জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে চীন মৈত্রী সম্মেলনে কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো 'কাচ্চি ডাইন প্রেজেন্ট গ্রীনলিফ এওয়ার্ড' ২০২৬-এর সিজন-৮ গতকাল ২৫ সেপ্টেম্বর বিনোদন,শিল্প,সংস্কৃতি ও মানবিক ও সমাজসেবামূলক বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রাখা গুণী ব্যক্তিত্ব ও সেরা ব্র্যান্ডগুলোকে এই আয়োজনে সম্মানিত করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এম, পি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান জনাব মহিউদ্দিন আমিন।অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহিদুল করিম কচি(সভাপতি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব)বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম,মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব গ্রীনলিফ উপদেষ্টা কৃষান ভুইয়া,কাচ্ছি ডাইনের চেয়ারম্যান জনাব শাহাবুদ্দিন তালুকদার জনাব(মিন্টু তালুকদার)রয়েল লাইফ ইন্টারন্যাশনাল রিয়েল স্টেট লিমিটেড চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম,ডক্টর আনোয়ার উজ্জামান,সততা জুয়েলার্স এর চেয়ারম্যান আরিফ হোসাইন সহ আরো অনেকে।এই আসরে বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি অভিনেত্রী নূতন এবং নৃত্যগুরু মুনমুন আহমেদ-কে মর্যাদাপূর্ণ আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।এছাড়া রত্নগর্ভা মা সম্মাননা পেয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও মডেল কেয়া পায়েলের মা চম্মা বেগম, সফল বাবা সম্মাননা পেয়েছেন অভিনেতা শাহরুখ ফারদিন সুব্রত।লিজেন্ডারি অভিনেতা ওমর সানি, জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী রবি চৌধুরী, জনপ্রিয় অভিনেতা মোশারফ করিম, রোবেনা রেজা জুই, জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা, জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল, চলচ্চিত্র নায়ক নিরব হোসাইন,তৌসিফ মাহবুব, অভিনেত্রী ফারজানা ছবি, নৃত্য শিল্পী চাঁদনী,রক্ত আলতা পায় গানের শিল্পী সোহাগ এস বি, অভিনেতা মুকিত জাকারিয়া, চিত্রনায়িকা দিঘি, সংগীত শিল্পী সিথি শাহা, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস যুক্তরাজ্য ও মালোয়েশিয়া কমিটি সেরা মানবিক সংগঠনের সম্মাননা পান। এছাড়াও স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান শাওন মজুমদার, ড্যান্স কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ,ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার আলমগীর হোসেন আলো,কোরিওগ্রাফার ইমরান আলী, সহ দেশের জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ব্লগার ও বিভিন্ন সেক্টরে অবদান রাখা প্রতিভাবান, গুনীজনরা। এদেশের প্রতিভাবান, জ্ঞানী, গুনী ব্যক্তিত্বদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া এবং সফল ব্র্যান্ডগুলোকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন ও গ্রীনলিফ এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে এই ধরনের প্রোগ্রাম বেশী বেশী হওয়া দরকার।এভাবে মনোনিত জ্ঞানী, গুনী, প্রতিভাবানদের সম্মানিত করার জন্য আয়োজক কমিটির কে ধন্যবাদ জানান।তিনি নতুন ও মেধাবী শিল্পী কলাকুশলীদেরকে উৎসাহিত করে সভ্য সমাজ ও রাষ্ট্রগঠনে ভুমিকা রাখতে তাগিদ প্রদান করেন।। আয়োজক(গ্রীনলিফ ম্যাগাজিন সম্পাদক ও গ্রীনলিফ এওয়ার্ড)তাসলিম হাসান হৃদয় বলেন,এটা আমাদের ৮ম সিজন। আমরা সব সময় চাই ব্যাতিক্রম কিছু উপহার দিতে। গুনীদের কদর করা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা।।নাহয় আমরা গুনীদের হারিয়ে ফেলবো।কারন আগ্রাসী উগ্রবাদীদের আস্ফালনে সমাজ সভ্যতার বিপর্যয় ঘটবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি, জনাব মহিউদ্দিন আমিন তার বক্তব্যে বলেন,এখন থেকে ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন মানবিক কাজের পাশাপাশি, এই ধরনের প্রোগ্রাম আয়োজন করবে, যাতে সমাজের নৈতিক অবক্ষয় রক্ষা হয়, প্রতিভাবান শিল্পী ও গুনীজনরা সম্মানিত হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রথমে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বয়স নিয়েও যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর এবং দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেও একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আটকদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড অনেকটা কিশোর অপরাধী চক্রের মতো। নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয়, বন্ধুত্ব ও নিয়মিত উঠাবসা ছিল। তারা প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডা দিত। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের অনেকেই অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মামলার প্রয়োজনীয় অন্যান্য আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। তিনি বলেন, আসামিরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। এরই মধ্যে নিহত অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং তার দাফনও সম্পন্ন হয়েছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দেবে। এরপর বিচার বিভাগ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারও সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বি সম্পর্কে ভোক্তাকে সহজে বোঝার মতো তথ্য প্রদান, ভোক্তার জানার অধিকার নিশ্চিত এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) প্রবিধান দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে দেশের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির যৌথ আয়োজনে শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী “ইয়ুথ ভয়েস ফর ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং ডিবেট ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’ শিরোনামে আয়োজিত এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে এই দাবি জানানো হয়। এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস, আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিতর্কে শিক্ষার্থীরা প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বির স্বাস্থ্যঝুঁকি, ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার, স্বাস্থ্যকর খাদ্য নির্বাচন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং কার্যকর খাদ্যনীতিতে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে যুক্তি ও তথ্য উপস্থাপন করেন। বক্তারা বলেন, এফওপিএল নিয়ে নীতিগত উদ্যোগ ও প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও এখন দ্রুত কার্যকর প্রবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। একটি কার্যকর এফওপিএল ব্যবস্থা শুধু ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করবে না, একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদকদের স্বাস্থ্যকর পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করবে এবং দেশে একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যপরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। তরুণদের খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য অ্যাডভোকেসিতে অর্থবহ অংশগ্রহণ, গণমাধ্যমের মনোযোগ তৈরি এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে তরুণদের মতামত তুলে ধরার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিতর্কের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু নিজেদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির নয়, বৃহত্তর সমাজে তথ্যভিত্তিক জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিতর্কের মতো উদ্যোগ তরুণদের যুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং সামাজিক বিষয়ে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, “খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তার কাছে যথাযথ তথ্য পৌঁছে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবন, চিনি, চর্বি জাতীয় খাবারের তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ভোক্তাকে জানার সুযোগ প্রদান করার উপরে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।” বক্তারা আরও বলেন, ‘তরুণরা জনস্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং এফওপিএল প্রবিধান দ্রুত প্রণয়নের পক্ষে মানুষের মধ্যে জনমত ও জনচাহিদা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্রুত কার্যকর এফওপিএল প্রবিধান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।” পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (আইন ও নীতি) জনাব মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্য শিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক জনাব ইকবাল মাসুদ। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. সাজিদ হাসান এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মিফতাহুল জান্নাত রিফাত।
ইমরুল কায়েস পাবনার সুবিধাবঞ্চিত,অসহায়, দরিদ্র তথা প্রান্তিক মানুষের কাছে আলহাজ আহেদ আলী বিশ্বাস ‘মানবকল্যাণ ট্রাস্ট’ (এবি ট্রাস্ট )একটি অনন্য নাম,একটি পরম ভরসার প্রতীক। দরিদ্র,অষহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তা এবং মানব উন্নয়নে এই ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। জেলার কুঠিপাড়া, কিসমতপ্রতাপপুরে গড়ে ওঠা এবি ট্রাস্টের সার্বিক নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আছেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা,সমাজ সংস্কারক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারি অ্যাভোকেট শামছুর রহমান শিমুর বিশ্বাস,এমপি। তাঁর নেতৃত্বে এবি ট্রাস্ট ২০০৭ সালের ১৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়।শিমুল বিশ্বাসের বলিষ্ঠ ও মানবিক নেতৃত্বে অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ কল্যাণমুখী এই ট্রাস্টটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে শিক্ষা,স্বাস্থ্য,দুর্যোগ মোকাবেলা,আবাসন,প্রতিবন্ধী কল্যাণ,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি ও সংস্কার এবং পরিবেশ রক্ষায় এক অভূতপূর্ব ও যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলেছে। সেবা ও সহায়তার ক্ষেত্রে এবি ট্রাস্ট কখনও জাত-পাত,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র, নারী-পুরুষ ভেদাভেদ করে না। শিক্ষা ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রসারে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ অ্যাড.শিমুল বিশ্বাসের যৌথ পরিবার শহরাঞ্চলে প্রায় ৫ একর এবং গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১১০ একর জমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজ,এতিমখানা,আধুনিক পাঠাগার এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেতে দান করেছে। ট্রাস্ট পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩,৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বৃত্তি ও বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী প্রদানের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করতে আধুনিক আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অসহায় মানুষকে কেবল সাময়িক সাহায্য না দিয়ে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার দর্শনে বিশ্বাসী এ্যাড. শিমুল বিশ্বাস। এ লক্ষ্যে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ট্রাস্ট থেকে বিনামূল্যে সিএনজি ও অটোরিকশা বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে এবি ট্রাস্ট। উপকারভোগী শত শত মানুষ ট্রাস্টের এই মহতী উদ্যোগে আজ কতৃজ্ঞ। নারীদের সমাজের উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত করার