নিজস্ব প্রতিবেদক।
দেশের বিশিষ্ট কবি, কথাসাহিত্যিক ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক বিল্লাল বিন কাশেম সোহেল পুনরায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) জনসংযোগ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সৃজনশীল সাহিত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সুপরিচিত এই ব্যক্তিত্বের প্রত্যাবর্তনকে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি উন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবনের মেলবন্ধন
২০০২ সালে সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করা বিল্লাল বিন কাশেম দীর্ঘ সময় জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি আইসিটি, প্রকাশনা এবং বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক হিসেবেও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
সাহিত্যাঙ্গনে উজ্জ্বল নাম
প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যেও তিনি এক স্বতন্ত্র নাম। তার কাব্যগ্রন্থ ‘অনুরণন’ এবং উপন্যাস ‘দূরে কোথায়’ পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত। সমাজসচেতন এই লেখকের লেখনীতে উঠে আসে মানুষের আবেগ ও সমসাময়িক বাস্তবতার নিপুণ চিত্র।
পারিবারিক পরিচয়
বিল্লাল বিন কাশেম একটি গুণী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মোঃ আবুল কাশেম এবং মাতা প্রয়াত গুলশান আরা বেগম। তার পরিবারের সদস্যরাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত:
বড় ভাই: মোহাম্মদ বিন কাশেম জুয়েল (সমাজসেবক ও সংবাদপত্রের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক)।
ছোট ভাই: ইলিয়াস বিন কাশেম রাসেল (জাতীয় টেলিভিশনের নিউজ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স প্রধান)।
ছোট বোন: ফারহানা আফরোজ (বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা)।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের (ফারিহা জাহিন) জনক।
নতুন প্রত্যাশা
জনসংযোগ প্রধান হিসেবে তার মূল চ্যালেঞ্জ হবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা। তথ্যপ্রবাহ সচল রাখা এবং আইসিটি ভিত্তিক প্রচারণায় তার পূর্ব অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও তার সাহিত্যচর্চা অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি নতুন কাব্যগ্রন্থ ও গবেষণামূলক কাজ নিয়ে পরিকল্পনা করছেন।
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।
উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যেতে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় এসেছে। অ্যাম্বুলেন্সটি বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। দুপুর দেড়টায় তাকে নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে হাদিকে আনতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছে ২ সদস্যের মেডিকেল প্রতিনিধি দল। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও একজন নার্স রয়েছেন। শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র। তিনি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনায় আয়োজিত একটি জরুরি টেলিকনফারেন্সে হাদিকে বিদেশে পাঠিয়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রেস উইং জানায়, গত দুদিনে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা সুবিধা যাচাই করেছে। হাদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যাবেন তার ভাই ওমর হাদি। সঙ্গে আরও একজনও যাবেন। ওসমান হাদির চিকিৎসা সংক্রান্ত সব ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
অভিনয় ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। নিয়মিতই নানা মুহূর্তের ছবি ও ভাবনার কথা শেয়ার করেন তিনি। এবার সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে ‘কৃতঘ্ন’ মানুষদের নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরলেন এই অভিনেত্রী। পরীমনি জানান, বিপদে যাদের পাশে দাঁড়ান, তারাই অনেক সময় তাকে বিপদে ফেলে দূরে সরে যান। যদিও পোস্টে তিনি নির্দিষ্ট করে কারো নাম উল্লেখ করেননি। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘মানুষের সমস্ত বিপদে শুধু আমার দরজাই সবার জন্য খোলা থাকে। ঠিক তারাই আমাকে বিপদে ফেলে দিয়ে ভেগে যায়।’ তবে এসব ঘটনায় হতাশ নন বলেই জানান অভিনেত্রী। বরং নিজের মনুষ্যত্ব ও বিবেক নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন তিনি। পরীমনির ভাষায়, ‘আমি আর বদলাতে পারি নাই। না আমার মনুষ্যত্ব আর না আমার বিবেক। তার জন্যই আল্লাহ আমাকে তোমাদের মতো মানুষকে সাহায্য করার মতো সমর্থ দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি অকপটে প্রকাশ করার মধ্য দিয়েই আবারও আলোচনায় এই ঢালিউড তারকা। এদিকে কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’। পাশাপাশি ‘গোলাপ’ নামের আরো একটি সিনেমা শুটিং ফ্লোরে গড়ানোর অপেক্ষায় আছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘গণতন্ত্রের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, হাদি আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, প্রতিযোগী। সে রাজপথের সাহসী সৈনিক। তাকে আমি নির্বাচনী মাঠে আবারও সক্রিয় পাব—সেই প্রত্যাশা করি। ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভের আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। সেখানে বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। মির্জা আব্বাস বলেন, সে আমার সন্তান সমতুল্য। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি। এ আঘাত গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। যারা এই আঘাত করেছে, তাদের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।
