দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন ভারতের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার এক পোস্টে তিনি এমন ঘোষণাই দিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি ভক্ত-অনুরাগীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আর কোনো নতুন কাজ গ্রহণ করবেন না বলেও জানান। অরিজিৎ সিং তার পোস্টে লেখেন : ‘নতুন বছরের শুভেচ্ছা। এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আমাকে যে অগাধ ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, এখন থেকে প্লেব্যাক কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আর কোনো নতুন কাজ গ্রহণ করব না। এখানেই আমি ইতি টানছি। এটি ছিল একটি অসাধারণ যাত্রা। অরিজিৎ সিং নিজের ক্যারিয়ারে তুম হি হো, চন্না মেরেয়া, গেরুয়া, মন মাঝি রে, বোঝেনা সে বোঝেনার মতো অসংখ্য শ্রোতা প্রিয় গান উপহার দিয়েছেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয়ে একটি অনুষ্ঠানে হেনস্থার শিকার হয়েছেন টালিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। জানা গেছে, দেরি করে মঞ্চে ওঠায় তাকে জোর করে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বনগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মিমি, অভিযোগের নামে থাকা ব্যক্তি হলেন জ্যোতিষ তনয় শাস্ত্রী। রবিবার বনগাঁর নয়া গোপালগুঞ্জ যুব সংঘে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে মিমি একটি ঘণ্টাখানেক দেরি করেন। মঞ্চে ওঠার পরই ঘটে বিতর্ক। মিমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি লেখেন, “আজও নারী শিল্পীদের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও অধিকার কেড়ে নেওয়া সহজ। আমি এত বছর ধরে আমার ভাবমূর্তি তৈরি করেছি। এবার চুপ থাকা মানে হেনস্থাকে সমর্থন করা।” অভিনেত্রী আরও বলেন, “স্টেজের অধিকার নিয়ে কোনো আপোষ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি এখন আইনি পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই আমি আর বাড়াবাড়ি করতে চাইছি না।” অন্যদিকে ক্লাবের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মিমিকে অসম্মান করা হয়নি। ক্লাব কর্মকর্তা রাহুল বসু শোভন দাস জানান, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সময় প্রশাসনিক কারণে সময়মতো বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মিমিকে সসম্মানেই বিদায় জানানো হয়েছে। নারীরা ফুল দিয়ে বরণ করতে গেলে ধাক্কা লেগেছে, সেটি কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা নয়। অভিযোগ ভিত্তিহীন।” প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে ‘এসআইআর’র শুনানিতে হাজিরা দিতে ডাক পেয়েছিলেন মিমি। কসবা বিধানসভা এলাকার ভোটার হিসেবে ৩১ জানুয়ারি তাকে শোনানিতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিমি জানিয়েছেন, তিনি শুনানিতে যাবেন এবং সহযোগিতা করবেন।
জয়া আহসান মানেই পর্দায় সৌন্দর্য, অভিনয়ে সংযম আর বাস্তব জীবনে একেবারে স্বাভাবিক সরলতা। তবে এবার সেই অভিনেত্রীকে ঘিরে এক মজার অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। আড্ডার ছলে প্রসেনজিৎ বলেন, ‘জয়ার একটা অদ্ভুত দিক আছে। ও কোনো দিনই মোটা হবে না’—এই কথা বলতে গিয়েই তাঁর মুখে ফুটে ওঠে বিস্ময় আর মুগ্ধতার হাসি। কারণ জয়া যে ভীষণ খাবারপ্রেমী, সেটা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। বহু আগেই প্রসেনজিৎকে মনে নিয়েছেন জয়া আহসান প্রসেনজিতের ভাষ্য, জয়া রসগোল্লা ভীষণ ভালোবাসে। সুযোগ পেলেই খায়। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো—এত কিছু খেয়েও তার শরীরে এক ফোঁটা ফ্যাটও জমে না। প্রকৃতি যেন তাকে আলাদা করে গড়ে তুলেছে! হাসতে হাসতে প্রসেনজিৎ আরো বলেন, ‘আমি তো একদিন ওকে বলেই ফেললাম—তুই তো আসন করিস না, এক্সারসাইজ করিস না!’ জবাবে জয়ার উত্তর ছিল, ‘আমার কিছু হয় না।’ এই সরল অথচ আত্মবিশ্বাসী জবাব শুনে আরো অবাক হয়ে যান প্রসেনজিৎ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী থিম সং প্রকাশ করেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টায় রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে থিম সংটির উদ্বোধন করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ‘ভোট দিবেন কিসে ধানের শীষে’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’সহ বিএনপির একাধিক নির্বাচনী স্লোগান যুক্ত করে গানের রূপ দেওয়া হয়েছে এই থিম সং-এ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, পরমাণুর কেন্দ্রে যেমন প্রোটন, ইলেকট্রন ও নিউট্রন থাকে এবং তাদের বন্ধন দৃঢ়, তেমনি আমরা এমন একটি রাষ্ট্রীয় দর্শনে বিশ্বাস করি- ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’, যার প্রতীক হচ্ছে ধানের শীষ তিনি বলেন, এই প্রতীক শেখ হাসিনা যেমন মুছে দিতে পারেননি, তেমনি আর কেউ পারবে না। মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে এই প্রতীক মিশে আছে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক জাভেদ মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জয় চৌধুরী। বুধবার দুপুরে জয় চৌধুরী বলেন, জাভেদ ভাই অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। ক্যান্সারের আক্রান্ত ছিলেন, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতাও ছিল। হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন। তাকে সম্প্রতি বাসাতে আনা হয়েছিল। আজ সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে উত্তরার নিজ বাসভবনে তিনি মারা যান। ১৯৬৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত উর্দু ছবি ‘নয়ি জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে অভিষেক ইলিয়াস জাভেদের। এরপর দুই শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত তিনি সিনেমায় সুবর্ণ সময় কাটিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ছিলেন একজন নৃত্য পরিচালকও। তার আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক ঘটলেও পরবর্তী সময়ে নায়ক হিসেবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শতাধিক চলচ্চিত্রে। তিনি তার অনেক কাজের মধ্যে ‘নিশান’ চলচ্চিত্রের জন্য বেশি পরিচিত। জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি সপরিবারে সেখান থেকে পাঞ্জাবে চলে আসেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
পর্দার রসায়ন ছাপিয়ে বাস্তব জীবনেও যে দক্ষিণী দুই তারকা বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার সম্পর্ক গভীর, তা ইন্ডাস্ট্রিতে ওপেন সিক্রেট। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের প্রেমের গুঞ্জন ঘুরছে টলিউড ও বলিউডের অন্দরে। এবার সেই জল্পনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাগদান ও বিয়ের খবর। ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাকি গোপনে আংটি বদল সেরেছেন বিজয় ও রাশমিকা। এরপর থেকেই তাঁদের বিয়ে নিয়ে আলোচনা আরো জোরালো হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে এই তারকা জুটির বিয়ের অনুষ্ঠান। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিয়ে নিয়ে মুখ খুলেছেন রাশমিকা মান্দানা। কথিত প্রেমিক বিজয় দেবেরাকোন্ডার সঙ্গে তাঁর আসন্ন বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, গুঞ্জনকে একেবারে উড়িয়ে না দিয়ে সংযত জবাব দেন অভিনেত্রী। রাশমিকা বলেন, “এই ধরনের আলোচনা তো গত চার বছর ধরেই চলছে, তাই না? মানুষ একই প্রশ্ন বারবার করছে এবং সুখবরের অপেক্ষায় আছে। তবে আমি তখনই এই বিষয় নিয়ে কথা বলব, যখন সত্যি কথা বলার মতো সময় আসবে।” অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরের একটি রাজপ্রাসাদে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন বিজয় ও রাশমিকা। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঘনিষ্ঠ এক সূত্র হিন্দুস্তান টাইমস-কে জানিয়েছিল, বাগদানের মতোই বিয়ের অনুষ্ঠানও হবে অত্যন্ত ঘরোয়া, যেখানে উপস্থিত থাকবেন কেবল পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা। তবে এসব জল্পনার মাঝেই হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া-কে দেওয়া এক মন্তব্যে রাশমিকা স্পষ্ট করে জানান, তিনি এখনই বিয়ে নিয়ে কোনো কিছু নিশ্চিত বা অস্বীকার করতে চান না। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি বিয়ে নিয়ে কিছু নিশ্চিত বা অস্বীকার করছি না। শুধু এটুকুই বলব—যখন বলার সময় আসবে, তখনই বলা হবে।” প্রসঙ্গত, বাগদানের গুঞ্জনের পর বিজয় ও রাশমিকার আঙুলে আংটি দেখা গেলেও, সে বিষয়ে তাঁরা কোনো মন্তব্য করেননি। যদিও আংটি আড়াল করতেও দেখা যায়নি তাঁদের। পাপারাৎজিদের ক্যামেরায় একাধিকবার ধরা পড়েছে সেই মুহূর্ত। সব মিলিয়ে, নীরবতা আর ইঙ্গিতেই আপাতত অনুরাগীদের কৌতূহল বাড়িয়ে চলেছেন বিজয়-রাশমিকা। কবে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁদের ভক্তরা।
