২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে আহমেদাবাদের নীল সমুদ্রে অস্ট্রেলিয়ার হলুদ উৎসব দেখতে হয়েছিল রোহিত শর্মা-বিরাট কোহলিদের। সেই রাতে কেঁদেছেন কোটি কোটি ভারতীয়।
সেই আহমেদাবাদে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালটা তাই ভারতের জন্য ছিল শাপমোচনের। সেই কাজ হেসেখেলে, অনায়াসে করে ফেলল সূর্যকুমার যাদবের দল।
নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট ভেন্যু নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে ২৫৫ রানের পর্বত গড়েছিল ভারত। কিউই বোলারদের বেধড়ক পিটিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা, ঈশান কিষান, শিবম দুবেরা।
জবাবে যশপ্রীত বুমরার ইয়র্কার ও স্লোয়ারে দিশেহারা হয়ে ১ ওভার বাকি থাকতেই ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
এ জয়ে আরো কিছু অনন্য কীর্তি গড়ল ভারত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হলো তারা। প্রথম দল হিসেবে নিজেদের মাটিতে ফাইনাল জিতে শিরোপাও ধরে রাখল।
বিস্তারিত আসছে...
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সিরিজ জয়ের পর বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছে বাংলাদেশ দল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি হয়েছে লাল-সবুজদের। চার নম্বরে থাকা পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে তিন রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছে বাংলাদেশ, যার ফলে দশ নম্বর থেকে এক ধাপ এগিয়ে এখন নবম স্থানে উঠেছে তারা। এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। তাই সামনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী ১৩ এপ্রিল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে নিউজিল্যান্ড দল। মিরপুরে ১৭, ২০ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ২৭ ও ২৯ এপ্রিল এবং ২ মে হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তবে র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ওয়ানডে সিরিজটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে এই সিরিজে বাংলাদেশকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে নিউজিল্যান্ডের দল নির্বাচন। কারণ আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ত সূচির কারণে নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে পাচ্ছে না। বাংলাদেশ সফরের দলে থাকছেন না অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন, কাইল জেমিসন, জেকব ডাফি ও লকি ফার্গুসন। এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগে ব্যস্ত থাকায় মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেলও এই সিরিজে খেলবেন না। সব মিলিয়ে প্রথম সারির ১০ ক্রিকেটারকে ছাড়াই বাংলাদেশে দল পাঠাচ্ছে কিউইরা। ফলে অনেকটাই তরুণ ও অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দ্বিতীয় সারির দলই দেখা যেতে পারে নিউজিল্যান্ড স্কোয়াডে। এমনকি দলের দুই কোচও পিএসএলে যুক্ত থাকায় বাংলাদেশ সফরে আসবেন না বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এই সিরিজে সেরা দলটাই মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছে। কারণ ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ম্যাচ ও প্রতিটি রেটিং পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে বিরল ও অবিশ্বাস্য এক ঘটনার সাক্ষী থাকল ক্যাম্পোনাতো মিনেইরোর ফাইনাল। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ক্রুজেইরো ও অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর মধ্যকার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ভয়াবহ হাতাহাতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে শেষ পর্যন্ত ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখাতে হয়। এর মধ্যে ক্রুজেইরোর ১২ জন এবং অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ১১ জন খেলোয়াড় রয়েছেন। বেলো হরিজন্তে অনুষ্ঠিত ফাইনালে কাইও জর্হের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ক্রুজেইরো। সাবেক ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ তিতের অধীনে দলটি ২০১৯ সালের পর প্রথমবার মিনাস জেরাইস রাজ্যের চ্যাম্পিয়ন হয়। তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সংঘটিত সহিংসতা পুরো আনন্দঘন পরিবেশকে ম্লান করে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মী ও মিলিটারি পুলিশকে মাঠে হস্তক্ষেপ করতে হয়। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর গোলরক্ষক এভারসন ক্রিস্টিয়ানকে মাটিতে ঠেলে দেন এবং ক্রুজেইরোর এই মিডফিল্ডারের বুকের ওপর হাঁটু রাখেন। লুজ বলের পেছনে দৌড়ানোর সময় এই সংঘর্ষ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে ক্রিস্টিয়ানের সতীর্থরা এভারসনের দিকে ধেয়ে যান এবং ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে গোলপোস্টের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। এরপর দুই দলের আরো খেলোয়াড় এতে জড়িয়ে পড়েন। নিরাপত্তাকর্মীরা খেলোয়াড়দের আলাদা করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ম্যাচ চলাকালীন রেফারি মাতেউস ডেলগাদো কান্দানকান কোনো লাল কার্ড দেখাননি। তবে ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর খবরে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের কারণে মাঠে তাৎক্ষণিকভাবে কার্ড দেখানো সম্ভব না হওয়ায় পরে ২৩ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়। ক্রুজেইরোর ১২ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড পান, যার মধ্যে গোলদাতা কাইও জর্হেও রয়েছেন। অন্যদিকে অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ১১ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে সাবেক অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও নটিংহ্যাম ফরেস্টের ডিফেন্ডার রেনান লোদি এবং ব্রাজিলের তারকা ফরওয়ার্ড হাল্কও রয়েছেন। সিনিয়র ফুটবলে এক ম্যাচে সর্বাধিক লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ডটি বর্তমানে আর্জেন্টিনার পঞ্চম স্তরের লিগে অ্যাথলেটিকো ক্লেইপোল ও ভিক্টোরিয়ানো অ্যারেনাসের ম্যাচে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে সব মিলিয়ে ৩৬ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। রেফারি তার প্রতিবেদনে ওই ঘটনাকে ‘হাতাহাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর ফরওয়ার্ড হাল্ক বলেন, ‘এটি খুবই দুঃখজনক। আমরা এমন উদাহরণ স্থাপন করতে পারি না, কারণ এর নেতিবাচক প্রভাব পুরো বিশ্বে পড়ে। আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি এবং ক্লাবের মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব আছে।’ ক্রুজেইরোর কোচ তিতে বলেন, ‘আমি ক্রুজেইরো সমর্থকদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাই। আমার সক্ষমতায় হয়তো ঘাটতি থাকতে পারে, কিন্তু সমর্থক ও কাজের প্রতি ভালোবাসা ও সততার কোনো অভাব কখনও ছিল না।’
পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর খেলোয়াড়দের ওপর বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির। তিনি বলেছেন, শুধু খেলোয়াড়দের দায়ী করে শাস্তি দেওয়া সমস্যার সমাধান নয়; নির্বাচক ও বোর্ড কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাকিস্তানের গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির উদ্যোগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জন্য দলে থাকা প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওপর প্রায় ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হতে পারে। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একটি টকশোতে আমির বলেন, ‘যদি জরিমানাই সমাধান হয়, তাহলে তা সবার ওপরই প্রয়োগ করা উচিত, নির্বাচক থেকে শুরু করে প্রশাসন পর্যন্ত। খেলোয়াড়রা তো বন্দুকের মুখে দল গঠন করেনি। ভুল কম্বিনেশন নির্বাচনের দায় নির্বাচকদেরও নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘যারা দল নির্বাচন করেছে এবং পরিকল্পনা করেছে, তাদেরও জবাব দিতে হবে। মাত্র দুটি ম্যাচ খেলা ফখর জামানকেও কি জরিমানা করা হবে? আর সাহিবজাদা ফারহানের কী হবে?’ আমিরের মতে, খেলোয়াড়দের জরিমানা করাই সমস্যার সমাধান নয়। বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতির জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশি বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘আমি শুরু থেকেই বলছি, ঘরোয়া ক্রিকেটে বিনিয়োগ করুন। সেখান থেকেই মানসম্পন্ন খেলোয়াড় উঠে আসবে। যদি কারো পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট হন, তাকে জরিমানা না করে দল থেকে বাদ দিন এবং বলুন ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স করে আবার দলে ফিরতে। একজন খেলোয়াড়ের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো দল থেকে বাদ পড়া।