় ভারতের অবস্থান তৃতীয়।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে দেখা গেছে, নতুন আক্রান্তের ৭৫ ভাগই দশটি রাজ্যে ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের। সেগুলো হলো- মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ, উড়িষ্যা, দিল্লি, পশ্চিম বঙ্গ ও ছত্তিশগড়।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
বিশ্ব

প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন কেড়েছে মহামারি করোনা

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। মহামারি করোনা এ উপগ্রহের প্রায় ১০ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাসটিতে বিশ্বজুড়ে এ পর্যন্ত ৩ কোটি ৩০ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭২১ জনের। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ কোটি ৪৪ লাখ ৬ হাজার ১২২ জন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারস-এর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭২ লাখ ৮৭ হাজর ৫৬১ জন। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ৯ হাজার ১৭৭ জনের।

আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ লাখ ৯০ হাজার ৫৮১ জন। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৫৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল।

ভয়েস টিভি/এসএফ

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

টুইন টাওয়ার ধ্বংসের যে রহস্য আজও অজানা

মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলো যেনো রহস্যে ঘেরা গল্প। অনেক বছর পরও এগুলো মানুষের তর্ক-বিতর্কের খোরাক। এমনই আলোচিত ঘটনা নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বা টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলা।

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু এ ভবনটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দেড় যুগ পূর্ণ হয়েছে সম্প্রতি। দীর্ঘ সময় পাড়ি দিলেও এ নিয়ে এখনো নানা মত প্রচলিত।

সাদ্দাম হোসেনের কাছে বিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে এমন অজুহাতে ইরাকে আমেরিকান যুদ্ধের ষড়যন্ত্র হয়েছে এখন তা অনেকটাই স্পষ্ট মুসলিম বিশ্বের কাছে। তবে, আমেরিকানদের আরও কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা রয়েছে যেগুলো এখনো রহস্যে ঘেরা, অস্পষ্ট। যৌক্তিক বিচারে সেসব ঘটনার বিরোধী মতগুলোকেও উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

১৯৪১ সালে জাপানের পার্ল হারবার হামলা, আততায়ীর হাতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির মৃত্যু কিংবা ২০০১ সালে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ৯/১১ হামলা। এই ঘটনাগুলোর প্রত্যেকটি নিয়েই রয়েছে শক্তিশালী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। অনেকের মতে, এসব ঘটনার পেছনে মার্কিন শাসকরাই জড়িত।

১৯৪১ সালের পার্ল হারবার হামলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচলিত। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট নাকি ওই হামলা প্রতিহত করতে পারতেন। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণের চাবি হিসেবে ওই হামলার ঘটনা নাকি তিনি স্বেচ্ছায় ঘটতে দিয়েছিলেন। এই মতবাদের পক্ষে মার্কিন সমর্থকদের তালিকাটাও বেশ দীর্ঘ।

মার্কিন অর্থনীতিবিদ ও লেখক পল ক্রেইগ রবার্টস এসব ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসীদের একজন। তিনি সাম্প্রতিক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিরও একজন সমালোচক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তিনি শিক্ষকতা করেছেন।

ফরেন পলিসি জার্নালে প্রকাশিত এক লেখায় পল কেনেডি হত্যাকাণ্ড ও ৯/১১ হামলায় মার্কিন প্রশাসনের জড়িত থাকার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইনের শাসনসহ গণতন্ত্রের দাবি করলেও, জনগণের চাপে ৯/১১ হামলার প্রথম গ্র্যান্ড জুরি তদন্ত শুরু করতে ১৭ বছর সময় লেগে গেছে।’

