বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক ও অন্যায়’ হিসেবে দেখছে ইসলামাবাদ, যার ফলে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে দেশটি। ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানানো সত্ত্বেও বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলার অনুমতি দেয়নি আইসিসি। এর পরই বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। জিও নিউজের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) জাতীয় দল বিশ্বকাপে পাঠানোর অনুমতি না-ও দিতে পারে। সূত্রের বরাতে জিও নিউজ বলছে, আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে ‘স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ হিসেবে দেখছে দেশটি। সোমবার ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।এই বৈঠকের পরই পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা আইসিসির নীতিগত অসংগতিরই প্রতিফলন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, পিসিবি ফেডারেল সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ীই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে, পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে খেলোয়াড়রা সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা প্রত্যাহারের বিষয়ে তারা সরকারের অবস্থান অনুসরণ করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, যদি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এতে আইসিসির নিরপেক্ষতা, শাসনব্যবস্থা ও ন্যায্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠবে।
গত ২১ জানুয়ারি আইসিসি তাদের পূর্ণ সদস্য দেশের বোর্ড পরিচালকদের নিয়ে ভার্চুয়াল সভা করেছিল। বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই ছিল মূল আলোচনা। সেখানেই ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়- বাংলাদেশকে খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে, নয়তো বিকল্প দলকে বাছাই করা হবে। বাংলাদেশকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে আরও ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের অবস্থানে অনড়। সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় দুই দিন পর বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিসি। এক প্রতিবেদনে এই খবর নিশ্চিত করেছে ক্রিকবাজ। বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ড ‘সি’ গ্রুপে জায়গা পাবে। তারা খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তিন ম্যাচই হবে কলকাতায়। তারপর মুম্বাইয়ে তারা শেষ ম্যাচ খেলবে নেপালের বিপক্ষে। সকালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়। আইসিসি সিইও সংযোগ গুপ্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসি বোর্ডকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের দাবিগুলো আইসিসির নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বোর্ডের সকল সদস্যদের উদ্দেশে লেখা সেই চিঠিতে সংযোগ উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে চলছে না এবং এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। চিঠির অনুলিপি স্বভাবতই বিসিবি সভাপতি ও আইসিসির বোর্ড সদস্য আমিনুল ইসলামকেও পাঠানো হয়েছে। একই সাথে, সংযোগ ক্রিকেট স্কটল্যান্ডকেও ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য এই চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লিখেছেন বলে বোঝা যাচ্ছে। ক্রিকবাজ ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের সিইও ট্রুডি লিন্ডব্লেডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ক্রিকবাজ জানতে পেরেছে, দুবাই ও এডিনবার্গের মধ্যে যোগাযোগ হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) দুবাইয়ে আইসিসি বৈঠক করে। সেখানেই আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে ফেলেন। তার আগে ভেন্যু পরিবর্তনের শেষ চেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশের বোর্ড আইসিসির বিবাদ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) দ্বারস্থ হয়। কিন্তু ওই কমিটি তাদের আপিল খারিজ করে দেয়। আইসিসির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
