ভারত এখন রাশিয়ার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছর রাশিয়া থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এমন মন্তব্য করলেন তিনি। এয়ার ফোর্স ওয়ানে শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত এগিয়ে আসছে। তারা এখন ইরান থেকে নয়, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে। আমরা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি, অন্তত ধারণাগতভাবে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেল খুব একটা আমদানি করত না ভারত। তবে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার তেলের দাম কমে গেলে ভারত সে দিকেই ঝুঁকেছিল। গত মাসে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর দেশটির তেল বিক্রি ও রাজস্ব অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণে রাখার ইচ্ছার কথা জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে ভারতের ওপর চাপ বাড়ান। গত আগস্টে ইউক্রেনে শান্তি আলোচনায় মস্কোকে বাধ্য করতে নেওয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করেন ট্রাম্প। উদ্দেশ্য ছিল—রাশিয়ার তেল কেনা থেকে নয়াদিল্লিকে নিরুৎসাহিত করা। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ায় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে। এরপর মার্চে ভেনেজুয়েলার মাদুরো প্রশাসনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে, ভেনেজুয়েলার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। গত বছর একই ধরনের শুল্ক আরোপের হুমকি তিনি ভারতকেও দিয়েছিলেন। এই সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার তেল খাতে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এতে মার্কিন কম্পানিগুলোর জন্য ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল বিক্রি সহজ হবে বলে জানানো হয়। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘বিদ্যমান তেল সরবরাহ প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়ক হবে’ এবং শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে আরো ঘোষণা আসবে। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গত এক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে দফায় দফায় সমন্বিত হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অন্তত ৩৭ ‘সন্ত্রাসীকে’ হত্যার দাবি করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ নিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রদেশটিতে মোট নিহত ‘সন্ত্রাসীর’ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ জনে। এসব অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশের ১০ সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সূত্র ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। শনিবার পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানায়, বেলুচিস্তানের ১২টি স্থানে একযোগে হামলার চেষ্টা চালায় ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে চিহ্নিত একটি গোষ্ঠী। তবে সময়োচিত ও কার্যকর অভিযানের মাধ্যমে সব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, এসব অভিযানে জড়িত ৩৭ সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে। পাকিস্তান বেলুচিস্তানভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে থাকে। ইসলামাবাদের দাবি, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতা তৈরিতে ভারতের মদতে এসব গোষ্ঠী কাজ করে থাকে। রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এখনো চলছে। চলমান অভিযানে আরও সন্ত্রাসী হতাহতের খবর এবং স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গত দুইদিনে প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী অন্তত ৭০ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ‘মনোবল ভেঙে পড়ায় সন্ত্রাসীরা সকালে একাধিক স্থানে হামলার চেষ্টা চালায়। তবে বেলুচিস্তান পুলিশের সাহসী সদস্য ও ফ্রন্টিয়ার কোরের (এফসি) সদস্যরা যৌথভাবে এসব হামলা প্রতিহত করছে এবং এখন পর্যন্ত আরও ৩৭ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।’ ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কারণে কোয়েটা, সিবি ও চামানে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মোবাইল কল সেবা সচল রয়েছে।
