Categories
বিশ্ব

২৪ ঘন্টায় মৃত্যু ৪ হাজার, শনাক্ত ২ লাখের বেশি

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: করোনা ভাইরাসের আগ্রাসী থাবায় জর্জরিত গোটা বিশ্ব। এখনও তাণ্ডব অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই ভাইরাসটির শিকার হচ্ছে বহু মানুষ। সেই সাথে বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

মরণঘাতি এই ভাইরাস বিশ্বের দুই কোটি মানুষের দেহে হানা দিয়েছে। প্রাণ কেড়ে নিয়েছে দেড় লাখের বেশি বনি আদমের। এর তাণ্ডব অব্যাহত থাকায় গত একদিনে মৃত্যু ৪ হাজারের বেশি মানুষের। আর শনাক্ত দুই লাখের বেশি।

ভাইরাসটিতে সবচেয়ে বেশি ভুগছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত, রাশিয়ার মতো দেশগুলোর নাগরিকরা। এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো, পেরু, চিলি ও ইউরোপের দেশগুলোও কাবু হয়ে গেছে।

বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের জরিপ থেকে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বের ২ লাখ ৯ হাজার ৮২৩ জন মানুষ করোনায় শনাক্ত হয়েছে। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪৬ জনে। একই মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৩৪১ জনের। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মারা গেছে ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৮২৩ জন। এর মধ্যে আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায়ও ২ লাখের বেশি করেনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। এতে করে মোট সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ কোটি ৩১ লাখ করোনা রোগী।

করোনায় সেবচেয়ে বেশি ভুগছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশেটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৪৪৬ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১৯২ জনের। অন্যদিকে ব্রাজিলে সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ সাড়ে ৫৭ হাজার। প্রাণহানি ১ লাখ ১ হাজার ৮৫৭ জনে গিয়ে ঠেকেছে।

সংক্রমণে তিনে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারতে গত এক দিনেই ৫৩ হাজারের বেশি মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এতে করে আক্রান্তের সংখ্যা ২২ লাখ ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রাণহানি ঘটেছে ৪৫ হাজার ৩৫৩ জনের।

রাশিয়ায় সংক্রমিতের সংখ্যা ৮ লাখ ৯২ হাজার। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার একজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে করোনায়।

উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোয় শনাক্ত রোগী ৪ লাখ ৮৫ হাজারের অধিক। প্রাণ গেছে ৫৩ হাজার ৩ জন মানুষের।

নিয়ন্ত্রণে আসা স্পেনে আক্রান্ত বেড়ে ৩ লাখ ৭০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। প্রাণ গেছে ২৮ হাজার ৫৭৬ জনের।

যুক্তরাজ্যে সংক্রমিতের সংখ্যা ৩ লাখ ১২ হাজার। যেখানে মৃত্যু হয়েছে ৪৬ হাজার ৫২৬ জনের। আর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানে করোনার শিকার ২ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি। মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৯৭ জনের।

এদিকে গতকাল বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, সোমবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৩ হাজার ৪৩৮ জন।

ভয়েস টিভি/ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক/ টিআর

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

রামের জন্মস্থান নিয়ে ভারত-নেপালের বিতর্ক

এবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম অবতার রামের জন্মভূমি নিয়ে চরম বিতর্ক চলছে নেপাল-ভারতের। নেপালি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির দাবি, রামের জন্ম ভারতে নয়, নেপালে। তিনি নেপালের রাজপুত্র ছিলেন। তার জন্মস্থান অযোধ্যাপুরীর অবস্থান নেপালেই। একারণে তিনি রামের মুর্তি তৈরিও ঘোষণা দিয়েছেন।

এদিকে ওলির এই মন্তব্যের পর ফুঁসে উঠেছে ভারত। দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি বলছে, ভারতীয় হিন্দুদের বিশ্বাস, রামের জন্মভূমি বর্তমান উত্তর প্রদেশের অযোধ্যাতেই।

কয়েক মাধ ধরে নেপালের সাথে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে ভারতের। কারণ সীমান্তের বিতর্কিত ভূখণ্ড উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস, লিম্পিয়াধুরা আর কালাপানি এলাকাকে নিজেদের দাবি করে নতুন মানচিত্র বানিয়েছে নেপাল। আর গত জুলাই মাসে এই মানচিত্র সর্বসম্মতভাবে আইনসভায় পাস করায় ওলির সরকার। হঠাৎ নেপালের এমন আচরণে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হলেও এ বিষয়ে কোনো কথাই বলছে না মোদি সরকার।

এদিকে ৫ আগস্ট বিশাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অযোধ্যায় ৫০০ বছর পুরনো বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে সেখানেই রামমন্দির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই রামমন্দির নির্মাণ উপলক্ষে সেদিন গোটা ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো উৎসবে মেতে ওঠে। তাদেরও বিশ্বাস দেবতা রামের জন্মস্থান ভারতের অযোধ্যায়।

কিন্তু ভারতের এই বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কাঠমান্ডুতে নিজ বাসায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলি দাবি করেন, রাম একজন নেপালি। তার জন্মভুমি ভারতে নয়, নেপালের চিতওয়ানের মাদি পৌরসভা এলাকার অযোধ্যাপুরীতে। এটা কাঠমান্ডুর কাছে একটি ছোট্ট গ্রাম। সেইসাথে তিনি আরো বলেন, শুধু রাম নয়, সীতার জন্মও নেপালে।

এমন দাবির পক্ষে প্রমাণও তুলে ধরে নেপালের প্রধানমন্ত্রী। বলেন, রাম যে নেপালি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যেও তার প্রমাণ রয়েছে। আর ভারতের অযোধ্যাও নেপালের, এটিরও প্রমাণ রয়েছে মধ্যযুগের লুইপার কাব্যে। ফলে সীমান্ত নিয়ে ভারত বেশি বাড়াবাড়ি করলে অযোধ্যাকেও নেপাল দাবি করতে পারে।