আইসিসির দেওয়া আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তার শঙ্কায় ভারতে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে না বাংলাদেশ। তবে শ্রীলঙ্কায় হলে যাবে। বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলোচনার পর আজ এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, ‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, এই যে নিরপত্তার ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কিনা সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারো বিবেচনার স্কোপ নাই। এর আগে গতকাল বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে ভার্চুয়াল মিটিং আয়োজন করে আইসিসি। সেই সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয়েছে—বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ না খেললে বিকল্প নেবে আইসিসি। সিদ্ধান্ত জানাতে বাংলাদেশকে এক দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এমন সিদ্ধান্ত নিতে আইসিসি ভোটাভুটির আয়োজন করে। বিসিবির ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাবে ভোটাভুটি শুরু সভার অধিকাংশ প্রতিনিধিই বিসিবির বিপক্ষে ভোট দেয়। পাকিস্তান বাদে বাকি সব বোর্ডের প্রতিনিধি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে চায় বলে ভোট দেয়। সভায় ১৫ জন ডিরেক্টর উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের ভাগ্য এখনো ঠিক হয়নি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভাগ্য তাই ঝুলছে সুতায়। তবে বাংলাদেশের চাওয়া অনুযায়ী যদি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ না দেয় আইসিসি তাহলে নিজেদের বিশ্বকাপ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাববে পাকিস্তান। এমনটাই জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। পাকিস্তান সরকারের বেশ কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে জিও নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশের। সংবাদ মাধ্যমটিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে, যদি বাংলাদেশের এই ইস্যুর সমাধান না হয় তাহলে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে পাকিস্তান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের অবস্থানের পেছনের কারণগুলো যুক্তিসংগত ও গ্রহণযোগ্য। এ সব বাস্তবায়ন করা উচিত। কোনো দেশকে ভীতি প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া যাবে না ভারতকে। সূত্র আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পরেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ। কয়েক দফা আলোচনা হলেও বিসিবি নিজের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। সর্বশেষ গতকাল ঢাকায় আইসিসির প্রতিনিধির সঙ্গে মিটিং শেষে বিসিবি জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় ছাড়া বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না বাংলাদেশ।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আসন্ন আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব এবার দেখা গেল মাঠের ২২ গজেও। সেই উত্তাপের মাঝেই শনিবার বুলাওয়েতে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দল। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগেই সৌজন্যবোধের অভাব নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় যুব বিশ্বকাপের ম্যাচটি শুরু হয়। টসের সময় একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেননি দুই দলের ক্রিকেটাররা। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে টস শেষে বাংলাদেশের সহঅধিনায়ক জাওয়াদ আবরারের সঙ্গে হাত মেলাননি। ঘটনাটি ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার জন্ম দেয়। বাংলাদেশ দলের নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম টসের সময় মাঠে উপস্থিত না থাকায় তার পরিবর্তে টসে যান সহঅধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। ম্যাচ রেফারি ডিন কস্কারের নির্দেশে টসের কয়েন ছোড়েন ভারতের অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে। আবরার ‘টেল’ ডাকেন এবং বাংলাদেশ টস জেতে। টস শেষে আয়ুশ করমর্দনের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে আবরারকে এড়িয়ে সরে যান। বাংলাদেশ দলের সহঅধিনায়কও পাল্টা কোনো উদ্যোগ নেননি। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটে এমন দৃশ্য নতুন নয়। গত বছরের এশিয়া কাপ থেকেই দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সৌজন্যবোধ এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখা যায়। সে সময় ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগার সঙ্গে করমর্দন করেননি। ম্যাচ শেষে ভারতের অন্য ক্রিকেটারদের মধ্যেও একই আচরণ লক্ষ করা যায়। পরবর্তীতে বয়সভিত্তিক ও নারী ক্রিকেটেও সেই ধারা বজায় থাকে। এমনকি এশিয়া কাপ জয়ের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভীর হাত থেকে ট্রফি গ্রহণও করেননি সূর্যকুমারেরা। সাম্প্রতিক সময়ে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরো শীতল হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিষয়টির সমাধানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মধ্যে আলোচনা চলছে।
