ধানের ভরা মৌসুমে দিনাজপুরে আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হচ্ছে সুগন্ধি ধান-চাল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধানের ফলন কম হওয়ায় প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। দেশের অন্যতম চাল প্রধান জেলা দিনাজপুর। বিশেষ করে সুগন্ধি চালের জন্য খ্যাতি রয়েছে এ জেলার। দেশের বাজারে প্রায় সবটুকু সুগন্ধি চালের চাহিদা পূরণ করে উত্তরের জেলা দিনাজপুর। এই জেলায় সুগন্ধি চিনিগুড়া চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। যা গত বছরের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি। শুধু তাই নয়, পিঠা বানানোর চালের গুড়ার জন্য চিনিগুড়া চালের খুদও বিক্রি হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে। গত বছর ৩০-৩৫ টাকায় খুদ বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। অপরদিকে ব্রি-৩৪ (চিনিগুড়া) ধানের জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বস্তাপ্রতি বিক্রি হচ্ছে গত বছরের তুলনায় ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি দামে। ক্রেতা আঞ্জুমান আরা বলেন, গত বছর ৩০-৩৫ টাকায় খুদ বিক্রি হলেও এবার ৬০ টাকা দরে কিনতে হেচ্ছ। এতে করে পিঠার বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। দিনাজপুরে সুগন্ধি ধান-চালের আকাশছোঁয়া দাম কৃষক আব্দুর রহমান জানান, গত বছর এক বিঘায় (৪৮ শতাংশ) ধান হয়েছিল কমপক্ষে ২০ মণ। এবার সেই জমিতে ধান হয়েছে ১২ থেকে ১৪ জন। বৈরী আবহাওয়ায় ধানের গাছ পড়ে গিয়ে ফলনে বিপর্যয় ঘটেছে। সে কারণে ধানের দাম বেশি। ধানের দাম বেশি হলেও ফলন কম হওয়ায় কৃষকের কোনো লাভ হয়নি। ধানের বাজারে সরবরাহ কম এবং দাম বেশি থাকার কারণেই প্রভাব পড়েছে চালে। ধানের ভরা মৌসুম থেকেই বেশি দামে ধান কিনতে হচ্ছে বলে দাবি মিল মালিকদের। ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ জানান, গত বছর এই সময়ে ব্রি-৩৪ (চিনিগুড়া) ধান কিনেছিলেন ৭৬ কেজির বস্তা ৪২০০ থেকে ৪৩০০ টাকায়, এবার সেই ধান কিনতে হচ্ছে ৫৭০০ থেকে ৫৮০০ টাকায়। সে কারণে বাজারে প্রভাব পড়েছে। আরেক ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, এবার ধানের উৎপাদন কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কম। তাই বেশি দামে ধান কিনে বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সবজি বীজ খাতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্র (এসএসি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণ কর্মশালা “সার্ক সদস্য দেশসমূহে সবজি ফসলের হাইব্রিড বীজ উৎপাদনে সাম্প্রতিক অগ্রগতি” সোমবার (২৪ নভেম্বর ২০২৫) উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণকারীদের হাইব্রিড সবজি বীজ উৎপাদনে ব্যবহৃত সর্বশেষ কৌশল সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা। সার্কের বিভিন্ন দেশ থেকে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নিচ্ছেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাইব্রিড বীজ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসম্মত বীজ উৎপাদন এবং জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, সহযোগিতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং সক্ষমতা উন্নয়নই উচ্চমানের, জলবায়ু-সহনশীল হাইব্রিড সবজি বীজ উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রশিক্ষণের লক্ষ্য ও কারিগরি সেশনসমূহ উপস্থাপন করে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ (ফসল) ড. সিকান্দার খান তানভীর জানান, বিভিন্ন সবজি ফসলের হাইব্রিডায়ন পদ্ধতি, প্রক্রিয়াজাতকরণ কৌশল এবং বীজ বিপণনসহ গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি বিষয়গুলো এ প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সদস্য দেশগুলোর বীজ উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের কৃষি গবেষণা পরিষদের (আইসিএআর) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. সুধাকর পাণ্ডে। তিনি বলেন, হাইব্রিড বীজ উৎপাদনের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ফলন বৃদ্ধি, গুণগত মান উন্নয়ন এবং রোগ–পোকার