নীতিতে বিশ্বাস করে ট্রাস্ট। এ লক্ষ্যে অসচ্ছল ও দরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহায়তা দেয়া এবং গবাদি পশু কিনে দেয়া হয়। তরুণ-তরুণীদের আত্মকর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীল করতে কারিগরি শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে ট্রাস্ট আইটি প্রশিক্ষণ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। আবাসন নিশ্চিতকরণ ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ট্রাস্ট দীর্ঘমেয়াদী গৃহায়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ পর্যন্ত অসংখ্য অসহায় ও দুস্থ পরিবারের জন্য নতুন আবাসন নির্মাণ ও ঘর মেরামতে সহায়তা দেয়া হয়েছে। শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের স্বাভাবিক চলাচলের সুবিধার্থে নিয়মিত হুইলচেয়ার বিতরণ এবং আর্থিক অনুদান দেয়া হয়। নিশ্চিত করা হয় সমাজের অসহায়,প্রবীণ ও বিধবা নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা। এছাড়া দুই ঈদের সময়, রমজান মাসে এবং বছরের অন্যান্য সময় অসহায়,দুস্থ,প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধীদের নগদ আর্থিক সহায়তা,চাল-ডাল-তেল খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য দিয়ে নিয়মিত সহায়তা করা হয়। ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে মসজিদ,মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা ধর্মীয় সম্প্রীতি,সামাজিক সৌহার্দ্য বিকাশ ও নৈতিক জীবনচর্চার লক্ষ্যে ট্রাস্টের উদ্যোগে পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধর্মীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। বহু এলাকায় নতুন মসজিদ নির্মাণ ও পুরাতন মসজিদগুলোর আধুনিকায়ন এবং পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য অসংখ্য মসজিদের ওজুখানা ও আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ট্রাস্ট। শিশুদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বেশ কিছু হাফেজিয়া ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া এতিম শিশুদের নিরাপদ আবাসন,উন্নত-পুষ্টিকর খাদ্য ও শিক্ষার সুন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এতিমখানা ও মানবিক পরিচর্যা কেন্দ্র নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর ও গেট নির্মাণ এবং গ্রামীণ কবরস্থানগুলোর সংস্কার ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ট্রাস্ট মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ট্রাস্ট বিভিন্ন শ্মশানের সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুবিধা সম্প্রসারণে সহায়তা দিয়ে আসছে। অসহায়দের বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা অসহায় দরিদ্র অসুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ট্রাস্ট প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত আয়োজন করা হয় চিকিৎসা শিবির যাত দরিদ্র অসুস্থ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া রোগ প্রতিরোধে নিরাপদ পানি ব্যবহার,ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সুষম পুষ্টি গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনাচরন গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে ট্রাস্ট। প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি সহায়তা প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা বৈরিতার সময় বিপন্ন সাধারণ মানুষের সেবায় এবি ট্রাস্ট অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর শীতের সময় হাজার হাজার অসহায় মানুষ ও শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা, মহামারী বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে দুর্গতদের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী,জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়ে ট্রাস্টটি মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এবি ট্রাস্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছে। ট্রাস্টের উদ্যোগে পাবনার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। ভরাট হয়ে যাওয়া পাবনা ইছামতি নদীর প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ খনন এবং ৫ কিলোমিটারের বেশি অংশে অবৈধ দখলমুক্ত করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবি ট্রাস্ট পালন করেছে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার আগামী দিনগুলোতে সমাজসেবার এই পরিধিকে আরও বৃহৎ আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে এবি ট্রাস্ট। ট্রাস্টের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩,৫০০ থেকে ১০,০০০-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে দরিদ্র রোগীরা শতভাগ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আরও ১০,০০০ বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জেলাকে শতভাগ স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস। সার্বিকভাবে, অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের মানবিক মূল্যবোধ,সততা ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতার নীতিকে ধারণ করে এবি ট্রাস্ট একটি টেকসই,বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে নিরলস অবদান রেখে চলেছে,যা দেশের সমগ্র মানবকল্যাণমূলক সংগঠনের জন্য একটি অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার ব্যক্তিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায় এবং লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রথমে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বয়স নিয়েও যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর এবং দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি হলেও একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আটকদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড অনেকটা কিশোর অপরাধী চক্রের মতো। নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয়, বন্ধুত্ব ও নিয়মিত উঠাবসা ছিল। তারা প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডা দিত। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের অনেকেই অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সে বড়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ফোনটি প্রধান সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মামলার প্রয়োজনীয় অন্যান্য আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। তিনি বলেন, আসামিরা ঘটনার কথা স্বীকার করেছে। এখন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার বিষয়েও কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে। এরই মধ্যে নিহত অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং তার দাফনও সম্পন্ন হয়েছে। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত চার্জশিট দেবে। এরপর বিচার বিভাগ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারও সংক্ষিপ্ত সময়ে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ইমরুল কায়েস পাবনার সুবিধাবঞ্চিত,অসহায়, দরিদ্র তথা প্রান্তিক মানুষের কাছে আলহাজ আহেদ আলী বিশ্বাস ‘মানবকল্যাণ ট্রাস্ট’ (এবি ট্রাস্ট )একটি অনন্য নাম,একটি পরম ভরসার প্রতীক। দরিদ্র,অষহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সহায়তা এবং মানব উন্নয়নে এই ট্রাস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। জেলার কুঠিপাড়া, কিসমতপ্রতাপপুরে গড়ে ওঠা এবি ট্রাস্টের সার্বিক নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আছেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা,সমাজ সংস্কারক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারি অ্যাভোকেট শামছুর রহমান শিমুর বিশ্বাস,এমপি। তাঁর নেতৃত্বে এবি ট্রাস্ট ২০০৭ সালের ১৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়।শিমুল বিশ্বাসের বলিষ্ঠ ও মানবিক নেতৃত্বে অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ কল্যাণমুখী এই ট্রাস্টটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে শিক্ষা,স্বাস্থ্য,দুর্যোগ মোকাবেলা,আবাসন,প্রতিবন্ধী কল্যাণ,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি ও সংস্কার এবং পরিবেশ রক্ষায় এক অভূতপূর্ব ও যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে চলেছে। সেবা ও সহায়তার ক্ষেত্রে এবি ট্রাস্ট কখনও জাত-পাত,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র, নারী-পুরুষ ভেদাভেদ করে না। শিক্ষা ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রসারে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ অ্যাড.শিমুল বিশ্বাসের যৌথ পরিবার শহরাঞ্চলে প্রায় ৫ একর এবং গ্রামাঞ্চলে প্রায় ১১০ একর জমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজ,এতিমখানা,আধুনিক পাঠাগার এবং কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেতে দান করেছে। ট্রাস্ট পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩,৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত বৃত্তি ও বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী প্রদানের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করতে আধুনিক আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কম্পিউটার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অসহায় মানুষকে কেবল সাময়িক সাহায্য না দিয়ে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার দর্শনে বিশ্বাসী এ্যাড. শিমুল বিশ্বাস। এ লক্ষ্যে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ট্রাস্ট থেকে বিনামূল্যে সিএনজি ও অটোরিকশা বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি গ্রামীণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনায় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে একটি আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখছে এবি ট্রাস্ট। উপকারভোগী শত শত মানুষ ট্রাস্টের এই মহতী উদ্যোগে আজ কতৃজ্ঞ। নারীদের সমাজের উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত করার নীতিতে বিশ্বাস করে ট্রাস্ট। এ লক্ষ্যে অসচ্ছল ও দরিদ্র নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ, ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহায়তা দেয়া এবং গবাদি পশু কিনে দেয়া হয়। তরুণ-তরুণীদের আত্মকর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীল করতে কারিগরি শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে ট্রাস্ট আইটি প্রশিক্ষণ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। আবাসন নিশ্চিতকরণ ও দুস্থদের পাশে দাঁড়ানো গৃহহীন ও ছিন্নমূল মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ট্রাস্ট দীর্ঘমেয়াদী গৃহায়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ পর্যন্ত অসংখ্য অসহায় ও দুস্থ পরিবারের জন্য নতুন আবাসন নির্মাণ ও ঘর মেরামতে সহায়তা দেয়া হয়েছে। শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের স্বাভাবিক চলাচলের সুবিধার্থে নিয়মিত হুইলচেয়ার বিতরণ এবং আর্থিক অনুদান দেয়া হয়। নিশ্চিত করা হয় সমাজের অসহায়,প্রবীণ ও বিধবা নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা। এছাড়া দুই ঈদের সময়, রমজান মাসে এবং বছরের অন্যান্য সময় অসহায়,দুস্থ,প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধীদের নগদ আর্থিক সহায়তা,চাল-ডাল-তেল খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য দিয়ে নিয়মিত সহায়তা করা হয়। ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে মসজিদ,মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা ধর্মীয় সম্প্রীতি,সামাজিক সৌহার্দ্য বিকাশ ও নৈতিক জীবনচর্চার লক্ষ্যে ট্রাস্টের উদ্যোগে পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধর্মীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। বহু এলাকায় নতুন মসজিদ নির্মাণ ও পুরাতন মসজিদগুলোর আধুনিকায়ন এবং পুনঃসংস্কার করা হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য অসংখ্য মসজিদের ওজুখানা ও আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ট্রাস্ট। শিশুদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বেশ কিছু হাফেজিয়া ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া এতিম শিশুদের নিরাপদ আবাসন,উন্নত-পুষ্টিকর খাদ্য ও শিক্ষার সুন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এতিমখানা ও মানবিক পরিচর্যা কেন্দ্র নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর ও গেট নির্মাণ এবং গ্রামীণ কবরস্থানগুলোর সংস্কার ও সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ট্রাস্ট মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ট্রাস্ট বিভিন্ন শ্মশানের সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সুবিধা সম্প্রসারণে সহায়তা দিয়ে আসছে। অসহায়দের বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা অসহায় দরিদ্র অসুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ট্রাস্ট প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত আয়োজন করা হয় চিকিৎসা শিবির যাত দরিদ্র অসুস্থ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া রোগ প্রতিরোধে নিরাপদ পানি ব্যবহার,ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সুষম পুষ্টি গ্রহণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনাচরন গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে ট্রাস্ট। প্রাকৃতিক দুর্যোগে জরুরি সহায়তা প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা বৈরিতার সময় বিপন্ন সাধারণ মানুষের সেবায় এবি ট্রাস্ট অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। প্রতি বছর শীতের সময় হাজার হাজার অসহায় মানুষ ও শীতার্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়া বন্যা, মহামারী বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে দুর্গতদের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী,জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়ে ট্রাস্টটি মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও নদী পুনরুদ্ধার প্রকল্প পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় এবি ট্রাস্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে চলেছে। ট্রাস্টের উদ্যোগে পাবনার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। ভরাট হয়ে যাওয়া পাবনা ইছামতি নদীর প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ খনন এবং ৫ কিলোমিটারের বেশি অংশে অবৈধ দখলমুক্ত করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবি ট্রাস্ট পালন করেছে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার আগামী দিনগুলোতে সমাজসেবার এই পরিধিকে আরও বৃহৎ আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে এবি ট্রাস্ট। ট্রাস্টের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩,৫০০ থেকে ১০,০০০-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে দরিদ্র রোগীরা শতভাগ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে আরও ১০,০০০ বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে জেলাকে শতভাগ স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন অ্যাডভোকেট শিমুল বিশ্বাস। সার্বিকভাবে, অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের মানবিক মূল্যবোধ,সততা ও স্বচ্ছ জবাবদিহিতার নীতিকে ধারণ করে এবি ট্রাস্ট একটি টেকসই,বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে নিরলস অবদান রেখে চলেছে,যা দেশের সমগ্র মানবকল্যাণমূলক সংগঠনের জন্য একটি অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
হজের নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সৌদি সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শ্রেষ্ঠ হজ গাইডদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার পাশাপাশি বাংলাদেশি হাজিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকার। গতবার একটি এজেন্সির অব্যবস্থাপনার কারণে দুইজন হাজি সময়মতো হজে যেতে পারেননি উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পরে পুলিশ, এনএসআইসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় তাদের হজে পাঠানো হয়। এটিকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। হাজিদের সেবার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, গতবার সরকার বিনামূল্যে ১ লাখ পানির বোতল সরবরাহ করেছে। এছাড়া লাগেজ র্যাপিং করতেও কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি; পুরো কার্যক্রম সরকারের ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়েছে। এবার শ্রেষ্ঠ হজ গাইডদের ৫ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই পুরস্কারের অর্থ আরও বাড়ানো হবে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে এবার কোনো হাজির লাগেজ হারিয়ে যায়নি বলেও উল্লেখ করেন কাজী মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। অনুষ্ঠানে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, হজ কার্যক্রমে সাশ্রয় হওয়া অর্থ আগামীকাল সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে মন্ত্রণালয়।