এদিকে, কেনেডিকে লি হার্ভে ওসওয়াল্ড হত্যা করেছে তা কোনো বিশেষজ্ঞ কিংবা তথ্যবহুল মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে না বলেই পলের বিশ্বাস। এই হত্যাকাণ্ডের সমস্ত প্রমাণ তৎকালীন যৌথবাহিনী প্রধানরা, সিআইএ এবং সিক্রেট সার্ভিসের একটি চক্রান্তের দিকে ইঙ্গিত করছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের ডানপন্থী নেতারা কেনেডির প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাদের মতে, সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজয়ে তখন যা করার প্রয়োজন ছিল প্রেসিডেন্ট কেনেডি তা করেননি, কারণ তিনি অন্যদের থেকে ‘সাম্যবাদের প্রতি নরম’ ছিলেন।

৯/১১ হামলায় নিউ ইয়র্কের তৎকালীন বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ার ভবন ধস নিয়েও রয়েছে অনেক রহস্য। আমেরিকার একদল প্রকৌশলী ও স্থপতি মার্কিন প্রশাসনের প্রতিবেদনের জোরালো বিরোধিতা করেছেন।

বাণিজ্যিক বিমান দিয়ে করা হামলায় সৃষ্ট আগুনে টুইন টাওয়ারে ব্যবহৃত স্টিলের কলাম ধসে যেতে পারে না বলেই দাবি তাদের। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকালে মাত্র ১৭ মিনিটে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের দুটো ভবনে আঘাত হানে ছোট দুটি বাণিজ্যিক বিমান।

বিবিসি নিউজের মতে, মাত্র ১২ সেকেন্ডেই ভবনটি ধসে যায়। পাশে থাকা ৪৭ তলার আরও একটি স্থাপত্য ‘ভবন-৭’ও ধসে পড়ে। তবে, ঠিক কী কারণে ওই ভবনটি ধসে পড়েছে তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য এখনো মেলেনি, যা নিয়ে সন্দেহ আরও তীব্র হয়েছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, আর দশটি স্বাভাবিক দিনের মতোই নিউ ইয়র্কের ব্যস্ত একটি দিনের শুরু হয়েছিল। মার্কিন বার্তা সংস্থা সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, সেদিন সকালে ১৯ জন মিলে জেট ফুয়েল ভর্তি স্থানীয় সেবাদানকারী ৪টি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে।

এই বিমানগুলো নিউ ইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি এবং পেনসিলভানিয়াতে বিধ্বস্ত হয় এবং ৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে। ঘটনার ৩ মাস পর ১৩ ডিসেম্বর মার্কিন প্রশাসন একটি ভিডিও টেপ প্রকাশ করে, যেখানে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

বিমান ছিনতাই থেকেই শুরু করা যাক। ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত মার্কিন জাতীয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে তখন স্বাভাবিক ব্যস্ত সময় পার করছিলেন অপারেটররা। বিমানে ঠাসা মার্কিন আকাশে বোস্টন থেকে লসএঞ্জেলেসগামী ছোট্ট বাণিজ্যিক বিমান আমেরিকান এয়ারলাইনের ফ্লাইট ১১-এর ককপিট থেকে একটা অদ্ভুত আওয়াজ শুনতে পান এটিসির দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা।

বিমানটির সঙ্গে কিছুক্ষণ পরই যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন ওই অপারেটর। স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে বিমানটির অবস্থান হারিয়ে যাওয়া এবং একটা সম্ভাব্য বিমান ছিনতাইয়ের তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান তিনি। তারা বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখে আপডেট জানানোর নির্দেশ দেন অপারেটরকে। রাজ্যের এটিসিতে যখন ‘ফ্লাইট ১১’-এর তল্লাশি চলছিল, তখনই বোস্টন থেকে লসএঞ্জেলেসগামী আরও একটি বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে এটিসি।

এটিসি কক্ষে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই টেলিভিশনে ভেসে আসে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে বিস্ফোরণের ঘটনা। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে নিউ ইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনে অবস্থিত বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের ১১০ তলা উচ্চতার টুইন টাওয়ারের নর্থ ভবনে আঘাত হানে কিছু একটা।