প্রথম সন্তান জন্মের পাঁচ বছর পার হতেই ঢালিউড চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীকে ঘিরে ফের মা হওয়ার গুঞ্জন ছড়ায়। তবে এবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বুবলী নতুন এক মন্তব্য করেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে সাদা পোশাকে পরীর মতো লুকে হাজির হন বুবলী। অনুষ্ঠানে তার পোশাক ও চলাফেরায় বেবিবাম্প স্পষ্টভাবে ক্যামেরাবন্দি হওয়ায় গুঞ্জন আরো জোরালো হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। আলোচনায় আসে দ্বিতীয়বার মা হওয়ার বিষয়টিও। তবে এ প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে কৌশলে এড়িয়ে যান বুবলী। রহস্য রেখে অভিনেত্রী বলেন, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক এবং তিনি সেটাকে সম্মান করেন। সাংবাদিকরা মূলত দর্শকদের অনুভূতিই তাদের কাছে পৌঁছে দেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে বুবলীর মতে, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলার জন্য আলাদা সময় ও উপলক্ষ থাকা উচিত। যেহেতু তিনি একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন, তাই সেখানে এসব আলোচনা না হওয়াই ভালো। ভুল তথ্যভিত্তিক সংবাদের প্রসঙ্গে বুবলী জানান, তিনি লক্ষ করেছেন অনেক সময় তার বক্তব্য না নিয়েই সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যা মোটেও সঠিক নয়। শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে ফোন ধরতে না পারলেও তিনি অন্তত একটি মেসেজ প্রত্যাশা করেন। যদি মেসেজের জবাব না দেন, তার মানে ওই বিষয়ে তিনি আপাতত কথা বলতে আগ্রহী নন। অথচ কথা না বলেই তার নামে বক্তব্য প্রচার করা দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে সাবেক স্বামী ও চিত্রনায়ক শাকিব খানের সঙ্গে বুবলী এবং তাদের ছেলে বীর আমেরিকায় দীর্ঘ ছুটি কাটান। সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পারিবারিক মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন তিনি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আলোচিত ছোটগল্প ‘শাস্তি’ অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘শাস্তি’। লীসা গাজীর পরিচালনায় এই সিনেমায় জুটি বাঁধতে চলেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও পরীমনি। এই প্রথমবার একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে তাদের। চলচ্চিত্রের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসছে আগামী সোমবার। রবীন্দ্রনাথের গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হলেও এটি হুবহু পুনর্নির্মাণ নয়; বরং নতুন সময়ের ভাষায় গল্পটি তুলে ধরাই এই কাজের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন নির্মাতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শাস্তি’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী ও মানবিক গল্প হিসেবে পরিচিত। গল্পের মূল উপজীব্য গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং নারীর নীরব আত্মত্যাগ। গল্পে দুই ভাই—চিদাম ও দুখিরামের পারিবারিক জীবনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় কাহিনি। এক তুচ্ছ বিরোধের জেরে চিদাম হঠাৎ রাগের মাথায় দুখিরামের স্ত্রীকে হত্যা করে বসে। পরে আইনের হাত থেকে বাঁচতে সে নিজের স্ত্রী চন্দরা’র ওপর হত্যার দায় চাপিয়ে দেয়। চন্দরা নির্দোষ হয়েও স্বামী ও সমাজের চাপে হত্যার দায় স্বীকার করে নেয়। মৃত্যুদণ্ডের আগে সত্য বলার সুযোগ পেলেও সে আর কিছু বলে না। এই নীরবতাই হয়ে ওঠে গল্পের সবচেয়ে গভীর প্রতিবাদ—যেখানে আত্মসম্মান, বিশ্বাসভঙ্গ আর অবিচারের বিরুদ্ধে তার শেষ অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ‘শাস্তি’ শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের গল্প নয়; এটি নারীর ওপর আরোপিত অন্যায়, নৈতিক ভাঙন এবং সমাজের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। চলচ্চিত্রটির প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