এরইমধ্যে নেপালের অযোধ্যাপুরীর আশপাশের এলাকা সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর রামের জন্মের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য নির্দেশ দেন খনন কাজ শুরুর। অযোধ্যাপুরীকে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ভূমি দেবে বলেও ঘোষণা দেন। এছাড়া রাম, লক্ষ্মণ ও সীতার মূর্তি স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন নেপালি প্রধানমন্ত্রী।

নেপালের এসব দাবির পক্ষে দাড়িয়ে দেশটির গণমাধ্যমগুলোও বলছে, নেপালের সংস্কৃতিকে দমিয়ে জোর করে ভিন দেশি সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে। তাইতো রামের জন্মভূমি নিয়ে বিতর্ক উঠছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য, কোটি কোটি হিন্দু ভগবান রামের জন্মস্থান বলে যে প্রাচীন শহর অযোধ্যাকে বিশ্বাস করেন, তা কাঠমান্ডুর কাছেই অবস্থিত।

এদিকে, নেপালি প্রধানমন্ত্রীর এসব বক্তব্যের পর সরব হয়ে ওঠে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। তারা এমন বক্তব্যকে রাজনৈতিক বিভেদ তৈরি ও ভারতকে আহত করার জন্য ‘অবাক পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করছে। সেইসাথে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র বিজয় শঙ্কর শাস্ত্রী নিন্দাও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে ভারতীয় বিশ্লেষকদের মতে, চীনের ইশারাতেই নেপাল এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা ভারতবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নিলেই তাতে সমর্থন দেবে চীন। কারণ চীন চায়, ভারতকে কোণঠাসা করতে ভারতের চারপাশের দেশকে সমর্থন দেয়া। তার সাম্প্রতিক প্রমাণ নেপালেরও রামমন্দির প্রতিষ্ঠার ঘোষণা।

তাদের মতে, নেপালের রাজনীতিতে দিনদিন কোণঠাসা হয়ে পড়ছে ওলি সরকার। তাই প্রধানমন্ত্রী ওলি চান চীনের মদদে নতুন দল গড়ে তুলতে। কারণ নিজের দলে তিনি ধীরে ধীরে প্রভাব হারাচ্ছেন। তাই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চীনের সাহায্য দরকার। ফলে অযোধ্যা ও রামমন্দির বিতর্ক এই মুহূর্তে তাঁর জন্য তুরুপের তাস।

লেখক : ফেরদৌস মামুন, সাংবাদিক

Categories
বিশ্ব

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ফের বিশ্ব মিডিয়ার শিরোনামে

ভয়েস টিভি : বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ফের শিরোনামে। সীমান্ত গোলযোগের কারণে চীন-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটার পর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও থিংকট্যাংক চীন ও বাংলাদেশের একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির দিকে লক্ষ্য করে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। কেউ একে আখ্যা দেয় ‘খয়রাতি’ হিসেবে, কেউ আবার বলেন ‘ঘাটতি ও ঋণের দ্বিমুখী ফাঁদ’। আরেক জায়গায় বলা হলো এটি চীনের এক বড় কূটনৈতিক অর্জন।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসবের কোনোটিই নতুন কিছু নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের সমালোচকরা প্রায়ই চীন থেকে আসা বিনিয়োগ ও বাণিজ্য নিয়ে বাংলাদেশের সমালোচনায় লিপ্ত হন। কিন্তু সমস্যা হলো সমালোচকরা এই সম্পর্কের সীমাবদ্ধতা ও বাংলাদেশের সামর্থ্যকে এড়িয়ে যান। এক ধরনের পরনির্ভরশিলতার এসব বয়ান বাংলাদেশ সম্পর্কে সেকেলে ধ্যানধারণায় ঘেরা। অর্থনৈতিক উন্নয়নের যেই মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ, তাকেই অগ্রাহ্য করে এই ধ্যানধারণা।
এই ধরনের বক্তব্য কতটা বাস্তবতা-বিবর্জিত, তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ সাম্প্রতিক এই বাণিজ্য চুক্তি।

১লা জুলাই চীন দেশটিতে বিনাশুল্কে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগে পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। আগে ৬০ শতাংশ পণ্য এই সুবিধা পেতো, এখন সেই হার ৯৭ শতাংশে চলে এসেছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে চীনের দেয়া বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের আওতায় চীন বাংলাদেশকে এই ছাড় দিয়েছে। এই প্রকল্প ২০০২ সালে চালু হয়েছে। বর্তমানে আরও ৪০টি দেশকে চীন এই সুবিধা দিয়ে থাকে। এতদিন কেন এসব পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়নি, তার কারণ হলো বাংলাদেশ এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বা আপটা চুক্তি অনুযায়ী শুল্ক হ্রাসের সুবিধা বেছে নিয়েছিল। ওই চুক্তির আওতায় অবশ্য এলডিসি প্রকল্পের মতো শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার না পেলেও, নিয়মনীতিতে অনেক ছাড় মিলেছিল বাংলাদেশের।

খয়রাত বা ফাঁদ বা একতরফা বিজয় নয়, বরং বাংলাদেশ যে এখন এলডিসি প্রকল্প বেছে নিয়েছে তার কারণ হলো বাংলাদেশ এখন রপ্তানি বহুমুখীতে আগ্রহী। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যেই বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি তা থেকে যে এই শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের কারণে খুব উপকার পাওয়া যাবে, তা নয়। কিন্তু এই ধরনের সুবিধা পেলে তো ক্ষতি নেই। এছাড়া যেসব কোম্পানি চীন থেকে তাদের সাপ্লাই চেইন সরিয়ে ফেলতে চায়, কিন্তু চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার হারাতে চায় না, সেসব কোম্পানির বিনিয়োগও বাংলাদেশ এখন আকৃষ্ট করতে পারে।

