নেতাকর্মীদের যুক্তি ও শালীনতার সঙ্গে সমালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত আমির। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই আহ্বান জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রিয় সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। সম্প্রতি ভোটের মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই একে অপরকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে পারেন। সমালোচনা করার অধিকার অবশ্যই সবার আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তা শালীনতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘সমালোচনা অবশ্যই যুক্তি ও শালীনতার সঙ্গে করা উচিত। এমন কোনো ভাষা প্রয়োগ করা মোটেই কাম্য নয়, যে ভাষা আমার ক্ষেত্রে বা আপনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে আপনি আহত হবেন। এমনকি আপনার কোনো প্রিয় মানুষকে যদি কেউ রুচিবহির্ভূতভাবে সমালোচনা করে, তার জবাবও হওয়া উচিত উত্তম ভাষায় এবং যুক্তিপূর্ণভাবে। এটাই আমাদের শিক্ষা। আশা করি, আমার এই সামান্য পরামর্শটুকু সবাই যথাযথ গুরুত্ব দেবেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সাহায্য করুন। আমিন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন ড. মাহদী আমিন। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার কবে ঘোষণা করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মাহদী আমিন বলেছেন, আমরা ইতোমধ্যে ইশতেহারের কাজ অনেকটুকু গুছিয়ে এনেছি। বিএনপি বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে এবং সাংগঠনিক কাঠামো ব্যবহার করে দেশব্যাপী ইশতেহার এবং আমাদের ৩১ দফা নিয়ে ২৭ দফা নিয়ে অনেকগুলো কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। তার আলোকে আমাদের ইশতেহার অনেকটাই প্রস্তুত। একটি পরিকল্পনা আছে আগামী শুক্রবার আমরা ইশতেহার ঘোষণা করতে পারি। এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জানান, গত এক সপ্তাহেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যার সুস্পষ্ট প্রমাণ বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেকিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মাহদী আমিন বলেন, একটি দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তাদের নেতাকর্মী ওনারা অনেকেই ফ্যাসিবাদী আমলে তৈরি মিথ্যা পুরাতন বয়ান আবার সামনে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নিজেরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। একই ভাষায় একই কায়দায় একই ধরনের স্লোগান দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন, অশালীনভাবে আক্রমণ করছেন। বিএনপির ক্রমবর্ধমান গণজোয়ার ও জনসমর্থনের মুখে তারা ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেই সুস্থ ধারার রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং অপতথ্য ছড়ানোর নোংরা কৌশল বেছে নিয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আজম ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। এ কথাও আপনারা বলতে পারেন। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছপা হন না। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দলটির উদ্যোগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনী যখন আমাদের মা বোনদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, তখন সেই অত্যাচারকে আপনারা অত্যাচার বলেননি। সেই নির্যাতনকে আপনারা নির্যাতন হিসেবেও স্বীকার করেননি। বরং তাদের আপনারা সমর্থন করেছেন, পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন। আজ কোন মুখে, কোন দুরভিসন্ধি নিয়ে আপনারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে কথা বলছেন? কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আজম সাহেবই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক—এ কথাও আপনারা বলতে পারেন। কারণ মিথ্যা বলতে আপনারা কখনোই পিছপা হন না।’ তিনি বলেন, জামায়াতের আমির নারীদের সম্পর্কে যে কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননামূলক মন্তব্য করেছেন, তাতে সারা দেশের নারী সমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সেই ক্ষোভ ঢাকতেই তিনি এখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বিতর্কিত করে সত্য আড়াল করা যাবে না। তিনি আরো বলেন, আপনারা (জামায়াত) ১৯৮৬ সালে বলেছিল এরশাদের অধীনে নির্বাচনে যাবেন না। শেখ হাসিনাও বলেছিলেন, যারা যাবে তারা জাতীয় বেইমান। কিন্তু শেখ হাসিনা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচনে গেছেন, জামায়াতে ইসলামও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেছে। জনগণের কাছে ওয়াদা করে পরে আপনারা সেই ওয়াদা খেলাফ করেছেন। রিজভী বলেন, সেসময় বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচনে যাননি। তিনি নয় বছর সংগ্রাম করেছেন, নিপীড়ন সহ্য করেছেন, অত্যাচার সহ্য করেছেন। তাকে বন্দী করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে, গৃহবন্দি করা হয়েছে তারপরও তিনি তার কথার বরখেলাপ করেননি। সত্যের মুখোশ একসময় খুলে পড়ে। আজ নারীদের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তাদের