আক্রমণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবজি উৎপাদন বৃদ্ধিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর তিনিও গুরুত্ব দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে সদস্য দেশগুলো যখন সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী। তিনি বলেন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, দেশভিত্তিক উপস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা হাইব্রিড বীজ উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণে আরও গতি আনবে। প্রধান অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পিপিসি) ড. মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, হাইব্রিড সবজি বীজ ফলন, গুণগত মান এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। তবে মানসম্মত বীজের সীমিত প্রাপ্যতা, জলবায়ুগত চাপ এবং প্রশিক্ষিত জনবলের ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সেশনে অংশগ্রহণকারীরা অঞ্চলের হাইব্রিড সবজি বীজে আমদানি-নির্ভরতা, গবেষণা–প্রসার (এক্সটেনশন) ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বীজ সার্টিফিকেশন ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষজ্ঞরা যৌথ গবেষণা, জার্মপ্লাজম বিনিময়, সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং সমন্বিত বীজ মানদণ্ড প্রণয়নের ওপর জোর দেন, যাতে আঞ্চলিক বীজ নিরাপত্তা শক্তিশালী হয়।
আখের নতুন জাত : প্রতি একরে এই জাতের সম্ভাব্য সর্বোচ্চ উৎপাদন ১২১ দশমিক ৫২ মেট্রিক টন। সর্বোচ্চ চিনি ধারণক্ষমতা ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। দেশের চাষিরা এখন উচ্চফলনশীল আখের যে জাতগুলোর চাষ করেন, তার চেয়ে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি উৎপাদনক্ষমতার জাত উদ্ভাবনের দাবি করেছে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই)। এরই মধ্যে রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর, গাজীপুর ও পাবনার ঈশ্বরদীতে আখের এই জাতের পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়েছে। এই জাতের নাম দেওয়া হয়েছে বিএসআরআই আখ-৪৮।বিজ্ঞাপন দেশে এমন সময় উচ্চফলনশীল আখের জাত উদ্ভাবন হলো যখন চিনিকল বন্ধ হওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। সরকারি ১৫টির মধ্যে ছয়টি চিনিকলই বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। আর জাতটির পরীক্ষামূলক চাষ হয়েছে এমন এলাকাগুলোর মধ্যে থাকা পাবনার চিনিকলটিও বন্ধ। তবে আখচাষিদের ফেডারেশনের নেতারা বলেছেন, উচ্চফলনশীল জাত পাওয়া গেলে চাষিরা হয়তো আবারও আগ্রহ ফিরে পাবেন। উচ্চফলনশীল জাত পাওয়া গেলে লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন চাষিরা। সে ক্ষেত্রে আখ বিক্রি করতে হবে গুড় তৈরির কারখানায়।বিজ্ঞাপন নতুন জাতটি সম্পর্কে বিএসআরআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতি একর জমিতে এই জাতের আখ চাষ করে ৯৩ দশমিক ৫০ থেকে ১২১ দশমিক ৫২ মেট্রিক টন পর্যন্ত উৎপাদন পাওয়া যেতে পারে। এর চিনি ধারণক্ষমতা ১২ দশমিক শূন্য ৬ থেকে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। গুড় আহরণের হার ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জাতটি মোটা ও রোগপ্রতিরোধী। এই জাতে লাল পচা রোগ হয় না। এর আগে দেশে উচ্চফলনশীল আখগুলোর মধ্যে চেকজাত-৩৯ অন্যতম ছিল। বিএসআরআই আখ-৪৮ চেকজাতের তুলনায় ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি উৎপাদন দেবে। চেকজাত-৩৯–এর তুলনায় নতুন জাতে শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ চিনি এবং শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি গুড় আহরণ করা যাবে। দেশে বিএসআরআইয়ের একমাত্র কার্যালয় পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত। এর মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, সম্প্রতি ন্যাশনাল সিড বোর্ড এক সভায় নতুন জাতের এই আখের অনুমোদন দিয়েছে। ২০০৯ সালে ভারত ও পাকিস্তানের দুটি উচ্চফলনশীল জাতের আখ নিয়ে কাজ শুরু হয়। ২০১১ সালে দুই দেশের দুটি জাত ক্রস করে ক্লোন নির্বাচন শেষে নতুন জাতটির উদ্ভাবনের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ে