ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ফেসবুকে কিছু ছবি পোস্ট করেন। এতে তিনি বিভিন্ন দল-মতের ব্যক্তিদের নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের উদাহরণ তুলে ধরেন। মোনামির পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো: ‘যদিও নিচের ছবিগুলি তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করে, তাদের নেতাদের মধ্যে একটি অদ্ভুত মিল রয়েছে, প্রত্যেকেই নারী এবং মহিলা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে অশ্লীল, অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। এর চেয়েও অদ্ভুত বিষয় হলো, নির্বাচনকে সামনে রেখে, এই দলগুলোই আবার প্রায়শই ‘নারী কার্ড’ ব্যবহার করে সহানুভূতি, আন্তরিকতা এবং নারী অধিকারের প্রতি অঙ্গীকারের একটি চিত্র তুলে ধরছে। সম্ভবত আরও বেশি উদ্বেগজনক বিষয় হল এই যে, এসব হয়রানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এবং সুসংহত প্রতিরোধের অভাব। দেখা যাচ্ছে, আমাদের ক্ষোভ (এর মধ্যে নারীবাদীদেরও ধরবেন) নীতিগতভাবে নয়, বরং রাজনৈতিক সুবিধার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। দলীয় নেতা, সমর্থক এবং সহানুভূতিশীলরা প্রায়শই স্পষ্টতই নীরব থাকেন যখন তাদের নিজস্ব দলের ভেতর থেকে নারী বিদ্বেষ আসে। অনেক ক্ষেত্রে, তারাও এমনকি সমন্বিত আক্রমণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন যা নারী রাজনীতিবিদ, দলীয় সহযোগী, এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলির সঙ্গে দূরবর্তীভাবে যুক্ত নারীদের জীবনকে অসহনীয় করে তুলছে। দুর্ভাগ্য আমাদের এই যে, স্বঘোষিত মধ্যপন্থি দলগুলি, যারা গর্বের সঙ্গে নিজেদেরকে ‘নারী-নিরাপদ’ বা ‘নারী-বান্ধব’ রাজনীতির চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রচার করেন, বারবার তাদেরকেও নারী হয়রানির সঙ্গে জড়িত থাকতে বা সমর্থন করতে দেখা গেছে। যেমন- নারীদের পোশাক বা হিজাব/নেকাবের পছন্দ, ব্যক্তিগত জীবন, এমনকি রাজনীতিতে নারীদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-উৎপাদিত ছবি ভিডিও প্রচার করা... তবুও এই ধরনের কর্মকাণ্ড খুব কমই সহ-মধ্যপন্থি বা বামপন্থিরা নিন্দা জানায়। পরিবর্তে, একটি সম্মিলিত নীরবতা রয়েছে, রয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘চোখ বন্ধ করে রাখা’। তবে, যখন কোনো ডানপন্থি বা ইসলামপন্থি ব্যক্তির কাছ থেকে একই ধরনের আপত্তিকর মন্তব্য আসে, তখন প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিক এবং জোরালো হয়। প্রতিবাদ শুরু হয়, বিবৃতি জারি করা হয়, ঘোষণা দেওয়া হয় এবং নৈতিক ক্ষোভ দ্রুত সংগঠিত হয়। যদিও এই ধরনের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ এবং নিন্দা করা উচিত, এই ক্ষোভের নির্বাচনি প্রকৃতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে: কেন কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে এলে নারী-বিদ্বেষ অসহনীয়? যদি নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা, অংশগ্রহণ এবং সম্মানের প্রতি অঙ্গীকার সত্যিকারের এবং আন্তরিক হয়, তাহলে তা অবশ্যই সকল ক্ষেত্রেই হতে হবে। যতক্ষণ না সব রাজনৈতিক দলের নারীদের প্রতি হয়রানি, গুন্ডামি, অবমাননাকর আচরণের জন্য জবাবদিহি করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নারী-বান্ধব রাজনীতির দাবি এবং নারীর ক্ষমতায়নের প্রতিশ্রুতি অর্থপূর্ণ এবং বাস্তব নীতির পরিবর্তে ফাঁকা স্লোগানই থেকে যাবে।
চলতি বছর মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এসএম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা সূচি প্রকাশিত হয়। সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে ২০ মে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ৭ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে শেষ করতে হবে। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও গত বছর এবং এ বছর তার ব্যত্যয় ঘটেছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নির্দেশাবলী ১. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কক্ষে আসন নিতে হবে। ২. প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে হবে। ৩. প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। ৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট থেকে পরীক্ষা আরম্ভের কমপক্ষে তিনদিন আগে সংগ্রহ করবে। ৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়সমূহ জাতীয় শিক্ষক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এর নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাতে হবে। ৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে তার পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না। ৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যাবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে। ৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে না। ৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে পরীক্ষার্থীদের মাঝে প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন। ১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে। ১১. কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি/পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে এবং ব্যবহার করতে পারবে না। ১২. সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যাবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহার করতে হবে। ১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা স্ব স্ব কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ১৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে দৈনিক পত্রিকায় এবং শিক্ষা বোর্ডসমূহের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া, তারিখ ও সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় এমন জটিলতা বলে জানিয়েছে এনসিটিবি চেয়ারম্যান। তিনি আরও বলেন, পিপিআর শর্ত অনুযায়ী আমাদেরকে ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ পর্যন্ত সময় দিতে হয়েছে। মাধ্যমিকের সব বই ১৫ জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষার্থীরা পাবে বলে জানিয়েছিল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। কিন্তু কথা রাখতে পারেনি এনসিটিবি। মাধ্যমিকের নতুন বই পৌঁছায়নি শিক্ষার্থীদের হাতে। এখন সব শিক্ষার্থীর কাছে বই পৌঁছে দিতে আরও ১৫ দিন সময় চাইছে তারা। গত ২৮ ডিসেম্বর এনসিটিবির অডিটরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে চলতি বছরের পাঠ্যপুস্তকের সফট কপি অনলাইনে উন্মুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা। তখন প্রশ্ন উঠে বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণে বিলম্ব হওয়ার চাপ সামলাতেই কি এত আয়োজন করে সফটকপি ওয়েবসাইটে আপলোড। তখন শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই শতভাগ বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাবে। কিন্তু এখনও প্রায় এক কোটি বই পৌঁছায়নি স্কুলে। এতে শিক্ষাবর্ষের প্রথম মাস অনেক বিষয়ের বই ছাড়াই শেষ করতে হবে শিক্ষার্থীদের। এনসিটিবি বলছে, যথাসময়ে বই দিতে প্রিন্টার্সগুলোকে তাগাদা দিচ্ছেন তারা। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, আমরা একদম ছোট পর্যায়ে কাজটা শুরু করেছিলাম। এ সময় একটি প্রেস থেকে এসে জানানো হয়, রাস্তা সংস্কার কাজ চলায় তাদের প্রেসের ট্রাক ঢুকতে পারছে না। তখন আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলি—কাজটি এক মাস পিছিয়ে দিলে জাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। সিটি করপোরেশন বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাজের সময় পিছিয়ে দেয়। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, গত দেড় দশকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কখনোই শতভাগ বই পৌঁছানো যায়নি। কখনো-কখনো মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত সময় লেগেছে। সেই অর্থে এবার ৩০ জানুয়ারির মধ্যে বই গেলেও তা এনসিটিবি'র জন্য নতুন মাইলফলক। মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, যদি জানুয়ারির মধ্যে সব বই পৌঁছে দেয়া যায় তাহলে এনসিটিবির জন্য একটা বড় অর্জন হবে। গুণগত মান নিশ্চিত করতে আমরা একাধিক ইন্টারভেনশন নিয়েছিলাম। প্রতিটি প্রেসে আমাদের একজন করে মনিটরিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন; কোথাও কোথাও সেই সংখ্যা দুইজন বা তিনজনও ছিল। তারা কার্যত ২৪ ঘণ্টাই কাজ করেছেন। এই সময়ে তারা কোনো ছুটি নেননি। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করায় এমন জটিলতা বলে জানিয়েছে এনসিটিবি চেয়ারম্যান। তিনি আরও বলেন, পিপিআর শর্ত অনুযায়ী আমাদেরকে ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখ পর্যন্ত সময় দিতে হয়েছে। উল্লেখ্য, এবার সাধারণের সাথে মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে ৩০ কোটি আড়াই লাখ বই দেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো ও সুপারিশমালা চূড়ান্ত রিপোর্টে গুরুত্ব না পাওয়ায় জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ থেকে পদত্যাগ করেছেন কমিশনের খণ্ডকালীন সদস্য অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি পদত্যাগের আটটি কারণ তুলে ধরেন: অধ্যাপক মাকছুদুর রহমান জানান, অর্থ উপদেষ্টার মৌখিক নির্দেশ ও বেতন কমিশন চেয়ারম্যানের লিখিত নির্দেশনা মোতাবেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়নে চার সদস্যের একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছিল। উক্ত কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাস্তবায়নযোগ্য ও ন্যায়সংগত মোট ৩৩টি প্রস্তাবনা পেশ করে। এই প্রস্তাবনাগুলোতে বেতন-ভাতাকে কাজের মান বা পারফরম্যান্সের (Performance) সাথে সম্পৃক্ত করার সুনির্দিষ্ট সুপারিশ ছিল। অধ্যাপক মাকছুদুর অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সাব-কমিটির রিপোর্টটি কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভায় আলোচনার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কমিশনের সর্বশেষ সভায় চূড়ান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত বিষয়গুলো সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবনাগুলো বিবেচনায় না নেওয়া দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য বড় বাধা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হয়েও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো অবদান রাখতে না পারায় আমি কমিশন থেকে পদত্যাগ করাকে উত্তম মনে করছি।’ আজ তিনি অর্থ সচিব বরাবর তার আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাকে মনোনয়ন প্রদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে। নির্দেশনা সম্বলিত চিঠি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীকে নির্বাচন দায়িত্ব দেয়া হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নেয়া জন্য বলা হলো।
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। শিক্ষার্থীরা ইন্দিরা রোডের মূল রাস্তা ও ইন্দিরা রোডের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ডাউন র্যাম্পের মুখ বন্ধ করে অবস্থান নিয়েছেন। এতে আশপাশের সড়কগুলোতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ইন্দিরা রোডের মুখে গাড়ি ডাইভারশন করে বিজয় সরণির দিকে পাঠাচ্ছে এবং এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ইন্দিরা রোডের র্যাম্প বন্ধ রাখতে বলেছে। ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। এতে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা কর্মসূচি শেষ করে দ্রুত সড়ক ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ফল প্রকাশের ধারাবাহিকতায় ৩১ নম্বর কেন্দ্র, আইন বিভাগের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। নিজ বিভাগের ভোটকেন্দ্রে শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন ভিপি প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম। ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ২৮৯ ভোট, যেখানে ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী একেএম রাকিব পেয়েছেন ১২০ ভোট। ফলে নিজ বিভাগে রিয়াজুল ইসলাম ১৬৯ ভোটের বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। জিএস পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত আব্দুল আলিম আরিফ পেয়েছেন ২২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ৫২ ভোট। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ইভান পেয়েছেন ৯৮ ভোট। এ পদেও শিবির প্রার্থী ১৬৯ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এজিএস পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত মাসুদ রানা পেয়েছেন ১৬৭ ভোট, বিপরীতে ছাত্রদল সমর্থিত তানজিল পেয়েছেন ১২১ ভোট। এখানে ব্যবধান ৪৬ ভোট।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।