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলে একটি খনি ধসে অন্তত দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির উত্তর কিভু প্রদেশের রুবায়া এলাকায় বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত একটি কলটান খনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোমা শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই খনিতে বুধবার ধস নামে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উত্তর কিভু প্রদেশের বিদ্রোহী-নিযুক্ত গভর্নরের মুখপাত্র লুমুম্বা কাম্বেরে মুইসা রয়টার্সকে বলেন, ‘এই ভূমিধসে খনি শ্রমিক, শিশু ও বাজারে আসা নারীরাসহ দুই শতাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও তাদের অনেকেই গুরুতর আহত।’ মুইসা জানান, বর্তমানে প্রায় ২০ জন আহত ব্যক্তি স্থানীয় বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম চলায় মাটি অত্যন্ত নরম ছিল। ভেতরে কাজ করার সময় হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা স্বাধীন সূত্র থেকে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে রুবায়ায় কর্মরত এক খনি শ্রমিক ফ্রাঁক বোলিঙ্গো এএফপিকে বলেন, ‘অনেক মানুষ এখনো খনির ভেতরে আটকা পড়ে আছেন। বৃষ্টির পরপরই ভূমিধস হয়। অনেকেই মাটির নিচে চাপা পড়েছেন, আবার কেউ কেউ এখনো সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে আছেন।’ রুবায়া খনি থেকে বিশ্বের মোট কলটানের প্রায় ১৫ শতাংশ উৎপাদিত হয়। কলটান থেকে ট্যানটালাম তৈরি করা হয়, যা মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, মহাকাশযান ও গ্যাস টারবাইনের মতো উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় শ্রমিকেরা এখানে হাতে খুঁড়ে খনিজ উত্তোলন করে দৈনিক মাত্র কয়েক ডলার আয় করেন। ২০২৪ সাল থেকে খনিটি রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ৪১ জন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যা করার দাবি করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির আন্তঃবাহিনী অধিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, নিহতরা ভারত সমর্থিত ‘ফিতনা আল খারেজি’ এবং ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তানের’ সদস্য। কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের আইএসপিআর শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বেলুচিস্তান প্রদেশে এই মারাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনতা চাইছে, এমন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটি ছিল সেখানে।’ ঘটনাটি আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও সামরিক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ‘মারাত্মক সংঘর্ষে ভারত সমর্থিত যোদ্ধারা জড়িত ছিল।’ যদিও পাকিস্তান এ বিষয়ে কোনো প্রমান দেখায়নি। পাকিস্তানের ডন সংবাদপত্র সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রথম অভিযানে বেলুচিস্তানের হারনাই জেলার উপকণ্ঠে কমপক্ষে ৩০ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নিষিদ্ধ পাকিস্তান তালেবান টিটিপি বা ‘ফিতনা আল খারেজির’ সদস্য। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন জানিয়েছে, ‘বেলুচিস্তানের পাঞ্জগুর জেলায় একটি পৃথক অভিযানে ফিতনা-আল-হিন্দুস্তানের ১১ জন ভারত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে।’ ভারত এখনও পাকিস্তানের এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সেনাবাহিনী আরো জানিয়েছে, ‘ডিসেম্বরে পাঞ্জগুরে একটি ব্যাংক ডাকাতির সময় ব্যবহৃত গোলাবারুদ দ্বিতীয় অভিযানে নিহত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আরো জানিয়েছে, অবশিষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নির্মূল করার জন্য উভয় জেলায় ‘স্যানিটাইজেশন অভিযান’ চলছে।পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের মতে, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, ‘এই অভিযান রাষ্ট্রের অটল সংকল্পকে প্রতিফলিত করে।’ সংবাদপত্রটি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলেছে, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এই চলমান লড়াইয়ে সমগ্র জাতি সেনাবাহিনীর সঙ্গে দাঁড়িয়েছে।
তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে হরমুজ প্রণালির স্থলভাগ, জলতল ও আকাশসীমার ওপর ইরান ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রেখেছে বলে দেশটি জানিয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ আকবরজাদেহ ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া মন্তব্যে বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে এক ইঞ্চিও পিছু হটা হবে না, এবং ইরান এগিয়ে যাবে।’ আকবরজাদেহ বলেন, এই কৌশলগত জলপথের ব্যবস্থাপনা ‘প্রচলিত পদ্ধতির গণ্ডি পেরিয়ে সম্পূর্ণ বুদ্ধিমান ব্যবস্থায়’ রূপ নিয়েছে, যার ফলে সামুদ্রিক, ভূপৃষ্ঠ ও জলতলের সব ধরনের চলাচলের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন পতাকাবাহী জাহাজগুলো প্রণালি দিয়ে পার হতে পারবে কি না—সে সিদ্ধান্তও ইরানই নিয়ন্ত্রণ করে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি চায় না,’ তবে একই সঙ্গে যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ‘নিজেরা যে যুদ্ধ শুরু করবে, তা থেকে কোনো সুবিধা নিতে পারবে না।’ আকবরজাদেহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থলভাগ, আকাশসীমা বা জলসীমা যদি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেগুলোকে ‘বৈরী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, ‘এই বার্তা ইতিমধ্যে আঞ্চলিক পক্ষগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইরানি এই কমান্ডার আরো বলেন, তেহরানের কাছে অতিরিক্ত সক্ষমতা রয়েছে, ‘যা উপযুক্ত সময়ে প্রকাশ করা হবে।’ পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ক্ষেত্রে এই পথ দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং মোট বৈশ্বিক তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন পরিবাহিত প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল ও তেলজাত পণ্যের বড় অংশ এশীয় বাজারে পৌঁছে, যার প্রধান গন্তব্য চীন। ইরানের তেলের একটি বড় অংশও এই জলপথ ব্যবহার করে চীনে রপ্তানি হয়। ইরাকের প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই জলপথে পরিবাহিত মোট তেলের মধ্যে সৌদি আরবের অংশ ৩৫ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০ শতাংশ এবং ইরাকের ২৭ শতাংশ। এ ছাড়া বিশ্বের মোট এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ ব্যবহার করে। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
ইরানের মুদ্রা রিয়াল মঙ্গলবার রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৫ লাখ রিয়ালে দাঁড়িয়েছে বলে ইরানি মুদ্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইটগুলো জানিয়েছে। রিয়ালের ক্রমাগত অবমূল্যায়ন থেকে সৃষ্ট বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার কয়েক সপ্তাহ পর এই পতন দেখা গেল। মুদ্রা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট বনবাস্ট.কমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে রিয়াল তার মূল্যের প্রায় ৫ শতাংশ হারিয়েছে। ইরানের সদ্য নিযুক্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি মঙ্গলবার বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রা বাজার স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে অর্থনৈতিক দুরবস্থাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। এতে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় বৈধতা সংকটে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনী এই অস্থিরতা দমন করে, যা চলতি মাসের শুরুতে স্তিমিত হয়। এই দমন অভিযান ছিল ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বলে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও সিউলের মধ্যে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা অবস্থান রূপান্তর নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া সাগরের দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সম্ভবত স্বল্প-পাল্লার ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ চিফস অব স্টাফ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৩টা ৫০ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির পূর্ব উপকূলের কাছের সাগরের দিকে ছোড়া হয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আনুমানিক ৩৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। জাপানের কোস্ট গার্ড আলাদাভাবে জানায়, তারা উত্তর কোরিয়ার নিক্ষিপ্ত বলে ধারণা করা কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে, যেগুলো কয়েক মিনিট পর পতিত হয়। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, এসব ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। জাপানের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা দপ্তর উত্তর কোরিয়াকে অবিলম্বে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে এগুলোকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে। জাপান এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘উত্তর কোরিয়ার বারবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ আমাদের দেশ, অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ প্রাসঙ্গিক জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন এবং জননিরাপত্তাকে প্রভাবিত করা একটি গুরুতর বিষয়। জাপান উত্তর কোরিয়ার কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এসব কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করেছে।’ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তর কোরিয়া স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও একাধিক রকেট লঞ্চারের পরীক্ষা চালিয়েছে, যেগুলোকে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার হুমকি থেকে আত্মরক্ষার জন্য তাদের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উন্নয়ন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে। ২০২৪ সালে মস্কোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য এসব স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি সরবরাহ করার পর বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আগ্রহ আরো বেড়েছে।