দীর্ঘদিন ধরে কণ্ঠশিল্পী জেফার রহমান ও উপস্থাপক রাফসান সাবাবের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে শোবিজ অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। অবশেষে সব গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে তারা সংসার জীবনে পা রাখতে যাচ্ছেন। আগামী বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এই আলোচিত সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক পরিণয় হতে যাচ্ছে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঢাকার আমিনবাজারে অবস্থিত একটি রিসোর্টে ওই দিন তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। দুই পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সেখানে শোবিজ অঙ্গনের একাধিক তারকা কণ্ঠশিল্পী ও অভিনয়শিল্পীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরেই জেফার-রাফসানের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যে বিয়ের আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে গেছে। মূলত রাফসান-জেফারের প্রেমের গুঞ্জন শুরু হয় বছরখানেক আগে। রাফসানের সংসার ভাঙার খবর প্রকাশ্যে আসার পরই এটা চর্চায় আসে। এরপর বিভিন্ন সময়ে তাদের একসঙ্গে দেশে ও দেশের বাইরে ঘুরতে দেখা যায়। জেফার ও রাফসানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব থেকেই একে অপরকে জানাশোনা। সেই জানাশোনা থেকেই এ বিয়ের সিদ্ধান্ত।
প্রায় ১৫ বছর পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন ঢালিউডের নন্দিত অভিনেত্রী ডলি জহুর। সর্বশেষ ২০১১ সালে তাকে সিনেমায় দেখা গিয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলেও মাঝেমধ্যে নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। অবশেষে রেদোয়ান রনি পরিচালিত নতুন সিনেমা ‘দম’-এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্রত্যাবর্তন ঘটছে এই অভিজ্ঞ অভিনেত্রীর। ছবিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন ডলি জহুর—এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই। ডলি জহুর জানান, ‘দম’ ছবির গল্প, লোকেশন এবং পরিচালকের কাজের ধরন তাঁকে নতুন করে সিনেমায় ফিরতে উৎসাহিত করেছে। তিনি বলেন, “রনি খুব মেধাবী ও সিনসিয়ার পরিচালক। তাঁর আগের কাজগুলো দেখলেই সেটা বোঝা যায়। এই সিনেমাতেও তিনি দারুণভাবে কাজ করছেন। জানা গেছে, ‘দম’ সিনেমায় ডলি জহুর অভিনয় করছেন আফরান নিশোর মায়ের চরিত্রে। ছবিতে পুত্রবধূর ভূমিকায় রয়েছেন পূজা চেরী। শুটিং সেটের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘চলনবিলের মাঝখানে খুব সুন্দরভাবে সেট তৈরি করা হয়েছে। ভালো কাজের জন্য যা দরকার, সবই এখানে আছে। এদিকে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সম্প্রতি ‘পরম্পরা’ শিরোনামের একটি নতুন ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন ডলি জহুর। ইতিমধ্যে সেই ধারাবাহিকটির প্রচার শুরু হয়েছে।
গায়ক, অভিনেতা তাহসান খান ও রোজা আহমেদ গত বছরের শুরুতেই বিয়ের খবর জানিয়েছিলেন। কিন্তু এ বছরের শুরুতেই জানালেন দুঃসংবাদ। দুজনের পথ বেঁকে গেছে। বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দুজনে আলাদা হয়ে গেছেন। আকস্মিক এমন সংবাদ সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। কেন? প্রশ্নে সয়লাব হয়ে গেছে ফেসবুক। আসলে কেন? তাহসানের কাছের কয়েকজন বলছেন, এটি মনস্তাত্ত্বিক। এটাকে আরো পরিস্কার করে বললে, বলা যায়- দুজনের জীবন দর্শন আলাদা হয়ে গেছে। গত জুলাই থেকে তাহসান ও রোজা একসঙ্গে থাকছেন না। হাঁটছেন চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথে। কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহসান বললেন, ‘শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেব।’ গত শনিবার বিকেলে তাহসান কালের কণ্ঠকে বললেন, ‘যে গুজব ছড়িয়ে তা সত্য। আমরা আর একসঙ্গে থাকছি না। এখন থেকে বেশ কয়েক মাস ধরে আমরা একসঙ্গে থাকছি না। শিগগিরই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে ঘোষণা দেব।’ এদিকে তাহসান আলাদা থাকার কথা বললেও রোজার ইনস্টাগ্রামে বহাল তবিয়তে রয়েছেন একসময়ের জনপ্রিয় গায়ক। রোজা আহমেদের ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেখা যাচ্ছে প্রথম ছবিটি তাহসানের সঙ্গে। বিয়ের ছবিটি প্রথমে পিন করে রেখেছেন রোজা আহমেদ। অর্থাৎ, রোজা মনে করছেন আলাদা থাকার বিষয়টির হয়তো সমাধান হবে। ফের হয়তো দুজন একসঙ্গে থাকবেন। তাহসান ও রোজা বিয়ে ও বিয়ে-পরবর্তী সময়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেরিয়েছেন। সেসব ছবি সেভাবেই রয়েছে। গত জুলাই মাসের শেষভাগ থেকে দুজনে আলাদা থাকলেও রোজার দিক থেকে তাহসানকে মুছে ফেলার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদিও দুজনের পথ দুই দিকে বেঁকে গিয়েছে, সেই পথ ফের কি এক হবে— এমন প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে। অন্তত রোজার দিক থেকে তাহসানকে নিয়ে কোনো রকম বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ইনস্টাগ্রামে