ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ১২ কেজি এলপিজির দাম ৫০ টাকা বাড়ায় সংস্থাটি। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে অটো গ্যাসের দামও। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এ বছরের জানুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৭ কোটি বা ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ২৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। যা গত বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি। আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ২১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। তবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চে। সেই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও সামনে বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। পাচার ও অব্যবস্থাপনার ফলে ব্যাংক খাতের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। তবে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনার ও ‘ইআরএফ শিক্ষাবৃত্তি-২০২৬ প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বেড়েছে, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে এবং বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। রিজার্ভও ধীরে ধীরে বাড়ছে। এ ছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘গভর্নর চেয়েছিলেন মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমাতে, কিন্তু এটি ধীরগতিতে কমবে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে এটি ১১ থেকে ৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।’ উপদেষ্টা বলেন, ‘বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের স্বার্থে দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত। জ্বালানি খাতকে ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে সম্ভাবনা থাকলেও পরিকল্পনাহীনতার কারণে অতীতে কিছু প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে।
দেশের ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আপাতত তিনটি প্রতিষ্ঠান অবসায়ন হচ্ছে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচকে উন্নতির জন্য ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চ খেলাপি ঋণ, দীর্ঘদিনের অনিয়ম এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের পথে যাচ্ছে। অন্যদিকে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কম্পানিকে (বিআইএফসি) আর্থিক সূচক উন্নয়নের জন্য ৩ থেকে ৬ মাস সময় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে এসব প্রতিষ্ঠানকেও অবসায়নের আওতায় আনা হবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক- কেন তাদের বিরুদ্ধে অবসায়নমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পরবর্তীতে মূল্যায়নের পর দেখা যায়, এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধার বা ঘুরে দাঁড়ানোর কর্মপরিকল্পনা সন্তোষজনক নয়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কোনো যুক্তিসংগত কারণ আছে কি না, তা যাচাই করতে গত সপ্তাহে শুনানি শুরু হয়, যা গত রবিবার শেষ হয়েছে। নাম প্রকাশ করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, শুনানিতে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে। এর ভিত্তিতে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সূচক উন্নয়নের সুযোগ দিয়ে ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যা বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ এত বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের (বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদার ৪টি এনবিএফআই-পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি-থেকে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭ কোটি ৭০ লাখ বা ২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৩২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চলতি জানুয়ারির প্রথম ২৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৬৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে। আর ২৪ জানুয়ারি এক দিনে প্রবাসীরা দেশে ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাঠিয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৮৭৪ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। যা চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের যেকোনো মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়।
চলতি মাসের প্রথম ২১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ বা ২ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চলতি জানুয়ারির প্রথম ২১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৫০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। আর ২১ জানুয়ারি এক দিনে প্রবাসীরা দেশে ১১ কোটি ডলার পাঠিয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৮৫৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ। এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। যা চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের যে কোনো মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।
দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) খাতে চলমান তীব্র সংকট নিরসন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। গত ১০ জানুয়ারি সরকার থেকে সরাসরি (জিটুজি) ভিত্তিতে এই আমদানির অনুমতি চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিপিসি। জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজার প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে সিলিন্ডারের দামের ওপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। এর ফলে সরবরাহ ঘাটতি ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই বাস্তবতায় সরকারি উদ্যোগে এলপিজি আমদানির মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং কৃত্রিম সংকট মোকাবেলায় বিপিসির প্রধান লক্ষ্য। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেন, বাজারে বর্তমানে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। বেসরকারি অপারেটরদের অনেকেই বিভিন্ন জটিলতার কারণে নিয়মিত আমদানি করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। চিঠিতে আরো বলা হয়, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি করা হলে তা বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হবে। তবে বিপিসির নিজস্ব অবকাঠামো না থাকায় বেসরকারি অপারেটরদের টার্মিনাল ও খালাস সুবিধা ব্যবহার করেই এই কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করছে। সরকার আপাতত শুধু আমদানির দায়িত্ব নেবে। আর সংরক্ষণ ও বোতলজাতকরণের কাজ বেসরকারি খাতই করবে।
চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১১২ কোটি ৭০ লাখ বা ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১১ কোটি ২৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। রবিবার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চলতি জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১১২ কোটি ৭০ ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৭১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। আর ১০ জানুয়ারি এক দিনে প্রবাসীরা দেশে ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন জানিয়ে তিনি আরো বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৭৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২০ শতাংশ। এর আগে গত ডিসেম্বরে দেশে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। যা চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের যেকোনো মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং দেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়।
জানুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি) নতুন এ মূল্যের ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে। এ ছাড়া অটোগ্যাসের দাম ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ডিসেম্বর মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি অটোগ্যাসের দাম ১ টাকা ৭৪ পয়সা বাড়িয়ে ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
২০২৬ সাল সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে। গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে বছরটি ইতিবাচক সূচনায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও, একই সঙ্গে এলডিসি থেকে উত্তরণজনিত বাস্তবতা সামনে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উন্নয়ন সংক্রান্ত বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ স্বস্তি আনতে পারে অর্থনীতিতে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস নিয়ে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন। ২০২৬ সালকে আপনি কীভাবে দেখছেন, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে? ২০২৬ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। দেশটি একটি গণতান্ত্রিক ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে যাবে, যা একদিকে ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। দীর্ঘদিন ধরে যে অনিশ্চয়তা ছিল বিশেষ করে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তা কিছুটা কাটতে পারে। যদি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তাহলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সাপ্লাই চেইন রেসপন্স এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মতো বড় বড় ইস্যুতে অগ্রগতি সম্ভব হবে। সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তবে সরকার যদি এগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন না করে এবং আরও স্ট্যান্ডার্ডাইজ না করে, তাহলে অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়তে পারে। এখানে কোনো শৈথিল্য দেখালে আমরা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবো, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় নতুন সরকার গঠনের পর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় কোন ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে? নতুন সরকার গঠিত হলে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কারণ, তখন নির্বাচনকেন্দ্রিক চাপ কমে আসবে। এটি একটি সম্ভাবনাময় দিক। তবে একই সঙ্গে কিছু পুরোনো চ্যালেঞ্জ থেকেই যাবে—যেমন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যবসার খরচ কমানো ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা।
চারটি ব্যাংক অবসায়ন হয়ে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক হয়ে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে/জাগো নিউজ গ্রাফিক্স দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাংকিং কেলেংকারির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনেও (বিপিসি)। বিগত সময়ে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছয় ব্যাংকে জমানো দুই হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি এর মধ্যে চারটি ব্যাংক অবসায়ন হয়ে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংক হয়ে যাওয়ায় সে দুশ্চিন্তা কিছুটা কেটেছে বলে দাবি বিপিসির। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংকিং সেক্টরে বড় লুটপাটের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন সাতটি ব্যাংকের মধ্যে পাঁচটিতে ঘটে নামে-বেনামে ঋণ জালিয়াতির ঘটনা। এ নিয়ে গত দেড় বছরে সারাদেশে তুমুল সমালোচনা তৈরি হয়। ওই পাঁচ ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতি নিয়ে বেশ কয়েকটি মামলাও করেছে। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় দুদক সূত্র। এস আলম সংশ্লিষ্ট ছয়টি ব্যাংকে বিপিসির আমানত রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ব্যাংক অবসায়িত হয়েছে। পাশাপাশি অবসায়িত এক্সিম ব্যাংকেও আমাদের আমানত রয়েছে। এসব আমানত বিভিন্ন সময়ে রাখা হয়েছিল। যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নির্দেশনা অনুসারে ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমা রাখা হয়েছিল।- বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এটিএম সেলিম ব্যাংকগুলো হলো- ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। পাশাপাশি কমার্স ব্যাংক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ওই দুই ব্যাংকে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের খবর পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাদে অন্য চারটির সঙ্গে এক্সিম ব্যাংকও বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিলুপ্ত পাঁচ ব্যাংক নিয়ে সরকারি মালিকানায় গঠন করা হয় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর তাদের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে সদ্যবিদায়ি মাস ডিসেম্বরে। এ সময়ে এসেছে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এটি নভেম্বরের তুলনায় প্রায় ৩৪ কোটি ডলার বেশি এবং গত বছরের ডিসেম্বরে আসা ২৬৪ কোটি ডলারের তুলনায় ৫৯ কোটি ডলার বেশি। উল্লেখ্য, গত নভেম্বরের রেমিট্যান্স ছিল ২৮৯ কোটি ডলার। এদিকে ডিসেম্বর ২০২৫ মাসে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স এসেছে— জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল ওই অর্থবছরের রেকর্ড। পুরো অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার—আগের বছরের তুলনায় যা ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ১৭ কমিশনারকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন-১ এর সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আবুল মনসুর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতাধীন কাস্টমস ও ভ্যাট অনুবিভাগের দপ্তরসমূহে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নবসৃষ্ট দপ্তরসমূহে পদায়নসহ আন্তঃদপ্তর বদলির লক্ষ্যে পদায়ন/বদলির বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। বর্ণিত কর্মকর্তাকে যোগদানপত্রের অনুলিপি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন-১ শাখায় প্রেরণ করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামীকাল বুধবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (ডিওএস) গাজী মো. মাহফুজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আগামী ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) নির্বাহী আদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করায় বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এতে আরো বলা হয়েছে, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ব্যাংক হলিডে নির্ধারিত থাকবে। বার্ষিক/অর্ধ-বার্ষিক হিসাব সমাপনী-২০২৫-এর সাথে সংশ্লিষ্ট শাখা/বিভাগ ব্যাংক স্বীয় বিবেচনায় খোলা রাখবে। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক দিনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে। ওই প্রজ্ঞাপনে ব্যাংক কার্যক্রম চালু ও আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে বলে জানানো হয়।