পরে জানা যায়, ৫ ছিনতাইকারীসহ ৮১ জনের আমেরিকান এয়ারলাইনসের ‘ফ্লাইট ১১’সরাসরি ঢুকে যায় গগনচুম্বী ভবনটিতে। আচমকা এমন হামলায় যখন হতবাক এটিসি, তখনই তারা সরাসরি ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ‘ফ্লাইট ১৭৫’-এর হামলার সাক্ষী হন। প্রথমটির ঠিক ১৭ মিনিটের মাথায় ‘ফ্লাইট ১৭৫’আঘাত হানে টুইন টাওয়ারের দক্ষিণ ভবনে। স্তম্ভিত হয়ে যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্ব।

ঘোর কাটতে না কাটতেই, এটিসি-তে খবর আসে ভার্জিনিয়া থেকে লসএঞ্জেলেসগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের ‘ফ্লাইট ৭৭’নিখোঁজের কথা। ততোক্ষণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দুটো এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে দিয়েছে নিখোঁজ বিমানের তল্লাশিতে। যোগাযোগহীন হয়ে পড়ায় বিমানটির অবস্থান জানতে পারছিল না এটিসি কর্তৃপক্ষ। সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে ওয়াশিংটনে অবস্থিত মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনে আঘাত হানে ৫ ছিনতাইকারীসহ ৫৮ জনের ‘ফ্লাইট ৭৭’।

এদিকে, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দুটো আমেরিকার ব্যস্ততম আকাশে প্রবেশের কোনো সুযোগই পাচ্ছিলো না। ঘটনা এখানেই শেষ নয়, এটিসির জন্য আরও আতঙ্ক অপেক্ষা করে আছে। ৪ জন মিলে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের আরও একটি বিমান ছিনতাই করেছে। ছিনতাইকারী, পাইলট, ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ও যাত্রী মিলিয়ে ৩৭ জনকে নিয়ে পেনসিলভানিয়ার শাঙ্কসভিলের পাশের একটি মাঠে ১০টা ৩ মিনিটে বিধ্বস্ত হয় ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ওই বিমানটি। যেখান থেকেও কেউ বাঁচতে পারেনি।

পরে ধারণা করা হয়, এই বিমানটিও ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল, তবে বিমানের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হলে সেটা পথিমধ্যেই বিধ্বস্ত হয়।

প্রথম হামলার ঠিক ১০২ মিনিট পর অর্থাৎ ১০টা ২৮ মিনিটে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও দর্শনীয় স্থাপত্যের ১১০ তলার টুইন টাওয়ার ধসে যায়। কিছুক্ষণ পর বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের ৪৭ তলার আরও এক ‘ভবন ৭’মাটিতে ধসে পড়ে। মাত্র ১০-১২ সেকেন্ডের মধ্যে ধসে যায় টুইন টাওয়ার। মনে হয় যেনো ডিনামাইট বা শক্তিশালী বিস্ফোরক দিয়ে ভবন দুটোকে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

এমন ঘটনার প্রকৃত ক্ষতি নিরূপণ করা কঠিন, যেখানে প্রায় ৩ হাজারের মতো মানুষ নিহত এবং প্রায় ৬ হাজার আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১ হাজার ১৩৩ জনকে চিহ্নিত করা যায়নি। অজ্ঞাত পরিচয়ের দেহাবশেষ অবশেষে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার সাইটে, নিউ ইয়র্ক সিটির চিফ মেডিকেল এক্সামিনার অফিসের কার্যালয়ের আওতাধীন একটি সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করার ঘোষণা দেয় মার্কিন সরকার।

আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই হামলার আর্থিক প্রভাব নিরূপণ করাও খুব একটা সহজ কাজ নয়। এই ঘটনার জের ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ঘোষণা করে এবং আফগানিস্তানে অভিযান পরিচালনা করে। যেখানে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আমেরিকা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘকালীন এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত প্রায় ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে।