বরাবরই ফুটবল পাগল দেশ বাংলাদেশ। ফিফা বিশ্বকাপ এলে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সর্বশেষ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা সারা বিশ্ব দেখেছে। বিশ্বকাপে নিজ দেশকে নিয়ে এমন আনন্দ-উল্লাস কবে করতে পারবে সেটার হিসাব অবশ্য কেউ জানেন না। খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুধু স্বপ্নই বুনছেন ভক্ত-সমর্থকরা। গত পরশু বিশ্বকাপ ট্রফি কাছ থেকে দেখে যেমন স্বপ্নের কথা জানালেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। জামালের বিশ্বাস একদিন লাল-সবুজের দেশও বিশ্বকাপে খেলবে। ফিফাও তেমনি মনে করে, বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। সামাজিক মাধ্যমে এক ভক্ত ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে প্রশ্ন রেখেছিল, বাংলাদেশ কি কখনো খেলার সুযোগ পাবে? প্রশ্নের জবাবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বলেছেন, ‘অবশ্যই, ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারে বাংলাদেশ। ফিফার লক্ষ্যই হচ্ছে—বাংলাদেশসহ অন্যা যেন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে। আগামী বছরের বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি নবাগত দলকে দেখা যাবে যারা আগে কখনো অংশ নেয়নি। আফ্রিকা থেকে কেপ ভার্দে, কনক্যাকাফ থেকে কুরাসাও রয়েছে। উজবেকিস্তান-জর্ডানও প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করেছে। আগামীতে তাই বাংলাদেশকেও বিশ্বকাপে দেখতে মুখিয়ে আছেন ইনফান্তিনো। ফিফা সভাপতি বলেছেন, ‘ফুটবলের দারুণ এক দেশ বাংলাদেশ। সেখানে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। অবশ্যই একটি সুযোগ আছে। বাংলাদেশ ফুটবল প্রতিভাদের বেড়ে উঠতে ফিফা প্রচুর বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব জায়গায় প্রতিভা রয়েছে। আমরা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখতে মুখিয়ে আছি।’
দাবি মেনে নেওয়ার পর ক্রিকেটাররা আজকের মধ্যে মাঠে না ফিরলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিতের হুমকি দিয়েছে বিসিবি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবির এক পরিচালক। ক্রিকেটাদের দাবির মুখে এম নাজমুল ইসলামকে বিসিবির ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিসিবি জানায়, বোর্ডের স্বার্থ ও কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিসিবি সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বোর্ড সভাপতির ক্ষমতাবলে নাজমুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি নিজেই ফাইন্যান্স কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে বোর্ড বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করেছে, ক্রিকেটারদের স্বার্থ, সম্মান ও মর্যাদা বিসিবির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। চলমান সংকটময় সময়ে ক্রিকেটারদের পেশাদারত্ব ও দায়বদ্ধতা বজায় রেখে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাও জানিয়েছে বিসিবি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বোর্ড। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে বিসিবি। এম নাজমুলের জায়গায় বিসিবির অর্থ কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। অর্থ কমিটির দায়িত্ব হারালেও বিসিবির পরিচালক পদে বহাল আছেন নাজমুল। এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন (কোয়াব) এক সংবাদ সম্মেলন করে এম নাজমুলের অপসারণ দাবি করে। কোয়াব জানায়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাজমুলকে অব্যাহতি দেওয়ার নিশ্চয়তা পেলেই কেবল তারা খেলায় ফিরবেন। বুধবার বিসিবি ওই পরিচালক সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে কটাক্ষ করেন। তিনি জানান, টি-২০ বিশ্বকাপে দল পাঠানো না হলে ক্রিকেটাররা কোন ক্ষতিপূরণ পাবে না। কারণ এতো বছর তারা ক্রিকেট খেলে কোন শিরোপা জিততে পারেনি, অনেক সময় খারাপ খেলেছে, তাদের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে, খারাপ খেললে তো তাদের পারিশ্রমিক কেটে নেওয়া হয়নি। তার এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সব ধরনের খেলা বয়কটের হুমকি দেন ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব বুধবারই অনলাইনে এক সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, এম নাজমুল পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা কোন ধরনের ম্যাচ খেলবেন না। বৃহস্পতিবার বিপিএলের ঢাকা পর্ব শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সূচি অনুযায়ী, প্রথম ম্যাচটি মাঠে গড়ায়নি। কারণ ম্যাচ শুরুর আগ পর্যন্ত বোর্ড পরিচালক নাজমুল পদত্যাগ করেননি। দিনের