এই যুগল ছবি রেখে দেওয়ার অর্থ হতে পারে রোজা অপেক্ষা করছেন, যেন তাহসান ও তিনি ফের একই ছাদের নিচে থাকবেন। অনেকেই ধারণা করছিলেন, তাহসান ধর্মীয় কারণে গান ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু এ মাসেই যখন রোজা সর্বশেষ যে ছবিটি প্রকাশ করেন তখন থেকেই নেটিজেনরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন, হয়ে পড়েন দ্বিধাগ্রস্ত। ফলে দুজনের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাহসানই অবস্থান পরিষ্কার করলেন। তাহসানের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, তাহসান গান ছেড়ে দিয়েছেন, এটা অনেক বড় একটি ত্যাগ। নিশ্চয়ই এর পেছনে কারণ রয়েছে। সামাজিক মাধ্যম থেকেও সরে গেছেন তাহসান, এরও বড় একটি কারণ রয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন একটি ব্যাক্তিগত জীবনযাপন করতে। অন্যদিকে, বিয়ের পর রোজার পরিচিতি বেড়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমেও আলোচিত হয়ে ওঠেন, এটিকে রোজা উপভোগ করছিলেন। প্রথমদিকে র সমাধান করার চেষ্টাও হচ্ছিল, দুজনে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুজনের জীবন দর্শন দুরকম হওয়ায় দুজনের পথ আলাদা হয়ে গেছে।
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খানের দ্বিতীয় সংসারও টেকেনি। বিয়ের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে তাঁরা দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে আলাদা থাকছেন। তাহসান খান নিজেই বিষয়টি এক গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের জুলাই মাসের শেষ দিক থেকেই তাঁরা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন এবং আলাদা বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে না চাইলেও বিবাহবার্ষিকী নিয়ে নানা গুঞ্জন চাউর হওয়ায় তিনি সত্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি মাত্র চার মাসের পরিচয়ে রোজা আহমেদকে বিয়ে করেছিলেন তাহসান। রোজা পেশায় একজন জনপ্রিয় মেকআপ আর্টিস্ট এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন। নিউইয়র্কে তাঁর নিজস্ব একটি প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালে অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলার সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন তাহসান। দীর্ঘ ১১ বছর সংসার করার পর ২০১৭ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে। সেই সংসারে আয়রা তাহরিম খান নামে তাহসানের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। প্রথম বিচ্ছেদের দীর্ঘ সময় পর নতুন করে সংসার শুরু করলেও এক বছরের মাথায় আবারও বিচ্ছেদের খবর এলো এই তারকার জীবনে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সুপারহিট ছবি ছিল ‘প্রিয়তমা’। ২০২৩ সালের ঈদুল আজহায় মুক্তির পর শাকিব খানের এই ছবি লগ্নীর বহুগুন অর্থ আয় করে। অনেক সিনেমা হল এই ছবির কল্যাণে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। ব্ল্যাকাররাও টিকিট বিক্রি করে দারুণ আয় করে। আরশাদ আদনান প্রযোজিত, হিমেল আশরাফ পরিচালিত এক ‘প্রিয়তমা’ দিয়ে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলা সিনেমা, গ্লোবালি বাংলা সিনেমার ব্যবসায়িক নতুন দুয়ার খুলে দেয়। এরপর শাকিব খানকে ‘তুফান’, ‘বরবাদ’, ‘তাণ্ডব’র মতো অ্যাকশন-ক্যাওয়াজের ছবিতেই বেশি দেখা যায়। এই নায়কের আসন্ন ছবি ‘প্রিন্স’-ও হতে যাচ্ছে অ্যাকশন ঘরানার। নতুন খবর, শাকিব আবার রোমান্টিক ধাঁচের ছবিতে ফিরছেন, যেখানে থাকছেন একজন পাকিস্তানি নায়িকা! শাকিব খানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এই খবরটি নিশ্চিত করে জানায়, চলতি বছরেই রোমান্টিক ছবিতে শাকিবের সঙ্গে পাকিস্তানি কোনো একজন নায়িকা থাকবেন। ইতিমধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে। এ বছরেই ছবিটি মুক্তি পাবে। তবে আরেকটি সূত্র বলছে শাকিব খানের সেই নায়িকা হতে যাচ্ছেন হানিয়া আমির। জানা যায়, হানিয়া আমির বাংলাদেশে আসার আগেই শাকিবের সঙ্গে সিনেমা নিয়ে গত আগস্টেই প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছিল তার। শাকিবের সঙ্গে সিনেমা করতে মৌখিকভাবে হানিয়ার টিম থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখায়। চুক্তিবদ্ধ না হলেও প্রাথমিকভাবে শাকিব-হানিয়া জুটির সিনেমা করা অনেকটাই চূড়ান্ত ছিল। সূত্র জানাচ্ছে, হানিয়া আমির ধুমধাম আয়োজনে কয়েকমাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমিককে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর সময়সূচি মিললে তাকে শাকিবের সঙ্গে দেখা যাবে। সেই আলোচনা এখনও চলমান। সূত্রটি বলছে, শাকিবের বিপরীতে হানিয়া আমির অথবা পাকিস্তানি যে কোনো পরিচিত মুখ থাকবেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত। চূড়ান্ত খবর জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত এবং জয়া আহসান অভিনীত আসন্ন ছবি ‘OCD’ ৬ ফেব্রুয়ারি ভারতে মুক্তি পাওয়ার কথা। এই ছবির পোস্টার শেয়ার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন দর্শক লিখলেন, ‘মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এবার দেখতে হবে, এই সিনেমাটা মুক্তি পায় কি না।’ যদিও আপাতত এই ছবির মুক্তি ঘিরে কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি ভারতে। ‘OCD’ ছবিটি শিশু নির্যাতনের মতো এক সংবেদনশীল এবং বহুদিন ধরে উহ্য করে রাখা বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। ছবিটি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল ‘OCD’-কে তাঁর কাছে এক ধরনের প্রতিবাদমূলক কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, বহুবার এমন ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন যেখানে শিশু নির্যাতনকারীরা অচিহ্নিত ও অদণ্ডিত থেকে যায়। শিশুরা ভয়, অবিশ্বাস এবং নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা হারানোর আশঙ্কায় মুখ খুলতে পারে না। তিনি এমন এক সমাজে বড় হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতার কথা বলেন, যা বাইরে থেকে আধুনিক মনে হলেও ভেতরে গভীরভাবে ভণ্ডামিতে ভরা—যেখানে কোনো শিশু যদি তার অভিজ্ঞতার কথা বলতেও চায়, তবু পরিবার অনেক সময় সামাজিক প্রশ্ন, যৌন কুসংস্কার এবং লজ্জার ভয়ে সত্যকে চাপা দিতে চায়। শিশু নির্যাতনের দীর্ঘমেয়াদি মানসিক প্রভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে সৌকর্য ঘোষাল বলেন, একটি শিশু যে মানসিক হিংসার মধ্য দিয়ে যায়, তা আজীবন তাকে বহন করতে হয়। এই ট্রমা বহু ক্ষেত্রে আত্মবিধ্বংসী পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। আবার কখনও কখনও, দমিয়ে রাখা যন্ত্রণা যদি প্রতিশোধের রূপ নেয়, তবে পরিস্থিতি ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ‘OCD’ ছবির মাধ্যমে সৌকর্য ঘোষাল এক নির্যাতিত শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গল্পটি বলতে চেয়েছেন—যে শিশু নির্ভীক, সমাজের বিচারের তোয়াক্কা করে না এবং নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করার প্রয়োজন বোধ করে না। এই ছবির কেন্দ্রে রয়েছে সেই শিশুর সত্য।
হৃদয় খান। সবাই তাকে সংগীতশিল্পী হিসেবে চেনেন। অনেক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন শ্রোতাদের। তবে এবার ভিন্ন পরিচয়ে হাজির হলেন গায়ক হৃদয় খান। যাত্রা শুরু করলেন অভিনেতা হিসেবে। সম্প্রতি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া তার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছেন প্রবাসী অভিনেত্রী মোনালিসা। প্রায় ৩০ মিনিটের শর্ট ফিল্মটি নিউইয়র্ক শহরকে কেন্দ্র করে নির্মিত। টানটান উত্তেজনা, প্রেম আর নাটকীয় রহস্যে পরিপূর্ণ ‘ট্র্যাপড’। গল্পের কিছু দৃশ্য নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন হৃদয়। ক্যাপশনে লেখেন, ‘স্বাধীনতা তখন নিষ্ঠুর জিনিস যখন ভুল লোকেরা তোমাকে তা দিতে চায়। এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের মধ্যে উঠে এসেছে নিউইয়র্কে কিভাবে একজন হৃদয় নামের যুবক আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ফাঁদ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে তিনি বেরোতে পারেন না। হৃদয় খান জানান, ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে তার নতুন কাজটি। শর্ট ফিল্মটিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাও করেছেন গায়ক নিজেই। নেটদুনিয়ায় কাজটি প্রকাশ করে হৃদয় জানিয়েছেন, তার জীবন থেকেই তৈরি করা হয়েছে এ নতুন গল্প। নতুন কাজ প্রসঙ্গে হৃদয় বলেন, ‘অনেক সময় নিয়ে কাজটি তৈরি। আশা করছি, সবাই পছন্দ করবে আমার সিনেমা।’=