৯/১১ হামলা পরিচালনায় আল-কায়েদার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ লাখ ডলার। আর ওই হামলা দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই আমেরিকার অর্থনীতিতে ১২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতিসাধন করে। ঘটনার পর কয়েক বছর ধরে দেশটিতে বিমান যাত্রা হ্রাস পায়, যা বিপুল অর্থের ক্ষতি করেছে বলে জানায় সিএনএন।

আশপাশের কয়েকটি আকাশচুম্বী ভবন, স্থাপত্য ও সাবওয়েসহ বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ধসের ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে আনুমানিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়। ঘটনার ৩ দিনের মাথায় ২০০১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন কংগ্রেস একটি জরুরি সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের অনুমোদন দেয়, যেখানে ব্যয় হয় আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এয়ারলাইনগুলোকে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাহায্য অনুদান অনুমোদন দেয় কংগ্রেস।

এছাড়াও, বীমা দাবিতে ব্যয় হয়েছিলো আরও ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে ২০০২ সালের ৩০ মে ১৮ লাখ টনের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে সক্ষম হয় কর্তৃপক্ষ।

‘১৫ বছর পর : আকাশচুম্বী ভবন ধসে পদার্থবিজ্ঞান’শিরোনামে ২০১৬ সালে ইউরোফিজিক্স নিউজ জার্নালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যেখানে, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এমিরেটাস অধ্যাপক এবং কানাডিয়ান সোসাইটি অফ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সহযোগী রবার্ট করোল, ব্রিংহাম ইয়ং ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের প্রাক্তন অধ্যাপক স্টিভেন জোন্স, অ্যারোস্পেস, যোগাযোগ শিল্প এবং টেড ওয়াল্টারের মেকানিক্যাল ডিজাইনের প্রকৌশলী অ্যান্টনি জামবোতি, ওয়াল্টার, ৯/১১ সত্য উন্মোচনে কাজ করা স্থপতি ও ইঞ্জিনিয়ারদের সমন্বয়ে প্রতিবেদনটি লেখা হয়।

সত্য উন্মোচনে কাজ করা দলটি বলছে, ‘৯/১১-এর অফিশিয়াল কাহিনী সম্পর্কে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে, তাই এটি নিয়ে পুনরায় তদন্ত শুরু করা উচিত। বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র এবং ভবন-৭ ধসের কারণ হিসেবে বিস্ফোরকের সম্ভাব্য ব্যবহারের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি পূর্ণ অনুসন্ধান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

দলটি দীর্ঘদিন ধরে এমন সব যুক্তি উপস্থাপন করে যাচ্ছিলো, যা বহু বিতর্ককে উসকে দিয়েছে। বিতর্ক নিয়ে করোল বলেন, ‘১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ এর ঘটনা ঘটার পর থেকেই এটা আমার মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। ভবনটা কীভাবে ধসে গেল তাই বোঝা যাচ্ছে না। এমন ঘটার কোনো যুক্তিই নেই বলেও মন্তব্য তাদের।’

যদিও দুর্ভাগ্যজনক দিনটির প্রতীকী চিত্রগুলোতে দুটো যাত্রীবাহী বিমানের আঘাতে সৃষ্ট আগুন লেগে মুহূর্তের মধ্যেই ভবন দুটোকে বিধ্বস্ত হতে দেখা যায়, তবে তৃতীয় ভবনটিতে কোনো বিমান আঘাত না হানলেও তা ধসে যায়, যেটা বাকি দুটোর থেকে কিছুটা দূরেই ছিলো।

অধিকাংশ তত্ত্বেই যাকে ‘পরিকল্পিত ধ্বংস’হিসেবে অভিহিত করা হয়। করোল, তার সহকারী লেখক এবং অন্যরা মনে করেন এই ভবনটি সিআইএ এবং সিক্রেট সার্ভিসের অফিস হিসেবে স্থাপিত ছিল, যার ফলে কোনো আঘাত ছাড়াই ভবনটিকে তাসের ঘরের মতো ধসিয়ে দেওয়া হয়।