আসল চরিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগে আজ তিন জেলার নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর মিডিয়া সেল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কিশোরগঞ্জ কটিয়াদী কলেজ মাঠ, দুপুর ১২টায় ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ এবং দুপুর ২টায় গাজীপুরের জয়দেবপুর রাজবাড়ী মাঠে তিনি বক্তব্য দেবেন। এদিকে কটিয়াদি সরকারি কলেজ মাঠে সমাবেশ ঘিরে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। ভোর থেকেই মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দলে দলে সমাবেশস্থলে আসছেন। কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি সমাবেশে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত হবেন। দলমত নির্বিশেষে জামায়াতের আমিরের বক্তব্য শুনার জন্য মানুষ উপস্থিত হবেন। নির্বাচনের আগে জামায়াতের আমিরের আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত।
গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উচ্চতর সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান দলটি থেকে পদত্যাগ করে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে হবিগঞ্জ সদর ও লাখাই উপজেলার গণঅধিকার পরিষদের বহু নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে অন্তর্ভুক্ত হন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার অনন্তপুরে অবস্থিত জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও হবিগঞ্জ–৩ আসনের এমপি প্রার্থী কাজী মহসিন আহমদের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নবযোগদানকারীদের দলে স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুখলিছুর রহমান অ্যাডভোকেট আশরাফুল বারী নোমানসহ নবাগত নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামী হবিগঞ্জ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, অ্যাডভোকেট নোমান একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীর যোগদানের ফলে হবিগঞ্জ জেলায় জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে। আগামীর রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মসূচিতে এই যোগদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নবযোগদানকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতি ও দেশ গঠনের লক্ষ্যে তারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে দলের সকল কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার অঙ্গীকারও করেন তারা। উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে দলবদল ও নতুন সমীকরণ সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না। কেন্দ্র দখল যেন না হয় সে জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। এ ছাড়া পুলিশের জন্য ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যাম দিচ্ছি। আমরা ড্রোন ব্যবহার করছি, সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করছি। এর পরও এবার কেউ যদি কোনো রকম কিছু করতে যায় তাহলে সে ভাই হোক বা বোন হোক, কেউ ছাড় পাবে না। তিন দিন, চার দিন বা ছয় মাসের জামিন নিয়ে এলেও সে ধরা খাবে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর সিটি করপোরেশনের শহীদ সাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময়সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘শুধু অবৈধ অস্ত্র নয়, বৈধ অস্ত্রও বাইরে আছে, বিভিন্ন থানা থেকে যেসব অস্ত্র লুট হয়েছে তার সবগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি। এর পরও উদ্ধারের পরিমাণ বেড়েছে। আমি আশা করি, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে।’ তিনি সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন। ঝিনাইগাতীর ঘটনা খুবই দুঃখজনক ঘটনা বলে জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে এটার জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় আমরা নিচ্ছি। এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দুষ্কৃতকারীরা এলাকা থেকে দূরে চলে যায়। এ জন্য একটু সময় লাগলেও তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক।’ তাদের এই প্রস্তুতি নিয়ে জাতিকে একটি ভালো এবং সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগরের প্রতিটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে ডিএমপি প্রণীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক সমন্বয় সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশ দেন। সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ভোটকেন্দ্রে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। থানা এলাকা থেকে দূরবর্তী কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। থানা এলাকায় পুলিশি টহল আরও জোরদার করতে হবে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হচ্ছে। এই বিষয় মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সমন্বয় সভায় যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পিপিএম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় বিভিন্ন মতামত প্রদান