কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রথমে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের বয়স নিয়েও যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর এবং দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেও একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আটকদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড অনেকটা কিশোর অপরাধী চক্রের মতো। নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয়, বন্ধুত্ব ও নিয়মিত উঠাবসা ছিল। তারা প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডা দিত। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের অনেকেই অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মামলার প্রয়োজনীয় অন্যান্য আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে।
তিনি বলেন, আসামিরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। এরই মধ্যে নিহত অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং তার দাফনও সম্পন্ন হয়েছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দেবে। এরপর বিচার বিভাগ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারও সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দেশিয় অস্ত্রসহ আতিক হাসান (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বিজিবি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে করে পাটগ্রাম থানায় সোপর্দ করেছেন। এর আগে ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির একটি টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার আতিক হাসান পাটগ্রামের সীমান্তপাড়া এলাকার মো. বজলার রহমানের ছেলে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত মেইন পিলার-৮৪৬ এর কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আউলিয়ার হাট নামক স্থানে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখে অভিযান চালায় বিজিবি। এসময় আতিক হাসানকে আটক করা সম্ভব হলেও তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যান। আটক আতিকের কাছ থেকে ২ ফুট ৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি ছুরি এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চোরাচালান করতে গিয়ে তিনি বিজিবির হাতে ধরা পড়েন। অভিযান চলাকালীন পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন— মো. জুলফিকার আলী (৩৫) ও মো. রহিদুল (৪২)। বিজিবি জানিয়েছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, বিজিবি আতিক হাসানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে থানায় দিয়েছেন। তাকে লালমনিরহাট জেলহাজতে পাঠানো হবে।
হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী সায়েন্টিফিক সেমিনারের সমাপনী শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মত এই সেমিনারের আয়োজন করেছে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। দুই দিনব্যাপী সেমিনারে ২০ টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেছেন আমন্ত্রিত ও অংশগ্রহণকারী গবেষকবৃন্দ। শুক্রবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের সহযোগী পরিচালক ড. এমেলী আক্তার। সেমিনারে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, কৃষি, মৎস্য-প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। দুই দিনব্যাপী সেমিনারের শেষ দিনের প্রথম সেশনে সেশন চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের ডেপুটি ডিরেক্টর কৃষিবিদ মো. আক্তারুজ্জামান ও মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন হবিগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফুল আলম। দ্বিতীয় সেশনে সেশন চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ রিসোর্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অরুণ চন্দ্র বর্মন ও মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট প্রটেকশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কেন্দ্রের চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মোঃ হারুন-অর-রশীদ ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশের সাবেক ন্যাশনাল টেকনিক্যাল এডভাইজার ড. মোঃ হাবিবুর রহমান৷ কৃষি, পরিবেশ, প্রাণিস্বাস্থ্য ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা উপস্থাপিত হয়। এসব গবেষণায় ফসলের রোগ ও পোকামাকড়ের জৈবিক প্রক্রিয়া, টেকসই কৃষি ব্যবস্থায় উৎপাদন ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের ফলন ও গুণগত মান, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কৃষি রোগ শনাক্তকরণ, প্রাণিসম্পদের পুষ্টি ও প্রজননস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ ও পরজীবীজনিত সমস্যার বিস্তার এবং নগর সমাজের কিশোর অপরাধের মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী সায়েন্টিফিক সেমিনার আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রথমে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বয়স নিয়েও যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর এবং দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেও একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আটকদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড অনেকটা কিশোর অপরাধী চক্রের মতো। নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয়, বন্ধুত্ব ও নিয়মিত উঠাবসা ছিল। তারা প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডা দিত। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের অনেকেই অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মামলার প্রয়োজনীয় অন্যান্য আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। তিনি বলেন, আসামিরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। এরই মধ্যে নিহত অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং তার দাফনও সম্পন্ন হয়েছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দেবে। এরপর বিচার বিভাগ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারও সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এ রিট করেছেন আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মন্ডল। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। এর আগে ৫ জানুয়ারি সরকারকে আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন এই আইনজীবী। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে—এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক। নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখবার অভ্যাস হতে দূরে থাকার আশঙ্কা দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয় যা কারও কাম্য নয়। তাই রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়।