প্রকৃতপক্ষে, ৯/১১ হামলার আগে বা পরে আগুনের কারণে কখনোই পুরোপুরি স্টিল-ফ্রেমযুক্ত আকাশচুম্বী কোনো ভবনের এমন অবস্থা হয়নি। এমনকি ১৯৮৫ সালের মেক্সিকো সিটির ভূমিকম্পে একটি ২১ তলা ভবনের ধসে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো প্রাকৃতিক ঘটনাতে তেমনটা দেখা যায়নি। এই জাতীয় ভবনগুলোকে পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে একটি নিয়ন্ত্রিত ধ্বংসাত্বক পদ্ধতি পরিচালনা করতে হয়, যেখানে বিস্ফোরক বা অন্য ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কাঠামো ধসিয়ে দিতে ব্যবহৃত হয়।

বিমানের আঘাতের পর ওপরের তলাগুলোতে আগুন লেগেছিল, অথচ স্টিলের মোটা কলামের ভিত ছিল একদম নিচে। সেখানে এত দ্রুত উত্তাপ পৌঁছে কলামগুলোকে ধ্বংস করতে পারার কথা না। ডেইলি কমার্শিয়াল নিউজকে করোল বলেন, ‘ওপরের তলার আগুনে স্টিলের কলাম বা কানেক্টর কিংবা ফ্লোর বিমকে পর্যাপ্ত দুর্বল করার সুযোগ খুবই কম।

এছাড়াও, এগুলোর সঙ্গে অগ্নিপ্রতিরোধকারী ব্যবস্থা ছিল। শক্তিশালী বিস্ফোরকের আঘাতে কংক্রিটটি উচ্চ গতিতে বিচূর্ণ করা হলেই কেবল কাঠামোটির ধ্বংস সম্ভব। যা প্রায় ৩৭০ মিটার দূরের একটি ধ্বংসাবশেষের মাঠে ছড়িয়ে পড়বে। স্টিলের কলামগুলো গলাতে ৬৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন যা কেবল ভবনের ভিত্তিতে বিস্ফোরণের মাধ্যমে সম্ভব।

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে আফগানিস্তানের যুদ্ধের সঙ্গে ৯/১১ বিতর্কও সমান তালে চলমান। মাঠ পর্যায়ের লড়াই প্রায় থেমে গেলেও বিতর্কিত যুদ্ধ থামবে কিনা তা বলা যায় না। ২০০১ থেকেই বিশ্বে আল-কায়েদার উত্থান ঘটতে থাকে। ইউরোপ-আমেরিকাজুড়ে একের পর এক হামলা চলতে থাকে। আল-কায়েদার আগ্রাসন বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র বহু সংগ্রাম করেছে।

আফগানিস্তান, পাকিস্তান, সৌদি, কুয়েতে খুঁজে খুঁজে লাদেনের সহকর্মীদের হত্যা করেছে। মার্কিন ইন্টেলিজেন্সের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনের একটি গুপ্তাশ্রয়ের সন্ধান পায়। বারাক ওবামার নির্দেশে দুর্ধর্ষ নেভি সিল টিম সিক্স অপারেশন নেপচুন স্পিয়ারের মাধ্যমে ২০১১ সালের ২ মে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করা হয়।

ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার পর আপাতত তৃপ্তির ঢেকুর তুলে মার্কিনীরা। কিন্তু গোটা দুনিয়ায় আজো থামেনি এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা । বিশ্বেজুড়ে কৌতুহলী মানুষের একটুকুও কমেনি এ ঘটনার আসল রহস্য জানার আগ্রহ ।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

বিয়ে করলে মিলবে ৬ লাখ ইয়েন

বিয়ে করলেই মিলবে প্রণোদনা, অবিশ্বাস্য হলেও ঘটনা সত্যি। এমনই এক প্রকল্প পরিকল্পনা জানানো হয়েছে জাপান সরকারের তরফ থেকে। নবদম্পতিদের নতুন জীবন শুরুর সময় বাসা ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মেটাতে সর্বোচ্চ ৬ লাখ ইয়েন পর্যন্ত দেওয়া হবে রাস্ট্রীয় কোষাগার থেকে।