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট ও কুমিরা সংলগ্ন এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এতে ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই ট্রেনের দুটি বগি থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা যায়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সিরিজ জয়ের পর বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছে বাংলাদেশ দল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি হয়েছে লাল-সবুজদের। চার নম্বরে থাকা পাকিস্তানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে তিন রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছে বাংলাদেশ, যার ফলে দশ নম্বর থেকে এক ধাপ এগিয়ে এখন নবম স্থানে উঠেছে তারা। এই অবস্থান ধরে রাখতে পারলে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। তাই সামনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী ১৩ এপ্রিল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে নিউজিল্যান্ড দল। মিরপুরে ১৭, ২০ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ২৭ ও ২৯ এপ্রিল এবং ২ মে হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তবে র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ওয়ানডে সিরিজটিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে এই সিরিজে বাংলাদেশকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে নিউজিল্যান্ডের দল নির্বাচন। কারণ আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ত সূচির কারণে নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম সারির বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে পাচ্ছে না। বাংলাদেশ সফরের দলে থাকছেন না অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার, রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন, কাইল জেমিসন, জেকব ডাফি ও লকি ফার্গুসন। এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগে ব্যস্ত থাকায় মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেলও এই সিরিজে খেলবেন না। সব মিলিয়ে প্রথম সারির ১০ ক্রিকেটারকে ছাড়াই বাংলাদেশে দল পাঠাচ্ছে কিউইরা। ফলে অনেকটাই তরুণ ও অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দ্বিতীয় সারির দলই দেখা যেতে পারে নিউজিল্যান্ড স্কোয়াডে। এমনকি দলের দুই কোচও পিএসএলে যুক্ত থাকায় বাংলাদেশ সফরে আসবেন না বলে জানা গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এই সিরিজে সেরা দলটাই মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছে। কারণ ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ম্যাচ ও প্রতিটি রেটিং পয়েন্টই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সবাই মিলে আমরা যে নির্বাচন করেছি এজন্য আমি আনন্দিত। আমি আনন্দিত এজন্য যে জাতির কাছে যে ওয়াদা ছিল তা পূরণ করেছি। সোমবার (১৬ মার্চ) নির্বাচন কমিশন ভবনের বেজমেন্টের অডিটরিয়ামে নারী দিবস উপলক্ষে ইউএনডিপি ও ইসির যৌথ উদ্যোগে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ জোরদার করা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সিইসি বলেন, আমার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু কিন্তু নির্বাচন। সুন্দর নির্বাচনের জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমি শতশত মানুষকে জিজ্ঞেস করেছি, কিন্তু বলতে পারেনি যে আমি আমার ভোট দিতে পারিনি। সবাই আমাকে বলেছেন, না আমরা কোনো বাধা পাইনি। সিইসি আরো বলেন, এবার নির্বাচনে কিন্তু অনেক নারী ভোটের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অপপ্রচারের কারণে নারীদের অবদানকে খাটো করে দেখানো হয়। এ অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। নারীরা সমাজ গঠনে যত এগিয়ে আসবে, আমরা ততই উন্নয়ন করব। নারী উন্নয়নে আমাদের আরও কাজ করতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচি ওষুধ ইতিমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।...আপনারা বলতেছেন এই করলে সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’ শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এ কথা বলেন শফিকুর রহমান। লংমার্চ শেষ হবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে। মাঝপথে পাঁচটি স্থানে পথসভা হবে। লংমার্চের পথে কোনো বাধাকেই পরোয়া করা হবে না বলে জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি, জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব ইনশাল্লাহ। আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে। চলবে জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে এই আন্দোলন চলতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হয়।’ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ—এই ছয় দাবিতে লংমার্চ করছে বিরোধী জোট। এর সঙ্গে সপ্তম দফা যোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, লংমার্চের ছয় দফা দাবির সঙ্গে সপ্তম দফা যুক্ত হবে। কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বরদাশত করা হবে না। শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন , ‘গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেকট্রিসিটি নাই, কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে, কারেন্টের ভুতুড়ে বিল আছে। পানির জন্য কথা বলা যাবে না। অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ ওলট-পালট হয়ে যাওয়ার মতো। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে।’ সিফাতকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘ওরে ছেড়ে দেন। ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদি একদম ওলট–পালট করে দিয়েছিল।’ সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে চাচ্ছে, তাদের স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য লংমার্চ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বিভাগে যাত্রা শুরু করেছে। সরকার লংমার্চে বাধা দিতে চাইলে লংমার্চের ছয় দফা এক দফায় পরিণত হবে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, জনগণের দাবি মেনে না নিলে ১১ দলের পক্ষ থেকে তাদের দাবি আদায়ে বাধ্য করা হবে। বিরোধী দল প্রথম রাউন্ডের কর্মসূচি শেষ করেছে, দ্বিতীয় রাউন্ড শুরু হয়েছে। এখনই সতর্ক না হলে অন্যরা যেভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদেরও একই পরিণতি হবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, লংমার্চের বার্তা এখনই না বুঝলে তাদের জন্যও সেই পরিণাম অপেক্ষা করছে, যা প্রত্যেক স্বৈরশাসকের ক্ষেত্রে হয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দিন যত যাচ্ছে মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে সরকার। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জাতিকে দেওয়া ওয়াদা তারা ভঙ্গ করেছে। সংসদে ভুল স্বীকার করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আপনারা গ্যাস-বিদ্যুৎ দেন না, কথাও বলতে দেন না। আপনাদের পরিণতি ভালো হবে না। দেশের মানুষ ক্ষমতায় বসাতে পারে, ক্ষমতা থেকে উৎখাতও করতে পারে।’ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু), বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম।
নিজস্ব প্রতিবেদক। জাতীয় যুব শক্তি (এনসিপি)-এর প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বসহ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা জেলার কৃতি সন্তান ও সাবেক কেন্দ্রীয় সংগঠক শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু। দলটির সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে। কাউন্সিল ও নতুন কমিটি গতকাল অনুষ্ঠিত সংগঠনের প্রথম জাতীয় কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম-এর অনুমোদনে ঘোষিত এই কমিটিতে শীর্ষ নেতৃত্বে এসেছেন: সভাপতি: এডভোকেট তারিকুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক: ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল সাংগঠনিক সম্পাদক: রিফাত রশিদ সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ): শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু মঞ্জুর রাজনৈতিক পথচলা শাহাদাত খন্দকার মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এর আগে তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটির তেজগাঁও থানার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তোলা এবং দক্ষ কর্মী ব্যবস্থাপনায় তার বিশেষ সুনাম রয়েছে। নতুন পদের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) হিসেবে তার ওপর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে: সাংগঠনিক তদারকি: বরিশাল বিভাগের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম সরাসরি তত্ত্বাবধান করা। কমিটি গঠন: বিভাগের আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন ও ঝিমিয়ে পড়া ইউনিটগুলো পুনর্গঠন করা। তৃণমূল বিস্তার: দলীয় আদর্শ ও কার্যক্রমকে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। "বরিশাল অঞ্চলে এনসিপি-র সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ একজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।" — রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাজনৈতিক তাৎপর্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে কাজ করছে এনসিপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাহাদাত খন্দকার মঞ্জুর মতো তৃণমূল থেকে উঠে আসা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা সম্পন্ন নেতার পদায়ন দলকে আরও জনমুখী ও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। নামাজের পর সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া পোস্টে বিষয়টি জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, ঈদের দিন বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে (২৯ মিন্টো রোড, ঢাকা) শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকাস্থ কূটনৈতিক মিশনের কূটনীতিকগণের সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করবেন। পরে বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। একই পোস্টে জামায়াত নেতারা কে কোথায় ঈদুর ফিতর উদযাপন করবেন তা জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম ঢাকায়, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার নিজ গ্রামে, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ঢাকায়, সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার নিজ গ্রামে, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার খুলনার খানজাহান আলী থানার নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার নিজ এলাকার ঈদগাহ মাঠে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার নওকৈড় নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ঢাকায়, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভাঙ্গাপুষ্কুরুনী নিজ গ্রামে। এ ছাড়াও অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জম হোসাইন হেলাল বরিশালের নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেটের নিজ গ্রামে, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. শাহজাহান চট্টগ্রাম মহানগরীতে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব আবদুর রব ঢাকায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ঢাকায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ঢাকায় ঈদ করবেন বলে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন বগুড়ায়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ সাতক্ষীরার নিজ গ্রামে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ঢাকায়, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল চাঁপাইনবাবগঞ্জে, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন ঢাকায়, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নিজ গ্রামে ও ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম লক্ষ্মীপুরে নিজ গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘অতি দ্রুত এই ফ্যাসিস্টের দোসর চুপ্পুকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে এবং তাকে গ্রেফতারের আওতায় আনতে হবে। তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি রয়েছে, তিনি গণহত্যা চলাকালে নির্বিকার ভূমিকা রেখেছিলেন’। শুক্রবার (১৩ মার্চ ) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সংসদকে সম্মান জানিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং অভিযোগ এবং সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও গতকাল আমরা সংসদে গিয়েছিলাম। কারণ এত কারচুপির পরেও জনগণ আমাদের এবং ১১ দলীয় জোটের অনেককে নির্বাচিত করেছেন সংসদের কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করার জন্য, উচ্চকক্ষকে বাস্তবায়ন করার জন্য, সংবিধান সংস্কার করার জন্য। আমরা সেই উদ্দেশ্যেই এবং সেই কমিটমেন্টেই সংসদে গিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, এই সংসদে আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের দোসরকে চাই না। ফ্যাসিবাদমুক্ত জাতীয় সংসদ দেখতে চাই। নাহিদ বলেন, খুব ভালোভাবে শুরু হলেও পরে দেখা গেল ফ্যাসিবাদের দোসর রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হলো। এটি করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে সংসদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হলো। রাষ্ট্রপতিকে বক্তৃতার সুযোগ দেওয়ার কারণে প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা ওয়াক আউট দিয়ে চলে এসেছি। তিনি আরো বলেন, ময়মনসিংহের জুলাই সৈনিক সাইফুল্লাহর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে ফ্যাসিস্ট বাহিনীরা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। আওয়ামী লীগ আসলে এমন একটি দল যারা গুপ্ত হামলা, অগ্নিসন্ত্রাস এবং এরকম দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে রাজনীতিতে সব সময় টিকে থাকতে চেয়েছিল। তাদেরকে ৫ আগস্টে পরাজিত ও প্রতিহত করেছিল বাংলাদেশের জনগণ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, আজ বিকেল ৩টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মির্জা আব্বাসকে নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শেই মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে।
অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে ওই হাসপাতালে গেছেন জামায়াত আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত আমির হাসপাতালে অবস্থানরত মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর নিকট তাঁর শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি মহান আল্লাহর নিকট মির্জা আব্বাসের আশু আরোগ্য কামনা করেন। হাসপাতালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিক্যাল থানার সভাপতি ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জুলাই প্রস্তাবের পুরোপুরি বাস্তবায়ন চায় বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই সনদের আংশিক নয়, পুরো প্যাকেজ চাই। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের যেটুকু প্রাপ্য, সেটুকুই নেব।’ আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের নবম তলায় বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় সরকারি দলকে জুলাইয়ে প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কেমন হবে, তা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চাই। সরকার ভুল করলে পরমার্শ দেব, প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ করব। আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সরকার দল থেকে ইতিমধ্যে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অবস্থান সময়মতো দেখতে পাবে জাতি।’
আব্দুল হক :- বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাশোসিয়েশনের উদ্যোগে কোচেস ট্রেনিং ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ২ জানুয়ারী) সকাল ১০ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ঢাকা জেলার মুগদা টিটিপাড়া এলাকার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের উত্তর গ্যালারী, ৩য় তলায় ট্রেনিং ও সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির আকবর চৌধুরী তাজ এর সভাপতিত্বে ও জে কে এফ ৮ম ড্যান, ভাইস প্রেসিডেন্ট সাউথ এশিয়ান ওয়াদোকাই কারাতে ও বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোশিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হানসি নাজনুল মোর্শেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জুডো কারাতে ফেডারেশনের প্রবর্তক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মার্শাল আর্ট কন ফেডারেশনের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হাসান উজ জামান মণি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের গ্রান্ড মাষ্টার, প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর শাহ ভূইয়া, বি কে এফ রেফারি কমিশনের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রকি, অভিনেতা ও সাবেক ন্যাশনাল প্লেয়ার, সেলফ কনফিডেন্স কারাতে একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসেসিয়েশন সহ-সভাপতি এন এস তনু (তনু পান্ডে), বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ উজ্জল মিয়া, বি কে এফ এর কোচ এন্ড রেফারী মোঃ আব্দুল হক, বি এস কে ইউ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইউ মুকবুল হোসেন মুকুল, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউনুস গাজীসহ ছাত্র -ছাত্রী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, বাংলাদেশ ওয়াদোকাই কারাতে দো এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইউনুছ খাঁন। প্রশিক্ষণ শেষে বিজয়ীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।