শুধু বাণিজ্য নয়, চীন থেকে আসা বিনিয়োগের কারণেও বাংলাদেশকে কটু কথা শুনতে হয়।

২০১৬ সালে চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়। চীন ও বাংলাদেশ ২৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে, যার সম্মিলিত মূল্য প্রায় ২৪০০ কোটি ডলার। এছাড়া সাইডলাইনে বাংলাদেশ ও চীনে কোম্পানিগুলো ১৩টি জয়েন্ট ভেঞ্চারে উপনীত হয়, যেগুলোর প্রাক্বলিত পরিমাণ হিসাব করা হয়েছে ১৩৬০ কোটি ডলার।

ওই সময়টায় চীন এই অঞ্চলে এমনিতেই কিছুটা ব্যস্তই ছিল। ২০১৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানে ৪৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেয় দেশটি। ভারতে ২০১৫ সালের মে মাসে চীনের ২২০০ কোটি ডলারের ঘোষণা আসে। তারপরও কিছু বিদেশী পর্যবেক্ষক বাংলাদেশের চুক্তিকেই সম্ভাব্য ঋণের ফাঁদ বা বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি হিসেবে তুলে ধরছেন।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় (যেখানে বাংলাদেশও সদস্য) যেসব চুক্তি হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে। কিন্তু ২০১৬ সালে চীনের সাথে বাংলাদেশের যেসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার মাত্র ৫টি ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ বাস্তবায়িত হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ একটি প্রকল্প বাদ দিয়েছে। ১৬০ কোটি ডলার ব্যায়ে নির্মিতব্য ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বাদ দেয়ার আগে চুক্তি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চায়না হার্বার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (সিএইচইসি)-কে ঘুষ দেয়ার অভিযোগে কালোতালিকাভুক্ত করে বাংলাদেশ। এই সিএইচইসিই আবার শ্রীলংকার হাম্বানটোটা বন্দর নির্মাণ করেছিল। এই বন্দরকেই বিশ্লেষকরা চীনের ঋণ ফাঁদের উদাহরণ হিসেবে প্রায়ই তুলে ধরেন। কারণ, এই বন্দর নির্মানে নেয়া ঋণের খরচ বহন করতে শ্রীলংকা চীনকেই ওই বন্দর ৯৯ বছরের জন্য পরিচালনা করার লিজ দেয়।

অপরদিকে ২০১৯ সালের জুলাই নাগাদ চীন প্রতিশ্রুতির ২৪০০ কোটি ডলারের মধ্যে মাত্র ৯৮.১ কোটি ডলার ছেড়েছে। বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা মিডিয়াকে বলেছেন যে, দর কষাকষি, চীনের এক্সিম ব্যাংকের সীমিত সামর্থ্য ও বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠানের লবিং-এর কারণে ঋণ ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে।

যদি প্রকল্পগুলো নিয়ে পুনরায় সমঝোতায় না আসা যায়, তাহলে ২০১৬ সালে যেই অর্থায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম। মূল চুক্তিগুলোর মেয়াদ ২০২০ সালেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।
তবে এসব বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়।

আন্তর্জাতিক সাহায্য বা ঋণ পরিচালনার কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। বিভিন্ন ধরণের দ্বিপক্ষীয় ও বহুজাতীয় অর্থায়নকারীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে দেশটির। আর্থিক ক্ষেত্রে এই বিচক্ষণতা ও ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে এই সতর্কতার কারণেই ইকোনমিস্ট ইন্টিলিজেন্স ইউনিট সঠিকভাবে ৪ বছর আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে ২০১৬ সালে চীনের সাথে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর মধ্যে অল্প ক’টিই বাস্তবায়িত হবে।

ফলে বাংলাদেশ ২০৩৫ সালের মধ্যে চীন থেকে ৫০০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পাবে বলে যেই ধারণা করা হচ্ছে, তা কল্পনা করা এই প্রেক্ষপটে কঠিন ঠেকছে। ঋণ নেয়ারই যেখানে এই অবস্থা, সেখানে ঋণের ফাঁদে আটকে যাওয়া বা চীনের কাছে অবকাঠামো প্রকল্প লিজ দেয়া তো আরও দূরের কথা।

বাংলাদেশের বেশিরভাগ ঋণ বহুজাতিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া। কভিড-১৯ মহামারির অর্থনৈতিক ধ্বস সত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের নেয়া ঋণকে ‘টেকসই’ বলে আখ্যা দিয়েছে। দেশটির বৈদেশিক ঋণ জিডিপির ১৪.৭ শতাংশ, যা ব্যবস্থাপনাযোগ্য বলেই ধরে নেয়া হয়েছে।

তাই বাংলাদেশ ঋণের জালে কতটুকু আবদ্ধ হয়ে পড়ছে—তার চেয়ে বরং চীনের এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তার ওপর নজর দেয়াই সম্ভবত যৌক্তিক হবে।
বাংলাদেশে ব্যবসা করা অত্যান্ত কঠিন ও কষ্টসাধ্য। বাংলাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে অর্থায়ন না পাওয়া, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে চিহ্নিত করে। অপরদিকে চীনের কোম্পানিগুলো বিশ্বের সবচেয়ে অস্বচ্ছ বলে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন পশ্চিমা কোম্পানিগুলোকে বিদেশে ব্যবসা করতে হলেও নিজ দেশের দুর্নীতি-বিরোধী আইন মেনে চলতে হয়। চীনা কোম্পানিগুলো তেমন কোনো আইন মানতে বাধ্য নয়।

বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিষয়টি সুখকর নয়। তারা আশংকা করছেন, অসম সুবিধা পেয়ে লোভনীয় সব চুক্তি সব পেয়ে যাবে চীনা কোম্পানিগুলো কিংবা বাজার দখলে নেবে তারা।

অনেকে অভিযোগ করেন, চীনা কোম্পানিগুলো দরপত্রে অংশ নেয় অল্প দর প্রস্তাব করে। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকল্পের খরচ বাড়িয়ে বা ঋণের শর্ত পরিবর্তন করে ফেলে। একটি জরিপে দেখা গেছে, চীনের বহিঃবিনিয়োগের এক চতুর্থাংশই ব্যর্থ হয় এসব কারণে। জরিপের ৪০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন যে, ব্যর্থ হওয়ার জন্য এই ব্যয় বৃদ্ধি ভূমিকা রেখেছে। ২৭ শতাংশ বলছেন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের তদন্তের আশঙ্কা বিনিয়োগ ভেস্তে দিয়েছে।