তবে এ উপহার সবার জন্য না। যেসব পৌরসভা ‘নিউলিওয়েড সাপোর্ট প্রোগ্রাম’ হাতে নিয়েছে কেবলমাত্র সেসব এলাকার বাসিন্দারাই পড়বে এই প্রকল্পের আওতায়। এক্ষেত্রে নতুন বিয়ে করা স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের বয়সই ৪০ এর নিচে থাকতে হবে এবং দুজনের সম্মিলিত আয়ও কোনোভাবেই ৫৪ লাখ ইয়েনের বেশি হতে পারবে না।

আগামী বছরের এপ্রিল থেকে বিয়েতে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার নতুন এ নিয়ম চালুর চিন্তাভাবনা চলছে বলে রোববার জাপান সরকারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে কিয়োডো নিউজ।

অবিবাহিত থাকতে চাওয়া ও দেরিতে বিয়ে করার প্রবণতার কারণে জাপানে শিশু জন্মহার অত্যন্ত কম। তাই জন্মহার বাড়াতেই দেশটির সরকার এখন বিয়েতে প্রণোদনা প্রকল্পের আওতা বাড়িয়ে নবদম্পতিদের বেশি অর্থ এবং বয়সের সীমা খানিকটা বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে।

‘নিউলিওয়েড সাপোর্ট প্রোগ্রামে’ বতর্মানে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের বয়স ৩৫ এর কম এবং সম্মিলিত আয় ৪৮ লাখ ডলারের নিচে হলে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ইয়েন পর্যন্ত সহযোগিতা মেলে। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত জাপানের মাত্র ২৮১টি পৌরসভা এ প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে। যা দেশটির ছোটবড় শহর ও গ্রাম মিলিয়ে থাকা পৌরসভার মাত্র ১৫ শতাংশ।

এখনকার নিয়ম অনুযায়ী, নবদম্পতিদের সহযোগিতার অর্ধেক অর্থ বহন করে পৌরসভা, বাকিটা দেয় কেন্দ্রীয় সরকার । এদিকে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে বেশি সংখ্যক নবদম্পতিকে অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা কার্যকর হলে ‘উপহার’ হিসেবে দেওয়া অর্থের দুই-তৃতীয়াংশই কেন্দ্রীয় সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ের কয়েকটি সূত্র।

দেশটিতে ২০১৫ সালে এক জরিপে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী অবিবাহিত পুরুষদের ২৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং অবিবাহিত নারীদের ১৭ দশমিক ৮ শতাংশই বিয়ে না করার জন্য অর্থের অভাবকে দায়ী করেছিলেন। এ জরিপ করেছিলেন জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড স্যোশাল সিকিউরিটি রিসার্চ ।

জাপানে জন্মহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিয়েতে আর্থিক প্রণোদনা বেশ কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভয়েসটিভি/এএস

Categories
বিশ্ব

সৌদিতে করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু

গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৬১ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৯০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে মারা গেছে ৩০ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৫৫ জনে। আর একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ৭৬৯ হয়েছেন জন। দেশটিতে সর্বমোট সুস্থ হয়েছেন ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০৫ জন।

২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৩৮৩ জনের। একই সঙ্গে শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৬১৬ জন।

ভয়েস টিভি/একে/এসএফ

Categories
বিশ্ব

ইউক্রেনে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা সংস্থা জানায়, এ বিমানটিতে সব মিলিয়ে ২৮ আরোহী ছিলেন।

এরই মধ্যে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতি দিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি সামরিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর পরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এখন অবধি ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে।

‘ইউক্রেন নাও’ চ্যানেলের তথ্যানুসারে, খারকিভ এয়ার ফোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে বিমানটি চলছিল। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে এটি বিধ্বস্ত হয়।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে দুর্ঘটনায় মৃত্যুদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্তকারী দলও গঠন করা হয়েছে।

ভয়েস টিভি/টিআর