করেন এবং কমিশনার বিভিন্ন নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটের জন্য অনেক নারীকে মনোনয়ন দিয়েছি। অথচ ওই দল জাতীয় সংসদে নির্বাচনের জন্য কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি। তাদের কর্মকাণ্ডেই বোঝা যায় তারা এ দেশের নারী সমাজকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে চায়। তারা নারীদের অগ্রগতি, প্রগতি, সমৃদ্ধি ও মর্যাদা দিতে চায় না। এগুলো হলো মধ্যযুগীয় ভাবনা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ মাঠে উপজেলা ছাত্রদল আয়োজিত মৌলভি ছাঈদুল হক স্মৃতি কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের দেশে অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তেমনি পৃথিবীর প্রায় দেশেও তাই। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে পেছনে বা অন্ধকারে ফেলে রেখে কোনো দেশ বা পৃথিবী কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে নারী অবমাননার প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান তিনি। একটি দলের প্রধান নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছে, যেটা নিয়ে সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। আমরাও এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাই। নারীদেরকে যারা অবমাননা করে, নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক চায় না, তাদের পক্ষে এ দেশের নারীসমাজ থাকতে পারে না’। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে নারী অবমাননার প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, ‘যারা এই অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছে তারা নারীদেরকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে চায়, কর্মস্থলে যেতে দিতে চায় না, তারা নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার কথা বলছে যাতে নারীদের কর্মসংস্থান না হয়। অথচ এ দেশে সাম্য, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সুবিচারের রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ ও ছাত্র গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু একটি দল তার বিপরীতে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের নারী শিক্ষার প্রসারে অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন বলেই আজ নারী শিক্ষার হার অনেক বেড়েছে। আজকের ছাত্র-ছাত্রীরাই আগামীর বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসবে। বিএনপির পরিকল্পনা নারীসমাজকে ক্ষমতায়ন, মর্যাদাবান ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনবে।’
৫ আগস্টের পর ঘটা রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি যুক্ত বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৭ মাসে সারা দেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৫০টিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) টিআইবি-র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘স্বৈরাচারের পতনের দেড় বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ২০ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায় আওয়ামী লীগ, ৭ দশমিক ৭ শতাংশ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্পৃক্ততা রয়েছে। টিআইবি জানায়, বিভিন্ন দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং রাজনৈতিক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে সারা দেশে মোট ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যাতে ১৫৮ জন রাজনৈতিক কর্মী নিহত এবং সাত হাজার ৮২ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৫০টিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, আর ১২৪টি ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সদস্যরা জড়িত ছিল। এই সময়ে জামায়াত ৪৬টি ঘটনায় জড়িত ছিল। টিআইবির মতে, সরকার পতনের পর আগে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কার্যক্রমের দখল নেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, সিলেটের পাথর কোয়ারি ও নদী থেকে অবৈধ পাথর উত্তোলন এবং ব্রিজ, বাজার, ঘাট, বালু মহাল ও জলাশয়ের ইজারা দখলের লড়াই। গবেষণায় দেখা গেছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনেকাংশেই অকার্যকর ছিল এবং দলগুলো সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত নিজ কর্মীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা দুর্নীতি করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের সেই অর্থ জনগণের কল্যাণে ফিরিয়ে আনা হবে। শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কক্সবাজারকে একটি অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়ন না হওয়ায় এই সম্ভাবনার যথাযথ বিকাশ ঘটেনি। তার অভিযোগ, দুর্নীতিবাজদের লুটপাটের কারণেই কক্সবাজার পিছিয়ে পড়েছে। জামায়াত আমির বলেন, কক্সবাজারে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে সদর-রামু-ঈদগাঁও আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-২ আসনের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বক্তব্য দেন। সমাবেশে জেলা জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের আঞ্চলিক, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