এই দু’টি ইস্যুই বাংলাদেশে সিএইচইসি’র কালোতালিকাভুক্তিতে ভূমিকা রেখেছে। ২০০৭ সালের পর থেকেই নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ সিএইচইসি’র দিকে নজর রাখছিল। ২০১৮ সালে সিএইচইসি’র কালোতালিকাভুক্তির জন্য যেই ঘুষ প্রস্তাবের অভিযোগ উঠে, তা এমন সময়ে ঘটেছিল যখন কিনা প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পের প্রাথমিক প্রাক্বলিত ব্যায় দ্বিগুণ করার চেষ্টা করছিল। এরপর দ্বিপক্ষীয় আলোচনা থেকে পিছু হটে চীনা কর্মকর্তারা।
সম্পর্কের পরবর্তী টানাপোড়েন দেখা যেতে পারে জ্বালানী ও আর্থিক সেবা খাতে। টেক্সটাইলের পাশাপাশি এই দুই খাতেই চীনা বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি।

গত বছরে বাংলাদেশের জ্বালানী নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ সরকারকে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন বাতিল করার সুপারিশ করেছিল। বিদ্যমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুৎ দিয়েই ২০৩০ সাল পর্যন্ত চাহিদা মেটানো যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এছাড়া অভারক্যাপাসিটির জন্য যেই অর্থ এখন ব্যয় হচ্ছে, তা অযৌক্তিক বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এটি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য সমস্যা বয়ে আনতে পারে। তারা ১৫টি প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ইকুইটি বিনিয়োগ করে ফেলেছে। এগুলো ৭৬ শতাংশই ২০১৯ সাল নাগাদ পরিকল্পনার পর্যায়ে ছিল।

বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি প্রকল্প বাদ দিয়েছে। এটি হলো গজারিয়ায় পরিকল্পিত ৪৩ কোটি ডলার ব্যায়ের ৩৫০ মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন কয়লাচালিত তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। এটিও ২০১৬ সালের সমঝোতা স্মারকগুলোর একটি। এরপর বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে যে বাংলাদেশ প্রতি মাসে ১.৯ কোটি ডলার পরিশোধ করছে শুধু পায়রার কয়লা-চালিত ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট হিসেবে। জয়েন্ট ভেঞ্চার এই প্রকল্পে গত বছর চীনা ও বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রাণঘাতী সংঘাত বেধেছিল।

আর্থিক সেবাখাতে ক্রমেই প্রতিযোগিতা বাড়ছে, যা হতে পারে অস্থিরতার আরেকটি উৎস। চীন এই খাতের সবচেয়ে বৃহৎ বিদেশী বিনিয়োগকারী। ২০১৮ সালে চীনের আলিপে (এখন অ্যান্ট ফাইন্যান্সিয়াল) বিকাশ-এর ২০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। এই মোবাইল অর্থ লেনদেনের কোম্পানিতে শেয়ার আছে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ও বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনেরও।

তবে বিদেশী অর্থায়নের প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে রাষ্ট্র-সমর্থিত আর্থিক প্রযুক্তি খাতের জন্য অসম সুবিধা দেয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উদাহরনস্বরূপ, রাষ্ট্রীয় পোস্টাল সেবা কর্তৃপক্ষ সমর্থিত মোবাইলে অর্থ লেনদেনের কোম্পানি নগদের তুলনায় বিকাশের লেনদেনের সীমা অবশ্যই কম রাখতে হচ্ছে, আবার গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ উত্তোলনের চার্জ বেশি রাখতে হচ্ছে। এছাড়াও বিকাশকে ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ নামে বিশেষ বিধান মেনে চলতে হচ্ছে।

এমনকি দুই কোম্পানি দুইভাবে নিবন্ধিত। বিকাশ একটি ‘ডিজিটাল আর্থিক সেবা’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অপরদিকে নগদ একটি ‘মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা’ প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রিত হয় পোস্টাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। পোস্ট ও টেলিকমিনিউকেশন মন্ত্রী পার্থক্য বোঝাতে বলেছিলেন যে, নগদ জনসাধারণের আর্থিক অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেয়।

এসব বক্তব্য চীনা প্রযুক্তি খাতের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বেশ পরিচিতই শোনাবে, কেননা তারাও চীনে একই ধরনের সুবিধা ভোগ করে। তারপরও এটি দেখার বিষয় ভবিষ্যতে এ নিয়ে তাদের লবিস্টরা বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কীভাবে দরকষাকষি করে।

কিন্তু এসব থেকে এ-ও বোঝা যায় যে, বাংলাদেশ চীনের আর্থিক প্রভাব বলয়ের বাইরে থেকেই স্বাধীন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বাংলাদেশের যেই প্রবৃদ্ধির গল্প, তার শক্তিমত্তাকেই অগ্রাহ্য করা হবে অন্যথায়।
গত কয়েক বছর ধরে এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল দেশের একটি বাংলাদেশ। গত এক দশকে দেশটির প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল প্রায় ৭ শতাংশ। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৮.১ শতাংশ। মাথাপিছু আয় গত বছর প্রায় ২ হাজার ডলারে এসেছে পৌঁছেছে, যা ২০০৬ সালের চেয়ে তিন গুণ।

কভিড-১৯ মহামারির কারণে দেশটির অগ্রগতি কিছুটা থমকে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে, তবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) পূর্বাভাস দিয়েছে ২০২০ সালে বাংলাদেশ হবে এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল দেশগুলোর একটি। এরপর ২০২১ সালে দেশটি ভি-শেপ (খাড়া পতনের পর খাড়া অগ্রগতি) পুনর্লাভের দিকে যাবে। অন্যান্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে এই পূর্বাভাস কিছুটা বেশিই আশাবাদী, তবে সরকারের ঠিক করা উচ্চাকাঙ্খী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম।