চাষের মাধ্যমে নতুন জাতের সফলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নতুন জাতটি সম্পর্কে বিএসআরআই দাবি করছে, এই আখের পাতায় ধার কম। ফলে শ্রমিকেরা অনায়াসে জমিতে কাজ করতে পারবেন। অগ্রবর্তী ফলন পরীক্ষা, আঞ্চলিক ফলন পরীক্ষাসহ বেশ কিছু গবেষণায় জাতটিকে নতুন জাত হিসেবে অবমুক্তের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) সমজিৎ কুমার পাল জানান, বর্তমানে আখটির লিডার বীজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। সাধারণত বিএডিসির মাধ্যমে নতুন জাতের বীজ কৃষকের হাতে পৌঁছায়। আখের ক্ষেত্রে তেমনটি হবে না। বিভিন্ন সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন এ আখের বীজ তৈরি করবে। আগামী এক বছরের মধ্যেই কৃষকের হাতে এই বীজ ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া যাবে। এই জাতের আখ চাষ করে কৃষক লাভবান হবেন।বিজ্ঞাপন তবে লাভ পেতে হলে চিনির পাশাপাশি বেশি করে গুড় উৎপাদনে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ চিনিকল আখচাষি ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী। তিনি বলেন, চিনিকল বন্ধসহ বিভিন্ন কারণে ক্রমাগত লোকসানের পরেও দেশে আখ চাষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিছু জমি আছে যেগুলো আখ চাষের জন্যই উপযোগী। অন্যদিকে আখ দীর্ঘমেয়াদি ফসল হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এর ক্ষতি কম হয়। নতুন জাতটি সম্পর্কে শাহজাহান আলী বলেন, উৎপাদনক্ষমতা বেশি থাকার পাশাপাশি রোগবালাই ও পাতার ধার কম থাকার কথা বলা হচ্ছে। তিনটি দিকই কৃষকের জন্য অনুকূল। চাষিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলার আগেই দ্রুত কৃষক পর্যায়ে নতুন জাতের বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। উৎপাদন সত্যিই বেশি হলে চাষিরা হয়তো আবারও আগ্রহ ফিরে পাবেন। দেশের চাষিরা এখন উচ্চফলনশীল আখের যে জাতগুলোর চাষ করেন, তার চেয়ে ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি উৎপাদনক্ষমতার জাত উদ্ভাবনের দাবি করেছে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই)। এরই মধ্যে রাজশাহী, ঠাকুরগাঁও, জামালপুর, গাজীপুর ও পাবনার ঈশ্বরদীতে আখের এই জাতের পরীক্ষামূলক চাষ করা হয়েছে। এই জাতের নাম দেওয়া হয়েছে বিএসআরআই আখ-৪৮।বিজ্ঞাপন দেশে এমন সময় উচ্চফলনশীল আখের জাত উদ্ভাবন হলো যখন চিনিকল বন্ধ হওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। সরকারি ১৫টির মধ্যে ছয়টি চিনিকলই বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। আর জাতটির পরীক্ষামূলক চাষ হয়েছে এমন এলাকাগুলোর মধ্যে থাকা পাবনার চিনিকলটিও বন্ধ। তবে আখচাষিদের ফেডারেশনের নেতারা বলেছেন, উচ্চফলনশীল জাত পাওয়া গেলে চাষিরা হয়তো আবারও আগ্রহ ফিরে পাবেন। উচ্চফলনশীল জাত পাওয়া গেলে লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন চাষিরা। সে ক্ষেত্রে আখ বিক্রি করতে হবে গুড় তৈরির কারখানায়।বিজ্ঞাপন নতুন জাতটি সম্পর্কে বিএসআরআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতি একর জমিতে এই জাতের আখ চাষ করে ৯৩ দশমিক ৫০ থেকে ১২১ দশমিক ৫২ মেট্রিক টন পর্যন্ত উৎপাদন পাওয়া যেতে পারে। এর চিনি ধারণক্ষমতা ১২ দশমিক শূন্য ৬ থেকে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ। গুড় আহরণের হার ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জাতটি মোটা ও রোগপ্রতিরোধী। এই জাতে লাল পচা রোগ হয় না। এর আগে দেশে উচ্চফলনশীল আখগুলোর মধ্যে চেকজাত-৩৯ অন্যতম ছিল। বিএসআরআই আখ-৪৮ চেকজাতের তুলনায় ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি উৎপাদন দেবে। চেকজাত-৩৯–এর তুলনায় নতুন জাতে শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ চিনি এবং শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি গুড় আহরণ করা যাবে। দেশে বিএসআরআইয়ের একমাত্র কার্যালয় পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত। এর মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, সম্প্রতি ন্যাশনাল সিড বোর্ড এক সভায় নতুন জাতের এই আখের অনুমোদন দিয়েছে। ২০০৯ সালে ভারত ও পাকিস্তানের দুটি