নির্বাচন ও করদাতাদের প্রস্তুতির কথা বিবেচনা করে দ্বিতীয় দফায় অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বর এই সুযোগ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, নতুন নির্দেশনায় তা এক মাস বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এনবিআরের সচিব মো. একরামুল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, আসন্ন নির্বাচন এবং প্রথমবারের মতো অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করদাতাদের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং বাড়তি সুবিধা দিতেই এই সময় বৃদ্ধির পদক্ষেপ। এর আগে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছিলেন, অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক হওয়ায় সরকার চাইলে জনস্বার্থে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই ঘোষণা এল। এর আগে, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় একমাস বাড়ানো হয়েছিল, যা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। আয়কর আইন অনুযায়ী ৩০ নভেম্বর আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষদিন। চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২৬ লাখের বেশি করদাতা সফলভাবে ই-রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীদের অ্যাকাউন্ট নতুন গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সব হিসাব স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর হয়ে যাবে। স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আমানতকারীরা তাদের পুরোনো চেক বই ব্যবহার করেই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, গ্রাহকদের হিসাবের অবশিষ্ট টাকা সুরক্ষিত থাকবে এবং আমানতকারীরা তাদের জমার ওপর প্রচলিত হারে মুনাফা পেতে থাকবেন। আরিফ হোসেন খান বলেন, যেহেতু ব্যাংকটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হবে, তাই জনগণের আস্থা বাড়বে এবং আমানত তুলে নেওয়ার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শরিয়াহভিত্তিক রুগ্ন ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে একটি ব্যাংকে রূপান্তর করা সরকারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ। ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করা এবং আস্থা ফিরিয়ে আনাই এর লক্ষ্য।
একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের প্রত্যেক আমানতকারীর চেক বইয়ের বিপরীতে দুই লাখ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তুতি শেষ হলে চলতি সপ্তাহের শেষে অথবা আগামী সপ্তাহে আমনতকারীরা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আারিফ হোসেন খান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন। মুখপাত্র বলেন, একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের ব্যাংক হিসাব নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হলে বিদ্যমান পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবের আমানত নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানান্তরিত হবে। এর ফলে আমানতকারীরা তাদের বিদ্যমান চেক বইয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। অবশিষ্ট আমানত (যদি থাকে) তাদের ব্যাংক হিসাবে সুরক্ষিত থাকবে এবং ওই আমানতের ওপর প্রচলিত হারে মুনাফা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে রূপান্তর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক হওয়ায় নবগঠিত এই ব্যাংকের ওপর জনগণের আস্থা সৃষ্টি হবে এবং এর ফলে আমানতকারীদের টাকা উত্তোলনের চাহিদা অনেকাংশে কমে আসবে।
সারা দেশে শীত বাড়ায় স্বস্তি ফিরেছে সবজির বাজারে। সরবরাহ বাড়ায় কমেছে বেশির ভাগ সবজির দাম। সামনে দাম আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এ ছাড়া পেঁয়াজের দামও ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের এ চিত্র দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিমের কেজিতে ১০ টাকা কমে প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি গাজর কেজিতে ২০ টাকা কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, মুলা ২০ টাকা, ফুলকপি ১৫ থেকে ২০ টাকা পিস, বাঁধাকপি বড় সাইজের ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে ৫০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা এবং খিরাই ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। লেবুর হালি ১০ থেকে ৩০ টাকা, দেশি ধনেপাতা ২০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ টাকা পিস, ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লালশাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ৩০ টাকা, কলমিশাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা, ডাঁটাশাক দুই আঁটি ৩০ টাকা এবং পালং শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, পুরনো আলু ২০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১২০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ১০০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ কেজিতে ২০ টাকা কমে ৭০ টাকা এবং পেঁয়াজকলি ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে ডিম ও মুরগির বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে। ফার্মের বাদামি ডিম প্রতি ডজন বাজারভেদে ১১৫ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজি ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ ও কই মাছ কেজি ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মাছের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভালো মানের সোনার দাম বেড়ে দুই লাখ ২২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন দাম মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম (পিওর গোল্ড) বাড়ায় নতুন করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে মূল কারণ হচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছাড়িয়েছে ৪ হাজার ৪০০ ডলার। নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫১ হাজার ৩৯৯ টাকা। সোনার দামের সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা। এমআর
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো বেড়ে এখন ৩২৫৭৩.৩১ মিলিয়ন বা ৩২.৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩২৫৭৩.৩১ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২৭৮৭৫.৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২৪৮২.৮৮ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৭৮১৭.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।
চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনে দেশে এসেছে ১.৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এ সময়ে মোট ১৫০ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এই সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সর্বাধিক ১০৯ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩২ লাখ ৯০ হাজার ডলার। প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ডিসেম্বরের ৭ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত এক সপ্তাহে দেশে এসেছে ৮৭ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। এর আগে মাসের প্রথম ছয় দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৬৩ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।