বিদেশি ঋণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহায়ক ছিল, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির স্থিতিস্থাপকতার অন্যতম কারণ হলো সামাজিক উন্নয়ন। বাংলাদেশ দারিদ্র্য হ্রাস, বিদ্যালয়ে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস, শ্রমশক্তিতে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি ও অর্থনীতিকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে চেয়েছে। এ কারণেই বছরের পর বছর ধরে দেশটি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে।

বাংলাদেশের এখনও অনেক দূর যাওয়া বাকি। তবে যেদিন ইউ অ্যালেক্সিস জনসন ও হেনরি কিসিঞ্জার দেশটিকে ‘বাস্কেট কেইস’ বলেছিলেন, সেইদিনের তুলনায় আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার অনেক কাছে চলে এসেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ধারণের সময় এসেছে। চীনা বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন যেমন রয়ে গেছে, তেমনি কঠোরতম সমালোচনায় কেবল নিজ-স্বার্থে কাজ করার যেই সামর্থ্য বাংলাদেশের রয়েছে, তাকেই অগ্রাহ্য করা হয়।

আরও খারাপ বিষয় হলো, এসব সমালোচনা সেই পরনির্ভরশীলতার ভুল ধারণাকেই উস্কে দেয়, যার সঙ্গে বাস্তবতার সম্পর্ক সামান্যই। পর্যবেক্ষকরা যখন চীনের সকল কার্যক্রমকে হুমকি হিসেবে দেখেন আর বাংলাদেশ এক ধরণের ভিকটিমতত্বে জর্জরিত থাকে, তখন তারা একটি সম্পর্কের মধ্যে যেই স্বার্থ থাকে তার পূর্ণ মাত্রা উপলব্ধি করতেই ব্যর্থ হন।

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিন্ন একটি বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশ তাদের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির গন্তব্যে এগিয়ে যেতে হিসাবি ঝুঁকি নিয়েছে। এই বিশ্লেষণ আরও নজর পাওয়ার দাবি রাখে। শুধু তাই নয়। যদি এই সম্পর্ক সফল হয়, তাহলে চীনের সঙ্গে কীভাবে দায়িত্বপূর্ণ উপায়ে লেনদেন করতে হয়—উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তার একটি ছবক হয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

লিখেছেন : অ্যাডাম পিটম্যান, সংবাদ  বিশ্লেষক ও সম্পাদক।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-ভিত্তিক এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলমুখী ডিপ্লোম্যাট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।

Categories
বিশ্ব

বিশ্বে করোনা রোগী ২ কোটি ছাড়ালো

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা। শক্তিধর দেশগুলোকেও বিপর্যস্ত করে তুলেছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এর মধ্যেই করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ছাড়ালো। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৫ জনের।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনার উপস্থিতি ধরা পড়ে। এখন পর্যন্ত ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে তাণ্ডব চালাচ্ছে এই ভাইরাস। আক্রান্ত ও প্রাণহানির অধিকাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, ভারত, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো, পেরু ও চিলির মতো দেশগুলোর নাগরিক।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ২৩ হাজার ১৬। এর মধ্যে মারা গেছে ৭ লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৫ জন। তবে করোনা থেকে সুস্থতার হারও কম নয়।

এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় পৌনে ২ লাখের বেশি ভুক্তভোগী সুস্থ হয়েছেন। এতে করে মোট বেঁচে ফেরার সংখ্যা ১ কোটি ২৮ লাখ ৯৮ হাজার ২৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও উৎপত্তিস্থল চীনে নিয়ন্ত্রণে ভাইরাসটি। তবে দেশগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও মুক্ত হচ্ছে না পুরোপুরি। এখনও প্রতিদিনই কমবেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৪। এর মধ্যে মারা গেছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৭ জন।

তবে দেশটিতে ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ২৬ লাখ ৬৪ হাজার ৭০১ জন। সেখানে বর্তমানে করোনার অ্যাক্টিভ কেস ২৩ লাখ ৬৯ হাজার ১২৬। অপরদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে ১৭ হাজার ৮১২ জন।

এদিকে সংক্রমণে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৫৮২। এর মধ্যে মারা গেছে ১ লাখ ১ হাজার ১৩৬ জন। ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ২১ লাখ ১৮ হাজার ৪৬০ জন। অপরদিকে, তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২২ লাখ ১৪ হাজার ১৩৭। এর মধ্যে মারা গেছে ৪৪ হাজার ৪৬৬ জন। তবে ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ২৭৮ জন।

রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৬। এর মধ্যে মারা গেছে ১৪ হাজার ৯৩১ জন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৪২২ জন।

এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮৫৯। এর মধ্যে মারা গেছে ১০ হাজার ৪০৮ জন। তবে দেশটিতে ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৭৪ জন।

আর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, গতকাল রোবাবর দুপুর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬০০ জন। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ৩ হাজার ৩৯৯ জনের।

ভয়েস টিভি/ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক/ টিআর

Categories
বিশ্ব

কারাবন্দী ৪শ’ তালেবান যোদ্ধাকে মুক্তির ঘোষণা

কারাবন্দী ৪শ’ তালেবান যোদ্ধাকে মুক্তি দেয়ার বিষয়টি ঘোষণা করেছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যে স্থবির হয়ে পড়া শান্তি আলোচনা আবার নতুন করে শুরু করতে এসব তালেবান বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