রাজনৈতিকভাবে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তি এবং নির্বাচনের প্রার্থীদের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার এবং রিটেইনার (গানম্যান) নিয়োগের সুযোগ দিতে নীতিমালা জারি করেছে সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাইয়ের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় সোমবার ওই নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই বিশেষ নীতিমালার আওতায় দুই ধরনের ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং গানম্যান নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন। ১. সরকার স্বীকৃত বা অনুমোদিত ‘রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ২. সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল এবং গৃহীত হয়ে থাকলে। নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে হলে ‘উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক যাচাইকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি’ থাকতে হবে। শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাধারণ সময়ে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার যে নীতিমালা আছে, তার শর্তগুলো এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে সাধারণ নীতিমালায় পিস্তল, রিভলবার, রাইফেলের লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকার আয়কর দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতার রয়েছে, এই বিশেষ ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। এই লাইসেন্সের আওতায় কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সীমিত ক্যালিবারের অস্ত্র রাখা যাবে। একাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদিত হবে না। স্বয়ংক্রিয় বা সামরিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া যাবে না। এই নীতিমালার আওতায় অনুমোদিত লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন। এরপর এ ধরনের লাইসেন্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নীতিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সাময়িক লাইসেন্সকে সাধারণ লাইসেন্সে রূপান্তর করতে পারবে। লাইসেন্সের মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পরও কোনো লাইসেন্সধারী এর বিপরীতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র রাখলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিটেইনার বা গানম্যান রাখার অনুমতি পেতে হলেও কিছু শর্ত মানতে হবে। কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের কোনো প্রার্থী লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য হলে এবং তিনি আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে অসমর্থ হলে বা অনিচ্ছুক হলে বৈধ লাইসেন্সসহ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তা পরিচালনায় সক্ষম এবং কোনো রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা পদপ্রার্থীর রিটেইনার হতে ইচ্ছুক এমন কোনো ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ রিটেইনার নিয়োগ করতে পারবেন। সেজন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। রিটেইনার বা গানম্যানকে অন্যূন ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। অপরাধমুক্ত থাকার রেকর্ড ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স থাকতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে পাওয়া ফিটনেস সনদ থাকতে হবে। তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সশস্ত্রবাহিনী বা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অগ্রাধিকার পাবেন। একজন রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা নির্বাচনের প্রার্থী সর্বোচ্চ একজন রিটেইনার নিয়োগ দিতে পারবেন। লাইসেন্সের মেয়াদ শেষে রিটেইনারের মেয়াদও সমাপ্ত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক। দেশের বিশিষ্ট কবি, কথাসাহিত্যিক ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক বিল্লাল বিন কাশেম সোহেল পুনরায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) জনসংযোগ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সৃজনশীল সাহিত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সুপরিচিত এই ব্যক্তিত্বের প্রত্যাবর্তনকে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি উন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিজ্ঞতা ও কর্মজীবনের মেলবন্ধন ২০০২ সালে সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করা বিল্লাল বিন কাশেম দীর্ঘ সময় জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি আইসিটি, প্রকাশনা এবং বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক হিসেবেও সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। সাহিত্যাঙ্গনে উজ্জ্বল নাম প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যেও তিনি এক স্বতন্ত্র নাম। তার কাব্যগ্রন্থ ‘অনুরণন’ এবং উপন্যাস ‘দূরে কোথায়’ পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত। সমাজসচেতন এই লেখকের লেখনীতে উঠে আসে মানুষের আবেগ ও সমসাময়িক বাস্তবতার নিপুণ চিত্র। পারিবারিক পরিচয় বিল্লাল বিন কাশেম একটি গুণী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মোঃ আবুল কাশেম এবং মাতা প্রয়াত গুলশান আরা বেগম। তার পরিবারের সদস্যরাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত: বড় ভাই: মোহাম্মদ বিন কাশেম জুয়েল (সমাজসেবক ও সংবাদপত্রের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক)। ছোট ভাই: ইলিয়াস বিন কাশেম রাসেল (জাতীয় টেলিভিশনের নিউজ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স প্রধান)। ছোট বোন: ফারহানা আফরোজ (বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা)। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের (ফারিহা জাহিন) জনক। নতুন প্রত্যাশা জনসংযোগ প্রধান হিসেবে তার মূল চ্যালেঞ্জ হবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা। তথ্যপ্রবাহ সচল রাখা এবং আইসিটি ভিত্তিক প্রচারণায় তার পূর্ব অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন গতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও তার সাহিত্যচর্চা অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি নতুন কাব্যগ্রন্থ ও গবেষণামূলক কাজ নিয়ে পরিকল্পনা করছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা । ১৭ মার্চ, ২০২৬ রাজধানীর তেজগাঁওস্থ হাজী রেস্তোরাঁয় তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর সম্মানে এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে 'মানবিক সমাজ ফোরাম'। শবে কদরের এই মহিমান্বিত রজনী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সমাজের অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর মানবিক মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানবিক মর্যাদা ও সমঅধিকার একটি রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি হলেও আমাদের সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিললেও সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূলধারায় তাদের সম্পৃক্ত করা এখন সময়ের দাবি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুব শক্তি এনসিপি-এর কেন্দ্রীয় সংগঠক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অপর কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রলয় পাল এবং ওলামা এলায়েন্স এনসিপি-এর যুগ্ম সদস্য সচিব মাওলানা ইদ্রিস। মাহিন মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মানবিক সমাজ ফোরামের পক্ষ থেকে তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬ দফা দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়: ১. শিক্ষায় বিশেষ বৃত্তি, কোটা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। ২. সরকারি ও বেসরকারি খাতে সুনির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। ৩. বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রদান। ৪. সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ভাতা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা। ৫. বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি সুরক্ষা। ৬. গণমাধ্যম ও শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীতে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে ৪৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এর মধ্যে মুগদা থানা ১৮, যাত্রাবাড়ী থানা ১৩, শেরেবাংলা নগর থানা চার ও রূপনগর থানা ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মুগদা থানার বরাত দিয়ে তালেবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থানার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্টের অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে ১৮ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন- মো. মানিক, মো. ওসমান, মো. আল আমিন হোসেন ওরফে ফারহান, মো. রফিকুল ইসলাম শাওন, মো. হৃদয়, মো. মেহেদী হাসান, মো. হেলাল উদ্দিন শুভ, মো. স্বপন, মো. শামীম, মো. গোলাম রাব্বি, চাল্লি রানা, মো. আবির হোসেন, মো. নাসির, মো. নাজমুল হোসেন, মো. উসমান গনি, মো. জনসন মিয়া, মো. মিন্টু মিয়া ও নাজিম উদ্দিন নাজু। অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ একই দিনে থানাধীন বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপারেশন ডেভিল হান্টের অংশ হিসেবে দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে ১৩ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা হলেন- মো. শিশির মিয়া, মো. রাজিব মিয়া, মো. জামাল মাতবর ওরফে তুহিন, মো. শরীফ, মো. শাহীন, শাফি, জয়, মো. রাসেল মিয়া, মো. রাকিব, মো. মনিরুল ইসলাম রাব্বী, মো. সুমন, মো. রিপন হোসেন ও মো. আলী হোসেন। এছাড়া, শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ একই ধরনের অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন- মো. শাহজাহান, মো. শেখ মোরশেদ, মো. তুহিন ওরফে মরন ইসলাম ও মো. তানভীর হোসেন। রূপনগর থানার পুলিশ গ্রেফতার করে ১৪ জনকে। তারা হলেন বাঁধন, মো. মাজহারুল ইসলাম, মো. ফিরোজ দেওয়ান, মো. শাহীন, মো. আরিফ জমাদ্দার, মো. হারুন সোয়েল, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. কাজল জমাদ্দার, মো. ইসমাইল, মো. মোতালেব হাওলাদার, মো. সবুজ, মো. আব্বাস আলী, মৃন্ময় ও নুর ইসলাম।