ভোলার দৌলতখান উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ৯ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোলা-২ সংসদীয় আসনের দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিরহাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জামায়াতের আহতদের মধ্যে মধ্যে রয়েছেন- মো. রাসেল, মো. নাঈম, মো. বিল্লাল, মো. মিজান ও মো. সিফাত। অন্যদিকে বিএনপির আহতদের মধ্যে রয়েছে- রাসেল (২৬), মিজান (৩৫) রাকিব (২৭) রিয়াজ (২৭)। সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াতের পাঁচজনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বিএনপির তিনজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় একে অপরকে দুষছে দুই দলের নেতাকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা জামায়াতের ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুফতি ফজলুল করিমের পক্ষে মুন্সিরহাট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিল। এসময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের কর্মী সমর্থকেরা অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে দুই দলের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি হলে তাদের মধ্যে প্রথমে তর্ক হয় এবং একপর্যায়ে তারা দুপক্ষ নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আশ্রাফ উদ্দিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা-রড নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের মোট ১৩ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। গুরুতর আহত পাঁচজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আইনি ব্যবস্থা নেবো। দৌলতখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সাজু অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত নেতাকর্মীরা প্রচারণার নামে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের গুরুতর আহত তিনকর্মী স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরা আইনি ব্যবস্থা নেবো।
ইসলামের বরকতময় সময়গুলোর মধ্যে কিছু রাত রয়েছে, যেগুলো বান্দার আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন এবং দোয়ার মাধ্যমে নৈকট্য অর্জনের বিশেষ সুযোগ এনে দেয়। এসব রাত মানুষের অন্তরকে জাগ্রত করে, গাফিলতি ভেঙে দেয় এবং নতুনভাবে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার আহ্বান জানায়। ঠিক তেমনই এক তাৎপর্যপূর্ণ রাত হলো শাবান মাসের মধ্যরাত, যা মুসলিম সমাজে ‘শবেবরাত’ নামে সুপরিচিত। এই রাতকে কেন্দ্র করে যুগে যুগে মুসলমানদের মধ্যে ইবাদত, দোয়া ও আত্মসমালোচনার একটি ধারাবাহিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। যদিও কোরআনে এ রাতের বিষয়ে সরাসরি কোনো বিধান নেই, তবে হাদিস ও সালাফে সালেহিনের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়—এটি দোয়া কবুল ও আল্লাহর রহমত লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে একই সঙ্গে এ রাতের আমল সম্পর্কে ভারসাম্য, সুন্নাহর অনুসরণ এবং অতিরঞ্জন পরিহার করাও অপরিহার্য। নিম্নে নিসফা শাবানের রাতের ফজিলত, দোয়া কবুলের গুরুত্ব এবং এ রাতে পাঠযোগ্য কিছু মাসনুন দোয়া হাদিস ও প্রামাণ্য সূত্রের আলোকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো, যাতে একজন মুমিন সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই বরকতময় সময়কে কাজে লাগাতে পারেন। নিসফা শাবানের রাতের দোয়া আল্লাহ তাআলা কবুল করেন। তাই বেশি বেশি দোয়া করা উত্তম। হাদিসে এসেছে- ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, পাঁচটি রাত এমন আছে, যে রাতে বান্দার কোনো দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। আর তা হলো- ১. জুমআর রাতের দোয়া। ২. রজব মাসের প্রথম রাতের দোয়া। ৩. নিসফা শাবান তথা অর্ধ শাবানের রাতের দোয়া। ৪. ঈদুল ফিতর তথা রোজার ঈদের রাতের দোয়া। ৫. ঈদুল আজহা তথা কুরবানির ঈদের রাতের দোয়া।’ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক) ইমাম শাফেঈ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, পাঁচটি রাতে দোয়া বেশি বেশি কবুল করা হয়। জুমআর রাত, ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত, রজব মাসের প্রথম রাত এবং নিসফা শাবান তথা শাবানের ১৫তম রাতের দোয়া। ’ (কিতাবুল উম্ম, আস-সুনানুল কুবরা) তাই এ গুরুত্বপূর্ণ রাতে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করতে নিচের দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়তে পারেন- رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وٰلِدَىَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صٰلِحًا تَرْضٰىهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ الصّٰلِحِينَ উচ্চারণ: রাব্বি আওঝি'নি আন আশকুরা নি'মাতাকাল্লাতি আনআমতা আলাইয়্যা ওয়া আলা ওয়ালিদাইয়্যা ওয়া আন আ'মালা সালেহাং তারদাহু ওয়া আদখিলনি বিরাহমাতিকা ফি ইবাদিকাস সালিহিন।' (সুরা নামল : আয়াত ১৯) اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَ ضَلَعِ الدَّيْنِ وَ غَلَبَةِ الرِّجَالِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়া দালায়িদ দাইনি ওয়া গালাবাতিল রিজালি।’ (বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত) اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَاَعُوْذُبِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَاَعُوْذُبِكَ مِن اَرْذَلِ الْعُمُرِ وَ اَعُوْذُبِكَ مِن فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَ عَذَابِ الْقَبْرِ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আউজুবিকা মিনাল বুখলি ওয়া আউজুবিকা মিন আরজালিল উমুরি ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিদ দুনিয়া ওয়া আজাবিল কাবরি।’ (বুখারি ও মিশকাত) اَللَّهُمَّ اِنِّى اَعُوْذُبِكَ مِن جَهْدِ الْبَلَاءِ وَ دَرَكِ الشَّقَاءِ وَ سُوْءِ الْقَضَاءِ وَ شَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালায়ি ওয়া দারাকিশ শাক্বায়ি ওয়া সুয়িল ক্বাজায়ি ওয়া শামাতাতিল আ’দায়ি।’ اَللَّهُمَّ اكْفِنِىْ بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَأَغْنِنِىْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা ওয়া হারামিকা ওয়া আয়িন্নি বিফাজলিকা আম্মান সেওয়াকা।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১১ দলীয় জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হলে, সুশাসনের সমাজ গঠন করা হবে- যেখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষ সমান ইনসাফ পূর্ণ অধিকারের মাধ্যমে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধভাবে বসবাস করতে পারবে। আজ শনিবার চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটপ্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার দাড়িপাল্লার সঙ্গে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে জামায়াত দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন মানবিক বাংলাদেশ গঠন করা হবে। তাদের মধ্যে কোনো দুর্নীতি বা দলীয়করণের কোনো অভিযোগ নেই। নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর চাঁদপুর জেলা শাখার আমির ও জোটের প্রার্থী মাওলানা বিলাল হোসেন মিয়াজীর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নোয়াখালীও কুমিল্লা অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও ভি.পি মো. রিয়াজুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারি ও জি.এস মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, জেলা সহ-সেক্রেটারি অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, ফরিদগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইউনুস হেলাল এবং সেক্রেটারি মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, এবারের নির্বাচন কোনো নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়; এটি জনগণের প্রত্যাশা এবং আমাদের দায়িত্ব, জাতীয় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার নির্বাচন। শনিবার সকালে ভোলার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলার ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’র অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ইসি সানাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রভিত্তিক নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। তিনি আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রে মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সকলকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের অনিয়ম, গুজব বা বিশৃঙ্খলা রোধে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, আচরণবিধি প্রতিপালন এবং যেকোনো অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার ডা. শামীম রহমান, ভোলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাউছারসহ নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁর মহাদেবপুরে ড্রাম্প ট্রাকের চাপায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন একজন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের মাংরা উরাওয়ের ছেলে সঞ্চু উরাও (৪৮), জুটুয়া পাহানের ছেলে বিপুল পাহান (২২), খোকা পাহানের ছেলে বীরেন (৫০) এবং মৃত নরেন পাহানের ছেলে উজ্জ্বল পাহান (২৪) এবং অনিল পাহানের ছেলে বিপ্লব (২২)। আহত সামন্ত একই গ্রামের রমেসের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার ভোরে দুটি ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যানে করে কাঁচা হলুদ ও বেগুন নিয়ে মহাদেবপুর হাটে যাচ্ছিলেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ও ব্যবসায়ী। পথে পাটকাঠি শিবপুর এলাকায় পৌঁছালে নজিপুরগামী একটি বালুভর্তি ড্রাম্প ট্রাক ওই ভ্যান দুটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা ভ্যানে থাকা অন্য চারজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে আরো দুজনের মৃত্যু হয়। এ ঘট্নায়া সামন্ত (৩০) নামের এক ভ্যানচালক আহত হয়েছেন। মহাদেবপুর থানা পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর থেকেই ঘাতক ট্রাকের চালক পলাতক রয়েছেন। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতের এমপি প্রার্থী মুফতি আমীর হামজার মাকে ভোট চাওয়ার অপমানিত ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এই ইসলামি বক্তা। তিনি ফেজবুকে এক পোষ্ট দাবি করেন সদর উপজেলার আইলচারাতে আমীর হামজার মা ও মহিলা কর্মী ভোট চাওয়ার সময় স্খানীয় যুবদলের নেতা নাসির এ ঘটনার নেতৃত্ব দেন। এছাড়াও এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ ভোটাদের মাঝে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। নিচে আমীর হামজার ফেজবুকের পোষ্টটি তুলে ধরা হলো- মহিলাদের মাঝে ভোট চাইতে যাওয়ার সময় রাস্তার মাঝে আমার সম্মানিত আম্মাকেও অপমানিত ও লাঞ্চিত করা হলো। ঘটনাটি ঘটে- কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়ন বাক্স ব্রিজ এলাকায়। আমাদের মহিলা কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে যুবদল নেতা নাসিরের নেতৃত্বে মহিলাদের কাছ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়,লিফলেট কেড়ে নেওয়া হয়। এছাড়াও মহিলাদের দিকে আক্রমণের জন্য বারবার তেড়ে আসে। মহিলা কর্মীদের সাথে আমার আম্মাও ছিলেন। তার সাথেও খুবই বাজে ব্যবহার করা হয়েছে। নারীদের ওপর এমন বর্বর আচরণ রাজনৈতিক সহনশীলতার চরম লঙ্ঘন। একজন মায়ের সম্মান, একজন নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে কোনো রাজনীতি টিকে থাকতে পারে না। ভোট চাওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। সে অধিকার কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা জনগণ কখনো মেনে নেবে না। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, ভয়, সন্ত্রাস ও নারীদের হেনস্তার রাজনীতি দিয়ে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করা যায় না। জনগণ ন্যায়, ইনসাফ ও মর্যাদার রাজনীতির পক্ষেই থাকবে, ইনশাআল্লাহ। আপনাদের পালিত সন্ত্রাসীদের হাত গোটানোর জন্য বলছি। আমাদের মা'দের দিকে হাত বাড়ানো বন্ধ করুন। যুগে যুগে যারা মা'দের দিকে হাত তুলেছে তারাই ধ্বংস হয়েছে। সাবধান হয়ে যান।
শেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, শেরপুরের ঘটনায় ইউএনও এবং ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেবে কমিশন। এর আগে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তুচ্ছ ঘটনায় জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সূত্রপাতের বিষয়ে জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানায় জামায়াত।
নোয়াখালী: নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, আমাদের একটা পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে বয়স ভিত্তিক, লিঙ্গ ভিত্তিক সবাই ভোট দিতে পারে। ভোটারদের আগ্রহকে ধারণ করে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। কোনো ভোটারকে যেনো কেউ বাঁধা দিতে না পারে, সেটি খেয়াল রেখে সবার ভোট দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে, যোগ করেন ইসি সানাউল্লাহ। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিমের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, পোস্টাল ব্যালট প্রবাস ও দেশ থেকে দুই ভাগে হবে। আমরা কোনো বিষয়ে ছাড় দেব না। কেউ যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ভোট দেয়, তাহলে তার ভোট বাতিল হয়ে যাবে। একই সময় সাধারণ ব্যালট ও পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হবে। তবে পোস্টাল ব্যালট গণনায় সময় লাগবে। ১১৯টি প্রতীক রয়েছে প্রতিটি ব্যালটে, তাই প্রবাসীদের এ ব্যালটের প্রতীকগুলো এজেন্টদের দেখিয়ে নিশ্চিত করতে হবে তিনি কোথায় ভোট দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সভায় জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা, নির্বাচন কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা, ভোটের পরিবেশ, গণভোটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা সেক্রেটারিসহ শতাধিক নেতাকর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। মোহনগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৮ টায় এ যোগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এসময় মোহনগঞ্জ উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি হাফেজ জুনায়েদ আহমেদসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যরা হলেন উপজেলার প্রচার সম্পাদক হাফেজ ঈসমাইল, ৪ নম্বর মাঘান সিয়াধার ইউনিয়নের সভাপতি হাফেজ উসমান গণি, উপজেলা সদস্য পলাশ মিয়া, মিজানুর রহমান, হাফেজ মোহাম্মদ শিবলী, আনোয়ার হোসেন, সুলতান মিয়া,আবুল কাশেম, রবিউল ইসলাম, তামজিদ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, শিব্বির তালুকদার, তুহিন মিয়া, মো. আব্দুল্লাহ, আওলাদ হোসেন প্রমুখ। যোগদান করা নতুন সদস্যদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুল আমীন এবং নেত্রকোনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আমির কাজী মোফাজ্জল হোসেন সবুজ, নায়েবে আমির এটি এম হামিদ উল্লাহ তালুকদার, উপজেলা সেক্রেটারি জায়েদ হাসান প্রমুখ। জামায়াতে যোগদান করা মোহনগঞ্জ উপজেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারি হাফেজ জুনায়েদ আহমেদ বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশের কারিগর হচ্ছে জামায়াত। ফ্যাসিস্টমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য চব্বিশের আন্দোলন জামায়াতের নেতৃত্বেই হয়েছে। তাই জামায়াতকে বিজয়ী করতেই আমরা আজ এই দলে যোগদান করেছি।’ জামায়াতের প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার বলেন, ‘সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতের কোনো বিকল্প নেই। আজ যারা যোগদান করেছেন, তারা সবাই আগামীর দেশ গড়ার অংশীদার। জামায়াতকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