তিন দিনের আলোচনার পর ৯ আগস্ট রোববার ওই ৪শ’ বন্দিকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই দেশটির পার্লামেন্ট অধিবেশনে বলেন, আজকে দিনটি খুবই আনন্দের। আমার কাছে যে তথ্য রয়েছে, তাতে বলা যায় যে, তালেবানের ৪শ’ বন্দিকে মুক্তি দেয়ার পর আফগান সরকার এবং তালেবানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের প্রধান নির্বাহী এবং প্রধান আলোচক আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ বলেন, পার্লামেন্টের সিদ্ধান্তের ফলে শান্তি আলোচনার পথে প্রধান বাধা দূর হয়েছে। এখন আলোচনা শুরু করা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি তালেবান এবং মার্কিন সরকারের মধ্যে যে শান্তি চুক্তি সই হয়, সেখানে ৫ হাজার তালেবান বন্দির মুক্তির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আফগান সরকার যেহেতু এই চুক্তির সরাসরি কোনো অংশ ছিল না, সে কারণে তারা বন্দিদের মুক্তি দেয়ার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী নয়।

অন্যদিকে তালেবান বলছে, ওই পাঁচ হাজার বন্দিকে মুক্তি দিলেই শুধু তারা আফগান সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসবে। আফগান সরকার আরও ৪০০ তালেবান বন্দিকে মুক্তি দিলো।

ভয়েস টিভি/ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক/ডিএইচ

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়োজন ভারতের

এবার চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হচ্ছে ভারত। এরইমধ্যে সেনা কমান্ডারদের যুদ্ধ প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে। কারণ সামরিক ও কূটনৈতিকস্তরে দফায়-দফায় বৈঠকেও গলেনি বরফ। এখনো ভারতীয় ভূখণ্ডে ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে চীনা সেনারা। তারা প্যাংগং লেকের ফিঙ্গার পয়েন্ট এবং দেপসাং উপত্যকা থেকে সেনা সরাতে মোটেও রাজি নয়। চীনা পিপলস লিবারেশন আর্মির এই আচরণে চরম ক্ষুব্ধ ভারত।

১৫ জুন লাদাখের গালওয়ান উপতক্যায় চীনা সেনাদের হামলায় ভারতের ২৩ সেনা নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা দিনদিন বাড়ছেই। এখনো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ড দখলে রেখেছে চীনা সেনারা। এরপর থেকে চীনের সাথে দফায়-দফায় সামরিক ও কূটনৈতিকস্তরে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। কিন্তু কোনো সুরাহাই হচ্ছে না। বারবার সীমান্তে শান্তি ফেরাতে নিঃশর্তে চীনকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে ভারত। তবে সেকথায় কানই দিচ্ছে না চীন।

তবে কয়েক দফা বৈঠকের পর চীন গালওয়ান, হটস্প্রিং, ফিঙ্গার পয়েন্ট ফোর থেকে সেনা সরালেও ভারতীয় ভূখণ্ডের প্যাংগং, দেপসাংয়ে এখনো আগের অবস্থানে আছে। রোববার পঞ্চম দফা সামরিক বৈঠকেও চীন এসব এলাকা থেকে সৈন্য সরাতে রাজি হয়নি। চীনাদের এই মনোভাবে ভারতীয় সেনাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দেন সেনাপ্রধান জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নারাভানে।

এরআগে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে কয়েকদিন ধরেই ভারতের সেনাপ্রধান লাদাখ থেকে আসম পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় পরিদর্শন করেন। আর ইস্টার্ন কমান্ড সফরের সময় সেনাপ্রধানকে সিকিম, অরুণাচলের সঙ্গে চীনের সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সেনা কমান্ডাররা।

সেনা কর্মকর্তাদের রিপোর্টে আর উপগ্রহ চিত্রের ছবিতে দেখা যায়, , উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, সিকিম, অরুণাচল সীমান্তে যুদ্ধাস্ত্রসহ বিপুল সেনা মোতায়েন করেছে চীন। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই লাদাখ সীমান্তে কম্বাইন্ড আর্মি ব্রিগেড নিয়ে ইন্টিগ্রেডেড ব্যাটল গ্রুপও তৈরি করেছে চীন। দেশটির এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবে পিছিয়ে নেই ভারতও। তারাও সীমান্তে ঘাতক প্ল্যাটুন-সহ ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। শক্তি বাড়াতে আরো ৩৫ হাজার সেনা পাঠানোও প্রস্তুতি নিয়েছে।

শুধু সেনাবাহিনী নয়, বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়েছে যুদ্ধবিমানও। তাদেরও যেকোন রকম পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভারত-চীন সীমান্তে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর  আকাশে উড়ছে সামরিক হেলিকপ্টার। চিনুক কার্গো হেলিকপ্টার, অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার, পি-৮ সার্ভেইলেন্স এয়ারক্র্যাফ্ট আইএল-৭৬ স্ট্র্যাটেজিক এয়ার লিফ্টার। আর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে ভারত-চীন সৈন্যদের  সংঘর্ষ স্থলের আশপাশের গ্রামগুলোর।

চীন- ভারতের মধ্যে সবশেষ সংঘাত হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। সেবারই সীমান্তে শেষবার কোনও সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে ওয়েস্টার্ন সেক্টরে লাদাখে বা ইস্টার্ন সেক্টরে অরুণাচলে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে বেশ কয়েকবার হাতাহাতি ও মারামারি কম হয়নি। কিন্তু ১৫ জুন লাদাখের মতো প্রাণঘাতী মারামারি কখনও হয়নি। এই মারামারিতে দু’পক্ষই লোহার রড, লাঠি, পাথর নিয়ে হামলা চালায়।

এদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন-ভারতের এই উত্তেজনা কমাতে দু’দেশের শীর্ষ নেতাদের নমনীয় মনোভাব নিয়ে এক টেবিলে বসতে হবে। তা না হলে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। আর এই বির্পযয়ের ফলে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে চীন-ভারতসহ আশপাশের দেশগুলোও।

লেখক: ফেরদৌস মামুন, সাংবাদিক

Categories
বিশ্ব

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ

নিউজ ডেস্ক: ৯ আগস্ট! আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে দিবসটি। এই দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অধিকারবঞ্চিত আদিবাসীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নামবেন।

সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রায় ৫০ লাখ মানুষ। তারা ক্রমেই মূলধারা থেকে পিছিয়ে পড়ছে। হারিয়ে যাচ্ছে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি।
এমন পরিস্থিতিতে আজ রবিবার দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস।