একটি রাজনৈতিক দলের নেতা দুই দিন আগে কর্মসংস্থানে নিয়োজিত নারীদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বলতেও লজ্জা হচ্ছে। যারা নারীদের অসম্মান করে, যাদের কাছে মানুষের মূল্যায়ন নেই, আত্মসম্মান নেই—তাদের কাছে দেশ নিরাপদ হতে পারে না। আজ সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে প্রভাতী স্কুল মাঠে মহানগর ও জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করবে। কিন্তু আমরা দেখছি, একটি রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের নারী গোষ্ঠীকে কিভাবে ঘরে আটকে রাখতে চায়। দলটির নেতা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, তারা কোনোভাবেই নারী নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না। তিনি বলেন, দুই দিন আগে ওই দলের এক নেতা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বলতেও লজ্জা হচ্ছে। এমন একটি শব্দ তিনি আমাদের মা-বোনদের জন্য ব্যবহার করেছেন, যা এদেশের জন্য কলঙ্কজনক। তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশের অধিকাংশ খেটে খাওয়া পরিবারের নারী কোনো না কোনোভাবে সংসারের উপার্জনের জন্য কাজ করে থাকেন। পোশাকশিল্পে ৪০ লাখ নারী শ্রমিক কাজ করেন। নিম্নবিত্ত হোক, মধ্যবিত্ত হোক—সব পরিবারের নারী দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করে জীবন নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু আজ আমরা দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের নেতা কিভাবে নারীদের অসম্মান করেছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলেন, তারা ভুলে যাচ্ছেন নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হজরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল নারী ব্যবসায়ী।’ তিনি বলেন, ‘দলটি নির্বাচনের আগে অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে ঘরের মধ্যে বন্দি করতে চায়। তাঁরা যদি নির্বাচনে সুযোগ পান, তাহলে তাঁদের আচরণ কী হতে পারে, তার উদাহরণ আমরা ১৯৭১ সালে পেয়েছিলাম।’ দলটির উদ্দেশে তারেক রহমান আরো বলেন, ‘তাঁরা শুধু নিজেদের স্বার্থের কথাই বোঝেন। যেখানে যেমন প্রয়োজন, সেখানে তেমন ধর্মকে ব্যবহার করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে রাজনৈতিক দলটি আইডি হ্যাকড হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাকড হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তাঁরা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছেন।’ তিনি বলেন, ‘যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং যারা জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তারা কখনো দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারে না। এর বিরুদ্ধে কী করবেন, দেশের তাবদ মা-বোনদের তা ভাবতে হবে। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এস এম শফিকুল আলম মনা। মহানগর সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলী আসগর লবী, খুলনা-১ আসনের প্রার্থী আমির এজাজ খান, খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী এস এম মনিরুর হাসান বাপ্পী, সাতক্ষীরা-১ আসনের প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল রউফ, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন, সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান, বাগেরহাট-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, বাগেরহাট-২ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার জাকির হোসেন, বাগেরহাট-৩ আসনের প্রার্থী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট ৪ আসনের প্রার্থী সোমনাথ দে প্রমুখ।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট অত্যন্ত ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হ্যাক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের গভীর আশঙ্কা, এগুলো বিশেষ একটি দল বা তাদের সাইবার টিমের চক্রান্ত। এর সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারী ব্যক্তিরা জড়িত আছেন।’ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘কাল এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে একটি দল কিছু কর্মসূচিও দিয়েছেন। মনে হচ্ছে চক্রান্তকারীরা কয়েকদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েই করেছেন। তারা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে। এখানে গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দায় সারতে একদল লোক কর্মসূচি দিয়েছিল, আমরা মনে করছি তাদের সাইবার টিম এসব করছে। রাতে জিডি করা হয়েছে। আগামীতে আইনি পদক্ষেপসহ সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এগুলো হলো জামায়াত ইসলামীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা। একদল লোক জামায়াতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন চক্রান্ত করছে। এ বিষয়ে ইসিকেও জানানো হবে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর আইটি সেলের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে সর্বশেষ জামাত আমিরের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলটি পোস্ট হয়েছে। সেখানে তার পরে আমরা খেয়াল করি যে, ৪টা ৫৫ মিনিটে আমরা নোটিশ করতে পারি যে ৪টা ৩৭ মিনিটে একটি পোস্ট হয়েছে, যেটা খুবই আপত্তিকর এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট। যেটা আমাদের চিন্তা চেতনা এবং আমাদের ভাবনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পরবর্তী সময় আমরা বুঝতে পারি, এটা আসলে হ্যাক হয়েছে, এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশেষ চেষ্টার মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় আমাদের সার্ভার সিকিউরিটি টিম। তিনি বলেন, ‘এরপর ৫টা ২২ মিনিটে অ্যাকাউন্ট রিজয়েন্ট দিয়েছি। সেখানে অ্যানাউন্সমেন্ট দিয়েছি যে, কি হয়েছিল এবং কি অবস্থায় আছে। এরপরে খোঁজার চেষ্টা করেছি কিভাবে করে এই ঘটনা ঘটল। বেশ কয়েকদিন ধরেই আমাদের বেশ কিছু আইডি ও পেজগুলোতে সাইবার অ্যাটাকের জন্য অপচেষ্টা চলছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এই যে শুধুমাত্র আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্টই নয়, একই সঙ্গে আরেকটি ফেসবুক পেজের কন্ট্রোলও তারা নিয়েছিল। আমরা সত্য বিজয়ের জন্য কাজ করি। আমরা আমাদের যেই পজিটিভ কাজগুলো রয়েছে দেশের প্রতি মানুষের প্রতি যে কমিটমেন্টগুলা রয়েছে, সেগুলো আমরা তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করি। আমাদের এই কাজগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে ভালো কাজের মধ্য দিয়েই প্রতিযোগিতা আসা উচিত। কিন্তু সেটা না করে, অন্যায় ও অপচেষ্টার মধ্য দিয়ে এই অপচেষ্টা করা হয়েছে।’
যেকোনো একটি মার্কাকে ভোট দিয়ে বেহেশতে যাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ নির্বাচনি এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের কাজীবস্তি এলাকায় গণসংযোগে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘একটি দল এসেছে, দল থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তারা মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে। তারা মিথ্যা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেছে। কোরআনের নাম করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাচ্ছে। বলছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যায়। কোনো মার্কাকে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যায় না।’ হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা নিজেদেরকে দুর্বল ভাববেন না। আপনারা ভোট দিতে যাতে গোলমাল না হয়। ভোট দিয়ে ফিরে আসার সময় যাতে গোলমাল না হয়।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদেরকে আমি আশ্বাস দিতে চাই ও প্রতিশ্রুতি দিতে চাই- ইনশাআল্লাহ ভোটের দিন, ভোটের সময় বা অন্য সময় কখনো কোন গোলযোগ হবে না। আমরা সেটা শক্ত হাতে দমন করবো। আপনারা এদেশের নাগরিক, এদেশের মানুষ। আমার যে অধিকার আছে, সেটা আপনারও আছে। সুতরাং ভয় পাবেন না, নিজের পায়ে শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে। আমরা আপনাদের পাশে আছি।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যদি সরকারটাকে ঠিক নির্বাচিত করতে না পারি, সঠিক লোকটাকে নির্বাচিত করতে না পারি তাহলে আমাদের কোনো কাজ হবে না। অতীতে এ অঞ্চলে চাকরির জন্য টাকা-পয়সা নেয়া হতো, আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে আপনাদেরকে কোনো কাজের জন্য টাকা দিতে হবে না। সেই সাথে সমস্ত রকমের সন্ত্রাস বা দূর্বৃত্তায়ন বন্ধের জন্য কাজ করবে বিএনপি।’ এসময় ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে হিন্দু-মুসলিম সকলকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, যুবকদের অংশগ্রহণে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্স দ্বিগুণ করা হবে। আজ (রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ১১ দলীয় জোট মনোনীত শাপলা কলির প্রার্থী এস এম সাইফ মোস্তাফিজ ও গণভোটে হ্যাঁ ভোটের প্রচারণায় প্রধান অতিথি'র বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সব সময়ই সার্বভৌমত্বের হুমকির সম্মুখীন হয়। এজন্যই আমরা এনসিপির ইশতেহারে ঘোষণা করেছি, ‘যুবকদের অংশগ্রহণে সেনাবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্স দ্বিগুণ করা হবে।’ সাবেক এ উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘একটি দল ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে, কৃষি কার্ডের কথা বলে। কিন্তু নির্বাচিত হলে আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে কি করবে সে বিষয়ে কিছু বলে না। তিনি আরও বলেন, ‘শীতকালে অতিথি পাখি আসে বিদেশ থেকে। একটা দল যারা নিজেদের জাতীয়তাবাদের ধারক বলে দাবি করে, তারা বিদেশ থেকে আসা অতিথি পাখিদের নমিনেশন দিচ্ছে।’ এসময় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, মাহিন সরকার ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এনসিপি প্রার্থী এস এম সাইফ মুস্তাফিজ।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম দাবি করেছেন, গোপনে আমেরিকা ও ভারতের সঙ্গে বসে ইনসাফ বাস্তবায়ন করতে চায় জামায়াত। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারত ও আমেরিকার ইনসাফ দেখেছি; ওই ইনসাফ বাংলার মানুষ, আমরা আর দেখতে চাই না। আজ (রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় হাজিরহাট এলাকায় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন দাবি করেন। চরমোনাই পীর বলেন, ‘যে ইনসাফ বা যে নীতিতে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়েছে, যে নীতি-আদর্শে এ দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে বেগমপাড়া তৈরি হয়েছে; রাস্তায় মানুষ নামার পড়ে গুম হয়ে যেতো, ঘরে গেলে খুন হয়ে যেতো— এ নীতিতে তারা দেশ চালানোর পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, ‘প্রচলিত নিয়মে ৫৪ বছর দেশ চালানোর পর কি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করা হয়েছে? এ নিয়মে আবার নতুন করে কীভাবে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করবে তারা? জামায়াত স্পষ্টভাবে বলেছে, তারা ইসলামী শরিয়াহ আইনে দেশ চালাবে না। তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দেশ চালাবে ক্ষমতায় গেলে। তাদের প্রার্থী কৃষ্ণনন্দী বলেছেন, জামায়াত কোনো ইসলামি দল না। তাহলে তারা ক্ষমতায় গেলে কোন নীতি আদর্শে দেশ পরিচালনা করবে?’ এসময় তিনি লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের হাতপাখার প্রার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী মো. ইব্রাহিমের হাতে প্রতীক তুলে দিয়েছেন। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের হাতপাখার প্রার্থীর খালেদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেজাউল করিম আবরার, ইসলামি চিন্তাবিদ হাবিবুর রহমান মেজবাহ ও ইসলামী আন্দোলন জেলা কমিটির সেক্রেটারি জহিরুল ইসলাম প্রমুখ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দলটির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করার কথা ছিল। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের শেরপুরে জরুরি সফরের কারণে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের পরবর্তী তারিখ জানানো হবে। জানা যায়, আগামীকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংঘর্ষের নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার কবর জিয়ারত করতে শেরপুরের শ্রীবরদীতে যাবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে কয়েকটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তিনি। সফরসূচি অনুযায়ী, শহীদ রেজাউল করিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কবর জিয়ারতের পর রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় শেরপুর জেলা শহরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন জামায়াত আমির। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় জামালপুরে একটি জনসভায় বক্তব্য দেবেন। সর্বশেষে ঢাকায় ফিরে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জনসংযোগ ও পথসভা করবেন তিনি।
স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে দেশ নিরাপদ নয় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পশ্চিম আকচা এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে এ কথা বলেন তিনি। জামায়াতকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আরেকটা দল ভোটের জন্য এসেছে। তাদের মার্কা হলো দাঁড়িপাল্লা। ৭১ সালে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধকে সমর্থন করেনি। অনেক লোককে মেরে ফেলেছে। মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছে। তারা এখনো মাফ চাননি। তিনি বলেন, ‘বিকাশ নম্বর কাউকে দেবেন না এসব ভাঁওতাবাজি আর ধান্দাবাজি। ভোট দিলে নাকি জান্নাতে যাওয়া যাবে। এসব কথা সঠিক নয়। আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন। গত ১৫-১৬ বছর দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ব্যাংকগুলো শূন্য হয়ে গেছে। সব টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। সেগুলো ঠিক করতে হবে। ঝগড়াঝাঁটি না করে সঠিক মানুষটিকে নির্বাচিত করতে হবে। মহাসচিব বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি দেশের মানুষের উন্নতির জন্য। শান্তিতে থাকার জন্য। বিগত সময়ে আমরা শান্তিতে থাকতে পারিনি। ১৫ বছর পর খারাপ সময় পার করেছি। এখন সুসময় এসেছে। দেশে একটা ভালো নির্বাচন হবে। সবাই ভোট দিতে পারবে। এরকম একটা আশা জেগেছে।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ সময় আপনার সঙ্গে থেকেছি। আমার বাবা এলাকায় ভালো কাজ করেছেন। ওনার ছেলে হিসেবে আমিও আপনাদের কাছে এসেছি। আমি মন্ত্রীও ছিলাম, কেউ বলতে পারবে না এক কাপ চা খেয়েছি। নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে আমি প্রার্থী। ভোট চাওয়ার জন্য এসেছি। মার্কা হলো ধানের শীষ। এটাই আমার শেষ নির্বাচন। আপনারা আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা আদিপত্যবাদ মানবো না, ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই। শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে চৌদ্দগ্রামে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আপনারা যদি আমাদের ভোট দেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্য