প্রথম ম্যাচটি দুপুর ১টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। মিঠুন জানান, নাজমুলকে বোর্ড থেকে অপসারণের নিশ্চয়তা পেলে তারা দ্বিতীয় ম্যাচটি খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। বৃহস্পতিবার ৬টায় ঢাকা পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হওয়ার কথা। নাজমুলকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত পর দ্বিতীয় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে কিনা ওই সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে শোকজ করেছে বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একইসঙ্গে বিপিএলের চূড়ান্ত পর্ব নির্বিঘ্নে শেষ করতে ক্রিকেটারদের সহায়তা চেয়েছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে বিসিবি। বিবৃতিতে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নাজমুলকে তার বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিসিবি। এর আগে গতকাল বুধবার আইসিসির ইভেন্টে না খেললে ক্রিকেটারদের ক্ষতি সংক্রান্ত আলোচনায় বিতর্কিত মন্তব্য করেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। প্রতিবাদে ক্রিকেটারদের সংগঠন তার পদত্যাগ দাবি এবং অন্যথায় বিপিএলসহ সব ধরনের খেলা বয়কটের হুমকি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি বলছে, সম্প্রতি এক বোর্ড সদস্যের আপত্তিকর মন্তব্যের জন্য আবারও দুঃখপ্রকাশ করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। উদ্বেগের বিষয়টি জেনে বিসিবি পেশাদারিত্ব, ক্রিকেটারদের প্রতি সম্মান ও ক্রিকেটের মূল্যবোধ লালনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়। নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব নিয়ম-নীতি ও পেশাদার বিধি অনুসারে বিসিবি কঠোরভাবে এসব বিষয় মোকাবিলা করবে। পরিচালক নাজমুল ইসলামকে শোকজ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বিসিবি জানিয়েছে, ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক কার্যক্রম হিসেবে ওই বোর্ড সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। এরপরই এই বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খেলা বয়কটের দাবি জানানো ক্রিকেটারদের প্রতি বিজ্ঞপিতে বলা হয়, বিপিএলের ২০২৬ আসর শেষ পর্যায়ে। দেশের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দেশি ও বিদেশি সমর্থকদের কাছে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। বিসিবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, খেলোয়াড়রাই বিপিএল এবং বোর্ডের অধীন যে কোনো কার্যক্রমের প্রধান স্টেকহোল্ডার এবং প্রাণশক্তি। তাই বোর্ড প্রত্যাশা করে, ক্রিকেটাররা বিপিএলের বাকি অংশ সফলভাবে সম্পন্ন করে তাদের পেশাদারিত্ব এবং পূর্ব প্রতিশ্রুতি পূরণ করবেন।
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফির বিশ্ব ভ্রমণের অংশ হিসেবে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফি। এ সফরে ফিফার প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন ব্রাজিলের ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী দলের মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা। বিমানবন্দর থেকে ট্রফি নিয়ে যাওয়া হবে হোটেল রেডিসনে। সেখানে ফুটবল ফেডারেশন ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া ফিফার স্পন্সর কোকাকোলার ক্যাম্পেইনে বিজয়ীরাও পাবেন এই বিশেষ সুযোগ। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশে আসল বিশ্বকাপ ট্রফি। প্রথমবার ২০০২ সালে জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপের সময় এটি এসেছিল দেশে। এরপর ২০১৩ ও ২০২২ সালে বিশ্ব ভ্রমণের সময় ট্রফি আসে বাংলাদেশে।
এফএ কাপের ম্যাচে শনিবার (১০ জানুয়ারি) তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে শেল্টেনহাম টাউনকে হারিয়ে এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটি। দীর্ঘদিন পর নিজের পছন্দের পজিশন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে ফিরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন হামজা। আর ম্যাচে লেস্টারকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশি এই ফুটবলার। ম্যাচের ২৩ মিনিটে জাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড প্যাটসন ডাকার গোলে লিড নেয় লেস্টার সিটি। বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্টেফি মাভিডিডি। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হলেও দুই গোলের ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিশ্চিত করে মার্টি সিফুয়েন্তেসের দল। এদিন মাঠে লেস্টার সিটির অধিনায়ক ছিলেন হামজা চৌধুরী। প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই একাদশে ছিলেন হামজা। পুরো ৯০ মিনিট খেলেন তিনি। মাঝমাঠে খেলাকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি আক্রমণেও সক্রিয় ছিলেন এই বাংলাদেশি মিডফিল্ডার। ম্যাচে তিনি গোলের উদ্দেশ্যে দুটি শট নেন এবং সর্বোচ্চ ৯৫ বার বল স্পর্শ করেন। এছাড়া প্রতিপক্ষের বক্সে ১১ বার বল পাঠান তিনি। রক্ষণেও ছিলেন সমান কার্যকর। হামজা তিনটি সফল ট্যাকল করেন, দুটি বল রিকভারি এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ শট ব্লক করে শেল্টেনহামের আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন। পাশাপাশি দুইবার সফল ড্রিবল করেন এবং ম্যাচে সর্বোচ্চ তিনবার ফাউলের শিকার হন।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি শোক প্রকাশ করেন। শোকবাতায় ফিফার সভাপতি লেখেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পথিকৃৎ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী উদাহরণ ও উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গন থেকে ফিফা বাংলাদেশ সরকার, বাফুফে এবং পুরো দেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। এই শোকবার্তা পেয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল সম্প্রদায়ের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ফুটবল ফেডারেশন(বাফুফে) উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর সালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে দেশ-বিদেশে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জাতিসংঘের প্রধান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস থেকে বিশ্ব নেতারা গণতান্ত্রিক যাত্রায় তার অবদান তুলে ধরে শোক প্রকাশ করেছেন।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বাংলাদেশে সম্প্রচার না করার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেলের শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৬ মার্চ শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের আসরে বাংলাদেশ জাতীয় দলের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো গ্রহণযোগ্য বা স্পষ্ট কারণ জানা যায়নি। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী জনগণের মধ্যে হতাশা, ক্ষোভ ও বেদনার সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলেও চিঠিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আইপিএলের সব ধরনের খেলা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান বাংলাদেশে প্রচার ও সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়।
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আগামী মাসে বসতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর। বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো খেলবে ভারতের মাটিতে। তবে নিরাপত্তার শঙ্কায় দেশটিতে দল পাঠানো সম্ভব না বলে জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ রবিবার এক ই-মেইল বার্তায় আইসিসিকে বিষয়টি জানিয়ে দেয় বিসিবি। মেইলে বিসিবি জানিয়েছে, নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল পাঠানো সম্ভব নয়। এসময় বাংলাদেশের ভেন্যু অন্য দেশে সরিয়ে নিতেও আবেদন করেছে বোর্ড। বোর্ড পরিচালক বললেন, ‘আজ দুপুর ১টায় আমরা ১৭ জন পরিচালক অনলাইনে একটি বৈঠকে বসেছিলাম। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইসিসিকে আরেকটি মেইল দেওয়ার। আমরা জানিয়ে দিয়েছি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাব না। যেহেতু তারা আমাদের একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা দিতে পারছে না, গোটা দলের নিরাপত্তা কিভাবে দেবে? এখান থেকে অনেকেই খেলা দেখতে যাবে, সাংবাদিকরা যাবেন। সবার কথা চিন্তা করেই এমন সিদ্ধান্ত। আমরা ভারতে খেলতে যাব না। খেললে শ্রীলঙ্কায় খেলব। এর আগে ভারতে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নতি স্বীকার করে আইপিএলের ফ্রেঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এতে মুস্তাফিজকে দল থেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে কলকাতা। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে দেশের ক্রিকেট ভক্তরা। যেখানে একজনকে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না সেখানে গোটা দলের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে জাগে শঙ্কা। এর আগে গতকাল শনিবার রাতে সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ফেসবুকে লেখেন, ‘ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা হিসেবে আমি ক্রিকেট বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে আইসিসিকে জানাতে।’ তিনি আরো লেখেন, ‘চুক্তির আওতায় থেকেও যদি কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার ভারতে খেলতে না পারেন, তাহলে জাতীয় দল বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে গেলে নিরাপদ বোধ করবে না। তাই আমি বোর্ডকে অনুরোধ করতে বলেছি, বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যেন শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়।’