যশোরের জেলা প্রশাসন বলছে, বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হোসেনের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদনই করা হয়নি। একই সঙ্গে তারাও বলছে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সঠিক নয়। এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে যশোর জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশসাকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস সাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাগেরহাট কারাগার থেকে গত ১৫/১২/২০২৫ তারিখে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আগত বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম নামক ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি। এক্ষেত্রে যশোর জেলা প্রশাসন নিজেদের মনগড়া তথ্য দিয়ে বলছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেল গেটে লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দির স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এছাড়া আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়নি, এধরনের তথ্যও মিথ্যা; কারণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে। যশোর জেলা প্রশাসন 'সময় স্বল্পতা'র কথা বললেও আদতে তা সত্য নয়, কেননা জুয়েল হাসানের পরিবার বাগেরহাট জেলা প্রশাসন বরাবর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বলছেন, সাদ্দামের পরিবার এই প্যারোলের আবেদনটি নিয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন হতে যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় পর্যন্ত ছুটে গেছে কিন্তু ব্যুরোক্রেসির মারপ্যাঁচ আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনের ছুতোয় কেউই তাঁদের সহায়তা করতে শক্ত পদক্ষেপ নেননি।
চট্টগ্রাম নগরীর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বাদশা ওরফে ছোট বাদশাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার এক্সেস রোডসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন, বাদশা ওরফে ছোট বাদশা, শাহরিয়ার ইমন (২৫), মো. মারুফ (২৫) ও মো. আকাশ (২২)। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান কালের কণ্ঠকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাদশাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাদশা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও এক্সেস রোডে সাজ্জাদ হত্যার এজাহারনামীয় আসামি। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে।
সিলেটের ওসমানীনগরে তিন বাসের সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। হাইওয়ে পুলিশ সুপার (সিলেট রিজিয়ন) মো. রেজাউল করিম কালবেলাকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী এনা পরিবহন ও ইউনিক পরিবহনের সঙ্গে গাইবান্ধা থেকে সিলেটগামী শ্যামলী পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনায়েম মিয়া বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
পঞ্জিকার পাতায় আজ পৌষ মাসের ৩০ তারিখ। পৌষের বিদায় বেলায় শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে পড়তে পারে কুয়াশা। এই শৈত্যপ্রবাহ ২-৩ দিন স্থায়ী হতে পারে। আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রাও সামান্য কমতে পারে। আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তাপমাত্রা কমতে পারে। এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টায় সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫। বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে রাজশাহীর সকালের তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮, রংপুরে ১২ দশমিক ৬, ময়মনসিংহে ১৪ দশমিক ২, সিলেটে ১৪, চট্টগ্রামর ১৬ দশমিক ৫, খুলনায় ১২ দশমিক ৫ এবং বরিশালে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় পিকআপ ভ্যানের তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আপন দুই ভাই রয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেললাইনের বোয়ালমারী পৌরসদরের সোতাশি (ধলা হুজুরের বাড়ির নিকট) অরক্ষিত রেলক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা জনতা জুটমিল থেকে কাজ শেষে প্রায় ১৫ জন শ্রমিক একটি পিকআপ ভ্যানে করে বোয়ালমারী পৌরসদরের দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় কালুখালী থেকে ছেড়ে আসা ভাটিয়াপাড়াগামী যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেনটি অরক্ষিত সোতাশি রেলক্রসিং অতিক্রম করার সময় শ্রমিকবাহী পিকআপটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি দুমড়ে-মুচড়ে রেললাইনের পাশে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন শ্রমিক নিহত হন। নিহতরা হলেন— জনতা জুটমিলের শ্রমিক, ময়না ইউনিয়নের বিলকরাইল গ্রামের ছায়ফার মোল্যার দুই ছেলে মো. জব্বার মোল্যা, মো. মুছা মোল্যা এবং একই গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী জাহানারা বেগম। এ ঘটনায় আহত ১০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা বিলায়েত হোসেন বলেন, ‘বাড়ির সামনেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুপুরে খাবার খেতে বসেছিলাম, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে দেখি ট্রেনের সঙ্গে জুটমিলের শ্রমিকদের পিকআপের সংঘর্ষ হয়েছে। তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান, আহত নারী-পুরুষদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।’ ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান ও বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ বিষয়ে রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘কালুখালী থেকে ভাটিয়াপাড়াগামী লোকাল ট্রেনটি অরক্ষিত সোতাশি রেলক্রসিং এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে রওনা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
