জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সংঘটিত দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম পৃথক দুই মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। মামলা দুটি দায়ের করা হয় মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন এবং সিএনজি অটোরিকশা চালক সবুজ হত্যার ঘটনায়। উভয় ঘটনাই জুলাই আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় ঘটে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা এই দুই হত্যা মামলায় মোট ৬৪ জন আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা চার্জশিট আমলে নেন আদালত। চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জন পলাতক রয়েছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ ও কাইয়ুম হোসেন নয়ন। তারা জানান, আসামিরা পলাতক থাকায় আদালতের কাছে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পলাতক থাকার কারণে দুই হত্যা মামলাতেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির অভিযানে দেশিয় অস্ত্রসহ আতিক হাসান (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বিজিবি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে করে পাটগ্রাম থানায় সোপর্দ করেছেন। এর আগে ভোরে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ পঁয়ষট্টিবাড়ি বিওপির একটি টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তার আতিক হাসান পাটগ্রামের সীমান্তপাড়া এলাকার মো. বজলার রহমানের ছেলে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত মেইন পিলার-৮৪৬ এর কাছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আউলিয়ার হাট নামক স্থানে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে দেখে অভিযান চালায় বিজিবি। এসময় আতিক হাসানকে আটক করা সম্ভব হলেও তার সঙ্গে থাকা আরও দুইজন পালিয়ে যান। আটক আতিকের কাছ থেকে ২ ফুট ৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের একটি ছুরি এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে চোরাচালান করতে গিয়ে তিনি বিজিবির হাতে ধরা পড়েন। অভিযান চলাকালীন পালিয়ে যাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন— মো. জুলফিকার আলী (৩৫) ও মো. রহিদুল (৪২)। বিজিবি জানিয়েছে, তাদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, বিজিবি আতিক হাসানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে থানায় দিয়েছেন। তাকে লালমনিরহাট জেলহাজতে পাঠানো হবে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের কনিষ্ঠ কন্যা ফোবি অ্যাডেল গেটস। ২৩ বছর বয়সী এই তরুণী তার ব্যক্তিগত জীবন আর পেশাগত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রায়ই থাকেন আলোচনায়। এবার ফের শিরোনামে এলেন প্রেমের খবর নিয়ে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছেন ফোবি। তবে এই প্রেম একেবারে নতুন নয়; শৈশব থেকেই গড়ে উঠেছে তাদের সম্পর্কটি। ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেন ফোবি। ছবিতে দেখা যায়, তার শৈশবের বন্ধু চ্যাজ ফ্লিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ধরা দিয়েছেন বিল গেটস কন্যা। ক্যাপশনে শুধু একটি লাভ ইমোজি! আর তাতেই নেটদুনিয়ায় শুরু আলোচনা। পোস্টটি প্রকাশের পরই অনুরাগীদের মন্তব্যে ভরে ওঠে কমেন্ট বক্স। কেউ অভিনন্দন জানাচ্ছেন, কেউ আবার মজা করে লিখেছেন, ‘পুরনো ভালোবাসা যেন এবার স্থায়ী হয়।’ টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফোবি ও চ্যাজ একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। সেই সময় তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের পাশাপাশি স্বল্প সময়ের জন্য সম্পর্কও ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার সেই পুরনো সম্পর্কই নতুন রূপে ফিরে এসেছে। এক সাক্ষাৎকারে ফোবি বলেছিলেন, ১৫ বছর বয়স থেকে চ্যাজকে চেনেন তিনি। এর আগে ব্রিটিশ সংগীত কিংবদন্তি পল ম্যাককার্টনির নাতি আর্থার ডোনাল্ডের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়েছিলেন ফোবি। ২০২৩ সালের শেষ দিকে তাদের প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়, এরপর ২০২৪ সালের মাঝামাঝি ফোবি নিজেই নিশ্চিত করেন বিষয়টি। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষ দিকে সেই সম্পর্কে ইতি টানে দুজন। এদিকে ব্রেকাপের এক মাস বাদেই নতুন সম্পর্কের ইঙ্গিত দিলেন এই ধনকুবেরের কন্যা; যা নিয়ে তার ভক্ত মহলে ব্যাপক আলোচনা। ফোবি বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফ্যাশন শপিং টুল ‘ফিয়া’ নিয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি একজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাগলার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন। তাৎক্ষণিক পুলিশ নিহত একজনের নাম ঠিকানা জানাতে পারলেও অপর ৪ জনের নাম ঠিকানা জানাতে পারেনি। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী জাগলার চর গ্রামে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে, আলাউদ্দিন (৪০) উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের ছেরাং বাড়ির মহিউদ্দিনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাগলার চরের জমি সরকার এখন পর্যন্ত কাউকে বন্দোবস্ত দেয়নি। এ সুযোগে ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী জাগলার চরের বেশ কিছু জমি বিক্রি করে। এরপর সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী জাগলার চরের জমির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। একপর্যায়ে আলাউদ্দিন বাহিনী আরও বেশি দামে কিছু জমি বিক্রি করে। এরপর দুটি গ্রুপ আলাদা আলাদাভাবে চরের জমি বিক্রির চেষ্টা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, চর দখলে যুক্ত ডাকাত আলাউদ্দিন সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম, আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার, বিএনপি নেতা নবীর ঘনিষ্ঠ। তারা কোপা সামছু বানিহীকে চর থেকে বিতাড়িত করে চরের জমি দখলে নিতে ডাকাত আলাউদ্দিনের বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত করে। এ নিয়ে দুটি পক্ষ একাধিকবার বিরোধে জড়ায়। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে কোপা সামছু ও আলাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এতে অপর পক্ষের ছোড়া গুলিতে আলাউদ্দিনসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। ৪ জনের মরদেহ ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তেও পারে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিমের মুঠোফোনে একাধিক কল করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হাতিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, একটি মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। চারটি মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। ময়না তদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
রাজধানীর জিগাতলা থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী জান্নাত আরা রুমির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ (ধানমন্ডি থানা) সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে জিগাতলার জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, জিগাতলা পুরান কাঁচা বাজারের পাশে একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রুমি পারিবারিকভাবে মানসিক চাপে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। জান্নাত আরার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেজে পোস্ট দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা। সেখানে তিনি জানান, গত মাসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জিয়ার কবর খুঁড়তে চাওয়া রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজনকে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিয়েছিলেন জান্নাত আরা। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ জান্নাত আরাকে সাইবার বুলিং, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছিলেন বলে তারেক রেজা তার পোস্টে জানান। ওই পোস্টে তারেক রেজা আরও লেখেন, এ কারণে জান্নাত আরা রাতে আত্মহত্যা করেছে।
ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে বাসায় আটকে রেখে ধর্ষণ করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গায়ক নোবেলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। গত ২৯ নভেম্বর ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুরাদ হোসেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) ইলামনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আগামী ২৮ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্রটি উপস্থাপন করা হবে। পরে এ সংক্রান্ত মামলা বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে। নোবেলের আইনজীবী মোসতাক আহমেদ জানান, এই ধর্ষণ মামলার বাদীকে নোবেল বিয়ে করেছেন। বর্তমানে তারা সংসারও করছেন গত ১৯ মে নোবেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন ইডেন কলেজের ওই ছাত্রী। নোবেলকে গ্রেফতার করার পর কারাগারে পাঠানো হলে বিয়ের শর্তে তিনি জামিন পান। গত ১৯ জুন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে নোবেল ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন। এই মামলায় অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে নোবেলের পরিচয় হয় এবং এরপর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর নোবেল তার স্টুডিও দেখানোর কথা বলে ছাত্রীকে ডেমরার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে আটকে রাখেন, মোবাইল ফোন ও টাকা কেড়ে নেন। এরপর তাঁকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করেন। কথামতো না চললে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখান। আরও অভিযোগ করা হয়, ওই তরুণীকে ছয় মাস ধরে ডেমরার ওই বাসায় আটকে রাখা হয় এবং প্রায়ই মারধর করা হতো। দু-তিন জনের সহায়তায় নোবেল বাদীকে চুল ধরে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। ওই ঘটনার ভিডিও ছড়ালে বাদীর বাবা-মা তাকে চিনতে পারেন। এরপর পরিবার পুলিশের সহায়তায় তাকে ১৯ মে উদ্ধার করে এবং পুলিশ নোবেলকে গ্রেফতার করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নোবেল বাদীকে আটক রেখে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে রাখেন। বাসায় না থাকলে ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। নোবেল নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বিভিন্ন সময় তাকে মারপিট করেছেন। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বাদীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আসামি নোবেল বর্তমানে জামিনে আছেন। তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে আরও বলেছেন, বাদীকে মারধর ও ধর্ষণে আসামিকে আরও কয়েকজন সহযোগিতা করেছেন। তবে তাদের নাম-ঠিকানা উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে তাদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা সম্ভব হলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।