দেশজুড়ে আলোচনায় থাকা নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের ঘটনায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) তাদের দাপ্তরিক নম্বরে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) একাধিক বিদেশি নম্বর থেকে তাদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে গালাগাল ও হুমকি দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সুপারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফেসবুকের ওই অডিওতে শোনা যায়, এসপি ফোন রিসিভ করার পর থেকে অপ্রকাশযোগ্য ভাষা ব্যবহার শুরু করা হয় অপর প্রান্ত থেকে। বলতে শোনা যায়, ‘এই... কীড করছস, সাদ্দামের লগে কী করছস...’ কল রিসিভ করা পুলিশ সুপারকে কিছু বলারই সুযোগ দেয়নি অপর প্রান্ত থেকে। ক্রমাগত অপ্রকাশযোগ্য শব্দ ব্যাবহারের সঙ্গে সঙ্গে বলতে শোনা যায়, “তুই কি ওর পোলারে আইনে দিবি....’ তুই অ্যারেস্ট করায় দিসছ... তুই জানস না... তোর পোলা-মাইয়াও যেন তোরে না দ্যাহে....।” ভিডিওতে থাকা অডিও কথোপকথন সঠিক বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ফেসবুকে একাধিক আইডি ও পেজ থেকে এই ভিডিও ছাড়া হচ্ছে। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী হুমকি দিয়ে বিভিন্ন বিদেশি নম্বর থেকে ফোন পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনও বিভিন্ন নম্বর থেকে হুমকি পেয়েছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি মোটেই বিচলিত নই। যে প্রসঙ্গ নিয়ে এমন করা হচ্ছে, সেখানে প্রশাসন তাদের পাশে ছিল, সহযোগিতা করেছে। যাই হোক কিছু বট নম্বর দিয়ে হয়তো এমন করা হয়েছে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী সীদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানান, তিনি কিছু ফোন কল পেয়েছেন। কারা এগুলো করছে, তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির সন্তান ও হাদির ভাইকে খুন করা হতে পারে এমন আশঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জানুয়ারী) রাতে শাহবাগ থানায় জিডি করেন ওসমান হাদির মেঝ ভাই ওমর বিন হাদি। জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, হাদির ভাই নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছেন। আমরা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি খুন হওয়ার পর থেকে আমি ও হাদির সন্তানকে খুন করা হতে পারে এমন আশঙ্কা করছি। কারণ, যেহেতু হাদির খুনি চক্র গ্রেফতার হয়নি, সেহেতু হাদির খুনি চক্রে যে কোনো সময় যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। যার কারণে আমি ও হাদির সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ ‘এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি থেকে আমাদের পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং আমাকে হত্যা করতে বিভিন্ন রকম হুমকি দিচ্ছে। এমতাবস্থায় আমি ও শহীদ হাদির সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
ঢাকার কেরানীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত বিএনপি নেতা হাসান মোল্লা (৪২) মারা গেছেন। তিনি উপজেলার হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত হলি ফ্যামেলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে হাসান মোল্লার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে হলি ফ্যামেলি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেলে তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে একটি ওয়াজ মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে হযরতপুর ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের ঢালিকান্দী এলাকায় হাসান মোল্লাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুইজন ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিটি তার তলপেটে লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তখন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। ওসি এম সাইফুল আলম আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
রংপুরে ‘রেকটিফায়েড স্পিরিট’ পানে অসুস্থ তিনদিনে মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন রেকটিফায়েড স্পিরিট বিক্রির অভিযোগে কারান্তরীণ ছিলেন। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেশ কয়েকজন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলা গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার প্রয়াত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলামের মৃত্যু হয়। এর আগে দুপুরে মারা যান মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর আগে রোববার মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় এক মাদক কারবারির বাড়িতে কয়েক ব্যক্তি রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করেন। এতে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হন। তাদের মধ্যে ওই দিনই তিনজন মারা যান। তারা হলেন-উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের প্রয়াত রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া এবং রংপুর সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জান্নাত আলি। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় ওই এলাকার জয়নুল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাকে মাদক কারবারি বলছে পুলিশ। পরে বুধবার সকালে তারও মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানান, জয়নুল আবেদীন চোলাই মদ ও স্পিরিট বিক্রি করতেন। রোববার রাতে তার বাড়ি থেকে মদ কিনে পান করার পরে বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে তারা মারা যান। ঘটনার পর রেক্টিফাইট স্পিরিট বিক্রির অভিযোগে জয়নুল আবেদীনকে আটক করে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ। জেলহাজতে থাকা অবস্থায় বুধবার সকালে মৃত্যু হয় জয়নুলের। এতে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এ ঘটনায় মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় নগরের হাজিরহাট থানার বালারবাজারে স্পিরিট খেয়ে মানিক চন্দ্র রায় (৬০) নামে আরও একজন প্রাণ হারিয়েছেন। হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মানিক। তার বাড়ি সদর কোতোয়ালি থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ায়। বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার জানান, এ ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলায় ছয়জন, আর বাকিরা অন্য উপজেলায় মারা গেছেন। এসব ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার এবং সদর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল গফুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন বলেন, স্থানীয় একটি হোমিওপ্যাথিক চেম্বার থেকে রেক্টিফাইট স্পিরিট সংগ্রহ করে থাকেন মাদক ব্যবসায়ীরা। নগরের একটি হোমিও চেম্বারে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। দোষীদের সনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা শুটার ফয়সাল দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। ঘটনার পর ফয়সালসহ আরও একজন ময়মনসিংহ হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। তাদের মধ্যে ৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং আগামী ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।