উত্তরের জেলা নওগাঁর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এক দিনের ব্যবধানে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে জেলাটি। নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য মতে শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ ভোর থেকেই চারপাশ কুয়াশায় ঢাকা। সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। গত দুই দিন সূর্যের দেখা মিললেও আবার বিকেল হলেই তাপমাত্রা নিম্নমুখী হতে শুরু করছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতও বাড়তে থাকে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছিন্নমূল মানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। ভ্যানচালক আলম মিয়া বলেন, গত দুই দিন শীত একটু কম ছিল। আজকে যে শীত শুরু হয়েছে, তাতে কোনো যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল ১০টা বাজলেও কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত দূরে কিছু দেখা যাচ্ছে না। নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সকাল ৯টায় জেলায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গতকাল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে হিসাবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এ জেলার তাপমাত্রা কমেছে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় শীত আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোষাক শ্রমিক দিপুর মরদেহ গাছে ঝোলানোর ‘মূল হোতা’ নিবিড় ইসলাম অনিককে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন চেরাগআলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তাকে ময়মনসিংহে আনা হয়। গ্রেপ্তার অনিক ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলার মধ্য ভাটিবাড়ী এলাকার মো. কালিমুল্লাহর ছেলে। তিনি ফেব্রুয়ারি থেকে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় নিটিং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার আসামি অনিক দিপুকে নির্মমভাবে হত্যা করে রশি দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিষয়টি দেশব্যাপী ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার পরপরই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল ফোনে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারী দল হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি মৃত দিপুকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে টেনে তুলছে। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার রবি চন্দ্র দাসের ছেলে দিপু চন্দ্র দাস। তিনি ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া ডুবালিয়াপাড়া এলাকার অবস্থিত পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানায় লিংকিং সেকশনে কাজ করে আসছিলেন। গত ১৮ ডিসেম্বর ঘটনার রাত পৌনে ৯টার দিকে সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন দিপু চন্দ্রকে কারখানা থেকে বের করে পিটিয়ে মেরে ফেলে। এরপর মহাসড়কের ডিভাইডারের একটি গাছে মরদেহ ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পরদিন ১৯ ডিসেম্বর বিকেলে নিহতের ভাই অপু দাস দেড় শ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, কারখানার ভেতরের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দিপুকে ফাঁসিয়ে দিয়ে মব সৃষ্টি করে এভাবে হত্যা করা হয়েছে।
যশোর: শীত জেঁকে বসেছে যশোরে। টানা শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনে নেমে এসেছে দুরাবস্থা। অনেক বেলায়ও সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে সবথেকে বেশি কষ্টের মধ্যে পড়েছে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের খেটেখাওয়া মানুষ। পাশাপাশি শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের অবস্থাও কাহিল। কনকনে হিমেল হাওয়ায় ঘরের বাইরে বের করা যাচ্ছে না শিশুদের। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের সুপারিশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। আগামী কয়েকদিন যশোরে একই পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। এসময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরো কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যশোর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, যশোরে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) মৌসুমের সর্বনিম্ন ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন যা ছিল দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী কয়েকদিন যশোর জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। বাড়তে পারে বাতাসের গতিবেগ ও কুয়াশা। এসময়ে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা না মিললে শীতের তীব্রতা আরো বেশি অনুভূত হতে পারে। গত কয়েকদিন ধরেই যশোরে তাপমাত্রা ১০ থেকে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বভাসে জানানো হয়েছে। এদিকে, শীতে জেরবার অবস্থা শিশু, বয়স্ক, ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের খেটেখাওয়া