উচ্চফলনশীল জাতের আখ নিয়ে কাজ শুরু হয়। ২০১১ সালে দুই দেশের দুটি জাত ক্রস করে ক্লোন নির্বাচন শেষে নতুন জাতটির উদ্ভাবনের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মাঠপর্যায়ে চাষের মাধ্যমে নতুন জাতের সফলতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নতুন জাতটি সম্পর্কে বিএসআরআই দাবি করছে, এই আখের পাতায় ধার কম। ফলে শ্রমিকেরা অনায়াসে জমিতে কাজ করতে পারবেন। অগ্রবর্তী ফলন পরীক্ষা, আঞ্চলিক ফলন পরীক্ষাসহ বেশ কিছু গবেষণায় জাতটিকে নতুন জাত হিসেবে অবমুক্তের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) সমজিৎ কুমার পাল জানান, বর্তমানে আখটির লিডার বীজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। সাধারণত বিএডিসির মাধ্যমে নতুন জাতের বীজ কৃষকের হাতে পৌঁছায়। আখের ক্ষেত্রে তেমনটি হবে না। বিভিন্ন সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট নতুন এ আখের বীজ তৈরি করবে। আগামী এক বছরের মধ্যেই কৃষকের হাতে এই বীজ ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়া যাবে। এই জাতের আখ চাষ করে কৃষক লাভবান হবেন।বিজ্ঞাপন তবে লাভ পেতে হলে চিনির পাশাপাশি বেশি করে গুড় উৎপাদনে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ চিনিকল আখচাষি ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী। তিনি বলেন, চিনিকল বন্ধসহ বিভিন্ন কারণে ক্রমাগত লোকসানের পরেও দেশে আখ চাষের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিছু জমি আছে যেগুলো আখ চাষের জন্যই উপযোগী। অন্যদিকে আখ দীর্ঘমেয়াদি ফসল হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এর ক্ষতি কম হয়। নতুন জাতটি সম্পর্কে শাহজাহান আলী বলেন, উৎপাদনক্ষমতা বেশি থাকার পাশাপাশি রোগবালাই ও পাতার ধার কম থাকার কথা বলা হচ্ছে। তিনটি দিকই কৃষকের জন্য অনুকূল। চাষিরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলার আগেই দ্রুত কৃষক পর্যায়ে নতুন জাতের বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। উৎপাদন সত্যিই বেশি হলে চাষিরা হয়তো আবারও আগ্রহ ফিরে পাবেন। সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো
হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী সায়েন্টিফিক সেমিনারের সমাপনী শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয়বারের মত এই সেমিনারের আয়োজন করেছে হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। দুই দিনব্যাপী সেমিনারে ২০ টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেছেন আমন্ত্রিত ও অংশগ্রহণকারী গবেষকবৃন্দ। শুক্রবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এ অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ ও হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের সহযোগী পরিচালক ড. এমেলী আক্তার। সেমিনারে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, কৃষি, মৎস্য-প্রাণিসম্পদ সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ। দুই দিনব্যাপী সেমিনারের শেষ দিনের প্রথম সেশনে সেশন চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের ডেপুটি ডিরেক্টর কৃষিবিদ মো. আক্তারুজ্জামান ও মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন হবিগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শরীফুল আলম। দ্বিতীয় সেশনে সেশন চেয়ার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ রিসোর্স এন্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অরুণ চন্দ্র বর্মন ও মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট প্রটেকশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কেন্দ্রের চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মোঃ হারুন-অর-রশীদ ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশের সাবেক ন্যাশনাল টেকনিক্যাল এডভাইজার ড. মোঃ হাবিবুর রহমান৷ কৃষি, পরিবেশ, প্রাণিস্বাস্থ্য ও সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা উপস্থাপিত হয়। এসব গবেষণায় ফসলের রোগ ও পোকামাকড়ের জৈবিক প্রক্রিয়া, টেকসই কৃষি ব্যবস্থায় উৎপাদন ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের ফলন ও গুণগত মান, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কৃষি রোগ শনাক্তকরণ, প্রাণিসম্পদের পুষ্টি ও প্রজননস্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ ও পরজীবীজনিত সমস্যার বিস্তার এবং নগর সমাজের কিশোর অপরাধের মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী সায়েন্টিফিক সেমিনার আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন পূবালী ব্যাংক পিএলসি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে কৃষি খাতে ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা চার হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা বা ২৯ শতাংশ বেশি। ব্যাংকগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত পুরো অর্থবছরের ৩৯ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ছয় মাসে বিতরণ হয়েছে ৫৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর নিট ঋণ প্রদানের আড়াই শতাংশ কৃষিতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষিতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর এমডিদের নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। মোট শ্রমশক্তির ৪৬ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত। প্রতিবছর গড়ে ৫ শতাংশ হারে ঋণ বাড়লেও কৃষি খাত সেভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি অর্থবছর কৃষিতে ঋণ বিতরণ বৃদ্ধির পাশাপাশি আদায়ও বেড়েছে। গত ৬ মাসে এ খাত থেকে ২১ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকার ঋণ আদায় হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। এবার আদায় বেশি হয়েছে দুই হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ। সব মিলিয়ে গত ডিসেম্বর শেষে কৃষি খাতে ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোর নিট ঋণের মাত্র আড়াই শতাংশ কৃষিতে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ বর্তমান চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। অথচ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু ঝুঁকি, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারের মতো সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন করা জরুরি। ঋণ সীমিত থাকায় উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, যান্ত্রিকীকরণ, বীজ-সার-সেচ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসে ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের কৃষি ও কৃষকের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে দলগতভাবে প্রকাশ্য ঋণ বিতরণ বাড়ানো হয়েছে। সরাসরি ব্যাংকের শাখা ছাড়াও এজেন্ট ব্যাংকিং, সাব-ব্রাঞ্চ, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং, এরিয়া অ্যাপ্রোচ পদ্ধতি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এমএফআই-লিংকেজ ব্যবহারের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌর বাজারে নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। বাজারে এসেছে ডায়মন্ড জাতের ঝকঝকে নতুন সাদা আলু। চাহিদা খুব বেশি না থাকলেও দাম তুলনামূলক বেশি। আড়তে পাইকারি হিসেবে প্রতি কেজি ৬০ টাকা আর খুচরায় ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে নতুন আলু। পৌর বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মোজাম্মেল জানান, আজ আড়ত থেকে নতুন আলু ২০ কেজি এনেছি। চাহিদা তেমন বেশি না, মানুষ এখনো পুরনো আলুর দিকেই বেশি ঝুঁকছে। পুরনো দেশি আলু আড়তে পাইকারি ২০ টাকা আর খুচরায় ২৫ টাকা। আর কাঠিলাল আলু পাইকারি ১৫ টাকা, খুচরায় ২০ টাকায় বিক্রি করছি। নতুন আলুর দাম বেশি হলেও ক্রেতাদের কেউ কেউ শখ করে কিনছেন। নতুন আলু কিনতে আসা ক্রেতা আলামিন ইসলাম বলেন, শখ করে আধা কেজি ৩৫ টাকায় কিনলাম। পরিবারের সবাই মিলে নতুন আলুর স্বাদ নেবে। বাজারে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, পুরনো আলুর তুলনায় নতুন আলুর ঝাঁঝালো সুবাস আর নরম গঠন ক্রেতাদের টানলেও দাম তাদের ভাবাচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে আসবে।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।