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ফেসবুক যেন শোক বই। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ মানুষ শোক জানাচ্ছেন। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক জানাচ্ছেন শোবিজের তারকারাও। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন নগরবাউল জেমস। শোক প্রকাশ করে নগরবাউল জেমসের ফেসবুকে লেখা হয়েছে, ‘শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধা, বাংলাদেশের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকামে অধিষ্ঠিত করেন—আমিন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।’ গত ২৩ নভেম্বর এমনই এক পর্যায়ে তাঁকে শেষবারের মতো রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। এবার তিনি আর চিকিৎসায় সাড়া দিতে পারলেন না। ‘দেশনেত্রী’, ‘আপসহীন’ উপাধিতে ভূষিত খালেদা জিয়া চিরবিদায় নিলেন তাঁর প্রিয় দেশবাসীর কাছ থেকে।=
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, পরিচালক ও গায়িকা মেহের আফরোজ শাওন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করেন। ওই সময়টিকে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। স্ট্যাটাসে মেহের আফরোজ শাওন লেখেন, ‘নব্বই দশকে বেড়ে হওয়া আমাদের প্রজন্ম আপনাকে মনে রাখবে ভালো-মন্দ নানা কারণে। তবে আমি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালের শাসনামলে সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার কথা মনে রাখতে চাই।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। স্ট্যাটাসের শেষাংশে শাওন বেগম জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে লেখেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান বেগম খালেদা জিয়া, আপনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।’
সঙ্গে সোহেল রানা: তোদের আসল রূপ দেখালি রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এই সমঝোতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেও এনসিপি নেতৃত্ব জোর দিয়ে বলছে—এই জোটের কেন্দ্রবিন্দুতে কোনো আদর্শগত আপস নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারই রয়েছে। এই নিয়ে যখন কথা হচ্ছে তখন অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ সোহেল রানাও চুপ থাকলেন না। এনসিপিকে নিয়ে বললেন, ‘সেই তো তোদের আসল রূপ দেখালি, তবে এত দিন জনগণকে কেন বোকা বানালি। এনসিপির নাম না উল্লেখ করলেও পোস্টের কমেন্টে বক্সে সেটা স্পষ্ট হয়। এদিকে আরেক পোস্টে সোহেল রানা লিখেছেন, ‘আখতারুজ্জামান, অলি আহমেদ-ধিক তোমাদের দুজনকে। ’ একজন ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধের পর তিনি চলচ্চিত্র জগতে আসেন এবং প্রযোজক হিসেবে ‘ওরা ১১ জন’ (১৯৭২) নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদেরই অভিনয় করানো হয়েছিল।
বলিউডের ‘ব্যাচেলর’ তকমাটা আজও তার নামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে। তিন দশকের ক্যারিয়ারে তিনি কখনও ‘প্রেম’, কখনও ‘রাধে’, আবার কখনও ‘টাইগার’ হয়ে বক্স অফিস শাসন করেছেন। ২৭ ডিসেম্বর ভাইজান সালমান খানের ৬০তম জন্মদিন। পর্দায় উন্মুক্ত পেশিবহুল শরীর দেখিয়ে দর্শকদের হৃদয়ে ঝড় তোলা এই অভিনেতা আজ কেবল জনপ্রিয়তায় নয়, সম্পদের নিরিখেও আকাশচুম্বী উচ্চতায়। বর্তমানে প্রায় ২৯০০ কোটি টাকার বিশাল সম্পত্তির মালিক তিনি। ষাট বছর বয়সে দাঁড়িয়ে সালমানের এই সাম্রাজ্যে কী কী রয়েছে, তা নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই অনুরাগীদের। সালমান খানের সম্পদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বিখ্যাত ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’। দীর্ঘ বছর ধরে এই বাড়িতেই পরিবারের সঙ্গে থাকছেন তিনি। দোতলা এই ভবনের নিচতলায় সালমান এবং ওপরের তলায় তার বাবা-মা থাকেন। বর্তমানে এই বাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির মুখে নিরাপত্তার খাতিরে সালমানের এই বাসভবনে বসানো হয়েছে বিশেষ বুলেটপ্রুফ কাঁচ। অর্পিতা ফার্মস ও অন্যান্য আবাসন মুম্বাইয়ের কোলাহল ছেড়ে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে সালমান ছুটে যান পানভেলের খামারবাড়িতে। বোন অর্পিতার নামে যার নাম রেখেছেন ‘অর্পিতা ফার্মস’। ১৫০ একর জমির ওপর নির্মিত এই ফার্মহাউসে রয়েছে সুইমিং পুল, পশুখামার ও বিস্তীর্ণ চাষের জমি। অবসরে এখানে নিজেই কৃষিকাজ করেন ভাইজান। এই খামারবাড়ির মূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা। এছাড়া কার্টার রোড, ওরলি এবং সুদূর দুবাইতেও রয়েছে তার বিলাসবহুল আবাসন। সাগরের বুকে নিজস্ব ইয়ট ও শৌখিন গাড়ি সালমান খান কেবল রাজকীয় বাড়িতেই থাকেন না, চলেনও রাজকীয়ভাবে। নিজের ৫০তম জন্মদিনে তিনি ৩ কোটি টাকা দিয়ে একটি ব্যক্তিগত ইয়ট কিনেছিলেন, যেখানে প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করতে