হিসেবে দেখতে পাবেন। এই প্রতিশ্রুতি আমি দিচ্ছি। এই সুযোগ চৌদ্দগ্রামবাসী কাজে লাগাবেন কিনা, সেটা চিন্তা করবেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এই বাংলাদেশটা যুবসমাজের হাতে তুলে দিতে চাই। এর প্রমাণ হচ্ছে—যুবকদের সংগঠন আমাদের সঙ্গে আছে। এর আরও প্রমাণ হলো, আমরা যে মনোনয়ন দিয়েছি, তার ৬২ শতাংশই যুবক। জামায়াত আমির বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সরকার গঠন করে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবো। যারা এ দেশে বসবাস করে, এ দেশের নাগরিক না হলেও, তাদেরও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। সেই ন্যায়বিচার আমরা নিশ্চিত করবো। কোনো দলই বিচারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দেশের সব নাগরিককে বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ডিজিটাল সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের ক্ষমতায়নে কাজ করবে বিএনপি। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীতে ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি। মাহদী আমিন বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করলে বাংলাদেশের জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কাজ করবে বিএনপি। যারা মেধাবী তাদের জন্য জুতসই সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার পরিকল্পনায় এ বিষয়গুলো রেখেছেন। ফ্রিল্যান্সারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে পেপাল আনতে এরই মধ্যে বিএনপি কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিএনপি ১০ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করবে। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা জাতির অধিকার আদায়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়নের জন্য আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুরে বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জুলাই সনদের বাস্তবায়নের জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের উন্নয়নে বিএনপির বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। এ সময় ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে অধিকার ফেরানোর জন্য আবু সাঈদ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, চট্টগ্রামের ওয়াসিম নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, এরকম হাজারো মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, সেই ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যেমন তাদের জীবন উৎসর্গকে আমরা মূল্যায়ন করতে পারব, একইভাবে তাদের আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি সে জুলাই সনদকেও আমাদের সম্মান করতে হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান আরো বলেন, সেজন্যই আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করব, ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে যেমন সিলটা দেবেন, একইসঙ্গে দ্বিতীয় যে ব্যালট পেপারটি দেবে, ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’-এর, সেখানে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দয়া করে আপনারা রায় দেবেন।
ঢাকা-১৩ আসনের ১১ দলীয় ঐক্যের রিকশা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেওয়া বিধিমালা অনুসরণ করে অত্যন্ত সহনশীলতার সঙ্গে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করব। রিকশা মার্কার গণজোয়ার দেখে অনেকেরই মাথা খারাপ হতে পারে। তারা নানাভাবে উসকানি দিয়ে আমাদেরও সীমা লঙ্ঘন করতে বাধ্য করতে চাইবে। মনে রাখতে হবে, আমরা দায়িত্বশীল মহল; আমরা কারো উসকানিতে পা দেব না। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর মামুনুল হকের নেতৃত্বে শেরেবাংলা নগর ও আদাবর হয়ে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত এক বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ মিছিল শেষে আয়োজিত পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মামুনুল হক এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরি। এ জন্য আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করব। তবে আমাদের সহনশীলতাকে যদি কেউ দুর্বলতা ভাবে, তবে সে বোকার স্বর্গে বসবাস করছে। এলাকার ঐক্য ও বহিরাগত প্রার্থীর বিষয়ে তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর আজ দল-মত-নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ। ঢাকা-১৩ আসনের মানুষ নিজেদের মধ্য থেকে প্রতিনিধি চায়, কোনো ভাড়াটিয়া চায় না। এই উত্থান এবং জাগরণ কারো জন্য মাথা ব্যথার কারণ হলে আমরা তাদের সমবেদনা জানাই। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের উসকানির বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, অনেকেই বাইরে থেকে এসে গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করবে। ১২ তারিখ পর্যন্ত তারা আমাদের মোহাম্মদপুরের মেহমান। বাইরে থেকে এসে যতই গণ্ডগোল বাধাতে চেষ্টা করুক, মেহমান হিসেবে আমরা তাদের সঙ্গে গণ্ডগোলে জড়াব না; বরং চা-নাস্তা দিয়ে আদর-আপ্যায়ন করাব।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।