দিবসটি উদযাপনের মূল লক্ষ্যই হলো আদিবাসীদের জীবনধারা, মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার, আদিবাসী জাতিসমূহের ভাষা ও সংস্কৃতি তথা আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকার সম্পর্কে সংখ্যাগরিষ্ঠ অ-আদিবাসী জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন করে তোলা।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে আজ সকালে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। থাকছে ভিডিও বার্তা, অনলাইনে আদিবাসী শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা, আলোচনাসভা, প্রদীপ প্রজ্বালন ও মৌনব্রত কর্মসূচি। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় থাকছে নানা কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার আলোচনাসভা করবে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

রাত ৮টায় বিশ্বব্যাপী কোভিড মহামারিতে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের স্মরণে এবং ধরিত্রীর সুস্থতার জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রদীপ প্রজ্বলন ও এক মিনিট মৌনব্রত পালন করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়ে আসছে। বিশ্বের ৯০টি দেশের ৩০ থেকে ৩৫ কোটি আদিবাসী উদযাপন করে থাকেন দিবসটি।

ভয়েস টিভি/নিউজ ডেস্ক/টিআর

Categories
বিশ্ব ভিডিও সংবাদ

চীন আগ্রাসন: এবার টার্গেট তাজাকিস্তান

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারত, ভূটানের পর এবার চীনের নজর তাজাকিস্তানের দিকে। সম্প্রতি চীনা ইতিহাসবিদ ইয়ো ইয়াও লু একটি প্রতিবেদনে দাবি করেন, একসময় পুরো পামির মালভুমি ছিলো চীনের। তাই এ ভূমি চিনের ফেরত নেয়া উচিত। তাঁর এই প্রতিবেদনের পক্ষে উঠে-পড়ে লেগেছে চীনা সংবাদমাধ্যমগুলোও। তারাও খুঁজতে নেমেছে চীনের অতীত ইতিহাস। সেইসঙ্গে তাজাকিস্তান থেকে পামির মালভূমি ছিনিয়ে নেয়ার জন্য চীন সরকারকে সাহায্য করছে। এদিকে চিনের এই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনে কাঁপছে তাজাকিস্তান।

রিপাবলিকান অব তাজিকিস্তান। মধ্য এশিয়ার পাহাড় ঘেরা ছোট্ট একটি গরীব দেশ। দক্ষিণে আফগানিস্তান, পশ্চিমে উজবেকিস্তান, উত্তরে কিরগিজস্তান এবং পূর্বে রয়েছে চীনের অবস্থান। সামান্য একটি করিডোরের মাধ্যমে পাকিস্তানেরও প্রতিবেশী তারা। ইতিহাসে অসংখ্য রাজার শাসনাধীনে থাকা এই তাজিকিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৯১ সালে। এরপরই গৃহযুদ্ধের মুখে ব্যাপক ক্ষতি হয় তাজিকিস্তানের অর্থনীতির।

এই সুযোগে ২০১০ সালে একটি সীমান্ত চুক্তি হয় চীন-তাজাকিস্তানের। সেই চুক্তি অনুযায়ী তারা চীনকে ১১৫৮ বর্গ কিলোমিটার জায়গায় ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। আর চীন তাজাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে ওই স্থানে তৈরি করে বিমানবন্দর। এটাকে ভালো চোখে দেখছে না রাশিয়া। তাদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে চীনারা। কারণ মধ্যপ্রাচ্য দেশগুলোর ওপর দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব রয়েছে রাশিয়ার। আর যুক্তরাষ্ট্রও চায় না এ অঞ্চলে চীনের আধিপত্য আরো শক্তিশালী হোক।

কিন্তু ইতিহাসবিদ ইয়ো ইয়াও লু ওই প্রতিবেদনে জানান, ১৯১১ সাল থেকে চীনের নীতিতে হারানো জমি পুনর্দখলের কথা রয়েছে। এরই মধ্যে তারা বেশ কিছু হারানো জমি ফেরত পেয়েছে। তবে আরও অনেক জমি বাকি আছে। ওই ইতিহাসবিদের দাবি, পামির মালভূমি একটি প্রাচীন এলাকা। আর সেখানে প্রথম থেকেই অধিকার চীনেরই ছিল। কিন্তু ১২৮ বছর ধরে পামিরের পার্বত্য অঞ্চল আর চীনের দখলে নেই।

চীনা গণমাধ্যমগুলো পামির মালভূমিতে চীনের অধিকারের পক্ষে একের পর এক প্রতিবেদন ছাপানোয় নড়েচড়ে বসেছে চীনা সরকারও। তাই তাজিকিস্তানের পামির মালভূমি উদ্ধারে তারা বিভিন্ন কৌশল নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। চীনাদের এই তৎপরতা নজর কেড়েছে শক্তিশালী দেশগুলোর।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্প্রতি ভারতের লাদাখ ছাড়াও চীনের আরো ২০টি সীমান্তে সংঘাত চলছে। এছাড়া স্বশাসিত জিংজিয়াং প্রদেশে উইঘুর বিদ্রোহীদের সামলাতেই সেখানে মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক চীনা সেনা সদস্য। এছাড়া মঙ্গোলিয়া, তাজাকিস্তান, কিরঘিজস্তান, কাজাখস্তান, লাওস, কম্বোডিয়া, কোরিয়া, এমনকী, নেপাল, ভুটানসহ সব প্রতিবেশীর সঙ্গেই চীনের ভূখণ্ড নিয়ে ঝামেলা চলছে।

এখানেই শেষ নয়, দক্ষিণ চিন সাগরে আধিপত্য নিয়েও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, জাপান ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও দ্বন্দে জড়িয়েছে চীন। চারপাশের সব ভূখণ্ড ও জলপথ একসময় তাদের ছিল বলেও দাবি করছে চীন সরকার। তাই একসাথে এতো ফ্রন্টে লড়াই সামাল দেয়া ড্রাগনদের পক্ষে সহজ নয়।।