তুষারঝড় ও তীব্র শীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। টেক্সাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নর্থ ক্যারোলাইনা, আরাকানসাস, কানসাসসহ, ম্যাসাচুসেটস, টেনেসিসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসছে মৃত্যুর খবর। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যর রাজধানী নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তার শহরে গত ২ দিনে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে কয়েক জন সড়ক ও অন্যান্য দুর্ঘটনার জেরে মারা গেছেন। বাকিরা মারা গেছেন হাইপোথার্মিয়ায়। ভয়াবহ ঠান্ডায় দীর্ঘ সময় কাটালে তীব্র কাঁপুনি, পানিশূন্যতাসহ অন্যান্য যেসব শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়— সেসব উপসর্গের সমষ্টিকে হাইপোথার্মিয়া বলে। উত্তর মেরু থেকে আসা হিমেল বাতাসের প্রভাবে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এই দেশটির দুই তৃতীয়াংশ এলাকা বর্তমানে পুরু তুষারস্তরের নিচে চাপা পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য ‘কোল্ড অ্যালার্ট’ জারি করেছে মার্কিন আবহাওয়া দপ্তর। দেশটির মোট জনসংখ্যা ৩৪ কোটি ৮৬ লাখের কিছু বেশি। এদিকে ঝড়ো আবহাওয়া ও তীব্র ঠাণ্ডার কারণে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অচল হয়ে পড়েছে অনেকগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। ফলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবায়। লাখ লাখ বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুৎ পরিষেবা পর্যবেক্ষণ সংস্থা পাওয়ার আউটেজ ডট কমের তথ্য অনুসারে, সোমবার পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ৬ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থতিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো খোলা হবে না। সেই সঙ্গে খুব জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত জনগণকে বাড়ির বাইরে বের নাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারনে বিমান চলাচলও স্থগিত আছে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বিমানবন্দরে। দেশটির বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর বরাতে জানা গেছে, গতকাল রোববার বিভিন্ন মার্কিন বিমান বন্দরে বাতিল করা হয়েছে ১৭ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট। গতকাল সোমবার ১০ হাজরেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। করোনা মহামারির পর এই প্রথম ২ দিনে এত বেশিসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। ইরানের ওপর হামলা চালাতেই দেশটির কাছাকাছি এ রণতরি মোতায়েন করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আরও এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল জর্ডানে এবং বি-৫২ বোমারু বিমান কাতারে মোতায়েন করেছে। এছাড়া একাধিক গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা দিয়েছে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার ও অন্যান্য সামরিক যানবাহনের অবস্থান রক্ষণাত্মক শক্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাড এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারি শিগ্গিরই মোতায়েন করা হতে পারে। ইসরায়েলের উচ্চপদস্থ এক সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। স্ট্রাইক গ্রুপটি ১৯ জানুয়ারি স্ট্রেইট অব মালাক্কা অতিক্রম করে বে অব বেঙ্গল-এ প্রবেশ করে। পরে এটি ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে অন্ধকার মোডে চলতে শুরু কর।। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের দিকে একটি আর্মাডা পাঠাচ্ছেন। এছাড়া তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যাতে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু না করে। ট্রাম্প বলেছেন, আমরা অনেক জাহাজ পাঠাচ্ছি, এবং পরিস্থিতি খারাপ হলে ব্যবহার করতে পারি। মুদ্রার অবমূল্যায়নকে কেন্দ্র করে ইরানের গ্রান্ড বাজার এলাকায় শুরু হয় সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। সাম্প্রতিক এ বিক্ষোভে কমপক্ষে ৩ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত এবং অন্তত ১৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। বিক্ষোভ দমনে দাঙ্গাকারীদের ফাঁসি দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরান। তবে, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পরে ইরান প্রায় ৮৪০ জনের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ এক শীতকালীন ঝড় টেক্সাস থেকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হওয়ায় রবিবার ভোরে সাত লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী সাইট পাওয়ারআউটেজ.কম। ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক তুষারপাত ও বরফজমা বৃষ্টির পর যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলের টেনেসি, টেক্সাস, মিসিসিপি ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে আবাসিক ও বাণিজ্যিক—উভয় ধরনের বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই এক লাখের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগহীন ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমানে ভারতের রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। একই সঙ্গে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আদৌ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে বিষয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ভারতের সাবেক এ পররাষ্ট্র সচিব। দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে একথা জানিয়েছে। হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘জামায়াত ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশনে কখনো জিততে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না। অতীতে তারা কখনোই পাঁচ থেকে সাত শতাংশের বেশি ভোট পায়নি। তাদের সেরকম জনসমর্থন নেই।’ শ্রিংলা বলেন, ‘কেবল অনিয়ম হলেই জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে। অনেকেই তাদের (জামায়াত) নির্বাচনে এগিয়ে রাখছে। তারপরও নির্বাচনে অনিয়ম হলেই তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে। নয়তো আসা অসম্ভব।’ তিনি বলেন, ‘যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনা করছেন তারা নিজেদেরকে সেই স্থানে রেখেছেন যে তারা নির্বাচিত হননি। এই সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা জনগণ স্বাগত জানাচ্ছে না। ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে যে সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত, কিন্তু তা ঘটছে না। এর আগে তিনি বলেন, ‘ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতি আপনারা দেখেছেন। আমরা বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাই, যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে তেমন পরিস্থিতি আমি দেখিনি। তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন হবে কি না, সেটিও জানি না। সেখানে নিরাপত্তার উদ্বেগ রয়েছে। নির্বাচন হলেও কী পরিস্থিতিতে হবে, সেটিও দেখতে হবে। অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে, প্রশ্ন রয়েছে।’ হর্ষবর্ধন শ্রিংলা দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ থেকে প্রচুর সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী পশ্চিমবঙ্গে ঢুকছে। রাজনৈতিক ফায়দার জন্য তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এই প্রবণতা ভারতের সুরক্ষা ও ভবিষ্যত উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে।’
জিম্বাবুয়ের দক্ষিণাঞ্চলে ভারি বর্ষণের ফলে সৃষ্ট বন্যায় গাড়ি ভেসে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে নারী-পুরুষের পাশাপাশি দুটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। এক বিবৃতিতে গতকাল শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মাতাবেলেল্যান্ড সাউথ প্রদেশের ফিলাবুসির মুকুলা অঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি টয়োটা নোয়া গাড়ি নদী পার হওয়ার সময় স্রোতের তোড়ে ভেসে যায়। পুলিশ আরো জানায়, নিহতদের মধ্যে সাতজন প্রাপ্তবয়স্ক ও দুজন শিশু রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় নদী ও আশপাশের এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জিম্বাবুয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর প্রভাবে এখন পর্যন্ত ৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর পাশাপাশি সড়ক ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বৈঠকে তিনি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনা করবেন বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা এমন একটি সমাধানে পৌঁছাব, যাতে ন্যাটো খুব খুশি থাকবে এবং আমরাও খুশি থাকব। কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থেই আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এটি জরুরি। গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য তিনি কতদূর যেতে প্রস্তুত— এমন প্রশ্নে ট্রাম্প রহস্যজনক জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা সময় হলে জানতে পারবেন।’ ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তার পরিকল্পনার বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকিও দিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং দেশটির তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ট্রাম্প কিউবা, কলম্বিয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। গ্রিনল্যান্ডে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় দ্বীপটি দখলে নিতে প্রয়োজনে মার্কিন সেনাবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি। পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন এমন সূত্র আগে রয়টার্সকে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ মূলত ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যুক্ত। ১৯৫৯ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড সবচেয়ে বড় পরিসরে সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই তিনি এই উদ্যোগ নিচ্ছেন। ওই বছর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডুইট আইজেনহাওয়ারের আমলে আলাস্কা ও হাওয়াই যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯তম ও ৫০তম অঙ্গরাজ্য হয়। ন্যাটোর শীর্ষ নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের কৌশল জোটের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। ট্রাম্প নিজেও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়ে নিজের ক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। কূটনৈতিক রীতিনীতি ভেঙে ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত বার্তার লেখা প্রকাশ করেন। ওই বার্তায় ম্যাখোঁ দাভোসের পর প্যারিসে জি–৭ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ম্যাখোঁ বার্তায় লিখেছিলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আপনি কী করছেন, আমি তা বুঝতে পারছি না।’ ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা কৌশলগত এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য নানা প্রস্তাব দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি ট্রাম্প। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একটি সম্পাদিত ছবি পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায়— ৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ডে তিনি নিজ হাতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা গেড়ে দিচ্ছেন। বুধবার দাভোসে দেওয়া মূল বক্তব্যে ট্রাম্প দেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। যদিও জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষই অর্থনীতি পরিচালনায় তার ভূমিকা নিয়ে অসন্তুষ্ট। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই বক্তব্যে ট্রাম্প বাড়ির উচ্চমূল্যের সমস্যা মোকাবেলায় একটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমেরিকানরা বাড়ি কেনার অগ্রিম টাকা হিসেবে নিজেদের ৪০১(কে) অবসর সঞ্চয় পরিকল্পনার অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম কাশ্মীর অঞ্চলে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে একজন নিহত হয়েছেন। এতে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের। ইএমএসসি জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। পাকিস্তানের আঞ্চলিক তথ্যমন্ত্রী গোলাম আব্বাস বলেন, পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ গিলগিট-বালতিস্তানে বেশ কয়েকটি মাটির তৈরি ঘর ভেঙে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে পাহাড় থেকে ভারী পাথর গড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সড়কে আঘাত হানে। তিনি আরো বলেন, পাহাড়ি পাথরের আঘাতে কয়েকটি প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং একটি প্রধান মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারি সংস্থাগুলো দ্রুত যন্ত্রপাতি পাঠিয়ে রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে। মন্ত্রী জানান, সড়কে গড়িয়ে পড়া পাথরের আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করা ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রও ক্ষতির মুখে পড়বে বলে রবিবার মন্তব্য করেছেন ফরাসি কৃষিমন্ত্রী অ্যানি জেনেভার। অ্যানি জেনেভার ইউরোপ ১ ও সি নিউজকে বলেন, ‘শুল্কের এই উত্তেজনা বৃদ্ধিতে তারও অনেক কিছু হারানোর আছে, যেমন হারাবে তার নিজের কৃষক ও শিল্পপতিরা।’ ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে ছাড়া বাকিরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক ক্রয়’ নিয়ে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ১ জুন থেকে ওই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। তার দাবি, স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল এই আর্কটিক দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে রবিবার বিকেলে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। জেনেভার বলেন, বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে’। তিনি বলেন, ‘এই প্রতিক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে হবে, কারণ এই উত্তেজনা মারাত্মক হতে পারে—তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও মারাত্মক হতে পারে।’ গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো দখল ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি যোগ করেন, ‘এটি স্পষ্ট যে ইউরোপীয়রা যুক্তরাষ্ট্রকে খেয়ালখুশিমতো চলতে দেবে না।’