দেখা যায় তাকে। তার গ্যারেজে শোভা পায় অডি, বিএমডব্লিউ এবং মার্সিডিজ বেঞ্জ-এর মতো নামী ব্র্যান্ডের সব দামি গাড়ি। আয়ের উৎস ও মানবসেবা সিনেমাপ্রতি সালমান খান এখন ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন। এর বাইরে টেলিভিশন রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস’ সঞ্চালনা করে প্রতি বছর আয় করেন মোটা অঙ্কের টাকা। নামী সব ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন থেকেও আসে বড় অংকের সম্মানী। তবে কেবল নিজের বিলাসিতাতেই মগ্ন নন তিনি। আয়ের একটি বিশাল অংশ ব্যয় করেন নিজের প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর মাধ্যমে। দুস্থ মানুষের চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য কাজ করে এই সংস্থাটি।
ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উৎসবের সমাপনী রাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নগরবাউল জেমসের কনসার্ট চলাকালীন বহিরাগতদের ইটপাটকেল নিক্ষেপে ও বিশৃঙ্খলার কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল হয়ে যায়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে জেমস বললেন, ‘কনসার্ট বাতিলের পেছনে রয়েছে আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতা। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি নিবন্ধিত প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল। তবে জেমসের গান শোনার জন্য কয়েক হাজার অনিবন্ধিত দর্শক স্কুলের বাইরে ভিড় করেন। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় তাদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুলের বাইরে দুটি বড় প্রজেক্টর বসানো হলেও তাতে বহিরাগতদের অসন্তোষ কমেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে উত্তেজিত জনতা স্কুলের দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। বাধা পেলে তারা স্কুল প্রাঙ্গণ ও মঞ্চ লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইট নিক্ষেপ শুরু করে। এতে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শামীমসহ অন্তত ২৫-৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন বলেন, ‘ফরিদপুরের ওই কনসার্টে অংশ নিতে সাড়ে সাতটায় পৌঁছাই। এরপর আমরা গেস্ট হাউসে ছিলাম। সেখানেই জানতে পারি অনুস্থানস্থলে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। রাত সাড়ে ১০টায় বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করলে অনুষ্ঠান বাতিল করে সেটি আমাদের জানানো হয়। পরে আমরা ঢাকায় চলে আসি। এদিকে জেমস বলছেন, ‘কনসার্ট বাতিলের পেছনে রয়েছে আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতা।
বর্তমান সময়ের কমেডি আর থ্রিলার নাটকের ভিড়ে নব্বইয়ের দশকের সেই পারিবারিক গল্পের স্বাদ নিয়ে ফিরছেন দুই গুণী শিল্পী আবুল হায়াত ও ডলি জহুর। জনপ্রিয় নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী নির্মাণ করেছেন নাটক ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’। শফিকুর রহমান শান্তনুর রচনায় নাটকটি নতুন বছর উপলক্ষে মুক্তি পাবে। নাটকটি প্রসঙ্গে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দর্শকরা পারিবারিক গল্পের নাটকে শান্তি খুঁজে পান। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে আমি ভালোবাসা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে কাজ করছি। প্রযোজক জামাল হোসেন ভাই আমাকে নব্বইয়ের দশকের সেই চিরচেনা আবেগ নিয়ে একটি কাজ করতে বলেন। সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন। বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াত নির্মাতার প্রশংসা করে বলেন, চয়নিকা সব সময় খুব সচেতন ও বিচক্ষণ। তার কাজের প্রাণ হচ্ছে গল্পের বুনন। ডলির সঙ্গে অনেক দিন পর কাজ করে ভালো লাগল। নাটকটি নিয়ে আমি আশাবাদী। একইভাবে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা জানালেন ডলি জহুর। বলেন, হায়াত ভাই এ দেশের অভিনয় জগতের একজন কিংবদন্তি। তার সঙ্গে বহু কাজ করেছি। আমরা গল্পের ছলে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে কাজটি শেষ করেছি। নাটকটি প্রচার হলে দর্শকদের ভালো লাগবে বলেই আমার বিশ্বাস। নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, তিন দিনের দৃশ্যধারণ শেষে বর্তমানে নাটকটির সম্পাদনার (এডিটিং) কাজ চলছে। সব ঠিক থাকলে নতুন বছরের শুরুতেই দর্শকরা ইউটিউবে দেখতে পাবেন নাটকটি।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।