অন্যদিকে, দিনদিন অবনতি হচ্ছে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক। আরো করোনা মহামারীর কারণে ইউরোপের দেশগুলোর সাথেও চীনের দূরত্ব বাড়ছে। তাই এই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় চীন কতোটা সফল হবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েক বছর।
লেখক : ফেরদৌস মামুন, সাংবাদিক

Categories
চিকিৎসা বিশ্ব

এ সপ্তাহে আসছে বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনা মহামরি থেকে মুক্তি পেতে দরকার ভ্যাকসিন। তাই এর আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছে বিশ্বের মানুষ।

এরইমধ্যে রাশিয়া ভ্যাকসিন তৈরির সুখবর দিলো। রাশিয়ার উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওলেগ গ্রিডনেভের দাবি, বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন আসছে ১২ আগস্ট।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে এ ভ্যাকসিন গামালেয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট তৈরি করেছে বলে ৭ আগস্ট শুক্রবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, সাফল্যের সঙ্গে এটি লঞ্চ করা হলে এটিই হবে বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন। আপাতত এ ভ্যাকসিনের তৃতীয় বা শেষ পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে।

চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও বয়স্ক লোকদের আগে এ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে বলেও জানান উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এর আগে জানানো হয়, মস্কোর তরফ থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, অক্টোবরেই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। ম্যাস ভ্যাকসিনেশন অর্থাৎ বহু মানুষকে একসঙ্গে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। রাশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো এমনটাই জানিয়েছিলেন।

তথ্য অনুযায়ী, গামালেয়া ভ্যাকসিন শর্তসাপেক্ষে আগস্টে নথিভুক্ত করা হবে। এর অর্থ হলো ব্যবহারের জন্য অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলবে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল যতদিন না সম্পূর্ণ হচ্ছে ততদিন তা শুধুমাত্র চিকিৎসকরাই সেটা নিয়ন্ত্রণ করবে।

যদিও বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছে তাড়াহুড়ো করে ভ্যাকসিন বের করার ব্যাপারে। তারা চাইছেন, নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন করা উচিত নয়।

প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়া তাদের করোনা টিকা বাজারে আনবে বলে দেশটির ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) প্রধান ক্রিমিল দিমিত্রিভ আগেই জানিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেছিলেন, স্পুতনিকের মহাকাশ যাত্রা দেখে মার্কিনীরা যেমন অবাক হয়েছিল। একই ঘটনা ঘটবে করোনা টিকার ক্ষেত্রেও। বিশ্ববাসী অবাক হয়ে রাশিয়ার সাফল্য দেখবে।

ভয়েসটিভি/আন্তর্জাতিক ডেস্ক/এএস

Categories
বিশ্ব

প্রবল বৃষ্টিতে এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত

কেরালার কোঝিকোড বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা ভারতীয় সময় রাত এগারোটায় জানিয়েছেন যে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে যে তথ্য তার কাছে এসেছে, তাতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা আমাকে জানিয়েছেন যে বেশিরভাগ যাত্রীকেই বাইরে থেকে দেখে আঘাত বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু চিকিৎসা শুরুর পরে দেখা যাচ্ছে ইন্টারনাল হেমারেজ হয়েছে তাদের।”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বলছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের যে দলটি কোঝিকোড বিমানবন্দরে উদ্ধারকাজে নেমেছে, তার কমান্ডিং অফিসার রেখা নামিয়ার বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “বিমান থেকে বেশ কয়েকজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সব যাত্রীকেই বিমানবন্দরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

”আহতদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছেন। যতক্ষণ না এনডিআরএফ সদস্যরা বিমানটির ভেতরে শেষবার খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করবেন, ততক্ষণ আমরা উদ্ধারকাজ শেষ হয়েছে বলতে পারব না। তবে মনে হচ্ছে বিমানটির ভেতরে আর কেউ আটকে নেই,” জানাচ্ছেন রেখা নামিয়ার।

কী জানা যাচ্ছে..
এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি দুবাই থেকে বিদেশে আটকিয়ে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে আসছিল। ভারতের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ডি জি সি এ জানিয়েছে যে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই বিমানটি অবতরণ করছিল। দৃশ্যমানতা ছিল ২০০০ মিটার।

বিমানটি রানওয়ে ওয়ান জিরো ছোঁয়ার পরে না থেমেই রানওয়ের শেষ মাথায় চলে যায় আর তার পরে সেটি ছাড়িয়ে সামনের উপত্যকায় গিয়ে পড়ে। তখনই বিমানটি দুটো টুকরো হয়ে যায়। কেরালায় ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে — বন্যা চলছে সেখানে। আজই ইদুক্কি জেলায় ভূমিধসে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে — তারপর রাতে বিমান দুর্ঘটনা।

এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ফ্লাইট IX 1344 বিমানটিতে ক্র্যু ও যাত্রী মিলিয়ে ১৯১ জন ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। এদের মধ্যে ১০ জন শিশুসহ ১৭৪জন যাত্রী, দুজন পাইলট এবং ৫ জন কেবিন ক্রু।

ভারতের একজন বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন মোহন রঙ্গনাথন এন ডি টি ভি চ্যানেলকে একটু আগেই বলছিলেন যে তিনি নয় বছর আগে কোঝিকোড বিমানবন্দরের ওই রানওয়েটি পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, যেখানে এই রানওয়ে ওয়ান জিরোর নিরাপত্তায় যে বড়সড় ঝুঁকি আছে, সেটা উল্লেখ করেছিলেন।

তিনি বলছেন ওই রানওয়েটি ঢালু এবং তারপরেই প্রায় দুশো মিটার গভীর উপত্যকা.. কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সেখানে পৌছনও কষ্টকর হবে বলেও জানান ক্যাপ্টেন রঙ্গনাথন।
ভয়েস টিভি/নিউজ ডেস্ক/ডিএইচ