মালয়েশিয়ার পেহাংয়ে লরি উল্টে দুই বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত ও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা পামওয়েল বাগানের শ্রমিক ছিলেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে রোমপিন জেলার কামপুং পেরভিরা জয়ার কাছে জালান ফেলদা সেলানচার-ফেলদা রেডং সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এনএসটি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিহত দুজন হলেন মো. কাদের (৩৪) ও মো. ডালিম (৩০)। দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি লরিচালক অক্ষত থাকলেও পেছনে থাকা আরেক শ্রমিক গুরুতর আহত হন। রোমপিন জেলা পুলিশ সুপার শরিফ শাই শরিফ মন্দোই জানান, চারজন বিদেশি শ্রমিক একটি লরিতে করে কীটনাশক বহন করছিলেন। লরির সামনে চালকসহ দুজন এবং পেছনে আরও দুজন অবস্থান করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, লরিচালক একটি গাড়িকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের বাম পাশে উল্টে যায়। এতে সামনের আসনে থাকা মো. কাদের ও পেছনের যাত্রী মো. ডালিম ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিককে সেগামাত হাসপাতালের রেড জোনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুয়াদজাম শাহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও ওই ব্যক্তিকে লরি চালাতে দেওয়ার বিষয়ে গাড়ির মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। চারজনেরই বৈধ ভ্রমণ নথি ও বাগানে কাজের অনুমতিপত্র ছিল বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ঘটনাটি সড়ক পরিবহন আইনে তদন্তাধীন রয়েছে। এই ধারায় দোষ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানার বিধান রয়েছে।
ইরান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরান যে শত শত রাজনৈতিক বন্দির ফাঁসি কার্যকর করা থেকে বিরত হয়েছে, সেটিকে তিনি সম্মান জানান। শুক্রবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের ফাঁসি বাতিল করেছে। তারা যে ফাঁসিগুলো বাতিল করেছে, সেটার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। রিপাবলিকান এই প্রেসিডেন্ট নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ইঙ্গিত দেন যে, ইরানে ৮০০ জনের বেশি মানুষকে ফাঁসি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু এখন তা আর কার্যকর করা হবে না। এপির ওয়াশিংটন প্রতিনিধি সাগার মেঘানি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরান সরকারের প্রতি এই অস্বাভাবিক ধন্যবাদ জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ!’ এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প কয়েক দিন ধরেই ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন যে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভের সময় যদি সরকার গণহত্যা বা গণফাঁসি চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালাতে পারে। তবে বর্তমানে সেই বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত। ট্রাম্পের কাছে বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়, আরব ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা কি তাকে ইরানে হামলার চিন্তা থেকে সরে আসতে প্রভাবিত করেছেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ আমাকে রাজি করায়নি। আমি নিজেই নিজেকে রাজি করিয়েছি। তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের ফাঁসি নির্ধারিত ছিল। তারা কাউকেই ফাঁসি দেয়নি। ফাঁসিগুলো বাতিল করেছে। এটা বড় প্রভাব ফেলেছে।’
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরের বাইরে একটি টাউনশিপে শনিবার ভোরে বন্দুকধারীদের হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মারিকানা এলাকায় গোলাগুলির ঘটনায় সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও ছয়জন পুরুষ, যাদের বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। হামলায় আরো তিনজন আহত হন। ঘটনাটি মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর ঘটে এবং পুলিশ বলছে, এটি এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে এবং এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। সন্দেহভাজনদের ধরতে অভিযান চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আফ্রিকার সবচেয়ে শিল্পোন্নত দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠিত অপরাধচক্রের কারণে সৃষ্ট অপরাধ ও দুর্নীতির সমস্যায় ভুগছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৩ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। গত ডিসেম্বরে আলাদা দুটি গণগুলির ঘটনায় বন্দুকধারীরা একটি হোস্টেল ও একটি বারে হামলা চালায়। এসব হামলায় কয়েকজন শিশুসহ মোট ২৪ জন নিহত হন। শনিবারের হামলাটি কেপটাউনের কেপ ফ্ল্যাটস এলাকায় ঘটে। এলাকাটি গ্যাং সহিংসতার জন্য কুখ্যাত। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই সেখানে দুই হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড নথিভুক্ত হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সৌদি আরব স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সংবাদ সংস্থা এএফপি বরাত দিয়ে ডেইলি সাবাহ এ খবর প্রকাশ করেছে। ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌসম্পদের ওপর পাল্টা আঘাত হানবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরবের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত এড়ানোর কৌশল হিসেবে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও সৌদি আরবের সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকেও এই অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