মানুষের। অতি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষকেও খুব একটা রাস্তায় বের হতে দেখা যাচ্ছে না। সে কারণে রিকশা, ইজিবাইক চালকেরা যাত্রী সংকটে পড়েছেন। যার প্রভাব পড়ছে তাদের পরিবারের ওপর। যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আলাউদ্দিন আল মামুন বলেছেন, শীতের কারণে ঠান্ডাজনিত রোগবালাই একটু বেশি হয়। সে কারণে এই সময়টাতে সবাইকে বাড়তি সকর্ততা অবলম্বন করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড ঠান্ডায় শিশু-বৃদ্ধদের রোটা ভাইরাসজনিত রোগ, ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট একটু বেশি হয়। এই সময়ে সবাইকেই গরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে। আর পানি যদি পারা যায় হালকা গরম করে খাওয়া দরকার। শীতে ফলমূল, শাকসবজি বেশি করে খাওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘খাবার একটু গরম করে খাওয়া এবং খুব প্রয়োজন না পড়লে বাইরে না বেরোনোই ভালো।’ এছাড়া ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল ও ভ্যাসলিন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ভাঙ্গা–খুলনা মহাসড়কের মুনসরাবাদ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল একটি ট্রাক। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। পরে আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে হতাহতদের পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি, তবে তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘন কুয়াশায় চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী দুই লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টার পর হাইমচর উপজেলা ও হরিণা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে অ্যাডভেঞ্চার-৯ ও জাকির সম্রাট-৩ নামে দুটি লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। সদরঘাট নৌ থানার ইনচার্য সোহাগ রানা বলেন, লঞ্চে সংঘর্ষের ঘটনায় আটজনের লাশ পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। খোঁজ–খবর নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। ঝালকাঠি অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার সদর সার্কেল বাইজিদ ইবনে আকবর বলেন, মেঘনা নদীতে লঞ্চ দুর্ঘটনার ঘটনায় ঝালকাঠিগামী অ্যাডভেঞ্চার ৯ লঞ্চকে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, রাজধানীর সদরঘাট থেকে বরিশালগামী এমভি এডভেঞ্চার-৯ এবং ভোলা থেকে সদরঘাটগামী এমভি জাকির সম্রাট-৩ নামের দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ঘন কুয়াশার মধ্যে পড়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটির বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর এমভি এডভেঞ্চার-৯ বরিশালের দিকে চলে যায় এবং এমভি জাকির সম্রাট-৩ ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। চাঁদপুরে বিআইডব্লিউটিএর পরিদর্শক আব্দুল মান্নান জানান, দুর্ঘটনার পর গভীর রাতে জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে ভেড়ানোর চেষ্টা করলে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা লঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেয়ার হুমকিও দেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লঞ্চের মাস্টার আহত যাত্রীদের নিয়ে ঢাকার দিকে রওনা দেন।
দেশের সাত জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) আবহাওয়ার অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং নীলফামারী জেলার উপর দিয়ে মৃধু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও তা অব্যাহত থাকতে পারে। আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। দ্রুত কমছে তাপমাত্রার পারদ। বাড়ছে শীতের তীব্রতা। উত্তরের হিমেল হাওয়া প্রবাহিত থাকায় জনদুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। এদিকে, আজ শুক্রবার অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় ঠান্ডার অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়া, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী দু-তিন ঘণ্টার মধ্যে দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ২০০ মিটার বা কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম হতে পারে। এসব এলাকার নৌ-যানসমূহকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে, তবে কোনো সংকেত দেখাতে হবে না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠনের খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়ক মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আলোচিত সেই নারী তনিমা তন্বীকে আটক করেছে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে মহানগরীর টুটপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) তৈমুর ইসলাম তন্বীকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোনাডাঙ্গা সার্জিক্যাল সংলগ্ন আল আকসা মসজিদ রোডের ‘মুক্তা হাউজের’ নিচতলায় ভাড়া বাসায় তন্বীর কক্ষে গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব শিকদার। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্তে নেমে ওই কক্ষ থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে মোতালেব শিকদার সেখানে গিয়েছিলেন এবং কার গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এমআর
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।