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আসন্ন মৌসুমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) হয়ে খেলার কথা ছিল মুস্তাফিজুর রহমানের। নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি খরচ করে তাকে দলে ভিড়িয়েছিল শাহরুখ খানের মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার জেরে তাকে বাদ দিয়ে বিকল্প বেঁছে নিতে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে অনুরোধ করেছে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এই ঘোষণা দিয়ে জানান, ভারতে মুস্তাফিজের আইপিএলে খেলা নিয়ে বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের পর কেকেআরকে এই নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। শুরুতে বিসিসিআই ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের’ নীতি অনুসরণ করলেও শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলো তাদের। সাইকিয়া বলেন, ‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলির’ প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক অস্থিরতার ফলে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপিসহ কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা বিসিসিআইয়ের ওপর চাপপ্রয়োগ করছিল। সে চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করল বিসিসিআই।
দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই শোক জ্ঞাপন করেন। মাশরাফি লিখেছেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাচ্ছি। কঠিন এই সময়ে তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, তার স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী সবার প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা। তিনি আরো লেখেন, ‘রাজনীতির পথচলায় দীর্ঘ লড়াইয়ে তার অবদান দেশের মানুষ মনে রাখবে। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেবেন।’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বেগম খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ার প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকছে বড় চমক। দীর্ঘদিন চোটের সঙ্গে লড়াই করলেও প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও টিম ডেভিডকে ১৫ সদস্যের প্রাথমিক দলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সবচেয়ে বেশি আলোচনা কামিন্সকে ঘিরে। পিঠের লাম্বার স্ট্রেস ইনজুরির কারণে জুলাইয়ের পর তিনি খেলেছেন মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেও ঝুঁকি এড়াতে তাকে সিরিজের বাকি অংশে বিশ্রামে রাখা হয়। বিশ্বকাপে তার খেলা এখনো নিশ্চিত নয়, চার সপ্তাহ পর আরেকটি স্ক্যানের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, হ্যামস্ট্রিং ও অ্যাকিলিস সমস্যায় পুরো অ্যাশেজ মিস করা জশ হ্যাজলউডের ফেরার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস, সময়মতো ফিট হয়ে তিনি বিশ্বকাপে দলের বোলিং আক্রমণে বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন। চমকের তালিকায় আছেন টিম ডেভিডও। বক্সিং ডেতে বিগ ব্যাশে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেলেও সেটি আগের আইপিএলের ইনজুরির মতো গুরুতর নয় বলে মনে করা হচ্ছে। স্ক্যান রিপোর্ট অনুযায়ী সময়সীমা অনুকূল হলে বিশ্বকাপের শুরুতেই তাকে পাওয়া যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১১ ফেব্রুয়ারি, যেখানে প্রথম দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ৭ উইকেটের দারুণ জয় পেয়েছে রংপুর রাইডার্স। চট্টগ্রাম রয়্যালসের দেওয়া ১০৩ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নুরুল হাসান সোহানের দল। লক্ষ্য তাড়ায় দুর্দান্ত শুরু করেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও ডেভিড মালান। উদ্ধোধনী জুটিতে ম্যাচ জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান তারা। দলীয় ৯১ রানে ২ ছক্কা ও ৪ চারে ৩১ বলে ৪৭ রান করে মুকিদুল ইসলামের বলে আউট হন লিটন দাস। তাওহিদ হৃদয়ও বেশিক্ষণ স্থায়ী হননি। ৩ বলে ১ রান করে একই বোলারের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ম্যাচ জয়ের দুই রান আগে থাকতে ২ ছক্কা ও ৫ চারে ৫১ রান করে আউট হন ডেভিড মালান। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেট হারিয়ে ৫ ওভার বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রাইডার্স। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। নাহিদ রানার বলে আলিস ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অ্যাডাম রসিংটন। তবে এরপর ঝোড়ো রান তুলেন নাঈম শেখ। মুস্তাফিজের শিকার হওয়ার আগে ২০ বলে ৩৯ রান করে ফেরেন নাঈম। নাঈমের আউটের পরই দ্রুতই ভাঙতে থাকে চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইনআপ। মাহমুদুল হাসান জয় ফেরেন শূন্য রানে। মিডল ওভারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নেন ফাহিম আশরাফ। মাহফিজুল ইসলাম রবিনকে দিয়ে শুরু, এরপর একে একে ফেরান মাসুদ গুরবাজ, অধিনায়ক শেখ মেহেদী ও শরিফুল ইসলামকে। পরে আবু হায়দার রনিকে ফেরালে পূর্ণ হয় ফাহিমের পাঁচ উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৭.৫ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১০২ রানে থামে চট্টগ্রাম।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের সিলেট পর্ব শেষেই বাংলাদেশ ছাড়বেন সাতজন পাকিস্তানি ক্রিকেটার। আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। জানুয়ারির ৭, ৯ ও ১১ তারিখের ম্যাচগুলো সামনে রেখে দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ওই দলে বর্তমানে বিপিএল খেলছেন এমন ক্রিকেটার আছেন ৭ জন। ফলে ৭ জানুয়ারির আগেই যে তারা বাংলাদেশ ছাড়বেন সেটা অনুমান করা কঠিন নয়। বিপিএলে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে নাম লিখিয়েছেন এমন যেসব ক্রিকেটার পাকিস্তানের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন– ফাহিম আশরাফ (রংপুর রাইডার্স), খাজা নাফে (রংপুর রাইডার্স), মোহাম্মদ নেওয়াজ (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), মোহাম্মদ সালমান মির্জা (ঢাকা ক্যাপিটালস), শাহিবজাদা ফারহান (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স), সাইম আইয়ুব ও উসমান খান (ঢাকা ক্যাপিটালস)। শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দল সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), আবদুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, খাজা নাফে (উইকেটকিপার), মোহাম্মদ নেওয়াজ, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান (উইকেটকিপার), সাইম আইয়ুব, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটকিপার), উসমান তারিক।
বিপিএলে ম্যাচ শুরুর আগে নিয়মমাফিক দলের সঙ্গে মাঠে এসেছিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জ্যাকি। কে জানতো, এই দিনটিই হবে তার শেষ দিন! খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রস্তুতিতে ছিলেন। হঠাৎ দলের ডাগআউটের কাছে পড়ে যান মাহবুব। তাৎক্ষণিক দলের ফিজিও তার সম্ভাব্য হার্ট অ্যাটাকের বিষয়টি বুঝতে পেরে সিপিআর দিতে শুরু করেন। তাতে সাড়াও দেন তিনি। এরপর দ্রুত নেওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু বাঁচানো যায়নি মাহবুব আলীকে। পথেই নিস্তেজ হয়ে পড়েন ঢাকা ক্যাপিটালসের কোচ। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তার কিছু জরুরী পরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন। দেশের ক্রিকেটে স্থানীয় এই কোচের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)
ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন) ।সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার বিপিএলের ম্যাচ শুরুর আগে নিয়মমাফিক দলের সঙ্গে মাঠে এসেছিলেন তিনি। খেলোয়াড়দের ওয়ার্মআপে সহায়তা করছিলেন। হঠাৎ দলের ডাগআউটের কাছে ঢলে পড়েন জাকি। ঢাকা ক্যাপিটালসের কোচকে দ্রুততার সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু পথেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাহবুব আলী জাকির বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাকি মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর দলের ফিজিও তার সম্ভাব্য হার্ট অ্যাটাকের বিষয়টি বুঝতে পেরে সিপিআর দিতে শুরু করেন। তাতে সাড়াও দেন তিনি। এরপর তাকে দ্রুত নেওয়া হয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। মাহমুদ আলী জাকি বাংলাদেশ দলের একজন সাবেক পেসার। ক্রিকেটার হিসেবে ক্যারিয়ার শেষ করে তিনি কোচিংয়ে নামেন। বোর্ডসহ, ঘরোয়া বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি বোলিং কোচের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বিসিবির অধীনে বিশেষজ্ঞ বোলিং কোচের ভূমিকা পালন করেছেন। মাশরাফি-তাসকিন আহমেদদের বোলিং নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে তাসকিন আহমেদের বোলিং প্রশ্নবিদ্ধ হলে জাকির অধীনে অ্যাকশন শুধরানোর কাজ করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মাহমুদ আলী জাকির মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।