প্রধান অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরানে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরো বেড়েছে। এর ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই উত্থান দেখা গেছে। জাপানে সম্ভাব্য আকস্মিক নির্বাচনের জল্পনা টোকিওর শেয়ারবাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করেছে। ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে মঙ্গলবার দরপতন ঘটে। বিনিয়োগকারীরা সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মৃদু মূল্যস্ফীতি তথ্য, ব্যাংকগুলোর মিশ্র আর্থিক ফলাফল এবং ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোম পাওয়েলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তসংক্রান্ত উদ্বেগ বিবেচনা করেন। ব্যবসায়ীদের মনোযোগের বড় একটি অংশ বুধবারও ইরানের দিকেই ছিল। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানানো হয়, তেহরানে বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ একশর বেশি ‘শহীদের’ জন্য জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যারা বিক্ষোভের কারণে নিহত হন। ডিএনবি কার্নেগির জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশ্লেষক হেলগে আন্দ্রে মার্টিনসেন বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ইরানে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের দিকে ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছেন, যা দেশটির তেল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি তৈরি করতে পারে।’ শেয়ারবাজার লেনদেনে টোকিও সূচক ১.৫ শতাংশ বেড়ে বন্ধ হয়। একই সময়ে ইয়েনের মান ২০২৪ সালের মাঝামাঝির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি যত দ্রুত সম্ভব একটি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে বুধবার লন্ডন ও প্যারিসের শেয়ারবাজারে সামান্য উত্থান দেখা যায়, তবে ফ্রাঙ্কফুর্টের বাজারে দরপতন ঘটে।ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের বৈধতা নিয়ে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলন দমনে যদি কর্তৃপক্ষ ফাঁসি কার্যকর করা শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে। মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি এমন কিছু করে, আমরা খুব শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাব।’ বুধবার থেকে ফাঁসি কার্যকর হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিও ক্লিপে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা শুরু করেছে। আর এখন ফাঁসির কথা বলছে। তাহলে দেখা যাক, এর পরিণতি তাদের জন্য কেমন হয়।’ এই সাক্ষাৎকারের সময় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মিশিগানে ছিলেন। সেখানে তিনি একটি উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন এবং অর্থনীতি নিয়ে ভাষণ দেন। ভাষণে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আগের বার্তার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইরানের বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘সহায়তা আসছে’। তিনি আরো বলেন, ইরানে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা কত—তা এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি নানা সংখ্যা শুনছি। দেখুন, একটি মৃত্যুও অনেক বেশি। কিন্তু কোথাও কম সংখ্যা শুনছি, আবার কোথাও অনেক বেশি।’ পরে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, তিনি শিগগিরই ইরান পরিস্থিতি নিয়ে একটি ব্রিফিং পাবেন। তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের মাত্রা বড় বলেই মনে হচ্ছে, তবে এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না। ২০ মিনিটের মধ্যেই জানব—এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’ এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীরা নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে—যে সীমা ইতোমধ্যেই কয়েক দিন আগে অতিক্রম করা হয়েছে। নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) মঙ্গলবার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৪ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করতে পারে—এমন আশঙ্কাও বেড়েছে। তেহরানের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে গ্রেপ্তার কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’ বা ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলা করা হবে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভিন্নমত দমন ও ভীতি সৃষ্টির জন্য কর্তৃপক্ষ আবারও দ্রুত বিচার ও নির্বিচার মৃত্যুদণ্ডের পথে হাঁটতে পারে—এমন উদ্বেগ বাড়ছে।’ আইএইচআর বিশেষভাবে এরফান সোলতানি (২৬) নামের এক যুবকের মামলার কথা উল্লেখ করেছে। গত সপ্তাহে তেহরানের উপশহর কারাজে গ্রেপ্তার হওয়া সোলতানিকে ইতোমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তার পরিবারের একটি সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, তাকে বুধবারের মধ্যেই ফাঁসি দেওয়া হতে পারে।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।